Maghi Purnima 2026: হিন্দু ধর্মীয় পঞ্জিকায় মাঘ মাসের পূর্ণিমা তিথি অত্যন্ত পবিত্র ও মাহাত্ম্যপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয় । ২০২৬ সালে মাঘী পূর্ণিমা পড়েছে ১ ফেব্রুয়ারি রবিবার, যেদিন ভক্তরা পবিত্র স্নান, দান, ধ্যান এবং বিশেষ পূজা-অর্চনা সম্পন্ন করবেন । এই পূর্ণিমা তিথিতে গঙ্গাসহ পবিত্র নদীতে স্নান করলে সমস্ত পাপ থেকে মুক্তি পাওয়া যায় এবং মোক্ষলাভের পথ সুগম হয় বলে শাস্ত্রে উল্লেখ রয়েছে ।
মাঘী পূর্ণিমা ২০২৬: তারিখ ও তিথি বিবরণ
বৈদিক পঞ্জিকা এবং বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকার হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মাঘী পূর্ণিমা ১ ফেব্রুয়ারি রবিবার পালিত হবে । পূর্ণিমা তিথি শুরু হবে ১ ফেব্রুয়ারি ভোর ৫টা ৫২ মিনিটে এবং সমাপ্ত হবে ২ ফেব্রুয়ারি রাত ৩টা ৩৮ মিনিটে । উদয়া তিথি বিবেচনা করে রবিবার অর্থাৎ ১ ফেব্রুয়ারিই মাঘী পূর্ণিমার প্রধান পূজা ও স্নানের দিন হিসেবে পালিত হবে ।
মাঘী পূর্ণিমা ২০২৬: সম্পূর্ণ তিথি বিবরণ
| বিবরণ | সময়সূচী |
|---|---|
| তারিখ | ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ |
| বার | রবিবার |
| পূর্ণিমা তিথি শুরু | ১ ফেব্রুয়ারি ভোর ৫:৫২ মিনিট |
| পূর্ণিমা তিথি সমাপ্তি | ২ ফেব্রুয়ারি রাত ৩:৩৮ মিনিট |
| চন্দ্রোদয় | সন্ধ্যা ৫:২৬ মিনিট |
| সূর্যোদয় | সকাল ৭:০৯ মিনিট |
| সূর্যাস্ত | সন্ধ্যা ৬:০০ মিনিট |
পূজার শুভ মুহূর্ত ও সময়সূচী
মাঘী পূর্ণিমায় বিভিন্ন শুভ মুহূর্তে পূজা-অর্চনা, স্নান এবং দান করা অত্যন্ত ফলপ্রসূ বলে জ্যোতিষশাস্ত্রে উল্লেখ রয়েছে । ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ নানা শুভ যোগ এবং মুহূর্ত তৈরি হবে, যা ভক্তদের জন্য বিশেষ আশীর্বাদপূর্ণ ।
প্রধান শুভ মুহূর্ত
ব্রহ্ম মুহূর্ত: সকাল ৫:২৪ মিনিট থেকে ৬:১৭ মিনিট পর্যন্ত । এই সময় স্নান, ধ্যান এবং মন্ত্রজপ করা সর্বাধিক ফলপ্রদ বলে শাস্ত্রে বর্ণিত হয়েছে।
অভিজিৎ মুহূর্ত: দুপুর ১২:১৩ মিনিট থেকে ১২:৫৭ মিনিট পর্যন্ত । এই সময় যেকোনো শুভ কাজ এবং পূজা-অর্চনা করা অত্যন্ত মঙ্গলজনক।
গোধূলি মুহূর্ত: সন্ধ্যা ৫:৫৮ মিনিট থেকে ৬:২৪ মিনিট পর্যন্ত । এই সময় প্রদীপ জ্বালিয়ে পূজা করা বিশেষ পুণ্যদায়ক।
