Prasun Bandyopadhyay Wins Sahitya Akademi Award: বাংলা কবিতার দুনিয়ায় যে কয়েকজন কবির নাম উচ্চারণ করলে সত্তর দশকের সেই উত্তাল সময়ের ছবি চোখের সামনে ভেসে ওঠে, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে উজ্জ্বল একটি নাম। দশকের পর দশক ধরে নিজের লেখায় উত্তর কলকাতার গলি-ঘুপচি, মানুষের জীবন আর আধ্যাত্মিক অনুসন্ধানকে যিনি কবিতায় ধরে রেখেছেন, সেই কবিকে অবশেষে দেশের সর্বোচ্চ সাহিত্য স্বীকৃতি দেওয়া হলো। প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় সাহিত্য একাডেমি পুরস্কার পাচ্ছেন ২০২৫ সালের জন্য — এই ঘোষণা একটি বড় মাইলফলক, শুধু তাঁর ব্যক্তিগত জীবনে নয়, গোটা বাংলা সাহিত্যের জন্যও।
দে’জ পাবলিশিং থেকে প্রকাশিত তাঁর ‘শ্রেষ্ঠ কবিতা’ বইটির জন্য এই পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। ১৫ মার্চ ২০২৬ তারিখে সাহিত্য একাডেমি আনুষ্ঠানিকভাবে ২৪টি ভারতীয় ভাষায় এই পুরস্কার ঘোষণা করেছে। পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান হবে ৩১ মার্চ ২০২৬ তারিখে।
প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় কে — সংক্ষিপ্ত পরিচয়
বাংলা কবিতার ইতিহাসে সত্তরের দশক একটি আলাদা পরিচয় বহন করে। সেই দশকে যে কবিরা কলম তুলেছিলেন, তাঁদের মধ্যে প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তাঁর কবিতার ভাষা একেবারে আলাদা — সহজ, সরল, অলংকারবর্জিত, মেদহীন এবং পরিমিত। কোনো বাড়তি শব্দের ভিড় নেই, কোনো কৃত্রিম জটিলতা নেই।
তিনি মূলত উত্তর কলকাতাকে কেন্দ্র করে তাঁর কাব্যজগৎ তৈরি করেছেন। সেই উত্তর কলকাতার পুরনো বাড়ি, সংকীর্ণ গলি, মানুষের ভিড়, তাদের প্রাত্যহিক জীবন — এই সবকিছু তাঁর কবিতায় এক অদ্ভুত মায়াবী রূপ পেয়েছে। পাঠক তাঁর লেখায় চেনা শহরকে নতুনভাবে আবিষ্কার করেন, নতুন চোখে দেখতে পান।
তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘বালি ও তরমুজ’ প্রকাশের পরেই বাংলা সাহিত্যের পাঠক মহলে তিনি একটি স্বতন্ত্র কণ্ঠস্বর হিসেবে পরিচিতি পান। সেই প্রথম বই থেকেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল, তাঁর কবিতা অন্য পথে হাঁটবে — ভিড়ের মাঝেও একা থাকবে।
সাহিত্য একাডেমি পুরস্কার ২০২৫ — বিস্তারিত ঘোষণা
২০২৫ সালের সাহিত্য একাডেমি পুরস্কার ঘোষণার পথটা মসৃণ ছিল না। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে পুরস্কার ঘোষণার জন্য একটি সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়েছিল। কিন্তু সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের একটি সার্কুলারের কারণে, যেখানে বলা হয়েছিল যেকোনো ঘোষণার আগে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন লাগবে, সেই সংবাদ সম্মেলন শেষ মুহূর্তে বাতিল হয়ে যায়। প্রায় তিন মাসের অচলাবস্থার পর, ১৫ মার্চ ২০২৬ তারিখে সাহিত্য একাডেমি তাদের ২০২৫ সালের বার্ষিক পুরস্কার ঘোষণা করে।
এই বছর মোট ২৪টি ভারতীয় ভাষায় পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। মোট ৮টি কাব্যগ্রন্থ, ৪টি উপন্যাস, ৬টি ছোটগল্প সংকলন, ২টি প্রবন্ধ সংগ্রহ, ১টি সাহিত্য সমালোচনা, ১টি আত্মজীবনী এবং ২টি স্মৃতিকথা এই পুরস্কার জিতেছে। বাংলা ভাষায় প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার পাচ্ছেন ‘শ্রেষ্ঠ কবিতা’ গ্রন্থের জন্য।
কোন বইয়ের জন্য পুরস্কার?
