নভেম্বর মাসে ব্যাঙ্ক যাওয়ার আগে দেখুন ছুটির তালিকা! পশ্চিমবঙ্গ ও ভারতে মোট কত দিন বন্ধ থাকছে?

নভেম্বর ২০২৫-এ ব্যাঙ্কের শাখায় যাওয়ার পরিকল্পনা করার আগে, ছুটির সম্পূর্ণ তালিকাটি দেখে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। এই মাসে পশ্চিমবঙ্গ এবং সারা ভারতের ব্যাঙ্কগুলি সাপ্তাহিক ছুটি এবং উৎসব মিলিয়ে বেশ কয়েকদিন বন্ধ…

Riddhi Datta

 

নভেম্বর ২০২৫-এ ব্যাঙ্কের শাখায় যাওয়ার পরিকল্পনা করার আগে, ছুটির সম্পূর্ণ তালিকাটি দেখে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। এই মাসে পশ্চিমবঙ্গ এবং সারা ভারতের ব্যাঙ্কগুলি সাপ্তাহিক ছুটি এবং উৎসব মিলিয়ে বেশ কয়েকদিন বন্ধ থাকবে। পশ্চিমবঙ্গের গ্রাহকদের জন্য, নভেম্বর মাসে মোট ৮ দিন ব্যাঙ্ক পরিষেবা বন্ধ থাকবে। এর মধ্যে রয়েছে ৫টি রবিবার, ২টি শনিবার (মাসের দ্বিতীয় ও চতুর্থ) এবং ১টি প্রধান উৎসবের ছুটি। যদিও ব্যাঙ্কের শাখা বন্ধ থাকলেও, গ্রাহকদের আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। ভারতের শক্তিশালী ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেম, যেমন UPI, নেট ব্যাঙ্কিং এবং এটিএম পরিষেবাগুলি এই ছুটির দিনগুলিতেও ২৪/৭ সম্পূর্ণ সচল থাকবে। এই নিবন্ধে, আমরা নভেম্বর ২০২৫-এর সম্পূর্ণ ছুটির তালিকা, ব্যাঙ্ক ছুটির নিয়মাবলী এবং এই সময়ে আপনার আর্থিক পরিকল্পনা কেমন হওয়া উচিত, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।

ব্যাঙ্কিং হল ভারতের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার লেনদেন এবং লক্ষ লক্ষ গ্রাহকের পরিষেবা এর মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। তাই, ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক (RBI) দ্বারা নির্ধারিত ছুটির দিনগুলি সম্পর্কে আগে থেকে জেনে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি শুধুমাত্র আপনার ব্যক্তিগত আর্থিক পরিকল্পনাকে সহজ করে না, বরং ব্যবসায়িক লেনদেনের ক্ষেত্রেও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। অনেক সময় গ্রাহকরা ছুটির দিন সম্পর্কে অবগত না থাকায় ব্যাঙ্কে গিয়ে হয়রানির শিকার হন, বিশেষ করে যখন চেক জমা দেওয়া বা নগদ তোলার মতো জরুরি কাজ থাকে। এই নিবন্ধটি আপনাকে সেই সমস্যা থেকে মুক্তি দেবে এবং আপনাকে নভেম্বর মাসের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত থাকতে সাহায্য করবে। আমরা শুধুমাত্র ছুটির তালিকা নয়, বরং ব্যাঙ্ক বন্ধ থাকার দিনেও কীভাবে আপনার আর্থিক কাজগুলি অনায়াসে চালিয়ে যেতে পারবেন, তার গভীর বিশ্লেষণ করব।

নভেম্বর ২০২৫: পশ্চিমবঙ্গের ব্যাঙ্ক ছুটির সম্পূর্ণ তালিকা

নভেম্বর মাসে পশ্চিমবঙ্গের ব্যাঙ্কগুলিতে প্রধানত সাপ্তাহিক ছুটি এবং একটি বড় উৎসবের ছুটি রয়েছে। RBI-এর নির্দেশিকা অনুসারে, সমস্ত ব্যাঙ্ক প্রতি রবিবার এবং মাসের দ্বিতীয় ও চতুর্থ শনিবার বন্ধ থাকে।

পশ্চিমবঙ্গে নভেম্বর ২০২৫-এ মোট ছুটির দিন: ৮ দিন

এই ছুটিগুলি পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত সরকারি, বেসরকারি এবং সমবায় ব্যাঙ্কের জন্য প্রযোজ্য।

তারিখ দিন ছুটির কারণ
২ নভেম্বর, ২০২৫ রবিবার সাপ্তাহিক ছুটি
৫ নভেম্বর, ২০২৫ বুধবার গুরু নানক জয়ন্তী / কার্তিক পূর্ণিমা
৮ নভেম্বর, ২০২৫ শনিবার মাসের দ্বিতীয় শনিবার
৯ নভেম্বর, ২০২৫ রবিবার সাপ্তাহিক ছুটি
১৬ নভেম্বর, ২০২৫ রবিবার সাপ্তাহিক ছুটি
২২ নভেম্বর, ২০২৫ শনিবার মাসের চতুর্থ শনিবার
২৩ নভেম্বর, ২০২৫ রবিবার সাপ্তাহিক ছুটি
৩০ নভেম্বর, ২০২৫ রবিবার সাপ্তাহিক ছুটি

সর্বভারতীয় ব্যাঙ্ক ছুটির তালিকা (নভেম্বর ২০২৫)

পশ্চিমবঙ্গের ছুটির পাশাপাশি, ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে নভেম্বর মাসে আরও কিছু অতিরিক্ত আঞ্চলিক ছুটি পালিত হবে। আপনি যদি অন্য রাজ্যে ভ্রমণ করেন বা অন্য রাজ্যের ব্যাঙ্কের সাথে লেনদেন করেন, তবে এই তালিকাটি আপনার কাজে আসতে পারে।

মনে রাখবেন: নীচের তালিকাভুক্ত ছুটিগুলি শুধুমাত্র উল্লিখিত রাজ্যেই প্রযোজ্য; পশ্চিমবঙ্গে এই দিনগুলিতে ব্যাঙ্ক খোলা থাকবে (সাপ্তাহিক ছুটি ছাড়া)।

তারিখ দিন ছুটির কারণ রাজ্য (যেখানে প্রযোজ্য)
১ নভেম্বর, ২০২৫ শনিবার কন্নড় রাজ্যোৎসব / কুট / হরিয়ানা দিবস / পুদুচেরি মুক্তি দিবস কর্ণাটক, মণিপুর, হরিয়ানা, পুদুচেরি
৭ নভেম্বর, ২০২৫ শুক্রবার ওঙ্গালা উৎসব / ছট পূজা (কিছু অঞ্চলে) মেঘালয়, বিহার, ঝাড়খণ্ড
৮ নভেম্বর, ২০২৫ শনিবার কনকদাস জয়ন্তী (দ্বিতীয় শনিবারের সাথে মিলিত) কর্ণাটক
২৫ নভেম্বর, ২০২৫ মঙ্গলবার শ্রী গুরু তেগ বাহাদুর জি-এর শহীদ দিবস পাঞ্জাব

ব্যাঙ্ক ছুটির এই ব্যবস্থা কীভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়?

ভারতে ব্যাঙ্কিং ছুটির সম্পূর্ণ ব্যবস্থাটি একটি সুনির্দিষ্ট আইনি কাঠামোর উপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়, যা ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক (RBI) নিয়ন্ত্রণ করে। এই ছুটির দিনগুলি ঘোষণা করার পিছনে নির্দিষ্ট আইন এবং প্রথা রয়েছে।

ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের (RBI) ভূমিকা

RBI হলো ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক এবং সমস্ত ব্যাঙ্কিং কার্যক্রমের প্রধান নিয়ন্ত্রক। কোন দিনগুলিতে ব্যাঙ্ক বন্ধ থাকবে, সেই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা RBI-এর হাতেই রয়েছে। RBI প্রতি বছরের শুরুতে রাজ্য সরকারগুলির সাথে আলোচনার ভিত্তিতে একটি বার্ষিক ছুটির তালিকা প্রকাশ করে। এই তালিকাটি সমস্ত বাণিজ্যিক ব্যাঙ্ক (সরকারি ও বেসরকারি), সমবায় ব্যাঙ্ক, গ্রামীণ ব্যাঙ্ক এবং বিদেশি ব্যাঙ্কগুলিকে মেনে চলতে হয়।

নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্ট, ১৮৮১ (The Negotiable Instruments Act, 1881)

এটিই সেই প্রধান আইন যার অধীনে ভারতে ব্যাঙ্ক ছুটি ঘোষণা করা হয়। নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্ট, ১৮৮১-এর ২৫ নম্বর ধারা অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারগুলিকে নির্দিষ্ট দিনে ছুটি ঘোষণা করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এই আইনের অধীনে ঘোষিত ছুটিগুলিতে সমস্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠান, যেমন ব্যাঙ্ক, ট্রেজারি এবং বীমা সংস্থাগুলি বন্ধ থাকে। এই দিনগুলিতে কোনও নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্ট (যেমন চেক বা বিল অফ এক্সচেঞ্জ) পেমেন্টের জন্য উপস্থাপন করা যায় না; এর মেয়াদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরবর্তী কার্যদিবস পর্যন্ত বেড়ে যায়।

ছুটির তিনটি প্রধান বিভাগ

RBI সাধারণত তিন ধরনের ছুটির তালিকা প্রকাশ করে:

১. নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্টের অধীনে ছুটি (Holidays Under Negotiable Instruments Act): এটিই প্রধান ছুটির তালিকা। এর মধ্যে পড়ে সমস্ত জাতীয় উৎসব (যেমন দীপাবলি, ঈদ, বড়দিন), আঞ্চলিক উৎসব (যেমন দুর্গাপূজা, পোঙ্গল, ওনাম) এবং মহাপুরুষদের জন্মদিন (যেমন গান্ধী জয়ন্তী, গুরু নানক জয়ন্তী)।

২. সাপ্তাহিক ছুটি: সমস্ত রবিবার এবং মাসের দ্বিতীয় ও চতুর্থ শনিবার। এই নিয়মটি ২০১৫ সাল থেকে চালু হয়েছে।

৩. ব্যাঙ্কের বার্ষিক হিসাব বন্ধ (Annual Closing of Accounts): প্রতি বছর ১লা এপ্রিল তারিখে ব্যাঙ্কগুলি তাদের বার্ষিক হিসাব বন্ধ করার জন্য বন্ধ থাকে। যদিও এই দিনটি গ্রাহক পরিষেবার জন্য বন্ধ থাকলেও, ব্যাঙ্কের কর্মীরা অভ্যন্তরীণ কাজের জন্য উপস্থিত থাকেন।

ব্যাঙ্ক বন্ধ তো কী হয়েছে? ভারত সচল ডিজিটাল লেনদেনে

দশক আগেও ব্যাঙ্ক বন্ধ থাকার অর্থ ছিল অর্থনৈতিক কার্যকলাপের গতি কমে যাওয়া। কিন্তু বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। ভারত আজ ডিজিটাল পেমেন্টের ক্ষেত্রে একটি বিশ্বনেতা এবং ব্যাঙ্ক ছুটির দিনগুলিতেও দেশের আর্থিক লেনদেন পুরোদমে সচল থাকে।

প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো (PIB) এবং RBI-এর সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ভারতের ডিজিটাল পেমেন্ট ইকোসিস্টেম অভূতপূর্ব বৃদ্ধি পেয়েছে। এই ডিজিটাল বিপ্লব নিশ্চিত করেছে যে ছুটির দিনগুলি গ্রাহকদের দৈনন্দিন জীবনে কোনও বাধা সৃষ্টি করতে পারে না।

কোন পরিষেবাগুলি বন্ধ থাকবে?

ব্যাঙ্ক ছুটির দিনে শুধুমাত্র ব্যাঙ্কের শাখা-ভিত্তিক পরিষেবাগুলি (Branch Banking) বন্ধ থাকে। যেমন:

  • নগদ টাকা জমা দেওয়া বা তোলা (কাউন্টার থেকে)।
  • চেক ক্লিয়ারিং এবং জমা নেওয়া।
  • ড্রাফট (DD) বা পে-অর্ডার (PO) তৈরি করা।
  • নতুন অ্যাকাউন্ট খোলা বা বন্ধ করা।
  • লোন (Loan) বিভাগের কাজ।
  • পাসবুক আপডেট করা।
  • লকার অপারেশন (যদিও কিছু ব্যাঙ্কে ভিন্ন নিয়ম থাকতে পারে)।

কোন পরিষেবাগুলি ২৪/৭ চালু থাকবে?

