নববর্ষে বাড়িতে আনুন এই পাঁচটি শুভ জিনিস – দারিদ্র্য বিদায় নেবে, জীবন ভরে উঠবে সোনার সম্পদে!

২০২৬ সালের আগমন আসন্ন। বাস্তু শাস্ত্র এবং জ্যোতিষ শাস্ত্র অনুসারে নতুন বছরের শুরুতে ঘরে কিছু বিশেষ শুভ জিনিস আনলে সারা বছর সুখ, সমৃদ্ধি ও মা লক্ষ্মীর আশীর্বাদ বজায় থাকে। হিন্দু…

Pandit Subhas Sastri

 

২০২৬ সালের আগমন আসন্ন। বাস্তু শাস্ত্র এবং জ্যোতিষ শাস্ত্র অনুসারে নতুন বছরের শুরুতে ঘরে কিছু বিশেষ শুভ জিনিস আনলে সারা বছর সুখ, সমৃদ্ধি ও মা লক্ষ্মীর আশীর্বাদ বজায় থাকে। হিন্দু ধর্ম ও প্রাচীন শাস্ত্রে বলা হয়েছে যে নির্দিষ্ট কিছু বস্তু ঘরে রাখলে তা ইতিবাচক শক্তি বৃদ্ধি করে এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে আসে। এই প্রতিবেদনে আমরা এমন পাঁচটি শুভ জিনিসের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব যা নতুন বছরে আপনার বাড়িতে আনা অত্যন্ত শুভফলদায়ক হবে।

নববর্ষে বাস্তু শাস্ত্রের গুরুত্ব

বাস্তু শাস্ত্র হলো একটি প্রাচীন বৈদিক বিজ্ঞান যা আমাদের বাসস্থানের সঠিক নির্মাণ এবং সাজসজ্জার নির্দেশ দেয়। এই শাস্ত্রের মূল লক্ষ্য হলো মানুষের জীবনে ইতিবাচক শক্তির প্রবাহ বৃদ্ধি করা এবং নেতিবাচক প্রভাব হ্রাস করা। বাড়ির বাস্তু সঠিক হলে কাজে বাধা কেটে যায়, রোগমুক্তি ঘটে এবং পরিবারের সদস্যদের চাকরি, ব্যবসা ও পেশায় উন্নতি হয়। ২০২৬ সালকে সূর্যের বছর হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে, যার কারণে বাস্তু সংক্রান্ত ছোট-ছোট উপায়গুলি আরও বেশি কার্যকর হবে বলে জ্যোতিষীরা মনে করছেন।

বাস্তু শাস্ত্র অনুসারে ঘরে যা কিছু রাখা হয় তার উপর নির্ভর করে সেখানে কী ধরনের শক্তি বিরাজ করবে। আমাদের ছোট্ট কিছু ভুলের জন্যই বাড়িতে নেগেটিভ শক্তির পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। আর বাড়িতে নেগেটিভ শক্তি থাকা মানেই তার প্রভাব জীবনের উপর পড়বে। তাই নতুন বছর শুরু হওয়ার আগে সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

পাঁচটি শুভ জিনিস যা নববর্ষে ঘরে আনা উচিত

১. গোমতী চক্র – মা লক্ষ্মীর প্রতীক

গোমতী চক্রকে মা লক্ষ্মীর প্রতীক হিসেবে মানা হয়। এটি পবিত্র গোমতী নদীতে পাওয়া যায়। হিন্দু শাস্ত্র অনুসারে যে বাড়িতে ১১টি গোমতী চক্র রাখা থাকে, সেখানে কখনও ধনের অভাব হয় না। নতুন বছরে ১১টি গোমতী চক্র পরিষ্কার করে হলুদ কাপড়ে মুড়িয়ে তিজোরিতে বা যেখানে অর্থ রাখা হয় সেখানে স্থাপন করুন। এর ফলে মা লক্ষ্মী প্রসন্ন হন এবং ঘরে অর্থের প্রবাহ বৃদ্ধি পায়।

গোমতী চক্র শুধুমাত্র আর্থিক সমৃদ্ধিই নয়, বরং বাড়ির বাস্তুদোষ দূর করতেও সাহায্য করে। এটি নেগেটিভ শক্তি প্রতিরোধ করে এবং ইতিবাচক ভাইব্রেশন তৈরি করে। অনেক বাস্তু বিশেষজ্ঞ মনে করেন যে গোমতী চক্র রাখলে বাড়িতে শান্তি ও সমৃদ্ধি স্থায়ী হয়।

