Is Your Headache Really a Migraine: মাথাব্যথা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে একটি সাধারণ সমস্যা, কিন্তু যখন ব্যথা তীব্র এবং অসহ্য হয়ে ওঠে, তখন প্রশ্ন জাগে – এটা কি সাধারণ মাথাব্যথা নাকি মাইগ্রেন? বিশ্বব্যাপী ২০২১ সালের তথ্য অনুযায়ী, ১১৬ কোটিরও বেশি মানুষ মাইগ্রেনে আক্রান্ত, যা ১৯৯০ সালের তুলনায় ৫৮% বৃদ্ধি পেয়েছে. মাইগ্রেন শুধু একটি সাধারণ মাথাব্যথা নয়; এটি একটি জটিল স্নায়বিক রোগ যা আপনার জীবনযাত্রাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করতে পারে. সঠিক রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসা না পেলে, মাইগ্রেন দীর্ঘমেয়াদে আপনার কর্মক্ষমতা এবং মানসিক স্বাস্থ্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এই নিবন্ধে আমরা মাইগ্রেন এবং সাধারণ মাথাব্যথার মধ্যে পার্থক্য, লক্ষণ, কারণ এবং সর্বশেষ চিকিৎসা পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব।
মাইগ্রেন কী এবং এটি কেন হয়
মাইগ্রেন হল একটি প্রাথমিক মাথাব্যথার ব্যাধি যা মস্তিষ্কের স্নায়ুতন্ত্রের কার্যকলাপের অস্বাভাবিকতার কারণে ঘটে. এটি শুধুমাত্র মাথাব্যথা নয়, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ স্নায়বিক অবস্থা যা বমি বমি ভাব, বমি, আলো এবং শব্দের প্রতি সংবেদনশীলতার সাথে আসে. বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুসারে, মাইগ্রেন বিশ্বব্যাপী প্রতিবন্ধকতা-সামঞ্জস্যপূর্ণ জীবন-বছর (DALYs) অনুযায়ী তৃতীয় স্থানে রয়েছে. ২০২১ সালে, বিশ্বব্যাপী মাইগ্রেনের নতুন ঘটনার সংখ্যা ছিল ৯০.১৮ মিলিয়ন, যা ১৯৯০ সালের তুলনায় ৪২% বৃদ্ধি.
মাইগ্রেনের প্রকারভেদ
মাইগ্রেনকে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা যায় – অরা ছাড়া মাইগ্রেন এবং অরা সহ মাইগ্রেন। অরা ছাড়া মাইগ্রেন সবচেয়ে সাধারণ, যেখানে রোগী অন্তত পাঁচবার আক্রমণের সম্মুখীন হয় এবং প্রতিটি আক্রমণ ৪ থেকে ৭২ ঘণ্টা স্থায়ী হয়. অরা সহ মাইগ্রেনে, মাথাব্যথা শুরু হওয়ার আগে বা সময়ে দৃষ্টিগত, সংবেদনশীল বা ভাষাগত লক্ষণ দেখা দেয়. আন্তর্জাতিক মাথাব্যথা শ্রেণিবিন্যাস (ICHD-3) অনুযায়ী, অরা সহ মাইগ্রেন নির্ণয়ের সুনির্দিষ্ট মানদণ্ড রয়েছে যার নির্ভুলতা ৯৬% এবং সাধারণ অরা সহ মাইগ্রেনের ক্ষেত্রে ৯৮%.
মাইগ্রেন এবং সাধারণ মাথাব্যথার মূল পার্থক্য
সাধারণ মাথাব্যথা এবং মাইগ্রেনের মধ্যে পার্থক্য বোঝা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি সঠিক চিকিৎসা পদ্ধতি নির্বাচনে সহায়তা করে। গবেষণা অনুযায়ী, মাইগ্রেন আক্রান্ত রোগীদের ৮৮.৩% সঠিক রোগ নির্ণয় পান, তবে লক্ষণ শুরু হওয়ার প্রায় ৪ বছর পরে এবং প্রথম চিকিৎসা পরামর্শের ২ বছর পরে.
