সামরিক শক্তিতে বিশ্বে চতুর্থ ভারত: নতুন র‍্যাঙ্কিংয়ে চমকপ্রদ তথ্য প্রকাশ

India Ranks 4th in Global Military Power 2026: গ্লোবাল ফায়ারপাওয়ার ইনডেক্স ২০২৬ অনুযায়ী ভারত বিশ্বের চতুর্থ সর্বাধিক শক্তিশালী সামরিক দেশ হিসেবে তার অবস্থান বজায় রেখেছে । ০.১১৮৪ পাওয়ারইনডেক্স স্কোর নিয়ে…

Srijita Chattopadhay

 

India Ranks 4th in Global Military Power 2026: গ্লোবাল ফায়ারপাওয়ার ইনডেক্স ২০২৬ অনুযায়ী ভারত বিশ্বের চতুর্থ সর্বাধিক শক্তিশালী সামরিক দেশ হিসেবে তার অবস্থান বজায় রেখেছে । ০.১১৮৪ পাওয়ারইনডেক্স স্কোর নিয়ে ভারত যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া এবং চীনের পরেই রয়েছে, যা দেশের ক্রমবর্ধমান প্রতিরক্ষা সক্ষমতার প্রমাণ । ২০২৬ সালের জন্য ভারতের প্রতিরক্ষা বাজেট ৮৬ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় দেশের দৃঢ় প্রতিশ্রুতি প্রদর্শন করে ।

বিশ্ব সামরিক শক্তির শীর্ষ দশ

গ্লোবাল ফায়ারপাওয়ার ২০২৬ র‍্যাঙ্কিং ১৪৫টি দেশের সামরিক সক্ষমতা বিশ্লেষণ করে ৬০টিরও বেশি পৃথক মানদণ্ডের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে । এই সূচকে যুদ্ধবিমান, নৌবাহিনীর সম্পদ, আর্থিক স্বাস্থ্য এবং লজিস্টিক্যাল সক্ষমতা থেকে শুরু করে ভৌগোলিক অবস্থান পর্যন্ত বিবেচনা করা হয় । পাওয়ারইনডেক্স (PwrIndx) স্কোর যত কম হবে, সেই দেশের প্রচলিত সামরিক সক্ষমতা তত বেশি শক্তিশালী হিসেবে বিবেচিত হয় ।

২০২৬ সালের শীর্ষ দশ সামরিক শক্তিধর দেশগুলি হল:

  1. যুক্তরাষ্ট্র – PwrIndx: ০.০৭৪৪

  2. রাশিয়া – PwrIndx: ০.০৭৮৮

  3. চীন – PwrIndx: ০.০৭৮৮

  4. ভারত – PwrIndx: ০.১১৮৪

  5. দক্ষিণ কোরিয়া – PwrIndx: ০.১৬৫৬

  6. যুক্তরাজ্য – PwrIndx: ০.১৭৮৫

  7. ফ্রান্স – PwrIndx: ০.১৮৭৮

  8. জাপান – PwrIndx: ০.১৮৩৯

  9. তুরস্ক – PwrIndx: ০.১৯০২

  10. ইতালি – PwrIndx: ০.২১৬৪

যুক্তরাষ্ট্র ২০০৫ সাল থেকে টানা শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে ০.০৭৪১ পাওয়ারইনডেক্স স্কোর সহ । ফ্রান্স উল্লেখযোগ্য উন্নতি করে ষষ্ঠ স্থানে উঠে এসেছে, যেখানে ২০২৫ সালে তারা সপ্তম এবং ২০২৪ সালে একাদশ স্থানে ছিল ।

ভারতের সামরিক সক্ষমতার বিস্তারিত বিবরণ

জনবল ও সক্রিয় সৈন্য

ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীতে রয়েছে প্রায় ১৪ লাখ সক্রিয় সৈনিক, যা বিশ্বের বৃহত্তম সামরিক বাহিনীগুলির মধ্যে একটি । মোট সৈন্যসংখ্যা ৫০ লাখের বেশি, যার মধ্যে রিজার্ভ এবং আধাসামরিক বাহিনী অন্তর্ভুক্ত । ভারতীয় সেনাবাহিনীতে ৬৮টি সাঁজোয়া রেজিমেন্ট, ৩৫০টিরও বেশি পদাতিক ব্যাটালিয়ন এবং ৩০০টি আর্টিলারি রেজিমেন্ট রয়েছে ।

