Best Orthopedic Doctor at Popular Hospital Dhaka: ঢাকা শহরের ব্যস্ত জীবনে হাড়, জয়েন্ট বা পেশীর সমস্যা একটি সাধারণ ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দুর্ঘটনা, বয়স বৃদ্ধি, বা জীবনযাত্রার ধরনের কারণে অনেকেই দীর্ঘমেয়াদী ব্যথায় ভোগেন। এই পরিস্থিতিতে একজন ভালো অর্থোপেডিক ডাক্তারের পরামর্শ অপরিহার্য। বাংলাদেশের বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবায়, পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার লিমিটেড (Popular Diagnostic Centre Ltd.) বা যা সাধারণত “পপুলার হাসপাতাল” নামে পরিচিত, তা চিকিৎসা ও ডায়াগনস্টিক সুবিধার জন্য অন্যতম শীর্ষস্থানীয় একটি নাম। এখানে দেশের সেরা এবং অভিজ্ঞ অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞরা নিয়মিত রোগী দেখেন। এই আর্টিকেলটিতে আমরা ঢাকার পপুলার হাসপাতালের অর্থোপেডিক বিভাগ, এখানকার বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের ধরণ, কী কী সেবা পাওয়া যায়, এবং কিভাবে আপনি সহজে সিরিয়াল বুক করতে পারবেন, সে সম্পর্কে একটি গভীর ও তথ্যবহুল বিশ্লেষণ তুলে ধরব।
অর্থোপেডিক্স: চিকিৎসা বিজ্ঞানের এক গুরুত্বপূর্ণ শাখা
অর্থোপেডিক্স (Orthopedics) হলো চিকিৎসা বিজ্ঞানের সেই শাখা যা মানুষের মাস্কুলোস্কেলিটাল সিস্টেম (musculoskeletal system) অর্থাৎ হাড়, জয়েন্ট, লিগামেন্ট, টেন্ডন, পেশী এবং স্নায়ু সম্পর্কিত রোগ, আঘাত এবং সমস্যার চিকিৎসা নিয়ে কাজ করে। এটি কেবল ভাঙা হাড়ের চিকিৎসাই নয়, বরং জন্মগত ত্রুটি থেকে শুরু করে বয়সজনিত ক্ষয় (যেমন আর্থ্রাইটিস) পর্যন্ত বিস্তৃত এক বিশাল ক্ষেত্র।
কখন একজন অর্থোপেডিক ডাক্তারের প্রয়োজন?
অনেকেই সাধারণ ব্যথা এবং গুরুতর সমস্যার মধ্যে পার্থক্য করতে পারেন না। নিম্নলিখিত লক্ষণগুলি দেখা দিলে দ্রুত একজন অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত:
- দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা: কাঁধ, হাঁটু, কোমর বা অন্য কোনো জয়েন্টে ব্যথা যা কয়েক সপ্তাহ ধরে কমছে না।
- আঘাত: পড়ে যাওয়া, দুর্ঘটনা বা খেলাধুলার ফলে তীব্র ব্যথা, ফোলা বা হাড় ভাঙার সন্দেহ।
- সীমাবদ্ধ নড়াচড়া (Limited Range of Motion): যদি কোনো জয়েন্ট (যেমন হাঁটু বা কাঁধ) পুরোপুরি ভাঁজ করতে বা সোজা করতে অসুবিধা হয়।
- অস্থিরতা: হাঁটার সময় হাঁটু “লক” হয়ে যাওয়া বা মনে হওয়া যে জয়েন্টটি তার স্থান থেকে সরে যাচ্ছে।
- সকালে জয়েন্ট শক্ত হয়ে যাওয়া: ঘুম থেকে ওঠার পর জয়েন্টগুলো শক্ত হয়ে থাকা, যা সাধারণত আর্থ্রাইটিসের লক্ষণ।
- স্নায়বিক উপসর্গ: হাত বা পায়ে ঝিঁ ঝিঁ ধরা, অসাড় লাগা বা দুর্বলতা অনুভব করা, যা প্রায়শই মেরুদণ্ডের (Spine) সমস্যার সাথে যুক্ত।
অর্থোপেডিক্সের বিভিন্ন উপ-শাখা (Sub-specialties)
অর্থোপেডিক্স একটি বিশাল ক্ষেত্র। পপুলার হাসপাতালের মতো বড় প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিভিন্ন উপ-শাখায় বিশেষজ্ঞ ডাক্তার পাওয়া যায়, যা রোগীকে সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা পেতে সাহায্য করে। প্রধান উপ-শাখাগুলো হলো:
- ট্রমা ও ফ্র্যাকচার সার্জারি (Trauma & Fracture Surgery): দুর্ঘটনাজনিত হাড় ভাঙা, স্থানচ্যুতি এবং গুরুতর আঘাতের চিকিৎসা।
- জয়েন্ট রিপ্লেসমেন্ট (Joint Replacement): এটি ‘আর্থ্রোপ্লাস্টি’ নামেও পরিচিত। প্রধানত হাঁটু (Knee Replacement) এবং হিপ (Hip Replacement) জয়েন্ট প্রতিস্থাপন করা হয় যখন আর্থ্রাইটিসের কারণে জয়েন্ট সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়।
- স্পাইন সার্জারি (Spine Surgery): মেরুদণ্ডের সমস্যা, যেমন ডিস্ক প্রোল্যাপস, স্পাইনাল স্টেনোসিস (স্নায়ুর পথ সরু হয়ে যাওয়া), এবং মেরুদণ্ডের আঘাত বা টিউমারের চিকিৎসা।
- আর্থ্রোস্কোপি ও স্পোর্টস মেডিসিন (Arthroscopy & Sports Medicine): খেলাধুলাজনিত আঘাত, বিশেষ করে লিগামেন্ট (যেমন ACL) বা মেনিস্কাস ছিঁড়ে যাওয়ার চিকিৎসায় এই পদ্ধতি ব্যবহার হয়। এতে জয়েন্টের ভেতরে ছোট ক্যামেরা (Arthroscope) প্রবেশ করিয়ে mínimally invasive (খুব কম কাটাছেঁড়া) সার্জারি করা হয়।
- পেডিয়াট্রিক অর্থোপেডিক্স (Pediatric Orthopedics): শিশুদের জন্মগত হাড়ের ত্রুটি (যেমন ক্লাব ফুট), বৃদ্ধিজনিত সমস্যা এবং শিশুদের হাড় ভাঙার চিকিৎসা।
- হ্যান্ড সার্জারি (Hand Surgery): হাত, কবজি এবং বাহুর জটিল আঘাত, কারপাল টানেল সিনড্রোম এবং অন্যান্য স্নায়বিক সমস্যার চিকিৎসা।
বাংলাদেশে অর্থোপেডিক সেবার প্রয়োজনীয়তা: একটি পরিসংখ্যানগত চিত্র
বাংলাদেশে অর্থোপেডিক সমস্যার প্রকোপ দিন দিন বাড়ছে। এর পেছনে একাধিক কারণ জড়িত, যা স্বাস্থ্যসেবা খাতের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।
বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) -এর মতে, বিশ্বব্যাপী প্রায় ১.৭১ বিলিয়ন মানুষ পেশী ও হাড়ের সমস্যায় (musculoskeletal conditions) ভুগছেন। এর মধ্যে লো ব্যাক পেইন (Low Back Pain) বা কোমরের ব্যথাই হলো বিশ্বব্যাপী অক্ষমতার (disability) প্রধান কারণ। বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে অস্টিওআর্থ্রাইটিস (Osteoarthritis) বা বাতজনিত হাড়ের ক্ষয় রোগের হারও বাড়ছে।
বাংলাদেশের বাস্তবতা
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অর্থোপেডিক সেবার চাহিদা বৃদ্ধির প্রধান কারণগুলো হলো:
১. সড়ক দুর্ঘটনা: বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম দুর্ঘটনাপ্রবণ দেশ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) -এর তথ্যমতে, বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতি বছর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ মারা যায় এবং এর চেয়ে বহুগুণ বেশি মানুষ গুরুতর আহত হয়, যাদের বেশিরভাগেরই জটিল অর্থোপেডিক ট্রমা (হাড় ভাঙা) চিকিৎসা প্রয়োজন হয়।
২. জনসংখ্যার বয়স বৃদ্ধি: বিশ্বব্যাংক (World Bank) -এর তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সী মানুষের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। বয়স বাড়ার সাথে সাথে অস্টিওআর্থ্রাইটিস, অস্টিওপোরোসিস (হাড় ভঙ্গুর হয়ে যাওয়া) এবং হিপ ফ্র্যাকচারের মতো সমস্যা বহুগুণ বেড়ে যায়।
