ভারত কৃষি ইতিহাসে একটি নতুন মাইলফলক অর্জন করেছে। ২০২৫ সালে দেশ চিনকে পেছনে ফেলে বিশ্বের বৃহত্তম ধান উৎপাদনকারী দেশে পরিণত হয়েছে, যেখানে ভারতের উৎপাদন দাঁড়িয়েছে ১৫০.১৮ মিলিয়ন মেট্রিক টন এবং চিনের ১৪৫.২৮ মিলিয়ন মেট্রিক টন । এই ঐতিহাসিক সাফল্যের ঘোষণা করেছেন কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান। তবে এই বিশ্বরেকর্ডের পেছনে রয়েছে জলসংকট, উৎপাদনশীলতার ব্যবধান এবং কৃষকদের আয়ের জটিল সমীকরণ। প্রশ্ন উঠছে, এই অভূতপূর্ব সাফল্য কৃষকদের পকেটে কতটা লাভজনক হবে এবং দেশের কৃষি ব্যবস্থার স্থায়িত্বের জন্য কী চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে?
ভারতের ধান উৎপাদনে রেকর্ড সাফল্য
ইউনাইটেড স্টেটস ডিপার্টমেন্ট অফ এগ্রিকালচার (USDA) এর ডিসেম্বর ২০২৫ এর রিপোর্ট অনুসারে, ভারত ২০২৫-২৬ ফসল মৌসুমে ১৫২ মিলিয়ন মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের রেকর্ড স্থাপন করবে বলে অনুমান করা হচ্ছে, যেখানে চিনের উৎপাদন থাকবে ১৪৬ মিলিয়ন মেট্রিক টন । এই সাফল্যের মূল কারণ হল অনুকূল দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু, চাষাবাদের এলাকা বৃদ্ধি এবং উন্নত কৃষি পদ্ধতি ।
২০২৪-২৫ ফসল বছরে ভারত ৩৫৩.২ মিলিয়ন টন খাদ্যশস্য উৎপাদন করে রেকর্ড সৃষ্টি করেছে, যেখানে ধানের উৎপাদন বছরে ৮% বৃদ্ধি পেয়ে ১৪৯.০৭ মিলিয়ন টনে পৌঁছেছে । কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান এই সাফল্যকে “অভূতপূর্ব অর্জন” বলে অভিহিত করেছেন এবং জানিয়েছেন যে ভারত এখন বিশ্ববাজারে ধান সরবরাহের প্রধান উৎস হয়ে উঠেছে ।
বৈশ্বিক ধানবাজারে ভারতের আধিপত্য
ভারত ২০১২ সাল থেকে বিশ্বের বৃহত্তম ধান রপ্তানিকারক দেশ এবং এখন উৎপাদনেও শীর্ষস্থানে রয়েছে । বৈশ্বিক ধান উৎপাদনে ভারতের অংশীদারিত্ব ২৮ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে । মর্ডর ইন্টেলিজেন্সের প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২৫ সালে ভারতীয় ধান বাজারের মূল্য ৪৭.১ বিলিয়ন ডলার এবং ২০৩০ সাল নাগাদ তা ৬০.১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর অনুমান করা হচ্ছে, যেখানে বার্ষিক ৫% হারে বৃদ্ধি প্রত্যাশিত ।
ইন্ডিয়ান রাইস এক্সপোর্টার্স ফেডারেশনের (IREF) জাতীয় সভাপতি প্রেম গার্গের মতে, ভারত ২০২৫-২৬ বিপণন বছরে (অক্টোবর-সেপ্টেম্বর) ২২-২৩ মিলিয়ন মেট্রিক টন ধান রপ্তানি করবে, যা আগের বছরের তুলনায় ১০-১৫ শতাংশ বেশি । বৈশ্বিক ধান বাজারে ভারতের অংশ প্রায় ৪০ শতাংশ, যা দেশের রপ্তানি প্রভাবকে আরও শক্তিশালী করেছে ।
চাষের মাঠে রোবট! কৃষিতে AI-এর যুগান্তকারী আবিষ্কার ঘটাচ্ছে বেসরকারি সংস্থাগুলি
রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণ
ভারতীয় রপ্তানিকারকরা ২৬টি নতুন বাজার চিহ্নিত করেছে, যার মধ্যে জাপান এবং মেক্সিকো উল্লেখযোগ্য । ঐতিহ্যবাহী বাজার বেনিন, ঘানা ছাড়াও মালয়েশিয়ায় নিয়মিত চালান পাঠানো হচ্ছে । ফুড কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়ার (FCI) স্টক বর্তমানে ২৮ মিলিয়ন মেট্রিক টন থেকে বেড়ে ৪০ মিলিয়ন মেট্রিক টনে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে, যা রপ্তানি সম্প্রসারণের পথ সুগম করবে ।
কৃষকদের জন্য আর্থিক সুবিধা
ন্যূনতম সমর্থন মূল্য (MSP) বৃদ্ধি
সরকার ২০২৫-২৬ খরিফ মৌসুমের জন্য ধানের ন্যূনতম সমর্থন মূল্য (MSP) সংশোধন করেছে। সাধারণ ধানের জন্য MSP নির্ধারণ করা হয়েছে ₹২,৩৬৯ প্রতি কুইন্টাল এবং গ্রেড A ধানের জন্য ₹২,৩৮৯ প্রতি কুইন্টাল । সরকার ২০১৮-১৯ সাল থেকে উৎপাদন ব্যয়ের কমপক্ষে ১.৫ গুণ MSP নির্ধারণ করে আসছে, যা কৃষকদের ন্যূনতম ৫০ শতাংশ লাভের মার্জিন নিশ্চিত করে ।
২০২৫ সালের MSP হাইকে ২০টিরও বেশি ফসলের জন্য প্রতি কুইন্টাল ₹১০০ থেকে ₹৩০০ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে । এই সংশোধিত হার অক্টোবর ২০২৫ থেকে কার্যকর হয়েছে এবং কৃষকদের আধার-লিঙ্কড ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি পেমেন্ট করা হচ্ছে, যা স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং মধ্যস্থতাকারীদের দূর করতে সাহায্য করছে ।
ধান ক্রয় এবং কৃষক সুবিধা
২০২৫-২৬ খরিফ বিপণন মৌসুমে (KMS), ১৭ নভেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত ২৪৩.৪৮ লাখ মেট্রিক টন ধান ক্রয় করা হয়েছে এবং ২১,২২,২৭৩ জন কৃষক উপকৃত হয়েছেন । এই সরকারি ক্রয় ব্যবস্থা কৃষকদের আয়ের স্থিতিশীলতা এবং বাজার ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা প্রদান করে ।
রপ্তানি থেকে কৃষকদের আয় বৃদ্ধি
রপ্তানি বৃদ্ধি কৃষকদের আয়ের সম্ভাবনা বাড়াচ্ছে। ভারত ২০২৪-২৫ ফসল বছরে ১৪৬.১ মিলিয়ন টন ধান উৎপাদন করেছে, যা দেশীয় চাহিদা ১২০.৭ মিলিয়ন টনের চেয়ে অনেক বেশি । এই উদ্বৃত্ত উৎপাদন রপ্তানির মাধ্যমে কৃষকদের জন্য অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করছে।
উৎপাদন সাফল্যের পেছনের চ্যালেঞ্জসমূহ
উৎপাদনশীলতার ব্যবধান
ভারতের ধান উৎপাদনে বিশ্বরেকর্ড সত্ত্বেও, প্রতি হেক্টরে ফলনের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ব্যবধান রয়েছে। ভারতের গড় ধানের ফলন মাত্র ২.৭ টন প্রতি হেক্টর, যেখানে চিনের ফলন ৬.৯ টন প্রতি হেক্টর । ভারত ইন্টারন্যাশনাল রাইস কনফারেন্স (BIRC) ২০২৫-এ কৃষি অর্থনীতিবিদরা জানিয়েছেন যে ভারত বিদ্যমান প্রযুক্তি ব্যবহার করে উৎপাদনশীলতা ৫-৭ টন প্রতি হেক্টরে বৃদ্ধি করতে পারে ।
করনেল বিশ্ববিদ্যালয়, ইন্টারন্যাশনাল রাইস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (IRRI) এবং ভারতীয় কৃষি গবেষণা পরিষদের (ICAR) যৌথ গবেষণায় দেখা গেছে যে বিহার, ওড়িশা এবং উত্তরপ্রদেশে বর্তমান ফলন এবং অর্জনযোগ্য ফলনের মধ্যে ১.৭ থেকে ২.৪ টন প্রতি হেক্টরের ব্যবধান রয়েছে । এই ব্যবধান বন্ধ করার মাধ্যমে উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা সম্ভব।
