ম্যাট লিপস্টিক পরলে ঠোঁট ফাটে কেন? সমাধান ও যত্নের সম্পূর্ণ গাইড

ম্যাট লিপস্টিক আমাদের মেকআপ ব্যাগের একটা প্রিয় আইটেম, তাই না? কিন্তু অনেক মেয়েরই একই সমস্যা – ম্যাট লিপস্টিক পরার পরেই ঠোঁট রুক্ষ হয়ে যায়, ফেটে যায়। আসলে, ভারতে লিপস্টিক মার্কেট…

Debolina Roy

 

ম্যাট লিপস্টিক আমাদের মেকআপ ব্যাগের একটা প্রিয় আইটেম, তাই না? কিন্তু অনেক মেয়েরই একই সমস্যা – ম্যাট লিপস্টিক পরার পরেই ঠোঁট রুক্ষ হয়ে যায়, ফেটে যায়। আসলে, ভারতে লিপস্টিক মার্কেট ২০২৪ সালে ৬২৯.৪২ মিলিয়ন ডলার থেকে ২০৩২ সালে ১৩০৫.৬৯ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে, যেখানে ম্যাট ক্যাটাগরি সবচেয়ে দ্রুত বাড়ছে। কিন্তু এই জনপ্রিয়তার পাশাপাশি ঠোঁট ফাটার সমস্যাটাও বাড়ছে। চলুন দেখি কেন এমন হয় এবং কী করলে সমাধান পাওয়া যায়।

ম্যাট লিপস্টিক ঠোঁট শুকিয়ে ফেলে কেন?

আমাদের ঠোঁটের গঠন বাকি ত্বক থেকে একদম আলাদা, জানেন কি? ঠোঁটে মাত্র ৩-৪ লেয়ার স্কিন থাকে, যেখানে মুখের বাকি অংশে ১৫-১৬ লেয়ার পাওয়া যায়। আরও বড় কথা, ঠোঁটে সেবেসিয়াস গ্ল্যান্ড (তেল গ্রন্থি) বা সোয়েট গ্ল্যান্ড (ঘাম গ্রন্থি) থাকে না। তার মানে ঠোঁট নিজে থেকে আর্দ্রতা তৈরি করতে পারে না – এই কাজটা আমাদের করতে হয়।

ম্যাট ফর্মুলার রহস্য

ম্যাট লিপস্টিকে বেশি পরিমাণে পিগমেন্ট এবং পাউডার থাকে, যা ওই velvety ফিনিশ তৈরি করে। কিন্তু এই কম্পোজিশনের কারণেই এতে হাইড্রেটিং এজেন্ট অনেক কম থাকে। ট্রেডিশনাল ম্যাট ফর্মুলায় যে ইনগ্রেডিয়েন্টগুলো ব্যবহার হয়, সেগুলো আসলে ঠোঁট থেকে আর্দ্রতা শুষে নেয়। বিউটি এক্সপার্ট ডক্টর শেরিন ইদ্রিস বলেছেন, “লিপ স্টেইন এবং ম্যাট লিপস্টিক সময়ের সাথে ঠোঁট শুকিয়ে ফেলে কারণ এদের ফর্মুলেশন মোমজাতীয়, ফলে তেল কম থাকে। এটা ঠোঁটে গাঢ় রঙ দেয় কিন্তু হাইড্রেশন কমিয়ে দেয়।”

যেসব ইনগ্রেডিয়েন্ট দায়ী

ম্যাট লিপস্টিকে সাধারণত এইসব উপাদান থাকে যা ড্রাইনেস বাড়ায়:

  • অ্যালকোহল: দ্রুত শুকিয়ে যায় এবং আর্দ্রতা কেড়ে নেয়

  • হেভি ওয়াক্স: ঠোঁটকে টাইট এবং অস্বস্তিকর করে তোলে

  • প্যারাবেন: কেমিকাল প্রিজারভেটিভ যা সেনসিটিভ স্কিনে ইরিটেশন করতে পারে

  • সিন্থেটিক ডাই এবং ফ্রেগরেন্স: কার্মিন (E120) সহ কিছু ডাই ঠোঁটে অ্যালার্জি সৃষ্টি করতে পারে

