টেক-বিশ্বে উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে। দীপাবলির আলোর রেশ কাটতে না কাটতেই ভারতের স্মার্টফোন বাজারে নতুন করে আগুন লাগাতে আসছে iQOO। কোম্পানির সিইও নিপুন মারিয়া (Nipun Marya) সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে টিজ করে জানিয়েছেন যে, তাদের বহু প্রতীক্ষিত ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোন, iQOO 15, আগামী নভেম্বর মাসেই ভারতে লঞ্চ হতে চলেছে। (সোর্স: 91Mobiles) চীনের বাজারে ২০ অক্টোবর লঞ্চ হওয়ার ঠিক পরেই এই ফোনটি ভারতে পা রাখছে, যা ভারতীয় গ্রাহকদের জন্য নিঃসন্দেহে একটি বড় খবর। এই ফোনটিকে ঘিরে ইতিমধ্যেই যে হাইপ তৈরি হয়েছে, তার মূল কারণ হলো এর অবিশ্বাস্য স্পেসিফিকেশন। টিজার অনুযায়ী, এটি ভারতের প্রথম ফোনগুলির মধ্যে একটি হতে চলেছে যা লেটেস্ট এবং সবচেয়ে শক্তিশালী Snapdragon 8 Elite Gen 5 প্রসেসর সহ আসবে। পারফরম্যান্স, গেমিং এবং ক্যামেরার এক দুর্দান্ত প্যাকেজ হতে চলেছে এই ডিভাইস।
এই আর্টিকেলে আমরা iQOO 15-এর প্রতিটি লিক (Leak) এবং নিশ্চিত তথ্যের (Confirmed News) পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করব। আমরা দেখব কী কী ফিচার এই ফোনটিকে ২০২৩-২৪ সালের অন্যান্য ফ্ল্যাগশিপ থেকে আলাদা করে তুলছে, ভারতীয় বাজারে এর প্রভাব কী হতে পারে এবং এর সম্ভাব্য দাম কত হতে পারে। এই সম্পূর্ণ বিশ্লেষণটি করা হয়েছে GSMArena, Digit.in, IDC এবং Counterpoint Research-এর মতো হাই-অথরিটি এবং বিশ্বস্ত সোর্সের রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে।
iQOO 15: একটি পারফরম্যান্স ‘বিস্ট’-এর জন্ম
iQOO ব্র্যান্ডটি শুরু থেকেই ‘পারফরম্যান্স’ এবং ‘গেমিং’-কে তাদের মূল ফোকাস হিসেবে রেখেছে। তাদের ফোনগুলি প্রায়শই ‘ফ্ল্যাগশিপ কিলার’ হিসেবে পরিচিতি পায়, কারণ তারা সর্বোচ্চ স্তরের প্রসেসর এবং গেমিং-কেন্দ্রিক ফিচারগুলি এমন দামে অফার করে যা স্যামসাং বা অ্যাপলের মতো প্রিমিয়াম ব্র্যান্ডের থেকে অনেকটাই কম। iQOO 15 এই ধারাকেই আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যেতে চলেছে। চলুন দেখে নেওয়া যাক এর প্রতিটি বিভাগের বিস্তারিত বিবরণ।
পারফরম্যান্সের নতুন সম্রাট: Snapdragon 8 Elite Gen 5 এবং Q3 চিপ
যেকোনো ফ্ল্যাগশিপ ফোনের প্রাণকেন্দ্র হলো তার প্রসেসর। iQOO 15 এই বিভাগে কোনো আপস করেনি।
Snapdragon 8 Elite Gen 5 চিপসেট
