আইটি সেক্টরে ঝড়ের সংকেত! ২০২৬-এর শুরুতেই ২৪% ধসে পড়ল চাকরির বাজার—এখন কী করবেন চাকরিপ্রার্থীরা?

২০২৬ সালের শুরুতেই ভারতীয় প্রযুক্তি খাতে চাকরির বাজার চরম হতাশাজনক পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে। স্টাফিং ফার্ম Xpheno-র সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, জানুয়ারি ২০২৬-এ সক্রিয় প্রযুক্তি চাকরির সংখ্যা বছর-দর-বছর ভিত্তিতে ২৪ শতাংশ কমে…

Soumya Chatterjee

 

২০২৬ সালের শুরুতেই ভারতীয় প্রযুক্তি খাতে চাকরির বাজার চরম হতাশাজনক পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে। স্টাফিং ফার্ম Xpheno-র সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, জানুয়ারি ২০২৬-এ সক্রিয় প্রযুক্তি চাকরির সংখ্যা বছর-দর-বছর ভিত্তিতে ২৪ শতাংশ কমে প্রায় ১,০৩,০০০-এ নেমে এসেছে, যা ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ছিল ১,৩৬,০০০। এটি গত ছয় বছরের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন চাহিদার স্তর, যা প্রযুক্তি পেশাদারদের জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রযুক্তি খাতে নিয়োগ সংকটের মাত্রা

জানুয়ারি ২০২৬-এ ভারতের প্রযুক্তি খাতে নিয়োগের পরিস্থিতি অত্যন্ত শোচনীয় অবস্থায় রয়েছে। ২০২২ সালের প্রথম দিকে যেখানে সক্রিয় চাকরির সংখ্যা ২,৬০,০০০-এর বেশি ছিল, বর্তমানে তা প্রায় ৬০ শতাংশ কমে গেছে। পূর্ণকালীন চাকরির সংখ্যা প্রায় ৭৯,০০০-এ দাঁড়িয়েছে, যা ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে ৫ শতাংশ এবং গত বছরের তুলনায় ২৪ শতাংশ কম।

বিভিন্ন স্তরের চাকরিতে নিয়োগ হ্রাসের চিত্র আরও উদ্বেগজনক। এন্ট্রি-লেভেল পদে নিয়োগ ১৮ শতাংশ কমেছে, মিড-সিনিয়র ভূমিকায় ১২ শতাংশ এবং সিনিয়র-লেভেল পদে ২২ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। আইটি সার্ভিসেস সেগমেন্টে পরিস্থিতি আরও খারাপ, যেখানে সক্রিয় চাকরির সংখ্যা প্রায় ৪১,০০০-এ নেমে এসেছে, যা বছর-দর-বছর ভিত্তিতে ১৮ শতাংশ কম।

কেন এই ভয়াবহ মন্দা?

প্রযুক্তি খাতে এই নিয়োগ মন্দার পিছনে রয়েছে একাধিক কারণ। প্রথমত, বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং সতর্ক এন্টারপ্রাইজ খরচের কারণে ক্লায়েন্টরা প্রযুক্তি বিনিয়োগে দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। ব্যাংকিং, ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, ইন্স্যুরেন্স (BFSI), রিটেইল এবং হেলথকেয়ার সেক্টরে ডিসক্রেশনারি স্পেন্ডিং কমে যাওয়ায় বড় প্রজেক্টগুলি বিলম্বিত হচ্ছে।

দ্বিতীয়ত, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এর দ্রুত বিকাশ প্রযুক্তি কোম্পানিগুলিকে তাদের ডেলিভারি মডেল পুনর্গঠন করতে বাধ্য করছে। Tata Consultancy Services (TCS) সম্প্রতি ঘোষণা করেছে যে তারা প্রায় ১২,০০০ কর্মচারী ছাঁটাই করবে, যা তাদের বৈশ্বিক কর্মীবাহিনীর প্রায় ২ শতাংশ। এই পদক্ষেপটি AI-চালিত ব্যবসায়িক রূপান্তরের যুগে আরও অভিযোজনযোগ্য হওয়ার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।

তৃতীয়ত, প্রযুক্তি কোম্পানিগুলি হেডকাউন্ট-ভিত্তিক ডেলিভারি মডেল থেকে প্রোডাক্ট এবং সলিউশন-ভিত্তিক মডেলে স্থানান্তরিত হচ্ছে। AI কোডিং এবং টেস্টিং ঘন্টা ৩০-৪০ শতাংশ কমাতে পারে, যার ফলে ঐতিহ্যবাহী Time & Material (T&M) প্রাইসিং মডেল চাপের মুখে পড়ছে।

কোন সেক্টরে সবচেয়ে বেশি প্রভাব?