সাহিত্য একাডেমির অফিসিয়াল তালিকায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে — বাংলা ভাষায় ২০২৫ সালের পুরস্কার পেয়েছেন Prasun Bandyopadhyay তাঁর ‘Shrestha Kabita (Poetry)’ গ্রন্থের জন্য। দে’জ পাবলিশিং থেকে প্রকাশিত এই ‘শ্রেষ্ঠ কবিতা’ গ্রন্থটি প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘ কাব্যজীবনের সেরা কবিতাগুলোর একটি বাছাই সংকলন। বইটিতে কবি নিজে তাঁর কাব্যজীবনের বিভিন্ন পর্যায় থেকে কবিতা বেছে নিয়েছেন।
আনন্দবাজার পত্রিকার একটি সমালোচনায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে তাঁর ‘গুপ্ত দাম্পত্যকথা’, ‘রাধাতপা চতুর্দশী’ এবং ‘টুরিস্ট কাহিনি’ গ্রন্থ থেকে কোনো কবিতা এই শ্রেষ্ঠ সংকলনে রাখেননি — এই সিদ্ধান্তটি কবির নিজস্ব শিল্পবোধের পরিচয় দেয়।
পুরস্কার সংক্রান্ত মূল তথ্য
| বিষয় | বিবরণ |
| পুরস্কারের নাম | সাহিত্য একাডেমি পুরস্কার ২০২৫ |
| বিজয়ী (বাংলা) | প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় |
| পুরস্কৃত গ্রন্থ | শ্রেষ্ঠ কবিতা (কবিতা সংকলন) |
| প্রকাশক | দে’জ পাবলিশিং |
| ঘোষণার তারিখ | ১৫ মার্চ, ২০২৬ |
| পুরস্কার বিতরণ | ৩১ মার্চ, ২০২৬ |
| পুরস্কারের মূল্য | ₹১ লক্ষ টাকা + তামার ফলক + শাল |
| বিচারক মণ্ডলী (বাংলা) | অমর মিত্র, অধ্যাপক চিন্ময় গুহ, অধ্যাপক জয়দীপ সারঙ্গি |
| মোট পুরস্কৃত ভাষা | ২৪টি ভারতীয় ভাষা |
প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাব্যজগৎ
সত্তরের দশকে বাংলা কবিতার যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল, তাতে প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন একজন প্রধান স্তম্ভ। তাঁর কবিতার ভাষা সব সময় সরাসরি কথা বলেছে — পাঠকের সঙ্গে, সমাজের সঙ্গে, নিজের সত্তার সঙ্গে। সত্তরের দশকের আধুনিক বাংলা কবিতার এক স্বতন্ত্র ধারা তৈরি করেছেন তিনি। তাঁর কাব্যসংগ্রহ ২০১৯ সাল পর্যন্ত কবির সমস্ত কাব্যগ্রন্থ ও অগ্রন্থিত কবিতা নিয়ে সংকলিত হয়েছে।
তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থগুলি
প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাব্যজীবন বিস্তৃত ও বৈচিত্র্যময়। তাঁর বেশ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ রয়েছে যেগুলি বাংলা সাহিত্যের পাঠক মহলে বিশেষ পরিচিতি পেয়েছে:
- বালি ও তরমুজ — প্রথম কাব্যগ্রন্থ, যেখানে কবি তাঁর নিজস্ব কাব্যভাষা প্রতিষ্ঠা করেন
- গুপ্ত দাম্পত্যকথা — ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনের মেলবন্ধন
- রাধাতপা চতুর্দশী — আধ্যাত্মিক ও ভক্তিমূলক কাব্যধারার নতুন রূপ
- টুরিস্ট কাহিনি — আধুনিক জীবনের যাত্রাপথের রূপকথা
- শ্রেষ্ঠ কবিতা — জীবনের সেরা কবিতার বাছাই সংকলন, যা সাহিত্য একাডেমি পুরস্কার পেল
কবিতার বৈশিষ্ট্য ও স্বতন্ত্রতা