ডিজিটাল ইন্ডিয়ার দৌলতে, নিম্নলিখিত পরিষেবাগুলি ছুটির দিনেও এক মুহূর্তের জন্য বন্ধ হয় না:

১. এটিএম (ATM) পরিষেবা: ছুটির দিনগুলিতেও এটিএম মেশিনগুলি থেকে নগদ তোলা বা জমা দেওয়া (CDM মেশিনে) যায়।

২. ইউনিফাইড পেমেন্টস ইন্টারফেস (UPI): এটি ভারতের ডিজিটাল লেনদেনের মেরুদণ্ড। ফোনপে, গুগল পে, পেটিএম-এর মতো অ্যাপের মাধ্যমে যে কোনও সময়, যে কোনও জায়গায় টাকা পাঠানো বা গ্রহণ করা যায়।

৩. ইন্টারনেট ব্যাঙ্কিং (Net Banking): আপনার ব্যাঙ্কের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আপনি অ্যাকাউন্ট ব্যালেন্স চেক করা, ফান্ড ট্রান্সফার (NEFT/IMPS) করা, বিল পেমেন্ট করা বা ফিক্সড ডিপোজিট খোলার মতো কাজ করতে পারবেন।

৪. মোবাইল ব্যাঙ্কিং (Mobile Banking): ব্যাঙ্কের নিজস্ব মোবাইল অ্যাপগুলিও ইন্টারনেট ব্যাঙ্কিংয়ের মতোই সমস্ত সুবিধা প্রদান করে।

৫. আইএমপিএস (IMPS – Immediate Payment Service): এটি একটি রিয়েল-টাইম ফান্ড ট্রান্সফার পরিষেবা যা ২৪/৭ উপলব্ধ।

ডিজিটাল বিপ্লব: পরিসংখ্যানের আয়নায় ভারত

ব্যাঙ্ক ছুটির প্রভাব বুঝতে হলে, ভারতের ডিজিটাল লেনদেনের শক্তিকে বোঝা জরুরি। ন্যাশনাল পেমেন্টস কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া (NPCI) এবং RBI-এর তথ্য এই বিষয়ে চমকপ্রদ চিত্র তুলে ধরে।

ইউপিআই (UPI): ভারতের খুচরো লেনদেনের চালিকাশক্তি

UPI ভারতের আর্থিক পরিকাঠামোয় বিপ্লব এনেছে। এটি বিশেষত ছোট অঙ্কের, দৈনন্দিন লেনদেনের জন্য ব্যবহৃত হয়।

  • বিশ্ব রেকর্ড: বিভিন্ন রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারত বর্তমানে বিশ্বের মোট রিয়েল-টাইম ডিজিটাল লেনদেনের প্রায় ৫০% একাই পরিচালনা করে, যার সিংহভাগই আসে UPI থেকে।
  • লেনদেনের পরিমাণ: RBI-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের প্রথমার্ধে (H1 2025) UPI-এর মাধ্যমে ১০,৬৩৭ কোটি (১০৬.৩৭ বিলিয়ন) লেনদেন হয়েছে।
  • লেনদেনের মূল্য: ২০২৫ সালের অগাস্ট মাসেই UPI লেনদেন প্রায় ₹২৫ লক্ষ কোটি টাকা অতিক্রম করেছে।
  • ভলিউম বনাম ভ্যালু: দ্য ইকোনমিক টাইমসের একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৫ সালের প্রথমার্ধে ভারতের মোট ডিজিটাল লেনদেনের ৮৫% ছিল UPI (ভলিউমের দিক থেকে), কিন্তু মূল্যের (Value) দিক থেকে এর অবদান ছিল মাত্র ৯%। এটি প্রমাণ করে যে সাধারণ মানুষ দৈনন্দিন ছোটখাটো কেনাকাটার জন্য নগদ ছেড়ে UPI-এর উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।

RTGS এবং NEFT: বড় অঙ্কের লেনদেনের ভরসা

যখন বড় অঙ্কের টাকা লেনদেনের প্রশ্ন আসে, তখন NEFT এবং RTGS প্রধান ভূমিকা পালন করে।