ব্যথার ধরন এবং তীব্রতা
মাইগ্রেনের ব্যথা সাধারণত স্পন্দনশীল এবং তীব্র হয়, যেখানে সাধারণ মাথাব্যথা নিস্তেজ, স্থির এবং চাপের মতো অনুভূত হয়. মাইগ্রেনের ব্যথা মাঝারি থেকে গুরুতর পর্যায়ের হয় এবং প্রায়শই এতটাই অসহনীয় হয় যে রোগী দৈনন্দিন কাজকর্ম করতে অক্ষম হয়ে পড়ে. বিপরীতে, সাধারণ মাথাব্যথা হালকা থেকে মাঝারি মানের হয় এবং সাধারণত পরিচালনা করা সম্ভব.
ব্যথার অবস্থান এবং সময়কাল
মাইগ্রেনের ব্যথা সাধারণত মাথার একপাশে থাকে, যদিও কখনও কখনও এটি পাশ পরিবর্তন করতে পারে. অন্যদিকে, সাধারণ মাথাব্যথা উভয় পাশে, কপালে বা মাথার পিছনে অনুভূত হতে পারে. সময়কালের ক্ষেত্রে, মাইগ্রেন ৪ থেকে ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে, যখন টেনশন মাথাব্যথা ৩০ মিনিট থেকে কয়েক ঘণ্টা এবং ক্লাস্টার মাথাব্যথা ১৫ মিনিট থেকে ৩ ঘণ্টা স্থায়ী হয়.
সহযোগী লক্ষণ
মাইগ্রেনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হল এর সহযোগী লক্ষণ। মাইগ্রেন আক্রান্তদের বমি বমি ভাব এবং বমি, আলোর প্রতি সংবেদনশীলতা (ফটোফোবিয়া), এবং শব্দের প্রতি সংবেদনশীলতা (ফোনোফোবিয়া) অনুভূত হয়. এই লক্ষণগুলি মাইগ্রেন নির্ণয়ের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিপরীতে, সাধারণ মাথাব্যথায় এই ধরনের সংবেদনশীল লক্ষণ সাধারণত দেখা যায় না.
মাইগ্রেন এবং সাধারণ মাথাব্যথা: তুলনামূলক সারণি
| বৈশিষ্ট্য | সাধারণ মাথাব্যথা | মাইগ্রেন |
|---|---|---|
| ব্যথার ধরন | নিস্তেজ, স্থির, চাপযুক্ত | স্পন্দনশীল, তীব্র |
| ব্যথার তীব্রতা | হালকা থেকে মাঝারি | মাঝারি থেকে গুরুতর (প্রায়শই অক্ষমকারী) |
| ব্যথার অবস্থান | উভয় পাশ | সাধারণত একপাশ |
| সময়কাল | ৩০ মিনিট থেকে কয়েক ঘণ্টা | ৪ থেকে ৭২ ঘণ্টা |
| বমি বমি ভাব/বমি | বিরল | সাধারণ |
| আলোর প্রতি সংবেদনশীলতা | অস্বাভাবিক | খুব সাধারণ |
| শব্দের প্রতি সংবেদনশীলতা | বিরল | সাধারণ |
| অরা | অনুপস্থিত | কিছু ক্ষেত্রে উপস্থিত |
| দৈনন্দিন কাজে প্রভাব | পরিচালনাযোগ্য | গুরুতরভাবে ব্যাহত |
| ট্রিগার | চাপ, ভঙ্গি, পানিশূন্যতা | হরমোন, নির্দিষ্ট খাবার, আবহাওয়া |
মাইগ্রেন শনাক্তকরণের জন্য বিভিন্ন স্ক্রিনিং পদ্ধতি রয়েছে যা চিকিৎসকরা ব্যবহার করেন। ID-Migraine প্রশ্নাবলী তিনটি মূল প্রশ্নের মাধ্যমে মাইগ্রেন শনাক্ত করে – বমি বমি ভাব, ফটোফোবিয়া এবং অক্ষমতা সম্পর্কিত. এই পদ্ধতির সংবেদনশীলতা ০.৮১, নির্দিষ্টতা ০.৭৫ এবং ইতিবাচক পূর্বাভাসযোগ্য মূল্য ০.৯৩. একইভাবে, Migraine Screen Questionnaire (MS-Q) পাঁচটি প্রশ্নের মাধ্যমে মাইগ্রেন স্ক্রিনিং করে এবং এর সংবেদনশীলতা ০.৯৩, নির্দিষ্টতা ০.৮১.
