ভারতের রাস্তায় প্রতিদিন গাড়ির সংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকিও পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং গাড়ির মালিকদের মানসিক শান্তি নিশ্চিত করতে, রিলায়েন্স জিও বাজারে এনেছে তাদের নতুন কার সেফটি গ্যাজেট। সম্প্রতি রিলায়েন্স জিও ভারতে জিপিএস সহ JioEyeQ Dashcam চালু করেছে। সাশ্রয়ী মূল্যে লঞ্চ হওয়া এই ডিভাইসটি ইন্টারনেট অফ থিংস (IoT) এবং আধুনিক প্রযুক্তির এক অনন্য সংমিশ্রণ, যা আপনার গাড়ির সুরক্ষাকে সম্পূর্ণ নতুন স্তরে নিয়ে যাবে।
রাস্তায় গাড়ি চালানোর সময় অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা, ইনস্যুরেন্স দাবি নিয়ে জটিলতা বা ভুল ট্রাফিক চালানের শিকার হওয়া—এসব সমস্যার নির্ভরযোগ্য ডিজিটাল সমাধান হলো একটি ড্যাশক্যাম। জিও-এর এই নতুন ডিভাইসে রিয়েল-টাইম জিপিএস ট্র্যাকিং, এআই (AI) পেডেস্ট্রিয়ান ডিটেকশন এবং হাই-ডেফিনিশন ভিডিও রেকর্ডিংয়ের সুবিধা রয়েছে। চলুন, বাজারে সাড়া ফেলে দেওয়া এই নতুন ডিভাইসটির খুঁটিনাটি স্পেসিফিকেশন এবং সুবিধাগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।
JioEyeQ Dashcam এর মূল বৈশিষ্ট্য এবং স্পেসিফিকেশন
জিও-এর নতুন এই ড্যাশক্যামটি মূলত স্মার্ট কানেক্টিভিটি এবং ব্যবহারকারীর দৈনন্দিন সুবিধার কথা মাথায় রেখে ডিজাইন করা হয়েছে। ডিভাইসটিতে এমন কিছু প্রিমিয়াম ফিচার রয়েছে, যা সাধারণত বাজারের দামি ড্যাশক্যামগুলোতে দেখা যায়। উন্নত লেন্স থেকে শুরু করে এআই অ্যালার্ম—সবকিছুই এই ছোট ডিভাইসটির মধ্যে সুন্দরভাবে সাজানো। মাত্র ৩,৪৯৯ টাকা দামের এই গ্যাজেটটি গাড়ির সুরক্ষায় একটি মাস্টারপিস।
জিও ড্যাশক্যামের মূল বৈশিষ্ট্য একনজরে
| ফিচার (Feature) | স্পেসিফিকেশন (Specification) | সুবিধা (Benefit) |
| ভিডিও কোয়ালিটি | 2MP Full HD (1080p) লেন্স | দিন ও রাতে গাড়ির সামনের পরিষ্কার ভিডিও রেকর্ডিং। |
| ভিউয়িং অ্যাঙ্গেল | ১৪০-ডিগ্রি (140° Ultrawide FOV) | রাস্তার একটি বড় অংশ এবং ব্লাইন্ড স্পট কভার করা। |
| স্টোরেজ | ৩২ জিবি (32GB) মেমোরি কার্ড (বক্সে যুক্ত) | আলাদা মেমোরি কার্ড কেনার ঝামেলা নেই। |
| সেন্সর ও ট্র্যাকিং | ইন-বিল্ট জিপিএস, 3-Axis জি-সেন্সর | গাড়ির লাইভ লোকেশন ট্র্যাকিং এবং ইমার্জেন্সি রেকর্ডিং। |
| এআই ফিচার | AI Pedestrian Detection | রাস্তায় পথচারী থাকলে ভয়েস অ্যালার্ট প্রদান। |
হাই-ডেফিনিশন ভিডিও এবং ওয়াইড-অ্যাঙ্গেল লেন্স
