স্টেডিয়ামে গিয়ে ম্যাচ দেখার স্বপ্ন আরও মহার্ঘ হয়ে উঠল, জিএসটি-র কুঠারাঘাতে টিকিট দাম বৃদ্ধি আইপিএলে

ভারতের ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য বড় ধাক্কার খবর এসেছে। আগামী ২২ সেপ্টেম্বর থেকে আইপিএল টিকিটের উপর জিএসটি হার ২৮ শতাংশ থেকে বেড়ে হবে ৪০ শতাংশ। গতকাল ৫৬তম জিএসটি কাউন্সিলের সভায় কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী…

Avatar

 

ভারতের ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য বড় ধাক্কার খবর এসেছে। আগামী ২২ সেপ্টেম্বর থেকে আইপিএল টিকিটের উপর জিএসটি হার ২৮ শতাংশ থেকে বেড়ে হবে ৪০ শতাংশ। গতকাল ৫৬তম জিএসটি কাউন্সিলের সভায় কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামানের নেতৃত্বে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। নতুন কর কাঠামোর ফলে আইপিএল টিকিট এখন ক্যাসিনো, রেস ক্লাব এবং বিলাসবহুল পণ্যের মতো সর্বোচ্চ কর স্ল্যাবে স্থান পেয়েছে।

নতুন জিএসটি হার অনুযায়ী এক হাজার টাকার টিকিট, যা আগে ১২৮০ টাকায় পাওয়া যেত, এখন পাওয়া যাবে ১৪০০ টাকায়। অর্থাৎ প্রতি হাজার টাকার টিকিটে অতিরিক্ত ১২০ টাকা বেশি গুনতে হবে দর্শকদের। এই বৃদ্ধি ক্রিকেট ফ্যানদের জন্য বিশেষ উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিভিন্ন মূল্যের টিকিটে কতটা প্রভাব পড়বে তার একটি সম্পূর্ণ চিত্র তুলে ধরলে দেখা যায়, ৫০০ টাকার টিকিট এখন হবে ৭০০ টাকা, যেখানে আগে ছিল ৬৪০ টাকা। দু’হাজার টাকার টিকিটের দাম দাঁড়াবে ২৮০০ টাকা, যা আগে ছিল ২৫৬০ টাকা। এভাবে সব দামের স্তরেই ভক্তদের পকেটে পড়বে বাড়তি চাপ।

জিএসটি কাউন্সিলের ৫৫তম বৈঠকে বেশ কিছু পণ্যের করহার পরিবর্তনের সুপারিশ

জিএসটি কাউন্সিলের এই সিদ্ধান্তে আইপিএল এবং অন্যান্য উচ্চমানের ক্রীড়া ইভেন্টগুলোকে অত্যাবশ্যকীয় বা বিলাসবহুল বিনোদন হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়েছে। তবে সুখের বিষয় হলো, সাধারণ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচের টিকিট এই বৃদ্ধির আওতায় পড়বে না। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ফেডারেশন দ্বারা স্বীকৃত ক্রীড়া ইভেন্টগুলোর ৫০০ টাকার নিচের টিকিট কর মুক্ত থাকবে এবং এর উপরের টিকিটে ১৮ শতাংশ জিএসটি প্রযোজ্য হবে।

কর কাঠামোর এই পরিবর্তন শুধুমাত্র আইপিএল নয়, বরং পান মশলা, মদ, তামাকজাত পণ্য, বিলাসবহুল গাড়ি এবং কার্বনেটেড পানীয়ের মতো পণ্যেও ৪০ শতাংশ জিএসটি আরোপ করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, এই পরিবর্তন সাধারণ মানুষের উপর ফোকাস রেখে করা হয়েছে এবং নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের কর উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হয়েছে।

নতুন জিএসটি কাঠামোতে শুধুমাত্র দুটি প্রধান স্ল্যাব রাখা হয়েছে – ৫ শতাংশ এবং ১৮ শতাংশ। আগের ১২ এবং ২৮ শতাংশের স্ল্যাব তুলে দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে দুধ, পনির, রুটি, তেল, মাখনের মতো দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় জিনিসগুলোর দাম কমবে। একইভাবে শ্যাম্পু, সাবান, চুলের তেল, টুথপেস্ট এবং ছোট গাড়ি, বাইকের দামও কমানো হয়েছে।

