কল্পনা চাওলা ছাত্রবৃত্তি যোজনা ২০২৬: হিমাচল প্রদেশের ২০০০ মেধাবী ছাত্রীর জন্য ১৫,০০০ টাকার সুবর্ণ সুযোগ – জানুন আবেদন প্রক্রিয়া ও যোগ্যতা

Kalpana Chawla Chatravriti Yojana 2026: কল্পনা চাওলা ছাত্রবৃত্তি যোজনা (Kalpana Chawla Chatravriti Yojana) হিমাচল প্রদেশ সরকার কর্তৃক পরিচালিত একটি রাজ্য স্তরের বৃত্তি প্রকল্প যা ২০১২-১৩ সাল থেকে শুরু হয়েছে। এই…

Riddhi Datta

 

Kalpana Chawla Chatravriti Yojana 2026: কল্পনা চাওলা ছাত্রবৃত্তি যোজনা (Kalpana Chawla Chatravriti Yojana) হিমাচল প্রদেশ সরকার কর্তৃক পরিচালিত একটি রাজ্য স্তরের বৃত্তি প্রকল্প যা ২০১২-১৩ সাল থেকে শুরু হয়েছে। এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো উচ্চশিক্ষায় মেধাবী ছাত্রীদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করা এবং তাদের শিক্ষার পথকে সুগম করা। প্রতি বছর প্রকল্পটি হিমাচল প্রদেশের ১০+২ স্তরে উত্তীর্ণ শীর্ষ ২০০০ মেধাবী ছাত্রীকে বার্ষিক ১৫,০০০ টাকা বৃত্তি প্রদান করে। এই বৃত্তিটি বিজ্ঞান, কলা এবং বাণিজ্য – তিনটি ক্ষেত্রের শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত এবং প্রতিটি ক্ষেত্রের উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের পাসিং রেশিও অনুযায়ী বিতরণ করা হয়।

প্রকল্পের পটভূমি ও উদ্দেশ্য

মহাকাশচারী কল্পনা চাওলার নামে এই বৃত্তি প্রকল্পটি তৈরি করা হয়েছে যিনি ভারতীয় বংশোদ্ভূত প্রথম মহিলা মহাকাশচারী ছিলেন। হিমাচল প্রদেশ সরকার উচ্চশিক্ষায় মেয়েদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং তাদের শিক্ষার প্রতি উৎসাহ প্রদানের লক্ষ্যে এই প্রকল্পটি চালু করে। প্রকল্পের প্রধান লক্ষ্যগুলি হলো:

  • মেধাবী ছাত্রীদের উচ্চশিক্ষা গ্রহণে আর্থিক সহায়তা প্রদান

  • হিমাচল প্রদেশে নারী শিক্ষার হার বৃদ্ধি করা

  • অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল পরিবারের মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করা

  • উচ্চশিক্ষায় লিঙ্গ সমতা প্রতিষ্ঠা করা

বৃত্তির পরিমাণ ও প্রযোজ্যতা

কল্পনা চাওলা ছাত্রবৃত্তি যোজনার আওতায় নির্বাচিত ছাত্রীরা বার্ষিক ১৫,০০০ টাকা বৃত্তি পান। কিছু সূত্র অনুযায়ী বর্তমানে এই পরিমাণ ১৮,০০০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। এই বৃত্তি ডিগ্রি, ডিপ্লোমা বা সার্টিফিকেট কোর্স সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত পুনর্নবীকরণযোগ্য, তবে শিক্ষার্থীর কোনো পরীক্ষায় অকৃতকার্য হলে এই সুবিধা বন্ধ হয়ে যাবে। বৃত্তির টাকা সরাসরি শিক্ষার্থীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হয়।

বৃত্তি বিতরণ পদ্ধতি

হিমাচল প্রদেশ শিক্ষা বোর্ড (HP Board of School Education) কর্তৃক প্রদত্ত মেরিট লিস্ট অনুসারে এই বৃত্তি বিতরণ করা হয়। তিনটি শাখা – বিজ্ঞান, কলা ও বাণিজ্যের মধ্যে প্রতিটির পাসিং অনুপাত অনুসারে ২০০০ জন ছাত্রী নির্বাচিত হন। এই পদ্ধতি নিশ্চিত করে যে সমস্ত শাখার মেধাবী শিক্ষার্থীরা সমান সুযোগ পান।