IT সার্ভিসেস সেক্টরটি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যেখানে চাকরির সংখ্যা ১৮ শতাংশ কমে প্রায় ৪১,০০০-এ নেমে এসেছে। এই সেক্টরটি প্রযুক্তি প্রতিভার বৃহত্তম ভোক্তা হলেও, সতর্ক এন্টারপ্রাইজ খরচ এবং বিলম্বিত ক্লায়েন্ট সিদ্ধান্ত গ্রহণের কারণে নিয়োগে কোনো আগ্রাসীতা দেখা যাচ্ছে না।

ঐতিহ্যবাহী প্রযুক্তি দক্ষতার চাহিদা দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে, যা মোট চাহিদার ১০ শতাংশেরও কম। অন্যদিকে, ভারতে অর্ধেকেরও বেশি IT নিয়োগ উদ্ভাবনী ডিজিটাল দক্ষতার উপর কেন্দ্রীভূত হচ্ছে। কোর টেকনোলজি এবং ইঞ্জিনিয়ারিং ভূমিকা মোট সক্রিয় চাহিদার ৫৮ শতাংশ গঠন করলেও, এই ফাংশনগুলিতে সামগ্রিক নিয়োগ বছর-দর-বছর ভিত্তিতে ৩৭ শতাংশ কমেছে।

তবে, একটি উজ্জ্বল দিক রয়েছে—Global Capability Centres (GCCs)। GCC-গুলি প্রায় ১৭,০০০ সক্রিয় চাকরির সুযোগ প্রদান করছে, যা মোট প্রযুক্তি চাহিদার ১৬ শতাংশ। GCC নিয়োগ ডিসেম্বরের তুলনায় ১৩ শতাংশ এবং বছর-দর-বছর ভিত্তিতে ৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

যেসব দক্ষতার চাহিদা বাড়ছে

মন্দার মধ্যেও কিছু নির্দিষ্ট দক্ষতার চাহিদা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। AI এবং মেশিন লার্নিং ইঞ্জিনিয়ারিং, ডেটা অ্যানালিটিক্স, ক্লাউড ইঞ্জিনিয়ারিং এবং সাইবার সিকিউরিটিতে নিয়োগ প্রায় ৪৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই ভূমিকাগুলির জন্য বিশেষায়িত দক্ষতা এবং গভীর ডোমেইন দক্ষতার প্রয়োজন।

দক্ষতার ক্ষেত্র চাহিদার পরিবর্তন মূল ভূমিকা
AI/ML +৪৫% AI ইঞ্জিনিয়ার, ডেটা সায়েন্টিস্ট, প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ার
সাইবার সিকিউরিটি +৪৫% সিকিউরিটি আর্কিটেক্ট, এথিক্যাল হ্যাকার, ইনসিডেন্ট রেসপন্ডার
ক্লাউড কম্পিউটিং +৪৫% ক্লাউড ইঞ্জিনিয়ার, ক্লাউড আর্কিটেক্ট, ক্লাউড FinOps
ফুল স্ট্যাক ডেভেলপমেন্ট স্থিতিশীল ফুল স্ট্যাক ডেভেলপার, প্রোডাক্ট ম্যানেজার
ঐতিহ্যবাহী IT -৩৭% লিগেসি সিস্টেম সাপোর্ট

