ধামাকা এন্ট্রি! 7200mAh ব্যাটারি আর পাওয়ারফুল প্রসেসর নিয়ে হাজির iQOO Z11x 5G, জানুন iQOO Z11x Specifications ও দাম

স্মার্টফোন কোম্পানিগুলোর মধ্যে এখন যেন এক অঘোষিত প্রতিযোগিতা চলছে—কে কত বড় ব্যাটারি আর ভালো প্রসেসর দিতে পারে। আর ঠিক এই দৌড়েই সবাইকে চমকে দিয়ে বাজারে লঞ্চ হয়ে গেল নতুন iQOO…

Soumya Chatterjee

স্মার্টফোন কোম্পানিগুলোর মধ্যে এখন যেন এক অঘোষিত প্রতিযোগিতা চলছে—কে কত বড় ব্যাটারি আর ভালো প্রসেসর দিতে পারে। আর ঠিক এই দৌড়েই সবাইকে চমকে দিয়ে বাজারে লঞ্চ হয়ে গেল নতুন iQOO Z11x 5G । যারা সারাদিন গেম খেলেন, ভিডিও দেখেন বা ফোন থেকে এক মুহূর্তও চোখ সরাতে পারেন না, তাদের জন্য এটি একটি পারফেক্ট অপশন হতে চলেছে। ১২ মার্চ ২০২৬ তারিখে ভারতে অফিশিয়ালি এই ফোনটি লঞ্চ করা হয়েছে । আজকের এই আর্টিকেলে আমরা একদম সহজ ভাষায় বিস্তারিত আলোচনা করবো লেটেস্ট iQOO Z11x Specifications, এর দাম এবং দুর্দান্ত সব ফিচার্স নিয়ে।

iQOO Z11x Specifications: এক নজরে ডিজাইনের খুঁটিনাটি

যেকোনো স্মার্টফোন কেনার আগে আমরা সবার প্রথমে তার লুক এবং ডিজাইন দেখি। iQOO-এর এই নতুন ফোনটি দেখতে বেশ প্রিমিয়াম এবং স্টাইলিশ। যেহেতু ফোনটিতে একটি বিশাল সাইজের ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়েছে, তাই অনেকেই ভাবতে পারেন ফোনটি হয়তো অনেক ভারী হবে। কিন্তু কোম্পানি খুব সুন্দরভাবে এর ওজন ব্যালেন্স করেছে। ফোনটির ওজন মাত্র ২১৯ গ্রাম এবং থিকনেস ৮.৪০ মিলিমিটার । এটি মূলত দুটি আকর্ষণীয় কালার অপশনে বাজারে এসেছে—প্রিজম্যাটিক গ্রিন (Prismatic Green) এবং টাইটান ব্ল্যাক (Titan Black) ।

মজবুত বিল্ড কোয়ালিটি এবং IP69 রেটিং

শুধু দেখতে ভালো হলেই তো আর হয় না, ফোন টিকতে হবে দীর্ঘদিন। এই দিকটিতেও iQOO কোনো ছাড় দেয়নি। ফোনটিতে দেওয়া হয়েছে মিলিটারি-গ্রেড ডিউরেবিলিটি (MIL-STD-810H), যার মানে হলো হাত থেকে দুর্ঘটনাবশত পড়ে গেলেও এটি সহজে ভাঙবে না । এর পাশাপাশি এতে রয়েছে IP68 এবং IP69 রেটিং । অর্থাৎ, ধুলোবালি বা জলের ভেতরে পড়লেও আপনার সাধের ফোনটি একদম সুরক্ষিত থাকবে। যারা একটু রাফ অ্যান্ড টাফ ব্যবহারের জন্য ফোন খোঁজেন, তাদের কাছে এই বিল্ড কোয়ালিটি সত্যিই বেশ কাজের মনে হবে।