ICHD-3 নির্ণয় মানদণ্ড
আন্তর্জাতিক মাথাব্যথা শ্রেণিবিন্যাসের তৃতীয় সংস্করণ (ICHD-3) অনুযায়ী, অরা ছাড়া মাইগ্রেন নির্ণয়ের জন্য নিম্নলিখিত মানদণ্ড পূরণ করতে হবে:
-
কমপক্ষে পাঁচটি আক্রমণ যা নিচের মানদণ্ড পূরণ করে
-
মাথাব্যথার সময়কাল ৪ থেকে ৭২ ঘণ্টা (চিকিৎসা ছাড়া বা ব্যর্থ চিকিৎসায়)
-
মাথাব্যথার চারটি বৈশিষ্ট্যের মধ্যে কমপক্ষে দুটি থাকতে হবে – একপাশে অবস্থান, স্পন্দনশীল গুণমান, মাঝারি বা গুরুতর ব্যথার তীব্রতা, এবং রুটিন শারীরিক কার্যকলাপ দ্বারা বৃদ্ধি
-
মাথাব্যথার সময় নিম্নলিখিতগুলির মধ্যে কমপক্ষে একটি – বমি বমি ভাব এবং/অথবা বমি, ফটোফোবিয়া এবং ফোনোফোবিয়া
-
অন্য কোনো ICHD-3 রোগ নির্ণয় দ্বারা ভালোভাবে ব্যাখ্যা করা যায় না
মাইগ্রেনের কারণ এবং ট্রিগার
মাইগ্রেনের সঠিক কারণ এখনও সম্পূর্ণভাবে বোঝা যায়নি, তবে এটি জেনেটিক এবং পরিবেশগত কারণগুলির সংমিশ্রণ বলে মনে করা হয়। মাইগ্রেনের বিভিন্ন ট্রিগার রয়েছে যা আক্রমণ শুরু করতে পারে:
হরমোনজনিত ট্রিগার
মহিলাদের মধ্যে হরমোনের পরিবর্তন মাইগ্রেনের একটি প্রধান ট্রিগার। মাসিক চক্র, গর্ভাবস্থা এবং মেনোপজের সময় ইস্ট্রোজেন মাত্রার ওঠানামা মাইগ্রেন আক্রমণ বাড়াতে পারে। বিশ্বব্যাপী পরিসংখ্যান দেখায় যে নারীদের মাইগ্রেনের হার পুরুষদের তুলনায় বেশি, তবে পুরুষদের মধ্যে মাইগ্রেনের বৃদ্ধির হার মহিলাদের তুলনায় চার থেকে পাঁচ গুণ দ্রুত.
খাদ্য এবং পানীয় ট্রিগার
নির্দিষ্ট খাবার এবং পানীয় মাইগ্রেন আক্রমণ শুরু করতে পারে, যেমন বয়স্ক পনির, চকলেট, ক্যাফেইন, অ্যালকোহল (বিশেষত রেড ওয়াইন), এবং কৃত্রিম মিষ্টি। খাবার বাদ দেওয়া বা অনিয়মিত খাবার খাওয়াও মাইগ্রেন ট্রিগার করতে পারে।
পরিবেশগত এবং জীবনযাত্রার ট্রিগার
চাপ, ঘুমের ব্যাঘাত, তীব্র আলো বা শব্দ, আবহাওয়ার পরিবর্তন এবং শারীরিক পরিশ্রম মাইগ্রেন আক্রমণ শুরু করতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে যে মাইগ্রেনের ট্রিগারগুলি সাধারণ মাথাব্যথার তুলনায় অধিক সুনির্দিষ্ট এবং সহজে চিহ্নিত করা যায়.