যোগ্যতার মানদণ্ড

কল্পনা চাওলা ছাত্রবৃত্তি যোজনায় আবেদন করার জন্য শিক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণ করতে হবে:

মৌলিক যোগ্যতা

  • আবেদনকারীকে অবশ্যই মহিলা শিক্ষার্থী হতে হবে

  • হিমাচল প্রদেশের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে

  • হিমাচল প্রদেশ শিক্ষা বোর্ড থেকে দ্বাদশ শ্রেণী উত্তীর্ণ হতে হবে

  • বিজ্ঞান, কলা বা বাণিজ্য যে কোনো শাখা থেকে পাস করা শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবেন

  • সরকারি সহায়তাপ্রাপ্ত বা স্বীকৃত বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে উচ্চশিক্ষায় ভর্তি হতে হবে

শিক্ষাগত যোগ্যতা

শিক্ষার্থীকে একাডেমিক, পেশাদার বা কারিগরি ক্ষেত্রে উচ্চশিক্ষায় (১০+২ স্তরের পরবর্তী কোর্সে) নিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে ভর্তি হতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে ব্যাচেলর্স ডিগ্রি, মাস্টার্স ডিগ্রি, এমবিএ, চিকিৎসাবিজ্ঞান (এমবিবিএস/এমডি), পিএইচডি এবং অন্যান্য পেশাদার কোর্স।

মেরিট তালিকায় অন্তর্ভুক্তি

শিক্ষার্থীকে অবশ্যই হিমাচল প্রদেশ শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক প্রদত্ত ১০+২ পরীক্ষার মেরিট তালিকায় শীর্ষ ২০০০ মেধাবী ছাত্রীর মধ্যে স্থান পেতে হবে। প্রতিটি শাখার পাসিং অনুপাত অনুযায়ী এই নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

আবেদন প্রক্রিয়া

কল্পনা চাওলা ছাত্রবৃত্তি যোজনায় আবেদন সম্পূর্ণরূপে অনলাইনে সম্পন্ন হয়। জাতীয় বৃত্তি পোর্টাল (National Scholarship Portal) এবং হিমাচল প্রদেশের ইপাস (ePASS) পোর্টালের মাধ্যমে আবেদন গ্রহণ করা হয়।

অনলাইন আবেদন ধাপসমূহ

ধাপ ১: পোর্টাল ভিজিট

  • জাতীয় বৃত্তি পোর্টাল (scholarships.gov.in) অথবা হিমাচল প্রদেশ ইপাস পোর্টালে (hpepass.cgg.gov.in) যান

  • নির্দেশাবলী সাবধানে পড়ুন এবং ‘Continue’ বাটনে ক্লিক করুন

ধাপ ২: রেজিস্ট্রেশন

  • প্রয়োজনীয় তথ্য যেমন বৃত্তির ক্যাটাগরি, রাজ্য, নাম, জন্মতারিখ, মোবাইল নম্বর, ইমেইল এবং ব্যাংক বিবরণ প্রদান করুন

  • মোবাইল নম্বর, ক্যাপচা কোড এবং OTP প্রবেশ করান, তারপর সাবমিট করুন

  • রেজিস্ট্রেশন সম্পূর্ণ করুন এবং অ্যাপ্লিকেশন আইডি ও পাসওয়ার্ড নোট করে রাখুন

ধাপ ৩: লগইন ও আবেদন পূরণ

  • প্রাপ্ত আইডি এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করুন

  • আবেদন ফর্মে সম্পূর্ণ বিবরণ পূরণ করুন

  • প্রয়োজনীয় নথিপত্র আপলোড করুন

  • আবেদন জমা দিন এবং প্রিন্ট আউট নিন

ধাপ ৪: প্রাতিষ্ঠানিক যাচাইকরণ

  • আবেদনের প্রিন্ট কপি সকল প্রয়োজনীয় নথিপত্রসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানের কাছে জমা দিন

  • প্রতিষ্ঠান অনলাইনে যাচাইকরণ সম্পন্ন করবে

  • যাচাইকৃত তালিকা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে

আবেদনের সময়সীমা

২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের জন্য আবেদন প্রক্রিয়া ১৭ জুন ২০২৫ থেকে শুরু হবে এবং শেষ তারিখ ৩১ অক্টোবর ২০২৫। শিক্ষার্থীদের এই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আবেদন সম্পন্ন করতে হবে।