শুধু লিপস্টিক নয়, আরও কারণ আছে

আপনি ভাবছেন, “আমি তো সব ঠিক করছি – জল খাচ্ছি, লিপ বাম লাগাচ্ছি, তবু কেন ঠোঁট ফাটছে?” দেখুন, শুধু লিপস্টিক নয়, আরও কিছু ফ্যাক্টর আছে।

ডিহাইড্রেশন

আমাদের শরীর যখন পর্যাপ্ত পানি পায় না, তখন সব টিস্যুতে আর্দ্রতা ধরে রাখা কঠিন হয়ে যায়। দিনে অন্তত ৮ গ্লাস জল খাওয়া জরুরি – এটা আপনার ঠোঁটকে ভিতর থেকে হাইড্রেট করবে।

আবহাওয়া এবং পরিবেশ

শীতকালে বা শুষ্ক আবহাওয়ায় ঠোঁট ফাটার সমস্যা বেশি হয়। এয়ার কন্ডিশনার রুমেও একই অবস্থা। পশ্চিমবঙ্গে শীতকালে আর্দ্রতা কমে যাওয়ায় এই সমস্যা আরও বাড়ে।

কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

অ্যাকনের চিকিৎসায় ব্যবহৃত কিছু ওষুধ (যেমন রেটিনয়েড) ত্বককে শুকিয়ে ফেলতে পারে। যদি আপনার ওষুধ খাওয়ার পর থেকে ঠোঁট বেশি শুকিয়ে যাচ্ছে, ডাক্তারের সাথে কথা বলুন।

ম্যাট লিপস্টিক পরার আগে প্রস্তুতি

আপনি কি জানেন, ম্যাট লিপস্টিকের সুন্দর ফিনিশ পেতে হলে প্রিপারেশনটাই ৭০% কাজ? সত্যি বলছি, যদি ঠোঁট ঠিকমতো প্রস্তুত না হয়, সবচেয়ে এক্সপেনসিভ লিপস্টিকও খারাপ লাগবে।

এক্সফোলিয়েশন মাস্ট

সপ্তাহে ১-২ বার ঠোঁট এক্সফোলিয়েট করা খুবই জরুরি। ডেড স্কিন সেলস সরিয়ে দিলে লিপস্টিক ইভেনলি অ্যাপ্লাই হয়। আপনি চাইলে বাড়িতে মধু আর চিনি মিশিয়ে লিপ স্ক্রাব বানাতে পারেন। ৩০ সেকেন্ড সার্কুলার মোশনে ঘষুন, বিশেষ করে যেখানে বেশি flaking হয়। তারপর হালকা গরম জলে ধুয়ে ক্লিন টাওয়েল দিয়ে আলতো করে শুকিয়ে নিন।

হাইড্রেশন লেয়ার তৈরি করুন

এক্সফোলিয়েশনের পরেই লিপ বাম লাগান। হায়ালুরোনিক অ্যাসিড (১-২% কনসেন্ট্রেশন), সেরামাইডস, ভিটামিন ই বা স্কোয়ালেন যুক্ত বাম বেছে নিন। পুরো ঠোঁটে পাতলা লেয়ারে লাগিয়ে ৩-৫ মিনিট অপেক্ষা করুন যাতে প্রোডাক্টটা ঢুকে যায়। তারপর টিস্যু দিয়ে আলতো করে ব্লট করুন – মাঝখানে বেশি, কিনারায় কম।

প্রাইমার বা বেস

অনেকেই এই স্টেপটা এড়িয়ে যান, কিন্তু honestly এটা গেম চেঞ্জার। একটা পাতলা লিপ প্রাইমার বা ক্লিয়ার প্রোটেক্টিভ বাম লাগালে পিগমেন্ট সরাসরি ঠোঁটে লাগে না। মেকআপ আর্টিস্টরা এই ট্রিকটা সবসময় ব্যবহার করেন।