সাইবার সিকিউরিটি এখন একটি নতুন পর্যায়ে প্রবেش করছে, যেখানে AI-চালিত হুমকির কারণে এন্টারপ্রাইজগুলি ডেটা-ইনটেনসিভ মনিটরিং এবং রেসপন্সের চারপাশে সিকিউরিটি অপারেশন পুনর্নির্মাণ করছে। এর ফলে ফরেনসিক বিশ্লেষক, AI সিকিউরিটি বিশেষজ্ঞ, এথিক্যাল হ্যাকার এবং ইনসিডেন্ট রেসপন্ডারদের জন্য সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

GCC: নতুন আশার আলো

মিড-মার্কেট Global Capability Centres (GCCs) ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ ভারতে ৪০,০০০ নতুন চাকরি তৈরি করবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা তাদের মোট কর্মীবাহিনী ২,৬০,০০০-এর বেশি করবে। এই সময়কালে প্রায় ১২০টি নতুন মিড-সাইজড GCC স্থাপিত হবে বলে প্রত্যাশিত, প্রধানত সফ্টওয়্যার, ব্যাংকিং, ফিন্যান্স এবং অ্যাকাউন্টিং, ইন্স্যুরেন্স এবং রিটেইল সেক্টরে।

GCC নিয়োগ বার্ষিক ১০ থেকে ১২ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা সামগ্রিক GCC ইন্ডাস্ট্রি গড় থেকে ১-২ শতাংশ পয়েন্ট বেশি। এই কেন্দ্রগুলি AI/ML ইঞ্জিনিয়ারিং, ডেটা অ্যানালিটিক্স, ক্লাউড ইঞ্জিনিয়ারিং, সাইবার সিকিউরিটি, ফুল-স্ট্যাক ডেভেলপমেন্ট, প্রোডাক্ট ম্যানেজমেন্ট এবং সলিউশন আর্কিটেকচারের মতো মূল ভূমিকার জন্য প্রতিভা খুঁজছে।

বেঙ্গালুরু, হায়দ্রাবাদ, চেন্নাই, পুনে এবং গুরুগ্রাম প্রধান প্রতিভা কেন্দ্র হিসেবে থাকলেও, চণ্ডীগড়, বিশাখাপত্তনম, কোয়েম্বাটোর, ইন্দোর, জয়পুর এবং কোচি টিয়ার-২ শহর হিসেবে AI, ক্লাউড এবং সিকিউরিটিতে নিশ এবং উন্নত ভূমিকার জন্য বিশেষায়িত প্রতিভা ক্লাস্টার হিসেবে উঠে আসছে।

চাকরিপ্রার্থীদের জন্য কর্মপরিকল্পনা

আপস্কিলিং এবং রিস্কিলিং অপরিহার্য

এই কঠিন সময়ে চাকরিপ্রার্থীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হল ক্রমাগত দক্ষতা বৃদ্ধি। Teamlease EdTech-র Jaideep Kewalramani বলেছেন, “আপস্কিলিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ এমন কোনো চাকরির ভূমিকা নেই যা এই দিনগুলিতে আপস্কিলিং প্রয়োজন হয় না, কারণ প্রযুক্তি দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে।”

চাকরি প্রার্থীদের নিম্নলিখিত দক্ষতাগুলিতে ফোকাস করা উচিত:

  • AI এবং মেশিন লার্নিং: Python, Java, TensorFlow, PyTorch-এ দক্ষতা অর্জন করুন। জেনারেটিভ AI এবং প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিং শিখুন।

  • ক্লাউড প্ল্যাটফর্ম: AWS, Azure, Google Cloud-এ সার্টিফিকেশন নিন। ক্লাউড মাইগ্রেশন এবং মডার্নাইজেশনে দক্ষতা অর্জন করুন।

  • সাইবার সিকিউরিটি: CompTIA Security+, Certified Ethical Hacker (CEH), CISSP-এর মতো সার্টিফিকেশন নিন। AI-চালিত সিকিউরিটি মনিটরিং শিখুন।

  • ডেটা সায়েন্স এবং অ্যানালিটিক্স: ডেটা ভিজুয়ালাইজেশন, বিগ ডেটা টুলস এবং প্রেডিক্টিভ মডেলিংএ দক্ষতা অর্জন করুন।

  • ফুল স্ট্যাক ডেভেলপমেন্ট: React, Angular, Node.js-এর মতো আধুনিক ফ্রেমওয়ার্ক শিখুন।