প্রয়োজনীয় নথিপত্র

আবেদনের সময় নিম্নলিখিত নথিপত্র জমা দিতে হবে:

মৌলিক নথি

  • পাসপোর্ট সাইজ ফটোগ্রাফ (সাম্প্রতিক)

  • আধার কার্ড (UID/EID নম্বরসহ)

  • হিমাচলি বোনাফাইড সার্টিফিকেট (স্থায়ী বাসিন্দার প্রমাণপত্র)

  • দশম শ্রেণী থেকে শুরু করে পূর্ববর্তী সব বছরের মার্কশিট

  • সর্বশেষ ব্যাংক স্টেটমেন্ট (শিক্ষার্থীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টের)

শিক্ষাগত নথি

  • ১০+২ পরীক্ষার মার্কশিট ও সার্টিফিকেট

  • বর্তমান কোর্সে ভর্তির প্রমাণপত্র

  • প্রতিষ্ঠান থেকে বোনাফাইড সার্টিফিকেট

নথি জমার পদ্ধতি

সমস্ত নথি স্ক্যান করে অনলাইন আবেদনের সময় আপলোড করতে হবে। নথির পিডিএফ ফরম্যাট এবং ফটোগ্রাফ জেপিজি/জেপিইজি ফরম্যাটে হতে হবে। প্রতিটি নথির সর্বোচ্চ সাইজ সীমা পোর্টালে উল্লেখ করা থাকে।

বৃত্তি পুনর্নবীকরণ প্রক্রিয়া

এই বৃত্তি একবার প্রদানের পর ডিগ্রি, ডিপ্লোমা বা সার্টিফিকেট কোর্স সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত প্রতি বছর পুনর্নবীকরণযোগ্য।

পুনর্নবীকরণের শর্তাবলী

  • শিক্ষার্থীর কোনো পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়া যাবে না

  • প্রতি বছর সন্তোষজনক একাডেমিক পারফরম্যান্স বজায় রাখতে হবে

  • ১০+১ শ্রেণী বা প্রথম বর্ষের অভ্যন্তরীণ পরীক্ষায় সন্তোষজনক ফলাফলের ভিত্তিতে ১০+২ শ্রেণী বা দ্বিতীয় বর্ষে পুনর্নবীকরণ হবে

  • নিয়মিত উপস্থিতি বজায় রাখতে হবে

  • প্রতিবছর পুনর্নবীকরণের জন্য পুনরায় আবেদন করতে হবে

পুনর্নবীকরণ প্রক্রিয়া

পুনর্নবীকরণের জন্য শিক্ষার্থীকে প্রতি বছর পোর্টালে লগইন করে পূর্ববর্তী বছরের মার্কশিট এবং বর্তমান বছরের ভর্তির প্রমাণপত্র আপলোড করতে হবে। প্রতিষ্ঠানিক যাচাইকরণের পর বৃত্তি পুনর্নবীকরণ করা হয়।

নির্বাচন প্রক্রিয়া

কল্পনা চাওলা ছাত্রবৃত্তি যোজনার নির্বাচন সম্পূর্ণরূপে মেরিট ভিত্তিক।

মেরিট তালিকা প্রস্তুতি

হিমাচল প্রদেশ শিক্ষা বোর্ড ১০+২ পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে তিনটি শাখার (বিজ্ঞান, কলা ও বাণিজ্য) জন্য আলাদা মেরিট তালিকা প্রস্তুত করে। প্রতিটি শাখার পাসিং রেশিও অনুসারে ২০০০ জন ছাত্রী নির্বাচিত হন।

যাচাইকরণ প্রক্রিয়া

অনলাইন আবেদন জমা দেওয়ার পর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান নথিপত্র যাচাই করেন এবং অনলাইনে অনুমোদন দেন। তারপর ডেপুটি ডিরেক্টর অফ হায়ার এডুকেশন (DDHE) বা শিক্ষা অধিদপ্তর চূড়ান্ত যাচাইকরণ সম্পন্ন করেন।

চূড়ান্ত নির্বাচন

সমস্ত যাচাইকরণ সম্পন্ন হওয়ার পর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয় এবং নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে বৃত্তির টাকা স্থানান্তর করা হয়।

অর্থ প্রদান পদ্ধতি

বৃত্তির টাকা সরাসরি শিক্ষার্থীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ডিরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার (DBT) পদ্ধতিতে স্থানান্তর করা হয়।