  • RTGS (Real Time Gross Settlement): এটি মূলত ₹২ লক্ষ বা তার বেশি অঙ্কের লেনদেনের জন্য ব্যবহৃত হয়। ২০২৫ সালের প্রথমার্ধে (H1 2025), RTGS ভারতের মোট লেনদেনের ৬৯% (মূল্যের দিক থেকে) পরিচালনা করেছে, যদিও ভলিউমের দিক থেকে এর অংশ ছিল মাত্র ০.১%। এই সময়ে RTGS-এর মাধ্যমে মোট ₹১,০৭৯.২ লক্ষ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে।
  • NEFT (National Electronic Funds Transfer): এটি ছোট থেকে মাঝারি অঙ্কের অনলাইন ট্রান্সফারের জন্য জনপ্রিয়। ২০২৫ সালের প্রথমার্ধে (H1 2025) NEFT-এর মাধ্যমে ₹২৩৭.০ লক্ষ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ দ্রষ্টব্য: যদিও UPI এবং IMPS পরিষেবা ছুটির দিনেও ২৪/৭ চালু থাকে, কিন্তু NEFT এবং RTGS পরিষেবাগুলি নির্দিষ্ট ব্যাঙ্কিং আওয়ারের পর এবং RBI দ্বারা ঘোষিত ছুটির দিনগুলিতে বন্ধ থাকে। তাই বড় অঙ্কের লেনদেনের পরিকল্পনা থাকলে, তা ব্যাঙ্কের কার্যদিবসেই সেরে ফেলা উচিত।

ডিজিটাল পরিকাঠামোর বৃদ্ধি

সরকার এবং RBI শুধুমাত্র শহরের মধ্যেই নয়, বরং গ্রামীণ এলাকাতেও ডিজিটাল পেমেন্টের প্রসার ঘটাতে বদ্ধপরিকর। RBI-এর পেমেন্টস ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট ফান্ড (PIDF) স্কিম টায়ার-৩ থেকে টায়ার-৬ শহরগুলিতে ডিজিটাল পেমেন্ট পরিকাঠামো তৈরিতে সাহায্য করছে। PIB-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মে মাস পর্যন্ত এই স্কিমের মাধ্যমে প্রায় ৪.৭৭ কোটি ডিজিটাল টাচ পয়েন্ট (যেমন PoS মেশিন) স্থাপন করা হয়েছে।

ব্যাঙ্ক ছুটির অর্থনৈতিক প্রভাব: লাভ ও লোকসান

ব্যাঙ্ক ছুটি কি দেশের অর্থনীতির জন্য ভালো না খারাপ? এই বিষয়ে অর্থনীতিবিদদের মধ্যে বিভিন্ন মত রয়েছে। একটি গবেষণাপত্র (ResearchGate) অনুযায়ী, ছুটির প্রভাব রাজ্যের অর্থনৈতিক অবস্থার উপর নির্ভর করে।

উৎপাদনশীলতা বনাম ভোগ

  • নেতিবাচক দিক: একটি প্রচলিত ধারণা হলো, ব্যাঙ্ক ছুটি মানেই অর্থনৈতিক কার্যকলাপ বন্ধ থাকা, যা জিডিপি-কে (GDP) নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করে। বিশেষ করে চেক ক্লিয়ারিং, লোন প্রসেসিং এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সংক্রান্ত পেমেন্ট আটকে গেলে ব্যবসায়িক চক্র ধীর হয়ে যেতে পারে।
  • ইতিবাচক দিক: অন্যদিকে, ছুটির দিনগুলি, বিশেষত উৎসবের ছুটি, ব্যক্তিগত ভোগ (Private Consumption) বৃদ্ধি করে। মানুষ কেনাকাটা, ভ্রমণ এবং বিনোদনে বেশি অর্থ ব্যয় করে, যা খুচরো ব্যবসা, পর্যটন এবং পরিষেবা খাতকে চাঙ্গা করে তোলে। এই বর্ধিত চাহিদা পরোক্ষভাবে অর্থনৈতিক বৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করে।

