IRCTC Anti-Bot Technology & Aadhaar Verification: ভারতীয় রেলওয়ে তার টিকিট বুকিং ব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছে। দালাল এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত বট-এর মাধ্যমে টিকিট একচেটিয়াকরণের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে IRCTC (ইন্ডিয়ান রেলওয়ে ক্যাটারিং অ্যান্ড ট্যুরিজম কর্পোরেশন) “AKAMAL” নামক এআই-ভিত্তিক অ্যান্টি-বট সিস্টেম চালু করেছে এবং ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে আধার যাচাইকরণকে বাধ্যতামূলক করেছে । এই নতুন ব্যবস্থার ফলে ৫.৭৩ করোড়েরও বেশি সন্দেহজনক ও নিষ্ক্রিয় ব্যবহারকারী অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে এবং প্রকৃত যাত্রীদের জন্য টিকিট বুকিং আরও সহজ ও স্বচ্ছ হয়ে উঠেছে ।
টিকিট বুকিংয়ে বট সমস্যার মাত্রা
ভারতীয় রেলওয়ের টিকিট বুকিং ব্যবস্থায় বটের আক্রমণ একটি ভয়াবহ রূপ নিয়েছিল। তৎকাল টিকিট বুকিং শুরু হওয়ার প্রথম পাঁচ মিনিটে সমস্ত লগইন প্রচেষ্টার ৫০ শতাংশই ছিল বট ট্রাফিক । অবৈধ দালালরা ডিসপোজেবল ইমেইল ঠিকানা ব্যবহার করে হাজার হাজার জাল অ্যাকাউন্ট তৈরি করত এবং স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যার ব্যবহার করে টিকিট বুক করে অধিক দামে বিক্রি করত ।
২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে মে মাসের মধ্যে, IRCTC প্রায় ২.৯ লক্ষ সন্দেহজনক PNR (যাত্রী নাম রেকর্ড) শনাক্ত করেছে যা তৎকাল বুকিং উইন্ডো খোলার মাত্র পাঁচ মিনিটের মধ্যে তৈরি হয়েছিল । একজন যাত্রীর জন্য টিকিট পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ানোর জন্য দালালরা একসঙ্গে ৩০টি বা তার বেশি জাল প্রোফাইল ব্যবহার করে একযোগে বুকিং প্রচেষ্টা চালাত । LocalCircles-এর এক সমীক্ষায় দেখা গেছে যে গত বছর তৎকাল টিকিট বুক করার চেষ্টা করা ৭০ শতাংশ ব্যবহারকারী বুকিং শুরু হওয়ার এক মিনিটের মধ্যে ওয়েটলিস্টেড হয়ে যেতেন ।
AKAMAL অ্যান্টি-বট সিস্টেম: প্রযুক্তিগত সমাধান
ভারতীয় রেলওয়ে “AKAMAL” নামে একটি উন্নত এআই-চালিত অ্যান্টি-বট সিস্টেম মোতায়েন করেছে যা অ-প্রকৃত ব্যবহারকারীদের ফিল্টার করে এবং বৈধ যাত্রীদের জন্য মসৃণ বুকিং নিশ্চিত করে । এই সিস্টেমটি একটি শীর্ষস্থানীয় কন্টেন্ট ডেলিভারি নেটওয়ার্ক (CDN) সেবা প্রদানকারীর সাথে অংশীদারিত্বে তৈরি করা হয়েছে ।
AKAMAL সিস্টেম এআই অ্যালগরিদম ব্যবহার করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বট ট্রাফিক সনাক্ত এবং প্রশমিত করে । CDN-এর মাধ্যমে IRCTC-র ওয়েবসাইটের ৮৭ শতাংশ কন্টেন্ট পরিবেশন করা হয়, যা দ্রুততর গতি এবং সার্ভার লোড হ্রাস নিশ্চিত করে । এই সিস্টেম রেট লিমিটিং সলিউশন ব্যবহার করে একটি নির্দিষ্ট কর্ম সম্পাদনের জন্য ব্যবহারকারীর ফ্রিকোয়েন্সিতে সীমাবদ্ধতা আরোপ করে ।