বিজয় মুহূর্ত: দুপুর ২:২৩ মিনিট থেকে ৩:০৭ মিনিট পর্যন্ত । এই মুহূর্তে সকল কাজে সাফল্য লাভ হয় বলে বিশ্বাস করা হয়।
সায়ং সন্ধ্যা মুহূর্ত: সন্ধ্যা ৬:৩২ মিনিট থেকে ৭:৪৮ মিনিট পর্যন্ত । এই সময় সন্ধ্যা আরতি এবং দীপদান করা শুভ ফলদায়ক।
মাঘী পূর্ণিমার ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক তাৎপর্য
হিন্দু ধর্মীয় শাস্ত্র এবং পুরাণে মাঘী পূর্ণিমার বিশেষ মাহাত্ম্য বর্ণিত হয়েছে । মাঘ মাস সমগ্র বছরের মধ্যে সবচেয়ে পবিত্র মাস হিসেবে স্বীকৃত এবং এই মাসের পূর্ণিমা তিথি আরও বেশি ফলপ্রদ । শাস্ত্র মতে, এই দিনে দেবতারা স্বর্গ থেকে মর্ত্যে অবতরণ করেন এবং পবিত্র নদীর তীরে অবস্থান করেন ।
পৌরাণিক গুরুত্ব
মাঘী পূর্ণিমা ভগবান বিষ্ণু ও মা লক্ষ্মীর পূজার জন্য বিশেষভাবে উৎসর্গীকৃত একটি তিথি । এই দিনে গুরু বৃহস্পতি দেবতা স্বর্গ থেকে পৃথিবীতে এসে ত্রিবেণী সঙ্গমে উপস্থিত হন বলে পুরাণে উল্লেখ আছে । বিশেষত প্রয়াগরাজের সঙ্গমে এই তিথিতে স্নান করলে চিরন্তন পুণ্যলাভ হয় এবং অসংখ্য জন্মের পাপ বিনষ্ট হয় ।
বৌদ্ধ ধর্মে মাঘী পূর্ণিমা
বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের জন্যও মাঘী পূর্ণিমা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন । এই দিনে গৌতম বুদ্ধ তাঁর পরিনির্বাণের ঘোষণা করেছিলেন । কথিত আছে যে, বুদ্ধদেবের এই সংকল্প গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে প্রচণ্ড ভূমিকম্পন শুরু হয়েছিল । বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের কাছে এই দিনটি আত্মশক্তির উন্নয়ন এবং সকল ক্লেশ বিনাশপূর্বক কল্যাণময় নির্বাণ লাভের সামর্থ্য অর্জনের প্রতীক ।
মাঘী পূর্ণিমার পূজা বিধি ও আচার-অনুষ্ঠান
মাঘী পূর্ণিমায় বিশেষ পূজা-পদ্ধতি এবং আচার-অনুষ্ঠান পালন করা হয়, যা ভক্তদের আধ্যাত্মিক উন্নতি এবং পুণ্যলাভের জন্য অত্যন্ত জরুরি ।
প্রাতঃকালীন স্নান বিধি
মাঘী পূর্ণিমায় ব্রাহ্মমুহূর্তে অর্থাৎ সূর্যোদয়ের আগে পবিত্র নদী বা জলাশয়ে স্নান করা সর্বাধিক পুণ্যদায়ক । শাস্ত্রে বলা হয়েছে যে, তারা লুপ্ত হওয়ার আগে স্নান করলে উত্তম ফল, তারা লুপ্ত হওয়ার পরে কিন্তু সূর্যোদয়ের আগে স্নান করলে মধ্যম ফল এবং সূর্যোদয়ের পরে স্নান করলে সাধারণ ফল পাওয়া যায় । বিশেষত গঙ্গা, যমুনা এবং সরস্বতীর সঙ্গমে স্নান করা সর্বশ্রেষ্ঠ বলে মনে করা হয় ।
পূজা পদ্ধতি