DBT প্রক্রিয়া

  • শিক্ষার্থীর আধার কার্ড ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সাথে লিঙ্ক থাকতে হবে

  • চূড়ান্ত অনুমোদনের পর সরাসরি অ্যাকাউন্টে টাকা জমা হয়

  • কোনো মধ্যস্থতাকারী ছাড়াই শিক্ষার্থী সরাসরি অর্থ প্রাপ্ত হন

  • এই পদ্ধতি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে

অর্থ প্রদানের সময়সূচি

সাধারণত প্রতি বছরের ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাসে বৃত্তির প্রথম কিস্তি এবং মার্চ-এপ্রিল মাসে দ্বিতীয় কিস্তি প্রদান করা হয়। তবে এটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এবং তহবিল বরাদ্দের উপর নির্ভর করে।

প্রকল্পের সুবিধা ও প্রভাব

কল্পনা চাওলা ছাত্রবৃত্তি যোজনা হিমাচল প্রদেশের নারী শিক্ষায় উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেছে।

শিক্ষার্থীদের জন্য প্রত্যক্ষ সুবিধা

  • বার্ষিক ১৫,০০০-১৮,০০০ টাকা আর্থিক সহায়তা

  • উচ্চশিক্ষায় বাধামুক্ত প্রবেশাধিকার

  • আর্থিক চাপ হ্রাস এবং শিক্ষায় মনোনিবেশের সুযোগ

  • কোর্স সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন সহায়তা

সামাজিক প্রভাব

প্রকল্পটি চালু হওয়ার পর থেকে হিমাচল প্রদেশে উচ্চশিক্ষায় মেয়েদের নথিভুক্তির হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষত গ্রামীণ ও অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল পরিবারের মেয়েরা এই প্রকল্পের মাধ্যমে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাচ্ছে। প্রতি বছর ২০০০ জন মেধাবী ছাত্রী এই সহায়তা পাওয়ায় প্রকল্পটি রাজ্যের শিক্ষা ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

হিমাচল প্রদেশের অন্যান্য বৃত্তি প্রকল্পের সাথে তুলনা

হিমাচল প্রদেশ সরকার শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন ধরনের বৃত্তি প্রকল্প পরিচালনা করে।

বৃত্তি প্রকল্প লক্ষ্য গোষ্ঠী সংখ্যা বার্ষিক পরিমাণ
কল্পনা চাওলা ছাত্রবৃত্তি মেধাবী ছাত্রী (সকল শ্রেণী) ২০০০ ১৫,০০০ টাকা
ডঃ আম্বেদকর মেধাবী ছাত্রবৃত্তি তফসিলি জাতি শিক্ষার্থী ১২৫০ ১২,০০০ টাকা
মেধাবী ছাত্রবৃত্তি (OBC) অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণী ১০০০ ১০,০০০ টাকা
ইন্দিরা গান্ধী উৎকৃষ্ট ছাত্রবৃত্তি শীর্ষ পারফরমাররা ৩০ ১০,০০০ টাকা

এই তুলনা থেকে দেখা যাচ্ছে যে কল্পনা চাওলা ছাত্রবৃত্তি যোজনা সবচেয়ে বেশি সংখ্যক শিক্ষার্থীকে সহায়তা প্রদান করে এবং বৃত্তির পরিমাণও তুলনামূলকভাবে বেশি।

সাধারণ সমস্যা ও সমাধান

আবেদন প্রক্রিয়ার সময় শিক্ষার্থীরা কিছু সাধারণ সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন।

প্রযুক্তিগত সমস্যা

সমস্যা: পোর্টালে লগইন করতে সমস্যা বা নথি আপলোড করতে ব্যর্থতা
সমাধান: ব্রাউজার ক্যাশ ক্লিয়ার করুন, ভিন্ন ব্রাউজার ব্যবহার করুন বা হেল্পলাইনে যোগাযোগ করুন

নথিপত্র সংক্রান্ত সমস্যা

সমস্যা: বোনাফাইড সার্টিফিকেট বা অন্যান্য নথি প্রাপ্তিতে দেরি
সমাধান: যত দ্রুত সম্ভব তহশিলদার অফিসে আবেদন করুন এবং আবেদনের সময়সীমা মাথায় রেখে পূর্ব থেকে প্রস্তুতি নিন