কোম্পানি অফিসিয়ালি নিশ্চিত করেছে যে iQOO 15-এ থাকবে কোয়ালকমের একদম নতুন Snapdragon 8 Elite Gen 5 চিপসেট। (সোর্স: Digit.in)। এই ‘Elite’ ট্যাগিংটি সাধারণ জেনারেশনাল আপগ্রেডের থেকে বেশি কিছু বোঝায়। বিভিন্ন টেক লিক অনুযায়ী, এই প্রসেসরটির ক্লক স্পিড ৪.৬ GHz পর্যন্ত পৌঁছতে পারে (সোর্স: Smartprix), যা মোবাইল কম্পিউটিং-এর ক্ষেত্রে এক নতুন বেঞ্চমার্ক স্থাপন করবে।
এই প্রসেসরটি একটি নতুন আর্কিটেকচারে (সম্ভবত ৩nm বা ২nm প্রসেসে) তৈরি, যার ফলে এটি পূর্ববর্তী জেনারেশনের (Snapdragon 8 Gen 4) তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে দ্রুত এবং অনেক বেশি শক্তি-সাশ্রয়ী (power-efficient)। এর মানে হলো, ব্যবহারকারীরা শুধু যে হাই-এন্ড গেম (যেমন Genshin Impact, Call of Duty: Mobile) সর্বোচ্চ সেটিংসে ল্যাগ-ফ্রি খেলতে পারবেন তাই নয়, বরং দৈনন্দিন কাজেও এক মসৃণ অভিজ্ঞতা পাবেন। এই চিপসেটের উন্নত NPU (Neural Processing Unit) ফোনের AI ক্ষমতাকেও বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে, যা ক্যামেরা প্রসেসিং, রিয়েল-টাইম ল্যাঙ্গুয়েজ ট্রান্সলেশন এবং স্মার্ট অ্যাসিস্ট্যান্টের কাজকে আরও নিখুঁত করে তুলবে।
ডেডিকেটেড Q3 গেমিং চিপ
শুধুমাত্র মূল প্রসেসরের উপর নির্ভর না করে, iQOO তাদের এই ফোনে একটি ডেডিকেটেড Q3 গেমিং চিপ-ও যোগ করেছে বলে জানা গেছে (সোর্স: 91Mobiles)। এই কাস্টম চিপটির মূল কাজ হলো GPU-এর উপর থেকে চাপ কমানো। এটি ‘গেম ফ্রেম ইন্টারপোলেশন’ (Game Frame Interpolation)-এর মতো কাজ করে, যার ফলে কম ফ্রেম রেটের গেমকেও এটি হাই রিফ্রেশ রেটে (যেমন ১২০Hz বা ১৪৪Hz) চালাতে পারে। এর ফলে গেমিং হয় অনেক বেশি স্মুথ এবং ব্যাটারিও কম খরচ হয়।
এর সাথে থাকবে লেটেস্ট LPDDR5X RAM (১৬GB পর্যন্ত) এবং UFS 4.0 স্টোরেজ (১TB পর্যন্ত)। এই কম্বিনেশন অ্যাপ লোডিং টাইম প্রায় শূন্যে নামিয়ে আনবে এবং ফাইল ট্রান্সফার স্পিড হবে অবিশ্বাস্য।
চোখ ধাঁধানো ডিসপ্লে: 2K+ Samsung M14 প্যানেল
একটি ফোনের পারফরম্যান্স তখনই উপভোগ করা যায় যখন তার ডিসপ্লেটি সেই মানের হয়। iQOO 15 এই ক্ষেত্রে এক লাফে অনেকটা এগিয়ে গেছে।
লিক এবং রিপোর্ট অনুযায়ী, এই ফোনে একটি ৬.৮৫-ইঞ্চি ফ্ল্যাট LTPO AMOLED ডিসপ্লে থাকবে (সোর্স: Cashify)। এটি সাধারণ FHD+ প্যানেল নয়, বরং একটি হাই-রেজোলিউশন 2K+ (১৪৪০ x ৩২০০ পিক্সেল বা তার কাছাকাছি) প্যানেল। বিশেষ ব্যাপার হলো, এই প্যানেলটি Samsung-এর লেটেস্ট M14 জেনারেশনের প্যানেল হতে চলেছে, যা তার অবিশ্বাস্য ব্রাইটনেস এবং কালার অ্যাক্যুরেসির জন্য বিখ্যাত