বিসিসিআই এবং ক্রিকেট বোর্ড এই পরিবর্তনের ব্যাপারে তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া দেয়নি। তবে আইপিএল যেহেতু বিশ্বের সবচেয়ে ধনী এবং জনপ্রিয় ক্রিকেট লিগ, সেহেতু এই কর বৃদ্ধি ভক্তদের মাঝে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকরা এবং স্টেডিয়াম পরিচালনাকারীরাও টিকিটের চূড়ান্ত মূল্য নিয়ে নতুন করে ভাবনা চিন্তা করতে বাধ্য হবেন।

অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, এই কর বৃদ্ধি স্টেডিয়ামে দর্শক সংখ্যা কমাতে পারে। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর জন্য আইপিএল ম্যাচ দেখা আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠবে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই সিদ্ধান্ত রাজস্ব বৃদ্ধি এবং বিলাসবহুল পণ্যের উপর উচ্চ কর আরোপের নীতির অংশ।

গত পাঁচ বছরে ৪০০ কোটি টাকা কর দিয়ে চমক দিল রাম মন্দির ট্রাস্ট!

স্মর্তব্য যে, এর আগে ২০১৭ সালেও ক্রিকেট টিকিটে জিএসটি আরোপ করা হয়েছিল এবং সেসময় কলকাতার ইডেন গার্ডেনের টিকিটের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছিল। তখন সিএবির সভাপতি সৌরভ গাঙ্গুলি জানিয়েছিলেন যে সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী জিএসটি যোগ করতে হচ্ছে।

নতুন কর কাঠামো অনুযায়ী স্টেডিয়ামে অনলাইন বুকিং ফি এবং অন্যান্য চার্জ মিলিয়ে টিকিটের দাম আরও বেশি হতে পারে। কিছু স্টেডিয়ামে বিনোদন কর আলাদাভাবে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত আরোপিত হয় যা মোট খরচ আরও বাড়িয়ে দেবে। উদাহরণ হিসেবে, চেন্নাই সুপার কিংসের এক হাজার টাকার টিকিটে তামিলনাড়ুর ২৫ শতাংশ বিনোদন কর যোগ হয়ে মূল্য দাঁড়াবে ১২৫০ টাকা এবং তার উপর ৪০ শতাংশ জিএসটি মিলে মোট খরচ হবে ১৭৫০ টাকা।

যদিও এই পরিবর্তন ভক্তদের জন্য হতাশাজনক, তবুও ক্রিকেটপাগল দেশে আইপিএলের জনপ্রিয়তা এবং ব্র্যান্ড ভ্যালু বিবেচনা করলে দেখা যাবে যে ভক্তরা এই অতিরিক্ত খরচ সত্ত্বেও স্টেডিয়ামে আসতে দ্বিধা করবেন না। তবে মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর জন্য এটি অবশ্যই একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

সরকারের এই নীতির মূল উদ্দেশ্য হলো সাধারণ মানুষের নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের উপর কর কমিয়ে তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করা। একই সাথে বিলাসবহুল পণ্য এবং সেবার উপর বেশি কর আরোপ করে রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি করা। প্রাক্কলন অনুযায়ী, এই পরিবর্তনের ফলে প্রায় ৪৭ হাজার ৭০০ কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি হবে কিন্তু নতুন ৪০ শতাংশ স্ল্যাব থেকে আদায় তা কিছুটা পূরণ করবে।

About Author
Avatar

আমাদের স্টাফ রিপোর্টারগণ সর্বদা নিষ্ঠার সাথে কাজ করে যাচ্ছেন যাতে আপনি বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের সর্বশেষ ও গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে পারেন। তাঁদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও প্রতিশ্রুতি আমাদের ওয়েবসাইটকে একটি বিশ্বস্ত তথ্যের উৎস হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।তারা নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ রিপোর্টিংয়ে বিশ্বাসী, দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক প্রতিবেদন তৈরিতে সক্ষম

আরও পড়ুন