শিবরাত্রি 2026 প্রহর সময়

মহাশিবরাত্রি ২০২৬: প্রহর সময়, তারিখ, পূজার মুহূর্ত এবং আধ্যাত্মিক তাৎপর্য – সম্পূর্ণ নির্দেশিকা

Maha Shivratri 2026 Prahar Time: মহাশিবরাত্রি ২০২৬ আসছে ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে রবিবার । হিন্দু ধর্মের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উৎসবগুলির মধ্যে একটি এই মহাশিবরাত্রি, যা ভগবান শিবের উপাসনার জন্য সমর্পিত এক বিশেষ রাত্রি । এই পবিত্র রাতে ভক্তরা চারটি প্রহরে পূজা-অর্চনা…

Updated Now: February 15, 2026 11:40 AM
বিজ্ঞাপন

Maha Shivratri 2026 Prahar Time: মহাশিবরাত্রি ২০২৬ আসছে ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে রবিবার । হিন্দু ধর্মের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উৎসবগুলির মধ্যে একটি এই মহাশিবরাত্রি, যা ভগবান শিবের উপাসনার জন্য সমর্পিত এক বিশেষ রাত্রি । এই পবিত্র রাতে ভক্তরা চারটি প্রহরে পূজা-অর্চনা করে, রাত্রিভর জাগরণ করে এবং ভোলেনাথের আশীর্বাদ লাভের জন্য উপবাস পালন করেন । এবারের মহাশিবরাত্রিতে নিশীথ কালের বিশেষ মুহূর্তে পূজা করার একটি অত্যন্ত শুভ সময় পাওয়া যাবে ।

মহাশিবরাত্রি ২০২৬-এর তারিখ ও তিথি

মহাশিবরাত্রি ফাল্গুন মাসের কৃষ্ণ পক্ষের চতুর্দশী তিথিতে পালিত হয় । ২০২৬ সালে এই পবিত্র তিথি শুরু হবে ১৫ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৫টা ০৪ মিনিট থেকে এবং শেষ হবে ১৬ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৫টা ৩৪ মিনিটে । উত্তর ভারতীয় ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ফাল্গুন মাসের মাসিক শিবরাত্রিকে মহাশিবরাত্রি বলা হয়, যখন দক্ষিণ ভারতীয় ক্যালেন্ডারে মাঘ মাসের কৃষ্ণ পক্ষের চতুর্দশীকে মহাশিবরাত্রি হিসেবে গণ্য করা হয় । তবে উভয় ক্যালেন্ডার অনুসারে একই দিনে এই উৎসব পালিত হয় ।

হিন্দু ধর্মে বছরে দুইবার মহাশিবরাত্রি উদযাপিত হয় – প্রথমটি ফাল্গুন মাসের কৃষ্ণ পক্ষের চতুর্দশী তিথিতে এবং দ্বিতীয়টি শ্রাবণ মাসের কৃষ্ণ পক্ষের চতুর্দশী তিথিতে । শ্রাবণ মাসের শিবরাত্রিকে গুপ্ত শিবরাত্রি বলা হয় এবং এই সময়ে মন্ত্র সিদ্ধি করা হয় । ২০২৬ সালে শ্রাবণ মাসের মহাশিবরাত্রি আসবে ১১ আগস্ট ২০২৬ তারিখে ।

চারটি প্রহরের পূজার সময়সূচী

মহাশিবরাত্রির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো চার প্রহরে ভগবান শিবের পূজা করা । সারা রাত জেগে এই চারটি প্রহরে পৃথকভাবে পূজা-অর্চনা করা হয় । রাত্রিকালকে চারটি সমান ভাগে ভাগ করে প্রতিটি প্রহরে শিবলিঙ্গের অভিষেক এবং বিশেষ পূজা সম্পন্ন করা হয় ।