144Hz LTPO টেকনোলজি
ফোনটিতে ১৪৪Hz রিফ্রেশ রেট সাপোর্ট থাকবে (সোর্স: NotebookCheck)। কিন্তু এর থেকেও গুরুত্বপূর্ণ হলো এটি একটি LTPO (low-temperature polycrystalline oxide) প্যানেল। এর মানে হলো, ডিসপ্লেটি আপনার ব্যবহারের ওপর ভিত্তি করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার রিফ্রেশ রেট ১Hz থেকে ১৪৪Hz-এর মধ্যে অ্যাডজাস্ট করতে পারে। যখন আপনি কোনো আর্টিকেল পড়ছেন, তখন এটি ১Hz-এ নেমে গিয়ে ব্যাটারি বাঁচাবে, আবার যখন গেমিং বা স্ক্রোলিং করছেন, তখন এটি ১৪৪Hz-এ চলে গিয়ে মসৃণ অভিজ্ঞতা দেবে।
ব্রাইটনেস এবং অন্যান্য ফিচার
এই ডিসপ্লের সর্বোচ্চ ব্রাইটনেস (Peak Brightness) ২,৬০০ নিটস পর্যন্ত হতে পারে বলে জানা গেছে (সোর্স: Cashify)। এর ফলে সরাসরি সূর্যের আলোতেও এই ডিসপ্লে দেখতে কোনো অসুবিধা হবে না। এর সাথে Dolby Vision এবং HDR সাপোর্ট থাকায় হাই-ডাইনামিক রেঞ্জের কন্টেন্ট (যেমন Netflix বা Amazon Prime-এর সিনেমা) দেখার অভিজ্ঞতা হবে অসাধারণ। ফ্ল্যাট ডিসপ্লে হওয়ায় গেমিং-এর সময় বা দৈনন্দিন ব্যবহারে অ্যাক্সিডেন্টাল টাচের সমস্যাও কম হবে, যা অনেক ব্যবহারকারী পছন্দ করেন।
ক্যামেরা: এবার শুধু পারফরম্যান্স নয়, ফটোগ্রাফিও
iQOO ফোনগুলি ঐতিহ্যগতভাবে পারফরম্যান্সের জন্য পরিচিত হলেও, iQOO 12 সিরিজের পর থেকে তারা ক্যামেরার দিকেও বিশেষ নজর দিয়েছে। iQOO 15 এই ট্রেন্ডকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে প্রস্তুত। লিক অনুযায়ী, এতে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ট্রিপল ক্যামেরা সিস্টেম থাকছে।
৫০MP প্রাইমারি সেন্সর
ফোনটির মূল ক্যামেরা হিসেবে একটি ৫০ মেগাপিক্সেলের বড় ১/১.৫-ইঞ্চি সেন্সর থাকতে পারে (সোর্স: GSMArena)। সেন্সরের আকার বড় হওয়ার সরাসরি সুবিধা হলো এটি বেশি আলো গ্রহণ করতে পারে, যার ফলে কম আলোতেও খুব পরিষ্কার, ডিটেইলড এবং কম নয়েজ-যুক্ত ছবি ওঠে। এর সাথে অপটিক্যাল ইমেজ স্ট্যাবিলাইজেশন (OIS) তো থাকছেই, যা হাত কাঁপার ফলে ছবি ঝাপসা হয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করে।
৫০MP পেরিস্কোপ টেলিফটো লেন্স (Sony IMX882)
