মহাশিবরাত্রি ২০২৬: প্রহর সময়, তারিখ, পূজার মুহূর্ত এবং আধ্যাত্মিক তাৎপর্য – সম্পূর্ণ নির্দেশিকা

Maha Shivratri 2026 Prahar Time: মহাশিবরাত্রি ২০২৬ আসছে ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে রবিবার । হিন্দু ধর্মের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উৎসবগুলির মধ্যে একটি এই মহাশিবরাত্রি, যা ভগবান শিবের উপাসনার জন্য সমর্পিত এক…

Avatar

 

Maha Shivratri 2026 Prahar Time: মহাশিবরাত্রি ২০২৬ আসছে ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে রবিবার । হিন্দু ধর্মের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উৎসবগুলির মধ্যে একটি এই মহাশিবরাত্রি, যা ভগবান শিবের উপাসনার জন্য সমর্পিত এক বিশেষ রাত্রি । এই পবিত্র রাতে ভক্তরা চারটি প্রহরে পূজা-অর্চনা করে, রাত্রিভর জাগরণ করে এবং ভোলেনাথের আশীর্বাদ লাভের জন্য উপবাস পালন করেন । এবারের মহাশিবরাত্রিতে নিশীথ কালের বিশেষ মুহূর্তে পূজা করার একটি অত্যন্ত শুভ সময় পাওয়া যাবে ।

মহাশিবরাত্রি ২০২৬-এর তারিখ ও তিথি

মহাশিবরাত্রি ফাল্গুন মাসের কৃষ্ণ পক্ষের চতুর্দশী তিথিতে পালিত হয় । ২০২৬ সালে এই পবিত্র তিথি শুরু হবে ১৫ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৫টা ০৪ মিনিট থেকে এবং শেষ হবে ১৬ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৫টা ৩৪ মিনিটে । উত্তর ভারতীয় ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ফাল্গুন মাসের মাসিক শিবরাত্রিকে মহাশিবরাত্রি বলা হয়, যখন দক্ষিণ ভারতীয় ক্যালেন্ডারে মাঘ মাসের কৃষ্ণ পক্ষের চতুর্দশীকে মহাশিবরাত্রি হিসেবে গণ্য করা হয় । তবে উভয় ক্যালেন্ডার অনুসারে একই দিনে এই উৎসব পালিত হয় ।

হিন্দু ধর্মে বছরে দুইবার মহাশিবরাত্রি উদযাপিত হয় – প্রথমটি ফাল্গুন মাসের কৃষ্ণ পক্ষের চতুর্দশী তিথিতে এবং দ্বিতীয়টি শ্রাবণ মাসের কৃষ্ণ পক্ষের চতুর্দশী তিথিতে । শ্রাবণ মাসের শিবরাত্রিকে গুপ্ত শিবরাত্রি বলা হয় এবং এই সময়ে মন্ত্র সিদ্ধি করা হয় । ২০২৬ সালে শ্রাবণ মাসের মহাশিবরাত্রি আসবে ১১ আগস্ট ২০২৬ তারিখে ।

চারটি প্রহরের পূজার সময়সূচী

মহাশিবরাত্রির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো চার প্রহরে ভগবান শিবের পূজা করা । সারা রাত জেগে এই চারটি প্রহরে পৃথকভাবে পূজা-অর্চনা করা হয় । রাত্রিকালকে চারটি সমান ভাগে ভাগ করে প্রতিটি প্রহরে শিবলিঙ্গের অভিষেক এবং বিশেষ পূজা সম্পন্ন করা হয় ।

