ছুরি-মদ-মাংসের সঙ্গে চারাগাছও নিষিদ্ধ? কলকাতা মেট্রোর নিয়ম ঘিরে জোর বিতর্ক

কলকাতা মেট্রোয় ছুরি, শাবল, মদ, বিস্ফোরক বা কাঁচি নিষিদ্ধ—এ কথা শুনে খুব একটা অবাক হওয়ার কিছু নেই। কিন্তু চারাগাছ? সেখানেই প্রশ্ন উঠছে। কারণ Metro Railway Kolkata-র সরকারি Baggage Rules এ…

Avatar

কলকাতা মেট্রোয় ছুরি, শাবল, মদ, বিস্ফোরক বা কাঁচি নিষিদ্ধ—এ কথা শুনে খুব একটা অবাক হওয়ার কিছু নেই। কিন্তু চারাগাছ? সেখানেই প্রশ্ন উঠছে। কারণ Metro Railway Kolkata-র সরকারি Baggage Rules এ নিষিদ্ধ তালিকায় সত্যিই রয়েছে “Unsealed plant/sampling”। একই তালিকায় আছে unsealed raw meat/fish, decayed vegetable matter, manure, bones, carcasses, alcohol, explosives, sharp objects এবং tools-এর মতো জিনিসও। ফলে যাত্রীদের একাংশের স্বাভাবিক প্রশ্ন—চারাগাছকে ঠিক কোন যুক্তিতে এই তালিকায় রাখা হল?

সরকারি নিয়মে আসলে কী বলা আছে

বর্তমানে কলকাতা মেট্রোর সরকারি baggage rules এ বলা হয়েছে, যাত্রী একটির বেশি ব্যক্তিগত ব্যাগেজ বহন করতে পারবেন না; তার ওজন ১৫ কিলোগ্রামের বেশি হওয়া যাবে না, মাপ ৬০ সেমি x ৪৫ সেমি x ২৫ সেমি-র মধ্যে থাকতে হবে, সেটি bulky হওয়া চলবে না এবং অন্য যাত্রীর অসুবিধার কারণও হওয়া চলবে না। একই পাতায় sharp objects, explosives, tools, inflammable liquids, acids, poisonous substances, firearms, pet birds and animals-এর সঙ্গে offensive items-এর তালিকাও আলাদা করে দেওয়া আছে। সেই offensive items অংশেই রয়েছে “(যেকোনো পচনশীল প্রাণী বা উদ্ভিজ্জ পদার্থ)Any decayed animals or vegetable matter”, “Unsealed plant/sampling” এবং “Unsealed raw meat/fish”

এখানেই বিতর্কের মূল। কারণ, সরকারি পাতায় চারাগাছ বা গাছের চারা কেন নিষিদ্ধ, তার আলাদা ব্যাখ্যা নেই। তবে তালিকার অবস্থান দেখে একটা বিষয় স্পষ্ট: এটি sharp weapon বা explosive-এর দলে নয়, বরং offensive items-এর দলে রাখা হয়েছে। অর্থাৎ, নিরাপত্তার পাশাপাশি এখানে গন্ধ, তরল বা কাদা-জল চুঁইয়ে পড়া, জৈব বর্জ্য, নোংরা হওয়া, অন্য যাত্রীর অসুবিধা—এই ধরনের স্বাস্থ্যবিধি ও যাত্রী-সুবিধার যুক্তিই বেশি কাজ করে থাকতে পারে। আরও গুরুত্বপূর্ণ, শব্দটি “unsealed”। ফলে সরকারি লেখাটি অন্তত ভাষাগত দিক থেকে সব ধরনের গাছ বা টবজাতীয় জিনিসের উপর blanket ban দিচ্ছে—এমনটা সরাসরি বলা হয়নি; বরং অসিল করা, খোলা বা লিক করতে পারে এমন উদ্ভিজ্জ জিনিসের দিকেই ইঙ্গিত করছে। এই জায়গাতেই পরিষ্কার ব্যাখ্যার অভাব থেকে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে।

কলকাতার নিয়ম কি একেবারেই আলাদা?

মজার বিষয় হল, এই শব্দবন্ধ শুধু কলকাতার তালিকায় নেই। দিল্লি মেট্রোর CISF ইউনিটের সরকারি prohibited items order-এও offensive items অংশে “UNSEALED PLANT/SAMPLING” লেখা আছে। আবার নোয়ডা মেট্রোর সরকারি prohibited items PDF-র সারাংশে রয়েছে “Unsealed plant/sapling”। অর্থাৎ, “sampling” শব্দটি সম্ভবত বহু জায়গায় ব্যবহৃত একই টেমপ্লেটের অংশ; আর অন্য সরকারি তালিকায় “sapling” লেখা থাকায় অনেকের ধারণা, এখানে আসলে plant/sapling, অর্থাৎ গাছের চারা বা উদ্ভিদজাত সামগ্রী-ই বোঝানো হয়েছে। তবে কলকাতা মেট্রো নিজে এই শব্দের আলাদা ব্যাখ্যা দিয়েছে—এমন সরকারি ব্যাখ্যা সামনে আসেনি।

আইনি দিক থেকেও বিষয়টি পুরোপুরি ভিত্তিহীন নয়। Metro Railways (Carriage and Ticket) Rules, 2014-এ dangerous এবং offensive material বহনে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে; সেখানে explosive, inflammable liquids, acids, poisonous substances, radioactive substances, weapons-এর পাশাপাশি offensive materials এবং live animals or birds নিয়েও স্পষ্ট বিধান আছে। কলকাতা মেট্রোর নিজস্ব baggage rules সেই সাধারণ আইনি কাঠামোকেই আরও নির্দিষ্ট উদাহরণ দিয়ে ব্যাখ্যা করেছে বলেই মনে হচ্ছে। কলকাতার সরকারি পাতায় আরও বলা হয়েছে, offensive goods বহন করলে ৫০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা, আর dangerous goods-এর ক্ষেত্রে চার বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে।

যাত্রীদের বিভ্রান্তি বাড়াচ্ছে আর-এক সমস্যা

তবে যাত্রীদের ধোঁয়াশা বাড়ানোর মতো আর-একটি তথ্যও সরকারি পোর্টালেই আছে। কলকাতা মেট্রোর আর-একটি পুরনো commercial details পাতায় এখনও লেখা রয়েছে, যাত্রী ১০ কেজি পর্যন্ত small personal baggage বহন করতে পারবেন, এবং সেখানে নিষিদ্ধ জিনিসের তালিকাও অনেক সংক্ষিপ্ত। সেই পাতার last reviewed date 03-02-2021। অন্যদিকে, বিস্তারিত baggage rules পাতাটি last reviewed 10-09-2025। ফলে, একই সরকারি পোর্টালের দুই পাতায় ১০ কেজি বনাম ১৫ কেজি—এই বৈপরীত্য থেকেই বোঝা যায়, নিয়মের ভাষা এবং আপডেটেড তথ্য নিয়ে যাত্রীদের প্রশ্ন ওঠা অস্বাভাবিক নয়।

সাম্প্রতিক সময়ে কলকাতা মেট্রোর নতুন রুট, বিশেষ করে বিমানবন্দর-সংযুক্ত পরিষেবা চালুর পরে লাগেজ-নিয়ম নিয়ে আগ্রহও বেড়েছে। TV9 বাংলা গত বছর বিমানবন্দরমুখী যাত্রীদের জন্য লাগেজসীমা প্রসঙ্গ তুলেছিল, আর Aaj Tak Bangla নিষিদ্ধ জিনিসের তালিকা নিয়ে আলাদা প্রতিবেদন করে। অর্থাৎ, মেট্রোয় কী নেওয়া যাবে আর কী যাবে না—এই কৌতূহল নতুন নয়; নতুন করে নজর কেড়েছে শুধু “চারাগাছ” শব্দবন্ধটি।

সুতরাং, এখন পর্যন্ত সরকারি নথি যা বলছে, তাতে খোলা বা unsealed গাছের চারা/উদ্ভিদজাত জিনিস মেট্রোয় বহন করা ঝুঁকিমুক্ত নয়। কিন্তু এই নিয়মের ভাষা আরও স্পষ্ট করা দরকার—বিশেষ করে nursery থেকে কেনা ছোট চারাগাছ, টববন্দি উদ্ভিদ, বা সিল করা উদ্ভিদজাত প্যাকেটের ক্ষেত্রে কী হবে, তা যাত্রী-বান্ধব ভাষায় জানানো জরুরি। কারণ নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যবিধির যুক্তি থাকতেই পারে, কিন্তু নিয়ম যদি অস্পষ্ট হয়, তাহলে বিতর্ক থামে না—বরং security check-এর গেটেই নতুন প্রশ্নের জন্ম দেয়।

About Author
Avatar

আমাদের স্টাফ রিপোর্টারগণ সর্বদা নিষ্ঠার সাথে কাজ করে যাচ্ছেন যাতে আপনি বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের সর্বশেষ ও গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে পারেন। তাঁদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও প্রতিশ্রুতি আমাদের ওয়েবসাইটকে একটি বিশ্বস্ত তথ্যের উৎস হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।তারা নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ রিপোর্টিংয়ে বিশ্বাসী, দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক প্রতিবেদন তৈরিতে সক্ষম