নতুন সিস্টেম সফলভাবে সমস্ত বট ট্রাফিক প্রশমিত করেছে, বিশেষত তৎকালের প্রথম পাঁচ মিনিটের সর্বোচ্চ ট্রাফিক পিরিয়ডে । ফলস্বরূপ, ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের মে মাসের মধ্যে বুকিং সফলতার অনুপাত ৪৩.১ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৬২.২ শতাংশে উন্নীত হয়েছে ।
জাল অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয়করণ: বিশাল সাফল্য
IRCTC-র এই পদক্ষেপের ফলাফল অভূতপূর্ব। রেল মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব রাজ্যসভায় জানিয়েছেন যে ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ৩.০২ করোড় সন্দেহজনক ব্যবহারকারী আইডি নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে । সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ৫.৭৩ করোড় সন্দেহজনক এবং নিষ্ক্রিয় IRCTC ব্যবহারকারী অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় বা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে ।
IRCTC এক বছরের মধ্যে ৩.৫ করোড় প্রতারণামূলক ব্যবহারকারী আইডি ব্লক করেছে, যা প্ল্যাটফর্মে সিস্টেম কনজেশন উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করেছে । এছাড়াও, ৬,৮০০টিরও বেশি ডিসপোজেবল ইমেইল ডোমেইন ব্লক করা হয়েছে যা জাল অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে ব্যবহৃত হত ।
কঠোর ব্যবস্থা প্রবর্তনের পর, IRCTC প্ল্যাটফর্মে প্রতিদিন নতুন ব্যবহারকারী আইডি তৈরির সংখ্যা ৬০,০০০-৬৫,০০০ থেকে কমে মাত্র ১০,০০০-১২,০০০-তে নেমে এসেছে । সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ব্যবহারকারী পরিচয় যাচাই করার জন্য কঠোর সিস্টেম চালুর পর প্রতিদিন প্রায় ৫,০০০টি নতুন ব্যবহারকারী আইডি যুক্ত হচ্ছে, যা আগে প্রায় ১ লক্ষ ছিল ।
আধার যাচাইকরণের পর্যায়ক্রমিক প্রবর্তন
IRCTC টিকিট বুকিং ব্যবস্থায় আধার-ভিত্তিক ওয়ান-টাইম পাসওয়ার্ড (OTP) যাচাইকরণ পর্যায়ক্রমে চালু করেছে। ২০২৫ সালের ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৩২২টি ট্রেনে এই সিস্টেম কার্যকর হয়েছিল । এই পদক্ষেপের ফলে উল্লিখিত ৩২২টি ট্রেনের প্রায় ৬৫ শতাংশে নিশ্চিত তৎকাল টিকিট প্রাপ্যতার সময় বৃদ্ধি পেয়েছে ।
আধার যাচাইকরণের টাইমলাইন
ভারতীয় রেলওয়ে আধার-প্রমাণীকৃত ব্যবহারকারীদের জন্য বুকিং উইন্ডো ধাপে ধাপে বৃদ্ধি করেছে:
| তারিখ | বুকিং সময় | প্রযোজ্যতা |
|---|---|---|
| ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ | সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা | ARP খোলার প্রথম দিন |
| ৫ জানুয়ারি ২০২৬ | সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা | ARP খোলার প্রথম দিন |
| ১২ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে | সকাল ৮টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত (সারাদিন) | ARP খোলার প্রথম দিন |
