পদ্মশ্রীতে ভারতের আড়ালের নায়কদের স্বীকৃতি: তৃণমূল পর্যায়ের কর্মীদের সম্মাননা

ভারত সরকার ২০২৬ সালের প্রজাতন্ত্র দিবসের প্রাক্কালে মোট ১৩৯ জন ব্যক্তিকে পদ্ম পুরস্কারে সম্মানিত করার ঘোষণা দিয়েছে, যার মধ্যে ১১৩ জনকে পদ্মশ্রী প্রদান করা হয়েছে । এবারের পুরস্কার তালিকায় বিশেষভাবে…

Srijita Chattopadhay

 

ভারত সরকার ২০২৬ সালের প্রজাতন্ত্র দিবসের প্রাক্কালে মোট ১৩৯ জন ব্যক্তিকে পদ্ম পুরস্কারে সম্মানিত করার ঘোষণা দিয়েছে, যার মধ্যে ১১৩ জনকে পদ্মশ্রী প্রদান করা হয়েছে । এবারের পুরস্কার তালিকায় বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো ৪৫ জন ‘আনসাং হিরো’ বা আড়ালের নায়কদের স্বীকৃতি, যারা দশকের পর দশক ধরে সমাজের তৃণমূল পর্যায়ে নীরবে কাজ করে গেছেন । এই পুরস্কারগুলি দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, আদিবাসী সম্প্রদায়, দলিত, পিছিয়ে পড়া শ্রেণি এবং দুর্গম অঞ্চলের মানুষদের অসাধারণ অবদানকে তুলে ধরেছে ।

পদ্মশ্রী পুরস্কারের পরিচিতি

পদ্মশ্রী ভারতের চতুর্থ সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা, যা ভারত রত্ন, পদ্ম বিভূষণ এবং পদ্ম ভূষণের পরে স্থান করে নেয় । ১৯৫৪ সালের ২ জানুয়ারি প্রতিষ্ঠিত এই পুরস্কার শিল্প, শিক্ষা, শিল্প, সাহিত্য, বিজ্ঞান, অভিনয়, চিকিৎসা, সমাজসেবা এবং জনসেবা সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রদান করা হয় । প্রতি বছর ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসে ভারত সরকার এই পুরস্কার প্রদান করে থাকে ।

২০২৬ সালের পদ্ম পুরস্কারের বিশেষত্ব

২০২৬ সালের পদ্ম পুরস্কার তালিকায় ৭টি পদ্ম বিভূষণ, ১৯টি পদ্ম ভূষণ এবং ১১৩টি পদ্মশ্রী প্রদান করা হয়েছে । এই তালিকায় ১৯ জন মহিলা পুরস্কার বিজয়ী রয়েছেন এবং ১৬ জনকে মরণোত্তর সম্মাননা দেওয়া হয়েছে । তবে এবারের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো তৃণমূল স্তরের ৪৫ জন সাধারণ ভারতীয়ের অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতি ।

তৃণমূল পর্যায়ের নায়কদের স্বীকৃতি

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সূত্র জানিয়েছে যে, এই ব্যক্তিরা স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, পরিচ্ছন্নতা, স্থায়িত্ব, জীবিকা সৃষ্টি এবং পরিবেশ সংরক্ষণে দীর্ঘদিন ধরে নিঃস্বার্থ কাজ করে চলেছেন । “আনসাং অ্যান্ড ইউনিক পদ্ম পুরস্কার বিজয়ীরা সাধারণ ভারতীয়দের অসাধারণ অবদানের উদযাপনের ধারণাকে প্রতিফলিত করে,” একটি সূত্র জানিয়েছে ।

স্বাস্থ্যসেবা ক্ষেত্রের নায়করা

স্বাস্থ্য ক্ষেত্র থেকে আটজন আড়ালের নায়ক পদ্মশ্রী পুরস্কার পেয়েছেন । এর মধ্যে রয়েছেন হিমোফিলিয়ার মতো স্থানীয় স্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ নিয়ে কাজ করা চিকিৎসকরা, নবজাতক শিশুদের যত্ন শক্তিশালী করতে কাজ করা চিকিৎসা পেশাদাররা এবং প্রান্তিক মানুষদের বিনামূল্যে চিকিৎসা প্রদানে নিবেদিত ব্যক্তিরা । কালাবুরাগির প্রান্তিক সম্প্রদায় থেকে আসা ডঃ বিজয়লক্ষ্মী দেশমানে স্তন ক্যান্সার গবেষণার একজন পথপ্রদর্শক, যিনি তাঁর সারা জীবন প্রান্তিক মানুষদের বিনামূল্যে চিকিৎসা প্রদানে উৎসর্গ করেছেন ।