স্থল যুদ্ধ সক্ষমতা

ভারতের স্থল বাহিনীতে রয়েছে বিশাল যুদ্ধ সম্পদ। দেশের কাছে রয়েছে ৪,২০১টি ট্যাঙ্ক, যার মধ্যে আধুনিক T-৯০ ভীষ্ম এবং দেশীয় অর্জুন MBT রয়েছে । ভারতীয় সেনাবাহিনীর কাছে রয়েছে ৯,৭৪৩টি আর্টিলারি ইউনিট, যা পাকিস্তানের ৪,৬১৯টির তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি । এছাড়াও ভারতের কাছে রয়েছে ১৫০,০০০-এর বেশি সামরিক যানবাহন, ১৪০টি স্ব-চালিত আর্টিলারি এবং ৭০০-এর বেশি রকেট আর্টিলারি (MLRS) ।

বিমান শক্তি

ভারতীয় বিমানবাহিনী দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী বিমান বল। ভারতের কাছে রয়েছে মোট ২,২২৯টি বিমান, যার মধ্যে আধুনিক রাফাল এবং Su-৩০MKI যুদ্ধবিমান অন্তর্ভুক্ত । বিমানবাহিনীতে কর্মরত রয়েছে ১,৪৯,৯০০ জন কর্মী । ভারতের বিমানবাহিনীতে রয়েছে ৭৩০টি বিমান, ৮০টি আক্রমণ হেলিকপ্টার এবং ৮৯৯টি মোট হেলিকপ্টার ।

নৌ-শক্তি

ভারতীয় নৌবাহিনী ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি। দেশের কাছে রয়েছে ২৯৩টি নৌযান, যার মধ্যে দুটি বিমানবাহী রণতরী অন্তর্ভুক্ত । ভারতীয় নৌবাহিনী ব্লু-ওয়াটার নৌ-উপস্থিতি বিস্তৃত করছে এবং স্থান-ভিত্তিক ISR সক্ষমতা উন্নত করছে ।

প্রতিরক্ষা বাজেট: ২০২৬ সালের রেকর্ড বৃদ্ধি

ভারত ২০২৬ সালের জন্য তার সর্ববৃহৎ প্রতিরক্ষা বাজেট ঘোষণা করেছে, যা ৮৬ বিলিয়ন ডলার । এটি পূর্ববর্তী বছরের ৮১ বিলিয়ন ডলার থেকে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি । সবচেয়ে বড় বৃদ্ধি এসেছে মূলধন ব্যয়ে, যা ২৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা গত বছরের তুলনায় ১৮ শতাংশ বৃদ্ধি ।

এই বাজেট বৃদ্ধির পেছনে রয়েছে আঞ্চলিক নিরাপত্তা উত্তেজনা এবং সামরিক আধুনিকীকরণের প্রয়োজনীয়তা । ভারত সম্প্রতি বেশ কয়েকটি বড় প্রতিরক্ষা চুক্তি অনুমোদন করেছে, যার মধ্যে রয়েছে ১১৪টি ফরাসি রাফাল যুদ্ধবিমান সংগ্রহ বা সহ-উৎপাদন এবং জার্মানির সাথে বহু-বিলিয়ন ডলারের সাবমেরিন প্রকল্প চূড়ান্ত করা ।

ভারত বনাম প্রতিবেশী দেশসমূহ

ভারত বনাম পাকিস্তান

পাকিস্তান গ্লোবাল ফায়ারপাওয়ার র‍্যাঙ্কিংয়ে নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত রেখেছে, ২০২৪ সালে নবম স্থান থেকে ২০২৫ সালে দ্বাদশ স্থানে নেমে এসেছে । ভারতের তুলনায় পাকিস্তানের সামরিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কম।