সঠিক ম্যাট লিপস্টিক বাছাই

বাজারে এখন অনেক ব্র্যান্ড হাইড্রেটিং ম্যাট লিপস্টিক বানাচ্ছে। ২০২৫ সালের রিপোর্ট অনুযায়ী, মডার্ন ফর্মুলায় নিশ্চিত করা হচ্ছে যেন ম্যাট ফিনিশ পাওয়া যায় কিন্তু ঠোঁট শুকিয়ে না যায়।

যে ইনগ্রেডিয়েন্টগুলো খুঁজবেন

আপনার লিপস্টিকের ইনগ্রেডিয়েন্ট লিস্ট চেক করুন। এইগুলো থাকলে বুঝবেন ভালো প্রোডাক্ট:

  • হায়ালুরোনিক অ্যাসিড: পানি ধরে রাখতে সাহায্য করে এবং ঠোঁটকে প্ল্যাম্প রাখে

  • শিয়া বাটার/ম্যাঙ্গো বাটার: গভীর আর্দ্রতা এবং স্মুথনেস দেয়

  • ভিটামিন ই: অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট প্রোটেকশন সহ নিরাময় করে

  • জোজোবা অয়েল, আলমন্ড অয়েল, কোকোনাট অয়েল: সারাদিন হাইড্রেশন লক করে রাখে

  • স্কোয়ালেন: লাইটওয়েট কিন্তু ইন্টেন্স ময়েশ্চারাইজিং

  • সেরামাইডস: লিপ ব্যারিয়ার রিস্টোর করে

যা এড়িয়ে যাবেন

এই কম্পোনেন্টগুলো থাকলে সেই লিপস্টিক না কেনাই ভালো:

  • অ্যালকোহল (ডিনেচার্ড বা আইসোপ্রোপাইল)

  • হেভি ওয়াক্স

  • মেনথল বা স্যালিসিলিক অ্যাসিড

  • সিন্থেটিক ফ্রেগরেন্স

ব্র্যান্ড রেকমেন্ডেশন

Huda Beauty-র Liquid Matte Ultra-Comfort লিপস্টিকে Lip L.O.V.E Complex আছে (লাইকোপেন, অলিভ অয়েল, ভিটামিন A&E, এসেনশিয়াল ফ্যাটি অ্যাসিড)। এটা ৮ ঘণ্টা পরেও ঠোঁট সফট রাখে। Type Beauty Soak It Lipstick এবং Maybelline Creamy Matte-ও ভালো অপশন।

অ্যাপ্লিকেশন টেকনিক

লিপস্টিক কীভাবে লাগাচ্ছেন, সেটা matters। অনেক মেয়ে একবারে পুরু লেয়ার লাগিয়ে ফেলে – এটা ভুল।

থিন লেয়ার্স পদ্ধতি

প্রথমে লিপ লাইনার দিয়ে আউটলাইন এবং পুরো ঠোঁট ফিল করুন। এটা বেস তৈরি করে এবং লিপস্টিক দীর্ঘস্থায়ী করে। তারপর ম্যাট লিপস্টিক পাতলা লেয়ারে অ্যাপ্লাই করুন। প্রথম লেয়ার শুকানোর জন্য ১-২ মিনিট অপেক্ষা করুন। যদি আরও ইন্টেন্স কালার চান, তাহলে আরেকটা পাতলা লেয়ার দিন। মনে রাখবেন, দুইটা পাতলা লেয়ার একটা পুরু লেয়ারের চেয়ে ভালো কাজ করে এবং কম ড্রাইং।