জল ব্যবহার এবং ভূগর্ভস্থ জল সংকট
ধান চাষ ভারতের ভূগর্ভস্থ জল সংকটকে তীব্র করছে। প্রতি কিলোগ্রাম ধান উৎপাদনে ৩,০০০-৫,০০০ লিটার জল প্রয়োজন, যা বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় ২০-৬০ শতাংশ বেশি । পাঞ্জাব এবং হরিয়ানায় ধান চাষের জন্য ভূগর্ভস্থ জলের উপর নির্ভরতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
রয়টার্সের সাথে কথা বলা ৫০ জন কৃষক এবং আট জন জল ও কৃষি কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে এক দশক আগে পাঞ্জাব এবং হরিয়ানায় ভূগর্ভস্থ জল প্রায় ৩০ ফুট গভীরতায় পাওয়া যেত, কিন্তু এখন তা ৮০-২০০ ফুট গভীরতায় চলে গেছে । এই দ্রুত জলস্তর হ্রাস টেকসই কৃষির জন্য একটি বড় উদ্বেগ।
কৃষকদের উপর আর্থিক চাপ
গভীর বোরওয়েল খননের জন্য কৃষকদের বেশি মূলধন এবং শক্তি ব্যয় করতে হচ্ছে । জলস্তর হ্রাসের ফলে দুর্বল মৌসুমি বৃষ্টির সময় উৎপাদনের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। ডিজেল চালিত সেচ ব্যবস্থা ধান এবং গম উৎপাদনে অদক্ষতার সবচেয়ে বড় উৎস ।
বিহারের গবেষণায় দেখা গেছে যে অদক্ষতা দূর করা হলে কৃষকরা ধানে ৩৮ শতাংশ এবং গমে ৩৫ শতাংশ লাভ বৃদ্ধি করতে পারে । এই ফলাফল নির্দেশ করে যে উন্নত সেচ ব্যবস্থা এবং প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃষকদের লাভজনকতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা সম্ভব।
সরকারি উদ্যোগ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
উচ্চ ফলনশীল বীজ জাত প্রবর্তন
কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান ২৫টি ফসলের জন্য ১৮৪টি উচ্চ ফলনশীল এবং জলবায়ু-প্রতিরোধী বীজ জাত প্রকাশ করেছেন, যা ভারতীয় কৃষি গবেষণা পরিষদ (ICAR) বিশ্ববিদ্যালয় এবং বীজ কোম্পানিগুলির সহযোগিতায় উন্নত করা হয়েছে । এই নতুন জাতগুলি ফসলের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং কৃষকদের আয় বাড়ানোর লক্ষ্যে তৈরি করা হয়েছে।
সরকার ডাল এবং তৈলবীজ উৎপাদন বৃদ্ধির উপর জোর দিচ্ছে যাতে ফসল বৈচিত্র্যকরণ এবং গ্রামীণ জীবিকা উন্নত করা যায় । এই পদক্ষেপ আমদানি নির্ভরতা হ্রাস এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা শক্তিশালী করতে সাহায্য করবে।
জল সংরক্ষণ পদ্ধতি প্রচার
টেকসই ধান চাষের জন্য সরকার সরাসরি বীজ বপন পদ্ধতি (Direct Seeded Rice – DSR) এবং সিস্টেম অফ রাইস ইনটেনসিফিকেশন (System of Rice Intensification – SRI) এর মতো জল সাশ্রয়ী প্রযুক্তি প্রচার করছে । এই পদ্ধতিগুলি জলের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করে এবং কার্বন নিঃসরণ কমাতে সাহায্য করে