মহাশিবরাত্রি ২০২৬-এর প্রহর সময়সূচী

প্রহর তারিখ ও সময় সময়কাল
প্রথম প্রহর ১৫ ফেব্রুয়ারি, সন্ধ্যা ৬টা ১১ মিনিট থেকে রাত ৯টা ২৩ মিনিট ৩ ঘণ্টা ১২ মিনিট
দ্বিতীয় প্রহর ১৫ ফেব্রুয়ারি, রাত ৯টা ২৩ মিনিট থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারি, মধ্যরাত ১২টা ৩৫ মিনিট ৩ ঘণ্টা ১২ মিনিট
তৃতীয় প্রহর ১৬ ফেব্রুয়ারি, মধ্যরাত ১২টা ৩৫ মিনিট থেকে ভোর ৩টা ৪৭ মিনিট ৩ ঘণ্টা ১২ মিনিট
চতুর্থ প্রহর ১৬ ফেব্রুয়ারি, ভোর ৩টা ৪৭ মিনিট থেকে সকাল ৬টা ৫৯ মিনিট ৩ ঘণ্টা ১২ মিনিট
প্রতিটি প্রহরে ভক্তরা শিবলিঙ্গকে দুধ, জল, মধু, দই এবং ঘি দিয়ে স্নান করান । এরপর বেলপাতা, ধুতুরা ফুল, আকন্দ ফুল, চাল এবং অন্যান্য পবিত্র উপকরণ অর্পণ করা হয় ।

নিশীথ কালের বিশেষ মুহূর্ত

মহাশিবরাত্রির সবচেয়ে পবিত্র এবং শক্তিশালী সময় হলো নিশীথ কাল । এই সময়েই ভগবান শিব লিঙ্গ রূপে পৃথিবীতে আবির্ভূত হয়েছিলেন বলে বিশ্বাস করা হয় । ২০২৬ সালের মহাশিবরাত্রিতে নিশীথ কালের পূজার সময় হবে ১৬ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত ১২টা ০৯ মিনিট থেকে ১টা ০১ মিনিট পর্যন্ত – মাত্র ৫১ মিনিটের একটি অত্যন্ত শুভ মুহূর্ত । এই সময়ে পূজা করলে বিশেষ ফলপ্রাপ্তি হয় এবং মনোবাঞ্ছা পূর্ণ হয় বলে শাস্ত্রে উল্লেখ রয়েছে ।

নিশীথ কালে রুদ্রাভিষেক করার বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে । এই সময়ে শিবলিঙ্গে জল, দুধ, দই, মধু এবং ঘি দিয়ে অভিষেক করা হয় এবং ওঁ নমঃ শিবায় ও মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র জপ করা হয় ।

মহাশিবরাত্রির ব্রত ও পারণের নিয়ম

শিবরাত্রির ব্রত পালন একটি কঠোর উপবাস যা সূর্যোদয় থেকে পরের দিন সূর্যোদয় পর্যন্ত পালিত হয় । অনেক ভক্ত নির্জলা উপবাস রাখেন, অর্থাৎ জল পর্যন্ত গ্রহণ করেন না । ব্রতের একদিন আগে, সম্ভবত ত্রয়োদশী তিথিতে, ভক্তদের দিনে একবার মাত্র খাবার খাওয়া উচিত ।

ব্রত পালনের নিয়ম

শিবরাত্রির দিন সকালে স্নান সেরে সংকল্প গ্রহণ করতে হয় । সংকল্পের সময় ভক্তরা সারাদিন উপবাস পালন করার এবং পরের দিন খাবার গ্রহণ করার শপথ নেন । এই সংকল্প গ্রহণের মাধ্যমে ভক্তরা আত্মনিয়ন্ত্রণের জন্য অঙ্গীকারবদ্ধ হন এবং সফলভাবে উপবাস সম্পন্ন করার জন্য ভগবান শিবের আশীর্বাদ কামনা করেন ।

উপবাসের সময় সাত্ত্বিক খাবার যেমন ফল, দুধ, দুগ্ধজাত পণ্য এবং মূল সবজি খাওয়া যেতে পারে । তবে শস্য এবং ডাল জাতীয় খাবার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ । নারকেল ভগবান শিবকে অর্পণ করা যায়, কিন্তু নারকেলের জল নিবেদন করা উচিত নয় ।

পারণের সময়

ব্রত পারণ অর্থাৎ উপবাস ভাঙার সময়ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ । পরের দিন সকালে স্নান করার পর সূর্যোদয় এবং চতুর্দশী তিথি শেষ হওয়ার মধ্যে ব্রত পারণ করতে হয় । এই সময়ে পারণ করলে ব্রতের সর্বোচ্চ ফলপ্রাপ্তি হয় । কিছু মতানুসারে, চতুর্দশী তিথি সম্পূর্ণ শেষ হওয়ার পরেই ব্রত পারণ করা উচিত । তবে সাধারণভাবে মনে করা হয় যে শিব পূজা এবং পারণ উভয়ই চতুর্দশী তিথির মধ্যেই সম্পন্ন করা উচিত ।