মহাশিবরাত্রি ২০২৬-এর প্রহর সময়সূচী

প্রহরতারিখ ও সময়সময়কাল
প্রথম প্রহর১৫ ফেব্রুয়ারি, সন্ধ্যা ৬টা ১১ মিনিট থেকে রাত ৯টা ২৩ মিনিট৩ ঘণ্টা ১২ মিনিট
দ্বিতীয় প্রহর১৫ ফেব্রুয়ারি, রাত ৯টা ২৩ মিনিট থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারি, মধ্যরাত ১২টা ৩৫ মিনিট৩ ঘণ্টা ১২ মিনিট
তৃতীয় প্রহর১৬ ফেব্রুয়ারি, মধ্যরাত ১২টা ৩৫ মিনিট থেকে ভোর ৩টা ৪৭ মিনিট৩ ঘণ্টা ১২ মিনিট
চতুর্থ প্রহর১৬ ফেব্রুয়ারি, ভোর ৩টা ৪৭ মিনিট থেকে সকাল ৬টা ৫৯ মিনিট৩ ঘণ্টা ১২ মিনিট
প্রতিটি প্রহরে ভক্তরা শিবলিঙ্গকে দুধ, জল, মধু, দই এবং ঘি দিয়ে স্নান করান । এরপর বেলপাতা, ধুতুরা ফুল, আকন্দ ফুল, চাল এবং অন্যান্য পবিত্র উপকরণ অর্পণ করা হয় ।

নিশীথ কালের বিশেষ মুহূর্ত

মহাশিবরাত্রির সবচেয়ে পবিত্র এবং শক্তিশালী সময় হলো নিশীথ কাল । এই সময়েই ভগবান শিব লিঙ্গ রূপে পৃথিবীতে আবির্ভূত হয়েছিলেন বলে বিশ্বাস করা হয় । ২০২৬ সালের মহাশিবরাত্রিতে নিশীথ কালের পূজার সময় হবে ১৬ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত ১২টা ০৯ মিনিট থেকে ১টা ০১ মিনিট পর্যন্ত – মাত্র ৫১ মিনিটের একটি অত্যন্ত শুভ মুহূর্ত । এই সময়ে পূজা করলে বিশেষ ফলপ্রাপ্তি হয় এবং মনোবাঞ্ছা পূর্ণ হয় বলে শাস্ত্রে উল্লেখ রয়েছে ।

নিশীথ কালে রুদ্রাভিষেক করার বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে । এই সময়ে শিবলিঙ্গে জল, দুধ, দই, মধু এবং ঘি দিয়ে অভিষেক করা হয় এবং ওঁ নমঃ শিবায় ও মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র জপ করা হয় ।

মহাশিবরাত্রির ব্রত ও পারণের নিয়ম

শিবরাত্রির ব্রত পালন একটি কঠোর উপবাস যা সূর্যোদয় থেকে পরের দিন সূর্যোদয় পর্যন্ত পালিত হয় । অনেক ভক্ত নির্জলা উপবাস রাখেন, অর্থাৎ জল পর্যন্ত গ্রহণ করেন না । ব্রতের একদিন আগে, সম্ভবত ত্রয়োদশী তিথিতে, ভক্তদের দিনে একবার মাত্র খাবার খাওয়া উচিত ।

ব্রত পালনের নিয়ম

শিবরাত্রির দিন সকালে স্নান সেরে সংকল্প গ্রহণ করতে হয় । সংকল্পের সময় ভক্তরা সারাদিন উপবাস পালন করার এবং পরের দিন খাবার গ্রহণ করার শপথ নেন । এই সংকল্প গ্রহণের মাধ্যমে ভক্তরা আত্মনিয়ন্ত্রণের জন্য অঙ্গীকারবদ্ধ হন এবং সফলভাবে উপবাস সম্পন্ন করার জন্য ভগবান শিবের আশীর্বাদ কামনা করেন ।

উপবাসের সময় সাত্ত্বিক খাবার যেমন ফল, দুধ, দুগ্ধজাত পণ্য এবং মূল সবজি খাওয়া যেতে পারে । তবে শস্য এবং ডাল জাতীয় খাবার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ । নারকেল ভগবান শিবকে অর্পণ করা যায়, কিন্তু নারকেলের জল নিবেদন করা উচিত নয় ।