এটিই হতে চলেছে এই ফোনের ক্যামেরার মূল আকর্ষণ। iQOO তাদের এই ফোনে একটি ৫০ মেগাপিক্সেলের পেরিস্কোপ টেলিফটো লেন্স ব্যবহার করতে পারে (সোর্স: NotebookCheck)। এই লেন্সটি Sony IMX882 সেন্সর হতে পারে (সোর্স: ZoomBangla News)। এটি ব্যবহারকারীদের ৩x অপটিক্যাল জুম দেবে, যা ছবির কোয়ালিটি না হারিয়েই দূরের বস্তুকে কাছে নিয়ে আসবে। কোম্পানি ইতিমধ্যেই তাদের অফিসিয়াল Weibo অ্যাকাউন্টে এই ক্যামেরায় তোলা কিছু টেলিফটো স্যাম্পল শেয়ার করেছে, যা এর জুম ক্ষমতা এবং ডিটেইলকে প্রকাশ করে। এই পেরিস্কোপ লেন্সটি ডিজিটাল জুমের মাধ্যমে ১০০x পর্যন্ত জুম সাপোর্ট করতে পারে।
৫০MP আল্ট্রা-ওয়াইড ক্যামেরা
তৃতীয় ক্যামেরাটি হতে পারে একটি ৫০ মেগাপিক্সেলের আল্ট্রা-ওয়াইড অ্যাঙ্গেল লেন্স (সোর্স: ZoomBangla News)। হাই-রেজোলিউশনের এই সেন্সরটি শুধু যে বিস্তৃত ল্যান্ডস্কেপ বা গ্রুপ ফটো তুলতে সক্ষম তাই নয়, এটি হাই-কোয়ালিটি ম্যাক্রো শট নিতেও সাহায্য করতে পারে।
এই শক্তিশালী হার্ডওয়্যারের সাথে iQOO (এবং তাদের পেরেন্ট কোম্পানি vivo)-এর নিজস্ব অ্যাডভান্সড ইমেজ প্রসেসিং অ্যালগরিদম এবং সম্ভবত একটি নতুন V-সিরিজ ইমেজিং চিপ যুক্ত হবে, যা কালার সায়েন্স, নাইট মোড এবং পোর্ট্রেট মোডকে ফ্ল্যাগশিপ স্তরে নিয়ে যাবে।
ব্যাটারি এবং চার্জিং: ৭,০০০ mAh-এর দানব!
iQOO 15-এর সবচেয়ে চমকপ্রদ ফিচার হতে পারে এর ব্যাটারি। যেখানে বেশিরভাগ ফ্ল্যাগশিপ ফোন ৫,০০০ থেকে ৫,৫০০ mAh ব্যাটারিতে সীমাবদ্ধ, সেখানে iQOO 15-এ একটি বিশাল ৭,০০০ mAh ব্যাটারি থাকতে পারে বলে জোরালোভাবে জানা যাচ্ছে (সোর্স: GSMArena, Cashify)।
এটি একটি গেম-চেঞ্জিং আপগ্রেড। Snapdragon 8 Elite Gen 5-এর মতো শক্তিশালী প্রসেসর এবং 2K+ 144Hz ডিসপ্লে প্রচুর পাওয়ার ব্যবহার করে। এই ৭,০০০ mAh ব্যাটারি নিশ্চিত করবে যে ‘হেভি ইউজার’-রাও যাতে অনায়াসে দেড় থেকে দুই দিন ফোনটি একবার চার্জে ব্যবহার করতে পারেন। যারা দীর্ঘ সময় ধরে গেমিং করেন বা ভিডিও দেখেন, তাদের জন্য এটি একটি আশীর্বাদস্বরূপ।
100W ফাস্ট চার্জিং এবং 50W ওয়্যারলেস
এত বড় ব্যাটারি চার্জ করতে কত সময় লাগবে? এখানেই iQOO-এর দক্ষতা। যদিও কিছু পুরোনো রিপোর্টে ২০০W চার্জিং-এর কথা শোনা গিয়েছিল (সোর্স: globalenergy.co.in), সাম্প্রতিক এবং নির্ভরযোগ্য লিকগুলি (যেমন 3C সার্টিফিকেশন লিক) ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ফোনটি ১০০W তারযুক্ত (Wired) ফাস্ট চার্জিং সাপোর্ট করবে (সোর্স: NotebookCheck)। এই ১০০W চার্জারটি সম্ভবত ৩০ মিনিটেরও কম সময়ে ফোনটিকে ০ থেকে ১০০% চার্জ করতে সক্ষম হবে।
