গৃহবধূ থেকে রাষ্ট্রক্ষমতার শীর্ষে: খালেদা জিয়ার উত্থানের রাজনৈতিক পটভূমি

বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে খালেদা জিয়া এমন এক নাম, যাঁর উত্থান কেবল ব্যক্তিগত জীবনের নাটকীয় বাঁকবদলের গল্প নয়—এটি একই সঙ্গে স্বাধীনতা-পরবর্তী রাষ্ট্রগঠনের টানাপোড়েন, সামরিক শাসনবিরোধী গণআন্দোলন, দলীয় সংগঠন নির্মাণ, এবং দীর্ঘদিনের…

Avatar

 

বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে খালেদা জিয়া এমন এক নাম, যাঁর উত্থান কেবল ব্যক্তিগত জীবনের নাটকীয় বাঁকবদলের গল্প নয়—এটি একই সঙ্গে স্বাধীনতা-পরবর্তী রাষ্ট্রগঠনের টানাপোড়েন, সামরিক শাসনবিরোধী গণআন্দোলন, দলীয় সংগঠন নির্মাণ, এবং দীর্ঘদিনের দ্বিদলীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতারও প্রতিচ্ছবি। ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর তিনি ৮০ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন—একটি দীর্ঘ অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটলেও, তাঁর জীবনের “গৃহবধূ থেকে জাতীয় নেতা” হয়ে ওঠার পথচলা বাংলাদেশের রাজনৈতিক সমাজতত্ত্ব বোঝার জন্য আজও গুরুত্বপূর্ণ।

খালেদা জিয়ার শৈশব-কৈশোর কাটে তৎকালীন ভারতীয় উপমহাদেশের সামাজিক-সাংস্কৃতিক রূপান্তরের ভেতর দিয়ে। তিনি মূলত এক মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে আসেন, পড়াশোনার সঙ্গে যুক্ত থাকলেও তাঁর পরিচিতি তখন “রাজনীতিক” নয়, বরং এক ঘরোয়া জীবনের মানুষ হিসেবে। ১৯৫৯/১৯৬০ সালের দিকে জিয়াউর রহমানের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়—যিনি পরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও রাষ্ট্রক্ষমতার রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।এই বিয়ের পর দীর্ঘ সময় খালেদা জিয়া ছিলেন মূলত পারিবারিক পরিসরের মানুষ—সন্তান, পরিবার, সামাজিক সম্পর্ক—এসবই ছিল তাঁর পরিচয়ের কেন্দ্র। “গৃহবধূ” শব্দটি এখানে শুধু একটি ভূমিকা নয়; সে সময় বাংলাদেশের মতো সমাজে রাজনীতির মঞ্চে নারীর দৃশ্যমান উপস্থিতি সীমিত ছিল, আর সেনা কর্মকর্তা/রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের স্ত্রী হিসেবে ‘প্রকাশ্য রাজনীতির বাইরে’ থাকা ছিল অনেকটাই প্রত্যাশিত সামাজিক আচরণ।

Union Budget 2025: মধ্যবিত্ত থেকে কৃষক, বাজেটে কী কী বললেন নির্মলা সীতারামন?

তবে এই ঘরোয়া পরিচয়ের মধ্যেও একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা কাজ করেছিল—রাষ্ট্রক্ষমতার কেন্দ্রের কাছে থেকে রাজনৈতিক ভাষা, রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা, এবং ক্ষমতার কৌশল সম্পর্কে ধারণা তৈরি হওয়া। জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর তিনি ফার্স্ট লেডি হিসেবে জাতীয় পর্যায়ে দৃশ্যমান হন। অনেক সময় রাজনীতিতে “অদৃশ্য অভিজ্ঞতা” বড় সম্পদ হয়ে ওঠে—কারও জনসমক্ষে বক্তব্য দেওয়ার অভ্যাস না থাকলেও রাষ্ট্রযন্ত্র কীভাবে চলে, কারা প্রভাবশালী, কোন ইস্যু জনমনে দাগ কাটে—এসব বোঝা তৈরি হয় কাছ থেকে দেখার মাধ্যমে। খালেদা জিয়ার ক্ষেত্রেও এই পর্যবেক্ষণ পর্বটি পরে তাঁর রাজনৈতিক অভিযাত্রায় নীরব ভিত্তি তৈরি করে।