পারণের সময়

ব্রত পারণ অর্থাৎ উপবাস ভাঙার সময়ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ । পরের দিন সকালে স্নান করার পর সূর্যোদয় এবং চতুর্দশী তিথি শেষ হওয়ার মধ্যে ব্রত পারণ করতে হয় । এই সময়ে পারণ করলে ব্রতের সর্বোচ্চ ফলপ্রাপ্তি হয় । কিছু মতানুসারে, চতুর্দশী তিথি সম্পূর্ণ শেষ হওয়ার পরেই ব্রত পারণ করা উচিত । তবে সাধারণভাবে মনে করা হয় যে শিব পূজা এবং পারণ উভয়ই চতুর্দশী তিথির মধ্যেই সম্পন্ন করা উচিত ।

মহাশিবরাত্রির পূজা বিধি ও অনুষ্ঠান

মহাশিবরাত্রির পূজা একটি বিস্তৃত এবং পবিত্র প্রক্রিয়া যা সঠিক নিয়ম মেনে করা হয় । এই পূজায় বিভিন্ন পদক্ষেপ এবং উপকরণ প্রয়োজন হয় ।

পূজার প্রস্তুতি

পূজার দিন ব্রহ্ম মুহূর্তে ঘুম থেকে উঠে ভগবান শিব এবং মা পার্বতীকে প্রণাম করে দিন শুরু করতে হয় । গঙ্গাজল মিশ্রিত জল দিয়ে স্নান করতে হয় । এরপর সূর্য দেবতাকে অর্ঘ্য প্রদান করা হয় । সন্ধ্যার সময় পুনরায় স্নান করে মন্দিরে যেতে হয় অথবা বাড়িতে শিব পূজা করতে হয় ।

শিবলিঙ্গের অভিষেক

পূজার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো শিবলিঙ্গের অভিষেক । ঘি, দুধ, দই, চিনি এবং মধু দিয়ে পঞ্চামৃত তৈরি করে শিবলিঙ্গকে স্নান করাতে হয় । এরপর জল, দুধ, গঙ্গাজল, জাফরান এবং মধু দিয়ে অভিষেক করতে হয় । বেলপাতা, ধুতুরা, আকন্দ ফুল, চাল এবং ভাং পাতা শিবলিঙ্গে অর্পণ করা হয় ।

শিবলিঙ্গে জল ঢালার প্রতীকী অর্থ হলো আত্মাকে পবিত্র করা এবং ভক্তি ও বিশ্বাস প্রকাশ করা । বেলপাতা অর্পণের পর সিঁদুর এবং চন্দন দেওয়া হয়, যা ধর্মাচরণের প্রতীক ।

মন্ত্র জপ ও প্রার্থনা

পূজার সময় ১০৮ বার “ওঁ নমঃ শিবায়” মন্ত্র জপ করা আবশ্যক । মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র এবং শিব পুরাণ পাঠ করা অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয় । মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র হলো একটি শক্তিশালী মন্ত্র যা মৃত্যুকে জয় করার এবং দীর্ঘায়ু লাভের জন্য জপ করা হয় ।

আরতি ও প্রদক্ষিণ

পূজা সম্পন্ন করার পর ভগবান শিবের আরতি করতে হয় এবং প্রদক্ষিণ করতে হয় । দীপ এবং ধূপ জ্বালিয়ে আরতি করা হয় । মন্দিরে গিয়ে সমবেত পূজায় অংশগ্রহণ করাও একটি গুরুত্বপূর্ণ রীতি ।

মহাশিবরাত্রির আধ্যাত্মিক ও ধার্মিক তাৎপর্য

মহাশিবরাত্রির গভীর আধ্যাত্মিক এবং ধার্মিক তাৎপর্য রয়েছে । এই পর্ব অন্ধকারের উপর আলোর এবং অজ্ঞানতার উপর জ্ঞানের বিজয়ের প্রতীক ।