৩. নগর জীবনের প্রভাব: অপরিকল্পিত নগরায়ন, দীর্ঘ সময় ধরে অস্বাস্থ্যকর ভঙ্গিতে বসে কাজ করা (যেমন অফিস বা ফ্রিল্যান্সিং), এবং কায়িক পরিশ্রমের অভাবের কারণে কোমর ও ঘাড়ের ব্যথার (স্পন্ডাইলোসিস) রোগী বাড়ছে।
৪. শিল্প ও নির্মাণ খাতের দুর্ঘটনা: বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান শিল্পায়ন ও নির্মাণ খাতে প্রায়শই শ্রমিকদের নিরাপত্তার অভাব দেখা যায়। কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনা (Occupational Hazards) অর্থোপেডিক ইনজুরির একটি বড় উৎস।
এই বিশাল চাহিদার বিপরীতে, বিশেষায়িত অর্থোপেডিক চিকিৎসা, বিশেষ করে সরকারি খাতে অপ্রতুল। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ট্রমাটোলজি অ্যান্ড অর্থোপেডিক রিহ্যাবিলিটেশন (NITOR) বা পঙ্গু হাসপাতাল এর ওপর চাপ অনেক বেশি। এখানেই পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মতো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো উন্নত ডায়াগনসিস এবং বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের মাধ্যমে একটি গুরুত্বপূর্ণ শূন্যস্থান পূরণ করছে।
পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার লিমিটেড: অর্থোপেডিক সেবায় আস্থার প্রতীক
পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার (পিডিসিএল) শুধু একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার নয়, এটি একটি পূর্ণাঙ্গ ‘ওয়ান-স্টপ’ স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র, যেখানে রোগ নির্ণয় থেকে শুরু করে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ এবং ছোটখাটো সার্জারি পর্যন্ত অনেক সুবিধা রয়েছে।
কেন অর্থোপেডিক চিকিৎসার জন্য পপুলারকে বেছে নেওয়া হয়?
বিশেষজ্ঞ ডাক্তাররা পপুলারে রোগী দেখতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন এবং রোগীরাও এখানে আসতে চান, এর পেছনে নির্দিষ্ট কিছু কারণ রয়েছে।
১. সর্বাধুনিক ডায়াগনস্টিক সুবিধা
অর্থোপেডিক চিকিৎসায় সঠিক রোগ নির্ণয় (Diagnosis) সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। হাড়ের সূক্ষ্ম ফাটল, লিগামেন্টের ইনজুরি বা স্নায়ুর ওপর চাপ খালি চোখে বা সাধারণ এক্স-রে’তে ধরা না-ও পড়তে পারে। পপুলারে এই সংক্রান্ত সব ধরনের উন্নত পরীক্ষা এক ছাদের নিচে পাওয়া যায়:
- ডিজিটাল এক্স-রে (Digital X-ray): সাধারণ এক্স-রে’র চেয়ে অনেক স্পষ্ট চিত্র প্রদান করে।
- এমআরআই (MRI – Magnetic Resonance Imaging): বিশেষ করে লিগামেন্ট, টেন্ডন, ডিস্ক প্রোল্যাপস এবং স্পোর্টস ইনজুরির জন্য এমআরআই অপরিহার্য। পপুলারে হাই-টেসলা (High-Tesla) এমআরআই মেশিন রয়েছে যা সূক্ষ্মতম সমস্যাও সনাক্ত করতে পারে।
- সিটি স্ক্যান (CT Scan): জটিল ফ্র্যাকচার (হাড় ভাঙা) বা হাড়ের টিউমারের ত্রিমাত্রিক (3D) চিত্র দেখতে সিটি স্ক্যান অত্যন্ত কার্যকর।
