Period joint pain treatment and causes

Period Pain: পিরিয়ডের সময় জয়েন্টে ব্যথা, কারণ ও প্রতিকার – বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন

Period Pain: প্রতি মাসে পিরিয়ডের সময় অনেক নারীই শরীরের বিভিন্ন জয়েন্টে ব্যথা অনুভব করেন। বিশেষ করে হাঁটু, কব্জি এবং কোমরের জয়েন্টে এই ব্যথা বেশি হয়। সম্প্রতি ভারতীয় চিকিৎসা পরিষদের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, দেশের প্রায় ৭০% নারী পিরিয়ডের সময় জয়েন্টে…

avatar
Written By : Debolina Roy
Updated Now: July 29, 2024 8:40 AM
বিজ্ঞাপন

Period Pain: প্রতি মাসে পিরিয়ডের সময় অনেক নারীই শরীরের বিভিন্ন জয়েন্টে ব্যথা অনুভব করেন। বিশেষ করে হাঁটু, কব্জি এবং কোমরের জয়েন্টে এই ব্যথা বেশি হয়। সম্প্রতি ভারতীয় চিকিৎসা পরিষদের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, দেশের প্রায় ৭০% নারী পিরিয়ডের সময় জয়েন্টে ব্যথা অনুভব করেন। এই সমস্যা তাদের দৈনন্দিন জীবনযাপনে বাধার সৃষ্টি করে। কিন্তু কেন হয় এই ব্যথা? এর প্রতিকার কী? আসুন জেনে নেওয়া যাক বিশেষজ্ঞদের মতামত।

কেন হয় জয়েন্টে ব্যথা?

কলকাতার প্রখ্যাত গাইনোকোলজিস্ট ডা. সুদীপ্তা চট্টোপাধ্যায় জানালেন, “পিরিয়ডের সময় শরীরে হরমোনের ওঠানামা হয়। বিশেষ করে প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন নামক হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়। এই হরমোন শরীরে প্রদাহ সৃষ্টি করে এবং ব্যথার অনুভূতি বাড়িয়ে দেয়।”তিনি আরও বলেন, “এছাড়াও ইস্ট্রোজেন হরমোনের মাত্রা কমে যাওয়ার ফলে শরীরের বিভিন্ন টিস্যু ও লিগামেন্টের নমনীয়তা কমে যায়। এর ফলে জয়েন্টে ব্যথা অনুভূত হয়।”

Covid Vaccine: কোভিড ভ্যাকসিনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কীভাবে মোকাবেলা করবেন?

জয়েন্টে ব্যথার প্রকারভেদ

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, পিরিয়ডের সময় মূলত দুই ধরনের জয়েন্ট ব্যথা দেখা যায়:

  1. প্রাইমারি ডিসমেনোরিয়া: এটি সাধারণত কিশোরী ও তরুণীদের মধ্যে দেখা যায়। পিরিয়ড শুরু হওয়ার ১২-২৪ ঘণ্টা আগে থেকে ব্যথা শুরু হয় এবং পিরিয়ড শুরু হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কমে যায়।
  2. সেকেন্ডারি ডিসমেনোরিয়া: এক্ষেত্রে পিরিয়ডের সময় তলপেট ভারী হয়ে থাকে, ব্যথা অনুভূত হয় এবং অস্বস্তি লাগে। এটি সাধারণত জরায়ুতে প্রদাহ বা ইনফেকশনের কারণে হয়।

জয়েন্টে ব্যথার প্রভাব

নিম্নলিখিত টেবিলে দেখানো হয়েছে পিরিয়ডের সময় জয়েন্টে ব্যথার প্রভাব:

প্রভাবিত ক্ষেত্রশতকরা হার
কর্মক্ষমতা কমে যাওয়া৮৫%
ঘুমের ব্যাঘাত৭০%
সামাজিক কার্যকলাপে অংশগ্রহণ কমে যাওয়া৬০%
মানসিক চাপ বৃদ্ধি৫৫%

প্রতিরোধের উপায়

ডা. চট্টোপাধ্যায় জানালেন, “জয়েন্টে ব্যথা প্রতিরোধের জন্য কিছু সহজ উপায় অবলম্বন করা যেতে পারে।” তিনি নিম্নলিখিত পরামর্শগুলি দিয়েছেন:

  1. নিয়মিত ব্যায়াম: হালকা ব্যায়াম, যোগা বা হাঁটাহাঁটি করলে রক্ত সঞ্চালন ভালো হয় এবং ব্যথা কমে।
  2. স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস: ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার খেলে হাড় ও জয়েন্ট শক্তিশালী হয়।
  3. পর্যাপ্ত ঘুম: দিনে কমপক্ষে ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমালে শরীর পুনরুজ্জীবিত হয় এবং ব্যথা কমে।
  4. গরম সেঁক: ব্যথার জায়গায় গরম সেঁক দিলে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে এবং ব্যথা কমে।
  5. ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড: মাছ, বাদাম ইত্যাদিতে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে, যা প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে।

গর্ভাবস্থায় তলপেটে ব্যথা হয় কেন? কারন এবং ১০০% উপশমের কৌশল

চিকিৎসা পদ্ধতি

যদি ঘরোয়া উপায়ে ব্যথা না কমে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। ডা. চট্টোপাধ্যায় বলেন, “অনেক ক্ষেত্রে ব্যথানাশক ওষুধ দেওয়া হয়। তবে দীর্ঘমেয়াদে এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এসব ওষুধ খাওয়া উচিত নয়।”তিনি আরও জানান, “কিছু ক্ষেত্রে হরমোন থেরাপি বা অন্যান্য বিশেষ চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে। এজন্য রোগীর সামগ্রিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে সঠিক চিকিৎসা পদ্ধতি নির্ধারণ করা হয়।”

সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি

ভারতীয় চিকিৎসা পরিষদের সদস্য ডা. অনিন্দিতা সেন বলেন, “পিরিয়ডের সময় জয়েন্টে ব্যথা একটি জটিল সমস্যা। এর জন্য শুধু শারীরিক নয়, মানসিক স্বাস্থ্যের দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন।”তিনি আরও যোগ করেন, “স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট, মেডিটেশন ইত্যাদির মাধ্যমে মানসিক চাপ কমানো গেলে শারীরিক ব্যথাও অনেকাংশে কমে যায়। তাই একটি সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এই সমস্যার মোকাবিলা করা উচিত।”

পিরিয়ডের সময় জয়েন্টে ব্যথা একটি সাধারণ সমস্যা হলেও এর প্রভাব অনেক গভীর। সঠিক জ্ঞান ও সচেতনতার মাধ্যমে এই সমস্যা অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। তবে যদি ব্যথা অসহনীয় হয় বা দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সুস্থ জীবনযাপন ও সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে পিরিয়ডের সময় জয়েন্টে ব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।