ভগবান শিব ও মা পার্বতীর বিবাহ

ধর্মীয় বিশ্বাস অনুসারে, ফাল্গুন মাসের চতুর্দশী তিথিতে ভগবান শিব এবং দেবী পার্বতীর মিলন হয়েছিল । ভগবান শিব বৈরাগ্য ত্যাগ করে দেবী পার্বতীকে বিবাহ করে গৃহস্থ জীবনে প্রবেশ করেছিলেন । এই কারণে প্রতি বছর ফাল্গুন মাসের চতুর্দশী তিথিতে ভগবান শিব এবং মা পার্বতীর বিবাহ উদযাপন করার জন্য মহাশিবরাত্রি পালিত হয় । এই দিনে উপবাস, জলাভিষেক এবং পূজা করলে বৈবাহিক জীবনের সকল সমস্যা দূর হয় বলে বিশ্বাস করা হয় ।

দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গের আবির্ভাব

মহাশিবরাত্রির দিনেই সমস্ত দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গ প্রকট হয়েছিল । এই ১২টি জ্যোতির্লিঙ্গের আবির্ভাবের আনন্দে মহাশিবরাত্রির উৎসব অত্যন্ত ভালোবাসা এবং ভক্তির সাথে পালিত হয় । জ্যোতির্লিঙ্গগুলি হলো ভগবান শিবের সর্বোচ্চ শক্তির প্রতীক এবং ভারতের বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত ।

আধ্যাত্মিক জাগরণ

মহাশিবরাত্রির সারারাত জাগরণ আধ্যাত্মিক জাগরণের প্রতীক । এই রাত্রিজাগরণকে “জাগরণ” বলা হয় এবং এটি মানুষের মধ্যে আধ্যাত্মিক চেতনা জাগ্রত করে । ভক্তরা সারারাত জেগে প্রার্থনা এবং ধ্যানে মগ্ন থাকেন ।

তাণ্ডব নৃত্য

কিংবদন্তি অনুসারে, মহাশিবরাত্রির রাতে ভগবান শিব তাণ্ডব নৃত্য পরিবেশন করেছিলেন । এই মহাজাগতিক নৃত্য সৃষ্টি, সংরক্ষণ এবং ধ্বংসের চক্রের প্রতীক । তাণ্ডব নৃত্য মহাবিশ্বের অনন্ত চক্রকে প্রতিনিধিত্ব করে ।

শিব ও শক্তির মিলন

শিবরাত্রি হলো শিব এবং শক্তির মহান মিলনের পর্ব । এই পর্ব পুরুষ এবং প্রকৃতির মিলনকে প্রতিনিধিত্ব করে, যা সৃষ্টির মূল ভিত্তি । শিব এবং পার্বতীর মিলন আধ্যাত্মিক এবং জাগতিক শক্তির সমন্বয়ের প্রতীক ।

মহাশিবরাত্রির সাংস্কৃতিক গুরুত্ব

মহাশিবরাত্রি শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং এটি একটি বড় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও । ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে এবং বিশ্বজুড়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে এই পর্ব অত্যন্ত উৎসাহ এবং ভক্তির সাথে উদযাপিত হয় ।

মন্দিরে উৎসব

মহাশিবরাত্রির দিন সমস্ত শিব মন্দিরে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় । কাশী বিশ্বনাথ মন্দির, মহাকালেশ্বর মন্দির, সোমনাথ মন্দির এবং ঈশা যোগ কেন্দ্রে বিশাল উৎসব পালিত হয় । ভক্তরা বিশেষ পূজায় অংশগ্রহণ করতে মন্দিরে যান এবং ভগবান শিবের আশীর্বাদ প্রার্থনা করেন ।

শিব মন্দিরে রাত্রিকালে বিশেষ পূজা অনুষ্ঠিত হয় । ভক্তরা শিবলিঙ্গে দুধ, জল, বেলপাতা এবং অন্যান্য পবিত্র উপকরণ অর্পণ করেন । রাতভর বিশেষ পূজা এবং অভিষেক চলতে থাকে ।