সামরিক উপাদান ভারত পাকিস্তান
সক্রিয় সৈন্য ১৪ লাখ ৫,৬০,০০০
ট্যাঙ্ক ৪,২০১ ২,৬২৭
আর্টিলারি ৯,৭৪৩ ৪,৬১৯
বিমান ২,২২৯ ১,৩৯৯
নৌযান ২৯৩ ১২১
প্রতিরক্ষা বাজেট ৮৬ বিলিয়ন ডলার ১০ বিলিয়ন ডলার
PwrIndx স্কোর ০.১১৮৪ ০.২৫১৩
ভারত সামগ্রিক সামরিক সক্ষমতা এবং কৌশলগত সম্পদে পাকিস্তানের উপর স্পষ্ট সুবিধা বজায় রেখেছে । ভারতের বিমানবাহিনীতে আধুনিক রাফাল এবং Su-৩০MKI বিমান রয়েছে, যা পাকিস্তানের JF-১৭ থান্ডারের তুলনায় প্রযুক্তিগত শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান করে ।

ভারত বনাম চীন

চীন গ্লোবাল ফায়ারপাওয়ার র‍্যাঙ্কিংয়ে ভারতের উপরে তৃতীয় স্থানে রয়েছে, রাশিয়ার সাথে একই ০.০৭৮৮ PwrIndx স্কোর নিয়ে । চীনের সাথে ভারতের সীমান্ত উত্তেজনা এবং আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ভারতের সামরিক আধুনিকীকরণে একটি গুরুত্বপূর্ণ চালক ।

ভারতের সামরিক আধুনিকীকরণ ও আত্মনির্ভরতা

ভারত তার “মেক ইন ইন্ডিয়া” উদ্যোগের অধীনে দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদনে বৃহত্তর জোর দিচ্ছে । DRDO এবং বেসরকারি খাতের বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদন ভারতের সামরিক স্বায়ত্তশাসন বৃদ্ধি করছে । ভারত আধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যেমন রাশিয়ান S-৪০০ ট্রিয়ামফ এবং ইসরায়েলি-উৎপত্তি বারাক-৮ সিস্টেম অধিগ্রহণ করেছে, যা উল্লেখযোগ্য বিমান এবং ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা সক্ষমতা প্রদান করে ।

পারমাণবিক ক্ষমতা

ভারত একটি প্রতিষ্ঠিত পারমাণবিক ত্রয়ী (nuclear triad) অধিকারী, যা স্থল, বায়ু এবং সমুদ্র থেকে পারমাণবিক অস্ত্র উৎক্ষেপণের ক্ষমতা প্রদান করে । দেশের দ্বিতীয়-আঘাত পারমাণবিক ক্ষমতা পাকিস্তান এবং চীন উভয়ের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে ।

ভারতের সামরিক শক্তির PwrIndx স্কোর কত

গ্লোবাল ফায়ারপাওয়ার ইনডেক্স ২০২৬ অনুযায়ী ভারতের সামরিক শক্তির PwrIndx স্কোর হল ০.১১৮৪ । এই স্কোর ভারতকে বিশ্বের ১৪৫টি দেশের মধ্যে চতুর্থ স্থানে রাখে ।

স্কোরিং পদ্ধতি

গ্লোবাল ফায়ারপাওয়ার র‍্যাঙ্কিংয়ে একটি নিখুঁত PwrIndx স্কোর হল ০.০০০০, যা বর্তমান GFP সূত্রের পরিধিতে বাস্তবসম্মতভাবে অর্জনযোগ্য নয় । পাওয়ারইনডেক্স মান যত ছোট হবে, একটি দেশের প্রচলিত যুদ্ধ সক্ষমতা তত বেশি শক্তিশালী হিসেবে বিবেচিত হয় ।

তুলনামূলক অবস্থান

ভারতের ০.১১৮৪ স্কোর এটিকে শীর্ষ পাঁচ সামরিক শক্তিধর দেশের মধ্যে স্থান দেয় । এই স্কোর যুক্তরাষ্ট্র (০.০৭৪১), রাশিয়া (০.০৭৮৮), এবং চীন (০.০৭৮৮) এর পরে আসে । ভারত দক্ষিণ কোরিয়া (পঞ্চম স্থান) এবং ফ্রান্স (ষষ্ঠ স্থান) এর চেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে ।

বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ে অন্যান্য উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন

২০২৬ সালের গ্লোবাল ফায়ারপাওয়ার র‍্যাঙ্কিংয়ে বেশ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা গেছে। জার্মানি সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য উত্থান রেকর্ড করেছে, ২০২৪ সালে ১৯তম স্থান থেকে ২০২৬ সালে ১২তম স্থানে উঠে এসেছে, যা এর সামরিক সক্ষমতায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি প্রতিফলিত করে । যুক্তরাজ্য অষ্টম স্থানে নেমে এসেছে, গত দুই বছরে ষষ্ঠ অবস্থান থেকে ক্রমাগত হ্রাস অব্যাহত রেখে ।

জাপান একটি স্থান উপরে উঠে ২০২৬ সালে সপ্তম স্থানে পৌঁছেছে । ইতালি দশম স্থানে তার র‍্যাঙ্কিং বজায় রেখেছে ০.২২১১ PwrIndx স্কোর সহ । ব্রাজিল একাদশ স্থানে রয়েছে, তারপর পাকিস্তান দ্বাদশ স্থানে এবং ইন্দোনেশিয়া ত্রয়োদশ স্থানে রয়েছে ।

গ্লোবাল ফায়ারপাওয়ার ইনডেক্স: মূল্যায়ন পদ্ধতি

গ্লোবাল ফায়ারপাওয়ার ইনডেক্স একটি অনন্য, অভ্যন্তরীণ সূত্র ব্যবহার করে যা ছোট, আরও প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত দেশগুলিকে বৃহত্তর, কম উন্নত শক্তিগুলির সাথে প্রতিযোগিতা করতে সক্ষম করে । বিশেষ সংশোধনকারী, বোনাস এবং জরিমানার আকারে, তালিকাটি আরও পরিমার্জিত করতে প্রয়োগ করা হয় যা বার্ষিক সংকলিত হয় ।

একটি নিখুঁত PwrIndx স্কোর হল ০.০০০০, যা বর্তমান GFP সূত্রের পরিধিতে বাস্তবসম্মতভাবে অর্জনযোগ্য নয় । তাই, PwrIndx মান যত ছোট হবে, একটি দেশের প্রচলিত যুদ্ধ সক্ষমতা তত বেশি শক্তিশালী হিসেবে বিবেচিত হয় ।

ভারতের কৌশলগত সুবিধা

ভারতের চতুর্থ স্থান র‍্যাঙ্কিং কৌশলগত গভীরতা, শক্তির পরিমাণ এবং একাধিক যুদ্ধক্ষেত্র ডোমেনে মতবাদগত পরিপক্কতার প্রতিফলন । একটি বিশাল স্থায়ী সেনাবাহিনী, একটি ক্রমবর্ধমান ত্রি-সেবা আধুনিকীকরণ প্রচেষ্টা এবং একটি প্রতিষ্ঠিত পারমাণবিক ত্রয়ীর সাথে, ভারত বিশ্বের সবচেয়ে কাঠামোগতভাবে স্থিতিস্থাপক এবং বৈচিত্র্যময় সামরিক অবস্থানগুলির মধ্যে একটি নিয়ন্ত্রণ করে ।

ভারতের সক্ষমতা দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদন, স্থান-ভিত্তিক ISR, ব্লু-ওয়াটার নৌ-উপস্থিতি সম্প্রসারণ এবং উচ্চ-উচ্চতা যুদ্ধে অপারেশনাল অভিজ্ঞতা দ্বারা আরও বৃদ্ধি পায় । ভারত সম্মিলিত-অস্ত্র অপারেশন পরিচালনা করতে এবং দক্ষিণ এশিয়ায় বায়ু শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখতে সক্ষম ।

আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিবেশ

ভারতের প্রতিরক্ষা বাজেট বৃদ্ধি গত বছরের পাকিস্তানের সাথে সামরিক সংঘর্ষ এবং দুই পারমাণবিক-সশস্ত্র প্রতিবেশীর মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত থাকার উদ্বেগের সাথে যুক্ত । প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা বলছেন যে অতিরিক্ত তহবিল দ্রুত আধুনিকীকরণ এবং উন্নত সরঞ্জাম অধিগ্রহণের মাধ্যমে বিমান, নৌ এবং স্থল বাহিনী শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ।