ডিসপ্লে এবং ভিজ্যুয়াল এক্সপেরিয়েন্স

আপনি যদি ফোনে সিনেমা দেখতে বা গেম খেলতে ভালোবাসেন, তবে একটি ভালো ডিসপ্লে থাকা অত্যন্ত জরুরি। এই ফোনটিতে একটি বড় ৬.৭৬ ইঞ্চির FHD+ ডিসপ্লে দেওয়া হয়েছে । বড় স্ক্রিন হওয়ার কারণে ইউটিউবে ভিডিও দেখা বা নেটফ্লিক্সে ওয়েব সিরিজ উপভোগ করার এক্সপেরিয়েন্স বেশ ভালো হবে। স্ক্রিনের কালার রিপ্রোডাকশন এবং ব্রাইটনেস লেভেলও এমনভাবে অপটিমাইজ করা হয়েছে যাতে কড়া রোদেও স্ক্রিন দেখতে কোনো অসুবিধা না হয়।

120Hz রিফ্রেশ রেট প্যানেল

এই ফোনের ডিসপ্লের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো এর 120Hz রিফ্রেশ রেট । সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রোল করা থেকে শুরু করে হাই-গ্রাফিক্স গেম খেলা—সবকিছুতেই আপনি পাবেন একদম মাখন-মসৃণ অভিজ্ঞতা। ডিসপ্লের টাচ রেসপন্স অত্যন্ত দ্রুত কাজ করে, যা গেমারদের জন্য একটি বড় প্লাস পয়েন্ট। iQOO Z11x Specifications-এর কথা বলতে গেলে এর ডিসপ্লে সেগমেন্ট সাধারণ ইউজার এবং গেমার—উভয়েরই মন জয় করতে সক্ষম।

পারফরম্যান্স এবং গেমিং এক্সপেরিয়েন্স

iQOO সবসময় তাদের পারফরম্যান্স-ওরিয়েন্টেড স্মার্টফোনের জন্য বিখ্যাত। আর এই ট্র্যাডিশন তারা তাদের নতুন মডেলেও বজায় রেখেছে। ফোনটির ভেতরে এমন একটি প্রসেসর দেওয়া হয়েছে যা এই বাজেটের মধ্যে অন্যতম সেরা পারফরম্যান্স দিতে পারে। মাল্টিটাস্কিং হোক বা ভারী কোনো অ্যাপ চালানো, ফোনটি কোনোভাবেই ল্যাগ করবে না বা হ্যাং হবে না।

MediaTek Dimensity 7400 Turbo প্রসেসর

এই ডিভাইসটিতে দেওয়া হয়েছে লেটেস্ট MediaTek Dimensity 7400 Turbo প্রসেসর । এই প্রসেসরটি মূলত গেমিং এবং ভারী কাজের জন্য তৈরি করা হয়েছে। আপনি যদি বিজিএমআই (BGMI) বা কল অফ ডিউটির (Call of Duty) মতো গেমগুলো হাই-সেটিংসে খেলতে চান, তবে এই ফোনটি আপনাকে নিরাশ করবে না। এছাড়া 5G সাপোর্ট থাকায় ইন্টারনেটের স্পিডও পাওয়া যাবে দুর্দান্ত । দৈনন্দিন ব্যবহারের ক্ষেত্রে এই প্রসেসরটি ফোনকে একদম স্মুথ এবং ফাস্ট রাখে।

স্টোরেজ, র‍্যাম এবং অন্যান্য ফিচার্স

বর্তমান সময়ে ফোনে প্রচুর অ্যাপস, ছবি এবং ভিডিও সেভ করে রাখতে হয়। তাই বেশি র‍্যাম এবং স্টোরেজ ছাড়া চলা মুশকিল। এই ফোনটি মূলত তিনটি ভেরিয়েন্টে লঞ্চ করা হয়েছে: 6GB র‍্যাম + 128GB স্টোরেজ, 8GB র‍্যাম + 128GB স্টোরেজ এবং 8GB র‍্যাম + 256GB স্টোরেজ । এর UFS 3.1 স্টোরেজ টেকনোলজির কারণে অ্যাপ ওপেনিং স্পিড এবং ফাইল ট্রান্সফার রেট বেশ ফাস্ট ।

Android 16 এবং লেটেস্ট সফটওয়্যার আপডেট

সফটওয়্যারের দিক থেকেও ফোনটি একদম আপডেটেড। এটি বক্সের বাইরে সরাসরি লেটেস্ট Android 16 অপারেটিং সিস্টেম এবং OriginOS 6 কাস্টম স্কিনের সাথে এসেছে । নতুন এই সফটওয়্যারে বেশ কিছু কাস্টমাইজেশন অপশন এবং প্রাইভেসি ফিচার যোগ করা হয়েছে। ইউজার ইন্টারফেসটি বেশ ক্লিন এবং এতে আগের চেয়ে অনেক কম ব্লোটওয়্যার বা অপ্রয়োজনীয় অ্যাপস রয়েছে।

ক্যামেরা কোয়ালিটি: কেমন ছবি ওঠে?