- বোন ডেনসিটোমেট্রি (Bone Densitometry – DEXA Scan): অস্টিওপোরোসিস বা হাড়ের ক্ষয় নির্ণয়ের জন্য এটি গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড পরীক্ষা।
- আল্ট্রাসনোগ্রাম (USG): পেশী বা টেন্ডনের ইনজুরি এবং শিশুদের হিপ জয়েন্টের সমস্যা দেখতে ব্যবহৃত হয়।
- প্যাথলজি ল্যাব: রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস বা ইনফেকশাস আর্থ্রাইটিসের মতো রোগ নির্ণয়ের জন্য রক্ত পরীক্ষা (যেমন RA Factor, Anti-CCP, CRP) এখানে বিশ্বমানের যন্ত্রপাতিতে করা হয়।
২. বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের বিশাল প্যানেল
পপুলারের মূল শক্তি হলো এর বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের প্যানেল। অর্থোপেডিক্সের প্রায় প্রতিটি উপ-শাখার (Sub-specialty) সিনিয়র এবং অভিজ্ঞ ডাক্তাররা এখানে বসেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ঢাকার প্রধান প্রধান সরকারি মেডিকেল কলেজ (যেমন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ) এবং বিশেষায়িত হাসপাতাল (যেমন নিটোর বা পঙ্গু হাসপাতাল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় – BSMMU) -এর স্বনামধন্য অধ্যাপক ও সার্জনরা তাদের অফ-পিক আওয়ারে পপুলারের বিভিন্ন শাখায় কনসালটেন্সি প্রদান করেন।
এর ফলে রোগীরা সরকারি হাসপাতালের সেরা ডাক্তারদেরই বেসরকারি পরিবেশে, কম অপেক্ষার সময়ে এবং উন্নত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দেখাতে পারেন।
৩. সমন্বিত স্বাস্থ্যসেবা (Integrated Care)
অর্থোপেডিক চিকিৎসার প্রায়শই ফিজিওথেরাপি এবং রিহ্যাবিলিটেশনের প্রয়োজন হয়। পপুলারে দক্ষ ফিজিওথেরাপিস্টদের তত্ত্বাবধানে রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার রয়েছে। ডাক্তারের পরামর্শের পাশাপাশি এই সেবাগুলো একই বিল্ডিং-এ পাওয়া যাওয়ায় রোগীদের জন্য তা অনেক সুবিধাজনক হয়।
পপুলার হাসপাতালে (ঢাকা) অর্থোপেডিক বিভাগের সেবাসমূহ
পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অর্থোপেডিক বিভাগ অত্যন্ত সুসংগঠিত। এখানে পরামর্শ থেকে শুরু করে ছোট অস্ত্রোপচার পর্যন্ত বিভিন্ন সেবা প্রদান করা হয়।
প্রধান সেবাসমূহ (সারণি)
| সেবার ধরণ | সংক্ষিপ্ত বিবরণ | কাদের জন্য প্রযোজ্য |
| জেনারেল অর্থোপেডিক কনসালটেন্সি | হাড়, পেশী বা জয়েন্টের যেকোনো সাধারণ ব্যথা বা সমস্যার জন্য প্রাথমিক পরামর্শ। | সকল প্রকার রোগী |
| ট্রমা ও ফ্র্যাকচার ম্যানেজমেন্ট | দুর্ঘটনা বা আঘাতজনিত হাড় ভাঙা, প্লাস্টার করা, বা সার্জারির পরামর্শ। | দুর্ঘটনা কবলিত রোগী |
| জয়েন্ট রিপ্লেসমেন্ট সার্জারি (পরামর্শ) | হাঁটু ও হিপ জয়েন্ট প্রতিস্থাপনের জন্য বিশেষজ্ঞ সার্জনের পরামর্শ ও ফলো-আপ। | তীব্র অস্টিওআর্থ্রাইটিস রোগী |
| স্পাইন ক্লিনিক | কোমর ও ঘাড় ব্যথা, ডিস্ক প্রোল্যাপস, সায়াটিকা এবং মেরুদণ্ডের অন্যান্য সমস্যার জন্য বিশেষায়িত সেবা। | স্পাইন বা মেরুদণ্ডের রোগী |
| আর্থ্রোস্কোপি ও স্পোর্টস ইনজুরি | হাঁটু বা কাঁধের লিগামেন্ট ইনজুরি (যেমন ACL), মেনিস্কাস টিয়ার-এর জন্য mínimally invasive সার্জারির পরামর্শ। | খেলোয়াড় বা স্পোর্টস ইনজুরি |