তৎকাল বুকিংয়ের জন্য, যে ব্যবহারকারীরা আধার প্রমাণীকরণ সম্পন্ন করেননি তাদের রেজিস্ট্রেশনের ৩ দিন পরে তৎকাল বা প্রিমিয়াম তৎকাল টিকিট বুক করতে হবে, যেখানে আধার-যাচাইকৃত ব্যবহারকারীরা বিলম্ব ছাড়াই টিকিট বুক করতে পারবেন ।
প্রযুক্তিগত অবকাঠামোর উন্নতি
ভারতীয় রেলওয়ে তার টিকিট বুকিং অবকাঠামোর ব্যাপক ডিজিটাল সংস্কার সাধন করেছে। সর্বাধুনিক অ্যান্টি-বট সিস্টেম এবং একটি শীর্ষস্থানীয় CDN সেবা প্রদানকারীর সাথে একীকরণের ফলে, রেলওয়ে অবৈধ স্বয়ংক্রিয় বুকিং উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করেছে এবং প্রকৃত ব্যবহারকারীদের জন্য ওয়েবসাইট অ্যাক্সেস উন্নত করেছে ।
রিজার্ভেশন সিস্টেমটি একটি শক্তিশালী এবং সুরক্ষিত আইটি প্ল্যাটফর্ম যা ইন্ডাস্ট্রি-স্ট্যান্ডার্ড সাইবার সিকিউরিটি কন্ট্রোল দিয়ে সজ্জিত । ২০২৫ সালের ২২ মে, সকাল ১০টায় IRCTC এক মিনিটে সর্বোচ্চ ৩১,৮১৪টি টিকিট বুকিংয়ের রেকর্ড স্থাপন করেছে, যা আপগ্রেড করা প্ল্যাটফর্মের দৃঢ়তা এবং স্কেলেবিলিটি প্রদর্শন করে ।
বর্তমানে সংরক্ষিত টিকিট বুকিংয়ের মোট ৮৬.৩৮ শতাংশ e-ticketing-এর মাধ্যমে হয় । CDN-এর সাহায্যে সাইট পারফরম্যান্স উন্নত হয় কারণ এটি বিভিন্ন সার্ভার জুড়ে ট্রাফিক ছড়িয়ে দেয়, যা বট এবং DDoS আক্রমণ থেকে ক্র্যাশ প্রতিরোধে সহায়তা করে ।
দালাল ও প্রতারণা প্রতিরোধে আইনি পদক্ষেপ
IRCTC শুধুমাত্র প্রযুক্তিগত সমাধানই প্রয়োগ করেনি, বরং আইনি পদক্ষেপও গ্রহণ করেছে। সাম্প্রতিক মাসগুলিতে, ১৩৪টি অভিযোগ জাতীয় সাইবার ক্রাইম পোর্টালে নিবন্ধিত হয়েছে । সাউদার্ন রেলওয়ের সাইবার সেল ২০১৯ সালের মে থেকে ২০২৩ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত জাল আইডি এবং অননুমোদিত সফটওয়্যার ব্যবহার করে রেলওয়ে টিকিটের অবৈধ বুকিংয়ের ৫৯৫টি মামলা নিবন্ধন করেছে এবং ৪.৪৬ করোড় টাকা মূল্যের টিকিট বাজেয়াপ্ত করেছে ।
অবৈধ দালালরা কীভাবে সিস্টেম ম্যানিপুলেট করত তা ব্যাখ্যা করে একজন IRCTC কর্মকর্তা বলেছেন যে তারা Google-এ উপলব্ধ ডোমেইন নাম ব্যবহার করে একাধিক ডিসপোজেবল ইমেইল আইডি এবং মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে, ধরা যাক ৩০টি প্রোফাইল তৈরি করত । ব্যবহারকারী আইডি বা প্রোফাইল তৈরির সময়, ইমেইল আইডিতে একটি OTP পাঠানো হয় এবং এজেন্ট সেই OTP ব্যবহার করে এর সত্যতা যাচাই করত । যদিও প্রমাণীকরণের পরে ইমেইল আইডি অবৈধ হয়ে যায়, কিন্তু প্রোফাইলটি থেকে যায় ।
যাত্রীদের জন্য সুবিধা ও পরিবর্তন
নতুন ব্যবস্থা প্রকৃত যাত্রীদের জন্য অনেক সুবিধা নিয়ে এসেছে। প্রথমত, প্রাথমিক বুকিং উইন্ডোর সময় শুধুমাত্র যাচাইকৃত ব্যবহারকারীরা টিকিট বুক করতে পারবেন, যা অবৈধ এজেন্টদের প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করেছে । বর্তমানে অননুমোদিত টিকিট বুকিং এজেন্টরা জাল অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে IRCTC প্ল্যাটফর্মে একযোগে একাধিক প্রচেষ্টা করতে পারে না ।
