Lionel Messi 900 Goals Record: লিওনেল মেসি আবারও ইতিহাসে নাম লিখিয়ে ফেললেন। ইন্টার মায়ামির জার্সিতে ন্যাশভিল এসসির বিরুদ্ধে কনকাক্যাফ চ্যাম্পিয়ন্স কাপের ম্যাচে গোল করে তিনি কেরিয়ারের ৯০০তম অফিসিয়াল গোল পূর্ণ করেছেন। এর ফলে পুরুষদের ফুটবলে ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডোর পর দ্বিতীয় ফুটবলার হিসেবে এই বিরল মাইলফলকে পৌঁছলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। তবে এই কৃতিত্বের সঙ্গে আরেকটি বড় আলোচনা এখন সামনে এসেছে—মেসি কি রোনাল্ডোর তুলনায় কম ম্যাচ খেলে ৯০০-তে পৌঁছেছেন? উত্তর হল, হ্যাঁ, এবং ব্যবধানও বেশ উল্লেখযোগ্য।
মেসির ৯০০তম গোলটি আসে ম্যাচের একেবারে শুরুতে। ইএসপিএন-এর ম্যাচ ট্র্যাকিং অনুযায়ী, ন্যাশভিলের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় লেগের ম্যাচের সপ্তম মিনিটে গোল করে তিনি এই ঐতিহাসিক সংখ্যা স্পর্শ করেন। যদিও ব্যক্তিগত মাইলফলকের রাতটা দলগত সাফল্যে রূপ নেয়নি; ১-১ ড্রয়ের ফলে ইন্টার মায়ামি প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে যায়, কারণ প্রথম লেগ ০-০ থাকার পর অ্যাওয়ে গোল নিয়মে ন্যাশভিল এগিয়ে যায়। ফলে মেসির ঐতিহাসিক রাতের সঙ্গে জুড়ে গেল ইন্টার মায়ামির হতাশাও।
৯০০ গোলের পথে মেসির ম্যাচ-সংখ্যা কত?
ইএসপিএন-এর সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ বলছে, মেসি ৯০০ অফিসিয়াল গোলের মাইলফলকে পৌঁছেছেন ১,১৪২ ম্যাচে। সেখানে তাঁর গোলের বিভাজনও স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে—বার্সেলোনার হয়ে ৬৭২, পিএসজির হয়ে ৩২, ইন্টার মায়ামির হয়ে ৮১ এবং আর্জেন্টিনার হয়ে ১১৫ গোল। অর্থাৎ ক্লাব ও দেশের জার্সি মিলিয়েই এই ঐতিহাসিক সংখ্যা।
এই পরিসংখ্যান মেসির কেরিয়ারের ধারাবাহিকতা এবং কার্যকারিতার এক অনন্য ছবি তুলে ধরে। বার্সেলোনায় দীর্ঘ সময়ের সাফল্য তো ছিলই, কিন্তু বয়স বাড়ার পরও আর্জেন্টিনা এবং ইন্টার মায়ামির হয়ে তাঁর গোল করার ক্ষমতা কমেনি। বরং ২০২৬ মরসুমের শুরুতেও তিনি গোল করে চলেছেন, যা দেখাচ্ছে—শুধু রেকর্ড গড়াই নয়, এখনও ম্যাচের ফল নির্ধারণে তিনি কতটা প্রভাবশালী।
রোনাল্ডোর তুলনায় কত ম্যাচ কম?
