PM Kisan Registration: পিএম কিষান প্রকল্পে নতুন আবেদন ও ২০২৬-এর কড়া নিয়ম – জমির মালিকানা ও ফর্ম ফিলাপের সম্পূর্ণ গাইড

PM Kisan Registration: কেন্দ্রীয় সরকারের সবথেকে জনপ্রিয় ও কার্যকরী প্রকল্পগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো ‘প্রধানমন্ত্রী কিষান সম্মান নিধি’ (PM Kisan Samman Nidhi)। ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে এই প্রকল্পের নিয়মাবলীতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ…

Riddhi Datta

 

PM Kisan Registration: কেন্দ্রীয় সরকারের সবথেকে জনপ্রিয় ও কার্যকরী প্রকল্পগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো ‘প্রধানমন্ত্রী কিষান সম্মান নিধি’ (PM Kisan Samman Nidhi)। ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে এই প্রকল্পের নিয়মাবলীতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে। বর্তমানে শুধুমাত্র আবেদন করলেই হবে না, জমির মালিকানা (Land Ownership) এবং ডকুমেন্ট ভেরিফিকেশন (Document Verification)-এর ক্ষেত্রে সরকারের “জিরো টলারেন্স” নীতি বা কড়া শর্ত পূরণ করলেই তবেই মিলবে বার্ষিক ৬,০০০ টাকার অনুদান। আপনি যদি একজন নতুন কৃষক হন এবং এখনো এই প্রকল্পের আওতায় না এসে থাকেন, তবে এই নিবন্ধটি আপনার জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ নির্দেশিকা।

এখানে আমরা ২০২৬ সালের সর্বশেষ তথ্য, জমির মিউটেশন সংক্রান্ত কড়া নিয়ম এবং নির্ভুলভাবে ফর্ম ফিলাপ করার সম্পূর্ণ পদ্ধতি আলোচনা করব।

পিএম কিষান সম্মান নিধি: বর্তমান প্রেক্ষাপট ও ২০২৬-এর নতুন আপডেট

প্রধানমন্ত্রী কিষান সম্মান নিধি যোজনা হলো ভারত সরকারের এমন একটি স্কিম যেখানে দেশের ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের আয় সুনিশ্চিত করতে বছরে তিনটি কিস্তিতে মোট ৬,০০০ টাকা সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে (DBT-এর মাধ্যমে) পাঠানো হয়।

২০২৬ সালের জানুয়ারি মাস পর্যন্ত, সরকার ইতিমধ্যেই ২১টি কিস্তি সফলভাবে কৃষকদের অ্যাকাউন্টে পাঠিয়েছে। সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রায় ১১ কোটিরও বেশি কৃষক পরিবার এই প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছেন এবং মোট ৩.৭০ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি অর্থ বিতরণ করা হয়েছে (সূত্র: কৃষি ও কৃষক কল্যাণ মন্ত্রক, ভারত সরকার)। তবে, ভুয়ো সুবিধাভোগীদের আটকাতে সরকার এখন e-KYC এবং Land Seeding (জমির তথ্য সংযুক্তিকরণ)-এর ওপর অত্যন্ত জোর দিচ্ছে।

আবেদনের জন্য আবশ্যিক যোগ্যতা (Eligibility Criteria)

নতুন আবেদন করার আগে আপনাকে নিশ্চিত হতে হবে যে আপনি এই প্রকল্পের যোগ্য কি না।

  • জমির মালিকানা: আবেদনকারীর নিজের নামে চাষযোগ্য জমি থাকতে হবে।

  • বয়স: আবেদনকারীর বয়স ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে হতে হবে।

  • নাগরিকত্ব: আবেদনকারীকে ভারতের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে।

কারা আবেদন করতে পারবেন না? (Exclusion List)

সরকার কিছু নির্দিষ্ট ক্যাটাগরির মানুষকে এই তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে: ১. যেকোনো সরকারি বা সাংবিধানিক পদে থাকা ব্যক্তি (বর্তমান বা প্রাক্তন)। ২. ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, আইনজীবী, চার্টার্ড অ্যাকাউন্টের মতো পেশাদার ব্যক্তিরা। ৩. যাঁরা আয়কর (Income Tax) প্রদান করেন। ৪. যাঁদের মাসিক পেনশন ১০,০০০ টাকার বেশি (চতুর্থ শ্রেণীর কর্মী বাদে)। ৫. প্রাতিষ্ঠানিক জমির মালিকরা।

জমির মালিকানায় কড়া শর্ত: “Land Seeding” ও মিউটেশন রুল

২০২৬ সালে পিএম কিষান আবেদনে সবথেকে বড় বাধা বা শর্ত হলো জমির মালিকানা সংক্রান্ত নিয়ম। ভুয়ো আবেদন রুখতে সরকার এখানে কড়াকড়ি করেছে।