তারপর আসে জীবন বদলে দেওয়া ট্র্যাজেডি। ১৯৮১ সালের ৩০ মে জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের শিকার হন।এই ঘটনাটি খালেদা জিয়াকে এক মুহূর্তে “রাষ্ট্রপতির স্ত্রী” থেকে “রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা বিধবা”তে পরিণত করে। দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক ইতিহাসে দেখা যায়—কিছু ক্ষেত্রে নেতৃত্ব উত্তরাধিকারসূত্রে গড়ে ওঠে, বিশেষত যখন কোনো দলের প্রতিষ্ঠাতা বা শক্তিশালী নেতা আকস্মিকভাবে সরে যান। কিন্তু উত্তরাধিকার শুধু নাম নয়; দলকে ধরে রাখা, কর্মীদের মনোবল জাগানো, প্রতিদ্বন্দ্বীদের মোকাবিলা করা—এগুলো বাস্তব নেতৃত্বের পরীক্ষা। খালেদা জিয়ার ক্ষেত্রে ‘শোক’ দ্রুতই ‘রাজনৈতিক দায়িত্ববোধে’ রূপ নেয়—এটাই তাঁর গৃহবধূ-পরিচয় ভাঙার প্রথম বড় ধাপ।

জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর বাংলাদেশের রাজনীতি দ্রুত অস্থির হয়ে ওঠে; পরবর্তী সময়ে হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের সামরিক শাসনের (১৯৮২ সালের পর) বিরুদ্ধে দেশজুড়ে বিরোধী আন্দোলন জমে ওঠে। এ পর্যায়ে খালেদা জিয়া বিএনপিতে সক্রিয় হন এবং ধীরে ধীরে দলীয় নেতৃত্বে উঠে আসেন। বিভিন্ন সূত্র অনুযায়ী তিনি ১৯৮৪ সালে বিএনপির চেয়ারপারসন হন।এখানে তাঁর উত্থানের একটি বড় কৌশল ছিল—দলীয় কর্মীদের কাছে “শহীদ রাষ্ট্রপতির পরিবার” হওয়া যেমন আবেগের জায়গা তৈরি করেছিল, তেমনি তিনি রাজপথের আন্দোলনেও দৃশ্যমান হয়ে উঠেছিলেন। সামরিক শাসনের বিরোধিতায় সমমনা দলগুলোর সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে অংশ নেওয়া তাঁর ‘প্রতীকী অবস্থান’কে ‘রাজনৈতিক সক্ষমতা’র সঙ্গে যুক্ত করে দেয়।

গৃহবধূ হিসেবে যে ব্যক্তিকে সাধারণ মানুষ অনেকটাই নীরব, অন্তর্মুখী এবং আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ ভাবতে অভ্যস্ত ছিল, রাজপথের রাজনীতিতে তাঁকে অন্যভাবে নির্মাণ করা শুরু হয়—তিনি হয়ে ওঠেন “গণতন্ত্র ফেরানোর আন্দোলনের” এক মুখ। গণআন্দোলনে নেতৃত্ব মানেই কেবল বক্তৃতা নয়; এটি সংগঠন, জোটের সমঝোতা, ধর্মঘট-অবরোধের মতো কৌশলগত সিদ্ধান্ত, এবং সহিংস রাজনৈতিক পরিবেশে টিকে থাকার দক্ষতাও। এরশাদবিরোধী আন্দোলনে বিরোধী শক্তিগুলোর একত্র হওয়া, পরবর্তী সময়ে এরশাদের পতন—এসব প্রক্রিয়ায় খালেদা জিয়ার অবস্থান দৃঢ় হয়।

বাম কাতে ঘুমানো কেন আপনার সকল সমস্যার সমাধান!

