কবর জিয়ারতের দোয়া: সঠিক নিয়ম, ফজিলত ও হাদিসের আলোকে বিস্তারিত জানুন

কবর জিয়ারত ইসলামে একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত ইবাদত যা মৃত্যু এবং পরকালের কথা স্মরণ করিয়ে দেয় । প্রিয়নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) নিয়মিত কবরস্থান জিয়ারত করতেন এবং মৃতদের জন্য বিশেষ দোয়া পড়তেন…

Avatar

 

কবর জিয়ারত ইসলামে একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত ইবাদত যা মৃত্যু এবং পরকালের কথা স্মরণ করিয়ে দেয় । প্রিয়নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) নিয়মিত কবরস্থান জিয়ারত করতেন এবং মৃতদের জন্য বিশেষ দোয়া পড়তেন । এই ইবাদতের মাধ্যমে একদিকে যেমন কবরবাসীরা উপকৃত হন, তেমনি জিয়ারতকারী নিজেও মৃত্যু ও আখিরাতের কথা স্মরণ করে দুনিয়াবিমুখ হওয়ার সুযোগ পান ।

কবর জিয়ারতের প্রধান দোয়া

রাসুলুল্লাহ (সা.) থেকে বর্ণিত প্রামাণিক হাদিসে কবর জিয়ারতের জন্য বেশ কয়েকটি দোয়া পাওয়া যায় । আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) মদিনার কবরবাসীর পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় নিম্নোক্ত দোয়া পাঠ করতেন:

আরবি দোয়া:
السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ يَا أَهْلَ الْقُبُورِ يَغْفِرُ اللَّهُ لَنَا وَلَكُمْ أَنْتُمْ سَلَفُنَا وَنَحْنُ بِالأَثَرِ

বাংলা উচ্চারণ: আসসালামু আলাইকুম ইয়া আহলাল কুবুর; ইয়াগফিরুল্লাহু লানা ওয়ালাকুম, আনতুম সালাফুনা ওয়া নাহনু বিল আসার ।

বাংলা অর্থ: হে কবরবাসী! তোমাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। আল্লাহ আমাদের ও তোমাদের ক্ষমা করুন, তোমরা আমাদের আগে কবরে গিয়েছ এবং আমরা পরে আসছি ।

হাদিস সূত্র: সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ১০৫৩ ।

সহিহ মুসলিম শরিফে বর্ণিত দোয়া

হজরত আয়েশা (রা.) বর্ণিত হাদিস অনুযায়ী, রাসুলুল্লাহ (সা.) কবরস্থানে যাওয়ার সময় নিম্নোক্ত দোয়া পড়তেন:

আরবি দোয়া:
السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ أَهْلَ الدِّيَارِ، مِنَ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُسْلِمِينَ، وَإِنَّا إِنْ شَاءَ اللَّهُ بِكُمْ لاَحِقُونَ، أَسْاَلُ اللَّهَ لَنَا وَلَكُمُ الْعَافِيَةَ

বাংলা উচ্চারণ: আসসালামু আলাইকুম আহলাদ্দিয়ারি মিনাল মুমিনিনা ওয়াল মুসলিমিনা, ওয়া ইন্না ইনশাআল্লাহু বিকুম লাহিকুন, আসআলুল্লাহা লানা ওয়ালাকুমুল আফিয়াহ ।

বাংলা অর্থ: হে গৃহসমূহের অধিবাসী মুমিন ও মুসলিমগণ! তোমাদের প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক। আর নিশ্চয় আমরা ইনশাআল্লাহ আপনাদের সাথে মিলিত হবো। আমি আল্লাহর নিকট আমাদের জন্য এবং তোমাদের জন্য নিরাপত্তা প্রার্থনা করি ।

হাদিস সূত্র: সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৪৯ এবং ৯৭৫; ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১৫৪৭ ।​ 

রোগ মুক্তির দোয়া: জেনে নিন কোরআন-হাদিসের পরীক্ষিত আমলসমূহ

বুরাইদা (রা.) বর্ণিত পূর্ণ দোয়া

বুরাইদা (রা.) এবং আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসের সমন্বিত দোয়া:

আরবি দোয়া:
السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ أَهْلَ الدِّيَارِ، مِنَ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُسْلِمِينَ، وَإِنَّا إِنْ شَاءَ اللَّهُ بِكُمْ لاَحِقُونَ، وَيَرْحَمُ اللَّهُ الْمُسْتَقدِمِينَ مِنَّا وَالْمُسْتأْخِرِينَ، أَسْاَلُ اللَّهَ لَنَا وَلَكُمُ الْعَافِيَةَ

বাংলা উচ্চারণ: আসসালামু আলাইকুম আহলাদ্দিয়ারি মিনাল মুমিনিনা ওয়াল মুসলিমিনা, ওয়া ইন্না ইনশাআল্লাহু বিকুম লাহিকুন, ওয়া ইয়ারহামুল্লাহুল মুসতাক্বদিমিনা মিন্না ওয়াল মুসতাখিরিনা, আসআলুল্লাহা লানা ওয়ালাকুমুল আফিয়াহ ।

বাংলা অর্থ: হে গৃহসমূহের অধিবাসী মুমিন ও মুসলিমগণ! তোমাদের প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক। আর নিশ্চয় আমরা ইনশাআল্লাহ আপনাদের সাথে মিলিত হবো। আল্লাহ আমাদের পূর্ববর্তীদের এবং পরবর্তীদের প্রতি দয়া করুন। আমি আল্লাহর নিকট আমাদের জন্য এবং তোমাদের জন্য নিরাপত্তা প্রার্থনা করি ।

হাদিস সূত্র: সহিহ মুসলিম ২/৬৭১, হাদিস: ৯৭৫; ইবন মাজাহ ১/৪৯৪, হাদিস: ১৫৪৭ ।

কবর জিয়ারতের সঠিক পদ্ধতি

কবরস্থানে প্রবেশ করে সঠিকভাবে জিয়ারত করার জন্য নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম মেনে চলা উচিত । প্রথমে কবরস্থানে পৌঁছে জিয়ারতের দোয়া পড়তে হয় । এরপর কবরবাসীর ইসালে সওয়াবের নিয়তে দরুদ শরিফ, সুরা ফাতিহা এবং পবিত্র কোরআনের বিভিন্ন সুরা তিলাওয়াত করতে হয় ।

মৃত ব্যক্তি বা কবরবাসীর মাগফিরাতের জন্য বিশেষভাবে দোয়া করতে হয় । প্রিয় আত্মীয়ের সুনির্দিষ্ট কবরে গেলেও শুধু একজনের জন্য নয়, বরং সকল মুসলিম কবরবাসীর জন্য দোয়া করতে হয় । শবে বরাত ও দুই ঈদের দিনে অনেকে পারিবারিক সদস্যদের নিয়ে কবর জিয়ারত করতে আসেন ।

মৃত ব্যক্তির জন্য বিশেষ দোয়া

কবর জিয়ারতে গিয়ে মৃত ব্যক্তির জন্য নিম্নোক্ত দোয়া পড়া যায়:

আরবি দোয়া:
اللَّهُمَّ اغْفِرْ لَهُ وَارْحَمْهُ وَعَافِهِ وَاعْفُ عَنْهُ

বাংলা উচ্চারণ: আল্লাহুম্মাগফির লাহু ওয়ারহামহু ওয়া আফিহি ওয়া’ফু আনহু।

বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ, তাকে ক্ষমা করে দিন, তার ওপর করুণা করুন, তাকে শক্তি দিন এবং তাকে রেহাই দিন ।

দাফনের সময় পড়া দোয়া

মৃত ব্যক্তিকে কবরে রাখার সময় নবী করিম (সা.) নিম্নোক্ত দোয়া পড়তেন:

আরবি: اللَّهُمَّ اغْفِرْ لَهُ، اللَّهُمَّ ثَبِّتْهُ

বাংলা উচ্চারণ: আল্লাহুম্মাগফির লাহু, আল্লাহুম্মা সাব্বিতহু।

বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ, তাকে ক্ষমা করুন। হে আল্লাহ, তাকে (কবরে প্রশ্নের সময়) দৃঢ়তা দান করুন ।