খাট রাখার সঠিক দিক – বাস্তু শাস্ত্র অনুযায়ী ঘুমের মান উন্নত করুন

২. ময়ূরের পালক – নেগেটিভ শক্তি দূরীকরণ

ময়ূরের পালক অত্যন্ত পবিত্র বলে মনে করা হয় কারণ এটি ভগবান শ্রীকৃষ্ণ এবং মা লক্ষ্মী উভয়ের কাছেই প্রিয়। নববর্ষে বাড়িতে ময়ূরের পালক আনা খুবই শুভ বলে বিবেচিত হয়। এটি ঘর থেকে নেগেটিভ শক্তি, বাস্তুদোষ এবং বুরো প্রভাব দূর করে, যার ফলে ধনাগমনের নতুন পথ খুলে যায়।

ময়ূরের পালক বাড়ির মন্দিরে অথবা প্রধান দরজার কাছে রাখা উচিত। এটি শুধুমাত্র ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেই নয়, বরং বাস্তু বিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকেও অত্যন্ত শুভফলদায়ক। ময়ূরের পালক ঘরে রাখলে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় থাকে এবং মানসিক শান্তি বৃদ্ধি পায়।

৩. দক্ষিণাবর্তী শঙ্খ – সাক্ষাৎ লক্ষ্মীর প্রতীক

দক্ষিণাবর্তী শঙ্খকে সাক্ষাৎ মা লক্ষ্মীর প্রতীক হিসেবে মানা হয়। সমুদ্র মন্থন থেকে এই শঙ্খের উৎপত্তি হয়েছিল বলে বিশ্বাস করা হয়। যে বাড়িতে নিয়মিত এই শঙ্খের পূজা করা হয়, সেখানে ধন ও বৈভবের বাস হয়। পূজাঘরে একটি লাল কাপড়ের উপর চাল বিছিয়ে তার উপর শঙ্খ স্থাপন করে প্রতিদিন পূজা করা উচিত।

দক্ষিণাবর্তী শঙ্খ অত্যন্ত দুর্লভ এবং শুভ বলে মনে করা হয়। এই শঙ্খে মা লক্ষ্মী স্বয়ং বাস করেন বলে হিন্দু ধর্মে বিশ্বাস রয়েছে। নতুন বছরে এই শঙ্খ বাড়িতে আনলে এবং সঠিক নিয়মে পূজা করলে অর্থনৈতিক সংকট দূর হয় এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে উন্নতি ঘটে।

৪. ধাতব কচ্ছপ – স্থিতিশীলতা ও সৌভাগ্যের প্রতীক

বাস্তু শাস্ত্র এবং ফেং শুই অনুসারে কচ্ছপ স্থিতিশীলতা এবং সৌভাগ্যের প্রতীক। বিশেষত ধাতব কচ্ছপ আর্থিক লাভের জন্য অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়। এটি ধন আগমনের গতি বৃদ্ধি করে এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা প্রদান করে। ধাতব কচ্ছপ বাড়ির উত্তর দিকে রাখা উচিত, যা অর্থের দেবতা কুবেরের দিক।

কচ্ছপের মূর্তি বা প্রতীক রাখলে দীর্ঘায়ু এবং সুস্বাস্থ্যও পাওয়া যায় বলে বিশ্বাস করা হয়। ২০২৬ সালে ধাতব কচ্ছপ ঘরে রাখলে ধন এবং যশ উভয়ই বৃদ্ধি পাবে। এটি বিশেষত ব্যবসায়ীদের জন্য অত্যন্ত লাভজনক বলে জ্যোতিষীরা মনে করেন।

৫. মানি প্ল্যান্ট – অর্থনৈতিক উন্নতির প্রতীক

বাস্তু শাস্ত্র মতে মানি প্ল্যান্ট গাছ ঘরে থাকলে অর্থনৈতিক উন্নতি ঘটে এবং ক্যারিয়ারে পদোন্নতি হয়। এই গাছ ঘরে রাখলে মা লক্ষ্মী প্রসন্ন হন এবং ধনাগমনের পথ সুগম হয়। ঘরের উত্তর দিকে একটি সবুজ পাত্রে মানি প্ল্যান্ট রাখা উচিত। এই গাছ সহজেই পাওয়া যায় এবং রক্ষণাবেক্ষণও সহজ।