১. কাট-অফ ডেট (Cut-off Date) ও মিউটেশন

  • ২০১৯ সালের ১লা ফেব্রুয়ারি-র নিয়মটি এখনো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি আপনি ১লা ফেব্রুয়ারি ২০১৯-এর পর কোনো জমি কিনে থাকেন (Sale Deed), তবে আপনি পিএম কিষানের সুবিধা পাবেন না।

  • ব্যতিক্রম: যদি আপনি জমিটি উত্তরাধিকার সূত্রে (বাবার মৃত্যুর পর বা পৈতৃক সূত্রে) পেয়ে থাকেন, তবে জমির মালিকানা পরিবর্তনের তারিখ ২০১৯-এর পরে হলেও আপনি আবেদনের যোগ্য। সেক্ষেত্রে আপনাকে ‘Vanshavali’ বা উত্তরাধিকার প্রমাণপত্র দাখিল করতে হতে পারে।

২. ল্যান্ড সিডিং (Land Seeding)

আপনার পিএম কিষান স্ট্যাটাসে ‘Land Seeding – YES’ থাকা বাধ্যতামূলক। এর অর্থ হলো, আপনার আধার কার্ডের তথ্যের সাথে রাজ্যের ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের (Land & Land Reforms Department) রেকর্ডের হুবহু মিল থাকতে হবে। নামের বানান বা জমির পরিমাণে অমিল থাকলে আবেদন বাতিল হবে।

পিএম কিষান নতুন আবেদন প্রক্রিয়া: ধাপে ধাপে গাইড (Step-by-Step Registration)

বর্তমানে আপনি ঘরে বসেই মোবাইল বা কম্পিউটারের মাধ্যমে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে আবেদন করতে পারেন। নিচে ২০২৬-এর নতুন পোর্টাল অনুযায়ী পদ্ধতি দেওয়া হলো:

ধাপ ১: অফিশিয়াল পোর্টালে যান

প্রথমে পিএম কিষানের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট pmkisan.gov.in-এ যান। এটিই একমাত্র বিশ্বস্ত পোর্টাল।

ধাপ ২: ‘New Farmer Registration’-এ ক্লিক করুন

ওয়েবসাইটের হোমপেজে ‘Farmers Corner’ সেকশনটি খুঁজুন। সেখানে “New Farmer Registration” অপশনে ক্লিক করুন।

ধাপ ৩: কৃষকের ধরন নির্বাচন

একটি নতুন পেজ খুলবে। এখানে দুটি অপশন পাবেন:

  • Rural Farmer Registration: গ্রামাঞ্চলের কৃষকদের জন্য।

  • Urban Farmer Registration: শহরাঞ্চলের কৃষকদের জন্য। আপনার এলাকা অনুযায়ী সঠিক অপশনটি বেছে নিন।

ধাপ ৪: আধার ও মোবাইল ভেরিফিকেশন

  • আপনার আধার নম্বর এবং মোবাইল নম্বর লিখুন।

  • আপনার রাজ্য (State) নির্বাচন করুন।

  • ক্যাপচা কোড দিয়ে ‘Get OTP’-তে ক্লিক করুন। আপনার মোবাইলে একটি ওটিপি আসবে, সেটি সাবমিট করুন। এরপর আধারের সঙ্গে লিঙ্ক করা মোবাইলে আরও একটি ওটিপি যাবে ভেরিফিকেশনের জন্য।

ধাপ ৫: ব্যক্তিগত ও জমির তথ্য পূরণ

ওটিপি ভেরিফিকেশনের পর মূল ফর্মটি খুলবে। এখানে খুব সাবধানে নিচের তথ্যগুলো দিন:

  • জেলা (District), সাব-ডিস্ট্রিক্ট (Block), এবং গ্রাম (Village) নির্বাচন করুন।

  • Category: জেনারেল/SC/ST সঠিক বাছুন।

  • Land Registration ID: এটি আপনার জমির দলিলে বা মিউটেশন সার্টিফিকেটে পাবেন। (পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে খতিয়ান নম্বর বা দাগ নম্বর হাতের কাছে রাখুন)।

  • Ration Card No: আপনার ডিজিটাল রেশন কার্ড নম্বর দিন।

ধাপ ৬: জমির বিস্তারিত (Land Details)

এখানে ‘Add’ বাটনে ক্লিক করে আপনার জমির খতিয়ান নম্বর (Khatian No), দাগ নম্বর (Dag No), এবং জমির পরিমাণ (হেক্টরে) উল্লেখ করুন।