ভারত এবং পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখেছে, পর্যায়ক্রমিক সামরিক সংঘর্ষ এবং সীমান্ত উত্তেজনা উভয় দেশেই প্রতিরক্ষা নীতি এবং ব্যয় অগ্রাধিকারকে প্রভাবিত করে ।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও চ্যালেঞ্জ

ভারত তার যান্ত্রিক বাহিনীকে পুনর্গঠন করছে কৌশলগত গতিশীলতা এবং শত্রু অঞ্চলে দ্রুত আক্রমণের জন্য উচ্চ-আয়তন আগুনশক্তি অর্জন করতে । বর্তমানে, ভারতীয় সেনাবাহিনীর আর্টিলারিতে (বিশেষত স্ব-চালিত বন্দুক) এবং গোলাবারুদ মজুদে গুরুতর ঘাটতি রয়েছে ।

টেকসই প্রতিরক্ষা বিনিয়োগ আঞ্চলিক হুমকি ভারসাম্য রাখার সময় বাহিনী আধুনিকীকরণের ভারতের প্রচেষ্টার সংকেত দেয়, যদিও ক্রমবর্ধমান সামরিক খরচ বৃহত্তর আর্থিক অগ্রাধিকারকেও চ্যালেঞ্জ করে । বিদেশী সরবরাহকারীদের উপর নির্ভরতা হ্রাসে অগ্রগতি ধীরগতিতে রয়েছে ।

গ্লোবাল ফায়ারপাওয়ার ইনডেক্স ২০২৬-এ চতুর্থ স্থান ধরে রাখা ভারতের ক্রমবর্ধমান সামরিক সক্ষমতা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তায় নেতৃত্ব প্রদানের দৃঢ় প্রতিশ্রুতির স্বীকৃতি । ৮৬ বিলিয়ন ডলার প্রতিরক্ষা বাজেট, ১৪ লাখ সক্রিয় সৈন্য, আধুনিক সামরিক সরঞ্জাম এবং পারমাণবিক ত্রয়ী ভারতকে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী সামরিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে । দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদনে জোর এবং “মেক ইন ইন্ডিয়া” উদ্যোগ ভারতকে আত্মনির্ভর ও কৌশলগতভাবে স্বাধীন সামরিক শক্তিতে রূপান্তরিত করছে । যদিও চীন এবং পাকিস্তানের সাথে আঞ্চলিক চ্যালেঞ্জ অব্যাহত রয়েছে, ভারতের টেকসই সামরিক আধুনিকীকরণ এবং কৌশলগত গভীরতা দক্ষিণ এশিয়া এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে তার প্রভাবশালী অবস্থান নিশ্চিত করছে । আগামী বছরগুলিতে ভারতের সামরিক শক্তি আরও বৃদ্ধি পাবে এবং দেশ বিশ্ব সামরিক শক্তির শীর্ষ স্তরে তার উপস্থিতি আরও দৃঢ় করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

About Author
Srijita Chattopadhay

সৃজিতা কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় স্নাতক। তিনি একজন প্রতিশ্রুতিশীল লেখক এবং সাংবাদিক, যিনি তার লেখা দ্বারা বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির সমৃদ্ধি তুলে ধরতে সদা উদ্যমী। সৃজিতার লেখার ধারা মূলত সাহিত্য, সমাজ এবং সংস্কৃতির বিভিন্ন দিককে ঘিরে আবর্তিত হয়, যেখানে তিনি তার গভীর পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা ও বিশ্লেষণী দক্ষতার পরিচয় দেন। তাঁর নিবন্ধ ও প্রতিবেদনগুলি পাঠকদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে, যা তার বস্তুনিষ্ঠতা ও সংবেদনশীলতার পরিচয় বহন করে। সৃজিতা তার কর্মজীবনে ক্রমাগত নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে বদ্ধপরিকর, যা তাকে বাংলা সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যতের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।

আরও পড়ুন