২০২৬ সালের Purnima তিথির তালিকা: আপনি যদি এই ১৩টি তারিখ মিস করেন তাহলে সারা বছরের পুণ্য হাতছাড়া হবে!

Purnima tithi days list 2026: ২০২৬ সালে মোট ১৩টি পূর্ণিমা তিথি আসতে চলেছে, যার মধ্যে একটি অতিরিক্ত অধিক মাসের পূর্ণিমা রয়েছে । হিন্দু পঞ্জিকা অনুসারে প্রতিটি পূর্ণিমা তিথি ধর্মীয় ও…

Srijita Chattopadhay

 

Purnima tithi days list 2026: ২০২৬ সালে মোট ১৩টি পূর্ণিমা তিথি আসতে চলেছে, যার মধ্যে একটি অতিরিক্ত অধিক মাসের পূর্ণিমা রয়েছে । হিন্দু পঞ্জিকা অনুসারে প্রতিটি পূর্ণিমা তিথি ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক দৃষ্টিকোণ থেকে অত্যন্ত পুণ্যদায়ক এবং ফলদায়ক বলে বিবেচিত হয় । চন্দ্র দেবতা ও দেবী লক্ষ্মীর সঙ্গে পূর্ণিমার বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে এবং এই দিনে ব্রত পালন, পূজা, দান ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানের বিশেষ মাহাত্ম্য রয়েছে । পূর্ণিমা তিথি প্রতি মাসে শুক্লপক্ষের শেষে আসে, যখন চন্দ্র সম্পূর্ণভাবে দৃশ্যমান হয় ।

পূর্ণিমা কী এবং এর ধর্মীয় তাৎপর্য

পূর্ণিমা হলো সেই তিথি যখন চন্দ্র সম্পূর্ণ আকারে দৃশ্যমান হয় এবং সূর্যের আলোয় পুরোপুরি আলোকিত হয় । হিন্দু চন্দ্র ক্যালেন্ডারে পূর্ণিমা তিথি সম্পূর্ণতা, পরিপূর্ণতা এবং প্রাচুর্যের প্রতীক হিসেবে গণ্য করা হয় । চন্দ্রের ক্ষয়প্রাপ্ত এবং বৃদ্ধিপ্রাপ্ত পক্ষকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে – শুক্লপক্ষ এবং কৃষ্ণপক্ষ । প্রতি ৩০ দিন অন্তর পূর্ণিমা তিথি আসে অর্থাৎ প্রতি মাসে একবার পূর্ণিমা আসে ।

পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে, চন্দ্র দেবতা কঠোর তপস্যার মাধ্যমে ভগবান বিষ্ণুকে সন্তুষ্ট করেছিলেন । তাঁর কৃপায় চন্দ্র তার হারানো শক্তি এবং উজ্জ্বলতা পুনরায় লাভ করেছিলেন । তখন থেকে পূর্ণিমার দিনে চন্দ্র বিশেষভাবে শ্রদ্ধেয় বলে বিবেচিত হয় । জ্যোতিষশাস্ত্র অনুসারে পূর্ণিমার দিনে চন্দ্রের শক্তি সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকে, যা পৃথিবীতে ইতিবাচকতা এবং আলোকিতি বিকিরণ করে ।

২০২৬ সালের পূর্ণিমার সম্পূর্ণ তালিকা

২০২৬ সালে মোট ১৩টি পূর্ণিমা তিথি রয়েছে, যার মধ্যে একটি জ্যৈষ্ঠ মাসে অধিক পূর্ণিমা অন্তর্ভুক্ত । নিচে প্রতিটি পূর্ণিমার বিস্তারিত তারিখ এবং সময় উল্লেখ করা হলো:

পূর্ণিমার নাম তারিখ (২০২৬) পূর্ণিমা তিথি শুরু পূর্ণিমা তিথি শেষ বিশেষত্ব
পৌষ পূর্ণিমা ৩ জানুয়ারি (শনিবার) ০২ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৬:৫৩ ০৩ জানুয়ারি বিকাল ৩:৩২ সুপারমুন
মাঘ পূর্ণিমা ১ ফেব্রুয়ারি (রবিবার) ০১ ফেব্রুয়ারি ভোর ৫:৫২ ০২ ফেব্রুয়ারি রাত ৩:৩৮ স্নো মুন
ফাল্গুন পূর্ণিমা (হোলি) ৩ মার্চ (মঙ্গলবার) ০২ মার্চ সন্ধ্যা ৫:৫৫ ০৩ মার্চ সন্ধ্যা ৫:০৭ ওয়ার্ম মুন
চৈত্র পূর্ণিমা ২ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) ০১ এপ্রিল সকাল ৭:০৬ ০২ এপ্রিল সকাল ৭:৪১ পিংক মুন
বৈশাখ পূর্ণিমা (বুদ্ধ পূর্ণিমা) ১ মে (শুক্রবার) ৩০ এপ্রিল রাত ৯:১২ ০১ মে রাত ১০:৫২ ফ্লাওয়ার মুন
অধিক পূর্ণিমা (জ্যৈষ্ঠ অধিক) ৩১ মে (রবিবার) ৩০ মে দুপুর ১১:৫৭ ৩১ মে দুপুর ২:১৪ ব্লু মুন
দেব স্নান পূর্ণিমা (জ্যৈষ্ঠ পূর্ণিমা) ২৯ জুন (সোমবার) ২৯ জুন রাত ৩:০৬ ৩০ জুন ভোর ৫:২৬ স্ট্রবেরি মুন
গুরু পূর্ণিমা (আষাঢ় পূর্ণিমা) ২৯ জুলাই (বুধবার) ২৮ জুলাই সন্ধ্যা ৬:১৮ ২৯ জুলাই রাত ৮:০৫ বাক মুন
নারালি পূর্ণিমা (শ্রাবণ পূর্ণিমা) ২৮ আগস্ট (শুক্রবার) ২৭ আগস্ট সকাল ৯:০৮ ২৮ আগস্ট সকাল ৯:৪৮ স্টার্জন মুন
ভাদ্র পূর্ণিমা ২৬ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ২৫ সেপ্টেম্বর রাত ১১:০৬ ২৬ সেপ্টেম্বর রাত ১০:১৮ হার্ভেস্ট মুন
শরৎ পূর্ণিমা (আশ্বিন পূর্ণিমা) ২৬ অক্টোবর (সোমবার) ২৫ অক্টোবর দুপুর ১১:৫৫ ২৬ অক্টোবর সকাল ৯:৪১ বিশেষ উৎসব
কার্তিক পূর্ণিমা ২৪ নভেম্বর (মঙ্গলবার) ২৩ নভেম্বর রাত ১১:৪২ ২৪ নভেম্বর রাত ৮:২৩ দেব দীপাবলী
মার্গশীর্ষ পূর্ণিমা ২৩ ডিসেম্বর (বুধবার) ২৩ ডিসেম্বর সকাল ১০:৪৭ ২৪ ডিসেম্বর সকাল ৬:৫৭ বছরের শেষ পূর্ণিমা

বিশেষ পূর্ণিমাগুলির মাহাত্ম্য

বুদ্ধ পূর্ণিমা – বৈশাখ পূর্ণিমা

বৈশাখ মাসের পূর্ণিমা বুদ্ধ পূর্ণিমা নামে পরিচিত এবং এটি ভগবান গৌতম বুদ্ধের জন্ম, জ্ঞানপ্রাপ্তি এবং মহাপরিনির্বাণের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার সাক্ষী । ২০২৬ সালে বুদ্ধ পূর্ণিমা ১ মে পালিত হবে । এই দিনটি বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছে সবচেয়ে পবিত্র দিন হিসেবে বিবেচিত হয় । বুদ্ধ পূর্ণিমায় ভক্তরা আত্ম-উৎসর্গ, করুণা, অন্তর্নিহিত শান্তি এবং দুঃখ থেকে বিচ্ছিন্নতা সম্পর্কে বুদ্ধের শিক্ষা অনুসরণ করেন ।

গুরু পূর্ণিমায় কী কী করা উচিত: আপনার ভাগ্য পরিবর্তনের সুবর্ণ সুযোগ!

গুরু পূর্ণিমা – আষাঢ় পূর্ণিমা

আষাঢ় মাসের পূর্ণিমা গুরু পূর্ণিমা হিসেবে পালিত হয় এবং ২০২৬ সালে এটি ২৯ জুলাই উদযাপিত হবে । এই দিনটি আধ্যাত্মিক এবং শিক্ষাগত গুরুদের সম্মান জানানোর জন্য উৎসর্গীকৃত । হিন্দু, বৌদ্ধ এবং জৈন ধর্মে এই দিনটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ । এই দিনে মহর্ষি বেদব্যাসের জন্মদিন পালন করা হয়, যিনি প্রাচীন ভারতীয় মহাকাব্য মহাভারতের রচয়িতা । বৌদ্ধ ধর্মে এটি সারনাথে ভগবান বুদ্ধের প্রথম উপদেশের স্মরণে পালিত হয় ।