ভক্তিমূলক সঙ্গীত ও প্রবচন

অনেক স্থানে মহাশিবরাত্রিতে সাংস্কৃতিক এবং আধ্যাত্মিক কর্মসূচির আয়োজন করা হয় । ভক্তিমূলক গান, ভজন এবং ভগবান শিব সম্পর্কে প্রবচন এই অনুষ্ঠানগুলিতে সাধারণ । শিব তাণ্ডব স্তোত্র এবং অন্যান্য শিব ভজন পরিবেশন করা হয় ।

সম্প্রদায়গত অংশগ্রহণ

মহাশিবরাত্রি একটি সাম্প্রদায়িক উৎসব যেখানে সব স্তরের মানুষ একসাথে এসে উদযাপন করে । এটি ভক্তদের মধ্যে ঐক্য এবং ভক্তিভাব জাগিয়ে তোলে । সমাজের সকল শ্রেণীর মানুষ এই পর্বে একসাথে মিলিত হন ।

মহাশিবরাত্রিতে করণীয় ও বর্জনীয়

মহাশিবরাত্রির ব্রত এবং পূজা পালন করার সময় কিছু নিয়ম মেনে চলা উচিত । এই নিয়মগুলি মেনে চললে ব্রতের সম্পূর্ণ ফল পাওয়া যায় এবং ভগবান শিবের আশীর্বাদ লাভ হয় ।

করণীয় কাজসমূহ

উপবাসের দিন ভোরে উঠে পবিত্র স্নান করে নতুন বস্ত্র পরিধান করতে হয় । উপবাসের সময় সাত্ত্বিক এবং ব্রত-উপযোগী খাবার যেমন ফল, দুধ, দুগ্ধজাত পণ্য এবং মূল সবজি খাওয়া যায় । শিবলিঙ্গকে জল, দুধ, জাফরান, মধু এবং গঙ্গাজল দিয়ে স্নান করাতে হয় । দীপ এবং ধূপ জ্বালাতে হয় ।

ভক্তদের পুরো রাত জেগে থাকা উচিত এবং চার প্রহরে পূজা করা উচিত । ধ্যান এবং শিব মন্ত্র জপ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ । মন্দিরে গিয়ে দর্শন করা এবং সামাজিক পূজায় অংশগ্রহণ করা শুভ ।

বর্জনীয় কাজসমূহ

উপবাসের সময় শস্য এবং ডাল জাতীয় নিষিদ্ধ খাবার খাওয়া উচিত নয় । নারকেল ভগবান শিবকে অর্পণ করা যায়, কিন্তু নারকেলের জল নিবেদন করা উচিত নয় । ভগবান শিবকে যা অর্পণ করা হয়েছে তা গ্রহণ করা উচিত নয়, কারণ এটি দুর্ভাগ্য বয়ে আনে বলে বিশ্বাস করা হয় ।

উপবাসের সময় অতিরিক্ত চা এবং কফি পান করা উচিত নয়, কারণ এটি শরীরে পানিশূন্যতা সৃষ্টি করতে পারে । নেতিবাচক চিন্তা এবং ক্রোধ পরিহার করা উচিত । পূজার সময় মনোযোগ ভঙ্গ করে এমন কাজ থেকে দূরে থাকতে হবে ।

মহাশিবরাত্রির বৈজ্ঞানিক ও জ্যোতিষশাস্ত্রীয় দিক

মহাশিবরাত্রি শুধু ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে নয়, বরং জ্যোতিষশাস্ত্রীয় এবং বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকেও গুরুত্বপূর্ণ । এই রাতে চাঁদের অবস্থান বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ ।

কৃষ্ণ পক্ষের চতুর্দশী তিথিতে চাঁদ প্রায় অদৃশ্য থাকে এবং এই সময় মনের উপর চাঁদের প্রভাব সবচেয়ে কম থাকে । এই কারণে এই রাত ধ্যান এবং আধ্যাত্মিক সাধনার জন্য অত্যন্ত উপযুক্ত । মানুষের মন শান্ত থাকে এবং গভীর ধ্যানে মগ্ন হওয়া সহজ হয় ।