মানি প্ল্যান্ট শুধুমাত্র আর্থিক সমৃদ্ধিই নয়, বরং ঘরের বাতাস পরিশোধন করতেও সাহায্য করে। এটি অক্সিজেন উৎপাদন করে এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে। ২০২৬ সালে মানি প্ল্যান্ট ঘরে রাখলে স্বাস্থ্য ও সম্পদ উভয়ই লাভ হবে।

অতিরিক্ত বাস্তু টিপস নতুন বছরের জন্য

সূর্য যন্ত্র স্থাপন

২০২৬ সালকে সূর্যের বছর বলা হচ্ছে, তাই সূর্য যন্ত্র বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। বাড়ির উত্তর-পূর্ব কোণে বা ঈশান কোণে মেঝে থেকে প্রায় সাত ফুট উচ্চতায় একটি তামার সূর্য যন্ত্র স্থাপন করলে সুফল মেলে। নতুন বছরে প্রতিদিন স্নানের পরে এই যন্ত্রের পূজা করা উচিত।

প্রধান দরজার সাজসজ্জা

বাস্তু শাস্ত্র অনুসারে সমস্ত শক্তি প্রধান দরজা দিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করে। তাই প্রধান দরজায় কলস, মাছ, পদ্ম, শঙ্খ ইত্যাদি শুভ চিহ্ন লাগানো উচিত। দরজার উপরে অথবা উভয় পাশে স্বস্তিক এবং ওম চিহ্ন আঁকা শুভ প্রভাব দেয়। সোনালি, রুপোলি, লাল বা হলুদ রঙে দরজা রাঙালে শুভ শক্তি প্রবেশ করে।

উত্তর দিকে কুবের দেবতার মূর্তি

অর্থের দেবতা কুবেরের স্থান উত্তর দিক। তাই বাড়ির উত্তর দিকে কুবের দেবতার মূর্তি রাখলে আর্থিক উন্নতির সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। সেই স্থানে একটি পাত্রে জল ও ফুল রেখে দিলে আরও ভালো ফল পাওয়া যায়। তবে সেখানে ভারী জিনিস বা অগোছালো জিনিস রাখা উচিত নয়।

নববর্ষে বাড়ি থেকে সরিয়ে ফেলুন এই জিনিসগুলি

নতুন বছরে শুভ জিনিস আনার পাশাপাশি কিছু অশুভ জিনিস বাড়ি থেকে সরিয়ে ফেলা অত্যন্ত জরুরি। এতে বাড়ির নেগেটিভ শক্তি কমে এবং ইতিবাচক শক্তি বৃদ্ধি পায়।

ভাঙা জিনিসপত্র: যে কোনও ভাঙা জিনিস বাড়িতে জমিয়ে রাখা শুভ নয়। এতে বাস্তু তথা ভাগ্যের উপর কুপ্রভাব পড়ে। ভাঙা জিনিস বাড়িতে রাখলে মা লক্ষ্মী রুষ্ট হন ও বাড়ি থেকে বিদায় নেন।

পুরনো খবরের কাগজ ও পত্রিকা: পুরনো খবরের কাগজ জমিয়ে রাখা বাস্তুর জন্য ক্ষতিকর। এগুলির উপরে জমা ধুলোর আস্তরণ নেগেটিভ শক্তির পরিমাণ বাড়িয়ে তোলে।

মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার ও ওষুধ: মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া খাদ্যদ্রব্য এবং ওষুধ বাড়িতে রাখা স্বাস্থ্য ও বাস্তু উভয়ের জন্যই ক্ষতিকর।

বাতিল পোশাক: বাতিল করা জামাকাপড় বাড়িতে জমিয়ে রাখলে বাড়িতে নেগেটিভ শক্তির পরিমাণ বৃদ্ধি পায়।

মৃত গাছ: বাড়িতে মরে যাওয়া গাছ রাখলে নেগেটিভ শক্তি বৃদ্ধি পায়। তাই সঙ্গে সঙ্গে এগুলি সরিয়ে ফেলা উচিত।