  • Land Transfer Status: ২০১৯-এর ১লা ফেব্রুয়ারির আগে না পরে, তা সিলেক্ট করুন।

  • Land Transfer Details: জমিটি কি কেনা (Purchase), নাকি উত্তরাধিকার সূত্রে (Inheritance) প্রাপ্ত, তা উল্লেখ করুন।

ধাপ ৭: ডকুমেন্ট আপলোড ও সাবমিট

জমির পরচা (Land Record/Parcha) বা খতিয়ানের পরিষ্কার পিডিএফ কপি আপলোড করুন। সব তথ্য ভালো করে মিলিয়ে নিয়ে ‘Save’ বাটনে ক্লিক করুন। আপনার স্ক্রিনে একটি ‘Registration ID’ দেখাবে, সেটি টুকে রাখুন।

প্রয়োজনীয় নথিপত্র (Documents Required)

আবেদন করার সময় নিচের ডকুমেন্টগুলো হাতের কাছে রাখা বাধ্যতামূলক:

নথিপত্র বিবরণ
আধার কার্ড মোবাইল নম্বরের সাথে লিঙ্ক থাকা আবশ্যিক।
জমির রেকর্ড (খতিয়ান/পরচা) হালনাগাদ করা (Updated) রেকর্ড।
ব্যাঙ্ক পাসবুক বর্তমানে টাকা আধার বেসড পেমেন্টে (ABPS) আসে, তাই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সাথে আধার লিঙ্ক থাকা বাধ্যতামূলক।
মোবাইল নম্বর ওটিপি ভেরিফিকেশনের জন্য।

আবেদনের পর করণীয় এবং স্ট্যাটাস চেক

আবেদন সাবমিট করলেই কাজ শেষ নয়। আপনার আবেদনটি প্রথমে ব্লক বা জেলা স্তরে (ADO/Sub-Division) ভেরিফিকেশনের জন্য যাবে। সেখান থেকে অনুমোদিত হলে রাজ্য স্তরে এবং শেষে কেন্দ্র সরকারের কাছে যাবে।

স্ট্যাটাস চেক করার পদ্ধতি: ১. আবার pmkisan.gov.in-এ যান। ২. ‘Know Your Status’ অপশনে ক্লিক করুন। ৩. আপনার রেজিস্ট্রেশন নম্বর বা মোবাইল নম্বর দিন। ৪. ক্যাপচা দিয়ে ‘Get Data’-তে ক্লিক করলেই বর্তমান স্থিতি দেখতে পাবেন।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: যদি দেখেন স্ট্যাটাসে লেখা আছে “Pending for approval at State/District Level”, তবে চিন্তার কিছু নেই। এটি প্রক্রিয়াধীন আছে। কিন্তু যদি “Rejected” দেখায়, তবে কারণটি পাশে লেখা থাকবে (যেমন- নাম ভুল বা জমির তথ্যে গরমিল)। সেক্ষেত্রে আপনাকে কৃষি দপ্তরে (ADA Office) যোগাযোগ করতে হবে।

পিএম কিষান সম্মান নিধি প্রকল্পটি ২০২৬ সালেও ভারতের কৃষকদের জন্য একটি বড় অবলম্বন। তবে নতুন নিয়মে স্বচ্ছতার ওপর জোর দেওয়ায় আবেদনের সময় ছোটখাটো ভুলও গ্রাহ্য করা হচ্ছে না। তাই জমির রেকর্ড ও আধার কার্ডের তথ্য সঠিকভাবে মিলিয়ে তবেই ফর্ম সাবমিট করুন। আপনার যদি ইতিমধ্যেই আবেদন করা থাকে কিন্তু টাকা না ঢোকে, তবে দ্রুত আপনার e-KYC এবং ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের ডিবিটি (DBT) স্ট্যাটাস চেক করে নিন। সরকার প্রকৃত কৃষকদের সাহায্য করতে সর্বদা তৎপর, শুধু প্রয়োজন সঠিক নিয়ম মেনে আবেদন করা।

About Author
Riddhi Datta

ঋদ্ধি দত্ত কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়নবিদ্যায় স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তিনি একজন উদীয়মান বিজ্ঞান লেখক ও গবেষক, যিনি জটিল বৈজ্ঞানিক ধারণাগুলিকে সাধারণ পাঠকদের জন্য সহজবোধ্য করে তোলেন। তাঁর লেখায় রসায়ন, পরিবেশ বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তির সমসাময়িক বিষয়গুলি প্রাধান্য পায়। ঋদ্ধি নিয়মিতভাবে এই ওয়েবসাইটে বিজ্ঞান-ভিত্তিক প্রবন্ধ, গবেষণা সারসংক্ষেপ এবং বিশেষজ্ঞদের সাক্ষাৎকার প্রকাশ করেন।

আরও পড়ুন