যাচাইকরণ সংক্রান্ত সমস্যা

সমস্যা: প্রতিষ্ঠান কর্তৃক যাচাইকরণে বিলম্ব
সমাধান: প্রতিষ্ঠানের প্রধানের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখুন এবং প্রয়োজনে উচ্চতর কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করুন

গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ তথ্য

অফিসিয়াল ওয়েবসাইট

  • জাতীয় বৃত্তি পোর্টাল: scholarships.gov.in

  • হিমাচল প্রদেশ ইপাস: hpepass.cgg.gov.in

  • মাই স্কিম পোর্টাল: myscheme.gov.in

হেল্পলাইন

শিক্ষার্থীরা যেকোনো সমস্যার জন্য জাতীয় বৃত্তি পোর্টালের হেল্পলাইন নম্বরে যোগাযোগ করতে পারেন অথবা হিমাচল প্রদেশ শিক্ষা অধিদপ্তরে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন।

ভবিষ্যতের পরিকল্পনা ও সম্প্রসারণ

হিমাচল প্রদেশ সরকার এই বৃত্তি প্রকল্পের সম্প্রসারণ এবং আরও উন্নত করার পরিকল্পনা করছে। সম্ভাব্য পরিবর্তনগুলির মধ্যে রয়েছে বৃত্তির পরিমাণ বৃদ্ধি, আরও বেশি সংখ্যক শিক্ষার্থীকে অন্তর্ভুক্ত করা এবং আবেদন প্রক্রিয়াকে আরও সহজ করা।

সফলতার গল্প

প্রকল্পটি চালু হওয়ার পর থেকে হাজার হাজার মেয়ে উচ্চশিক্ষা সম্পূর্ণ করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সফল ক্যারিয়ার গড়েছে। প্রকল্পের সুবিধাভোগীরা ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, শিক্ষক, প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং অন্যান্য পেশায় নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছেন। এই সফলতাগুলি প্রকল্পের কার্যকারিতা এবং এর সামাজিক প্রভাবের প্রমাণ।

কল্পনা চাওলা ছাত্রবৃত্তি যোজনা হিমাচল প্রদেশ সরকারের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রশংসনীয় উদ্যোগ যা মেধাবী ছাত্রীদের উচ্চশিক্ষার পথকে সুগম করছে। ২০১২-১৩ সাল থেকে চলমান এই প্রকল্প প্রতি বছর ২০০০ জন ছাত্রীকে বার্ষিক ১৫,০০০ টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করে তাদের স্বপ্ন পূরণে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া, স্বচ্ছ নির্বাচন পদ্ধতি এবং সরাসরি ব্যাংক ট্রান্সফার ব্যবস্থা এই প্রকল্পকে আরও কার্যকর এবং জবাবদিহিমূলক করে তুলেছে। মেধা ভিত্তিক এই বৃত্তি শুধুমাত্র আর্থিক সহায়তা প্রদান করে না, বরং মেয়েদের শিক্ষার প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনেও অবদান রাখছে। হিমাচল প্রদেশের মেধাবী ছাত্রীদের জন্য এটি একটি সুবর্ণ সুযোগ এবং তাদের উচিত যথাসময়ে আবেদন করে এই সুবিধা গ্রহণ করা। প্রকল্পটি ভারতের অন্যান্য রাজ্যের জন্যও একটি অনুকরণীয় মডেল হিসেবে বিবেচিত হতে পারে যেখানে নারী শিক্ষার প্রসার এবং লিঙ্গ সমতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এই ধরনের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে।

About Author
Riddhi Datta

ঋদ্ধি দত্ত কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়নবিদ্যায় স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তিনি একজন উদীয়মান বিজ্ঞান লেখক ও গবেষক, যিনি জটিল বৈজ্ঞানিক ধারণাগুলিকে সাধারণ পাঠকদের জন্য সহজবোধ্য করে তোলেন। তাঁর লেখায় রসায়ন, পরিবেশ বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তির সমসাময়িক বিষয়গুলি প্রাধান্য পায়। ঋদ্ধি নিয়মিতভাবে এই ওয়েবসাইটে বিজ্ঞান-ভিত্তিক প্রবন্ধ, গবেষণা সারসংক্ষেপ এবং বিশেষজ্ঞদের সাক্ষাৎকার প্রকাশ করেন।

আরও পড়ুন