স্নানের পর পবিত্র বস্ত্র পরিধান করে প্রথমে সূর্যদেবকে তিলমিশ্রিত জল অর্পণ করতে হয় । এরপর পঞ্চোপচার বিধিতে ভগবান বিষ্ণু এবং মা লক্ষ্মীর পূজা করা হয় । মাঘী পূর্ণিমায় সত্যনারায়ণ ব্রত কথা পাঠ করা বিশেষ ফলপ্রদ বলে বিবেচিত হয় । পূজার শেষে আরতি করে প্রসাদ বিতরণ করতে হয় ।
দান ও ধ্যানের বিধান
মাঘী পূর্ণিমায় দান করা অত্যন্ত পুণ্যকর কাজ হিসেবে শাস্ত্রে উল্লিখিত । এই দিনে তিল, বস্ত্র, কম্বল, গুড়, তুলা, ঘি, লাডু, ফল, অন্ন, স্বর্ণ ও রৌপ্য দান করার বিধান রয়েছে । গরিব ও অসহায়দের খাদ্য ও বস্ত্র দান করলে বিশেষ পুণ্য অর্জিত হয় । পিতৃতর্পণ এবং শ্রাদ্ধকর্ম করাও এই দিনে অত্যন্ত ফলপ্রদ ।
মাঘী পূর্ণিমার উপবাস বিধি
মাঘী পূর্ণিমায় ব্রত পালন করা ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে অত্যন্ত মাহাত্ম্যপূর্ণ । এই ব্রত পালনের মাধ্যমে ভক্তরা আত্মশুদ্ধি, মানসিক প্রশান্তি এবং শারীরিক সুস্থতা লাভ করেন ।
উপবাসের নিয়ম
ব্রতের দিন সূর্যোদয়ে শুরু করে চন্দ্রোদয় পর্যন্ত উপবাস পালন করতে হয় । সম্পূর্ণ নিরাহারে থাকা সবচেয়ে উত্তম, তবে শারীরিক অসুবিধা হলে একবার ফলাহার করা যায় । উপবাসে লবণ, শস্য, ডাল এবং তামসিক খাদ্য সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ । সন্ধ্যায় পূর্ণিমার চাঁদ দেখে পূজা করার পর প্রসাদ গ্রহণ করে ব্রত সম্পন্ন করতে হয় ।
করণীয় ও বর্জনীয়
করণীয়:
-
ব্রাহ্মমুহূর্তে ঘুম থেকে ওঠা
-
পবিত্র স্নান সম্পন্ন করা
-
সূর্যদেবকে জলদান করা
-
ভগবান বিষ্ণু ও লক্ষ্মীদেবীর পূজা করা
-
দরিদ্রদের দান করা
-
মন্ত্রজপ ও ধ্যান করা
বর্জনীয়:
-
মাংস, পেঁয়াজ, রসুন সেবন
-
মদ্যপান ও নেশাজাতীয় দ্রব্য
-
তিলের তেল ব্যবহার
-
ক্রোধ ও মিথ্যা কথা
-
অপবিত্র চিন্তা
মাঘী পূর্ণিমার উপকারিতা ও ফলশ্রুতি
শাস্ত্র এবং জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী, মাঘী পূর্ণিমায় ব্রত পালন, পূজা-অর্চনা এবং দান করলে অসংখ্য উপকার পাওয়া যায় ।
আধ্যাত্মিক লাভ
মাঘী পূর্ণিমায় পবিত্র স্নান এবং পূজা করলে আধ্যাত্মিক শুদ্ধি ঘটে । ধ্যান, যোগ এবং মন্ত্রজপ করলে মনে শান্তি আসে এবং মানসিক স্পষ্টতা বৃদ্ধি পায় । এই দিনে পূর্ণিমার শক্তি সর্বোচ্চ থাকে বলে ভক্তদের আধ্যাত্মিক রূপান্তরণ এবং নিরাময় সহজতর হয় ।
পার্থিব সুখ-সমৃদ্ধি
