Hidden beaches in Odisha: সমুদ্রের ঢেউয়ের সঙ্গে মনের তাল মিলিয়ে একটু নির্জনতা খুঁজছেন? দিঘা, পুরী বা মন্দারমণির ভিড়ভাট্টা থেকে দূরে গিয়ে প্রকৃতির কোলে শান্তিতে সময় কাটাতে চান? তাহলে ওড়িশার এই তিনটি offbeat sea beach আপনার জন্যই অপেক্ষা করছে। এই সমুদ্রতটগুলো শুধু সৌন্দর্যেই ভরপুর নয়, বরং এখানে আপনি পাবেন এক অনন্য অভিজ্ঞতা, যা সাধারণ পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে মেলে না। এই ব্লগে আমরা আপনাকে নিয়ে যাবো ওড়িশার তিনটি লুকানো রত্নের সন্ধানে— যেখানে সমুদ্রের নীল আর প্রকৃতির সবুজ একসঙ্গে মিশে তৈরি করেছে স্বপ্নের মতো এক দৃশ্য। চলুন, এই যাত্রায় শুরু করা যাক!
ওড়িশা ভারতের পূর্ব উপকূলে অবস্থিত একটি রাজ্য, যেখানে সমুদ্রতটের সৌন্দর্য আর প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য মন কেড়ে নেয়। তবে বেশিরভাগ মানুষ যেখানে পুরী বা কোনার্কের মতো জনপ্রিয় জায়গায় ভিড় করেন, সেখানে কিছু offbeat sea beach এখনও অপেক্ষা করে আছে আবিষ্কারের জন্য। এই তিনটি সমুদ্রতট— বাগদা সি বিচ, চন্দ্রভাগা বিচ এবং তালসারি বিচ— আপনাকে দেবে নির্জনতা, শান্তি আর প্রকৃতির অপরূপ রূপ। এখানে ভিড় নেই, হট্টগোল নেই, শুধু আছে সমুদ্রের গর্জন আর আপনার মনের সঙ্গে তার একাত্মতা। প্রতিটি বিচের নিজস্ব বৈশিষ্ট্য আছে, যা আপনার ভ্রমণকে করে তুলবে অবিস্মরণীয়।
কলকাতার সেরা ১০ বনেদি বাড়ির পুজো: ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির মিলনমেলা
ওড়িশার বালাসোর জেলার কাছে অবস্থিত বাগদা সি বিচ একটি offbeat sea beach, যা এখনও পর্যটকদের ভিড় থেকে দূরে আছে। এই সমুদ্রতটকে অনেকে “ভার্জিন বিচ” বলে ডাকেন, কারণ এখানে প্রকৃতি তার আদি রূপে বিরাজমান। লাল কাঁকড়ার দল বালির ওপর দিয়ে দৌড়াদৌড়ি করে, আর ঝাউ গাছের জঙ্গল সমুদ্রতটকে ঘিরে একটি সবুজ আবরণ তৈরি করেছে। এখানে এসে মনে হবে, আপনি প্রকৃতির কাছাকাছি এসে গেছেন।
কলকাতা থেকে বাগদা সি বিচে পৌঁছতে প্রায় ৫-৬ ঘণ্টা সময় লাগে। হাওড়া বা শিয়ালদহ থেকে ট্রেনে বালাসোর রেলস্টেশনে নেমে সেখান থেকে অটো বা ট্রেকারে ৩০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিলেই পৌঁছে যাবেন এই নিরিবিলি সমুদ্রতটে। গাড়িতে গেলেও রাস্তা বেশ সুবিধাজনক। এখানে পৌঁছেই আপনি বুঝতে পারবেন, কেন এই জায়গাটি এত বিশেষ।
বাগদা সি বিচে গেলে সমুদ্রে স্নানের মজা নিতে পারেন। এখানকার ফাঁকা সমুদ্রতটে হাঁটতে হাঁটতে সূর্যাস্ত দেখা এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা। ক্যাম্পিং করার ব্যবস্থাও আছে— ঝাউ গাছের ছায়ায় তাঁবু খাটিয়ে রাত কাটাতে পারেন। রাতে বনফায়ার আর বারবিকিউর আয়োজন করলে আপনার ভ্রমণ আরও রোমাঞ্চকর হয়ে উঠবে। তবে আগে থেকে ক্যাম্প বুক করে নেওয়া ভালো।