সারাদিন কেয়ার

ম্যাট লিপস্টিক পরার পর ভাবছেন কাজ শেষ? না বাবা! পকেটে একটা লিপ বাম বা ট্রিটমেন্ট অয়েল রাখুন। লিপস্টিকের ওপরে বাম লাগাতে হবে প্যাটিং মোশনে, স্বাইপ করবেন না (স্বাইপ করলে কালার উঠে যাবে)। জল খাওয়ার সময় স্ট্র ব্যবহার করুন যাতে লিপস্টিক না ছুটে যায়। শুষ্ক পরিবেশে প্রতি ১-২ ঘণ্টায় রিঅ্যাপ্লাই করুন।

রাতের রুটিন – ঠোঁটকে রিপেয়ার করুন

দিনভর ম্যাট লিপস্টিক পরার পর রাতে ঠোঁটের বিশেষ যত্ন দরকার। আসলে, ঘুমের সময়টাই লিপ ব্যারিয়ার রিস্টোরেশনের সবচেয়ে ভালো সময়।

প্রপার রিমুভাল

কোনোমতে টিস্যু দিয়ে ঘষে লিপস্টিক তুলবেন না। তেল-ভিত্তিক মেকআপ রিমুভার কটন প্যাডে নিয়ে ঠোঁটে ১০ সেকেন্ড ধরে রাখুন যাতে লং-ওয়্যার ফর্মুলা ডিজলভ হয়। তারপর আলতো চাপ দিয়ে মুছে ফেলুন – জোরে ঘষবেন না, এতে লিপ টিস্যু ড্যামেজ হয়। সব তেল এবং রেসিডিউ তুলতে মাইসেলার ওয়াটার দিয়ে সেকেন্ড ক্লিঞ্জ করুন।

ইন্টেন্সিভ নাইট ট্রিটমেন্ট

এবার আসল খেলা। ওভারনাইট লিপ মাস্ক বা পুরু লিপ বাটার লাগান যেখানে শিয়া বাটার, ল্যানোলিন বা কোকোনাট অয়েল আছে। দিনে যে বাম লাগান তার চেয়ে অনেক বেশি পরিমাণে লাগাতে হবে। এটা ৬-৮ ঘণ্টা ঘুমের মধ্যে গভীরভাবে কাজ করবে। মধু বা কোকোনাট অয়েলের কম্প্রেসও খুব কার্যকর।

সাপ্তাহিক স্পেশাল কেয়ার

সপ্তাহে একবার একটু এক্সট্রা পেমপারিং করুন। একটা DIY লিপ মাস্ক বানান – মধু + গ্লিসারিন + ভিটামিন ই ক্যাপসুল। এটা ১৫-২০ মিনিট রেখে দিন। বা রেডিমেইড লিপ মাস্কও কিনতে পারেন যেখানে মুরুমুরু বাটার, বিজওয়াক্স থাকে।

লাইফস্টাইল চেঞ্জ এবং অভ্যাস

শুধু প্রোডাক্ট দিয়েই সব হবে না, কিছু অভ্যাস পাল্টাতে হবে আপনার।

হাইড্রেশন ফ্রম ইনসাইড

আমরা সবাই জানি জল খেতে হয়, কিন্তু আসলে কতটা? দিনে কমপক্ষে ২-৩ লিটার (৮-১০ গ্লাস) জল খান। আপনার ইউরিনের রঙ হালকা হলুদ হওয়া উচিত – ডার্ক ইয়েলো মানে ডিহাইড্রেশন। জল ছাড়াও হার্বাল টি, ডাবের জল, তরমুজ, শসা খেতে পারেন।

ঠোঁট চাটবেন না

আমি জানি, ঠোঁট শুকিয়ে গেলে জিভ দিয়ে চেটে ভেজাতে ইচ্ছে করে। কিন্তু সত্যি বলছি, এটা আরও খারাপ করে। লালা শুকিয়ে গেলে আগের চেয়ে বেশি শুষ্কতা আসে। বরং লিপ বাম সাথে রাখুন।