হ্যান্ডস-অন এক্সপেরিয়েন্স এবং পোর্টফোলিও

শুধুমাত্র তাত্ত্বিক জ্ঞান যথেষ্ট নয়। পড়াশোনার সময় হ্যান্ডস-অন অভিজ্ঞতা অর্জন করুন। ওয়ার্ক ইন্টিগ্রেটেড লার্নিং প্রোগ্রাম, ইন্টার্নশিপ এবং প্রজেক্ট-ভিত্তিক শিক্ষায় ফোকাস করুন। একটি শক্তিশালী পোর্টফোলিও তৈরি করুন যা আপনার দক্ষতা প্রদর্শন করে—৩-৫টি উৎকৃষ্ট প্রজেক্ট অনেক গড় প্রজেক্টের চেয়ে ভালো।

GitHub-এ আপনার কোড শেয়ার করুন, ওপেন সোর্স প্রজেক্টে অবদান রাখুন এবং LinkedIn-এ আপনার কাজ প্রদর্শন করুন। নিয়োগকর্তারা এখন রেজিউমের চেয়ে পোর্টফোলিওকে বেশি গুরুত্ব দেন।

নিশ স্কিল এবং স্পেশালাইজেশন

ম্যাস রিক্রুটমেন্টের যুগ শেষ হয়েছে। কোম্পানিগুলি এখন নিশ স্কিল সহ বিশেষজ্ঞদের খুঁজছে। সাধারণ সফ্টওয়্যার ডেভেলপার হওয়ার পরিবর্তে, একটি নির্দিষ্ট ডোমেইনে বিশেষজ্ঞ হন—যেমন AI গভর্নেন্স, ক্লাউড FinOps, এজ কম্পিউটিং, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং অথবা ব্লকচেইন।

Adecco India-র Sanketh Chengappa উল্লেখ করেছেন যে সামগ্রিক নিয়োগ সংযত হলেও, বিশেষায়িত দক্ষতার প্রয়োজন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এন্টারপ্রাইজ-গ্রেড AI, সাইবার সিকিউরিটি এবং ক্লাউড কম্পিউটিংএর মতো উচ্চ-মূল্যের সেক্টরগুলির দিকে বাজেট স্থানান্তরিত হচ্ছে।

GCC এবং মিড-মার্কেট কোম্পানিগুলিকে টার্গেট করুন

বড় IT সার্ভিসেস কোম্পানিগুলিতে নিয়োগ কমলেও, GCC-গুলি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই কেন্দ্রগুলি স্থিতিশীলতা, স্কেল, বৈশ্বিক এক্সপোজার এবং দীর্ঘমেয়াদী ক্যারিয়ার পথ অফার করে। মিড-মার্কেট GCC-গুলি বিশেষভাবে আকর্ষণীয়, কারণ তারা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং প্রতিভাবান পেশাদারদের সিনিয়র ভূমিকার জন্য আরো সুযোগ প্রদান করছে।

নেটওয়ার্কিং এবং পার্সোনাল ব্র্যান্ডিং

LinkedIn-এ একটি শক্তিশালী প্রোফাইল তৈরি করুন এবং নিয়মিত ইন্ডাস্ট্রি ইনসাইট, প্রজেক্ট আপডেট এবং চিন্তাভাবনা শেয়ার করুন। টেক মিটআপ, কনফারেন্স এবং হ্যাকাথনে অংশ নিন। ইন্ডাস্ট্রি পেশাদার এবং রিক্রুটারদের সাথে সংযোগ স্থাপন করুন। অনেক চাকরি লুকানো বাজারের মাধ্যমে পূরণ হয়—রেফারেন্স এবং নেটওয়ার্কিংএর মাধ্যমে।

টেকনোলজি ব্লগ লিখুন, ইউটিউব টিউটোরিয়াল তৈরি করুন অথবা পডকাস্ট শুরু করুন। এটি আপনাকে আপনার ক্ষেত্রে একজন চিন্তাশীল নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে এবং নিয়োগকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে।

