আধুনিক সমাজে বিয়ে কি তবে একটি পণ্যে পরিণত হয়েছে, যার গায়ে সেঁটে দেওয়া হচ্ছে অদৃশ্য একটি ‘এক্সপায়ারি ডেট’ বা মেয়াদের তারিখ? ২০২৪-২৫ সালের বৈশ্বিক এবং ভারতীয় পরিসংখ্যান কিন্তু আমাদের সেই দিকেই আঙুল দিয়ে দেখাচ্ছে। সাম্প্রতিক Forbes এবং CDC (Centers for Disease Control and Prevention)-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী বিবাহবিচ্ছেদের হার উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে সম্পর্কের ‘মেইনটেন্যান্স’ বা নিয়মিত যত্নের অভাবেই অধিকাংশ আধুনিক বিয়ে ভেঙে যাচ্ছে। সম্পর্কের এই ভাঙন রোধে প্রয়োজন ‘এক্সপায়ারি ডেট’-এর ভয় নয়, বরং নিয়মিত ‘সার্ভিসিং’ বা মানসিক ও আবেগিক যত্ন। আজকের এই গভীর বিশ্লেষণে আমরা তুলে ধরব কেন আধুনিক দম্পতিরা অল্পতেই হাল ছেড়ে দিচ্ছেন এবং কেন দীর্ঘমেয়াদী সম্পর্কের চাবিকাঠি লুকিয়ে আছে ‘মেইনটেন্যান্স’-এর মধ্যেই।
আধুনিক বিবাহের বর্তমান চালচিত্র: একটি পরিসংখ্যানগত বিশ্লেষণ
আমরা যখন ‘আধুনিক বিবাহ’ শব্দটি ব্যবহার করি, তখন আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে স্বাধীন, স্বাবলম্বী এবং প্রযুক্তিনির্ভর দুটি মানুষের প্রতিচ্ছবি। কিন্তু এই চাকচিক্যের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক গভীর শূন্যতা।
১. বিশ্বব্যাপী বিবাহবিচ্ছেদের প্রবণতা (২০২৪-২৫)
২০২৫ সালের শুরুতে প্রকাশিত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সমীক্ষা অনুযায়ী, বিবাহবিচ্ছেদের হার কেবল পশ্চিমা দেশগুলিতেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি এখন একটি বৈশ্বিক সংকটে পরিণত হয়েছে।
-
যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ: যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে প্রতি ১,০০০ জন মানুষের মধ্যে বিবাহবিচ্ছেদের হার ২.৪-এর কাছাকাছি। ইউরোপের দেশগুলোতে, বিশেষ করে পর্তুগাল এবং স্পেনে এই হার আকাশচুম্বী, যা প্রায় ৬০% বিবাহবিচ্ছেদে গিয়ে ঠেকছে।
-
এশিয়ার চিত্র: অবাক করা বিষয় হলো, এশিয়ার দেশগুলোতেও এই হার দ্রুত বাড়ছে। মালদ্বীপ বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বিবাহবিচ্ছেদ হারের দেশ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে (প্রতি ১,০০০ জনে ৫.৫২)।
২. ভারতের প্রেক্ষাপট: ঐতিহ্যের মোড়কে পরিবর্তনের হাওয়া
ভারতকে দীর্ঘকাল ধরে অটুট পারিবারিক বন্ধনের দেশ হিসেবে গণ্য করা হতো। কিন্তু বিভিন্ন আইনি পোর্টালের তথ্য অনুযায়ী, ভারতেও বিবাহবিচ্ছেদের হার গত এক দশকে বিশেষ করে শহরাঞ্চলে দ্বিগুণ হয়েছে।
-
মুম্বাই, বেঙ্গালুরু, দিল্লি এবং কলকাতার মতো মেট্রোপলিটন শহরগুলোতে ডিভোর্স ফাইলের সংখ্যা গত ৫ বছরে ৩০% থেকে ৫০% বৃদ্ধি পেয়েছে।
-
ভারতে ডিভোর্সের হার এখনও বিশ্বের তুলনায় কম (১% এর আশেপাশে), কিন্তুSeparation বা আলাদা থাকার প্রবণতা মারাত্মকভাবে বাড়ছে, যা আইনি পরিসংখ্যানে সবসময় উঠে আসে না।
| অঞ্চল/দেশ | বিবাহবিচ্ছেদের প্রবণতা (২০২৪-২৫) | মূল কারণ |