মাঘী পূর্ণিমার দিনে প্রার্থনা করলে সমৃদ্ধি, সুখ এবং মনোবাঞ্ছা পূর্ণ হয় বলে বিশ্বাস করা হয় । দান করলে সুকর্ম ও আশীর্বাদ প্রাপ্তি ঘটে । পরিবারের সদস্যদের সাথে পূজা-অর্চনা করলে পারিবারিক বন্ধন দৃঢ় হয় এবং গৃহে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় থাকে ।
স্বাস্থ্যগত সুবিধা
মাঘী পূর্ণিমার উপবাস শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ দূর করে এবং হজমশক্তি উন্নত করে । পূর্ণিমার তিথি শরীর ও মনের মধ্যে ভারসাম্য স্থাপন করে এবং বিপাকীয় প্রক্রিয়াগুলিতে স্থিতিশীলতা আনে । এছাড়া অম্লতার মতো পেটের সমস্যা হ্রাস পায় ।
মাঘ মেলা ও ত্রিবেণী সঙ্গমে স্নানের বিশেষত্ব
মাঘী পূর্ণিমা মাঘ মেলার একটি প্রধান দিন হিসেবে পরিচিত । প্রয়াগরাজের ত্রিবেণী সঙ্গমে এই দিনে লক্ষ লক্ষ ভক্ত পবিত্র স্নান করতে আসেন । সঙ্গম হল গঙ্গা, যমুনা এবং সরস্বতী নদীর মিলনস্থল, যা হিন্দু ধর্মে অত্যন্ত পবিত্র স্থান হিসেবে বিবেচিত ।
কল্পবাসের সমাপ্তি
মাঘী পূর্ণিমা কল্পবাসী তীর্থযাত্রীদের এক মাসব্যাপী তপস্যার সমাপ্তি চিহ্নিত করে । কল্পবাসীরা সমগ্র মাঘ মাস ধরে সঙ্গমের তীরে অবস্থান করে প্রতিদিন স্নান, পূজা এবং ধ্যান করেন । মাঘী পূর্ণিমার দিনে তারা চূড়ান্ত স্নান সম্পন্ন করে তাদের তপস্যা সম্পূর্ণ করেন ।
পর্ব স্নান
মাঘী পূর্ণিমায় সঙ্গমে যে স্নান করা হয় তাকে ‘পর্ব স্নান’ বলা হয় । এই স্নান সকল দুঃখ ও যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দেয় এবং আত্মাকে শুদ্ধ করে বলে বিশ্বাস করা হয় । শাস্ত্রে উল্লেখ আছে যে, এই স্নান করলে জন্ম-মৃত্যুর চক্র থেকে মুক্তি পাওয়া যায় ।
বিভিন্ন রাজ্যে মাঘী পূর্ণিমার উদযাপন
ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে মাঘী পূর্ণিমা নিজস্ব ঐতিহ্য ও রীতি অনুসারে পালিত হয় ।
পশ্চিমবঙ্গে মাঘী পূর্ণিমা
পশ্চিমবঙ্গে মাঘী পূর্ণিমা অত্যন্ত ভক্তি ও শ্রদ্ধার সাথে পালিত হয় । মন্দিরে মন্দিরে কীর্তন ও হরিনাম সংকীর্তন আয়োজিত হয় । ভক্তরা গঙ্গায় স্নান করে সত্যনারায়ণ পূজা এবং লক্ষ্মী পূজা সম্পন্ন করেন । স্নান, ধ্যান ও দান এই তিনটি কর্তব্য মাঘী পূর্ণিমায় অবশ্য পালনীয় হিসেবে বিবেচিত ।
উত্তরপ্রদেশে উদযাপন
উত্তরপ্রদেশে, বিশেষত প্রয়াগরাজ ও বারাণসীতে মাঘী পূর্ণিমা অত্যন্ত জাঁকজমকের সাথে পালিত হয় । প্রয়াগরাজের সঙ্গমে লক্ষ লক্ষ তীর্থযাত্রী সমবেত হন । বারাণসীর গঙ্গাঘাটেও বিশাল সমাবেশ হয় ।