ডিজিটাল অর্থনীতির ভারসাম্য

বর্তমানে, ভারতের মতো একটি ডিজিটালভাবে উন্নত অর্থনীতিতে ব্যাঙ্ক ছুটির নেতিবাচক প্রভাব অনেকটাই হ্রাস পেয়েছে। যেহেতু UPI এবং অনলাইন কার্ড পেমেন্টের মাধ্যমে কেনাকাটা এবং পরিষেবা গ্রহণ ২৪/৭ চালু থাকে, তাই খুচরো অর্থনীতির চাকা সচল থাকে। শুধুমাত্র বড় কর্পোরেট লেনদেন এবং ব্যাঙ্কের শাখা-ভিত্তিক পরিষেবাগুলি প্রভাবিত হয়। ছুটির দিনগুলি কর্মীদের বিশ্রাম এবং সামাজিক জীবনে সময় দেওয়ার সুযোগ করে দেয়, যা পরোক্ষভাবে তাদের কাজের উৎপাদনশীলতা বাড়াতে (“learning by leisure” effect) সাহায্য করে।

গ্রাহকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ (Holiday Planning Tips)

নভেম্বর মাসের ছুটির তালিকা মাথায় রেখে আপনার আর্থিক কাজগুলি পরিকল্পনা করুন।

১. চেকের কাজ আগে সারুন: যদি আপনার কোনও গুরুত্বপূর্ণ চেক জমা দেওয়ার বা পাশ করানোর থাকে, তবে তা ছুটির দিনগুলি শুরু হওয়ার আগেই ব্যাঙ্কে জমা দিন। মনে রাখবেন, চেক ক্লিয়ারিং (CTS) সিস্টেমে ২-৩ দিন সময় লাগতে পারে এবং এটি ব্যাঙ্ক ছুটির দিনে বন্ধ থাকে।

২. নগদ টাকা হাতের কাছে রাখুন: যদিও ডিজিটাল পেমেন্ট সর্বত্র গ্রহণযোগ্য, তবুও জরুরি অবস্থার জন্য বা ছোটখাটো স্থানীয় দোকানে কেনাকাটার জন্য কিছু নগদ টাকা আগে থেকেই এটিএম থেকে তুলে রাখুন। ছুটির সময় অনেক সময় এটিএম-এও নগদের ঘাটতি দেখা দিতে পারে।

৩. ডিজিটাল পেমেন্ট সক্রিয় রাখুন: আপনার UPI অ্যাপ এবং ইন্টারনেট ব্যাঙ্কিং পরিষেবাগুলি সক্রিয় আছে কিনা তা পরীক্ষা করে নিন। প্রয়োজনে আপনার পিন (PIN) বা পাসওয়ার্ড মনে রাখুন।

৪. বড় লেনদেনের পরিকল্পনা: যদি আপনার NEFT বা RTGS-এর মাধ্যমে বড় অঙ্কের টাকা পাঠানোর প্রয়োজন হয়, তবে তা ৫ই নভেম্বর বা অন্যান্য ছুটির দিনের আগেই সেরে ফেলুন।

নভেম্বর ২০২৫ পশ্চিমবঙ্গের ব্যাঙ্ক গ্রাহকদের জন্য তুলনামূলকভাবে কম ছুটির একটি মাস, যেখানে সাপ্তাহিক ছুটি বাদে মাত্র একটি প্রধান উৎসবের ছুটি (গুরু নানক জয়ন্তী) রয়েছে। আগে থেকে পরিকল্পনা করলে এই ছুটিগুলি আপনার আর্থিক জীবনে কোনও প্রভাব ফেলবে না। ভারতের শক্তিশালী ডিজিটাল ব্যাঙ্কিং পরিকাঠামো নিশ্চিত করে যে, ব্যাঙ্কের দরজা বন্ধ থাকলেও, অর্থনীতির চাকা সচল থাকবে। UPI, নেট ব্যাঙ্কিং এবং এটিএমের মতো পরিষেবাগুলি আমাদের জীবনকে সহজ করে তুলেছে এবং ব্যাঙ্কের উপর শারীরিক নির্ভরশীলতা কমিয়েছে। তাই, ছুটির তালিকা দেখে আতঙ্কিত না হয়ে, স্মার্টলি আপনার আর্থিক পরিকল্পনা করুন এবং ডিজিটাল ইন্ডিয়ার সুবিধা উপভোগ করুন।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQs)

প্রশ্ন: নভেম্বর ২০২৫-এ পশ্চিমবঙ্গে ব্যাঙ্ক মোট কত দিন বন্ধ থাকবে?