হিউমিডিফায়ার ব্যবহার করুন

এসি রুমে বা শীতকালে হিউমিডিফায়ার চালু রাখুন। এটা বাতাসে আর্দ্রতা যোগ করে এবং ঠোঁট সহ পুরো ত্বককে হেলদি রাখে।

সান প্রোটেকশন

অনেকেই জানেন না, ঠোঁটে মেলানিন নেই বলে সানবার্ন হওয়ার রিস্ক বেশি। SPF 15-30 যুক্ত লিপ বাম ব্যবহার করুন, বিশেষ করে বাইরে বের হওয়ার আগে।

কমন মিসটেক এবং সলিউশন

আমরা সবাই কিছু ভুল করি, জানেন? চলুন দেখি সবচেয়ে কমন মিসটেকগুলো কী এবং কীভাবে ঠিক করবেন।

মিসটেক ১: স্কিপিং প্রিপ

অনেকে তাড়াহুড়োয় সরাসরি লিপস্টিক লাগিয়ে ফেলেন। এতে লিপস্টিক ক্র্যাকড দেখায় এবং তাড়াতাড়ি শুকিয়ে যায়। সলিউশন হলো, যতই rush থাকুক, এক্সফোলিয়েট + হাইড্রেট + প্রাইম – এই ৩টা স্টেপ মিস করবেন না।

মিসটেক ২: এক্সপায়ার্ড প্রোডাক্ট

লিপস্টিকেরও এক্সপায়ারি ডেট আছে – সাধারণত ১-২ বছর। পুরনো লিপস্টিকের ফর্মুলা ব্রেক ডাউন হয়ে যায় এবং আরও বেশি ড্রাইং হয়ে যায়। যদি স্মেল বা টেক্সচার চেঞ্জ হয়, ফেলে দিন।

মিসটেক ৩: ওভার-পাউডারিং

কেউ কেউ লিপস্টিক সেট করতে লিপের ওপর পাউডার লাগান। এটা অতিরিক্ত শুকিয়ে ফেলে। বরং লিপ সেটিং স্প্রে ব্যবহার করুন।

মিসটেক ৪: একবার লাগিয়ে সারাদিন ভুলে যাওয়া

ম্যাট লিপস্টিক লং-ওয়্যারিং, কিন্তু তার মানে এই নয় যে ঠোঁটের যত্ন বন্ধ। মাঝে মাঝে হাইড্রেশন রিটাচ করতেই হবে।

প্রোডাক্ট রেকমেন্ডেশন – বাজেট অনুযায়ী

আপনার বাজেট যাই হোক না কেন, ভালো প্রোডাক্ট পাওয়া যায়।

বাজেট-ফ্রেন্ডলি

  • Maybelline Creamy Matte: হাইড্রেটিং এবং সারাদিন স্থায়ী

  • Nivea Caring Beauty Lip Balm: মাল্টি-ইউজ, সাশ্রয়ী

  • Dot & Key Gloss Boss Tinted Lip Balm SPF 30: ভিটামিন C + E এবং সান প্রোটেকশন

মিড-রেঞ্জ

  • Huda Beauty Liquid Matte Ultra-Comfort: Lip L.O.V.E Complex সহ, $20

  • Type Beauty Soak It Lipstick: লং-লাস্টিং হাইড্রেশন

  • Innisfree Dewy Tint Lip Balm: সেরামাইডস, হায়ালুরোনিক অ্যাসিড, ক্যামেলিয়া সিড অয়েল

প্রিমিয়াম

  • La Roche-Posay Cicaplast Lips Hydration Restore: সেনসিটিভ স্কিনের জন্য আদর্শ

  • The Ordinary Squalane + Amino Acids Hydrating Lip Balm: সায়েন্স-ব্যাকড ফর্মুলা

  • Jack Black Intense Therapy Lip Balm: ডার্মাটোলজিস্ট-রেকমেন্ডেড

কখন ডাক্তার দেখাবেন?