| পেডিয়াট্রিক অর্থোপেডিক্স | শিশুদের জন্মগত পায়ের বিকৃতি (Club Foot), হিপ ডিসপ্লেসিয়া এবং অন্যান্য হাড়ের সমস্যার চিকিৎসা। | শিশু রোগী |
| রিউমাটোলজি ও আর্থ্রাইটিস | বাতজনিত (যেমন রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস) সমস্যার জন্য ডায়াগনসিস এবং চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা। | বাত ও গিরা ব্যথার রোগী |
| ফিজিওথেরাপি ও রিহ্যাবিলিটেশন | সার্জারির পরে বা স্ট্রোকজনিত প্যারালাইসিসের পর স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা ফিরিয়ে আনতে থেরাপি। | সার্জারি পরবর্তী বা দীর্ঘমেয়াদী ব্যথার রোগী |
কিভাবে পপুলার হাসপাতালের অর্থোপেডিক ডাক্তারের সিরিয়াল দেবেন? (একটি ধাপে ধাপে গাইড)
পপুলার হাসপাতালের ডাক্তার দেখানোর প্রক্রিয়া খুবই সুনির্দিষ্ট। যেহেতু এখানে শত শত ডাক্তার বসেন, তাই সঠিক ডাক্তারের সিরিয়াল পাওয়াটা নতুন রোগীদের জন্য কিছুটা বিভ্রান্তিকর হতে পারে।
ধাপ ১: সঠিক ডাক্তার এবং শাখা নির্বাচন করা
আপনার প্রথম কাজ হলো আপনার সমস্যার জন্য সঠিক ডাক্তার খুঁজে বের করা।
- সমস্যা নির্দিষ্ট করুন: আপনার সমস্যা কি হাঁটুতে? নাকি কোমরে? আপনি কি দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন? যদি আপনার সমস্যা মেরুদণ্ডে হয়, তবে একজন “স্পাইন সার্জন” আপনার জন্য ভালো। যদি হাঁটুতে হয়, তবে “জয়েন্ট রিপ্লেসমেন্ট” বা “আর্থ্রোস্কোপি” বিশেষজ্ঞ ভালো।
- ঢাকার শাখা নির্বাচন: পপুলারের ঢাকা শহরে একাধিক শাখা রয়েছে। যেমন: ধানমন্ডি, শান্তিনগর, উত্তরা, মিরপুর, শ্যামলী, বাড্ডা ইত্যাদি। আপনার বাসার নিকটতম শাখা কোনটি তা ঠিক করুন। তবে মনে রাখবেন, সব বিশেষজ্ঞ সব শাখায় বসেন না। ধানমন্ডি শাখাটি সাধারণত প্রধান কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হয় এবং এখানে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক সিনিয়র ডাক্তার পাওয়া যায়।
ধাপ ২: ডাক্তারের সময়সূচী এবং প্রাপ্যতা যাচাই করা
এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। পপুলার হাসপাতালের ডাক্তারদের সময়সূচী প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হতে পারে। তাই যাচাই করার জন্য সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায় হলো:
১. অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ব্যবহার: পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট -এ একটি ‘Find a Doctor’ সেকশন রয়েছে।
* সেখানে গিয়ে ‘Specialty’ থেকে ‘Orthopedics’ নির্বাচন করুন।
* ‘Location’ থেকে আপনার পছন্দের শাখা (যেমন ‘Dhanmondi’) নির্বাচন করুন।
* এরপর ‘Search’ করলে আপনি ওই শাখায় কোন কোন অর্থোপেডিক ডাক্তার বসেন, তাদের নাম, ডিগ্রি এবং চেম্বারের সময়সূচী দেখতে পাবেন।
২. টেলিফোন হটলাইন (সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য):
পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কেন্দ্রীয় অ্যাপয়েন্টমেন্ট হটলাইন হলো 10636।