উত্তর: নভেম্বর ২০২৫-এ পশ্চিমবঙ্গে ব্যাঙ্ক মোট ৮ দিন বন্ধ থাকবে। এর মধ্যে রয়েছে ৫টি রবিবার, ২টি শনিবার (দ্বিতীয় ও চতুর্থ) এবং ১টি উৎসবের ছুটি (৫ নভেম্বর, গুরু নানক জয়ন্তী)।

প্রশ্ন: ব্যাঙ্ক ছুটির দিনেও কি আমি UPI বা Google Pay ব্যবহার করতে পারব?

উত্তর: হ্যাঁ, ব্যাঙ্ক ছুটি নির্বিশেষে UPI, Google Pay, PhonePe, Paytm এবং অন্যান্য সমস্ত ডিজিটাল ওয়ালেট পরিষেবা ২৪/৭ সম্পূর্ণ সচল থাকে।

প্রশ্ন: আমি কি ছুটির দিনে এটিএম থেকে টাকা তুলতে পারব?

উত্তর: হ্যাঁ, এটিএম পরিষেবা ছুটির দিনেও চালু থাকে। তবে, দীর্ঘ ছুটির ক্ষেত্রে কিছু ব্যস্ততম এলাকার এটিএম-এ নগদের ঘাটতি দেখা যেতে পারে, তাই আগে থেকে টাকা তুলে রাখা ভালো।

প্রশ্ন: আমার একটি চেক ক্লিয়ারিং-এর তারিখ নভেম্বরের ছুটির দিনে পড়েছে। কী হবে?

উত্তর: যদি আপনার চেকের তারিখ নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্ট, ১৮৮১ এর অধীনে ঘোষিত ছুটির দিনে পড়ে, তবে সেটির মেয়াদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরবর্তী কার্যদিবস পর্যন্ত স্থানান্তরিত হবে। অর্থাৎ, ব্যাঙ্ক খোলার প্রথম দিনেই সেটি প্রসেস করা হবে।

প্রশ্ন: ছুটির দিনে কি NEFT বা RTGS করা যাবে?

উত্তর: না। IMPS এবং UPI ২৪/৭ চালু থাকলেও, NEFT এবং RTGS সাধারণত ব্যাঙ্কিং আওয়ারের মধ্যে এবং RBI-এর কার্যদিবসগুলিতে পরিচালিত হয়। ছুটির দিনগুলিতে এই পরিষেবাগুলি বন্ধ থাকে।

প্রশ্ন: সারা ভারতেই কি নভেম্বর মাসে একই দিনে ব্যাঙ্ক বন্ধ থাকবে?

উত্তর: না। শুধুমাত্র জাতীয় ছুটি (যেমন ২৬শে জানুয়ারি, ১৫ই আগস্ট, ২রা অক্টোবর) এবং সাপ্তাহিক ছুটিগুলি (রবিবার, ২য় ও ৪র্থ শনিবার) সারা ভারতে একই থাকে। অন্যান্য উৎসবভিত্তিক ছুটি, যেমন কন্নড় রাজ্যোৎসব (কর্ণাটক) বা গুরু তেগ বাহাদুরের শহীদ দিবস (পাঞ্জাব), শুধুমাত্র নির্দিষ্ট রাজ্যেই পালিত হয়।

About Author
Riddhi Datta

ঋদ্ধি দত্ত কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়নবিদ্যায় স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তিনি একজন উদীয়মান বিজ্ঞান লেখক ও গবেষক, যিনি জটিল বৈজ্ঞানিক ধারণাগুলিকে সাধারণ পাঠকদের জন্য সহজবোধ্য করে তোলেন। তাঁর লেখায় রসায়ন, পরিবেশ বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তির সমসাময়িক বিষয়গুলি প্রাধান্য পায়। ঋদ্ধি নিয়মিতভাবে এই ওয়েবসাইটে বিজ্ঞান-ভিত্তিক প্রবন্ধ, গবেষণা সারসংক্ষেপ এবং বিশেষজ্ঞদের সাক্ষাৎকার প্রকাশ করেন।

আরও পড়ুন