আধ্যাত্মিক শক্তির দৃষ্টিকোণ থেকে, এই রাতে পৃথিবীর উত্তর গোলার্ধে মানুষের শক্তি প্রাকৃতিকভাবে ঊর্ধ্বমুখী হয় । এই কারণে সারারাত জেগে থাকা এবং ধ্যান করা বিশেষ উপকারী । শারীরিক এবং মানসিক উভয় স্তরে এই রাতের প্রভাব অনুভূত হয় ।

মহাশিবরাত্রি ২০২৬-এর প্রস্তুতি

মহাশিবরাত্রির জন্য আগে থেকে প্রস্তুতি নেওয়া উচিত যাতে সমস্ত রীতিনীতি সঠিকভাবে পালন করা যায় । পূজার উপকরণ সংগ্রহ করা, মানসিক প্রস্তুতি নেওয়া এবং ব্রতের নিয়ম জানা গুরুত্বপূর্ণ ।

পূজার জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণগুলির মধ্যে রয়েছে – দুধ, দই, মধু, ঘি, চিনি, বেলপাতা, ধুতুরা ফুল, আকন্দ ফুল, সিঁদুর, চন্দন, দীপ, ধূপ, ফল, চাল এবং গঙ্গাজল । এই সমস্ত উপকরণ আগে থেকে সংগ্রহ করে রাখা উচিত ।

মানসিক প্রস্তুতির জন্য ব্রতের একদিন আগে থেকে সাত্ত্বিক খাবার খাওয়া শুরু করা উচিত । নেতিবাচক চিন্তা এবং ক্রোধ ত্যাগ করে শান্ত মনে থাকার চেষ্টা করা উচিত । ভগবান শিবের ধ্যান করা এবং তাঁর কাছে মনোবাঞ্ছা প্রার্থনা করার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকা জরুরি ।

মহাশিবরাত্রির ব্রতের উপকারিতা

মহাশিবরাত্রির ব্রত এবং পূজা পালন করলে অনেক আধ্যাত্মিক এবং জাগতিক উপকার পাওয়া যায় বলে শাস্ত্রে উল্লেখ রয়েছে । ভক্তি এবং বিশ্বাসের সাথে এই ব্রত পালন করলে জীবনে শান্তি এবং সমৃদ্ধি আসে ।

এই ব্রত পালন করলে বৈবাহিক জীবনের সমস্যা দূর হয় এবং দাম্পত্য জীবনে সুখ-শান্তি আসে । অবিবাহিতরা উপযুক্ত জীবনসঙ্গী পান । আর্থিক সমস্যা দূর হয় এবং জীবনে সমৃদ্ধি আসে । শারীরিক এবং মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি হয় ।

আধ্যাত্মিক দৃষ্টিকোণ থেকে, এই ব্রত পালন করলে মনে শান্তি আসে এবং আত্মজ্ঞান লাভ হয় । পাপ-তাপ নাশ হয় এবং জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসে । ভগবান শিবের আশীর্বাদে জীবনের সকল বাধা দূর হয় এবং মনোবাঞ্ছা পূর্ণ হয় ।

মহাশিবরাত্রি ২০২৬ হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং পবিত্র দিন, যা ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে পালিত হবে । এই পর্বে চার প্রহরে পূজা, সারারাত জাগরণ এবং ব্রত পালনের মাধ্যমে ভক্তরা ভগবান শিবের আশীর্বাদ লাভ করার চেষ্টা করেন । নিশীথ কালের বিশেষ ৫১ মিনিটের শুভ মুহূর্তে পূজা করা অত্যন্ত ফলপ্রদ বলে বিশ্বাস করা হয় । এই পবিত্র রাতে ভগবান শিব এবং মা পার্বতীর আরাধনা করলে জীবনে শান্তি, সমৃদ্ধি এবং আধ্যাত্মিক জাগরণ হয় । সঠিক নিয়ম মেনে ব্রত পালন এবং পূজা-অর্চনা করলে মনোবাঞ্ছা পূর্ণ হয় এবং জীবনের সকল সমস্যা দূর হয় । এই মহাপর্বে ভগবান শিবের কৃপায় সকলের জীবনে সুখ-শান্তি এবং মঙ্গল বর্ষিত হোক ।