একটি ড্যাশক্যামের প্রধান কাজ হলো পরিষ্কার ভিডিও ধারণ করা। এই ডিভাইসে 2MP ফুল এইচডি রেজোলিউশনে ভিডিও রেকর্ডিংয়ের সুবিধা রয়েছে। এর ১৪০-ডিগ্রি ওয়াইড-অ্যাঙ্গেল লেন্স রাস্তার একটি বড় অংশ এবং আশেপাশের লেন কভার করতে পারে, ফলে গাড়ির সামনের কোনো ঘটনাই ক্যামেরার চোখ এড়ায় না। নাম্বার প্লেট এবং রাস্তার সাইনবোর্ডগুলো এতে খুব স্পষ্ট দেখা যায়।
এআই পেডেস্ট্রিয়ান ডিটেকশন এবং নাইট ভিশন
এই ড্যাশক্যামের অন্যতম সেরা আকর্ষণ হলো এর এআই (AI) ভিত্তিক পথচারী শনাক্তকরণ বা Pedestrian Detection সিস্টেম। গাড়ির সামনে হঠাৎ কেউ চলে এলে ডিভাইসটির বিল্ট-ইন স্পিকার থেকে ভয়েস অ্যালার্ট বেজে ওঠে, যা চালককে সতর্ক করে। এছাড়া উন্নত নাইট ভিশন প্রযুক্তির সাহায্যে রাতের বেলায় বা কম আলোতেও স্পষ্ট ভিডিও রেকর্ড করা সম্ভব হয়।
ইন-বিল্ট জিপিএস এবং স্মার্ট কানেক্টিভিটি
বর্তমান যুগে শুধু ভিডিও রেকর্ড করলেই চলে না, রিয়েল-টাইম ডেটারও প্রয়োজন হয়। জিও তাদের এই ডিভাইসে বিল্ট-ইন জিপিএস এবং স্মার্ট ওয়াইফাই যুক্ত করেছে। এর ফলে আপনি গাড়ির ভিডিও দেখার পাশাপাশি গাড়ির সঠিক অবস্থান, গতি এবং ভ্রমণের পুরো ইতিহাস স্মার্টফোনেই দেখতে পারবেন। যারা নিজেদের গাড়ি ড্রাইভারের হাতে ছেড়ে দেন, তাদের জন্য এটি একটি অসাধারণ ফিচার।
জিপিএস এবং কানেক্টিভিটি সুবিধা
| প্রযুক্তি (Technology) | কার্যকারিতা (Function) | ফলাফল (Result) |
| GPS Logging | ট্রিপ রুট, স্পিড এবং কো-অর্ডিনেট সেভ করা। | ম্যাপে পুরো ট্রিপ হিস্ট্রি দেখা যায়। |
| Built-in Wi-Fi | স্মার্টফোনের সাথে দ্রুত কানেকশন। | তার ছাড়াই ভিডিও ডাউনলোড ও শেয়ার। |
| Built-in Mic | গাড়ির ভেতরের অডিও রেকর্ড করা। | পুলিশ বা অন্য চালকদের সাথে কথোপকথন রেকর্ড। |
জিপিএস লগিং এবং স্পিড ট্র্যাকিং
এই ডিভাইসের ইন-বিল্ট জিপিএস সিস্টেমটি অত্যন্ত নির্ভুল। এটি প্রতিনিয়ত গাড়ির সঠিক লোকেশন, রুট হিস্ট্রি এবং গতি লগ করতে থাকে। JioThings অ্যাপের মাধ্যমে আপনি যেকোনো সময় ম্যাপে আপনার ট্রিপের বিস্তারিত দেখতে পারবেন। এই ডেটা সম্পূর্ণ টাইম-স্ট্যাম্পড থাকে, যা প্রমাণ হিসেবে আদালতে বা পুলিশের কাছে পেশ করা সহজ।
বিল্ট-ইন ওয়াইফাই এবং অডিও রেকর্ডিং
ডিভাইসটিতে বিল্ট-ইন ওয়াইফাই মডিউল রয়েছে, যার মাধ্যমে কোনো প্রকার ডেটা ক্যাবল ছাড়াই সরাসরি স্মার্টফোনে ভিডিও ট্রান্সফার করা যায়। পাশাপাশি এতে থাকা ইন-বিল্ট মাইক্রোফোন গাড়ির ভেতরের এবং বাইরের জরুরি কথোপকথন রেকর্ড করতে পারে। দুর্ঘটনা বা তর্কবিতর্কের সময় অডিও প্রমাণ থাকাটা অত্যন্ত সহায়ক।