খারাপ বৈদ্যুতিন যন্ত্র: নষ্ট হয়ে যাওয়া বৈদ্যুতিক সামগ্রী বাড়িতে রাখা বাস্তুদোষ তৈরি করে।

নতুন বছরে মা লক্ষ্মীকে প্রসন্ন করার উপায়

উপায় বিবরণ সুফল
নারকেল রাখা ঠাকুরঘরে হলুদ ও সিঁদুর মাখানো নারকেল রাখুন ধন-সম্পদে পরিপূর্ণ জীবন
পদ্মফুল অর্পণ প্রতি বৃহস্পতিবার মা লক্ষ্মীকে পদ্মফুল দিন আর্থিক স্থিতি ও উন্নতি
কর্পূর রাখা ঠাকুরঘর ও মানিব্যাগে কর্পূর রাখুন মা লক্ষ্মীর সন্তুষ্টি
রঙিন ফুল লাল ও হলুদ রঙের ফুল বাড়িতে রাখুন ইতিবাচক শক্তি বৃদ্ধি
সূর্যমুখী গাছ বাড়িতে সূর্যমুখী গাছ লাগান সৌভাগ্যের প্রতীক

বাস্তু শাস্ত্র ও আধুনিক বিজ্ঞান

বাস্তু শাস্ত্রের অনেক নিয়ম আধুনিক বিজ্ঞান দ্বারাও সমর্থিত। যেমন উত্তর বা পূর্ব দিকে জানালা রাখার পরামর্শ দেওয়া হয় কারণ এই দিক থেকে সূর্যের আলো এবং তাজা বাতাস প্রবেশ করে। মানি প্ল্যান্টের মতো গাছপালা রাখা শুধুমাত্র বাস্তু নয়, বরং বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকেও উপকারী কারণ এরা বাতাস পরিশোধন করে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে বাস্তু শাস্ত্রের মূল উদ্দেশ্য হলো মানুষের মানসিক শান্তি এবং শারীরিক সুস্থতা নিশ্চিত করা। যখন একটি ঘর সুসজ্জিত, পরিষ্কার এবং ইতিবাচক শক্তিতে পূর্ণ থাকে, তখন সেখানে বসবাসকারী মানুষেরা স্বাভাবিকভাবেই বেশি উৎপাদনশীল এবং সুখী হন।

২০২৬ সালের বিশেষত্ব

জ্যোতিষশাস্ত্র অনুসারে ২০২৬ সালকে সূর্যের বছর হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। সূর্য হলেন শক্তি, সাফল্য এবং উন্নতির প্রতীক। এই বছরে সূর্য সংক্রান্ত বাস্তু উপায়গুলি বিশেষভাবে কার্যকর হবে। তাই নতুন বছরে বাড়িতে লাল ও হলুদ রঙের জিনিস রাখা, সূর্য যন্ত্র স্থাপন করা এবং সূর্যমুখী গাছ লাগানো বিশেষ শুভফলদায়ক হবে।

এই বছরে প্রতিদিন সূর্যোদয়ের সময় সূর্যদেবকে অর্ঘ্য দেওয়া এবং সূর্য মন্ত্র জপ করা অত্যন্ত লাভজনক বলে জ্যোতিষীরা পরামর্শ দিচ্ছেন। সূর্যের শক্তি গ্রহণ করলে আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পায়, নেতৃত্ব ক্ষমতা বিকশিত হয় এবং কর্মক্ষেত্রে সাফল্য আসে।

আলমারি ও সেফের বাস্তু নিয়ম

বাড়ির আলমারি বা সেফের ভিতরেও বাস্তু নিয়ম মানা জরুরি। সেফের ভিতরে পরিষ্কার লাল বা হলুদ কাপড় বিছিয়ে তার উপর সোনা-রুপোর মুদ্রা, গয়না, নগদ টাকা রাখা ভালো। সঙ্গে হলুদের গাঁট, লক্ষ্মী যন্ত্র, শ্রী যন্ত্র বা কুবের যন্ত্র রাখলে আর্থিক স্থিতি মজবুত হয়।

আলমারি বা লকারের সামনে আয়না রাখলে সম্পত্তি দ্বিগুণ হয় বলে বাস্তু শাস্ত্র বলে। এই নিয়মটি অনেক ধনী পরিবারে মেনে চলা হয় এবং এর সুফল পাওয়া যায় বলে বিশ্বাস করা হয়।