কম্পিউটারাইজড PRS কাউন্টার জুড়ে টিকিট বুকিংয়ের পদ্ধতিতে কোনো পরিবর্তন নেই । ব্যবহারকারীদের আধার যাচাইকরণ একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ যা সিস্টেমটিকে আরও শক্তিশালী করার জন্য নেওয়া হয়েছে । অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে e-ticketing সিস্টেমের অপব্যবহার করার চেষ্টাকারী অসাধু ব্যবহারকারীদের সনাক্ত এবং প্রতিরোধ করা হচ্ছে ।
আধার যাচাইকরণ প্রক্রিয়া
যাত্রীদের তাদের IRCTC অ্যাকাউন্টে আধার যাচাইকরণ সম্পন্ন করতে হবে। এই প্রক্রিয়াটি IRCTC ওয়েবসাইট বা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে করা যেতে পারে। যাচাইকরণ প্রক্রিয়ায় যাত্রীর আধার নম্বর প্রবেশ করতে হয় এবং আধার-সংযুক্ত মোবাইল নম্বরে প্রাপ্ত OTP দিয়ে যাচাই করতে হয় । বুকিং সিস্টেমের মধ্যেই প্রতিটি যাত্রীর আধার বিশদ যাচাই করা হবে ।
রেল মন্ত্রণালয় সমস্ত বিভাগে নির্দেশিকা প্রচার করেছে এবং জোনাল অফিসগুলিকে আধার-প্রমাণীকৃত ব্যবহারকারীদের অগ্রাধিকার দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে । ২০২৫ সালের ১ জুলাইয়ের মধ্যে সমস্ত রেলওয়ে বুকিং এজেন্টদের আধার প্রমাণীকরণ সম্পূর্ণ করতে হবে এবং ১৫ জুলাই ২০২৫ থেকে সমস্ত অনলাইন তৎকাল বুকিংয়ের জন্য আধারের মাধ্যমে OTP যাচাইকরণ বাধ্যতামূলক হয়েছে ।
চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা
যদিও এই পদক্ষেপগুলি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি এনেছে, তবুও এখনও অনেক কিছু করার আছে। কিছু ক্ষেত্রে এখনও সমস্যা বিদ্যমান রয়েছে । রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ নিয়মিত সোশ্যাল মিডিয়া মনিটর করে এই ধরনের অপরাধীদের ধরার চেষ্টা করছে এবং বিশেষ ছুটির দিনগুলিতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ।
তৎকাল টিকিট বুকিংয়ের জন্য ২০২৬ সালে আরও কঠোর নিয়ম প্রবর্তন করা হয়েছে। শুধুমাত্র সম্পূর্ণভাবে যাচাইকৃত IRCTC অ্যাকাউন্টগুলি এখন তৎকাল টিকিট বুক করতে পারবে । অযাচাইকৃত বা জাল অ্যাকাউন্ট তৎকাল বুকিং থেকে ব্লক করা হয়েছে । এই পদক্ষেপ অপব্যবহার হ্রাস করে এবং নিশ্চিত করে যে প্রকৃত ব্যবহারকারীরা পিক বুকিং সময়ে অগ্রাধিকার পান ।
অ্যান্টি-বট প্রযুক্তির কার্যকারিতা
বিভিন্ন পদক্ষেপের তুলনামূলক বিশ্লেষণ:
| পদক্ষেপ | ফলাফল | সময়কাল |
|---|---|---|
| জাল আইডি নিষ্ক্রিয়করণ | ৫.৭৩ করোড় অ্যাকাউন্ট | জানুয়ারি ২০২৫ – বর্তমান |
| ডিসপোজেবল ইমেইল ব্লক | ৬,৮০০+ ডোমেইন | ২০২৫ |
| দৈনিক নতুন আইডি হ্রাস | ১ লক্ষ থেকে ৫,০০০ | ২০২৫-২০২৬ |
| বুকিং সফলতার হার | ৪৩.১% থেকে ৬২.২% | অক্টোবর ২০২৪ – মে ২০২৫ |
| প্রতি মিনিট সর্বোচ্চ বুকিং | ৩১,৮১৪ টিকিট | ২২ মে ২০২৫ |
প্রতারণামূলক বুকিং প্যাটার্নের সনাক্তকরণ
IRCTC উন্নত ডেটা অ্যানালিটিক্স ব্যবহার করে লক্ষ লক্ষ অ্যাকাউন্ট জুড়ে এই অস্বাভাবিক বুকিং আচরণ সনাক্ত করে । সিস্টেম ভিড়ের সৃষ্টি হয় যখন একজন ব্যক্তির জন্য ৩০টি প্রচেষ্টা করা হয়, এটি সেই সম্ভাব্য যাত্রীদের সুযোগ সীমিত করে যারা একটি একক প্রচেষ্টা করেছেন ।