ভারতে JioEyeQ Dashcam এর প্রয়োজনীয়তা
ভারতের রাস্তাঘাটের অবস্থা এবং ট্রাফিক ব্যবস্থা বেশ চ্যালেঞ্জিং। প্রতিদিন অসংখ্য ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটে এবং অনেক সময় বিনা দোষে চালকদের জরিমানা গুণতে হয়। এই পরিস্থিতিতে একটি নির্ভরযোগ্য প্রমাণ থাকা জরুরি। জিও-এর এই ড্যাশক্যাম শুধু প্রমাণই দেয় না, বরং চুরির হাত থেকেও গাড়িকে রক্ষা করতে সাহায্য করে। গাড়ির নিরাপত্তা নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির কারণেই ড্যাশক্যাম এখন একটি আবশ্যকীয় গ্যাজেট।
গাড়ির সুরক্ষায় ড্যাশক্যামের ভূমিকা
| কারণ (Reason) | ব্যবহারিক উদাহরণ (Use Case) | প্রভাব (Impact) |
| ইনস্যুরেন্স ক্লেম | দুর্ঘটনার আসল কারণ ভিডিওসহ প্রমাণ করা। | মিথ্যা দাবি থেকে রক্ষা এবং দ্রুত ক্ষতিপূরণ লাভ। |
| ভুল ট্রাফিক চালান | সিগন্যাল ভাঙার ভুল অভিযোগের বিরুদ্ধে প্রমাণ। | হয়রানি রোধ এবং সময় ও অর্থ সাশ্রয়। |
| ইমার্জেন্সি লক | ধাক্কা লাগলে 3-axis G-sensor ভিডিও লক করে। | প্রমাণস্বরূপ ভিডিও ডিলিট হওয়া থেকে রক্ষা। |
মিথ্যা ট্রাফিক চালান এবং পুলিশি ঝামেলা থেকে মুক্তি
অনেক সময় সিগন্যাল না ভাঙলেও বা ভুল না থাকলেও ট্রাফিক পুলিশের অযৌক্তিক জরিমানার মুখে পড়তে হয়। ড্যাশক্যামের ফুটেজ থাকলে এই ধরনের হয়রানি থেকে সহজেই মুক্তি পাওয়া যায়। ক্যামেরায় রেকর্ড হওয়া জিপিএস স্পিড এবং লাইভ ভিডিও আপনার নির্দোষ হওয়ার অকাট্য প্রমাণ হিসেবে কাজ করে।
ইনস্যুরেন্স ক্লেম এবং দুর্ঘটনা প্রমাণ
দুর্ঘটনার পর প্রায়শই বিতর্ক তৈরি হয় যে, দোষ কার ছিল। ড্যাশক্যামের ফুটেজ থাকলে এই বিতর্কের অবসান খুব সহজেই ঘটে। এর ‘কলিশন ডিটেকশন’ (Collision Detection) ফিচারের কারণে, গাড়ি কোনো কিছুর সাথে ধাক্কা খেলে জি-সেন্সর স্বয়ংক্রিয়ভাবে ওই নির্দিষ্ট মুহূর্তের ভিডিওটিকে একটি সিকিউর ফোল্ডারে ‘লক’ করে দেয়, ফলে ভিডিওটি কখনোই ওভাররাইট বা ডিলিট হয় না।
দাম, EMI সুবিধা এবং প্রাপ্যতা
নতুন গ্যাজেট বাজারে এলে সবার আগে এর দাম নিয়ে জল্পনা শুরু হয়। রিলায়েন্স জিও বরাবরই সাধারণ মানুষের বাজেটের কথা মাথায় রাখে। এই ড্যাশক্যামের ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। অত্যন্ত সাশ্রয়ী মূল্যে একাধিক প্রিমিয়াম ফিচার প্যাক করে ডিভাইসটি বাজারে ছাড়া হয়েছে, যা অন্যান্য সমকক্ষ ব্র্যান্ডের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
দাম এবং প্যাকেজ ডিটেইলস