প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়ের কবিতার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো তাঁর ভাষার সরলতা এবং গভীরতার সমন্বয়। তাঁর কবিতায় কোনো কৃত্রিম ভারী শব্দ নেই, কোনো অহেতুক জটিলতা নেই — কিন্তু তারপরেও পড়লে মনে হয় একটি গভীর সত্যকে স্পর্শ করা গেল। তাঁর কবিতার আরেকটি বিশেষত্ব হলো এক অদ্ভুত স্মার্টনেস — একটা ঝলমলে চোখা দৃষ্টিভঙ্গি যা সাধারণ মানুষের মধ্যেও অসাধারণ সৌন্দর্য খুঁজে পায়। সমালোচকরা বলেছেন, তাঁর কবিতায় এই তুখোড় স্মার্টনেসের পাশে মহাশক্তির প্রতি অধ্যাত্মবিশ্বাস এসে কাব্যমহিমার এক আশ্চর্য সহাবস্থান ঘটায়।
সাহিত্য একাডেমি পুরস্কার — বাংলা ভাষায় ইতিহাস
সাহিত্য একাডেমি পুরস্কার ভারতের সবচেয়ে সম্মানজনক সাহিত্য পুরস্কার। বাংলা ভাষায় এই পুরস্কার প্রতিবছর একজন লেখককে দেওয়া হয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যারা এই পুরস্কার পেয়েছেন তাদের একটি তালিকা:
| বছর | গ্রন্থ | লেখক | বিভাগ |
| ২০২৫ | শ্রেষ্ঠ কবিতা | প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় | কবিতা |
| ২০২৩ | জলের উপর পানি | স্বপ্নময় চক্রবর্তী | উপন্যাস |
| ২০২২ | বীরবল | তপন বন্দ্যোপাধ্যায় | উপন্যাস |
| ২০২১ | মিরজাফর ও অন্যান্য নাটক | ব্রাত্য বসু | নাটক |
| ২০২০ | একা একা একাশি | শংকর (মানিশংকর মুখোপাধ্যায়) | স্মৃতিকথা |
| ২০০০ | পাগলী তোমার সঙ্গে | জয় গোস্বামী | কবিতা |
| ১৯৯৭ | হার্বার্ট | নবারুণ ভট্টাচার্য | উপন্যাস |
পুরস্কারের সাথে কী পাওয়া যায়?
সাহিত্য একাডেমি পুরস্কারে বিজয়ীরা একটি বিশেষ পুরস্কারসামগ্রী পেয়ে থাকেন। এই পুরস্কারে থাকে একটি খোদাই করা তামার ফলক যা একটি বিশেষ বাক্সে সংরক্ষিত থাকে, একটি শাল এবং নগদ ₹১ লক্ষ টাকা। ৩১ মার্চ ২০২৬ তারিখে আনুষ্ঠানিকভাবে এই পুরস্কার বিজয়ীদের হাতে তুলে দেওয়া হবে।
২০২৫ সালের সাহিত্য একাডেমি — অন্যান্য উল্লেখযোগ্য বিজয়ী
২৪ ভাষায় ২৪ জন সাহিত্যিক
এই বছর সাহিত্য একাডেমি পুরস্কার পাওয়া মোট ২৪ জনের মধ্যে বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট সাহিত্যিক রয়েছেন। ইংরেজি ভাষায় পুরস্কার পেয়েছেন প্রাক্তন কূটনীতিক নবতেজ সারনা তাঁর উপন্যাস ‘ক্রিমসন স্প্রিং’-এর জন্য। হিন্দি ভাষায় পুরস্কার পেয়েছেন মমতা কালিয়া তাঁর স্মৃতিকথা ‘জীতে জী এলাহাবাদ’-এর জন্য। অসমিয়া ভাষায় পুরস্কার পেয়েছেন দেবব্রত দাস।
| ভাষা | বিজয়ী | গ্রন্থ |
| বাংলা | প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় | শ্রেষ্ঠ কবিতা |
| ইংরেজি | নবতেজ সারনা | Crimson Spring |
| হিন্দি | মমতা কালিয়া | জীতে জী এলাহাবাদ |
| অসমিয়া | দেবব্রত দাস | — |
| গুজরাটি | যোগেশ বৈদ্য | ভাটখাডাকি |
কীভাবে বেছে নেওয়া হলো?