| বিশ্বব্যাপী | বৃদ্ধি পাচ্ছে (গড় ১.৮ প্রতি ১০০০ জনে) | আর্থিক চাপ, অবিশ্বস্ততা, ব্যক্তিগত স্বাধীনতার সংঘাত |
| ভারত (শহরাঞ্চল) | দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে | কাজের চাপ, নিউক্লিয়ার ফ্যামিলি, সহনশীলতার অভাব |
| ভারত (গ্রামাঞ্চল) | স্থিতিশীল তবে পরিবর্তনশীল | সচেতনতা বৃদ্ধি, পারিবারিক আদালতের প্রভাব |
কেন বিয়েতে ‘এক্সপায়ারি ডেট’ মনে হচ্ছে? (The Throwaway Culture)
আধুনিক মনস্তত্ত্ববিদরা বলছেন, আমরা বর্তমানে একটি ‘Throwaway Culture’ বা ‘ব্যবহার করে ফেলে দেওয়া’-র সংস্কৃতিতে বাস করছি। আমাদের হাতে থাকা স্মার্টফোনটি যেমন ২ বছর পর পুরনো মনে হয়, অবচেতনভাবে আমরা সম্পর্কের ক্ষেত্রেও সেই একই সূত্র প্রয়োগ করছি।
১. তাৎক্ষণিক সন্তুষ্টির আকাঙ্ক্ষা (Instant Gratification)
সোশ্যাল মিডিয়া এবং ডেটিং অ্যাপের যুগে, আমরা সবকিছুই দ্রুত পেতে চাই। Pew Research Center-এর একটি গবেষণায় দেখা গেছে, বর্তমান প্রজন্মের দম্পতিরা সম্পর্কের সমস্যা সমাধানের চেয়ে নতুন সঙ্গী খোঁজা বা একা থাকাকে বেশি সহজ মনে করেন। যখনই সম্পর্কের ‘মেইনটেন্যান্স’ প্রয়োজন হয়, তখনই তারা সেটাকে ‘অকেজো’ বা ‘মেয়াদ উত্তীর্ণ’ বলে ধরে নেন।
২. সহনশীলতার অভাব ও ‘পারফেক্ট’ সঙ্গীর খোঁজ
সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের ‘পারফেক্ট’ বা নিখুঁত জীবনের ছবি দেখে দম্পতিদের মনে অবাস্তব প্রত্যাশা তৈরি হচ্ছে। Journal of Marital and Family Therapy-র তথ্যে দেখা যায়, প্রায় ৪৫% দম্পতি স্বীকার করেছেন যে সোশ্যাল মিডিয়ার কারণে তাদের দাম্পত্য জীবনে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। তারা মনে করেন, সঙ্গীর মধ্যে সামান্য ত্রুটি থাকলেই সম্পর্কটি আর এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।
সম্পর্কের ‘মেইনটেন্যান্স’ বা যত্ন আসলে কী?
গাড়ি যেমন নিয়মিত সার্ভিসিং না করলে বিকল হয়ে যায়, বিয়েও তেমনই। ‘মেইনটেন্যান্স’ মানে বড় বড় উপহার দেওয়া নয়; এটি হলো ছোট ছোট অভ্যাসের সমষ্টি যা সম্পর্ককে সচল রাখে।
১. মানসিক সংযোগ স্থাপন (Emotional Check-in)
গবেষক Dr. John Gottman, যিনি সম্পর্কের স্থায়িত্ব নিয়ে দশকের পর দশক গবেষণা করেছেন, তিনি বলেন—সফল দম্পতিরা একে অপরের ‘আবেগিক ব্যাংক অ্যাকাউন্টে’ নিয়মিত জমা রাখেন। এর অর্থ হলো প্রতিদিন একে অপরের খোঁজ নেওয়া, প্রশংসা করা এবং ছোটখাটো বিষয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা।
২. কমিউনিকেশন বা যোগাযোগ
যোগাযোগের অভাব হলো আধুনিক দাম্পত্যের প্রধান নীরব ঘাতক। Talkspace-এর একটি সাম্প্রতিক ব্লগে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২০২৫ সালে দম্পতিদের মধ্যে ‘Relationship Burnout’ বা সম্পর্কের ক্লান্তির অন্যতম প্রধান কারণ হলো একে অপরের কথা না শোনা বা ‘Active Listening’-এর অভাব।
বিশেষজ্ঞ মতামত: “অধিকাংশ দম্পতি ডিভোর্স ফাইল করেন ভালোবাসা ফুরিয়ে গেছে বলে নয়, বরং তারা অনুভব করেন যে তাদের কথা কেউ শুনছে না।” – American Psychological Association.
আধুনিক বিবাহের প্রধান শত্রুসমূহ: কীসের বিরুদ্ধে লড়তে হবে?
সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে হলে আগে জানতে হবে শত্রু কে। ২০২৫ সালের প্রেক্ষাপটে আধুনিক বিবাহের প্রধান চ্যালেঞ্জগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:
১. ডিজিটাল ঝড় ও ‘ফাবিং’ (Phubbing)
‘Phubbing’ (Phone + Snubbing) বা সঙ্গীকে উপেক্ষা করে ফোনের দিকে তাকিয়ে থাকা—এটি এখন দাম্পত্য কলহের অন্যতম বড় কারণ।
-
গবেষণায় দেখা গেছে, যে সব দম্পতি দিনে গড়ে ২ ঘণ্টার বেশি সময় সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যয় করেন, তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহের হার ৩২% বেশি।
-
ভার্চুয়াল জগতের আসক্তি স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার ‘Quality Time’ বা একান্ত সময়কে গ্রাস করে ফেলছে।
২. আর্থিক স্বাধীনতা বনাম সংঘাত
নারীদের আর্থিক স্বাধীনতা অবশ্যই একটি ইতিবাচক দিক। তবে অনেক ক্ষেত্রে, দম্পতিরা আর্থিক বিষয়গুলো নিয়ে খোলাখুলি আলোচনা করেন না। ২০২৪ সালে বিবাহবিচ্ছেদের জন্য আবেদন করা দম্পতিদের মধ্যে ৩৮% আর্থিক অসংগতি বা ‘Financial Infidelity’ (সঙ্গীর কাছে খরচ গোপন করা)-কে দায়ী করেছেন।
৩. ‘গ্রে ডিভোর্স’ (Gray Divorce)-এর উত্থান
একটি নতুন এবং চমকপ্রদ ট্রেন্ড হলো ৫০ বছর বয়সের পর বিবাহবিচ্ছেদ, যাকে পশ্চিমে ‘Gray Divorce’ বলা হয়।
-
সন্তানরা বড় হয়ে যাওয়ার পর বা অবসরের পর অনেক দম্পতি বুঝতে পারেন তাদের মধ্যে আর কোনো মিল নেই।
-
বিশ্বব্যাপী ৫০-ঊর্ধ্ব দম্পতিদের মধ্যে বিচ্ছেদের হার ১৯৯০ সালের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। এটি প্রমাণ করে যে, সম্পর্কের যত্ন কেবল বিয়ের শুরুতে নয়, শেষ বয়সেও সমান জরুরি।
সম্পর্কের ফাটল মেরামতের বিজ্ঞান: পরিসংখ্যান কী বলে?
বিয়ে ভাঙার আগে তা জোড়া লাগানোর চেষ্টা করা কি সফল হয়? পরিসংখ্যান কিন্তু আশাব্যাঞ্জক।
১. ম্যারেজ কাউন্সিলিং-এর সাফল্য
অনেকে মনে করেন কাউন্সিলিং বা থেরাপি নেওয়া মানেই সম্পর্ক শেষ। কিন্তু American Association of Marriage and Family Therapists-এর তথ্য অনুযায়ী:
-
প্রায় ৯৮% দম্পতি যারা ম্যারেজ কাউন্সিলিং নিয়েছেন, তারা তাদের থেরাপিস্টের কাজে সন্তুষ্ট।
-
৭০% দম্পতি স্বীকার করেছেন যে কাউন্সিলিং-এর পর তাদের সম্পর্কের উন্নতি হয়েছে।
-
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো, দম্পতিরা সাধারণত সমস্যা শুরুর ৬ বছর পর সাহায্যের জন্য আসেন। অথচ, সমস্যা শুরুর প্রথমেই যদি ‘মেইনটেন্যান্স’ করা হতো, তবে সাফল্যের হার আরও বাড়ত।
২. গটম্যান মেথড (Gottman Method)
ডাঃ জন গটম্যানের গবেষণায় দেখা গেছে, সম্পর্কের স্থায়িত্ব নির্ভর করে ঝগড়া না করার ওপর নয়, বরং ঝগড়ার পর কীভাবে তা মিটমাট করা হচ্ছে তার ওপর। সফল দম্পতিরা নেতিবাচক ইন্টারঅ্যাকশনের চেয়ে ইতিবাচক ইন্টারঅ্যাকশন ৫ গুণ বেশি করেন ।
পশ্চিমবঙ্গের প্রেক্ষাপট: বাঙালি দাম্পত্যে পরিবর্তনের ঢেউ
পশ্চিমবঙ্গ এবং বিশেষ করে কলকাতায় দাম্পত্য সম্পর্কের সমীকরণে বড় পরিবর্তন এসেছে। একান্নবর্তী পরিবার ভেঙে নিউক্লিয়ার পরিবার বা একক পরিবার গঠন এর অন্যতম কারণ।
-
কর্মব্যস্ত জীবন: আইটি সেক্টর এবং কর্পোরেট জগত কলকাতায় প্রসারিত হওয়ার ফলে স্বামী-স্ত্রী উভয়েই দীর্ঘ সময় বাড়ির বাইরে থাকছেন। ফলে একে অপরকে সময় দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।