| বিষয় (Details) | তথ্য (Information) |
| অফিশিয়াল দাম | ৩,৪৯৯ টাকা (₹3,499) |
| ইএমআই (EMI) সুবিধা | নো-কস্ট ইএমআই (No-Cost EMI) ৩ মাসের জন্য |
| মাসিক কিস্তি | ১,১৬৬ টাকা (₹1,166) |
| কোথায় পাওয়া যাচ্ছে? | অ্যামাজন ইন্ডিয়া (Amazon India) এবং জিওমার্ট (JioMart) |
| বক্সে কী থাকছে? | ড্যাশক্যাম, 32GB মেমোরি কার্ড, টাইপ-সি (Type-C) অ্যাডাপ্টার, মাউন্টিং কিট |
সাশ্রয়ী মূল্য এবং নো-কস্ট ইএমআই
বাজারে যেখানে ভালো মানের জিপিএস ড্যাশক্যামের দাম ৫-৭ হাজার টাকার ওপরে, সেখানে জিও এর দাম রেখেছে মাত্র ৩,৪৯৯ টাকা। যারা একবারে পুরো টাকা দিতে চান না, তাদের জন্য অ্যামাজনে ৩ মাসের ‘নো-কস্ট ইএমআই’ (No-cost EMI) সুবিধা রয়েছে। অর্থাৎ প্রতি মাসে মাত্র ১,১৬৬ টাকা কিস্তি দিয়ে গ্যাজেটটি নিজের গাড়ির জন্য কিনে নেওয়া সম্ভব।
কোথায় পাবেন এবং বক্সের ভেতরে কী কী থাকছে?
JioEyeQ Dashcam বর্তমানে অ্যামাজন ইন্ডিয়া এবং জিওমার্টে কেনার জন্য উপলব্ধ। সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এর বক্সের ভেতরেই একটি ৩২ জিবি মাইক্রোএসডি (MicroSD) কার্ড এবং একটি টাইপ-সি (Type-C) কার চার্জিং অ্যাডাপ্টার দেওয়া থাকে। ফলে বাজার থেকে আলাদা করে কোনো অ্যাকসেসরিজ কেনার প্রয়োজন পড়ে না।
JioThings অ্যাপের মাধ্যমে স্মার্ট কন্ট্রোল
হার্ডওয়্যার যতই ভালো হোক না কেন, সফটওয়্যার এক্সপেরিয়েন্স ভালো না হলে ড্যাশক্যাম ব্যবহার করা বিরক্তিকর হয়ে ওঠে। ব্যবহারকারীদের এই বিরক্তি দূর করতে জিও তাদের নিজস্ব ‘JioThings’ অ্যাপের সাথে ড্যাশক্যামটিকে ইন্টিগ্রেট করেছে। এই একটি মাত্র অ্যাপ থেকেই ডিভাইসের সমস্ত ফিচার নিয়ন্ত্রণ করা যায় খুব সহজেই।
JioThings অ্যাপের সুবিধা
| অ্যাপ ফিচার (App Feature) | কাজ (Function) |
| ওটিপি লগইন (OTP Login) | মোবাইল নম্বর দিয়ে নিরাপদ লগইন ব্যবস্থা। |
| ওয়াইফাই ম্যানেজমেন্ট | অ্যাপ থেকেই ক্যামেরার ওয়াইফাই পাসওয়ার্ড পরিবর্তন। |
| ট্রিপ হিস্ট্রি | ম্যাপে ভ্রমণের বিস্তারিত রুট এবং স্পিড দেখা। |
| লাইভ প্রিভিউ | গাড়ির সামনে কী হচ্ছে তা স্মার্টফোনের স্ক্রিনে দেখা। |
সহজ সেটআপ এবং লাইভ রিয়েল-টাইম ট্র্যাকিং
অ্যান্ড্রয়েড এবং আইওএস (iOS)—উভয় প্ল্যাটফর্মেই JioThings অ্যাপটি পাওয়া যায়। অ্যাপটি ডাউনলোড করে মোবাইল নম্বরের মাধ্যমে ওটিপি ভেরিফিকেশন করে লগইন করতে হয়। এরপর ‘Add New Device’ অপশনে গিয়ে ড্যাশক্যামটি সিলেক্ট করলেই এটি ফোনের সাথে যুক্ত হয়ে যায়। এখান থেকে ক্যামেরার লাইভ ভিউ দেখা এবং লেন্সের পজিশন ঠিক করা যায়।