সমাজসেবা ও শিক্ষা ক্ষেত্রে অবদান

পদ্মশ্রী পুরস্কার পেয়েছেন বৃজ লাল ভাট, যিনি জম্মু ও কাশ্মীরে সমাজসেবায় অবদান রেখেছেন । কর্ণাটকের আঙ্কে গৌড়া, একজন ৭৫ বছর বয়সী ব্যক্তি যিনি একটি বিশাল ব্যক্তিগত লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা করেছেন, তাকেও সাহিত্য ও শিক্ষা বিভাগে সম্মানিত করা হয়েছে । গুজরাটের নীলেশ বিনোদচন্দ্র মাণ্ডলেওয়ালা, ‘ডোনেট লাইফ’ সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা, সমাজসেবার জন্য পুরস্কার পেয়েছেন ।

আদিবাসী ও লোকশিল্পীদের সংরক্ষণ

দেশজ ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং আদিবাসী ভাষা ও শিল্পকলার প্রচারে নিবেদিত ব্যক্তিরা এবারের পদ্মশ্রী তালিকায় গুরুত্বপূর্ণ স্থান পেয়েছেন । ওড়িশার সাঁওতালি লেখক-সুরকার চরণ হেমব্রমকে সাহিত্য ও শিক্ষা বিভাগে সম্মানিত করা হয়েছে । ত্রিপুরার নরেশ চন্দ্র দেববর্মা রাজ্যের কোকবরক ভাষা প্রচারে কাজ করার জন্য পুরস্কার পেয়েছেন ।

বিলুপ্তপ্রায় শিল্পকলার রক্ষক

গুজরাটি ঐতিহ্যবাহী পারফরমিং আর্ট ফর্ম ‘মানভাট্ট’-এর শিল্পী ধর্মিকলাল চুনিলাল পাণ্ড্যা পুরস্কার পেয়েছেন । বিলুপ্তপ্রায় ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্র আলগোজা রক্ষায় কাজ করা সংগীতশিল্পী তাগা রাম ভীলকেও সম্মানিত করা হয়েছে । তামিলনাড়ুর আর. কৃষ্ণন, যিনি নীলগিরির শতাব্দী প্রাচীন কুরুম্বা আদিবাসী শিল্প ঐতিহ্য পুনরুজ্জীবিত করতে তাঁর জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাকেও পুরস্কৃত করা হয়েছে ।

লোকনাট্য ও সংস্কৃতি

ওড়িশার সুপরিচিত সাখি নাট লোকনাট্য অভিনেতা সিমাঞ্চল পাত্র, নাগা লোকনাট্য গুরু সাংগিউসাং এস. পঙ্গেনার এবং আসামের দৃশ্যপট নির্মাতা নুরুদ্দিন আহমেদকে ২০২৬-এর চতুর্থ সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে । আসামের পোকিলা লেখথেপি কাবরি লোক ও আধুনিক সংগীতে অবদানের জন্য পুরস্কার পেয়েছেন ।

পরিবেশ সংরক্ষণ ও কৃষি উদ্ভাবন

পরিবেশবিদ ও কৃষি উদ্ভাবকরাও এবারের পদ্মশ্রী তালিকায় বিশেষ স্থান পেয়েছেন । হিমালয় সংরক্ষণে নিবেদিত পরিবেশবিদ কৈলাশ চন্দ্র পন্থ তাঁর ৬০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ভারত জুড়ে হিন্দি ভাষা প্রচারে কাজ করেছেন এবং সাংবাদিকতার ক্ষেত্রেও অবদান রেখেছেন । মধ্য প্রদেশের মোহন নগর পরিবেশবিদ হিসেবে পুরস্কার পেয়েছেন ।

কৃষি ক্ষেত্রে নতুন দিশা

মহারাষ্ট্রের কৃষি উদ্ভাবক শ্রীরাং দেববা লাদ, যিনি ‘দাদা লাদ’ তুলা চাষ পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন, তাকে সম্মানিত করা হয়েছে । উত্তর প্রদেশের রঘুপত সিং কৃষিকে আরও লাভজনক করার জন্য উদ্ভাবনী পদ্ধতির জন্য পুরস্কার পেয়েছেন । ওড়িশার মহেন্দ্র কুমার মিশ্র আদিবাসী কণ্ঠস্বর রেকর্ড ও সংরক্ষণের কাজ করে পুরস্কৃত হয়েছেন ।

২০১৪ থেকে পদ্ম পুরস্কারের রূপান্তর

২০১৪ সালের পর থেকে পদ্ম পুরস্কারের নির্বাচন প্রক্রিয়ায় একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে, যা তৃণমূল পর্যায়ের কর্মীদের স্বীকৃতি দেওয়ার উপর বিশেষ জোর দিয়েছে । ২০১৪ সালের আগে পদ্ম পুরস্কারগুলি প্রায়শই সাহিত্য, শিল্প, সংগীত, সিনেমা ইত্যাদি ক্ষেত্রের অভিজাত ব্যক্তিদের দেওয়া হতো ।

জনগণের অংশগ্রহণে মনোনয়ন প্রক্রিয়া

ঐতিহ্যগত পদ্ধতি থেকে সরে এসে মনোনয়ন প্রক্রিয়া এখন ব্যাপকভিত্তিক হয়ে উঠেছে এবং জনসাধারণের জন্য খোলা করা হয়েছে । এটি তৃণমূল পর্যায়ের প্রকৃত নায়কদের স্বীকৃতি দেওয়া সম্ভব করেছে, যাদের অক্লান্ত পরিশ্রম এবং অসাধারণ কীর্তি তাদের সম্প্রদায় এবং তার বাইরে জীবনকে স্পর্শ করেছে । ২০১৤ সালের পর হঠাৎ করেই পদ্মশ্রী এমন লোকদের দেওয়া হতে শুরু করে যাদের সম্পর্কে কেউ আগে কখনও শোনেনি ।

দশকের পরিসংখ্যান

বিগত বছরগুলিতে পদ্ম পুরস্কারে তৃণমূল কর্মী, শিল্পী, সংগীতশিল্পী এবং দেশের প্রত্যন্ত কোণ থেকে আসা উদ্ভাবকরা গর্বিত প্রাপক হয়ে উঠেছেন । একবার, এই পুরস্কারগুলি সত্যিই ভারতের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে প্রতিফলিত করেছে কারণ অর্থ এবং প্রভাব ছাড়াই যোগ্য নাগরিকরা, স্ব-প্রচার এবং বিপণনের কোনও উপায় ছাড়াই তৃণমূল পর্যায়ে তাদের নিরলস এবং ক্লান্তিহীন কাজের জন্য প্রাপ্য আলো পেতে শুরু করেছেন ।

উল্লেখযোগ্য আড়ালের নায়কদের গল্প

প্রাক্তন বাস কন্ডাক্টর থেকে বিশ্ব রেকর্ড

এবারের তালিকায় একজন প্রাক্তন বাস কন্ডাক্টর রয়েছেন যিনি বিশ্বের বৃহত্তম ব্যক্তিগত লাইব্রেরি তৈরি করেছেন । এই ধরনের অসাধারণ অবদান সাধারণ মানুষের অসাধারণ সম্ভাবনাকে তুলে ধরে ।

শতবর্ষী সংগীতশিল্পী

তালিকায় একজন নব্বই ঊর্ধ্ব বছর বয়সী সংগীতশিল্পীও রয়েছেন যিনি তাঁর সারা জীবন লোকসংগীত সংরক্ষণে ব্যয় করেছেন । তামিলনাড়ুর ভজন গায়ক ওথুভার তিরুথানি স্বামীনাথনও পুরস্কার পেয়েছেন ।

ঢোলক যন্ত্রের নতুন পরিচয়

মির হাজীভাই কাসামভাই ‘ঢোলক’কে একটি প্রধান একক যন্ত্রে রূপান্তরিত করেছেন, যা ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্রের নতুন সম্ভাবনা উন্মোচন করেছে ।

প্রান্তিক সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব

এবারের পদ্মশ্রী পুরস্কার বিজয়ীদের মধ্যে প্রান্তিক ও দলিত সম্প্রদায়, আদিম উপজাতি এবং দুর্গম ভূখণ্ডে বসবাসকারী ব্যক্তিরা উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রয়েছেন । এই বছরের সম্মানিত ব্যক্তিরা ‘দিব্যাঙ্গ’ (প্রতিবন্ধী ব্যক্তি), নারী, শিশু, দলিত এবং আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সেবায় তাদের জীবন উৎসর্গ করার প্রতিশ্রুতি প্রদর্শন করেন, পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, পরিচ্ছন্নতা, স্থায়িত্ব এবং অর্থনৈতিক সুযোগ বৃদ্ধি করেছেন ।

নারী শক্তির স্বীকৃতি

২০২৬ সালের পদ্ম পুরস্কার তালিকায় ১৯ জন মহিলা রয়েছেন । মহারাষ্ট্রের আর্মিডা ফার্নান্দেস সমাজসেবার জন্য পুরস্কার পেয়েছেন । ওড়িশার বুদ্রি থাটিও সমাজসেবায় অবদানের জন্য সম্মানিত হয়েছেন ।

আদিবাসী ভাষা ও সাহিত্য

কাশ্মীরি সাহিত্যিক শফি শওক এবং সাংবাদিক কৈলাশ চন্দ্র পন্থ যিনি ৬০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ভারত জুড়ে হিন্দি প্রচারে কাজ করছেন, তারাও পুরস্কার পেয়েছেন ।

স্বচ্ছতা ও জাতীয় সংহতিতে অবদান

সীমান্ত রাজ্যগুলিতে জাতীয় সংহতি বৃদ্ধি এবং স্বচ্ছতা প্রচারে কাজ করা ব্যক্তিদের এবারের তালিকায় স্থান দেওয়া হয়েছে । “এরা এমন মানুষ যারা তাদের সারা জীবন সমাজের সেবায় উৎসর্গ করেছেন, প্রায়শই কোনও স্বীকৃতি ছাড়াই,” একটি সূত্র জানিয়েছে ।

স্থানীয় স্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জে কাজ

হিমোফিলিয়ার মতো স্থানীয় স্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ নিয়ে কাজ করা চিকিৎসক, নবজাতক পরিচর্যা শক্তিশালী করা চিকিৎসা পেশাদার এবং দিব্যাঙ্গ, নারী ও শিশুদের সেবা করা সমাজকর্মীরা পুরস্কার পেয়েছেন ।

বিলুপ্তপ্রায় শিল্প ও বয়ন সংরক্ষণ

মৃত শিল্প ও বয়ন সংরক্ষণ, দেশের পরিবেশগত সম্পদ রক্ষা এবং স্বচ্ছতার চ্যাম্পিয়ন ব্যক্তিরা এই সেট পুরস্কার বিজয়ীদের মধ্যে রয়েছেন । এই পুরস্কার বিজয়ীরা সত্যিকার অর্থে দেশের সেবায় তাদের দৈনন্দিন জীবন নিঃশব্দে অতিবাহিত করা প্রতিদিনের ভারতীয়দের প্রতীক ।

তথ্য ও পরিসংখ্যান সারণী

বিভাগ পুরস্কার সংখ্যা বিশেষত্ব
পদ্ম বিভূষণ সর্বোচ্চ শ্রেণি
পদ্ম ভূষণ ১৯ দ্বিতীয় শ্রেণি
পদ্মশ্রী ১১৩ তৃণমূল কর্মীদের স্বীকৃতি
মোট পুরস্কার ১৩৯ ২০২৬ সালের মোট
আনসাং হিরোজ ৪৫ বিশেষ স্বীকৃতি শ্রেণি
মহিলা পুরস্কার বিজয়ী ১৯ মোট পুরস্কারের প্রায় ১৪%
মরণোত্তর পুরস্কার ১৬ মৃত্যুর পর স্বীকৃতি

