মসজিদে যেসব আদব-কায়দা মেনে চলা গুরুত্বপূর্ণ: সম্পূর্ণ নির্দেশিকা ও শিষ্টাচার

মসজিদ হলো মহান আল্লাহর ঘর এবং পৃথিবীর সবচেয়ে পবিত্র স্থান যেখানে মুসলমানরা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজসহ বিভিন্ন ইবাদত-বন্দেগিতে মগ্ন থাকেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় স্থান হলো মসজিদ এবং…

Avatar

 

মসজিদ হলো মহান আল্লাহর ঘর এবং পৃথিবীর সবচেয়ে পবিত্র স্থান যেখানে মুসলমানরা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজসহ বিভিন্ন ইবাদত-বন্দেগিতে মগ্ন থাকেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় স্থান হলো মসজিদ এবং সবচেয়ে অপছন্দনীয় স্থান হলো বাজার”। পৃথিবীর প্রথম নির্মিত ঘর হলো মসজিদ, যা মক্কায় কাবাগৃহ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত এবং মুসলমানদের কিবলা। মসজিদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন, রক্ষণাবেক্ষণ এবং শিষ্টাচার পালন করা প্রত্যেক মুমিনের ঈমানি দায়িত্ব। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, শুধুমাত্র সৌদি আরবের মক্কা ও মদিনার দুই পবিত্র মসজিদে সাপ্তাহিক ১৩ দশমিক ৫ মিলিয়নেরও বেশি মুসল্লি নামাজ আদায় করেন।

মসজিদের আদব-কায়দার ধর্মীয় গুরুত্ব

মসজিদ শুধুমাত্র একটি ইবাদতগাহ নয়, বরং এটি আল্লাহর ঘর এবং ফেরেশতাদের সমাবেশস্থল। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, “হে বনী আদম! তোমরা প্রত্যেক নামাজের সময় তোমাদের সৌন্দর্য ও পোশাক পরিধান করো” (সূরা আল-আরাফ: ৩১)। এই আয়াত মসজিদে যাওয়ার সময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং শালীনতার গুরুত্ব স্পষ্ট করে। হাদিসে বর্ণিত আছে যে, যার অন্তর মসজিদের সাথে সংযুক্ত থাকে কিয়ামতের দিন সে আরশের ছায়ায় স্থান পাবে। গবেষণায় দেখা গেছে যে, নিয়মিত মসজিদে নামাজ আদায়কারীরা মানসিক প্রশান্তি এবং শারীরিক স্বাস্থ্যের উন্নতি লাভ করেন। পাকিস্তানের কারাচিতে পরিচালিত একটি গবেষণায় ৯৫ দশমিক ৮ শতাংশ উত্তরদাতা বিশ্বাস করেন যে নামাজের নিরাময় শক্তি রয়েছে।

মসজিদে প্রবেশের পূর্বের প্রস্তুতি

মসজিদে যাওয়ার আগে সঠিক প্রস্তুতি নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। প্রথমত, ঘরে বসে সঠিকভাবে অজু সম্পন্ন করা উচিত। আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি তার ঘরে অজু সম্পন্ন করে অতঃপর আল্লাহর ঘরের দিকে রওনা হয় তার প্রতিটি পদক্ষেপে একটি গুনাহ মাফ হয় এবং একটি মর্যাদা বৃদ্ধি পায়”। পরিচ্ছন্ন ও শালীন পোশাক পরিধান করা আবশ্যক। মহিলাদের ক্ষেত্রে মাথা ঢাকা এবং ঢিলেঢালা পোশাক পরিধান করা সুন্নত। সুগন্ধি ব্যবহার করা পুরুষদের জন্য মুস্তাহাব, তবে মহিলাদের জন্য মসজিদে যাওয়ার সময় সুগন্ধি ব্যবহার নিষিদ্ধ।