চন্দ্রভাগা বিচ ওড়িশার পুরী থেকে মাত্র ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। যদিও এটি পুরীর মতো জনপ্রিয় নয়, তবুও এর সৌন্দর্য কোনও অংশে কম নয়। এখানকার সোনালি বালি আর শান্ত সমুদ্র আপনাকে এক অন্য জগতে নিয়ে যাবে। এই সমুদ্রতটের কাছে কোনার্ক সূর্য মন্দিরও রয়েছে, যা ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ। তবে চন্দ্রভাগা তার নিজস্ব কারণে বিখ্যাত— এখানে প্রতি বছর মাঘ সপ্তমীতে একটি বিশেষ মেলা হয়, যেখানে হাজার হাজার মানুষ স্নান করতে আসেন।
ভুবনেশ্বর থেকে চন্দ্রভাগা পৌঁছতে বাস বা গাড়িতে ২-৩ ঘণ্টা লাগে। পুরী থেকে এটি আরও কাছে, মাত্র ১ ঘণ্টার পথ। স্থানীয় বাস বা অটো রিকশা নিয়ে সহজেই এখানে আসা যায়। রাস্তার অবস্থা ভালো, তাই যাত্রা বেশ আরামদায়ক।
চন্দ্রভাগায় এসে সমুদ্রের ধারে বসে শান্তির অনুভূতি নিতে পারেন। এখানকার সূর্যোদয় দেখার জন্য ভোরে উঠে বিচে চলে আসুন— এমন দৃশ্য মন থেকে মুছে যাবে না। কাছাকাছি কোনার্ক মন্দির ঘুরে দেখতে পারেন। তবে এখানে বেশি পর্যটন সুবিধা না থাকায় খাবার-দাবার সঙ্গে নিয়ে আসা ভালো।
তালসারি বিচ ওড়িশা এবং পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তে অবস্থিত। এই offbeat sea beach তার অনন্য অবস্থানের জন্যই আলাদা। এখানে সমুদ্রের পাশাপাশি রয়েছে নদীর মোহনা, যা এটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। তালসারির বালিতে লাল কাঁকড়ার দৌড়ঝাঁপ আর নারকেল গাছের সারি এখানকার প্রকৃতিকে দিয়েছে এক অন্য মাত্রা। এটি দিঘা থেকে মাত্র ৮ কিলোমিটার দূরে হলেও এখানকার নির্জনতা আপনাকে অবাক করবে।
কলকাতা থেকে তালসারি যেতে ট্রেনে দিঘা পৌঁছে সেখান থেকে অটো বা গাড়িতে মাত্র ২০-৩০ মিনিট লাগে। দিঘা থেকে সরাসরি বাসও পাওয়া যায়। পথে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে করতে আপনি পৌঁছে যাবেন এই ছোট্ট সমুদ্রতটে।
তালসারিতে এসে নৌকায় চড়ে নদী আর সমুদ্রের মিলন দেখতে পারেন। এখানকার শান্ত পরিবেশে বই পড়তে বা ছবি তুলতে দারুণ লাগে। স্থানীয় জেলেদের কাছ থেকে তাজা মাছ কিনে রান্না করার ব্যবস্থা করতে পারেন। সূর্যাস্তের সময় এখানকার আকাশ যেন রঙে রঙে ভরে ওঠে— এমন দৃশ্য মিস করবেন না।
এই তিনটি offbeat sea beach শুধু সৌন্দর্যের জন্যই নয়, এখানকার নির্জনতা আর প্রাকৃতিক পরিবেশের জন্যও বিখ্যাত। দিঘা বা পুরীর মতো জায়গায় যেখানে ভিড় আর হট্টগোল থাকে, সেখানে এই সমুদ্রতটগুলো আপনাকে দেবে শান্তি আর স্বাচ্ছন্দ্য। এখানে আপনি নিজের সঙ্গে সময় কাটাতে পারবেন, প্রকৃতির সঙ্গে একাত্ম হতে পারবেন।
ভারতের প্রথম Glass Bridge at Sea দুটি ঐতিহ্যবাহী স্মৃতিসৌধকে সংযুক্ত করেছে
ওড়িশার এই তিনটি offbeat sea beach— বাগদা, চন্দ্রভাগা আর তালসারি— আপনাকে দেবে এক অনন্য ভ্রমণের অভিজ্ঞতা। এখানে এসে আপনি শুধু সমুদ্রের সৌন্দর্যই দেখবেন না, বরং নিজের সঙ্গে একটু সময় কাটানোর সুযোগ পাবেন। তাই ব্যস্ত জীবন থেকে একটু ছুটি নিয়ে ঘুরে আসুন এই নির্জন সমুদ্রতটগুলো থেকে। আপনার মন ভরে যাবে, আর স্মৃতিতে থেকে যাবে প্রকৃতির এই অপূর্ব উপহার।
কোনটি আপনার পছন্দ হলো? বা আপনি কি এর মধ্যে কোথাও গিয়েছেন? নিচে মন্তব্য করে আমাদের জানান!