পদ্মশ্রীর সামাজিক প্রভাব

পদ্মশ্রী পুরস্কারের এই নতুন ধারা ভারতীয় সমাজে গভীর প্রভাব ফেলেছে। তৃণমূল পর্যায়ের কর্মীরা এখন অনুভব করেন যে তাদের কাজ জাতীয় স্তরে স্বীকৃত এবং মূল্যায়িত হচ্ছে। এটি আরও অনেক মানুষকে সমাজসেবায় উৎসাহিত করছে এবং প্রমাণ করছে যে অর্থ বা ক্ষমতা ছাড়াই শুধুমাত্র নিষ্ঠা ও পরিশ্রম দিয়ে জাতীয় সম্মান অর্জন করা সম্ভব।

প্রান্তিক সম্প্রদায়ের ক্ষমতায়ন

দলিত, আদিবাসী এবং পিছিয়ে পড়া শ্রেণির মানুষদের পদ্মশ্রী প্রদান তাদের সম্প্রদায়ে গর্ব ও আত্মবিশ্বাসের সঞ্চার করেছে। এটি প্রমাণ করেছে যে ভারতে প্রতিভা ও অবদানের স্বীকৃতিতে কোনও বর্ণ, ধর্ম বা অর্থনৈতিক অবস্থার বাধা নেই।

তরুণ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা

এই আড়ালের নায়কদের গল্পগুলি তরুণ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে। তারা দেখছে যে খ্যাতি বা সম্পদ ছাড়াই নিজের সম্প্রদায়ের সেবা করে কীভাবে জাতীয় পর্যায়ে স্বীকৃতি পাওয়া যায়।

ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে

২০২৬ সালের পদ্মশ্রী পুরস্কার ভারতের পদ্ম পুরস্কার ব্যবস্থার একটি নতুন অধ্যায় চিহ্নিত করেছে। এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং আরও বেশি সংখ্যক তৃণমূল কর্মীদের স্বীকৃতি দেওয়া ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে।

নমিনেশন প্রক্রিয়ার সম্প্রসারণ

ভবিষ্যতে নমিনেশন প্রক্রিয়াকে আরও ব্যাপকভিত্তিক করা এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষদের কাছে পৌঁছানোর প্রয়োজন রয়েছে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে এবং স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় এটি সম্ভব হতে পারে।

বিভিন্ন ক্ষেত্রে সম্প্রসারণ

পরিবেশ সংরক্ষণ, জল সংরক্ষণ, নবায়নযোগ্য শক্তি, ডিজিটাল সাক্ষরতা এবং মানসিক স্বাস্থ্যের মতো নতুন ক্ষেত্রে কাজ করা ব্যক্তিদেরও ভবিষ্যতে আরও বেশি করে স্বীকৃতি দেওয়া উচিত।

পদ্মশ্রী প্রাপকদের দায়িত্ব

পদ্মশ্রী পুরস্কার প্রাপকদের একটি বড় দায়িত্ব রয়েছে তাদের কাজ চালিয়ে যাওয়ার এবং অন্যদের অনুপ্রাণিত করার। তাদের জীবনের গল্প এবং অভিজ্ঞতা শেয়ার করে তারা আরও অনেক মানুষকে সমাজসেবায় উৎসাহিত করতে পারেন।

মিডিয়ার ভূমিকা

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এই ব্যক্তিদের কাজ তুলে ধরে ভিডিও শেয়ার করা শুরু করেছে । এই ভিডিওগুলি স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, পরিচ্ছন্নতা, স্থায়িত্ব, জীবিকা সৃষ্টি এবং পরিবেশ সংরক্ষণে তাদের দীর্ঘমেয়াদী প্রচেষ্টা প্রদর্শন করে ।

আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি

ভারতের পদ্ম পুরস্কার ব্যবস্থা, বিশেষত তৃণমূল কর্মীদের স্বীকৃতি দেওয়ার ক্ষেত্রে, আন্তর্জাতিক স্তরে প্রশংসিত হয়েছে। এটি অন্যান্য দেশের জন্য একটি মডেল হয়ে উঠতে পারে যারা তাদের নাগরিকদের অবদানকে স্বীকৃতি দিতে চান।

গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতিফলন

পদ্ম পুরস্কারের এই পরিবর্তন ভারতের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং সমতার প্রতিশ্রুতিকে প্রতিফলিত করে। এটি দেখায় যে দেশ তার সমস্ত নাগরিকদের, তাদের পটভূমি নির্বিশেষে, সমানভাবে মূল্য দেয়।

পদ্মশ্রী এবং সমাজ পরিবর্তন

পদ্মশ্রী পুরস্কার শুধুমাত্র একটি সম্মাননা নয়, এটি সমাজ পরিবর্তনের একটি হাতিয়ারও হয়ে উঠেছে। যখন একজন সাধারণ মানুষ তার নিঃস্বার্থ কাজের জন্য জাতীয় স্বীকৃতি পান, এটি সমাজে একটি শক্তিশালী বার্তা পাঠায়।

সেবার সংস্কৃতি গড়ে তোলা

এই পুরস্কারগুলি ভারতীয় সমাজে সেবার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে সাহায্য করছে। মানুষ বুঝতে পারছেন যে ব্যক্তিগত সাফল্যের পাশাপাশি সমাজের জন্য কাজ করাও গুরুত্বপূর্ণ এবং সম্মানজনক।

স্থানীয় সমস্যার স্থানীয় সমাধান

পদ্মশ্রী প্রাপকদের অনেকেই স্থানীয় সমস্যার স্থানীয় সমাধান খুঁজে বের করেছেন। তাদের উদাহরণ অন্যদের অনুপ্রাণিত করছে যে বড় সম্পদ বা সরকারি সহায়তা ছাড়াই স্থানীয় পর্যায়ে অনেক কিছু করা সম্ভব।

২০২৬ সালের পদ্মশ্রী পুরস্কার ভারতের আড়ালের নায়কদের স্বীকৃতি দেওয়ার একটি উজ্জ্বল উদাহরণ। মোট ১৩৯ জন পুরস্কার বিজয়ীদের মধ্যে ৪৫ জন তৃণমূল পর্যায়ের কর্মী তাদের নিঃস্বার্থ সেবার জন্য জাতীয় সম্মান পেয়েছেন। দলিত, আদিবাসী, নারী এবং প্রান্তিক সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব এই পুরস্কার তালিকায় ভারতের বৈচিত্র্য এবং সমতার প্রতিশ্রুতিকে প্রতিফলিত করে। ২০১৪ সাল থেকে শুরু হওয়া এই রূপান্তর পদ্ম পুরস্কার ব্যবস্থাকে সত্যিকার অর্থে গণতান্ত্রিক এবং জনমুখী করে তুলেছে। এই আড়ালের নায়করা প্রমাণ করেছেন যে খ্যাতি, সম্পদ বা ক্ষমতা ছাড়াই শুধুমাত্র নিষ্ঠা, পরিশ্রম এবং সমাজের প্রতি ভালোবাসা দিয়ে জাতীয় স্বীকৃতি অর্জন করা সম্ভব। তাদের জীবন ও কাজ ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে এবং ভারতে সেবার সংস্কৃতিকে আরও শক্তিশালী করবে।

About Author
Srijita Chattopadhay

সৃজিতা কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় স্নাতক। তিনি একজন প্রতিশ্রুতিশীল লেখক এবং সাংবাদিক, যিনি তার লেখা দ্বারা বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির সমৃদ্ধি তুলে ধরতে সদা উদ্যমী। সৃজিতার লেখার ধারা মূলত সাহিত্য, সমাজ এবং সংস্কৃতির বিভিন্ন দিককে ঘিরে আবর্তিত হয়, যেখানে তিনি তার গভীর পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা ও বিশ্লেষণী দক্ষতার পরিচয় দেন। তাঁর নিবন্ধ ও প্রতিবেদনগুলি পাঠকদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে, যা তার বস্তুনিষ্ঠতা ও সংবেদনশীলতার পরিচয় বহন করে। সৃজিতা তার কর্মজীবনে ক্রমাগত নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে বদ্ধপরিকর, যা তাকে বাংলা সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যতের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।

আরও পড়ুন