মহাশিবরাত্রির পূজা বিধি ও অনুষ্ঠান

মহাশিবরাত্রির পূজা একটি বিস্তৃত এবং পবিত্র প্রক্রিয়া যা সঠিক নিয়ম মেনে করা হয় । এই পূজায় বিভিন্ন পদক্ষেপ এবং উপকরণ প্রয়োজন হয় ।

পূজার প্রস্তুতি

পূজার দিন ব্রহ্ম মুহূর্তে ঘুম থেকে উঠে ভগবান শিব এবং মা পার্বতীকে প্রণাম করে দিন শুরু করতে হয় । গঙ্গাজল মিশ্রিত জল দিয়ে স্নান করতে হয় । এরপর সূর্য দেবতাকে অর্ঘ্য প্রদান করা হয় । সন্ধ্যার সময় পুনরায় স্নান করে মন্দিরে যেতে হয় অথবা বাড়িতে শিব পূজা করতে হয় ।

শিবলিঙ্গের অভিষেক

পূজার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো শিবলিঙ্গের অভিষেক । ঘি, দুধ, দই, চিনি এবং মধু দিয়ে পঞ্চামৃত তৈরি করে শিবলিঙ্গকে স্নান করাতে হয় । এরপর জল, দুধ, গঙ্গাজল, জাফরান এবং মধু দিয়ে অভিষেক করতে হয় । বেলপাতা, ধুতুরা, আকন্দ ফুল, চাল এবং ভাং পাতা শিবলিঙ্গে অর্পণ করা হয় ।

শিবলিঙ্গে জল ঢালার প্রতীকী অর্থ হলো আত্মাকে পবিত্র করা এবং ভক্তি ও বিশ্বাস প্রকাশ করা । বেলপাতা অর্পণের পর সিঁদুর এবং চন্দন দেওয়া হয়, যা ধর্মাচরণের প্রতীক ।

মন্ত্র জপ ও প্রার্থনা

পূজার সময় ১০৮ বার “ওঁ নমঃ শিবায়” মন্ত্র জপ করা আবশ্যক । মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র এবং শিব পুরাণ পাঠ করা অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয় । মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র হলো একটি শক্তিশালী মন্ত্র যা মৃত্যুকে জয় করার এবং দীর্ঘায়ু লাভের জন্য জপ করা হয় ।

আরতি ও প্রদক্ষিণ

পূজা সম্পন্ন করার পর ভগবান শিবের আরতি করতে হয় এবং প্রদক্ষিণ করতে হয় । দীপ এবং ধূপ জ্বালিয়ে আরতি করা হয় । মন্দিরে গিয়ে সমবেত পূজায় অংশগ্রহণ করাও একটি গুরুত্বপূর্ণ রীতি ।

মহাশিবরাত্রির আধ্যাত্মিক ও ধার্মিক তাৎপর্য

মহাশিবরাত্রির গভীর আধ্যাত্মিক এবং ধার্মিক তাৎপর্য রয়েছে । এই পর্ব অন্ধকারের উপর আলোর এবং অজ্ঞানতার উপর জ্ঞানের বিজয়ের প্রতীক ।

ভগবান শিব ও মা পার্বতীর বিবাহ

ধর্মীয় বিশ্বাস অনুসারে, ফাল্গুন মাসের চতুর্দশী তিথিতে ভগবান শিব এবং দেবী পার্বতীর মিলন হয়েছিল । ভগবান শিব বৈরাগ্য ত্যাগ করে দেবী পার্বতীকে বিবাহ করে গৃহস্থ জীবনে প্রবেশ করেছিলেন । এই কারণে প্রতি বছর ফাল্গুন মাসের চতুর্দশী তিথিতে ভগবান শিব এবং মা পার্বতীর বিবাহ উদযাপন করার জন্য মহাশিবরাত্রি পালিত হয় । এই দিনে উপবাস, জলাভিষেক এবং পূজা করলে বৈবাহিক জীবনের সকল সমস্যা দূর হয় বলে বিশ্বাস করা হয় ।

দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গের আবির্ভাব

মহাশিবরাত্রির দিনেই সমস্ত দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গ প্রকট হয়েছিল । এই ১২টি জ্যোতির্লিঙ্গের আবির্ভাবের আনন্দে মহাশিবরাত্রির উৎসব অত্যন্ত ভালোবাসা এবং ভক্তির সাথে পালিত হয় । জ্যোতির্লিঙ্গগুলি হলো ভগবান শিবের সর্বোচ্চ শক্তির প্রতীক এবং ভারতের বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত ।

আধ্যাত্মিক জাগরণ

মহাশিবরাত্রির সারারাত জাগরণ আধ্যাত্মিক জাগরণের প্রতীক । এই রাত্রিজাগরণকে “জাগরণ” বলা হয় এবং এটি মানুষের মধ্যে আধ্যাত্মিক চেতনা জাগ্রত করে । ভক্তরা সারারাত জেগে প্রার্থনা এবং ধ্যানে মগ্ন থাকেন ।

তাণ্ডব নৃত্য

কিংবদন্তি অনুসারে, মহাশিবরাত্রির রাতে ভগবান শিব তাণ্ডব নৃত্য পরিবেশন করেছিলেন । এই মহাজাগতিক নৃত্য সৃষ্টি, সংরক্ষণ এবং ধ্বংসের চক্রের প্রতীক । তাণ্ডব নৃত্য মহাবিশ্বের অনন্ত চক্রকে প্রতিনিধিত্ব করে ।

শিব ও শক্তির মিলন

শিবরাত্রি হলো শিব এবং শক্তির মহান মিলনের পর্ব । এই পর্ব পুরুষ এবং প্রকৃতির মিলনকে প্রতিনিধিত্ব করে, যা সৃষ্টির মূল ভিত্তি । শিব এবং পার্বতীর মিলন আধ্যাত্মিক এবং জাগতিক শক্তির সমন্বয়ের প্রতীক ।

মহাশিবরাত্রির সাংস্কৃতিক গুরুত্ব

মহাশিবরাত্রি শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং এটি একটি বড় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও । ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে এবং বিশ্বজুড়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে এই পর্ব অত্যন্ত উৎসাহ এবং ভক্তির সাথে উদযাপিত হয় ।

মন্দিরে উৎসব

মহাশিবরাত্রির দিন সমস্ত শিব মন্দিরে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় । কাশী বিশ্বনাথ মন্দির, মহাকালেশ্বর মন্দির, সোমনাথ মন্দির এবং ঈশা যোগ কেন্দ্রে বিশাল উৎসব পালিত হয় । ভক্তরা বিশেষ পূজায় অংশগ্রহণ করতে মন্দিরে যান এবং ভগবান শিবের আশীর্বাদ প্রার্থনা করেন ।

শিব মন্দিরে রাত্রিকালে বিশেষ পূজা অনুষ্ঠিত হয় । ভক্তরা শিবলিঙ্গে দুধ, জল, বেলপাতা এবং অন্যান্য পবিত্র উপকরণ অর্পণ করেন । রাতভর বিশেষ পূজা এবং অভিষেক চলতে থাকে ।

ভক্তিমূলক সঙ্গীত ও প্রবচন

অনেক স্থানে মহাশিবরাত্রিতে সাংস্কৃতিক এবং আধ্যাত্মিক কর্মসূচির আয়োজন করা হয় । ভক্তিমূলক গান, ভজন এবং ভগবান শিব সম্পর্কে প্রবচন এই অনুষ্ঠানগুলিতে সাধারণ । শিব তাণ্ডব স্তোত্র এবং অন্যান্য শিব ভজন পরিবেশন করা হয় ।

