লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ: ইসলামের প্রথম স্তম্ভ এবং ঈমানের মূল ভিত্তি – সম্পূর্ণ গাইড

লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ হলো ইসলামের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা, যা কালিমা তাইয়্যেবা নামে পরিচিত. এই পবিত্র বাক্যটি ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের প্রথম স্তম্ভ কালেমা শাহাদাতের মূল ভিত্তি এবং মুসলমান হওয়ার…

Avatar

 

লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ হলো ইসলামের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা, যা কালিমা তাইয়্যেবা নামে পরিচিত. এই পবিত্র বাক্যটি ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের প্রথম স্তম্ভ কালেমা শাহাদাতের মূল ভিত্তি এবং মুসলমান হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় প্রথম শর্ত. বর্তমানে বিশ্বব্যাপী প্রায় ২ বিলিয়ন মুসলমান রয়েছে, যা বৈশ্বিক জনসংখ্যার প্রায় ২৪.১ শতাংশ এবং এই সংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে.

কালিমা তাইয়্যেবার আরবি, উচ্চারণ ও অর্থ

কালিমা তাইয়্যেবা আরবিতে লেখা হয়: لآ اِلَهَ اِلّا اللّهُ مُحَمَّدٌ رَسُوُل اللّهِ. এর বাংলা উচ্চারণ হলো “লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ”. এই পবিত্র বাণীর বাংলা অর্থ হচ্ছে: “আল্লাহ ছাড়া কোন মাবুদ (উপাস্য) নেই, হযরত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর প্রেরিত রাসূল”.

এই কালিমার দুটি অংশ রয়েছে. প্রথম অংশ “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” অর্থ “আল্লাহ ছাড়া কোন মাবুদ নেই” – যা তাওহীদ বা আল্লাহর একত্ববাদের ঘোষণা দেয়. দ্বিতীয় অংশ “মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ” অর্থ “মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর রাসূল” – যা নবী মুহাম্মদ (সা.) কে আল্লাহর চূড়ান্ত বার্তাবাহক হিসেবে স্বীকৃতি দেয়.

কালিমা শাহাদাত: ইসলামে প্রবেশের দরজা

কালিমা শাহাদাত হলো ইসলামে প্রবেশের প্রথম ভিত্তি এবং ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে সর্বপ্রথম. হযরত ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “ইসলাম পাঁচটি বুনিয়াদের উপর প্রতিষ্ঠিত” – যার প্রথমটি হলো কালেমা শাহাদাত. সম্পূর্ণ শাহাদাত উচ্চারণ করা হয় এভাবে: أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَٰهَ إِلَّا ٱللَّٰهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ ٱللَّٰهِ.

এর বাংলা অর্থ হচ্ছে: “আমি সাক্ষ্য প্রদান করছি যে, আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোন মাবুদ নেই। তিনি এক, তাঁর কোন অংশীদার নেই এবং আমি আরও সাক্ষ্য প্রদান করছি যে, নিশ্চয়ই হযরত মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর প্রেরিত বান্দা ও রাসূল”. উইকিপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, একবার সৎ ও আন্তরিকভাবে শাহাদাত উচ্চারণ করাই একজন ব্যক্তিকে মুসলমান হওয়ার জন্য যথেষ্ট.

শাহাদাত গ্রহণের শর্তাবলী

শাহাদাত গ্রহণের জন্য ইসলামী শরীয়তে সাতটি মৌলিক শর্ত রয়েছে যা পূরণ করা অত্যাবশ্যক. এই শর্তগুলো নিম্নরূপ:

শর্তের নাম বিস্তারিত ব্যাখ্যা
জ্ঞান (আল-ইলম) শাহাদাতের অর্থ ও তাৎপর্য সম্পর্কে স্পষ্ট জ্ঞান থাকা
দৃঢ় বিশ্বাস (ইয়াকীন) কোন সন্দেহ ছাড়াই পূর্ণ নিশ্চয়তার সাথে বিশ্বাস করা
গ্রহণযোগ্যতা (কবুল) অন্তর দিয়ে শাহাদাত গ্রহণ ও মেনে নেওয়া
আত্মসমর্পণ (ইনকিয়াদ) শাহাদাতের দাবি অনুযায়ী জীবনযাপন করা
সত্যবাদিতা (সিদক) মুখে ও অন্তরে উভয় ক্ষেত্রে সত্যতার সাথে উচ্চারণ করা
একনিষ্ঠতা (ইখলাস) কেবলমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য, কোন উপকারের আশা ছাড়াই উচ্চারণ করা
ভালোবাসা (মাহাব্বাহ) কালিমা ও এর অর্থের প্রতি গভীর ভালোবাসা পোষণ করা

এই সাতটি শর্ত পূরণ করা প্রতিটি মুসলমানের জন্য অপরিহার্য যাতে তাদের শাহাদাত আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হয়.

লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলার অসাধারণ ফজিলত

হাদিসে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহকে সর্বোত্তম জিকির বলা হয়েছে. লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ হচ্ছে ঈমানের সত্তরটি শাখার মধ্যে সর্বোত্তম এবং এ কালিমার জিকিরে রয়েছে অসংখ্য ফজিলত. হজরত জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: “সর্বোত্তম জিকির হচ্ছে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ এবং সর্বোত্তম দোয়া হলো ‘আল-হামদুলিল্লাহ'”.

জান্নাত লাভের নিশ্চয়তা

হজরত ইতবান বিন মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: “যে ব্যক্তি একমাত্র আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার জন্য ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলবে, কিয়ামতের দিন সে এমনভাবে উপস্থিত হবে যে, তার উপর জাহান্নাম হারাম হয়ে গেছে”. হযরত উবাদাহ ইবনে আস-সামিত (রা.) এর বর্ণনা অনুযায়ী, যারা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহর সাক্ষ্য দেয় তারা জান্নাতের আটটি দরজার যেকোনো একটি দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে.

পাপ মোচনের ক্ষমতা

হজরত আনাস ইবন মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে কুদসিতে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন: “হে আদম সন্তান! তুমি যতদিন আমাকে ডাকতে থাকবে এবং আমার কাছে আশা করতে থাকবে, তোমার পাপ যাই হোক না কেন আমি তা ক্ষমা করে দিব”. রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন যে, দিনে একশত বার লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ উচ্চারণ করলে একশত গুনাহ মাফ হয় এবং একশত মর্যাদা বৃদ্ধি পায়.

কালিমার বিশেষ মর্যাদা

নবী করিম (সা.) বলেছেন: “যদি সাত আসমান ও সাত জমিন এক পাল্লায় রাখা হয় আর লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহকে অপর পাল্লায় রাখা হয়, তবুও লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ তাদের বিপরীত নুয়ে পড়বে”. এই হাদিস থেকে বোঝা যায় যে এই কালিমার ওজন সমগ্র সৃষ্টিজগতের চেয়েও বেশি.

১৭টি বিশেষ উপকারিতা

ইসলামিক পণ্ডিতগণ কুরআন ও হাদিসের আলোকে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ উচ্চারণের ১৭টি বিশেষ উপকারিতা চিহ্নিত করেছেন:

  • ইসলামের প্রথম স্তম্ভ এবং সকল ইসলামি বিশ্বাসের ভিত্তি

  • ঈমানের সর্বশ্রেষ্ঠ শাখা যা বিশ্বাস ও অবিশ্বাসের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় করে

  • আল্লাহর জিকিরের সর্বোত্তম রূপ

  • জান্নাতের চাবিকাঠি ও প্রবেশদ্বার

  • সাফল্য ও ক্ষমা লাভের মাধ্যম

  • আল্লাহর শাস্তি থেকে সুরক্ষা প্রদান করে

  • জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি দেয়

  • রাসুল (সা.) এর সুপারিশ লাভের মাধ্যম

  • আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় বাক্য

  • মর্যাদা বৃদ্ধি ও গুনাহ মাফের উপায়

  • আসমান ও জমিনের চেয়েও ভারী

  • জীবনের সমস্যা সমাধানের মাধ্যম

  • শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে রক্ষা করে

  • তাৎক্ষণিকভাবে গুনাহ মিটিয়ে দেয়

  • ঈমান নবায়নের উপায়

  • কবরে একাকীত্ব দূর করে

  • আধ্যাত্মিক শক্তি ও প্রশান্তি প্রদান করে

তাওহীদের মর্মার্থ এবং গুরুত্ব

“লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” এর আভিধানিক অর্থ হলো: “আল্লাহ ব্যতীত সত্য কোন মাবুদ নেই”. এখানে ‘ইলাহ’ শব্দের অর্থ হচ্ছে মাবুদ বা উপাস্য. কুরআনের বিভিন্ন আয়াতে এই তাওহীদের ধারণা স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে.

নেতিবাচক ও ইতিবাচক ঘোষণা

এই কালিমা দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে:

নেতিবাচক অংশ (লা ইলাহা): আল্লাহ ছাড়া অন্য সকল দেবতা, মূর্তি, ক্ষমতা বা যেকোনো কিছুর উপাসনা অস্বীকার করা. এর অর্থ হলো ফেরেশতা, নবী-রাসুল বা অন্য কারো ইবাদত করা যাবে না.

ইতিবাচক অংশ (ইল্লাল্লাহ): একমাত্র আল্লাহকে সকল ইবাদতের যোগ্য হিসেবে সাব্যস্ত করা. তিনিই একমাত্র স্রষ্টা, তাঁর কোন শরিক বা সমকক্ষ নেই এবং সকল উপাসনা কেবল তাঁরই জন্য.

মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহর অর্থ ও তাৎপর্য

কালিমার দ্বিতীয় অংশ “মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ” এর অর্থ হলো: “মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর রাসূল”. এই ঘোষণার মাধ্যমে নবী মুহাম্মদ (সা.) কে আল্লাহর বার্তাবাহক হিসেবে বিশ্বাস করা এবং তাঁর আনীত বিধান মেনে চলার অঙ্গীকার করা হয়.

এর তাৎপর্য হলো: রাসুল (সা.) যা আদেশ করেছেন তা পালন করা, তিনি যা বলেছেন ও প্রচার করেছেন তা বিশ্বাস করা, তিনি যা নিষেধ করেছেন তা থেকে বিরত থাকা এবং তিনি যেভাবে ইবাদতের বিধান দিয়েছেন কেবল সেভাবেই আল্লাহর ইবাদত করা.

বৈশ্বিক মুসলিম জনসংখ্যার পরিসংখ্যান

২০২৫ সালের হিসাব অনুযায়ী, ইসলাম বিশ্বের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল ধর্ম. বর্তমানে বিশ্বব্যাপী প্রায় ২ বিলিয়ন মুসলমান রয়েছে, যা বৈশ্বিক জনসংখ্যার প্রায় ২৪.১ শতাংশ. এই বৃদ্ধির প্রধান কারণ হলো মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোতে উচ্চ প্রজনন হার, তরুণ জনসংখ্যা এবং কিছু অঞ্চলে ধর্ম পরিবর্তন ও অভিবাসন.

মুসলিম জনসংখ্যা প্রধানত দুটি প্রধান সম্প্রদায়ে বিভক্ত: ১.৫ বিলিয়ন সুন্নি মুসলিম এবং ২৪০-৩৪০ মিলিয়ন শিয়া মুসলিম. বিশ্বে প্রায় ৫০টি মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ রয়েছে যেখানে জনসংখ্যার ৫০ শতাংশের বেশি মুসলমান.

ইসলামের পাঁচ স্তম্ভে কালিমার অবস্থান

ইসলামের পাঁচটি মূল স্তম্ভ রয়েছে যার উপর এই ধর্মের ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত:

  1. কালেমা শাহাদাত: বিশ্বাসের ঘোষণা ও সাক্ষ্য দেওয়া

  2. সালাত (নামাজ): দিনে পাঁচবার আল্লাহর উপাসনা

  3. জাকাত: নির্ধারিত সম্পদ থেকে দান করা

  4. সাওম (রোজা): রমজান মাসে উপবাস পালন

  5. হজ: সামর্থ্যবানদের জন্য মক্কায় তীর্থযাত্রা

সহীহ বুখারীর ৮ নম্বর হাদিসে এই পাঁচ স্তম্ভের বিস্তারিত উল্লেখ রয়েছে. কালেমা শাহাদাত সকল স্তম্ভের ভিত্তি এবং এটি ছাড়া অন্য কোন ইবাদত পূর্ণতা পায় না.

কালিমা শিক্ষা ও অনুশীলন

প্রতিটি মুসলমানের জন্য কালিমা সঠিকভাবে উচ্চারণ করা এবং এর অর্থ বোঝা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ. শিশুদের ছোটবেলা থেকেই কালিমা শেখানো উচিত যাতে তারা ইসলামের মূল ভিত্তি সম্পর্কে সচেতন হয়.

নিয়মিত এই কালিমার জিকির করা উচিত, বিশেষত দৈনিক কমপক্ষে ১০০ বার উচ্চারণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে. মৃত্যুর সময় শেষ বাক্য হিসেবে এই কালিমা উচ্চারণ করার চেষ্টা করা প্রতিটি মুমিনের লক্ষ্য হওয়া উচিত.

ভুল ধারণা এবং সঠিক বিশ্বাস

কালিমা তাইয়্যেবার সাথে কখনো অতিরিক্ত কোন বাক্য যোগ করা উচিত নয় যা রাসুল (সা.) শিখাননি. কিছু সম্প্রদায় “আলী উন অলি উল্লাহ” যোগ করে থাকে, কিন্তু এটি মূল শাহাদাতের অংশ নয় এবং সুন্নি ইসলামে এটি গ্রহণযোগ্য নয়.

কালিমা কেবল মুখে উচ্চারণ করলেই যথেষ্ট নয়, বরং অন্তরে বিশ্বাস করা এবং কর্মে প্রতিফলিত করা অপরিহার্য. যদি কেউ কালিমা উচ্চারণ করে কিন্তু তার দাবি অনুযায়ী তাওহীদ ও ইখলাসের উপর আমল না করে, তাহলে সে কালিমার প্রকৃত মর্ম বুঝেনি.

দৈনন্দিন জীবনে কালিমার প্রভাব

লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ শুধু একটি বাক্য নয়, এটি একটি সম্পূর্ণ জীবন দর্শন. এই কালিমা একজন মুসলমানের প্রতিটি কাজ, চিন্তা এবং সিদ্ধান্তকে পরিচালিত করে.

যে ব্যক্তি সত্যিকারভাবে এই কালিমায় বিশ্বাস করে, সে কখনো আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো কাছে সাহায্য চায় না, আল্লাহর আদেশ মেনে চলে এবং তাঁর নিষেধ থেকে বিরত থাকে. এটি জীবনের সকল ক্ষেত্রে নৈতিকতা, সততা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করে.

আধ্যাত্মিক ও মানসিক উপকারিতা

নিয়মিত লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ জিকির করা মানসিক শান্তি ও আধ্যাত্মিক প্রশান্তি এনে দেয়. এটি হৃদয়ে আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা বৃদ্ধি করে এবং দুনিয়ার প্রতি আসক্তি কমিয়ে দেয়.

এই জিকির উদ্বেগ, দুশ্চিন্তা এবং জীবনের বিভিন্ন সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে সাহায্য করে. যখন কেউ সমস্যার মধ্যে পড়ে, তখন লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ পাঠ করলে আল্লাহ তাকে সাহায্য করেন.

সমাপনী

লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ শুধু একটি ধর্মীয় ঘোষণা নয়, এটি ইসলামের প্রাণকেন্দ্র এবং প্রতিটি মুসলমানের জীবনের মূল ভিত্তি. এই পবিত্র কালিমা উচ্চারণের মাধ্যমে একজন ব্যক্তি ইসলামে প্রবেশ করে এবং বিশ্বব্যাপী ২ বিলিয়ন মুসলমানের সাথে যুক্ত হয়. এর সাতটি শর্ত পূরণ করে অন্তর থেকে বিশ্বাস এবং কর্মে প্রতিফলিত করার মাধ্যমেই এই কালিমার প্রকৃত মর্ম উপলব্ধি করা সম্ভব. হাদিস অনুযায়ী, এই কালিমা জান্নাতের চাবি, গুনাহ মাফের মাধ্যম এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তির উপায়. প্রতিটি মুসলমানের উচিত এই কালিমাকে নিয়মিত পাঠ করা, এর অর্থ গভীরভাবে বোঝা এবং দৈনন্দিন জীবনে এর শিক্ষা বাস্তবায়ন করা. আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে এই কালিমার উপর অটল থেকে জীবন যাপন করার এবং এই কালিমা পাঠ করতে করতে মৃত্যুবরণ করার তৌফিক দান করুন।

About Author
Avatar

বাংলাদেশ প্রতিনিধি থেকে সঠিক ও নির্ভরযোগ্য খবর পেতে আমাদের সংবাদ ওয়েবসাইট দেখুন। তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের বিস্তারিত জানুন।

আরও পড়ুন