১৯৯১ সাল ছিল তাঁর রাজনৈতিক জীবনের প্রথম ‘ক্ষমতার শীর্ষে পৌঁছানো’ মুহূর্ত। ২৭ ফেব্রুয়ারি ১৯৯১ সালের নির্বাচনের পর তিনি ২০ মার্চ বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। এই ঘটনাটি শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়—মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ একটি দেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচিত নারী সরকারপ্রধান হিসেবে তাঁর উত্থান আন্তর্জাতিকভাবেও আলোচিত হয়। তাঁর প্রথম মেয়াদে রাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থায় একটি বড় পরিবর্তন আসে—সংসদীয় ব্যবস্থায় প্রত্যাবর্তনের প্রক্রিয়া, সংবিধানের ১২তম সংশোধনী (১৯৯১ সালের আগস্ট) দিয়ে প্রেসিডেন্সিয়াল শাসন থেকে সংসদীয় ব্যবস্থার দিকে রাষ্ট্রকে ফেরানো—এসব সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের সাংবিধানিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ।

এই পর্যায়ে খালেদা জিয়ার “গৃহবধূ থেকে নেতা” হয়ে ওঠার গল্পের আরেকটি দিক স্পষ্ট হয়—তিনি কেবল আবেগ-উত্তরাধিকারের জোরে ক্ষমতায় যাননি; বরং সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক কাঠামো পুনর্বিন্যাসের মতো বড় সিদ্ধান্তে তাঁর নেতৃত্বের ছাপ ছিল। একই সঙ্গে, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের বিকাশ, অর্থনীতি, শিক্ষা—এগুলো নিয়ে তাঁর সরকারের নানা উদ্যোগের কথাও আলোচিত হয়। তবে বাংলাদেশের মতো রাজনৈতিকভাবে মেরুকৃত দেশে কোনো সরকারের কাজই একমাত্রিকভাবে মূল্যায়িত হয় না—সমর্থকেরা উন্নয়ন ও রাষ্ট্রীয় স্থিতি জোরালো করার কথা বলেন, সমালোচকেরা প্রশাসনিক দলীয়করণ, বিরোধী দমন, এবং সংঘাতমুখী রাজনীতির অভিযোগ তুলে থাকেন।

খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবনের একটি স্থায়ী বৈশিষ্ট্য ছিল শেখ হাসিনার সঙ্গে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা—যাকে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বহুবার “বাটলিং বেগমস” ধরনের উপমায় বোঝানো হয়েছে। এই দ্বিদলীয় দ্বন্দ্ব একদিকে নির্বাচন, রাজপথ, সংসদ—সব জায়গায় প্রতিযোগিতাকে তীব্র করেছে; অন্যদিকে দীর্ঘদিনের হরতাল-অবরোধ, সংঘাত, এবং পারস্পরিক অবিশ্বাস বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিকে বারবার সংকটে ফেলেছে—এমন মূল্যায়নও রয়েছে। অনেক বিশ্লেষকের মতে, এই প্রতিদ্বন্দ্বিতাই বাংলাদেশের রাজনীতিকে ‘নীতিনির্ভর বিতর্ক’ থেকে অনেক সময় ‘ব্যক্তিকেন্দ্রিক ক্ষমতার লড়াই’তে ঠেলে দিয়েছে।

২০০১ সালে তিনি আবার ক্ষমতায় ফেরেন—বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করে এবং তিনি অক্টোবর ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।এই মেয়াদ নিয়ে বিতর্কও কম নয়। সমালোচকেরা বলেন, এই সময় দুর্নীতি ও জঙ্গিবাদের উত্থান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে; কিছু সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও আলোচনা হয়।অন্যদিকে সমর্থকেরা বলেন, উন্নয়ন প্রকল্প, অবকাঠামো, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি এবং দলীয় ভিত্তি সম্প্রসারণ—এসব ক্ষেত্রেও সরকার সক্রিয় ছিল। বাস্তবে, একটি রাজনৈতিক নেতৃত্বের মূল্যায়ন অনেকাংশেই নির্ভর করে আপনি কোন প্রেক্ষাপট থেকে দেখছেন—রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা, অধিকার-স্বাধীনতা, নিরাপত্তা, অর্থনীতি—প্রতিটি সূচকের ওজন ভিন্ন হওয়ায় একই মেয়াদকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করা যায়।