এই প্রতারণামূলক প্রচেষ্টা মোকাবেলার জন্য, IRCTC-র সর্বশেষ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং মেশিন লার্নিং-ভিত্তিক বট সনাক্তকরণ প্রযুক্তি বুকিং সিস্টেমকে ব্যাহত করার আগে এই ধরনের অ্যাকাউন্টগুলি সনাক্ত এবং নিরপেক্ষ করে । IRCTC কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলেছেন যে এই পদক্ষেপ প্রতিটি যাত্রীর জন্য একটি সমান খেলার ক্ষেত্র নিশ্চিত করে, অননুমোদিত এজেন্টদের সিস্টেম শোষণ থেকে বাধা দেয় ।
পশ্চিমবঙ্গ ও কলকাতার যাত্রীদের জন্য প্রভাব
কলকাতা এবং পশ্চিমবঙ্গের যাত্রীরা এই নতুন ব্যবস্থা থেকে বিশেষভাবে উপকৃত হবেন, কারণ হাওড়া, শিয়ালদহ এবং কলকাতা স্টেশন থেকে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ যাত্রী ভ্রমণ করেন। উৎসব এবং ছুটির মরসুমে যখন পূজা, দীপাবলি বা বছরের শেষে টিকিট পাওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে, তখন এই নতুন সিস্টেম প্রকৃত যাত্রীদের জন্য টিকিট বুকিংকে আরও ন্যায্য করে তুলবে।
কলকাতাসহ সমগ্র ভারতে রেজার্ভেশন কাউন্টার স্বাভাবিকভাবে কাজ চালিয়ে যাবে, কিন্তু অনলাইন টিকিটিং প্রক্রিয়া একটি আরও সুরক্ষিত এবং ন্যায্য সিস্টেমের দিকে পরিবর্তন দেখবে । কর্মকর্তারা বিশ্বাস করেন যে এটি অগ্রিম বুকিংয়ে বিশ্বাস পুনরুদ্ধার করবে এবং অবৈধ এজেন্টদের প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করবে ।
নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা সংক্রান্ত বিবেচনা
আধার যাচাইকরণ বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত যাত্রীদের মধ্যে গোপনীয়তা সংক্রান্ত কিছু উদ্বেগ সৃষ্টি করতে পারে। তবে, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে রিজার্ভেশন সিস্টেমটি একটি দৃঢ় এবং সুরক্ষিত আইটি প্ল্যাটফর্ম যা ইন্ডাস্ট্রি-স্ট্যান্ডার্ড সাইবার সিকিউরিটি কন্ট্রোল দিয়ে সজ্জিত । আধার ডেটা এনক্রিপ্টেড ফর্মে সংরক্ষণ করা হয় এবং শুধুমাত্র যাচাইকরণের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়।
এই পদক্ষেপটি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে যে রিজার্ভেশন সিস্টেমের সুবিধা প্রকৃত যাত্রীদের কাছে পৌঁছায় এবং দালাল বা অন্যান্য অসাধু উপাদান দ্বারা অপব্যবহার রোধ করে । ভারতীয় রেলওয়ে আধার যাচাইকরণ এবং উন্নত প্রযুক্তিগত পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে টিকিটিং সততা শক্তিশালী করেছে ।
আন্তর্জাতিক তুলনা ও শিল্প মান
বিশ্বব্যাপী টিকিট বিক্রয়ে বট প্রতিরোধ একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। Ticketmaster ২০১৬ সাল থেকে এআই ব্যবহার করছে, তার “Verified Fan” ফিচার দিয়ে শুরু করে, যা বট মোকাবেলা করে এবং প্রকৃত ক্রেতাদের অগ্রাধিকার দেয় । এআই সিস্টেম মিলিসেকেন্ডে ফেসিয়াল স্ক্যান প্রসেস করতে পারে, ম্যানুয়াল চেক বা বারকোড স্ক্যানিংয়ের চেয়ে দ্রুত টিকিট হোল্ডারদের সনাক্ত করে ।