ভৌগোলিক নমনীয়তা এবং রিমোট কাজ

বেঙ্গালুরু এবং হায়দ্রাবাদের মতো ঐতিহ্যবাহী টেক হাবের বাইরে সুযোগ খুঁজুন। টিয়ার-২ শহরগুলি নিশ এবং উন্নত ভূমিকার জন্য উদীয়মান কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠছে। রিমোট কাজের সুযোগও বিবেচনা করুন, কারণ অনেক কোম্পানি এখন বিতরণকৃত টিম নিয়ে কাজ করছে।

ক্রমাগত শিক্ষা এবং অভিযোজনযোগ্যতা

প্রযুক্তি খাতে ক্রমাগত শিক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দ্রুত প্রযুক্তিগত অগ্রগতির কারণে পেশাদারদের প্রতিযোগিতামূলক থাকতে নিয়মিত আপস্কিল করতে হবে। প্রায় ৪০ শতাংশ কর্মীবাহিনীকে বিকশিত চাকরির বাজারে প্রাসঙ্গিক থাকার জন্য আপস্কিলিং প্রয়োজন।

মাইক্রো-সার্টিফিকেশন, অনলাইন বুটক্যাম্প এবং AI ওয়ার্কফ্লোর সাথে হ্যান্ডস-অন এক্সপেরিমেন্টেশনে নিযুক্ত হন। শুধুমাত্র প্রযুক্তিগত দক্ষতা নয়, AI-কে ব্যবসায়িক মূল্যে অনুবাদ করার ক্ষমতাও বিকাশ করুন। সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা, সৃজনশীলতা এবং মানসিক বুদ্ধিমত্তার মতো সফট স্কিলগুলিও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

২০২৬-এর আউটলুক: সতর্ক আশাবাদ

প্রায় দুই বছরের নিঃশব্দ টেক স্পেন্ডিংএর পর, IT সার্ভিসেস ইন্ডাস্ট্রি ২০২৬ সালে একটি সতর্ক পুনরুদ্ধারের বছরের জন্য প্রস্তুত বলে মনে করা হচ্ছে। দীর্ঘায়িত চাহিদা মন্দা শেষ হওয়ার প্রাথমিক লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। যে ডিসক্রেশনারি সাইকেলগুলি ২০২৩-২৫ জুড়ে ট্রান্সফরমেশন প্রোগ্রাম বন্ধ করে রেখেছিল, সেগুলি ধীরে ধীরে আনফ্রিজ হওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে।

EY India-র Nitin Bhatt মন্তব্য করেছেন যে প্রকৃত পরিবর্তনের সবচেয়ে স্পষ্ট চিহ্নিতকারী হবে BFSI, রিটেইল এবং হেলথকেয়ারে ডিসক্রেশনারি স্পেন্ডিং-এর পুনরুত্থান এবং এন্টারপ্রাইজ-গ্রেড AI গ্রহণে পরিমাপযোগ্য বৃদ্ধি। তবে, এর জন্য IT ফার্মগুলিকে গভীর ডোমেইন দক্ষতা তৈরি করতে হবে।

ভারতের IT সেক্টর FY২৭-এ ৭ শতাংশ বৃদ্ধির প্রত্যাশিত। এই চাহিদা আসছে বৈশ্বিক টেক কোম্পানিগুলির তাদের ভারত ইনোভেশন সেন্টার সম্প্রসারণ, একটি শক্তিশালী দেশীয় প্রতিভা পুল এবং সেক্টর জুড়ে সরকার-নেতৃত্বাধীন ডিজিটালাইজেশন থেকে। ২০৩০ সালের মধ্যে, ভারতের টেক ওয়ার্কফোর্স ৭.৫ মিলিয়নে পৌঁছানোর প্রত্যাশিত।

ভারতের প্রযুক্তি খাতের দীর্ঘমেয়াদী সম্ভাবনা

স্বল্পমেয়াদী চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও, ভারতের প্রযুক্তি খাতের দীর্ঘমেয়াদী সম্ভাবনা শক্তিশালী থাকে। FY ২০২৬-এর মধ্যে, দেশটিতে প্রায় ৯.৫ মিলিয়ন টেক পেশাদার থাকবে বলে প্রত্যাশিত এবং ইন্ডাস্ট্রি নিজেই $৩০০ বিলিয়ন মূল্যে পৌঁছাতে প্রস্তুত, ২০৩০ সালের মধ্যে $৫০০ বিলিয়নের দিকে একটি স্পষ্ট ট্র্যাজেক্টরি সহ।