* এই নম্বরে কল করে আপনি সরাসরি আপনার কাঙ্ক্ষিত ডাক্তারের নাম বলে বা আপনার সমস্যার কথা বলে (যেমন “আমি একজন অর্থোপেডিক স্পাইন সার্জন দেখাতে চাই”) সিরিয়াল বুক করতে পারেন।
* কল সেন্টার প্রতিনিধি আপনাকে ডাক্তারের প্রাপ্যতা, বসার দিন, সময় এবং কনসালটেশন ফি সম্পর্কে সর্বশেষ তথ্য দিতে পারবেন।
ধাপ ৩: অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিং (সিরিয়াল দেওয়া)
- ফোন বুকিং: 10636 নম্বরে কল করে আপনার নাম, বয়স এবং মোবাইল নম্বর দিয়ে সিরিয়াল বুক করুন। তারা আপনাকে একটি সিরিয়াল নম্বর এবং আনুমানিক সময় জানিয়ে দেবে।
- সরাসরি বুকিং: আপনি যদি পপুলারের কোনো শাখায় অন্য কোনো কাজে যান, তবে সরাসরি নিচতলার ইনফরমেশন বা অ্যাপয়েন্টমেন্ট ডেস্কেও সিরিয়াল বুক করতে পারেন। তবে জনপ্রিয় ডাক্তারদের সিরিয়াল কয়েকদিন বা সপ্তাহ খানেক আগেই বুক হয়ে যায়, তাই আগে থেকে ফোন করাই উত্তম।
ধাপ ৪: ডাক্তারের সাথে সাক্ষাতের প্রস্তুতি
একজন অর্থোপেডিক ডাক্তার দেখানোর আগে কিছু প্রস্তুতি নিলে আপনার চিকিৎসা প্রক্রিয়া সহজ হবে:
- পূর্ববর্তী কাগজপত্র: আপনার যদি আগের কোনো এক্স-রে, এমআরআই রিপোর্ট বা অন্য ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন থাকে, তা অবশ্যই সাথে নিয়ে যান।
- লক্ষণের তালিকা: আপনার কী কী সমস্যা হচ্ছে, কখন ব্যথা বাড়ে বা কমে, তা গুছিয়ে বলুন বা প্রয়োজনে নোট করে নিয়ে যান।
- ওষুধের তালিকা: আপনি যদি অন্য কোনো রোগের (যেমন ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ) জন্য নিয়মিত ওষুধ খান, তার একটি তালিকা সাথে রাখুন।
পপুলার হাসপাতালের অর্থোপেডিক ডাক্তার: অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা
পপুলার হাসপাতালে যে অর্থোপেডিক ডাক্তাররা বসেন, তারা সাধারণত নিজ নিজ ক্ষেত্রে সুপ্রতিষ্ঠিত। তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা সাধারণত এমবিবিএস (MBBS) পাসের পর অর্থোপেডিক সার্জারিতে উচ্চতর ডিগ্রি, যেমন এমএস (MS – Orthopedics) বা এফসিপিএস (FCPS – Orthopedics) হয়ে থাকে।
অনেক ডাক্তারই দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান থেকে স্পোর্টস মেডিসিন, স্পাইন সার্জারি বা জয়েন্ট রিপ্লেসমেন্টের ওপর বিশেষ ফেলোশিপ বা প্রশিক্ষণ নিয়ে এসেছেন। উদাহরণস্বরূপ, ভারত, সিঙ্গাপুর, জার্মানি, বা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে অ্যাডভান্সড ট্রমা বা আর্থ্রোস্কোপিতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সার্জনরা পপুলারে নিয়মিত বসেন।
এই ডাক্তাররা সাধারণত দুটি ভাগে বিভক্ত:
১. অর্থোপেডিক সার্জন: যারা সার্জারি বা অস্ত্রোপচারে বিশেষজ্ঞ।
২. রিউমাটোলজিস্ট/ফিজিক্যাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞ: যারা প্রধানত বাতজনিত সমস্যা বা দীর্ঘমেয়াদী ব্যথার চিকিৎসা ওষুধ এবং থেরাপির মাধ্যমে করেন।
আপনার সমস্যা যদি সার্জারির প্রয়োজন না হয় (যেমন সাধারণ কোমর ব্যথা বা আর্থ্রাইটিসের প্রাথমিক পর্যায়), তবে একজন ফিজিক্যাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞও ভালো বিকল্প হতে পারেন। পপুলারের কল সেন্টারে আপনার সমস্যার কথা বললে তারা আপনাকে সঠিক বিশেষজ্ঞের কাছেই রেফার করতে পারবে।