মহারাষ্ট্রে মাঘী গণেশ জয়ন্তী
মহারাষ্ট্রে মাঘী পূর্ণিমা ‘মাঘী গণেশ জয়ন্তী’ নামে পরিচিত । এই দিনে ভক্তরা ভগবান গণেশের পূজা করেন এবং বিশেষ প্রার্থনা ও আচার পালন করেন ।
রাজস্থানে পালন
রাজস্থানে মাঘী পূর্ণিমা ‘মাঘি পূর্ণিমা’ নামে উদযাপিত হয় । এখানে পবিত্র নদী ও হ্রদে স্নান করা এবং মন্দিরে পূজা করা প্রচলিত ।
বৌদ্ধ সম্প্রদায়ে মাঘী পূর্ণিমার আচার
বৌদ্ধ বিহারে মাঘী পূর্ণিমায় বিশেষ আয়োজন করা হয় । এদিন প্রতিটি বিহারে বুদ্ধপূজা, শীলগ্রহণ, ভিক্ষুসংঘকে পিণ্ডদান, প্রদীপপূজা, অনিত্যভাবনা এবং ধর্মীয় সভার আয়োজন হয় । বৌদ্ধ ভক্তরা এই দিনে বুদ্ধের শিক্ষা স্মরণ করেন এবং নির্বাণ লাভের জন্য সাধনা করেন ।
মাঘী পূর্ণিমা ২০২৬: বিশেষ জ্যোতিষীয় যোগ
২০২৬ সালের মাঘী পূর্ণিমায় কয়েকটি বিশেষ জ্যোতিষীয় যোগ তৈরি হচ্ছে । রবিপুষ্য যোগসহ আরও অনেক শুভ যোগ এই দিনে উপস্থিত থাকবে । জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী, এই যোগসমূহ ভক্তদের জন্য অতিরিক্ত পুণ্য ও আশীর্বাদ বয়ে আনবে ।
পূর্ণিমার শক্তি
পূর্ণিমার দিনে চন্দ্রের শক্তি সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকে । এই শক্তি ইতিবাচক শক্তি বৃদ্ধি করে এবং ব্যক্তিগত রূপান্তরণ, নিরাময় এবং আধ্যাত্মিক বৃদ্ধির জন্য একটি শক্তিশালী সময় হিসেবে বিবেচিত হয় । মন্ত্র জপ, ধ্যান এবং পবিত্র স্থান পরিদর্শন এই শক্তিকে কাজে লাগানোর উপায় ।
মাঘী পূর্ণিমায় দান-ধ্যানের মাহাত্ম্য
মাঘ মাসে স্নান, দান এবং জপ করলে সাধারণ দিনের তুলনায় বহুগুণ বেশি ফল পাওয়া যায় বলে শাস্ত্রে উল্লেখ রয়েছে । মাঘী পূর্ণিমার দিনে এই ফল আরও বৃদ্ধি পায় । তাই এই দিনে যথাসাধ্য দান করা এবং গরিবদের সেবা করা অত্যন্ত পুণ্যদায়ক ।
দানের তালিকা
শাস্ত্রীয় বিধান অনুযায়ী মাঘী পূর্ণিমায় নিম্নলিখিত বস্তু দান করা উচিত:
-
তিল
-
বস্ত্র ও কম্বল
-
খাদ্যশস্য
-
ফল ও মিষ্টান্ন
-
ঘি ও তেল
-
গুড় ও চিনি
-
স্বর্ণ ও রৌপ্য (সামর্থ্য অনুযায়ী)
ব্রাহ্মণদের এবং গরিব-দুঃখীদের দান করলে বিশেষ পুণ্যলাভ হয় । মন্দির ও বিহারে দান করাও অত্যন্ত ফলপ্রসূ ।
মাঘী পূর্ণিমা ও সত্যনারায়ণ ব্রত