কবর জিয়ারতের ফজিলত ও উপকারিতা

কবর জিয়ারত অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ একটি ইবাদত । এই ইবাদতের মাধ্যমে কবরবাসীরা যেমন উপকৃত হন, তার চেয়েও বেশি উপকৃত হন জিয়ারতকারী নিজে । রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রথমে জাহেলি যুগের কবর পূজার প্রতি ঘৃণা সৃষ্টির জন্য কবর জিয়ারত নিষিদ্ধ করেছিলেন । পরবর্তীতে যখন ঐ কুসংস্কার দূর হয়ে গেল, তখন তিনি কবর জিয়ারতের অনুমতি দিয়ে বলেছেন:

“আমি তোমাদের কবর জিয়ারত করতে নিষেধ করেছিলাম। এখন তোমরা কবর যিয়ারত করতে পার। কারণ তা দুনিয়ার মোহ দূর করে এবং আখিরাতকে মনে করিয়ে দেয়।”

হাদিস সূত্র: সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১৫৭১ ।

দোয়া কবুল না হওয়ার ৬টি গুরুত্বপূর্ণ কারণ – যা প্রত্যেক মুসলিমের জানা জরুরি

জিয়ারতকারীর জন্য বিশেষ উপকারিতা

  • মৃত্যু ও আখিরাতের কথা স্মরণ হয়

  • হৃদয় বিগলিত ও নয়ন অশ্রুসিক্ত হয়

  • গুনাহ থেকে তওবা করার প্রেরণা পাওয়া যায়

  • দুনিয়াবিমুখতা সৃষ্টি হয়

  • পরকালের জীবন সুন্দরভাবে সাজানোর সুযোগ মেলে

কবরবাসীর জন্য উপকার

জিয়ারতকারীর দোয়া ও ইসালে সওয়াব কবরবাসীর কাছে পৌঁছে এবং তারা উপকৃত হন । কবর জিয়ারতকালে কোরআন তিলাওয়াত, দরুদ শরিফ পাঠ এবং দোয়া করলে মৃত ব্যক্তির জন্য তা ইসালে সওয়াবের মাধ্যম হয় ।

কবর জিয়ারতের সময় ও বিশেষ দিনসমূহ

কবর জিয়ারতের জন্য ইসলামে কোনো নির্দিষ্ট সময়ের বিধিনিষেধ নেই । যেকোনো দিন যেকোনো সময় কবর জিয়ারত করা যায় । তবে জুমার দিন কবর জিয়ারত করলে জিয়ারতকারীর জন্য তা বিশেষ ক্ষমালাভের কারণ হয় ।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি প্রতি জুমায় তার মা-বাবা বা তাদের একজনের কবর জিয়ারত করবে, তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হবে এবং মা-বাবার সঙ্গে সদ্ব্যবহারকারীদের মধ্যে গণ্য করা হবে” । এছাড়া শবে বরাত ও দুই ঈদের দিনে অনেকে কবর জিয়ারত করে থাকেন ।

মহিলাদের কবর জিয়ারতের বিধান

মহিলাদের কবর জিয়ারত সম্পর্কে ইসলামি পণ্ডিতদের মধ্যে বিভিন্ন মতামত রয়েছে । হাদিস শরিফে প্রমাণ পাওয়া যায় যে, রাসুলুল্লাহ (সা.) একজন কবরে কাঁদতে থাকা মহিলাকে দেখে তাকে নিষেধ না করে বরং ধৈর্য ধারণ ও আল্লাহকে ভয় করার উপদেশ দিয়েছিলেন । এ থেকে বোঝা যায় যে মহিলাদের কবর জিয়ারত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ নয় ।

মহিলাদের জন্য শর্তাবলি

ইমাম নববী (রহ.) এর মতে, মহিলারা যদি বিলাপ ও অতিরিক্ত শোক প্রকাশ না করে কবর জিয়ারত করেন, তাহলে তা শুধুমাত্র মাকরুহ (অপছন্দনীয়) । বিশেষত বয়স্ক মহিলাদের ক্ষেত্রে যাদের নিয়ে কোনো ফিতনার আশঙ্কা নেই । মহিলাদের কবর জিয়ারতের সময় নিম্নোক্ত বিষয়গুলো মেনে চলা জরুরি:

  • সাজসজ্জা ও সুগন্ধি ব্যবহার না করা

  • ইসলামিক পোশাক মেনে চলা

  • নন-মাহরাম পুরুষদের সাথে মেলামেশা না করা

  • নির্জন কবরস্থানে গেলে মাহরামের সাথে যাওয়া

  • কবরস্থানে শান্ত থাকা এবং কান্নাকাটি বা বিলাপ না করা

কবর জিয়ারতে যা করবেন এবং যা করবেন না

কবর জিয়ারত একটি পবিত্র ইবাদত । এই ইবাদতে পূর্ণ সওয়াব পেতে হলে কিছু বিষয় মেনে চলা এবং কিছু বিষয় থেকে বিরত থাকা জরুরি।

যা করবেন

  • কবরস্থানে প্রবেশের সময় জিয়ারতের দোয়া পড়বেন

  • কবরবাসীদের জন্য ইসালে সওয়াবের নিয়তে কোরআন তিলাওয়াত করবেন

  • দরুদ শরিফ ও বিভিন্ন সুরা পড়বেন

  • সকল মুসলিম কবরবাসীর মাগফিরাতের জন্য দোয়া করবেন

  • শান্ত ও গম্ভীর পরিবেশ বজায় রাখবেন

  • মৃত্যু ও পরকালের কথা চিন্তা করবেন

যা করবেন না

  • কবরের উপর বসবেন না

  • জুতা পায়ে কবরের উপর দিয়ে হাঁটবেন না

  • কবরের পাশে উচ্চস্বরে কথা বলবেন না

  • কবরকে সেজদার স্থান বানাবেন না

  • অতিরিক্ত কান্নাকাটি বা বিলাপ করবেন না

  • কবরে ফুল-মালা বা অতিরিক্ত সাজসজ্জা করবেন না

ইসলামে কবর জিয়ারতের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

ইসলামের প্রাথমিক যুগে জাহেলি যুগের কবর পূজা এবং মূর্তি পূজার প্রভাব দূর করার জন্য রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রথমে কবর জিয়ারত নিষেধ করেছিলেন । যখন মুসলিমদের মধ্যে তাওহিদের বিশ্বাস দৃঢ় হয়ে গেল এবং শিরকি রীতিনীতি সম্পূর্ণভাবে দূর হল, তখন আল্লাহর রাসুল (সা.) কবর জিয়ারতের অনুমতি দিলেন । তিনি বলেন, “আমি তোমাদের কবর যিয়ারত করতে নিষেধ করেছিলাম, এখন তোমরা জিয়ারত কর” ।

রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজে নিয়মিত মদিনার বাকি কবরস্থান জিয়ারত করতেন । তিনি সাহাবাদেরও কবর জিয়ারতে উৎসাহিত করতেন কারণ এটি মানুষকে আখিরাতের কথা স্মরণ করিয়ে দেয় এবং দুনিয়ার প্রতি মোহ কমায় ।

কবর জিয়ারতের আধ্যাত্মিক তাৎপর্য

কবর জিয়ারত শুধুমাত্র একটি বাহ্যিক ইবাদত নয়, বরং এর গভীর আধ্যাত্মিক তাৎপর্য রয়েছে । বিশেষজ্ঞ আলেমদের মতে, জিয়ারতকারীদের আত্মা কবরবাসীদের আত্মা থেকে আলো ও রহস্যের প্রতিচ্ছবি লাভ করে । নেককার বান্দাদের কবর জিয়ারত করলে তাদের আচার-ব্যবহার ও কার্যকলাপের অনুসরণ করতে স্বাভাবিকভাবেই ইচ্ছা হয় ।

কবর মানুষকে মৃত্যুর অনিবার্যতা এবং পরকালীন জীবন তথা জান্নাত কিংবা জাহান্নামের কথা স্মরণ করিয়ে দেয় । এই স্মরণ মানুষকে পাপ থেকে বিরত থাকতে এবং নেক আমলে মনোযোগী হতে সাহায্য করে ।