দুর্গন্ধমুক্ত হয়ে মসজিদে যাওয়া

মসজিদে যাওয়ার আগে কাঁচা পেঁয়াজ, রসুন বা দুর্গন্ধযুক্ত কোনো খাবার খাওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) বর্ণিত হাদিসে নবী (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি এসব গাছ থেকে অর্থাৎ কাঁচা পেঁয়াজ, রসুন খায় সে যেন আমাদের মসজিদের কাছেও না আসে” (বুখারি: ৮১৫; মুসলিম: ১২৮২)। ধূমপান, বিড়ি-সিগারেট, গুল-জর্দা, তামাক এবং মাদকজাতীয় দ্রব্য সেবন করে মসজিদে প্রবেশ করা মাকরুহ ও অত্যন্ত অশোভন। এসব দুর্গন্ধ অন্য মুসল্লিদের কষ্ট দেয় এবং ফেরেশতারাও এতে কষ্ট পান। ত্ববরানীর হাদিসে বলা হয়েছে, যদি কাঁচা পেঁয়াজ বা রসুন খেতেই হয় তবে রান্না করে তার দুর্গন্ধ দূর করে নিতে হবে।

মসজিদে প্রবেশের সঠিক নিয়ম ও আদব

ডান পায়ে প্রবেশ এবং দোয়া পাঠ

মসজিদে প্রবেশের সময় অবশ্যই ডান পা দিয়ে প্রবেশ করতে হবে। আয়েশা (রা.) বর্ণিত হাদিসে রয়েছে, রাসুল (সা.) সব কাজে ডানকে অগ্রাধিকার দিতেন, এমনকি জুতা পরিধান এবং চুল আঁচড়াতেও (নাসাঈ: ১১২)। মসজিদে প্রবেশকালে প্রথমে “বিসমিল্লাহি ওয়াস-সালাতু ওয়াস-সালামু আলা রাসুলিল্লাহি আল্লাহুম্মাফতাহলি আবওয়াবা রহমাতিক” (আল্লাহর নামে এবং রাসুলের উপর দরুদ, হে আল্লাহ! আমার জন্য তোমার রহমতের দরজা খুলে দাও) পড়তে হবে। ইবনে মাজাহ (৭৭১) এবং তিরমিজি (৩১৪) শরিফে এই দোয়া বর্ণিত হয়েছে। মসজিদে প্রবেশ করে ইতিকাফের নিয়ত করা সুন্নত।

তাহিয়্যাতুল মসজিদ আদায়

মসজিদে প্রবেশ করার পর বসার আগে দুই রাকাত তাহিয়্যাতুল মসজিদ নামাজ আদায় করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আবু কাতাদা (রা.) বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যখন তোমাদের কেউ মসজিদে প্রবেশ করে সে যেন বসার আগে দুই রাকাত নামাজ আদায় করে” (মুসলিম: ১৬৮৭; তিরমিজি: ১২৯; বুখারি: ১১১০)। এই নামাজ মসজিদের সম্মান প্রদর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তবে জুমার নামাজে খুতবা চলাকালীন বা নিষিদ্ধ সময়ে এই নামাজ আদায় করা যাবে না।

ধীরস্থিরভাবে মসজিদে গমন

নামাজের জন্য মসজিদে যাওয়ার সময় অবশ্যই ধীরস্থিরতার সাথে যেতে হবে। রাকাত ছুটে যাওয়ার ভয়ে দৌড়ে বা তাড়াহুড়া করে যাওয়া উচিত নয়। রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, “তোমরা নামাজে অবশ্যই ধীর-স্থিরতার সাথে আসবে। যতটুকু পাবে, আদায় করবে। আর যতটুকু ছুটে যাবে, পরে পূর্ণ করবে” (বুখারি: ৬০৯)। এই হাদিস থেকে স্পষ্ট যে তাড়াহুড়া করে মসজিদে যাওয়া রাসুল (সা.) এর শিক্ষার পরিপন্থী।