মাইগ্রেনের চিকিৎসা: সর্বশেষ নির্দেশিকা ২০২৬
মাইগ্রেনের চিকিৎসা দুই ধরনের হয় – তীব্র চিকিৎসা (আক্রমণের সময়) এবং প্রতিরোধমূলক চিকিৎসা। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে প্রকাশিত সর্বশেষ নির্দেশিকা অনুসারে, জরুরি বিভাগে মাইগ্রেন চিকিৎসার জন্য নতুন সুপারিশ করা হয়েছে.
তীব্র চিকিৎসা
২০২৬ সালের নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রোক্লোরপেরাজিন শিরাপথে এবং গ্রেটার অক্সিপিটাল নার্ভ ব্লক (GONB) জরুরি বিভাগে মাইগ্রেন আক্রমণের জন্য অবশ্যই প্রদান করতে হবে (লেভেল A – মাস্ট অফার). যেসব চিকিৎসা প্রদান করা উচিত (লেভেল B – শুড অফার) তার মধ্যে রয়েছে ডেক্সকেটোপ্রোফেন শিরাপথে, কেটোরোল্যাক শিরাপথে, মেটোক্লোপ্রামাইড শিরাপথে, সুমাট্রিপ্টান সাবকিউটেনিয়াস এবং সুপারঅরবিটাল নার্ভ ব্লক (SONB). গুরুত্বপূর্ণভাবে, হাইড্রোমরফোন শিরাপথে অবশ্যই প্রদান করা উচিত নয় (লেভেল A – মাস্ট নট অফার) কারণ এটি মাইগ্রেন ব্যথা উপশমে অকার্যকর বলে প্রমাণিত.
প্রতিরোধমূলক চিকিৎসা
এপিসোডিক মাইগ্রেন প্রতিরোধের জন্য, আমেরিকান কলেজ অফ ফিজিশিয়ান্স ২০২৫ সালে নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে যা চিকিৎসকদের মনোথেরাপি শুরু করার পরামর্শ দেয়. প্রতিরোধমূলক ওষুধের মধ্যে রয়েছে বিটা-ব্লকার, অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট, এবং অ্যান্টিকনভালসেন্ট।
আধুনিক নিউরোমডুলেশন থেরাপি
২০২৫ সালের গবেষণা অনুযায়ী, মাইগ্রেন চিকিৎসায় উদ্ভাবনী পদ্ধতিগুলি দ্রুত উন্নতি লাভ করছে. ভ্যাগাস নার্ভ স্টিমুলেশন (VNS) ২০১৮ সালে FDA অনুমোদন পেয়েছে এবং বহিরাগত ট্রাইজেমিনাল নার্ভ স্টিমুলেশন (eTNS) মাইগ্রেনের দিনগুলি এবং ওষুধের ব্যবহার কমাতে দেখা গেছে. রেডিওফ্রিকোয়েন্সি অ্যাবলেশন (RFA) দীর্ঘস্থায়ী মাথাব্যথার চিকিৎসায় একটি মূল্যবান বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে.