অর্থোপেডিক চিকিৎসা: খরচ এবং অন্যান্য বিবেচ্য বিষয়
বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা ব্যয় সরকারি হাসপাতালের তুলনায় বেশি। পপুলার হাসপাতালেও এর ব্যতিক্রম নয়।
- কনসালটেশন ফি: একজন অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞের কনসালটেশন ফি সাধারণত ১০০০ টাকা থেকে ২৫০০ টাকার মধ্যে হতে পারে। সিনিয়র অধ্যাপক বা বেশি অভিজ্ঞ ডাক্তারদের ফি তুলনামূলকভাবে বেশি হয়। এই তথ্যটি আপনি সিরিয়াল বুকিংয়ের সময় 10636 নম্বরে কল করে জেনে নিতে পারবেন।
- ডায়াগনস্টিক খরচ: এমআরআই, সিটি স্ক্যান বা বিশেষ রক্ত পরীক্ষার খরচ আলাদাভাবে প্রদান করতে হবে। পপুলারের ডায়াগনস্টিক চার্জ মানসম্মত এবং প্রায়শই অন্যান্য শীর্ষ বেসরকারি হাসপাতালের মতোই।
- সার্জারি ও প্রসিডিওর: পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কিছু শাখায় ডে-কেয়ার সার্জারি বা ছোট প্রসিডিওরের (যেমন জয়েন্টে ইনজেকশন দেওয়া, প্লাস্টার করা) সুবিধা থাকলেও, বড় সার্জারি (যেমন জয়েন্ট রিপ্লেসমেন্ট) সাধারণত তাদের সহযোগী হাসপাতাল বা অন্য বিশেষায়িত হাসপাতালে করা হয়, যেখানে উক্ত সার্জন যুক্ত আছেন। ডাক্তারই আপনাকে এই বিষয়ে সেরা পরামর্শ দেবেন।
সরকারি হাসপাতালের সাথে তুলনা
ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ট্রমাটোলজি অ্যান্ড অর্থোপেডিক রিহ্যাবিলিটেশন (NITOR) বা পঙ্গু হাসপাতাল হলো অর্থোপেডিক চিকিৎসার জন্য দেশের প্রধান সরকারি বিশেষায়িত হাসপাতাল। এখানে চিকিৎসা খরচ খুবই কম এবং দেশের সেরা সার্জনরা এখানে কাজ করেন।
তবে, রোগীর 엄청 চাপ, দীর্ঘ সিরিয়াল এবং কেবিন পাওয়ার অসুবিধার কারণে অনেকেই দ্রুত এবং আরামদায়ক সেবার জন্য পপুলারের মতো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের শরণাপন্ন হন। পপুলারে আপনি নির্দিষ্ট সময়ে ডাক্তার দেখাতে পারেন এবং রোগ নির্ণয়ের পরীক্ষাগুলো দ্রুত সম্পন্ন করতে পারেন।
হাড় ও জয়েন্টের সমস্যা জীবনের মানকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করতে পারে। সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা গ্রহণ করলে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। ঢাকার পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার লিমিটেড তার উন্নত রোগ নির্ণয় ব্যবস্থা, দেশের সেরা অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞদের সহজলভ্যতা এবং সমন্বিত সেবার মাধ্যমে রোগীদের আস্থা অর্জন করেছে। আপনি যদি অর্থোপেডিক সমস্যায় ভোগেন, তবে পপুলারের হটলাইনে (10636) কল করে বা তাদের ওয়েবসাইট ভিজিট করে একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে পারেন। মনে রাখবেন, আপনার স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়া আপনারই দায়িত্ব, এবং সঠিক তথ্যই আপনাকে সেরা সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করতে পারে।