টাইম-স্ট্যাম্পড ডেটা এবং ক্লাউড ম্যানেজমেন্ট
ইনস্যুরেন্স কোম্পানি বা পুলিশের কাছে প্রমাণের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর জন্য ভিডিও ফুটেজে সঠিক সময় এবং লোকেশন থাকা বাধ্যতামূলক। JioThings অ্যাপ ড্যাশক্যামের ফুটেজগুলোকে জিপিএস কো-অর্ডিনেট এবং সঠিক সময় (Time-stamp) সহ সেভ করে, যা কোনোভাবেই টেম্পার বা এডিট করা সম্ভব নয়। এটি ডিজিটাল প্রমাণ হিসেবে শতভাগ কার্যকর।
বাজারে অন্যান্য বাজেট ড্যাশক্যামের সাথে JioEyeQ এর তুলনা
ভারতের বাজেট ড্যাশক্যাম মার্কেট বর্তমানে বেশ প্রতিযোগিতামূলক। CrossBeats, Qubo, NEXDIGITRON এবং boAt-এর মতো ব্র্যান্ডগুলো ৩ থেকে ৫ হাজার টাকার মধ্যে বেশ কিছু মডেল বিক্রি করছে। তবে জিও-এর নতুন এন্ট্রির কারণে প্রতিযোগিতার বাজার আরও গরম হয়ে উঠেছে। ক্রেতাদের জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে একটি তুলনামূলক আলোচনা নিচে দেওয়া হলো।
JioEyeQ বনাম অন্যান্য বাজেট ড্যাশক্যাম
| ফিচার (Feature) | JioEyeQ Dashcam (₹3,499) | অন্যান্য সাধারণ ব্র্যান্ড (₹3,000 – ₹4,500) |
| জিপিএস মডিউল | ইন-বিল্ট (Built-in GPS) | অনেক মডেলে আলাদা করে জিপিএস অ্যান্টেনা কিনতে হয়। |
| মেমোরি কার্ড | ৩২ জিবি ফ্রি দেওয়া হয় | বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আলাদা করে কিনতে হয়। |
| এআই ডিটেকশন | হ্যাঁ (Pedestrian Detection) | এই বাজেটে এআই ডিটেকশন খুবই বিরল। |
| অ্যাপ এক্সপেরিয়েন্স | উন্নত JioThings ইকোসিস্টেম | থার্ড-পার্টি বা বেসিক অ্যাপ। |
অন্যান্য ব্র্যান্ডের সাথে মূল পার্থক্য
Qubo বা 70mai-এর মতো ব্র্যান্ডগুলোর বেসিক মডেলে সাধারণত জিপিএস ট্র্যাকিং থাকে না; এর জন্য আলাদা জিপিএস মডিউল কিনতে হয়, যা খরচ বাড়িয়ে দেয়। কিন্তু জিও মাত্র ৩,৪৯৯ টাকার ভেতরেই জিপিএস লগার এবং মেমোরি কার্ড দিয়ে দিচ্ছে। এটি ভ্যালু ফর মানি (Value for money) দিক থেকে জিও-কে অন্যান্য প্রতিযোগীদের থেকে অনেক এগিয়ে রেখেছে।
কেন জিও সেরা পছন্দ?
যদি আপনি একটি কমপ্লিট প্যাকেজ খোঁজেন, যেখানে বক্স থেকে বের করেই ক্যামেরা ব্যবহার শুরু করা যাবে, তবে এটি আপনার জন্য সেরা পছন্দ। এর শক্তিশালী এআই ভয়েস অ্যালার্ট সিস্টেম এবং ইমার্জেন্সি জি-সেন্সর রেকর্ডিং এটিকে ভারতের ট্রাফিক ব্যবস্থার জন্য একটি আদর্শ গ্যাজেটে পরিণত করেছে।
গাড়ির নিরাপত্তার জন্য JioEyeQ Dashcam কীভাবে ইনস্টল করবেন?
