২০২৬ সালের পবিত্র রমজান মাস প্রত্যাশিতভাবে ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখ থেকে শুরু হবে এবং বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী মুসলমানরা প্রথম রোজা রাখবেন ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে। ইসলামিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী হিজরি ১৪৪৭ সনের রমজান মাসটি চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে ২৯ থেকে ৩০ দিন স্থায়ী হবে এবং সম্ভাব্যভাবে ১৯ মার্চ ২০২৬ বা ২০ মার্চ ২০২৬ তারিখে সমাপ্ত হবে। মুসলিম বিশ্বের সবচেয়ে পবিত্র এই মাসে রোজা, তারাবিহ নামাজ, কোরআন তেলাওয়াত এবং আধ্যাত্মিক সাধনার মাধ্যমে বিশ্বের প্রায় ১.৮ বিলিয়ন মুসলমান একযোগে ইবাদতে মশগুল হবেন।
রমজান ২০২৬ এর সম্ভাব্য তারিখ ও সময়সূচি
হিউম্যান রিলিফ ফাউন্ডেশন এবং আন্তর্জাতিক ইসলামিক সংস্থাগুলোর প্রদত্ত তথ্য অনুসারে, ২০২৬ সালের রমজান মাস শুরু হবে ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখের সন্ধ্যা থেকে, যখন নতুন চাঁদ দেখা যাবে। বাংলাদেশ, ভারত এবং পাকিস্তানসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখ থেকে রমজান মাস ঘোষণা করা হবে এবং প্রথম সেহরি ও রোজা পালিত হবে ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে।
ইসলামিক পঞ্জিকা অনুযায়ী রমজান হলো চন্দ্র মাস, যা চাঁদের অবস্থানের ওপর নির্ভর করে। প্রতি বছর রমজান গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারে প্রায় ১০ থেকে ১১ দিন আগে সরে আসে। ২০২৬ সালে রমজান শীতকালের শেষ ও বসন্তের শুরুতে আসবে, যা রোজাদারদের জন্য তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক হবে কারণ এই সময়ে দিন ছোট থাকে এবং আবহাওয়া মনোরম থাকে।
গুরুত্বপূর্ণ তারিখসমূহ
ক্যালেন্ডারডেট ডট কম এবং জাকাত ডট অর্গের তথ্য অনুসারে, ২০২৬ সালের রমজানের মূল তারিখগুলো হলো:
-
রমজান শুরু: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (মঙ্গলবার সন্ধ্যা)
-
প্রথম রোজা: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (বুধবার)
-
লাইলাতুল কদর: ১৬ মার্চ ২০২৬ (সম্ভাব্য ২৭তম রমজানের রাত)
-
রমজান সমাপ্তি: ১৮ মার্চ ২০২৬ বা ১৯ মার্চ ২০২৬ (চাঁদ দেখা সাপেক্ষে)
-
ঈদুল ফিতর: ১৯ মার্চ ২০২৬ বা ২০ মার্চ ২০২৬
উল্লেখ্য যে এই তারিখগুলো প্রাথমিক গণনার ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত এবং চূড়ান্ত তারিখ নির্ভর করবে স্থানীয় চাঁদ দেখা কমিটির ঘোষণার ওপর।
বাংলাদেশের প্রধান শহরগুলোতে সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি
বাংলাদেশের বিভিন্ন শহরে সেহরি ও ইফতারের সময় সামান্য ভিন্ন হয়ে থাকে। ওয়েগো ট্রাভেল ব্লগের প্রকাশিত তথ্যমতে, ঢাকায় রমজানের প্রথম দিন (১৯ ফেব্রুয়ারি) সেহরির সময় হবে ভোর ৫:১৪ মিনিটে এবং ইফতার হবে সন্ধ্যা ৫:৫৫ মিনিটে। রমজান মাস এগিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে দিন বড় হতে থাকবে এবং রমজানের শেষ দিকে (২০ মার্চ) সেহরির সময় হবে ভোর ৪:৪৯ মিনিটে এবং ইফতার হবে সন্ধ্যা ৬:০৯ মিনিটে।
ঢাকার বাইরেও চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী, খুলনা এবং অন্যান্য জেলা শহরগুলোতে সময়সূচি সামান্য ভিন্নতা থাকবে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ রমজান শুরুর আগে সরকারি সময়সূচি প্রকাশ করবে, যা সকল মসজিদে প্রদর্শিত হবে।
ঢাকায় রমজান ২০২৬ সময়সূচি (নমুনা)
| তারিখ | রমজান দিবস | ফজর | সূর্যোদয় | জোহর | আসর | মাগরিব/ইফতার | এশা |
|---|---|---|---|---|---|---|---|
| ১৯ ফেব্রুয়ারি | ১ম রমজান | ৫:১৪ | ৬:২৯ | ১২:১২ | ৩:২৮ | ৫:৫৫ | ৭:১১ |
| ২৮ ফেব্রুয়ারি | ১০ম রমজান | ৫:০৭ | ৬:২২ | ১২:১১ | ৩:৩০ | ৬:০০ | ৭:১৫ |
| ১০ মার্চ | ২০তম রমজান | ৪:৫৮ | ৬:১৩ | ১২:০৯ | ৩:৩১ | ৬:০৫ | ৭:২০ |
| ২০ মার্চ | ৩০তম রমজান | ৪:৪৯ | ৬:০৪ | ১২:০৬ | ৩:৩১ | ৬:০৯ | ৭:২৪ |
এই সময়সূচি আল-হাবিব ডট ইনফো এবং ওয়েগো ট্রাভেল ব্লগের হিসাব অনুযায়ী প্রস্তুত করা হয়েছে।
রমজান মাসের গুরুত্ব ও তাৎপর্য