শরৎ পূর্ণিমা – আশ্বিন পূর্ণিমা

শরৎ পূর্ণিমা আশ্বিন মাসের পূর্ণিমায় পালিত হয় এবং ২০২৬ সালে এটি ২৬ অক্টোবর উদযাপিত হবে । এই পূর্ণিমা শরৎ ঋতুর পূর্ণিমা রাত্রিতে ভগবান কৃষ্ণের সঙ্গে যুক্ত । এই পূর্ণিমাকে বছরের সবচেয়ে সুন্দর পূর্ণিমা বলা হয় এবং বৃন্দাবনের সমস্ত মন্দিরে দেবতাদের চাঁদের মতো সাদা রঙের পোশাকে সজ্জিত করা হয় । এটি মনসুনের সমাপ্তি এবং কার্তিক মাসের শুরুর চিহ্নিত করে একটি ফসল উৎসব ।

কার্তিক পূর্ণিমা

কার্তিক পূর্ণিমা হিন্দু, শিখ এবং জৈন সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎসব, যা কার্তিক মাসের পূর্ণিমায় পালিত হয় । ২০২৬ সালে এটি ২৪ নভেম্বর উদযাপিত হবে । বৈষ্ণব ধর্মে এই দিনটি রাধা এবং কৃষ্ণের পূজার জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয় । এই দিনে রাধা-কৃষ্ণ তাদের গোপীদের সঙ্গে রাসলীলা পরিবেশন করেছিলেন বলে বিশ্বাস করা হয় । পুরী জগন্নাথ মন্দির এবং অন্যান্য সমস্ত রাধা-কৃষ্ণ মন্দিরে সারা কার্তিক মাস জুড়ে একটি পবিত্র ব্রত পালন করা হয় এবং কার্তিক পূর্ণিমার দিন রাসলীলা অনুষ্ঠিত হয় । রাজস্থানের পুষ্করে পুষ্কর মেলা কার্তিক পূর্ণিমায় সমাপ্ত হয়, যা এশিয়ার বৃহত্তম উটের মেলা ।

পূর্ণিমা ব্রত ও পূজার বিধি

পূর্ণিমার দিনে ব্রত পালন করা অত্যন্ত শুভ এবং পুণ্যদায়ক বলে বিবেচিত হয় । পূর্ণিমার ব্রত হয় পূর্ণিমার দিন অথবা পূর্ণিমার একদিন আগে চতুর্দশীর দিন পালিত হতে পারে । দক্ষিণ ভারতে পূর্ণিমার ব্রতকে পৌর্ণমী ব্রতম বলা হয় এবং এই ব্রত সূর্যোদয় থেকে চাঁদ দেখা পর্যন্ত পালন করা হয় ।

পূর্ণিমার দিন ভক্তরা পবিত্র নদী বা তীর্থস্থানে স্নান করেন, যাকে কার্তিক স্নান বলা হয় । গঙ্গা নদীতে বিশেষত বারাণসীতে স্নান করা সবচেয়ে শুভ বলে বিবেচিত হয় । পূর্ণিমার দিনে সত্যনারায়ণ পূজা করার বিশেষ মাহাত্ম্য রয়েছে । ভক্তরা এই দিনে ভগবান বিষ্ণু, শিব এবং সত্যনারায়ণ ভগবানের পূজা করেন । পূর্ণিমার দিনে দান এবং ধর্মীয় কাজ করা অত্যন্ত ফলদায়ক বলে মনে করা হয় ।

পূর্ণিমার জ্যোতিষশাস্ত্রীয় তাৎপর্য

জ্যোতিষশাস্ত্র অনুসারে পূর্ণিমার সময় চন্দ্রের শক্তি সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকে এবং এটি পৃথিবীতে ইতিবাচকতা ও আলোকিতি বিকিরণ করে । পূর্ণিমা উচ্চতর অন্তর্দৃষ্টি, মানসিক স্পষ্টতা এবং আধ্যাত্মিক জাগরণের সময় হিসেবে বিবেচিত হয় । এটি ব্যক্তিগত বৃদ্ধি এবং জ্ঞানার্জনের জন্য একটি শুভ সময় । চন্দ্রের উজ্জ্বলতা জ্ঞান, পবিত্রতা এবং প্রজ্ঞার প্রতীক, যা ভক্তদের আত্ম-শুদ্ধি এবং ভক্তিতে মনোনিবেশ করতে উৎসাহিত করে ।