সাহিত্য একাডেমি পুরস্কারের জন্য প্রতিটি ভাষায় একটি বিচারক মণ্ডলী থাকে যারা সেই বছরের সেরা গ্রন্থটি নির্বাচন করেন। বাংলা ভাষায় ২০২৫ সালের বিচারক মণ্ডলীতে ছিলেন তিনজন বিশিষ্ট সাহিত্যিক ব্যক্তিত্ব — বিখ্যাত কথাসাহিত্যিক অমর মিত্র, অধ্যাপক চিন্ময় গুহ এবং অধ্যাপক জয়দীপ সারঙ্গি। বাংলার প্রতিষ্ঠিত সাহিত্যিক প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে থেকে এই তিনজনকে নিয়ে এই বিশেষ বিচারক মণ্ডলী তৈরি হয়েছিল।
তাঁদের মূল্যায়নেই প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘শ্রেষ্ঠ কবিতা’ গ্রন্থটি সেরা বিবেচিত হয়েছে। এই নির্বাচনটি বাংলা কবিতার পাঠকমহলে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে, কারণ প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় সত্তরের দশক থেকে আজ পর্যন্ত যে একনিষ্ঠ কাব্যচর্চা করে আসছেন, এই পুরস্কার তার যোগ্য স্বীকৃতি বলে মনে করছেন সাহিত্য বিশ্লেষকরা।
তিন মাসের অপেক্ষা — কেন?
এই বছরের সাহিত্য একাডেমি পুরস্কার ঘোষণা যে কারণে তিন মাস দেরি হলো, সেটা অনেকের কাছেই বিস্ময়ের বিষয় ছিল। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে একটি প্রেস কনফারেন্স ডাকা হয়েছিল পুরস্কার ঘোষণার জন্য। কিন্তু সেই প্রেস কনফারেন্স শেষ মুহূর্তে বাতিল করা হয়, কারণ সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের একটি সার্কুলারে বলা হয়েছিল — যেকোনো পুরস্কার ঘোষণার আগে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিতে হবে।
এই ঘটনাটি সাহিত্য মহলে বিতর্কের ঝড় তুলেছিল, কারণ সাহিত্য একাডেমি সাংবিধানিকভাবে একটি স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা। শেষ পর্যন্ত প্রায় তিন মাস পর, ২০২৬ সালের মার্চ মাসে ঘোষণা হলো। পশ্চিমবঙ্গ সহ বেশ কয়েকটি রাজ্যে নির্বাচনের পরিপ্রেক্ষিতে এই পুরস্কারগুলি একটি বিশেষ রাজনৈতিক গুরুত্বও পেয়েছে।
প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বাংলা কবিতার ভবিষ্যৎ
প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই পুরস্কার প্রাপ্তি শুধু একজন কবির ব্যক্তিগত সাফল্য নয় — এটি সত্তরের দশকের বাংলা কবিতার একটি স্বীকৃতি। সেই দশকে যে কবিরা কলম ধরেছিলেন, যারা বাংলা কবিতাকে একটি নতুন পথে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন, তাদের প্রতিনিধি হিসেবে এই পুরস্কার পাওয়া প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য একটি বিশেষ সম্মান।
বাংলা কবিতার পরবর্তী প্রজন্মের কবিরা — যারা এখন লিখছেন — তাদের অনেকেই স্বীকার করেন যে প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাব্যভাষা তাদের প্রভাবিত করেছে। তাঁর সরল কিন্তু গভীর লেখার ধরন, উত্তর কলকাতাকে কেন্দ্র করে গড়ে তোলা এক কাব্যিক মহাবিশ্ব — এগুলি বাংলা সাহিত্যের চিরস্থায়ী সম্পদ হয়ে গেছে।
নতুন পাঠকদের জন্য কোথা থেকে শুরু করবেন?