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সঠিক কেয়ারে ঠোঁট ফাটার সমস্যা সমাধান হয়ে যায়। কিন্তু যদি এইসব হয়, তাহলে ডার্মাটোলজিস্ট দেখান:

  • ক্রনিক ক্র্যাকিং যা সেরে না

  • ঠোঁট থেকে রক্ত পড়া

  • ইনফেকশনের লক্ষণ (পুঁজ, অতিরিক্ত ব্যথা)

  • ঠোঁটের রঙ পরিবর্তন

  • অ্যালার্জিক রিঅ্যাকশন (ফোলা, র‍্যাশ)

মাঝে মাঝে ভিটামিন B12 বা আয়রনের ঘাটতিও ঠোঁট ফাটার কারণ হতে পারে। ব্লাড টেস্ট করে নিশ্চিত হওয়া ভালো।

ডিআইওয়াই লিপ কেয়ার রেসিপি

বাড়িতে তৈরি প্রোডাক্ট অনেক সময় কিনে আনা প্রোডাক্টের চেয়ে ভালো কাজ করে কারণ এতে কোনো ক্ষতিকর কেমিক্যাল নেই।

হানি সুগার স্ক্রাব

১ চামচ মধু + ১ চামচ ব্রাউন সুগার মিশিয়ে নিন। সার্কুলার মোশনে ৩০ সেকেন্ড স্ক্রাব করুন। হালকা গরম জলে ধুয়ে ফেলুন।

ওভারনাইট লিপ মাস্ক

১ চামচ নারকেল তেল + ১/২ চামচ মধু + ১টা ভিটামিন ই ক্যাপসুল (লিকুইড) মিশিয়ে একটা ছোট কন্টেইনারে রাখুন। রাতে ঘুমানোর আগে পুরু লেয়ারে লাগান।

রোজ গ্লিসারিন সিরাম

গ্লিসারিন + রোজওয়াটার সমান অনুপাতে মিশিয়ে একটা ড্রপার বোতলে রাখুন। দিনে ২-৩ বার লাগান।

সিজনাল টিপস – বছরজুড়ে যত্ন

বছরের বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন সমস্যা আসে।

গ্রীষ্মকাল

গরমে ঘাম এবং রোদের কারণে ঠোঁট শুকিয়ে যায়। এসপিএফ লিপ বাম মাস্ট। হালকা, ওয়াটার-বেসড ফর্মুলা ব্যবহার করুন। বেশি জল খান।

বর্ষাকাল

আর্দ্রতা বেশি থাকায় এই সময় কম সমস্যা হয়। তবে মেকআপ রিমুভাল প্রপারলি করতে হবে যাতে ইনফেকশন না হয়।

শীতকাল

সবচেয়ে কঠিন সিজন। হেভি, বাটার-বেসড বাম ব্যবহার করুন। হিউমিডিফায়ার চালু রাখুন। বাইরে বের হলে স্কার্ফ দিয়ে মুখ ঢেকে রাখুন।

মিথ বনাম ফ্যাক্ট

অনেক ভুল ধারণা চালু আছে, চলুন কিছু ক্লিয়ার করি।

মিথ ১: ম্যাট লিপস্টিক একদমই পরা যাবে না
ফ্যাক্ট: মডার্ন হাইড্রেটিং ম্যাট ফর্মুলা আছে যা নিরাপদ। সঠিক প্রিপ এবং কেয়ার করলে কোনো সমস্যা নেই।

মিথ ২: ভ্যাসলিন সব সমস্যার সমাধান
ফ্যাক্ট: পেট্রোলিয়াম জেলি অক্লুসিভ – এটা মইশ্চার লক করে কিন্তু মইশ্চার অ্যাড করে না। প্রথমে হাইড্রেটিং সিরাম লাগিয়ে তারপর ভ্যাসলিন লাগালে বেস্ট কাজ হয়।