পূর্ণিমা তিথি জন্ম, পুনর্জন্ম, সৃষ্টি এবং প্রকাশের সঙ্গে যুক্ত । এই শুভ দিনে চন্দ্র পৃথিবীর চারপাশে তার একটি চক্র সম্পূর্ণ করে, যা একজনের জীবনের একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি এবং নতুন অধ্যায়ের সূচনার প্রতীক । পূর্ণিমা নতুন শুরু, নতুন প্রারম্ভ বা পরিষ্কার স্লেটের জন্য একটি শুভ দিন হিসেবে বিবেচিত হয় ।

পূর্ণিমা ব্রতের উপকারিতা

পূর্ণিমার দিনে উপবাস পালন করা শুধুমাত্র আধ্যাত্মিক দৃষ্টিকোণ থেকেই নয়, স্বাস্থ্যের দৃষ্টিকোণ থেকেও উপকারী । পূর্ণিমার ব্রত শরীরের অ্যাসিড উপাদান নিয়ন্ত্রণ করে এবং পাচনতন্ত্র পরিষ্কার করে । এটি মস্তিষ্কের ক্ষমতা উন্নত করতে সাহায্য করে । পূর্ণিমার দিনে চন্দ্রের প্রভাব মানুষের মন এবং শরীরের উপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে বলে বিশ্বাস করা হয়।

আয়ুর্বেদিক শাস্ত্র অনুসারে পূর্ণিমার দিনে শরীরের তরল পদার্থে পরিবর্তন আসে, যা চন্দ্রের মহাকর্ষীয় প্রভাবের কারণে ঘটে। এই দিনে হালকা এবং সাত্ত্বিক খাবার খাওয়া শরীর ও মনের সুস্থতার জন্য উপকারী। পূর্ণিমার রাতে ধ্যান এবং যোগ অনুশীলন বিশেষভাবে কার্যকর বলে মনে করা হয়।

পূর্ণিমা পালনের রীতি-নীতি

পূর্ণিমার দিনে সাধারণত নিম্নলিখিত রীতি-নীতি অনুসরণ করা হয়:

  1. স্নান: সূর্যোদয়ের আগে পবিত্র নদী বা জলাশয়ে স্নান করা।
  2. উপবাস: অনেকে সারাদিন উপবাস করেন, কেউ কেউ ফলাহার গ্রহণ করেন।
  3. পূজা-অর্চনা: বিভিন্ন দেবদেবীর পূজা করা হয়, বিশেষ করে চন্দ্রদেবের।
  4. দান: দান-ধর্মের মাধ্যমে পুণ্য অর্জন করা হয়।
  5. জপ-তপ: মন্ত্র জপ ও ধ্যান করার জন্য এই দিনটি বিশেষ উপযোগী বলে মনে করা হয়।

পূর্ণিমার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রভাব

পূর্ণিমা শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় তিথি নয়, এটি ভারতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। বিভিন্ন রাজ্যে পূর্ণিমার দিন বিভিন্ন নামে এবং বিভিন্ন রীতিতে উদযাপিত হয়। উত্তর ভারতে এটি পূর্ণিমা বা পূর্ণিমা নামে পরিচিত, যখন দক্ষিণ ভারতে এটি পৌর্ণমী বা পৌর্ণিমা নামে পরিচিত ।

পূর্ণিমা তিথি কৃষক সমাজের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ কারণ অনেক কৃষি উৎসব পূর্ণিমার সঙ্গে যুক্ত। শরৎ পূর্ণিমা একটি ফসল উৎসব যা মনসুনের সমাপ্তি চিহ্নিত করে । পূর্ণিমার রাতে চাঁদের আলো কৃষিকাজ এবং প্রকৃতির চক্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। সমাজের সকল স্তরের মানুষ পূর্ণিমার উৎসবে অংশগ্রহণ করে, যা সামাজিক ঐক্য ও সম্প্রীতি বৃদ্ধি করে।

রাখি পূর্ণিমার ৫০টি হৃদয়ছোঁয়া শুভেচ্ছাবার্তা – ভাইবোনের ভালোবাসার অনন্য উপহার

২০২৬ সালের বিশেষ পূর্ণিমা – সুপারমুন ও ব্লু মুন

২০২৬ সালে কিছু বিশেষ পূর্ণিমা রয়েছে যা জ্যোতির্বিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে উল্লেখযোগ্য। ৩ জানুয়ারি ২০২৬ এর পূর্ণিমা একটি সুপারমুন হবে, যখন চাঁদ পৃথিবীর সবচেয়ে কাছে থাকবে এবং স্বাভাবিকের চেয়ে বড় ও উজ্জ্বল দেখাবে । এই সুপারমুন পৌষ মাসের পূর্ণিমার সঙ্গে মিলিত হবে, যা এটিকে আরও বিশেষ করে তুলবে।