মসজিদে অবস্থানকালীন আদব-কায়দা

জামাতের প্রথম কাতারে দাঁড়ানো

মসজিদে নামাজের জন্য প্রথম কাতারে দাঁড়ানো অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। রাসুল (সা.) বলেছেন যে, মানুষ যদি প্রথম কাতারের ফজিলত জানত তাহলে লটারির মাধ্যমে হলেও সেখানে স্থান নিতে চেষ্টা করত। আগে মসজিদে পৌঁছানো এবং প্রথম কাতারে জায়গা করে নেওয়া মুমিনের বৈশিষ্ট্য। সাহাবায়ে কেরামগণ এই বিষয়ে অত্যন্ত সচেতন ছিলেন এবং নামাজের বেশ আগে মসজিদে পৌঁছে যেতেন।

অনর্থক কথাবার্তা পরিহার

মসজিদ ইবাদত-বন্দেগির স্থান, গল্প-গুজব বা দুনিয়াবী আলোচনার জায়গা নয়। আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, “তোমাদের কেউ যখন নামাজ আদায় করে স্বস্থানে বসে থাকে ফেরেশতারা তার জন্য ক্ষমা ও রহমতের দোয়া করতে থাকেন, যতক্ষণ না অপবিত্র হয় বা উঠে চলে যায়” (আবু দাউদ: ৪৬৯)। মসজিদে কুরআন তেলাওয়াত, জিকির-আজকার, দীনি আলোচনা এবং ইলম শিক্ষার কাজ করা উচিত। বর্তমানে অনেকেই মসজিদে জাগতিক বিষয় নিয়ে উচ্চস্বরে আলোচনা করেন যা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

নামাজরত ব্যক্তির সামনে দিয়ে না যাওয়া

কেউ নামাজ পড়লে তার সামনে দিয়ে যাওয়া-আসা করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। মহানবি (সা.) বলেছেন, “যদি তোমরা নামাজ আদায়কারির সামনে দিয়ে অতিক্রম করার গুনাহ সম্পর্কে জানতে তাহলে সত্তর হাজার বছর অপেক্ষা করতে তারপরও নামাজের সামনে দিয়ে যাতায়াত করতে না”। এই হাদিস থেকে এই অপরাধের ভয়াবহতা বোঝা যায়। তাই মসজিদে চলাফেরার সময় অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে এবং নামাজরত ব্যক্তিদের সম্মান করতে হবে।

মসজিদে নিষিদ্ধ কার্যক্রম

হারানো জিনিসের ঘোষণা

মসজিদে হারানো জিনিসের ঘোষণা দেওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত হাদিসে নবী (সা.) বলেন, “যে ব্যক্তি মসজিদে কোনো লোককে হারানো জিনিসের ঘোষণা দিতে শুনবে, সে যেন বলে, আল্লাহ তোমার জিনিস ফিরিয়ে না দিন। কারণ মসজিদ এজন্য নির্মিত হয়নি” (মুসলিম: ১২৮৮; আবু দাউদ: ৪৭৩)। মসজিদ শুধুমাত্র আল্লাহর জিকির এবং ইবাদতের জন্য নির্মিত।

ব্যবসা-বাণিজ্য নিষিদ্ধ

মসজিদকে বাজার বা ব্যবসা-বাণিজ্যের স্থান বানানো সম্পূর্ণ হারাম। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “মসজিদকে যাতায়াতের পথ বানাবে না, সেখানে অস্ত্র ছড়িয়ে দেবে না, ধনুক নড়াবে না, তীর বের করবে না, কাঁচা গোশত নিয়ে অতিক্রম করবে না, দণ্ডের শাস্তি প্রয়োগ করবে না, রক্তের প্রতিশোধ নেবে না এবং বাজার বানাবে না” (ইবনে মাজাহ: ৭৪৮)। মসজিদের পবিত্রতা রক্ষা করা সবার দায়িত্ব।

মোবাইল ফোন ব্যবহার

বর্তমান যুগে মসজিদে মোবাইল ফোনের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। নামাজের সময় মোবাইলের রিংটোন বা নোটিফিকেশন ইবাদতের পরিবেশ নষ্ট করে এবং অন্য মুসল্লিদের একাগ্রতা ভঙ্গ করে। মসজিদে প্রবেশের আগে অবশ্যই মোবাইল ফোন সাইলেন্ট বা বন্ধ করে রাখা উচিত। নামাজের সময় মোবাইলে কথা বলা বা মেসেজ পাঠানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং নামাজ ভঙ্গের কারণ।