এই গতি বেশিরভাগ আসছে বড় আকারের AI গ্রহণ, একটি সম্প্রসারণশীল ক্লাউড ইকোসিস্টেম এবং এন্টারপ্রাইজ এবং ভোক্তাদের মধ্যে গভীর ডিজিটাল ব্যবহার থেকে। সেমিকন্ডাক্টর এবং অ্যাডভান্সড হার্ডওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারিং-এ ভারতের ক্রমবর্ধমান ফোকাসও নতুন সুযোগ তৈরি করছে।

তবে, এই সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে হলে পেশাদারদের অভিযোজনযোগ্য, চিরকাল শিক্ষার্থী এবং বাজারের চাহিদার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। যারা নিশ স্কিলে বিনিয়োগ করবে, ক্রমাগত আপস্কিল করবে এবং GCC এবং উদীয়মান টেক হাবের মতো নতুন সুযোগ গ্রহণ করবে, তারা এই চ্যালেঞ্জিং পরিবেশেও সফল হবে।

২০২৬ সালের শুরুতে ২৪ শতাংশ নিয়োগ হ্রাস ভারতীয় IT সেক্টরের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়। এই মন্দা শুধুমাত্র একটি সাময়িক মন্দা নয়, বরং একটি কাঠামোগত পরিবর্তনের প্রতিফলন যেখানে AI, অটোমেশন এবং বিশেষায়িত দক্ষতা কর্মশক্তির চাহিদা পুনর্নির্ধারণ করছে। চাকরিপ্রার্থীদের জন্য এই পরিবর্তনের সাথে খাপ খাওয়ানো অপরিহার্য—আপস্কিলিং, বিশেষজ্ঞতা এবং ক্রমাগত শিক্ষার উপর ফোকাস করে। GCC-গুলি আশার আলো প্রদান করছে, এবং AI, ক্লাউড এবং সাইবার সিকিউরিটিতে নিশ দক্ষতা তীব্র চাহিদায় রয়েছে। যদিও স্বল্পমেয়াদে চ্যালেঞ্জ রয়েছে, যারা কৌশলগতভাবে তাদের ক্যারিয়ার পরিকল্পনা করে এবং বাজারের চাহিদার সাথে নিজেদের সংযুক্ত করে, তারা ভারতের দীর্ঘমেয়াদী টেক বুমে সফল হবে। মূল কথা হল—প্যাসিভ থাকবেন না, প্রোঅ্যাক্টিভ হন, নিজের মধ্যে বিনিয়োগ করুন এবং পরিবর্তনকে আলিঙ্গন করুন।

About Author
Soumya Chatterjee

সৌম্য কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে স্নাতক এবং প্রযুক্তি বিষয়ক লেখালিখিতে বিশেষ আগ্রহী। তিনি একজন উদ্যমী লেখক, যিনি প্রযুক্তির জটিল ধারণাগুলোকে সহজভাবে উপস্থাপন করতে দক্ষ। তার লেখার মূল ক্ষেত্রগুলোতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে নতুন প্রযুক্তি, গ্যাজেট রিভিউ, সফটওয়্যার গাইড, এবং উদীয়মান টেক প্রবণতা। সৌম্যর প্রাঞ্জল ও তথ্যবহুল লেখনী পাঠকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। প্রযুক্তি সম্পর্কে তার গভীর জ্ঞান এবং অনুসন্ধিৎসু মনোভাব তাকে পাঠকদের কাছে বিশেষভাবে জনপ্রিয় করে তুলেছে। টেক জগতে চলমান পরিবর্তনগুলির সাথে তাল মিলিয়ে সৌম্য সর্বদা নতুন ও তথ্যসমৃদ্ধ বিষয়বস্তু নিয়ে আসতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

আরও পড়ুন