মিথ ৩: বেশি লিপ বাম লাগালে ঠোঁট আসক্ত হয়ে যায়
ফ্যাক্ট: লিপ বাম অ্যাডিকশন একটা মিথ। আসলে ড্রাইনেস বারবার ফিরে আসার কারণ আন্ডারলাইং ইস্যু, বাম লাগানো নয়।

মিথ ৪: এক্সপেনসিভ মানেই ভালো
ফ্যাক্ট: দাম নয়, ইনগ্রেডিয়েন্ট দেখে প্রোডাক্ট কিনুন। অনেক বাজেট ব্র্যান্ডে এক্সিলেন্ট ফর্মুলা পাওয়া যায়।

দ্রুত টিপস – এক নজরে

ব্যস্ত জীবনে এইগুলো মনে রাখুন:

  1. সকালে এক্সফোলিয়েট করুন (সপ্তাহে ১-২ বার)

  2. লিপস্টিকের আগে হাইড্রেটিং বেস লাগান

  3. থিন লেয়ারে অ্যাপ্লাই করুন

  4. প্যাটিং মোশনে রিটাচ করুন

  5. রাতে প্রপারলি রিমুভ করুন এবং নাইট ট্রিটমেন্ট লাগান

  6. পর্যাপ্ত জল পান করুন

  7. SPF লিপ বাম ব্যবহার করুন

  8. ঠোঁট চাটবেন না বা কামড়াবেন না

  9. হাইড্রেটিং মাস্ক সপ্তাহে একবার করুন

  10. ইনগ্রেডিয়েন্ট লিস্ট পড়ার অভ্যাস করুন

ম্যাট লিপস্টিক পরলে ঠোঁট ফাটবেই – এমনটা ভাবার কোনো কারণ নেই। সঠিক জ্ঞান এবং রুটিন থাকলে আপনি নির্দ্বিধায় আপনার প্রিয় ম্যাট শেড পরতে পারেন। মনে রাখবেন, ঠোঁট আমাদের মুখের সবচেয়ে ডেলিকেট অংশ – এরও নিয়মিত যত্ন দরকার, ঠিক যেমন আমরা ত্বকের বাকি অংশের যত্ন নিই। প্রতিদিন মাত্র ৫-১০ মিনিট লিপ কেয়ারে ব্যয় করলে দীর্ঘমেয়াদে অনেক বড় পার্থক্য দেখতে পাবেন। হাইড্রেটিং প্রোডাক্ট বেছে নিন, রেগুলার এক্সফোলিয়েট করুন, পর্যাপ্ত পানি পান করুন এবং রাতে ইন্টেন্সিভ ট্রিটমেন্ট করুন। এই সিম্পল স্টেপগুলো ফলো করলে আপনার ঠোঁট থাকবে সফট, স্মুথ এবং সবসময় লিপস্টিক-রেডি। তাহলে আর দেরি কেন? আজ থেকেই শুরু করুন আপনার লিপ কেয়ার জার্নি এবং কনফিডেন্টলি ফ্লন্ট করুন আপনার ফেভারিট ম্যাট লুক!

About Author
Debolina Roy

দেবলীনা রায় একজন চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্য বিষয়ক লেখক, যিনি স্বাস্থ্য সচেতনতা এবং চিকিৎসা বিজ্ঞান সম্পর্কে পাঠকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য নিবেদিত। ডাক্তারি নিয়ে পড়াশোনা করা দেবলীনা তার লেখায় চিকিৎসা বিষয়ক জটিল তথ্যগুলি সহজ ভাষায় উপস্থাপন করেন, যা সাধারণ পাঠকদের জন্য সহজবোধ্য এবং উপকারী। স্বাস্থ্য, পুষ্টি, এবং রোগ প্রতিরোধের বিষয়ে তার গভীর জ্ঞান এবং প্রাঞ্জল লেখনী পাঠকদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। দেবলীনা রায়ের লক্ষ্য হল সঠিক ও তথ্যনির্ভর স্বাস্থ্যবিধি প্রচার করা এবং মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করা।

আরও পড়ুন