মাঘী পূর্ণিমায় সত্যনারায়ণ ব্রত কথা পাঠ করা বিশেষভাবে ফলপ্রদ বলে বিবেচিত হয় । এই ব্রত পালন করলে ভগবান বিষ্ণুর বিশেষ কৃপা লাভ হয় এবং সকল মনোকামনা পূর্ণ হয় । পূজার সময় পীত বস্ত্র পরিধান করা এবং হলুদ রঙের ফুল ও প্রসাদ ব্যবহার করা শুভ ।
পিতৃতর্পণ ও শ্রাদ্ধকর্ম
মাঘী পূর্ণিমায় পিতৃদের উদ্দেশে তর্পণ এবং শ্রাদ্ধকর্ম করা অত্যন্ত মাহাত্ম্যপূর্ণ । এই কার্য সম্পাদন করলে পিতৃগণের আত্মার শান্তি হয় এবং পরিবারে সুখ-সমৃদ্ধি আসে । তীর্থস্থানে বিশেষত সঙ্গমে পিতৃতর্পণ করলে পূর্বপুরুষরা মুক্তি লাভ করেন বলে বিশ্বাস করা হয় ।
মাঘী পূর্ণিমায় মন্ত্র ও প্রার্থনা
মাঘী পূর্ণিমায় বিশেষ মন্ত্র জপ করা উচিত। ভগবান বিষ্ণুর মন্ত্র, মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র এবং গায়ত্রী মন্ত্র জপ করলে বিশেষ ফল পাওয়া যায় । এছাড়া হরিনাম সংকীর্তন করাও অত্যন্ত পুণ্যদায়ক ।
প্রধান মন্ত্র
বিষ্ণু মন্ত্র: “ওঁ নমো নারায়ণায়”
মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র: শিবের এই মন্ত্র জপ করলে দীর্ঘায়ু এবং রোগমুক্তি হয়
গায়ত্রী মন্ত্র: সূর্যদেবকে উদ্দেশ্য করে এই মন্ত্র জপ করলে জ্ঞান ও বুদ্ধি বৃদ্ধি পায়
মাঘী পূর্ণিমার পরে করণীয়
মাঘী পূর্ণিমার পরেও ধর্মীয় কার্যকলাপ অব্যাহত রাখা উচিত। নিয়মিত পূজা-অর্চনা, দান, এবং ধ্যান করলে মাঘী পূর্ণিমার পুণ্যফল দীর্ঘস্থায়ী হয় । আধ্যাত্মিক সাধনায় নিয়মিততা বজায় রাখলে জীবনে শান্তি ও সমৃদ্ধি আসে ।
মাঘী পূর্ণিমা ২০২৬ সালে ১ ফেব্রুয়ারি রবিবার পালিত হবে যা হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য অত্যন্ত পবিত্র ও মাহাত্ম্যপূর্ণ একটি তিথি । এই দিনে পবিত্র স্নান, পূজা-অর্চনা, দান-ধ্যান এবং ব্রত পালনের মাধ্যমে ভক্তরা আধ্যাত্মিক শুদ্ধি ও পুণ্যলাভ করতে পারেন । বিশেষত ব্রাহ্মমুহূর্তে স্নান এবং বিভিন্ন শুভ মুহূর্তে পূজা সম্পন্ন করলে সর্বোচ্চ ফল পাওয়া যায় । মাঘী পূর্ণিমার পুণ্যতিথিতে প্রয়াগরাজের ত্রিবেণী সঙ্গমসহ বিভিন্ন তীর্থস্থানে লক্ষ লক্ষ ভক্ত সমবেত হন এবং পবিত্র স্নান করে আশীর্বাদ লাভ করেন । এই পূর্ণিমা কেবলমাত্র ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের দিন নয়, বরং আত্মশুদ্ধি, পারিবারিক সম্প্রীতি এবং সামাজিক কল্যাণের একটি মাধ্যম । তাই সকল ভক্তদের উচিত এই পবিত্র তিথিকে সঠিকভাবে পালন করা এবং শাস্ত্রীয় বিধি মেনে পূজা-অর্চনা করা।