-
সাংস্কৃতিক সংঘাত: আধুনিকতা এবং ঐতিহ্যের দ্বন্দ্বে অনেক বাঙালি দম্পতি পিষ্ট হচ্ছেন। একদিকে বয়োজ্যেষ্ঠদের প্রত্যাশা, অন্যদিকে নিজেদের ক্যারিয়ার এবং ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষা—এই দুয়ের চাপে সম্পর্কের সুতো আলগা হচ্ছে।
-
আইনি সহায়তা: পারিবারিক আদালতগুলোতে এখন কাউন্সেলিং সেশন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, এবং দেখা যাচ্ছে অনেক দম্পতি কেবল খোলামেলা আলোচনার সুযোগ পেয়েই বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসছেন।
সম্পর্ক ভালো রাখার ৫টি পরীক্ষিত ‘মেইনটেন্যান্স’ টিপস
বিশেষজ্ঞদের মতামত এবং ডেটা বিশ্লেষণ করে আমরা আধুনিক দম্পতিদের জন্য ৫টি কার্যকরী পদক্ষেপ তৈরি করেছি:
১. ডিজিটাল ডিটক্স (Digital Detox)
প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা সময় নির্ধারণ করুন যেখানে কোনো ফোন বা ল্যাপটপ থাকবে না। এই সময়টি একে অপরের চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলুন। এটি মস্তিষ্কে অক্সিটোসিন (ভালোবাসার হরমোন) নিঃসরণ বাড়াতে সাহায্য করে।
২. সাপ্তাহিক ‘রিলেশনশিপ মিটিং’
সপ্তাহে একদিন ৩০ মিনিটের জন্য বসুন। আলোচনা করুন—গত সপ্তাহে কী ভালো ছিল, কী খারাপ লেগেছে এবং আগামী সপ্তাহে আপনারা কীভাবে একে অপরকে সাহায্য করতে পারেন। এটি ছোটখাটো ভুল বোঝাবুঝি বড় হওয়ার আগেই মিটিয়ে দেয়।
৩. আর্থিক স্বচ্ছতা
টাকা নিয়ে লুকোচুরি করবেন না। একটি যৌথ অ্যাকাউন্ট বা জয়েন্ট অ্যাকাউন্ট রাখতে পারেন সংসারের খরচের জন্য, কিন্তু প্রত্যেকের ব্যক্তিগত খরচের জন্যও আলাদা স্বাধীনতা থাকা প্রয়োজন।
৪. ক্ষমা করার মানসিকতা
Harvard Medical School-এর একটি আর্টিকেলে বলা হয়েছে, ক্ষমা করার ক্ষমতা যাদের বেশি, তাদের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী হয়। ছোটখাটো ভুলের জন্য সঙ্গীকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো বন্ধ করুন।
৫. নতুন অভিজ্ঞতা সঞ্চয়
একঘেয়েমি কাটাতে নিয়মিত নতুন কিছু করুন। সেটি হতে পারে নতুন কোনো রান্না শেখা, ট্রেকিংয়ে যাওয়া বা কোনো শখ চর্চা করা। গবেষণায় দেখা গেছে, দম্পতিরা যখন একসাথে নতুন কোনো চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেন, তখন তাদের বন্ধন আরও দৃঢ় হয়।
বিয়ের কোনো মেয়াদ নেই, আছে কেবল যাত্রাপথ
বিয়ে কোনো মোবাইল রিচার্জ প্ল্যান নয় যে ২৮ দিন বা ১ বছর পর মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে। এটি একটি দীর্ঘ যাত্রা, যা উঁচু-নিচু পথের মধ্য দিয়ে যায়। ২০২৫ সালের পরিসংখ্যান আমাদের ভয় দেখাচ্ছে ঠিকই, কিন্তু একই সাথে আশার আলোও দেখাচ্ছে। যে দম্পতিরা বুঝতে পারছেন যে ‘এক্সপায়ারি ডেট’ একটি ভ্রান্ত ধারণা এবং আসল চাবিকাঠি হলো ‘মেইনটেন্যান্স’, তারাই শেষ পর্যন্ত টিকে থাকছেন এবং সুখী হচ্ছেন।
আধুনিক জীবনে যত চ্যালেঞ্জই আসুক না কেন, সহমর্মিতা, সম্মান এবং নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে যেকোনো সম্পর্ককেই নতুন জীবন দেওয়া সম্ভব। তাই আজই নিজেকে প্রশ্ন করুন—আপনি কি আপনার সম্পর্কের ‘মেইনটেন্যান্স’ করছেন, নাকি মেয়াদের তারিখ গুনছেন?