এখানেই সবচেয়ে বেশি আগ্রহ সমর্থকদের। ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডো ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে পর্তুগালের হয়ে ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে নেশনস লিগ ম্যাচে নিজের ৯০০তম অফিসিয়াল গোল করেন। ইএসপিএন নিশ্চিত করেছে, তিনিই প্রথম পুরুষ ফুটবলার হিসেবে এই কীর্তি গড়েন।
তবে ম্যাচ-সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন ডেটা-সোর্সে সামান্য অমিল রয়েছে। কিছু কভারেজে রোনাল্ডোর ৯০০-তে পৌঁছনোর ম্যাচ-সংখ্যা ১,২৩৬ বলা হয়েছে, আবার অপ্টা-ভিত্তিক বিশ্লেষণ ও অন্য কিছু রিপোর্টে তা ১,২৩৮ ম্যাচ। সেই হিসেবে মেসি রোনাল্ডোর চেয়ে ৯৪ থেকে ৯৬ ম্যাচ কম খেলেই ৯০০-তে পৌঁছেছেন। সাম্প্রতিক কিছু প্রতিবেদনে ৯৪ ম্যাচ কম বলা হলেও, অন্য নির্ভরযোগ্য বিশ্লেষণে ব্যবধান ৯৬ ম্যাচ ধরা হয়েছে। তাই সবচেয়ে সতর্ক এবং তথ্যভিত্তিকভাবে বলা যায়—মেসি প্রায় একশো ম্যাচ কম খেলেই ৯০০ গোলের মাইলফলকে পৌঁছেছেন।
এই সামান্য পরিসংখ্যানগত মতভেদ সাধারণত “অফিসিয়াল ম্যাচ” গণনার পদ্ধতি, কিছু শুরুর দিকের প্রতিযোগিতা বা নির্দিষ্ট ম্যাচ অন্তর্ভুক্ত করা হবে কি না—এসব কারণেই তৈরি হয়। কিন্তু বড় ছবিটা একেবারে পরিষ্কার: ৯০০ গোলের দৌড়ে মেসির গোল-প্রতি-ম্যাচ হার রোনাল্ডোর তুলনায় বেশি কার্যকর।
কেন এই রেকর্ড এত গুরুত্বপূর্ণ
মেসি-রোনাল্ডো যুগে সমর্থকেরা বহু রেকর্ড দেখেছেন—ব্যালন ডি’অর, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, আন্তর্জাতিক ট্রফি, গোলসংখ্যা, অ্যাসিস্ট, ক্লাব সাফল্য—সব কিছুর মধ্যেই দু’জনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা ফুটবল ইতিহাসের আলাদা অধ্যায়। ৯০০ গোলের মাইলফলক সেই অধ্যায়ে নতুন মাত্রা যোগ করল। কারণ এটি শুধু দীর্ঘ কেরিয়ার নয়, দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে সর্বোচ্চ মান ধরে রাখার প্রমাণ।
মেসির ক্ষেত্রে রেকর্ডটিকে আরও বিশেষ করে তুলছে তাঁর খেলার ধরন। তিনি কেবল স্ট্রাইকার নন; প্লেমেকার, ড্রিবলার, ক্রিয়েটর—সব ভূমিকাতেই সমান উজ্জ্বল থেকেও ৯০০ গোল ছুঁয়েছেন। অর্থাৎ গোলের সংখ্যা যত বড়, তার পেছনের ফুটবলীয় প্রভাবও ততটাই বিস্তৃত। ইন্টার মায়ামির কোচ হাভিয়ের মাসচেরানোও সাম্প্রতিক সময়ে মেসিকে “one of a kind” বলে আখ্যা দিয়েছেন, যা এই কৃতিত্বের গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দেয়।
সামনে কী?
মেসির বয়স এখন ৩৮, কিন্তু গোল করার ধার এখনো থামেনি। ইএসপিএন-এর ২০২৬ ট্র্যাকার দেখাচ্ছে, মৌসুমের একেবারে শুরুর দিকেই তিনি নিয়মিত গোল পাচ্ছেন। তাই ৯০০-র পর প্রশ্ন উঠছে—তিনি কি ১,০০০ গোলের স্বপ্ন দেখবেন? রোনাল্ডো এখনও সেই দৌড়ে এগিয়ে থাকলেও, মেসির এই নতুন মাইলফলক প্রমাণ করে দিল, শেষ কথা এখনও বলা হয়নি।
সব মিলিয়ে, এই রেকর্ড শুধু আরেকটি সংখ্যার গল্প নয়। এটি এমন এক ফুটবলারের গল্প, যিনি প্রায় দুই দশক ধরে বিশ্বফুটবলের সংজ্ঞা বদলে দিয়েছেন। ৯০০ গোলের মাইলফলকে পৌঁছে মেসি আবার মনে করিয়ে দিলেন—তাঁর কেরিয়ারকে কেবল ট্রফি বা পুরস্কারে মাপা যায় না, ইতিহাসের পাতাতেই তার আসল মাপ লুকিয়ে আছে। আর রোনাল্ডোর তুলনায় কম ম্যাচে এই কৃতিত্ব তাঁর দক্ষতা, ধারাবাহিকতা এবং প্রভাব—সব কিছুকেই নতুন করে আলোচনায় এনে দিল।