এর সাথে, iQOO 15 ফ্ল্যাগশিপ সেগমেন্টে নিজের জায়গা পাকা করতে ৫০W ফাস্ট ওয়্যারলেস চার্জিং-ও সাপোর্ট করবে (সোর্স: Cashify)।
ডিজাইন এবং বিল্ড কোয়ালিটি: প্রিমিয়াম ও টেকসই
পারফরম্যান্স-কেন্দ্রিক ফোন হলেও iQOO 15-এর ডিজাইন এবং বিল্ড কোয়ালিটি হবে সম্পূর্ণ প্রিমিয়াম।
- ফ্ল্যাট ডিসপ্লে ডিজাইন: লিক অনুযায়ী, ফোনটিতে কার্ভড ডিসপ্লের বদলে একটি ফ্ল্যাট ডিসপ্লে থাকবে, যার বেজেল বা বর্ডার হবে খুবই পাতলা।
- IP68/IP69 রেটিং: এটি একটি বিশাল আপগ্রেড। iQOO 15-এ IP68 এবং IP69 রেটিং থাকবে বলে জানা গেছে (সোর্স: 91Mobiles)। IP68 মানে হলো এটি ধুলো এবং জল (১.৫ মিটার গভীর জলে ৩০ মিনিট পর্যন্ত) থেকে সুরক্ষিত। IP69 রেটিং আরও এক ধাপ এগিয়ে, যা উচ্চ-চাপ এবং উচ্চ-তাপমাত্রার জল থেকেও ফোনকে রক্ষা করে। এটি এমন একটি ফিচার যা সাধারণত খুব দামি রাগড (rugged) ফোনে দেখা যায়।
- বডি: ফোনটি ৮.৫ মিমি পাতলা এবং ওজন ২০০ গ্রামের কম হবে বলে আশা করা হচ্ছে (সোর্স: Cashify)। এর মানে ৭,০০০ mAh ব্যাটারি থাকা সত্ত্বেও ফোনটি হাতে ধরতে বেশ আরামদায়ক হবে।
- অন্যান্য: এতে ইন-ডিসপ্লে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর (সম্ভবত আল্ট্রাসনিক), শক্তিশালী ডুয়াল স্টিরিও স্পিকার এবং গেমিং-এর জন্য অ্যাডভান্সড হ্যাপটিক্স (ভাইব্রেশন মোটর) থাকবে।
ভারতীয় বাজারে iQOO 15-এর প্রভাব এবং প্রতিযোগিতা
iQOO 15 এমন এক সময়ে ভারতে আসছে যখন প্রিমিয়াম সেগমেন্টে প্রতিযোগিতা তুঙ্গে। কিন্তু iQOO-এর হাতে কিছু তুরুপের তাস রয়েছে।
iQOO-এর অবিশ্বাস্য বৃদ্ধি
আন্তর্জাতিক ডেটা কর্পোরেশন (IDC)-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২২ সালের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে (Q2 2025) iQOO ভারতের বাজারে বার্ষিক ৬৮.৪% বৃদ্ধি (YoY Growth) নথিভুক্ত করেছে (সোর্স: IDC)। এটি প্রমাণ করে যে ভারতীয় গ্রাহকরা এই ব্র্যান্ডের ওপর আস্থা রাখছেন এবং তাদের পারফরম্যান্স-কেন্দ্রিক ফোনগুলি গ্রহণ করছেন।
অন্যদিকে, Counterpoint Research-এর রিপোর্ট বলছে যে, ভারতের ‘আল্ট্রা-প্রিমিয়াম’ সেগমেন্ট (₹৪৫,০০০-এর বেশি দামের ফোন) বার্ষিক ৩৭% হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। iQOO 15 ঠিক এই সেগমেন্টকেই টার্গেট করছে।
প্রধান প্রতিযোগী কারা?