পোহেলা বৈশাখ ও বাংলা নববর্ষের ঐতিহ্য

বাঙালি সংস্কৃতিতে নববর্ষের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। পোহেলা বৈশাখে বাড়ি পরিষ্কার করা, আলপনা আঁকা এবং নতুন কাপড় পরার ঐতিহ্য রয়েছে। এই সময় মা লক্ষ্মী ও গণেশের পূজা করা হয় যাতে নতুন বছর মঙ্গলময় হয়। আলপনা ডিজাইনগুলি ইতিবাচকতা এবং সৌভাগ্য আমন্ত্রণ জানানোর জন্য তৈরি করা হয়।

বাংলা নববর্ষে ঘরে আম পাতা ঝুলানো, তুলসী গাছের সামনে প্রদীপ জ্বালানো এবং পূজার সময় বিশেষ মন্ত্র উচ্চারণ করার ঐতিহ্য রয়েছে। এই সমস্ত কাজ বাস্তু শাস্ত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং ঘরে ইতিবাচক শক্তি বৃদ্ধি করে।

মন্দির থেকে ফিরে ভুলেও এই ৫টি কাজ করবেন না – শাস্ত্র কী বলে?

শোবার ঘরের বাস্তু টিপস

পূর্ব দিকে মাথা রেখে ঘুমানো অত্যন্ত শুভ। এতে শরীর ও মন চনমনে থাকে। পশ্চিম দিকে মাথা রেখে ঘুমালে মন চিন্তাগ্রস্ত হয় এবং মেজাজ খিটখিটে হয়। উত্তর দিকে মাথা রেখে ঘুমানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ কারণ এতে শরীর জরাগ্রস্ত হয় এবং দীর্ঘমেয়াদী রোগের সম্ভাবনা তৈরি হয়।

দক্ষিণ দিকে মাথা রেখে ঘুমানো সবচেয়ে শুভ এবং বিজ্ঞানসম্মতও। এই দিকে মাথা রেখে ঘুমালে আয়ু বৃদ্ধি হয় এবং নীরোগ জীবন লাভ হয়। শোবার ঘরে ভারী আয়না রাখা উচিত নয় এবং বিছানার ঠিক উপরে কোনও ভারী জিনিস ঝুলানো উচিত নয়।

রান্নাঘর ও বাথরুমের বাস্তু

রান্নাঘরে ফ্রিজ রাখতে হলে তা উত্তর-পশ্চিম দিকে রাখা উচিত। রান্নাঘরে সবসময় পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি কারণ এখান থেকেই পরিবারের সকলের খাদ্য আসে। অপরিচ্ছন্ন রান্নাঘর মা লক্ষ্মীকে অসন্তুষ্ট করে।

বাথরুম বা শৌচাগার নির্মাণের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্কতা প্রয়োজন। ঈশান কোণ অর্থাৎ উত্তর-পূর্ব দিকে কোনওমতেই বাথরুম নির্মাণ করা উচিত নয়। দক্ষিণ বা পশ্চিম দিকে শৌচাগার নির্মাণ করা যেতে পারে। শাওয়ার বা বেসিন স্থাপন করুন বাথরুমের উত্তর, পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিকে।

পড়াশোনার জন্য বাস্তু টিপস

বাড়ির উত্তর বা পূর্ব দিকের পূর্ব বা উত্তর দিকে মুখ করে পড়ার জন্য চেয়ার, টেবিল এবং উজ্জ্বল আলোর ব্যবস্থা রাখা উচিত। পড়াশোনায় দ্রুত সাফল্য লাভে এই ব্যবস্থা খুবই ফলপ্রসূ। পড়ার টেবিলে গণেশ বা সরস্বতী দেবীর ছবি রাখা শুভ।

শিক্ষার্থীদের শোবার ঘর পরিষ্কার ও সুসজ্জিত রাখা উচিত। অগোছালো ঘরে পড়াশোনায় মনোযোগ বিঘ্নিত হয়। পড়ার টেবিলের সামনে জানালা থাকলে ভালো কারণ তাজা বাতাস এবং প্রাকৃতিক আলো মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করে।