প্রিসিশন এগ্রিকালচার, উচ্চ ফলনশীল হাইব্রিড বীজ এবং AI-ভিত্তিক মাটি ও ফসল মনিটরিং এর মাধ্যমে ফলন ব্যবধান দূর করা যেতে পারে । এই প্রযুক্তিগুলি কৃষকদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে সাহায্য করে এবং সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করে।
কৃষকদের লাভ: বাস্তব চিত্র
ইতিবাচক প্রভাব
| সুবিধার ক্ষেত্র | বিবরণ | প্রভাব |
|---|---|---|
| MSP বৃদ্ধি | ₹২,৩৬৯-২,৩৮৯ প্রতি কুইন্টাল | উচ্চতর আয় এবং আর্থিক নিরাপত্তা |
| রপ্তানি সুযোগ | ২২-২৩ মিলিয়ন টন রপ্তানি | অতিরিক্ত বাজার এবং আয়ের উৎস |
| সরকারি ক্রয় | ২১+ লাখ কৃষক উপকৃত | বাজার ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা |
| নতুন বীজ জাত | ১৮৪টি উচ্চ ফলনশীল জাত | উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির সম্ভাবনা |
উৎপাদন বৃদ্ধি কৃষকদের জন্য উচ্চতর আয়ের সুযোগ তৈরি করেছে। MSP ব্যবস্থা কৃষকদের ন্যায্য মূল্যের নিশ্চয়তা দেয় এবং বাজারের অস্থিরতা থেকে রক্ষা করে । রপ্তানি বৃদ্ধি গ্রামীণ অর্থনীতিতে ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি করছে এবং প্রান্তিক কৃষকদের বিশেষভাবে উপকৃত করছে ।
চ্যালেঞ্জসমূহ
তবে, এই সাফল্যের পেছনে কিছু উদ্বেগজনক দিক রয়েছে। উচ্চ উৎপাদন সত্ত্বেও, কৃষকরা গভীর বোরওয়েল খননের জন্য ভারী ঋণ নিতে বাধ্য হচ্ছেন । পাঞ্জাব এবং হরিয়ানার কৃষকরা জল সংকটের কারণে অসন্তুষ্ট থাকছেন ।
ভারত দেশীয় চাহিদার চেয়ে বেশি ধান উৎপাদন করছে, যা আনুপাতিক খাদ্য নিরাপত্তা লাভ ছাড়াই জল চাপ বাড়াচ্ছে । ধান রপ্তানির মাধ্যমে ভারত মূলত “ভার্চুয়াল ওয়াটার” রপ্তানি করছে, যা জল সংকটের দেশে দীর্ঘমেয়াদী স্থায়িত্বের প্রশ্ন তোলে ।
বিশেষজ্ঞদের মতামত এবং সুপারিশ
কৃষি বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে ভারতের ধান উৎপাদনে সাফল্য টেকসই করার জন্য বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন:
-
ফসল বৈচিত্র্যকরণ: কম জল-নিবিড় ফসল যেমন মিলেট, ভুট্টা এবং সোরঘাম চাষে উৎসাহিত করা। গবেষণায় দেখা গেছে যে মৌসুমী ধানের জায়গায় বিকল্প ফসল চাষ করে কৃষকরা জলবায়ু সম্পর্কিত ক্ষতি কমাতে এবং আয় বৃদ্ধি করতে পারেন ।
-
উন্নত সেচ প্রযুক্তি: ড্রিপ এবং স্প্রিংকলার সেচ ব্যবস্থায় ভর্তুকি প্রদান করা। সরকার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের জন্য ৫৫ শতাংশ এবং অন্যান্য শ্রেণীর কৃষকদের জন্য ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত ভর্তুকি প্রদান করছে ।
-
প্রিসিশন এগ্রিকালচার: AI এবং স্যাটেলাইট প্রযুক্তি ব্যবহার করে মাটি ও ফসলের স্বাস্থ্য মনিটরিং করা ।
-
হাইব্রিড বীজ গ্রহণ: উচ্চ ফলনশীল এবং জলবায়ু-প্রতিরোধী বীজ জাতের দ্রুত বিতরণ নিশ্চিত করা ।
ট্রাম্পের ৫০% শুল্কে ভারতীয় রপ্তানিকারকদের চরম বিপর্যয়: নেতৃত্বের নীরবতায় ক্ষুব্ধ বিরোধীরা
আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা এবং বাজার গতিশীলতা
ভারতের ধান রপ্তানি বৃদ্ধি এশীয় প্রতিযোগীদের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। ভারতের প্রচুর মজুদ এবং সাশ্রয়ী মূল্যের কারণে অন্যান্য রপ্তানিকারক দেশগুলির সুযোগ সীমিত হচ্ছে । ভারত ২০২২ সালে অভ্যন্তরীণ মূল্য স্থিতিশীল করার জন্য রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল, কিন্তু এখন সেই নিষেধাজ্ঞা শিথিল করায় রপ্তানি প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি পেয়েছে ।
IREF এর প্রেসিডেন্ট প্রেম গার্গ জানিয়েছেন যে সরকার ধান রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। অবশ্য, যদি দেশীয় খাদ্য নিরাপত্তার প্রশ্ন আসে, তবে সরকার নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারে । বর্তমান উদ্বৃত্ত পরিস্থিতি থেকে ইন্ডাস্ট্রি আশাবাদী যে নিকট ভবিষ্যতে রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে না ।
ভবিষ্যৎ দৃষ্টিভঙ্গি এবং টেকসই উন্নয়ন
ভারতের ধান উৎপাদনে রেকর্ড সাফল্য একটি গর্বের বিষয়, কিন্তু এই সাফল্যকে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই করতে হলে পরিবেশগত এবং অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলির সমাধান করতে হবে। জল ব্যবস্থাপনা, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং ফসল বৈচিত্র্যকরণ হবে ভবিষ্যতের মূল ফোকাস এলাকা।
সরকার এবং কৃষি বিশেষজ্ঞরা একমত যে শুধুমাত্র উৎপাদন বৃদ্ধি নয়, বরং টেকসই কৃষি পদ্ধতি এবং কৃষকদের প্রকৃত আয় বৃদ্ধিই হওয়া উচিত প্রধান লক্ষ্য। উন্নত প্রযুক্তি, উন্নত বীজ জাত এবং জল সংরক্ষণ পদ্ধতির সমন্বিত ব্যবহারের মাধ্যমেই ভারত বিশ্ব ধান উৎপাদনে তার শীর্ষস্থান বজায় রাখতে পারবে এবং একই সাথে পরিবেশগত স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে পারবে।
ভারত চিনকে পেছনে ফেলে বিশ্বের বৃহত্তম ধান উৎপাদনকারী দেশে পরিণত হয়ে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক অর্জন করেছে। ১৫০.১৮ মিলিয়ন টন উৎপাদন এবং বৈশ্বিক বাজারে ৪০ শতাংশ অংশীদারিত্ব দেশের কৃষি শক্তির প্রমাণ। MSP বৃদ্ধি, সরকারি ক্রয় ব্যবস্থা এবং রপ্তানি সুযোগ কৃষকদের আয় বৃদ্ধিতে অবদান রাখছে। তবে, গভীরে প্রোথিত জল সংকট, উৎপাদনশীলতার ব্যবধান এবং পরিবেশগত স্থায়িত্বের চ্যালেঞ্জগুলি কৃষকদের প্রকৃত লাভকে সীমিত করছে। দীর্ঘমেয়াদে কৃষকদের পকেটে সত্যিকারের লাভ আসবে কি না তা নির্ভর করবে সরকার কীভাবে জল সংরক্ষণ, প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং টেকসই কৃষি পদ্ধতির প্রচার করে তার উপর। ভারতের এই বিশ্বরেকর্ড শুধুমাত্র সংখ্যার খেলা নয়, বরং এটি দেশের কৃষি ভবিষ্যৎ এবং কৃষক সমৃদ্ধির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা











