ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকেই লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা বাড়ছে: ব্যাঙ্কে কবে ঢুকবে, কিভাবে পাবেন, কোথায় যোগাযোগ করবেন

Lakshmir Bhandar Hike: পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ২০২৬–২৭ অর্থবর্ষের অন্তর্বর্তী বাজেটে (৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে প্রতি মাসে অতিরিক্ত ₹৫০০ করে দেওয়ার প্রস্তাব ঘোষণা হয়েছে এবং তা ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকেই কার্যকর…

Srijita Chattopadhay

 

Lakshmir Bhandar Hike: পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ২০২৬–২৭ অর্থবর্ষের অন্তর্বর্তী বাজেটে (৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে প্রতি মাসে অতিরিক্ত ₹৫০০ করে দেওয়ার প্রস্তাব ঘোষণা হয়েছে এবং তা ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকেই কার্যকর হবে—অর্থাৎ যোগ্য উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে DBT/ডাইরেক্ট ব্যাঙ্ক ট্রান্সফারের মাধ্যমে বর্ধিত টাকাই জমা পড়ার কথা

লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে নতুন কত টাকা পাবেন? (বর্ধিত অঙ্কের হিসাব)

বাজেট ঘোষণার ভাষ্য অনুযায়ী মাসিক ₹৫০০ করে বাড়ছে। ফলে বর্তমানে যে অঙ্ক চালু আছে (সাধারণ শ্রেণি ₹১০০০ এবং SC/ST ₹১২০০—গত বাজেট পরিবর্তনের পর থেকে), সেখানে ₹৫০০ যোগ হবে।

বর্ধিত অঙ্ক: পুরোনো বনাম নতুন

ক্যাটাগরি আগে (মাসিক) ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে প্রস্তাবিত বৃদ্ধি নতুন (মাসিক)
সাধারণ (General) ₹১,০০০ +₹৫০০ ₹১,৫০০
তফসিলি জাতি/উপজাতি (SC/ST) ₹১,২০০ +₹৫০০ ₹১,৭০০

নোট: প্রকল্পের ক্যাটাগরি/যোগ্যতার ভিত্তিতে অঙ্ক নির্ধারিত হয়। যোগ্যতা ও শর্তাবলি সরকারি স্কিম প্ল্যাটফর্মে উল্লেখিত (বয়সসীমা, স্বাস্থ্য়সাথী এনরোলমেন্ট ইত্যাদি)।

Lakshmir Bhandar Hike Infograph

কবে থেকে ব্যাঙ্কে ঢুকবে বর্ধিত টাকা?

বাজেট রিপোর্ট অনুযায়ী “effective February 2026”—মানে ফেব্রুয়ারি ২০২৬ মাসের কিস্তি থেকেই বর্ধিত অঙ্ক কার্যকর হওয়ার কথা।

তবে বাস্তবে টাকা “কোন দিন” ঢুকবে—এটা একেক মাসে ব্যাঙ্কিং প্রসেসিং/ডিবিটি রান অনুযায়ী বদলাতে পারে। সাধারণত রাজ্যের অনেক DBT স্কিমে মাসের শুরুতে/মাঝামাঝি সময়ে ক্রেডিট হয়; কিন্তু নির্দিষ্ট দিন স্থির নয়। তাই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায় হলো স্ট্যাটাস ট্র্যাক করা (নিচে ধাপ দেওয়া আছে) এবং আপনার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সচল আছে কি না নিশ্চিত করা।

ফেব্রুয়ারি ২০২৬ মাসের টাকা না এলে—কতদিন অপেক্ষা করবেন?

  • বাজেট ঘোষণার দিন ও ডিবিটি ব্যাচ রান মিলিয়ে ফেব্রুয়ারির মধ্যে বা মাসের পরের প্রথম দিকে ক্রেডিট পড়তে পারে—এটা ব্যাঙ্ক-টু-ব্যাঙ্ক ভিন্ন হতে পারে।

  • স্ট্যাটাসে “Payment Initiated/Processed” দেখা গেলে ২–৭ কর্মদিবসের মধ্যে জমা পড়ার সম্ভাবনা বেশি।

  • স্ট্যাটাসে Pending/Rejected দেখালে সমস্যা সমাধান না করে টাকা আসবে না।

কিভাবে পাবেন? (পুরনো উপভোক্তা বনাম নতুন আবেদনকারী)

১) যারা আগে থেকেই লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পান—তাদের কী করতে হবে?

ভালো খবর হলো—আলাদা করে “বর্ধিত টাকার” জন্য নতুন আবেদন সাধারণত লাগে না। বাজেট প্রস্তাব কার্যকর হলে একই উপভোক্তা তালিকা ধরে বর্ধিত অঙ্ক DBT মারফত পাঠানো হয়।

তবে ৪টি জিনিস আগে থেকে ঠিক করে রাখুন, যাতে টাকা আটকে না যায়:

  • ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট Active (Dormant/বন্ধ যেন না থাকে)

  • Aadhaar/মোবাইল নম্বর আপডেট (যেটা আপনার স্কিম রেকর্ডে আছে)

  • ব্যাঙ্ক KYC সম্পূর্ণ

  • নাম/জন্মতারিখ/IFSC–এ ভুল নেই (স্কিম রেকর্ড বনাম ব্যাঙ্ক রেকর্ড মিলতে হবে)

২) যারা এখনও পান না—কিভাবে নতুন করে পাবেন?

লক্ষ্মীর ভাণ্ডার মূলত রাজ্যের অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারের মহিলাদের ক্ষমতায়নের জন্য। সরকারি স্কিম ডিরেক্টরি অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ যোগ্যতার মধ্যে আছে বয়সসীমা (২৫–৬০), পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা হওয়া, এবং ‘স্বাস্থ্যসাথী’তে এনরোলমেন্ট—সহ অন্যান্য শর্ত।

কোথায় আবেদন করবেন?

সবচেয়ে পরিচিত ও সরকার-চালিত রাস্তাগুলো হলো:

  • দুয়ারে সরকার ক্যাম্প (গ্রাম পঞ্চায়েত/ওয়ার্ড স্তরে)

  • স্থানীয় প্রশাসনিক অফিস/সামাজিক কল্যাণ দপ্তরের কাউন্টার (BDO অফিস/মিউনিসিপ্যালিটি/জেলা সামাজিক কল্যাণ দপ্তর—আপনার এলাকার নিয়ম অনুযায়ী)

সাধারণত কোন কোন নথি লাগে?

এলাকা/ক্যাম্প অনুযায়ী তালিকা কিছু বদলাতে পারে, তবে সাধারণভাবে প্রস্তুত রাখুন:

  • পরিচয়/ঠিকানার প্রমাণ (যেমন Aadhaar ইত্যাদি)

  • ব্যাঙ্ক পাসবুকের কপি (অ্যাকাউন্ট নম্বর ও IFSC স্পষ্ট)

  • স্বাস্থ্যসাথী সম্পর্কিত তথ্য (যদি প্রযোজ্য)

  • SC/ST হলে জাতিগত শংসাপত্র (যদি উচ্চতর ক্যাটাগরির সুবিধা চান)

অনলাইনে পেমেন্ট/আবেদন স্ট্যাটাস কীভাবে দেখবেন?

লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সরকারি পোর্টালে “Track Applicant Status” অপশন আছে।

স্ট্যাটাস চেক করার সহজ ধাপ

  1. সরকারি পোর্টালে যান → Track Applicant Status

  2. আপনার রেজিস্টার্ড তথ্য/রেফারেন্স দিয়ে সার্চ করুন

  3. স্ক্রিনে Application Status / Payment Status দেখুন

  4. Payment status-এ যদি “Processed/Initiated” থাকে, ব্যাঙ্কে ক্রেডিট পড়ার জন্য কিছুটা সময় দিন

টিপ: আপনার ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্টে “DBT/NEFT/Direct Benefit” টাইপের রেফারেন্সও দেখতে পারেন।

টাকা বাড়ার পরেও ক্রেডিট না হলে—সবচেয়ে সাধারণ কারণ ও সমাধান

একই মাসে সবার টাকা একসঙ্গে পড়ে না—তাই আগে স্ট্যাটাস যাচাই করুন। এরপর নিচের কারণগুলো মিলিয়ে নিন:

১) ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট Dormant/বন্ধ

  • দীর্ঘদিন লেনদেন না হলে অ্যাকাউন্ট Dormant হতে পারে

  • সমাধান: ব্যাঙ্কে গিয়ে অ্যাকাউন্ট re-activate করুন

২) KYC/আধার লিংকিং সমস্যা

  • ব্যাঙ্ক KYC অসম্পূর্ণ বা নামের বানান mismatch হলে DBT রিজেক্ট হতে পারে

  • সমাধান: ব্যাঙ্কে KYC আপডেট + নাম/ডিওবি মিলিয়ে নিন

৩) IFSC/অ্যাকাউন্ট নম্বর ভুল

  • ভুল IFSC/অ্যাকাউন্ট নম্বরে টাকা পাঠানো যায় না

  • সমাধান: দুয়ারে সরকার/সংশ্লিষ্ট দপ্তরে গিয়ে ব্যাঙ্ক ডিটেলস সংশোধন করুন

৪) যোগ্যতা যাচাই/ভেরিফিকেশন পেন্ডিং

  • কখনও ডকুমেন্ট ভেরিফিকেশন/ফিল্ড ভেরিফিকেশন বাকি থাকলে বিলম্ব হয়

  • সমাধান: স্ট্যাটাসে “Pending for verification” থাকলে নির্দিষ্ট অফিসে যোগাযোগ করুন

কোথায় যোগাযোগ করবেন? (হেল্প/অভিযোগ/সংশোধন)

“কোথায় যোগাযোগ করবেন” প্রশ্নে সেরা উত্তর হলো লোকাল-টু-লোকাল—কারণ অনেক কাজ (ডিটেলস সংশোধন/ভেরিফিকেশন) জেলা-স্তরে হয়।

১) দুয়ারে সরকার ক্যাম্প (প্রথম যোগাযোগ)

দুয়ারে সরকার হলো রাজ্য সরকারের ডোরস্টেপ সার্ভিস ডেলিভারি উদ্যোগ; এখান থেকেই বহু স্কিমের আবেদন/সংশোধন/সহায়তা নেওয়া যায়।

২) জেলা সামাজিক কল্যাণ দপ্তর (District Social Welfare Office)

আপনার জেলার অফিসে যোগাযোগ করলে আবেদন/পেমেন্ট সমস্যা দ্রুত ট্র্যাক করা যায়। উদাহরণ হিসেবে নদীয়া জেলা প্রশাসনের সার্ভিস পেজে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার সংক্রান্ত অফিস/ইমেল উল্লেখ আছে।
আরও একটি উদাহরণ—দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার পেজে জেলা সামাজিক কল্যাণ দপ্তরের (লক্ষ্মীর ভাণ্ডার) তথ্য ও যোগাযোগ ইমেল উল্লেখ থাকে।

৩) ব্লক/মিউনিসিপ্যাল অফিস (BDO/পুরসভা)

  • গ্রামীণ এলাকার জন্য: BDO অফিস / ব্লক স্তরের সংশ্লিষ্ট শাখা

  • শহর এলাকার জন্য: পুরসভা/ওয়ার্ড অফিসের সংশ্লিষ্ট কাউন্টার

৪) দপ্তরের সদর দপ্তরের ঠিকানা (যদি উচ্চস্তরে যোগাযোগ দরকার হয়)

WCD&SW (Women & Child Development & Social Welfare) দপ্তরের অফিস ঠিকানা বিকাশ ভবন, সল্টলেক

প্রকল্পের প্রেক্ষাপট: কত বড় স্কিম, কতজন উপভোক্তা?

লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম বৃহৎ ক্যাশ ট্রান্সফার স্কিম। রাজ্য বাজেট বক্তৃতা/সরকারি নথিতে কোটির ওপর কভারেজ এবং দুয়ারে সরকার ক্যাম্পে নতুন আবেদন জমার উল্লেখ আছে।
আর সাম্প্রতিক রিপোর্টে উপভোক্তা সংখ্যা প্রায় ২.২ কোটি–এর কাছাকাছি বলা হয়েছে।

বাজেট ২০২৬–২৭ (অন্তর্বর্তী)–তে এই স্কিমে মাসিক ₹৫০০ বৃদ্ধি দেওয়ার ঘোষণাটি তাই রাজ্যের DBT ব্যয় ও উপভোক্তা—দু’দিক থেকেই বড় সিদ্ধান্ত।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এক নজরে

  • বর্ধিত টাকা কার্যকর: ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে

  • বৃদ্ধি: মাসে ₹৫০০

  • নতুন অঙ্ক: General ₹১৫০০, SC/ST ₹১৭০০ (বর্তমান অঙ্ক + ₹৫০০)

  • পেমেন্ট মোড: ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে DBT

  • স্ট্যাটাস চেক: সরকারি পোর্টালের “Track Applicant Status”

  • সমস্যায় যোগাযোগ: দুয়ারে সরকার → জেলা সামাজিক কল্যাণ দপ্তর → BDO/পুরসভা

উপসংহার

ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে প্রতি মাসে ₹৫০০ বাড়ানোর ঘোষণা মানে—বর্তমান উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে বর্ধিত অঙ্কে টাকা ঢোকার কথা। আপনার যদি আগে থেকেই সুবিধা চালু থাকে, সাধারণত নতুন করে আবেদন করার দরকার পড়ে না; বরং ব্যাঙ্ক KYC, অ্যাকাউন্ট অ্যাক্টিভ থাকা এবং রেকর্ডে ভুল না থাকা নিশ্চিত করাই মূল কাজ। টাকা না এলে আগে সরকারি পোর্টালে স্ট্যাটাস দেখে নিন, তারপর দুয়ারে সরকার বা জেলা সামাজিক কল্যাণ দপ্তরে যোগাযোগ করুন। জেলা স্তরের অফিসই সাধারণত সংশোধন/ভেরিফিকেশন দ্রুত এগিয়ে দেয়। সবশেষে—গুজব নয়, বাজেট ঘোষণার “effective February 2026” নির্দেশনাই ধরে পদক্ষেপ নিন।

About Author
Srijita Chattopadhay

সৃজিতা কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় স্নাতক। তিনি একজন প্রতিশ্রুতিশীল লেখক এবং সাংবাদিক, যিনি তার লেখা দ্বারা বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির সমৃদ্ধি তুলে ধরতে সদা উদ্যমী। সৃজিতার লেখার ধারা মূলত সাহিত্য, সমাজ এবং সংস্কৃতির বিভিন্ন দিককে ঘিরে আবর্তিত হয়, যেখানে তিনি তার গভীর পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা ও বিশ্লেষণী দক্ষতার পরিচয় দেন। তাঁর নিবন্ধ ও প্রতিবেদনগুলি পাঠকদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে, যা তার বস্তুনিষ্ঠতা ও সংবেদনশীলতার পরিচয় বহন করে। সৃজিতা তার কর্মজীবনে ক্রমাগত নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে বদ্ধপরিকর, যা তাকে বাংলা সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যতের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।

আরও পড়ুন