ব্যবসায়ীদের জন্য বিশেষ বাস্তু টিপস

ব্যবসায়ীদের জন্য অফিস বা দোকানের বাস্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রধান প্রবেশদ্বার উত্তর, পূর্ব বা উত্তর-পূর্ব দিকে হওয়া উচিত। এতে গ্রাহকরা সহজে আকৃষ্ট হন এবং ব্যবসায় উন্নতি ঘটে।

ক্যাশ কাউন্টার দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে রাখা উচিত এবং মালিকের বসার স্থান দক্ষিণ বা পশ্চিম দিকে হওয়া উচিত। দোকানে বা অফিসে গণেশ, লক্ষ্মী এবং কুবের দেবতার ছবি রাখা শুভ। প্রতিদিন অফিস খোলার সময় ধূপ জ্বালানো এবং মন্ত্র পাঠ করা লাভজনক।

নতুন বছরের সংকল্প ও বাস্তু

নতুন বছরে কেবল বাস্তু টিপস মেনে চললেই হবে না, বরং মনের মধ্যেও ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে হবে। নেগেটিভ চিন্তা ত্যাগ করে ইতিবাচক মনোভাব গড়ে তুলতে হবে। নিয়মিত ধ্যান, যোগ এবং প্রাণায়াম করলে মানসিক শান্তি বৃদ্ধি পায়।

পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখা, অন্যদের সাহায্য করা এবং দাতব্য কাজে অংশগ্রহণ করা উচিত। এই সমস্ত কাজ কর্মফল উন্নত করে এবং জীবনে সুখ-শান্তি নিয়ে আসে। বাস্তু শাস্ত্র শুধুমাত্র ভৌতিক ব্যবস্থাই নয়, বরং মানসিক ও আধ্যাত্মিক উন্নতিরও পথ দেখায়।

শেষ কথা

২০২৬ সালের নববর্ষে বাড়িতে গোমতী চক্র, ময়ূরের পালক, দক্ষিণাবর্তী শঙ্খ, ধাতব কচ্ছপ এবং মানি প্ল্যান্ট – এই পাঁচটি শুভ জিনিস আনলে জীবনে আমূল পরিবর্তন আসবে। বাস্তু শাস্ত্র এবং জ্যোতিষশাস্ত্র অনুসারে এই জিনিসগুলি মা লক্ষ্মীকে প্রসন্ন করে এবং ঘরে সুখ, সমৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে আসে। পাশাপাশি বাড়ি থেকে ভাঙা জিনিস, পুরনো কাগজপত্র এবং অন্যান্য অশুভ বস্তু সরিয়ে ফেলাও অত্যন্ত জরুরি।

বাস্তু শাস্ত্রের নিয়মগুলি মেনে চলা মানে শুধুমাত্র ধর্মীয় বিশ্বাস নয়, বরং এটি একটি বৈজ্ঞানিক এবং যুক্তিসংগত জীবনযাত্রার পথও। যখন আমরা আমাদের বাসস্থানকে সঠিকভাবে সাজাই, পরিষ্কার রাখি এবং ইতিবাচক শক্তিতে পূর্ণ করি, তখন স্বাভাবিকভাবেই জীবনে সাফল্য ও সুখ আসে। তাই নতুন বছরের শুরুতে এই ছোট্ট পদক্ষেপগুলি নিয়ে আপনার জীবনকে ‘সোনায় মোড়ানো’ করে তুলুন। মনে রাখবেন, মা লক্ষ্মী তাদের বাড়িতেই স্থায়ী হন যেখানে পরিচ্ছন্নতা, ইতিবাচকতা এবং নিয়মিত পূজার ব্যবস্থা থাকে। নববর্ষ আপনার এবং আপনার পরিবারের জন্য শুভ ও মঙ্গলময় হোক।

About Author
Pandit Subhas Sastri

পন্ডিত সুভাষ শাস্ত্রী একজন দিকপাল জ্যোতিষী। দীর্ঘ ৩০ বছর মানুষের সেবা করে আসছেন। জ্যোতিষ শাস্ত্রে গোল্ড মেডেলিস্ট, এছাড়াও তিনি দেশ বিদেশে বিভিন্ন পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন এবং তার গণনা দেশ ছাড়িয়ে বিদেশেও বেশ জনপ্রিয়। তিনি কলকাতা, হাওড়া, বীরভূম, শিলিগুড়ি, দুর্গাপুরে চেম্বার করেন।

আরও পড়ুন