iQOO 15-এর সরাসরি প্রতিযোগিতা হবে OnePlus 14 (বা 14R) এবং Xiaomi 15-এর মতো ফোনগুলির সাথে, যেগুলিও Snapdragon 8 Elite Gen 5 প্রসেসর নিয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এখানে একটি সম্ভাব্য তুলনামূলক টেবিল (লিকের ওপর ভিত্তি করে) দেওয়া হলো:
| ফিচার (Feature) | iQOO 15 (লিকড) | OnePlus 14 (লিকড) |
| প্রসেসর | Snapdragon 8 Elite Gen 5 (4.6 GHz) | Snapdragon 8 Elite Gen 5 (4.3 GHz) |
| ডিসপ্লে | ৬.৮৫” 2K+ AMOLED, 144Hz LTPO | ৬.৭৮” 1.5K/2K AMOLED, 120Hz LTPO |
| ব্যাটারি | 7,000 mAh | 5,500 – 6,000 mAh (আনুমানিক) |
| চার্জিং | 100W ওয়্যারড, 50W ওয়্যারলেস | 100W/120W ওয়্যারড, 50W ওয়্যারলেস |
| ক্যামেরা | 50MP (Main) + 50MP (UW) + 50MP (Periscope) | 50MP (Main) + 50MP (UW) + 64MP (Telephoto) |
| IP রেটিং | IP68/IP69 | IP68 (আনুমানিক) |
এই তুলনা (সোর্স: Smartprix) থেকে স্পষ্ট যে, iQOO 15 বিশেষত ব্যাটারি লাইফ এবং ডিসপ্লে রিফ্রেশ রেটের ক্ষেত্রে প্রতিযোগীদের থেকে এগিয়ে থাকতে পারে।
সম্ভাব্য দাম এবং উপসংহার
iQOO 15 নিছক একটি আপগ্রেড নয়; এটি পারফরম্যান্স, ব্যাটারি এবং ক্যামেরার এক সম্পূর্ণ প্যাকেজ হতে চলেছে। ৭,০০০ mAh ব্যাটারি, Snapdragon 8 Elite Gen 5 চিপসেট এবং একটি 2K+ 144Hz ডিসপ্লের মতো স্পেসিফিকেশনগুলি এই ফোনটিকে কাগজ-কলমে ২০২৩ সালের অন্যতম সেরা অ্যান্ড্রয়েড ফ্ল্যাগশিপ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করছে।
এবার আসা যাক সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নে: দাম কত হবে?
যেহেতু এটি একটি ফ্ল্যাগশিপ ডিভাইস, এর দাম কম হবে না। তবে iQOO তাদের আক্রমণাত্মক মূল্যের (aggressive pricing) জন্য পরিচিত। বিভিন্ন টেক সাইট এবং লিক অনুযায়ী, ভারতে iQOO 15-এর বেস মডেলের (১২GB RAM + ২৫৬GB স্টোরেজ) দাম ₹৫৯,৯৯৯ থেকে শুরু হতে পারে (সোর্স: Cashify)।
যদি iQOO সত্যিই এই দামে বা এর কাছাকাছি দামে এই ফোনটি লঞ্চ করতে পারে, তবে এটি OnePlus 14 এবং Samsung Galaxy S25 সিরিজের জন্য এক বিশাল চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। যারা একটি আপসহীন গেমিং ফোন চান, দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারি লাইফ খোঁজেন এবং একটি ফ্ল্যাগশিপ-গ্রেড ক্যামেরা অভিজ্ঞতা পেতে চান, তাদের জন্য iQOO 15 একটি দুর্দান্ত বিকল্প হতে চলেছে। নভেম্বর মাসের দিকে আমাদের সকলের চোখ থাকবে এই ‘পারফরম্যান্স বিস্ট’-এর অফিসিয়াল লঞ্চের দিকে।