খুতবা চলাকালীন আদব

জুমার নামাজে খুতবা শুরু হলে সম্পূর্ণ নীরব হয়ে মনোযোগ সহকারে শোনা ওয়াজিব। খুতবা চলাকালে কথাবার্তা বলা, খাওয়া, পান করা, চলাফেরা করা, তাসবীহ পড়া, সালাম দেওয়া বা সালামের উত্তর দেওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এমনকি শরিয়তের মাসায়েল আলোচনাও এ সময় নিষিদ্ধ। যারা ইমামের কাছে বসে বা দূরে, সবার জন্যই খুতবা শোনা বাধ্যতামূলক। খুতবার সময় মনোযোগ বিচ্ছিন্ন করা গুনাহের শামিল।

মসজিদ থেকে বের হওয়ার আদব

বাম পা দিয়ে বের হওয়া

মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় বাম পা দিয়ে বের হতে হবে। প্রথমে “বিসমিল্লাহি ওয়াস-সালাতু ওয়াস-সালামু আলা রাসুলিল্লাহি আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা মিন ফাদলিক” (আল্লাহর নামে এবং রাসুলের উপর দরুদ, হে আল্লাহ! আমি তোমার অনুগ্রহ প্রার্থনা করছি) পড়তে হবে। বের হওয়ার পর প্রথমে ডান পায়ে জুতা পরতে হবে এবং তারপর বাম পায়ে। এই সুন্নতগুলো পালনে রয়েছে অসংখ্য সওয়াব।

মসজিদের পরিচ্ছন্নতা ও রক্ষণাবেক্ষণ

মসজিদের পরিচ্ছন্নতা রক্ষা করা সবার দায়িত্ব। হাদিসে বর্ণিত আছে যে, রাসুল (সা.) একজন মহিলার জন্য দোয়া করেছিলেন যিনি মসজিদ পরিষ্কার করতেন। মসজিদে থুথু, কফ বা নোংরা ফেলা সম্পূর্ণ হারাম। মসজিদের কার্পেট, দেয়াল এবং সকল স্থান পরিচ্ছন্ন রাখা প্রত্যেক মুসল্লির দায়িত্ব। সম্ভব হলে মসজিদে সুগন্ধি বা আতর ব্যবহার করা মুস্তাহাব যাতে পরিবেশ মনোরম হয়।

নারীদের জন্য মসজিদের আদব

নারীরাও মসজিদে নামাজ আদায় করতে পারেন তবে কিছু বিশেষ আদব রয়েছে। নারীদের অবশ্যই পর্দাসহ এবং সুগন্ধিমুক্ত অবস্থায় মসজিদে যেতে হবে। মসজিদে নারীদের জন্য পৃথক স্থান ব্যবহার করা উচিত। হাদিসে বলা হয়েছে যে, নারীদের ঘরে নামাজ আদায় করা উত্তম তবে মসজিদে যেতে বাধা দেওয়া যাবে না। বর্তমানে বিশ্বের অনেক মসজিদে নারীদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা রয়েছে।

মসজিদ আদায়ের আধ্যাত্মিক ও শারীরিক উপকারিতা

মানসিক প্রশান্তি

মসজিদে নিয়মিত নামাজ আদায় মানসিক প্রশান্তি এবং আত্মিক উন্নতির অন্যতম মাধ্যম। কুরআনে আল্লাহ বলেন, “আল্লাহর জিকিরে অন্তরসমূহ প্রশান্তি লাভ করে”। গবেষণায় দেখা গেছে যে নিয়মিত নামাজ আদায়কারীদের মধ্যে হতাশা, উদ্বেগ এবং মানসিক চাপ কম থাকে। মসজিদের পরিবেশ ধ্যান এবং মেডিটেশনের মতো মানসিক শান্তি প্রদান করে।