অনেকেই ভাবেন গেমিং ফোনে হয়তো ক্যামেরা খুব একটা ভালো হয় না। কিন্তু কোম্পানি এখানে সেই ধারণা ভাঙার চেষ্টা করেছে। ফোনটির পেছনে ডুয়াল ক্যামেরা সেটআপ দেওয়া হয়েছে । যারা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি বা রিলস আপলোড করতে ভালোবাসেন, তাদের জন্য এটি যথেষ্ট ভালো পারফর্ম করবে। ডেলাইট কন্ডিশনে ক্যামেরার কালার এবং ডিটেইলিং বেশ ন্যাচারাল আসে।

50MP Sony IMX852 প্রাইমারি সেন্সর

এর মেইন ক্যামেরা হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে 50 মেগাপিক্সেলের Sony IMX852 সেন্সর (f/1.8 অ্যাপারচার), সাথে রয়েছে একটি 2 মেগাপিক্সেলের ডেপথ সেন্সর । সনির সেন্সর হওয়ার কারণে ছবিগুলোতে বেশ ভালো ডাইনামিক রেঞ্জ এবং ডিটেইল পাওয়া যায়। এছাড়া 4K ভিডিও রেকর্ডিংয়ের সুবিধাও রয়েছে । আর সেলফি এবং ভিডিও কলিংয়ের জন্য সামনে দেওয়া হয়েছে একটি 32 মেগাপিক্সেলের ফ্রন্ট ক্যামেরা ।

ব্যাটারি এবং চার্জিং স্পিড

এই ফোনের সবচেয়ে বড় চমক হলো এর ব্যাটারি সেকশন। যারা বারবার ফোন চার্জে বসানোর ঝামেলা একদম পছন্দ করেন না, তাদের জন্য এটি যেন এক আশীর্বাদ। সাধারণ স্মার্টফোনে যেখানে 5000mAh ব্যাটারি দেখা যায়, সেখানে এই ফোনটি এক ধাক্কায় অনেকটা এগিয়ে গেছে।

7200mAh এর বিশাল ব্যাটারি ও 44W চার্জিং

কোম্পানি এই ফোনে একটি বিশাল সাইজের 7200mAh ব্যাটারি প্যাক দিয়েছে । সাধারণ ব্যবহারে এই ব্যাটারি অনায়াসেই দুই থেকে আড়াই দিন ব্যাকআপ দিতে পারবে। এমনকি যারা প্রচুর গেম খেলেন, তাদেরও সারাদিনে একবারের বেশি চার্জ করার প্রয়োজন পড়বে না। আর এই বিশাল ব্যাটারিকে দ্রুত চার্জ করার জন্য বক্সে দেওয়া হয়েছে 44W এর ফ্ল্যাশ চার্জিং সাপোর্ট । এই সেগমেন্টের অন্যান্য ফোনের তুলনায় iQOO Z11x Specifications-এর এই বিশাল ব্যাটারি এটিকে একটি আলাদা পরিচিতি দিয়েছে।

iQOO Z11x Specifications:

পুরো ফোনের ফিচার্সগুলো যাতে এক নজরে সহজে বুঝতে পারেন, তার জন্য নিচে একটি টেবিল দেওয়া হলো:

ফিচার্স বিস্তারিত স্পেসিফিকেশন
ডিসপ্লে সাইজ ৬.৭৬ ইঞ্চি, FHD+ প্যানেল
রিফ্রেশ রেট 120Hz
প্রসেসর MediaTek Dimensity 7400 Turbo
মেইন ক্যামেরা 50MP (Sony IMX852) + 2MP ডেপথ সেন্সর
সেলফি ক্যামেরা 32 মেগাপিক্সেল
ব্যাটারি ক্ষমতা 7200 mAh
চার্জিং স্পিড 44W Flash Charge
অপারেটিং সিস্টেম Android 16 (OriginOS 6)
প্রোটেকশন IP68/IP69 এবং MIL-STD-810H রেটিং
ওজন ২১৯ গ্রাম

iQOO Z11x Price in India: দাম কত রাখা হয়েছে?