যারা প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়ের কবিতার সঙ্গে প্রথমবার পরিচিত হতে চান, তাদের জন্য কয়েকটি পরামর্শ:
- প্রথমে ‘শ্রেষ্ঠ কবিতা’ বইটি পড়ুন — এটি তাঁর সেরা কাজের একটি বাছাই সংকলন
- ‘বালি ও তরমুজ’ পড়লে কবির শুরুর যাত্রাটা বোঝা যাবে
- ‘কাব্যসংগ্রহ’ পড়লে ২০১৯ পর্যন্ত তাঁর সমস্ত কাজ একসঙ্গে পাওয়া যাবে
- মাধ্যমিক স্তরে ‘মফস্বলের বাস’ কবিতাটি পাঠ্যক্রমে আছে, যা অনেকের কাছে পরিচিত
সাহিত্য একাডেমি পুরস্কার সম্পর্কে জানুন
ভারতের সর্বোচ্চ সাহিত্য সম্মান
সাহিত্য একাডেমি পুরস্কার ভারতের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ সাহিত্য পুরস্কারগুলির একটি। ১৯৫৫ সাল থেকে এই পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। প্রতি বছর ২৪টি ভারতীয় ভাষায় সেরা সাহিত্যকর্মের জন্য এই পুরস্কার প্রদান করা হয়। পুরস্কারটি সাহিত্য একাডেমি কর্তৃক প্রদান করা হয়, যা ভারত সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা।
পুরস্কারের গুরুত্ব
এই পুরস্কার পাওয়া একজন লেখকের কাছে কেবল আর্থিক স্বীকৃতির চেয়ে অনেক বেশি কিছু। এটি তাঁর সাহিত্যিক অবদানের জাতীয় স্বীকৃতি। পুরস্কারের পর লেখকের বইয়ের চাহিদা বাড়ে, নতুন পাঠক তৈরি হয়, এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের পাঠকরাও সেই লেখকের কাজ পড়তে আগ্রহী হন। প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় সাহিত্য একাডেমি পুরস্কার পাওয়ার ফলে তাঁর কবিতার প্রতি নতুন প্রজন্মের আগ্রহ বাড়বে বলেই আশা করা যায়।
পাঠক প্রতিক্রিয়া ও সামাজিক মাধ্যম
সাহিত্যপ্রেমীদের অনুভূতি
প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাহিত্য একাডেমি পুরস্কার পাওয়ার খবর প্রকাশের পরেই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বাংলা কবিতার পাঠকরা, সাহিত্যপ্রেমীরা এবং কবিতা নিয়ে যারা আগ্রহী তারা এই সংবাদে উৎসাহিত হয়েছেন। ডাকবাংলা ডটকম-এ কবির সঙ্গে অভীক মজুমদারের একটি বিশেষ কথোপকথনও প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে তাঁর কাব্যজীবন ও এই পুরস্কার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা আছে।
বাংলা সাহিত্যের দীর্ঘদিনের পাঠক এবং সমালোচকরা মনে করছেন, এই পুরস্কার অনেক দিন আগেই আসা উচিত ছিল। সত্তর দশক থেকে প্রায় পাঁচ দশকের নিরলস কাব্যচর্চার পর এই স্বীকৃতি কবির জন্য একটি বড় আনন্দের মুহূর্ত।
প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় সাহিত্য একাডেমি পুরস্কার একাডেমি
বাংলা কবিতার ইতিহাসে ২০২৫ সালের সাহিত্য একাডেমি পুরস্কার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকবে। প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো একজন কবি, যিনি দশকের পর দশক ধরে নিজের মতো করে, নিজের ভাষায়, নিজের শহরের কথা লিখে গেছেন — তাঁকে এই পুরস্কার দেওয়া মানে শুধু একজন কবিকে নয়, বাংলা কবিতার একটি বিশেষ ধারাকে সম্মান জানানো।
‘শ্রেষ্ঠ কবিতা’ গ্রন্থটি তাঁর কাব্যজীবনের এক সারসংক্ষেপ। এই বইয়ে যে কবিতাগুলো আছে, সেগুলো পড়লে বোঝা যায় কেন প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় সাহিত্য একাডেমি পুরস্কার পাওয়ার যোগ্য। তাঁর কবিতায় যে উত্তর কলকাতা আছে, সেটা শুধু একটি ভৌগোলিক স্থান নয় — সেটা একটি আবেগ, একটি জীবনদর্শন, একটি সভ্যতার কাহিনী।
এই পুরস্কার প্রাপ্তি নতুন প্রজন্মের পাঠকদের প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়ের কবিতার দিকে টেনে আনবে — এটাই হবে এই পুরস্কারের সবচেয়ে বড় অর্জন। বাংলা সাহিত্যের এই দীপ্তিমান কবিকে তাঁর এই সম্মানের জন্য আন্তরিক অভিনন্দন।