সম্প্রদায়গত অংশগ্রহণ

মহাশিবরাত্রি একটি সাম্প্রদায়িক উৎসব যেখানে সব স্তরের মানুষ একসাথে এসে উদযাপন করে । এটি ভক্তদের মধ্যে ঐক্য এবং ভক্তিভাব জাগিয়ে তোলে । সমাজের সকল শ্রেণীর মানুষ এই পর্বে একসাথে মিলিত হন ।

মহাশিবরাত্রিতে করণীয় ও বর্জনীয়

মহাশিবরাত্রির ব্রত এবং পূজা পালন করার সময় কিছু নিয়ম মেনে চলা উচিত । এই নিয়মগুলি মেনে চললে ব্রতের সম্পূর্ণ ফল পাওয়া যায় এবং ভগবান শিবের আশীর্বাদ লাভ হয় ।

করণীয় কাজসমূহ

উপবাসের দিন ভোরে উঠে পবিত্র স্নান করে নতুন বস্ত্র পরিধান করতে হয় । উপবাসের সময় সাত্ত্বিক এবং ব্রত-উপযোগী খাবার যেমন ফল, দুধ, দুগ্ধজাত পণ্য এবং মূল সবজি খাওয়া যায় । শিবলিঙ্গকে জল, দুধ, জাফরান, মধু এবং গঙ্গাজল দিয়ে স্নান করাতে হয় । দীপ এবং ধূপ জ্বালাতে হয় ।

ভক্তদের পুরো রাত জেগে থাকা উচিত এবং চার প্রহরে পূজা করা উচিত । ধ্যান এবং শিব মন্ত্র জপ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ । মন্দিরে গিয়ে দর্শন করা এবং সামাজিক পূজায় অংশগ্রহণ করা শুভ ।

বর্জনীয় কাজসমূহ

উপবাসের সময় শস্য এবং ডাল জাতীয় নিষিদ্ধ খাবার খাওয়া উচিত নয় । নারকেল ভগবান শিবকে অর্পণ করা যায়, কিন্তু নারকেলের জল নিবেদন করা উচিত নয় । ভগবান শিবকে যা অর্পণ করা হয়েছে তা গ্রহণ করা উচিত নয়, কারণ এটি দুর্ভাগ্য বয়ে আনে বলে বিশ্বাস করা হয় ।

উপবাসের সময় অতিরিক্ত চা এবং কফি পান করা উচিত নয়, কারণ এটি শরীরে পানিশূন্যতা সৃষ্টি করতে পারে । নেতিবাচক চিন্তা এবং ক্রোধ পরিহার করা উচিত । পূজার সময় মনোযোগ ভঙ্গ করে এমন কাজ থেকে দূরে থাকতে হবে ।

মহাশিবরাত্রির বৈজ্ঞানিক ও জ্যোতিষশাস্ত্রীয় দিক

মহাশিবরাত্রি শুধু ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে নয়, বরং জ্যোতিষশাস্ত্রীয় এবং বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকেও গুরুত্বপূর্ণ । এই রাতে চাঁদের অবস্থান বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ ।

কৃষ্ণ পক্ষের চতুর্দশী তিথিতে চাঁদ প্রায় অদৃশ্য থাকে এবং এই সময় মনের উপর চাঁদের প্রভাব সবচেয়ে কম থাকে । এই কারণে এই রাত ধ্যান এবং আধ্যাত্মিক সাধনার জন্য অত্যন্ত উপযুক্ত । মানুষের মন শান্ত থাকে এবং গভীর ধ্যানে মগ্ন হওয়া সহজ হয় ।

আধ্যাত্মিক শক্তির দৃষ্টিকোণ থেকে, এই রাতে পৃথিবীর উত্তর গোলার্ধে মানুষের শক্তি প্রাকৃতিকভাবে ঊর্ধ্বমুখী হয় । এই কারণে সারারাত জেগে থাকা এবং ধ্যান করা বিশেষ উপকারী । শারীরিক এবং মানসিক উভয় স্তরে এই রাতের প্রভাব অনুভূত হয় ।