নতুন গ্যাজেট কেনার পর মেকানিকের কাছে যাওয়ার চিন্তা অনেকেই করেন। জিও এটিকে সম্পূর্ণ ডু-ইট-ইয়োরসেলফ (DIY) মডেলে তৈরি করেছে। সাধারণ প্লাগ-অ্যান্ড-প্লে হওয়ায় আপনি মাত্র ৫ মিনিটের মধ্যেই এটি নিজেই গাড়ির সাথে সেটআপ করে নিতে পারবেন।
৫ মিনিটে ইনস্টলেশন গাইড
| ধাপ (Phase) | কী করতে হবে? (Action) | প্রয়োজনীয় সময় (Time) |
| ১. প্লেসমেন্ট | রিয়ার ভিউ মিররের পেছনে উইন্ডশিল্ড পরিষ্কার করে আঠালো প্যাড দিয়ে মাউন্টটি লাগান। | ২ মিনিট |
| ২. ক্যাবলিং | পাওয়ার ক্যাবলটি রুফ লাইনার এবং পিলারের পাশ দিয়ে লুকিয়ে গাড়ির 12V সকেটে যুক্ত করুন। | ৩ মিনিট |
| ৩. স্টোরেজ | ক্যামেরার স্লটে বক্সে দেওয়া ৩২ জিবি মেমোরি কার্ডটি প্রবেশ করান। | ১ মিনিট |
| ৪. পেয়ারিং | স্মার্টফোনে JioThings অ্যাপ ওপেন করে ওয়াইফাই দিয়ে কানেক্ট করুন। | ২ মিনিট |
উইন্ডশিল্ড মাউন্টিং এবং ক্যাবলিং
ক্যামেরাটি এমনভাবে গাড়ির উইন্ডশিল্ডে স্থাপন করা উচিত, যাতে চালকের দৃষ্টি বাধাগ্রস্ত না হয়। বক্সের ভেতরে থাকা শক্তিশালী ডাবল-সাইডেড টেপ ব্যবহার করে খুব সহজেই এটি আটকে দেওয়া যায়। এরপর বক্সে দেওয়া লম্বা ক্যাবলটি গাড়ির ড্যাশবোর্ড বা দরজার রাবারের ভেতর দিয়ে এমনভাবে সেট করতে হবে যাতে তারগুলো বাইরে থেকে দেখা না যায়।
জিওথিংস অ্যাপের সাথে পেয়ারিং
ফিজিক্যালি ইনস্টল করার পর, টাইপ-সি (Type-C) পাওয়ার ক্যাবলটি গাড়ির চার্জিং পোর্টের সাথে যুক্ত করে গাড়ির ইঞ্জিন চালু করুন। ক্যামেরা অন হওয়ার সাথে সাথে JioThings অ্যাপের মাধ্যমে ডিভাইসের ওয়াইফাই সিগন্যাল ট্র্যাক করে কানেক্ট করে নিন। প্রথমবার কানেক্ট করার পর অ্যাপ থেকেই ওয়াইফাই পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করে নেওয়া নিরাপদ।
গাড়ির নিরাপত্তা এবং যাত্রীদের সুরক্ষার ক্ষেত্রে জিও-এর এই নতুন পদক্ষেপ ভারতীয় অটো-টেক বাজারে একটি বড় পরিবর্তন আনবে। আপনি যদি আপনার প্রতিদিনের যাতায়াত, স্পিড মনিটরিং এবং রাস্তার অনাকাঙ্ক্ষিত ঝামেলা থেকে সুরক্ষিত থাকতে চান, তবে একটি নির্ভরযোগ্য ড্যাশক্যাম অত্যন্ত জরুরি।
উন্নত জিপিএস লগিং, এআই পেডেস্ট্রিয়ান ডিটেকশন, এবং ইমার্জেন্সি রেকর্ডিংয়ের মতো প্রিমিয়াম সুবিধাগুলো মাত্র ৩,৪৯৯ টাকায় সাধারণ মানুষের নাগালে নিয়ে এসেছে JioEyeQ Dashcam। সাশ্রয়ী মূল্যে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের এই সুযোগ গাড়ির মালিকদের জন্য নিঃসন্দেহে একটি দুর্দান্ত বিনিয়োগ। আপনার গাড়ির নিরাপত্তা এবং মানসিক শান্তি নিশ্চিত করতে আজই এই আধুনিক ডিভাইসটি আপনার গাড়িতে যুক্ত করার কথা বিবেচনা করতে পারেন।