মাইগ্রেনের বৈশ্বিক প্রভাব এবং পরিসংখ্যান
মাইগ্রেন বিশ্বব্যাপী একটি উল্লেখযোগ্য জনস্বাস্থ্য সমস্যা। ২০২১ সালে, বিশ্বব্যাপী মাইগ্রেনের প্রচলিত ঘটনা ছিল ১১৫.৮৪ কোটি, যা ১৯৯০ সালের ৭৩.২৫ কোটি থেকে ৫৮% বৃদ্ধি. পূর্ব এশিয়ায়, প্রচলিত ঘটনা ১৯৯০ সালের ১৩.৮৬ কোটি থেকে ২০২১ সালে ১৯.১৭ কোটিতে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ৩৮% বৃদ্ধি. চীনে, মাইগ্রেনের সংখ্যা ১৩.৩৪ কোটি থেকে ১৮.৪৭ কোটিতে বেড়েছে.
বয়স এবং লিঙ্গ অনুযায়ী প্রভাব
গবেষণায় দেখা গেছে যে কিশোর-কিশোরীদের (২০ বছরের কম) মধ্যে মাইগ্রেনের প্রসার এবং DALYs সবচেয়ে দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে. পূর্বাভাস বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০৫০ সাল পর্যন্ত মাইগ্রেনের প্রসার বাড়তে থাকবে, বিশেষ করে পুরুষ এবং কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে.
অর্থনৈতিক এবং সামাজিক প্রভাব
মাইগ্রেন শুধুমাত্র শারীরিক সমস্যা নয়, এটি কর্মক্ষমতা এবং জীবনযাত্রার মান মারাত্মকভাবে হ্রাস করে। মাইগ্রেন আক্রান্তদের প্রায়শই অন্ধকার, শান্ত স্থানে বিশ্রাম নিতে হয়, যা তাদের দৈনন্দিন কাজকর্ম সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেয়. সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে যে মাইগ্রেন উদ্বেগের ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করে এবং মাইগ্রেনের তীব্রতা এবং ফ্রিকোয়েন্সির সাথে ইতিবাচকভাবে সম্পর্কযুক্ত.
মাইগ্রেন নির্ণয়ে চ্যালেঞ্জ
মাইগ্রেন নির্ণয়ে অনেক সময় বিলম্ব হয়। গবেষণা অনুসারে, মাইগ্রেন আক্রান্ত রোগীরা গড়ে ২১.৪ বছর বয়সে রোগ নির্ণয় পান, যা লক্ষণ শুরু হওয়ার ৪ বছর পরে এবং প্রথম চিকিৎসা পরামর্শের ২ বছর পরে. যারা মাথাব্যথার জন্য পরামর্শ নিয়েছেন তাদের মধ্যে ৯১% রিপোর্ট করেছেন যে তারা মাইগ্রেনের চিকিৎসা নির্ণয় পেয়েছেন. তবে, অনেক রোগী এখনও যথাযথ চিকিৎসা পাচ্ছেন না কারণ মাইগ্রেন প্রায়শই কম নির্ণয় এবং কম চিকিৎসা হয়.
জরুরি বিভাগে মাইগ্রেন পরিচালনা
জরুরি বিভাগে, অরা সহ মাইগ্রেন এবং ট্রানজিয়েন্ট ইস্কেমিক অ্যাটাক (TIA) এর মধ্যে পার্থক্য করা প্রায়শই সহজ নয়. ICHD-3 ডায়াগনস্টিক মানদণ্ড এই পার্থক্যের জন্য একটি উপযোগী হাতিয়ার প্রদান করে, যার নির্দিষ্টতা ৯৬% এবং সাধারণ অরা সহ মাইগ্রেনের জন্য ৯৮%.
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন
নিম্নলিখিত লক্ষণগুলি দেখা দিলে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন:
-
তীব্র, হঠাৎ মাথাব্যথা যা আপনার জীবনের সবচেয়ে খারাপ মাথাব্যথা
-
স্নায়বিক লক্ষণসহ মাথাব্যথা যেমন দৃষ্টি পরিবর্তন, কথা বলতে অসুবিধা, দুর্বলতা বা অসাড়তা
-
জ্বর, শক্ত ঘাড় বা বিভ্রান্তি সহ মাথাব্যথা
-
মাথায় আঘাতের পর মাথাব্যথা
-
মাথাব্যথা যা সময়ের সাথে আরও খারাপ হয়
-
৫০ বছর বয়সের পরে প্রথমবার তীব্র মাথাব্যথা
যদি আপনার মাথাব্যথা বমি বমি ভাব, আলোর প্রতি সংবেদনশীলতা বা গুরুতর অস্বস্তির সাথে আসে, তবে এটি সাধারণ মাথাব্যথার চেয়ে মাইগ্রেন হওয়ার সম্ভাবনা বেশি.