শারীরিক স্বাস্থ্য

নামাজের বিভিন্ন শারীরিক অবস্থান যেমন দাঁড়ানো, রুকু, সিজদা এবং বসা শরীরের জন্য উপকারী। কারাচিতে পরিচালিত গবেষণা অনুযায়ী নিয়মিত নামাজ আদায়কারীদের হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ এবং অন্যান্য শারীরিক সমস্যা কম হয়। নামাজের শারীরিক নড়াচড়া রক্ত সঞ্চালন উন্নত করে এবং পেশীর নমনীয়তা বৃদ্ধি করে।

সামাজিক সংহতি

মসজিদ মুসলিম সমাজের কেন্দ্রবিন্দু যেখানে সকল শ্রেণীর মানুষ একসাথে নামাজ আদায় করে। জামাতে নামাজ আদায় ভ্রাতৃত্ববোধ এবং সামাজিক সংহতি বৃদ্ধি করে। বিশ্বব্যাপী লক্ষ লক্ষ মুসলমান একই সময়ে একই দিকে মুখ করে নামাজ আদায় করে যা বৈশ্বিক ঐক্যের প্রতীক। ২০২৫ সালের রমজান মাসে শুধুমাত্র মক্কার মসজিদুল হারামে একদিনে ৪ মিলিয়নেরও বেশি মুসল্লি নামাজ আদায় করেছেন।

বিশেষ পরিস্থিতিতে মসজিদের আদব

রমজান মাসে এবং ঈদের নামাজে মসজিদে বিপুল সংখ্যক মানুষ সমবেত হয়। এসময় অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। ভিড়ের মধ্যে অন্যদের কষ্ট না দিয়ে চলাফেরা করা এবং নিজের স্থান সংকুচিত করে অন্যদের জায়গা করে দেওয়া মুমিনের গুণ। তারাবিহ এবং তাহাজ্জুদ নামাজের সময় দীর্ঘ কিয়াম হয় তাই ধৈর্যসহকারে দাঁড়িয়ে থাকা উচিত।

শিশুদের মসজিদে নিয়ে যাওয়ার আদব

শিশুদের ছোটবেলা থেকেই মসজিদমুখী করা গুরুত্বপূর্ণ তবে কিছু বিষয় খেয়াল রাখতে হবে। অতি ছোট শিশু যারা চিৎকার করে বা দৌড়াদৌড়ি করে তাদের মসজিদে না আনাই উত্তম। শিশুরা যাতে অন্য মুসল্লিদের ইবাদতে ব্যাঘাত না ঘটায় সেদিকে অভিভাবকদের সতর্ক থাকতে হবে। শিশুদের মসজিদের আদব শেখানো এবং তাদের জন্য পৃথক শিক্ষার ব্যবস্থা করা উচিত।

মসজিদের আদব-কায়দা মেনে চলা প্রত্যেক মুসলমানের ঈমানি দায়িত্ব এবং মর্যাদার বিষয়। এই আদবসমূহ শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিকতা নয় বরং আল্লাহর ঘরের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং আধ্যাত্মিক উন্নতির মাধ্যম। যারা মসজিদের আদব যথাযথভাবে পালন করেন তারা অধিক সওয়াব লাভ করেন এবং আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করেন। বর্তমান যুগে মসজিদের পবিত্রতা রক্ষা এবং শিষ্টাচার পালনে আমাদের আরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন। প্রযুক্তির যুগে মোবাইল ফোন এবং অন্যান্য ডিভাইসের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত জরুরি। আসুন আমরা সকলে মসজিদের আদব-কায়দা সঠিকভাবে মেনে চলি এবং আল্লাহর ঘরের মর্যাদা রক্ষা করি। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকলকে মসজিদের যথাযথ আদব পালনের তাওফিক দান করুন। আমিন।

About Author
Avatar

বাংলাদেশ প্রতিনিধি থেকে সঠিক ও নির্ভরযোগ্য খবর পেতে আমাদের সংবাদ ওয়েবসাইট দেখুন। তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের বিস্তারিত জানুন।

আরও পড়ুন