৩১ মে ২০২৬ এ দ্বিতীয় পূর্ণিমা হবে যা ব্লু মুন নামে পরিচিত । একই মাসে দুটি পূর্ণিমা হওয়ার বিরল ঘটনাকে ব্লু মুন বলা হয়। এই ব্লু মুন অধিক মাসের সঙ্গে মিলিত হবে, যা হিন্দু পঞ্জিকায় একটি বিশেষ তাৎপর্য রাখে । জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা এবং চাঁদপ্রেমীরা এই বিশেষ জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনাগুলি দেখার জন্য অপেক্ষা করছেন।

পূর্ণিমায় দান ও সেবার মাহাত্ম্য

পূর্ণিমা তিথিতে দান ও সেবার বিশেষ মাহাত্ম্য রয়েছে। এই দিনে দরিদ্র ও অভাবগ্রস্তদের খাদ্য, বস্ত্র ও অর্থ দান করা অত্যন্ত পুণ্যদায়ক বলে বিবেচিত হয়। পূর্ণিমায় ব্রাহ্মণদের দান করা, গরিবদের খাওয়ানো এবং পশু-পাখিদের খাবার দেওয়া শুভ ফল প্রদান করে। শাস্ত্র অনুসারে পূর্ণিমার দিন করা দান সাধারণ দিনের চেয়ে শতগুণ বেশি ফলদায়ক হয়।

গুরু পূর্ণিমায় শিক্ষক ও গুরুদের সম্মান জানানো এবং তাদের সেবা করা বিশেষ পুণ্যের কাজ। কার্তিক পূর্ণিমায় তীর্থস্থানে প্রদীপ দান করার প্রথা রয়েছে । অনেক ভক্ত এই দিনে মন্দির ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সেবা করেন। দান ও সেবার মাধ্যমে পূর্ণিমা তিথির পূর্ণ সদ্ব্যবহার করা যায় এবং আধ্যাত্মিক উন্নতি লাভ করা যায়।

পূর্ণিমা তিথি হিন্দু ধর্ম ও সংস্কৃতিতে শান্তি, ইতিবাচকতা এবং আলোর প্রতীক। ২০২৬ সালের ১৩টি পূর্ণিমা তিথি ভক্তদের আধ্যাত্মিক উন্নতি, আত্ম-শুদ্ধি এবং ধর্মীয় পালনের সুযোগ প্রদান করবে। প্রতিটি পূর্ণিমার নিজস্ব বিশেষত্ব এবং মাহাত্ম্য রয়েছে যা ভক্তদের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। পূর্ণিমার দিনে ব্রত পালন, পূজা, দান এবং ধ্যান শুধুমাত্র বস্তুগত নয় বরং আধ্যাত্মিক উন্নতিও নিয়ে আসে। এই পবিত্র তিথিগুলি পালন করে আমরা আমাদের অন্তর্নিহিত পবিত্রতা, ধর্ম এবং ভক্তির গুরুত্ব শিখতে পারি। ২০২৬ সালের পূর্ণিমাগুলি ধর্মীয় এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষা করার পাশাপাশি আধুনিক জীবনে আধ্যাত্মিকতার মূল্য স্মরণ করিয়ে দেবে।

About Author
Srijita Chattopadhay

সৃজিতা কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় স্নাতক। তিনি একজন প্রতিশ্রুতিশীল লেখক এবং সাংবাদিক, যিনি তার লেখা দ্বারা বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির সমৃদ্ধি তুলে ধরতে সদা উদ্যমী। সৃজিতার লেখার ধারা মূলত সাহিত্য, সমাজ এবং সংস্কৃতির বিভিন্ন দিককে ঘিরে আবর্তিত হয়, যেখানে তিনি তার গভীর পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা ও বিশ্লেষণী দক্ষতার পরিচয় দেন। তাঁর নিবন্ধ ও প্রতিবেদনগুলি পাঠকদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে, যা তার বস্তুনিষ্ঠতা ও সংবেদনশীলতার পরিচয় বহন করে। সৃজিতা তার কর্মজীবনে ক্রমাগত নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে বদ্ধপরিকর, যা তাকে বাংলা সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যতের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।

আরও পড়ুন