মাইগ্রেন পরিচালনা এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তন
মাইগ্রেন পরিচালনায় ওষুধ ছাড়াও জীবনযাত্রার পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নিয়মিত ঘুম, সুষম খাদ্য, পর্যাপ্ত পানি পান, চাপ পরিচালনা এবং নিয়মিত ব্যায়াম মাইগ্রেনের ফ্রিকোয়েন্সি কমাতে সাহায্য করতে পারে। একটি মাইগ্রেন ডায়েরি রাখা আপনার ব্যক্তিগত ট্রিগার চিহ্নিত করতে এবং সেগুলি এড়াতে সাহায্য করতে পারে।
ট্রিগার এড়ানো
একবার আপনি আপনার মাইগ্রেন ট্রিগারগুলি চিহ্নিত করতে পারলে, সেগুলি এড়ানোর চেষ্টা করুন। সাধারণ ট্রিগারগুলির মধ্যে রয়েছে নির্দিষ্ট খাবার, অ্যালকোহল, ক্যাফেইন, চাপ, ঘুমের ব্যাঘাত এবং হরমোনের পরিবর্তন। মাইগ্রেনের ট্রিগারগুলি সাধারণ মাথাব্যথার তুলনায় আরও সুনির্দিষ্ট এবং সহজে চিহ্নিত করা যায়.
আচরণগত থেরাপি
জ্ঞানীয় আচরণগত থেরাপি, বায়োফিডব্যাক এবং রিলাক্সেশন কৌশল মাইগ্রেন ফ্রিকোয়েন্সি এবং তীব্রতা কমাতে কার্যকর হতে পারে। এই পদ্ধতিগুলি ফার্মাকোলজিক্যাল চিকিৎসার সাথে একত্রিত করে একটি বহুমুখী মাইগ্রেন পরিচর্যা পদ্ধতি তৈরি করে.
মাইগ্রেন একটি জটিল স্নায়বিক রোগ যা বিশ্বব্যাপী ১১৬ কোটিরও বেশি মানুষকে প্রভাবিত করে এবং এর প্রসার ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। সাধারণ মাথাব্যথা থেকে মাইগ্রেনকে আলাদা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ তাদের চিকিৎসা পদ্ধতি ভিন্ন এবং মাইগ্রেন যথাযথ চিকিৎসা ছাড়া জীবনযাত্রার মান মারাত্মকভাবে হ্রাস করতে পারে। স্পন্দনশীল, একপাশের, তীব্র ব্যথা, বমি বমি ভাব, আলো এবং শব্দের প্রতি সংবেদনশীলতা এবং ৪ থেকে ৭২ ঘণ্টা স্থায়ী মাথাব্যথা মাইগ্রেনের মূল লক্ষণ। সর্বশেষ চিকিৎসা নির্দেশিকা এবং উদ্ভাবনী নিউরোমডুলেশন থেরাপি মাইগ্রেন পরিচালনায় নতুন আশা নিয়ে এসেছে। সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয়, উপযুক্ত চিকিৎসা এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তন মাইগ্রেন আক্রান্তদের স্বাভাবিক, উৎপাদনশীল জীবনযাপনে সাহায্য করতে পারে। যদি আপনার মাথাব্যথা মাইগ্রেনের লক্ষণ প্রদর্শন করে, তাহলে দেরি না করে একজন যোগ্য চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।