মহাশিবরাত্রি ২০২৬-এর প্রস্তুতি

মহাশিবরাত্রির জন্য আগে থেকে প্রস্তুতি নেওয়া উচিত যাতে সমস্ত রীতিনীতি সঠিকভাবে পালন করা যায় । পূজার উপকরণ সংগ্রহ করা, মানসিক প্রস্তুতি নেওয়া এবং ব্রতের নিয়ম জানা গুরুত্বপূর্ণ ।

পূজার জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণগুলির মধ্যে রয়েছে – দুধ, দই, মধু, ঘি, চিনি, বেলপাতা, ধুতুরা ফুল, আকন্দ ফুল, সিঁদুর, চন্দন, দীপ, ধূপ, ফল, চাল এবং গঙ্গাজল । এই সমস্ত উপকরণ আগে থেকে সংগ্রহ করে রাখা উচিত ।

মানসিক প্রস্তুতির জন্য ব্রতের একদিন আগে থেকে সাত্ত্বিক খাবার খাওয়া শুরু করা উচিত । নেতিবাচক চিন্তা এবং ক্রোধ ত্যাগ করে শান্ত মনে থাকার চেষ্টা করা উচিত । ভগবান শিবের ধ্যান করা এবং তাঁর কাছে মনোবাঞ্ছা প্রার্থনা করার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকা জরুরি ।

মহাশিবরাত্রির ব্রতের উপকারিতা

মহাশিবরাত্রির ব্রত এবং পূজা পালন করলে অনেক আধ্যাত্মিক এবং জাগতিক উপকার পাওয়া যায় বলে শাস্ত্রে উল্লেখ রয়েছে । ভক্তি এবং বিশ্বাসের সাথে এই ব্রত পালন করলে জীবনে শান্তি এবং সমৃদ্ধি আসে ।

এই ব্রত পালন করলে বৈবাহিক জীবনের সমস্যা দূর হয় এবং দাম্পত্য জীবনে সুখ-শান্তি আসে । অবিবাহিতরা উপযুক্ত জীবনসঙ্গী পান । আর্থিক সমস্যা দূর হয় এবং জীবনে সমৃদ্ধি আসে । শারীরিক এবং মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি হয় ।

আধ্যাত্মিক দৃষ্টিকোণ থেকে, এই ব্রত পালন করলে মনে শান্তি আসে এবং আত্মজ্ঞান লাভ হয় । পাপ-তাপ নাশ হয় এবং জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসে । ভগবান শিবের আশীর্বাদে জীবনের সকল বাধা দূর হয় এবং মনোবাঞ্ছা পূর্ণ হয় ।

মহাশিবরাত্রি ২০২৬ হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং পবিত্র দিন, যা ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে পালিত হবে । এই পর্বে চার প্রহরে পূজা, সারারাত জাগরণ এবং ব্রত পালনের মাধ্যমে ভক্তরা ভগবান শিবের আশীর্বাদ লাভ করার চেষ্টা করেন । নিশীথ কালের বিশেষ ৫১ মিনিটের শুভ মুহূর্তে পূজা করা অত্যন্ত ফলপ্রদ বলে বিশ্বাস করা হয় । এই পবিত্র রাতে ভগবান শিব এবং মা পার্বতীর আরাধনা করলে জীবনে শান্তি, সমৃদ্ধি এবং আধ্যাত্মিক জাগরণ হয় । সঠিক নিয়ম মেনে ব্রত পালন এবং পূজা-অর্চনা করলে মনোবাঞ্ছা পূর্ণ হয় এবং জীবনের সকল সমস্যা দূর হয় । এই মহাপর্বে ভগবান শিবের কৃপায় সকলের জীবনে সুখ-শান্তি এবং মঙ্গল বর্ষিত হোক ।

About Author
Avatar

আমাদের স্টাফ রিপোর্টারগণ সর্বদা নিষ্ঠার সাথে কাজ করে যাচ্ছেন যাতে আপনি বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের সর্বশেষ ও গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে পারেন। তাঁদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও প্রতিশ্রুতি আমাদের ওয়েবসাইটকে একটি বিশ্বস্ত তথ্যের উৎস হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।তারা নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ রিপোর্টিংয়ে বিশ্বাসী, দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক প্রতিবেদন তৈরিতে সক্ষম

আরও পড়ুন