সব ফিচার্স জানার পর যে প্রশ্নটা সবার মনে আসে তা হলো দাম। iQOO বরাবরই অ্যাগ্রেসিভ প্রাইসিংয়ের জন্য পরিচিত। এতসব প্রিমিয়াম ফিচার্স দেওয়ার পরও ফোনটির দাম সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের মধ্যেই রাখা হয়েছে।

স্টোরেজ ভেরিয়েন্ট আসল দাম (ভারতীয় মুদ্রায়)
6GB RAM + 128GB Storage ₹১৮,৯৯৯
8GB RAM + 128GB Storage ₹২০,৯৯৯
8GB RAM + 256GB Storage ₹২২,৯৯৯

ব্যাঙ্ক অফার এবং সেলের তারিখ

লঞ্চ অফার হিসেবে কোম্পানি বেশ কিছু আকর্ষণীয় ডিসকাউন্ট নিয়ে এসেছে। আপনি যদি Axis Bank বা SBI-এর ক্রেডিট কার্ড দিয়ে ফোনটি কেনেন, তবে সাথে সাথেই ₹২,০০০ টাকার ইনস্ট্যান্ট ডিসকাউন্ট পেয়ে যাবেন । অর্থাৎ বেস ভেরিয়েন্টটি আপনি মাত্র ₹১৬,৯৯৯ টাকায় কিনতে পারবেন। আগামী ১৬ মার্চ ২০২৬ তারিখ দুপুর ১২টা থেকে ই-কমার্স সাইট Amazon-এর মাধ্যমে এই ফোনের সেল শুরু হবে ।

শেষ কথা

সব মিলিয়ে দেখলে, ₹২০,০০০ টাকার নিচে যারা একটি অলরাউন্ডার এবং পাওয়ারফুল স্মার্টফোন খুঁজছেন, তাদের জন্য এটি একটি দারুণ ডিল। বিশেষ করে এর 7200mAh এর বিশাল ব্যাটারি, 50MP সনি ক্যামেরা এবং মিলিটারি গ্রেড প্রোটেকশন একে বাজারের অন্যান্য সাধারণ ফোনগুলো থেকে অনেকটাই আলাদা করেছে। আপনি যদি দীর্ঘস্থায়ী পারফরম্যান্স এবং মজবুত বিল্ড কোয়ালিটি চান, তবে নিশ্চিন্তে এই ফোনটি আপনার বাকেট লিস্টে রাখতে পারেন। আশা করছি, আমাদের এই আর্টিকেলের মাধ্যমে iQOO Z11x Specifications সম্পর্কে আপনার সব প্রশ্নের উত্তর পেয়ে গেছেন।

About Author
Soumya Chatterjee

সৌম্য কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে স্নাতক এবং প্রযুক্তি বিষয়ক লেখালিখিতে বিশেষ আগ্রহী। তিনি একজন উদ্যমী লেখক, যিনি প্রযুক্তির জটিল ধারণাগুলোকে সহজভাবে উপস্থাপন করতে দক্ষ। তার লেখার মূল ক্ষেত্রগুলোতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে নতুন প্রযুক্তি, গ্যাজেট রিভিউ, সফটওয়্যার গাইড, এবং উদীয়মান টেক প্রবণতা। সৌম্যর প্রাঞ্জল ও তথ্যবহুল লেখনী পাঠকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। প্রযুক্তি সম্পর্কে তার গভীর জ্ঞান এবং অনুসন্ধিৎসু মনোভাব তাকে পাঠকদের কাছে বিশেষভাবে জনপ্রিয় করে তুলেছে। টেক জগতে চলমান পরিবর্তনগুলির সাথে তাল মিলিয়ে সৌম্য সর্বদা নতুন ও তথ্যসমৃদ্ধ বিষয়বস্তু নিয়ে আসতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।