বিশেষ ব্যক্তিদের কবর জিয়ারত

রাসুলুল্লাহ (সা.) এর রওজা মুবারক জিয়ারত করা সবচেয়ে বড় নেক আমল এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের মাধ্যম । নবী করিম (সা.) এর কবর জিয়ারত নিয়ে কোনো মতভেদ নেই, এটি অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ । আলেম, বুজুর্গ এবং নেক বান্দাদের কবর জিয়ারত করাও ইবাদত হিসেবে গণ্য ।

তাদের কবর জিয়ারত করলে দোয়া কবুল হওয়ার বরকত পাওয়া যায় এবং তাদের জীবনাদর্শ অনুসরণের প্রেরণা মেলে । ইসলামের ইতিহাসে সাহাবায়ে কেরাম, তাবেয়ীন এবং আওলিয়ায়ে কিরামের কবর জিয়ারতের জন্য দেশ-বিদেশে সফর করার বহু নজির রয়েছে ।

কবর জিয়ারতের সামাজিক গুরুত্ব

কবর জিয়ারত ইসলামি সমাজে একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ভূমিকা পালন করে । এর মাধ্যমে মৃত আত্মীয়-স্বজনের সাথে আধ্যাত্মিক সম্পর্ক বজায় থাকে এবং তাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা হয় । বিশেষত মা-বাবার কবর নিয়মিত জিয়ারত করা তাদের সাথে সদ্ব্যবহারের একটি অংশ ।

জুমার দিনে মা-বাবার কবর জিয়ারত করলে সন্তান বিশেষ ক্ষমা ও পুরস্কার লাভ করে । শবে বরাত ও ঈদের দিনগুলোতে পরিবারের সদস্যরা একসাথে কবরস্থানে গিয়ে মৃত আত্মীয়দের জন্য দোয়া করেন । এতে পারিবারিক বন্ধন মজবুত হয় এবং পরকালের প্রতি সচেতনতা বৃদ্ধি পায়।

সাধারণ ভুল-ভ্রান্তি থেকে বাঁচা

কবর জিয়ারতের ক্ষেত্রে কিছু সাধারণ ভুল-ভ্রান্তি লক্ষ্য করা যায়। অনেকে ছোটবেলা থেকে ভুল দোয়া শিখে আসেন এবং সহিহ হাদিসের দোয়া না জেনে সেই ভুল দোয়া দিয়ে কবর জিয়ারত করে থাকেন । এজন্য সহিহ হাদিসে বর্ণিত দোয়াগুলো সঠিকভাবে শিখে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি ।

কবরকে সেজদার স্থান বানানো, কবরের কাছে মানত করা, কবরবাসীর কাছে সরাসরি কিছু চাওয়া ইত্যাদি শিরকি কাজ যা সম্পূর্ণভাবে হারাম । কবর জিয়ারতের উদ্দেশ্য হচ্ছে মৃতদের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করা এবং নিজে মৃত্যু ও আখিরাতের কথা স্মরণ করা ।

কবর জিয়ারত ইসলামে একটি সুন্নত ইবাদত যা মৃত্যু ও পরকালের কথা স্মরণ করিয়ে মানুষকে দুনিয়াবিমুখ এবং আখিরাতমুখী করে তোলে । সঠিক নিয়মে দোয়া পড়ে এবং ইসলামি বিধি-বিধান মেনে কবর জিয়ারত করলে জিয়ারতকারী নিজে এবং কবরবাসী উভয়েই উপকৃত হন । রাসুলুল্লাহ (সা.) এর শেখানো দোয়া অনুযায়ী কবরবাসীদের জন্য সালাম, ক্ষমা এবং রহমতের প্রার্থনা করতে হয় । এই ইবাদতের মাধ্যমে মুমিন বান্দা আল্লাহর নৈকট্য লাভ করে এবং নিজের মৃত্যুর জন্য প্রস্তুতি গ্রহণের সুযোগ পায় । তাই প্রত্যেক মুসলমানের উচিত নিয়মিত কবর জিয়ারত করা এবং মৃত মুসলমানদের জন্য দোয়া করা ।

About Author
Avatar

বাংলাদেশ প্রতিনিধি থেকে সঠিক ও নির্ভরযোগ্য খবর পেতে আমাদের সংবাদ ওয়েবসাইট দেখুন। তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের বিস্তারিত জানুন।

আরও পড়ুন