এআই অ্যালগরিদম স্পুফিং প্রচেষ্টা, যেমন ফটো বা মাস্ক সনাক্ত করতে পারে, নিশ্চিত করে যে শুধুমাত্র বৈধ অংশগ্রহণকারীরা প্রবেশ লাভ করে । ভারতীয় রেলওয়ের AKAMAL সিস্টেম এই আন্তর্জাতিক সেরা অনুশীলনগুলির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং ভারতীয় প্রেক্ষাপটে কাস্টমাইজ করা হয়েছে।
সাফল্যের পরিমাপ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
নতুন ব্যবস্থার সাফল্য বিভিন্ন মেট্রিক্সে পরিমাপ করা যেতে পারে। প্রথমত, বুকিং সফলতার হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে – অক্টোবর ২০২৪ এবং মে ২০২৫ এর মধ্যে প্রচেষ্টা বনাম বুকিং অনুপাত ৪৩.১ শতাংশ থেকে ৬২.২ শতাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে । দ্বিতীয়ত, সিস্টেম কনজেশন হ্রাস পেয়েছে, যেমন নতুন ব্যবহারকারী আইডি তৈরির দৈনিক সংখ্যা দেখানো হয়েছে ।
তৃতীয়ত, প্রকৃত যাত্রীদের নিশ্চিত টিকিট পাওয়ার সময় বৃদ্ধি পেয়েছে, বিশেষত তৎকাল বুকিংয়ে । চতুর্থত, সিস্টেম এখন আরও রোবাস্ট এবং স্কেলেবল, যেমনটি রেকর্ড-ব্রেকিং প্রতি মিনিট বুকিং সংখ্যা দ্বারা প্রমাণিত ।
IRCTC বলেছে যে এই যুগান্তকারী পদক্ষেপের সাথে, সংস্থাটি তার ডিজিটাল অবকাঠামো পরিশোধন করে চলেছে, সমগ্র ভারত জুড়ে লক্ষ লক্ষ মানুষের জন্য একটি আরও স্বচ্ছ, অ্যাক্সেসযোগ্য এবং দক্ষ রেলওয়ে বুকিং অভিজ্ঞতা তৈরি করছে । রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ প্রযুক্তিগত উন্নতি এবং নীতিগত পরিবর্তনের মাধ্যমে টিকিট বুকিং সিস্টেমকে আরও উন্নত করার পরিকল্পনা করছে।
ভারতীয় রেলওয়ের টিকিট বুকিং ব্যবস্থায় AKAMAL অ্যান্টি-বট সিস্টেম এবং আধার যাচাইকরণ চালু করা একটি গেম-চেঞ্জিং পদক্ষেপ যা প্রকৃত যাত্রীদের স্বার্থ রক্ষা করে এবং দালাল ও প্রতারকদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে। ৫.৭৩ করোড়েরও বেশি জাল অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় করা, বট ট্রাফিক ৫০ শতাংশ কমানো এবং বুকিং সফলতার হার ৪৩.১ থেকে ৬২.২ শতাংশে উন্নীত করা – এই সবকিছু প্রমাণ করে যে প্রযুক্তি এবং নীতিগত সংস্কার সঠিকভাবে প্রয়োগ করা হলে কীভাবে একটি জটিল সমস্যার সমাধান হতে পারে। আধার-প্রমাণীকৃত ব্যবহারকারীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার পর্যায়ক্রমিক বাস্তবায়ন এবং ক্রমাগত প্রযুক্তিগত পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করে যে রেলওয়ে টিকিট বুকিং ব্যবস্থা আরও ন্যায্য, স্বচ্ছ এবং দক্ষ হয়ে উঠছে, যা কোটি কোটি ভারতীয় যাত্রীদের দৈনন্দিন ভ্রমণ অভিজ্ঞতাকে উন্নত করছে। এই পদক্ষেপগুলি ভবিষ্যতে আরও উন্নত হবে এবং ডিজিটাল ভারতের স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করতে সহায়তা করবে।