২০০৬-এর পর রাজনৈতিক সংকট এবং পরবর্তী সময়ে তত্ত্বাবধায়ক/অন্তর্বর্তী শাসনব্যবস্থা ঘিরে বাংলাদেশের রাজনীতি নতুন মোড় নেয়। এরপর দীর্ঘ সময় খালেদা জিয়াকে বিরোধী নেতৃত্ব হিসেবে দেখা যায়; তিনি দলকে ধরে রাখার চেষ্টা করেন, কিন্তু বয়স, অসুস্থতা, মামলা-মোকদ্দমা এবং রাজনৈতিক চাপ তাঁর সক্রিয়তা সীমিত করে দেয়। তিনি দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হন—বিশেষ করে ২০১৮ সালের একটি মামলায় দণ্ডের বিষয়টি বহুল আলোচিত হয়।সমর্থকদের বক্তব্য ছিল এগুলো রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত; রাষ্ট্রপক্ষ এবং তাঁর বিরোধীরা বলতেন আইনের শাসনের অংশ। এ অবস্থানগত দ্বন্দ্বই বাংলাদেশের রাজনীতির একটি বড় বাস্তবতা—আইন, রাজনীতি এবং জনমত প্রায়ই একই ঘটনায় ভিন্ন পাঠ তৈরি করে।

শেষ জীবনে তাঁর স্বাস্থ্যজটিলতা বড় হয়ে ওঠে। সংবাদ সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী তিনি দীর্ঘদিন নানা অসুস্থতায় ভুগছিলেন এবং চিকিৎসাধীন ছিলেন। ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর তাঁর মৃত্যু সেই দীর্ঘ শারীরিক ভোগান্তিরই পরিসমাপ্তি ঘটায়।মৃত্যুর দিনটি রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল সময়েও আসে—বাংলাদেশের রাজনীতি তখনও মেরুকৃত, ভবিষ্যৎ পথচলা নিয়ে নানা অনিশ্চয়তা ও নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছিল—এমন প্রেক্ষাপট বহু প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

তাঁর “গৃহবধূ থেকে নেতা” হয়ে ওঠার যাত্রা তাই কেবল ব্যক্তিগত সাহস বা আকস্মিক ভাগ্যবদলের গল্প নয়। এটি দেখায় কীভাবে রাজনৈতিক উত্তরাধিকার, সামাজিক প্রত্যাশা, সংগঠন নির্মাণ, এবং রাষ্ট্রের বড় সংকটগুলো একটি ব্যক্তিকে বদলে দেয়—এবং বদলে যাওয়া সেই ব্যক্তি আবার রাষ্ট্রের ইতিহাসকে প্রভাবিত করেন। খালেদা জিয়া এমন এক ধারার প্রতিনিধিত্ব করেন যেখানে নেতৃত্ব গড়ে ওঠে শোকের অভিজ্ঞতা থেকে, শক্তি সঞ্চয় হয় আন্দোলনের ভেতর দিয়ে, আর ক্ষমতা টিকে থাকে দলীয় কাঠামো ও প্রতিদ্বন্দ্বিতার কঠিন বাস্তবতায়। তিনি সমালোচিত হয়েছেন, প্রশংসিত হয়েছেন, বিতর্কের কেন্দ্রেও থেকেছেন—কিন্তু এটিই সত্য যে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে তাঁর উত্থান নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণের দৃশ্যমানতার প্রশ্নে এক শক্তিশালী নজির রেখে গেছে।

যে নারী একসময় ঘরের চার দেয়ালের ভেতর জীবন সাজিয়েছিলেন, তিনি শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রক্ষমতার শীর্ষে পৌঁছে দেশের শাসনব্যবস্থা ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির ওপর স্থায়ী ছাপ ফেলেছেন—এই রূপান্তর শুধু একজন ব্যক্তির অর্জন নয়; এটি বাংলাদেশের সমাজ, রাজনীতি ও ইতিহাসেরও প্রতিচ্ছবি।

About Author
Avatar

বাংলাদেশ প্রতিনিধি থেকে সঠিক ও নির্ভরযোগ্য খবর পেতে আমাদের সংবাদ ওয়েবসাইট দেখুন। তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের বিস্তারিত জানুন।

আরও পড়ুন