রমজান ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের একটি এবং মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের জন্য সবচেয়ে পবিত্র মাস। উইকিপিডিয়া এবং ব্রিটানিকার তথ্য অনুসারে, এই মাসেই ৬১০ খ্রিস্টাব্দে হেরা গুহায় ফেরেশতা জিবরাইল (আ.) এর মাধ্যমে নবী মুহাম্মদ (সা.) এর ওপর সর্বপ্রথম পবিত্র কোরআনের আয়াত নাজিল হয়েছিল। সূরা আলাকের প্রথম পাঁচটি আয়াত নাজিলের এই ঐতিহাসিক ঘটনা ইসলামের ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত।
আরবি ভাষায় “রমজান” শব্দটি এসেছে “রামাদ” থেকে, যার অর্থ “প্রচণ্ড তাপ” বা “জ্বলন্ত উত্তাপ”। উমরাহ সার্ভিসেস ইন্ডিয়ার গবেষণা অনুযায়ী, এই নামটি প্রতীকীভাবে রোজার মাধ্যমে পাপ পুড়িয়ে ফেলা এবং আত্মাকে পরিশুদ্ধ করার আধ্যাত্মিক প্রক্রিয়াকে নির্দেশ করে।
রমজান পালনের ধর্মীয় দিক
ইসলামিক রিলিফ অস্ট্রেলিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে রমজান মাসে রোজা রাখা প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ এবং মানসিকভাবে সক্ষম প্রতিটি মুসলমানের জন্য ফরজ বা বাধ্যতামূলক। তবে গর্ভবতী নারী, স্তন্যদানকারী মা, অসুস্থ ব্যক্তি, মুসাফির এবং শিশুদের জন্য রোজা থেকে অব্যাহতি রয়েছে। অব্যাহতি পাওয়া ব্যক্তিরা পরবর্তীতে রোজা কাজা করতে পারেন অথবা ফিদিয়া হিসেবে দান করতে পারেন।
রোজার পাশাপাশি রমজান মাসে মুসলমানরা পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের পাশাপাশি তারাবিহ নামাজ আদায় করেন, যা এশার নামাজের পর বিশ রাকাত সুন্নত নামাজ হিসেবে পড়া হয়। এই মাসে কোরআন তেলাওয়াত, দান-সদকা, জিকির এবং ইস্তিগফার বেশি করে করা হয়।
লাইলাতুল কদর: শবে কদরের মহিমা
রমজান মাসের শেষ দশকে রয়েছে ইসলামের সবচেয়ে পবিত্র রাত লাইলাতুল কদর বা শবে কদর। হিউম্যান রিলিফ ফাউন্ডেশনের তথ্যমতে, ২০২৬ সালে লাইলাতুল কদর প্রত্যাশিত ১৬ মার্চ ২০২৬ তারিখের রাতে, যা রমজানের ২৭তম রাত। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে যে এই একটি রাত হাজার মাসের চেয়ে উত্তম। এই রাতে কোরআন নাজিল শুরু হয়েছিল এবং এই রাতে ইবাদত করলে বিশেষ সওয়াব পাওয়া যায়।
ব্র্যান্ডিস ইউনিভার্সিটির ধর্মীয় পর্যবেক্ষণ গাইড অনুসারে, মুসলমানরা রমজানের শেষ দশকের বিজোড় রাতগুলোতে (২১, ২৩, ২৫, ২৭, ২৯) বিশেষভাবে ইবাদতে মনোনিবেশ করেন এবং অনেকে এতেকাফ পালন করেন, যা মসজিদে অবস্থান করে ইবাদতে কাটানো।
রোজার স্বাস্থ্য উপকারিতা: বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ
রমজানের রোজার আধ্যাত্মিক উপকারের পাশাপাশি স্বাস্থ্যগত সুফলও রয়েছে, যা বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে। ন্যাশনাল সেন্টার ফর বায়োটেকনোলজি ইনফরমেশন (NCBI) এর একটি মেটা-এনালাইসিসে দেখা গেছে যে রমজানের রোজা রাখার ফলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা পরিসংখ্যানগতভাবে উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়। একই গবেষণায় আরও দেখা গেছে যে রোজার পর হাই-ডেনসিটি লাইপোপ্রোটিন (HDL-C) বৃদ্ধি পায়, যা ভালো কোলেস্টেরল হিসেবে পরিচিত, এবং টোটাল কোলেস্টেরল ও লো-ডেনসিটি লাইপোপ্রোটিন (LDL-C) এর মাত্রা হ্রাস পায়।
২০২৪ সালের একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে যে রমজানের রোজা ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং এর একটি রূপ, যা শরীরের বিপাকীয় প্রক্রিয়ায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। রোজার সময় শরীরের ওজন হ্রাস পায়, যদিও রমজানের পরবর্তী মাসগুলোতে এই ওজন হ্রাস সাধারণত টেকসই হয় না যদি স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ না করা হয়।
রোজার অন্যান্য স্বাস্থ্য সুবিধা
NCBI এর আরেকটি গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে যে রমজানে ধূমপান নিষিদ্ধ থাকায় পাবলিক স্থানে পরোক্ষ ধূমপানের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য ইতিবাচক। তাছাড়া রোজা রাখার ফলে পরিপাকতন্ত্র বিশ্রাম পায়, শরীরে টক্সিন হ্রাস পায় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
তবে দীর্ঘমেয়াদী রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের রোজা রাখার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা কিডনি রোগে আক্রান্তদের বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।
রমজানের প্রস্তুতি: কীভাবে নিজেকে তৈরি করবেন
রমজান মাসকে সর্বোত্তমভাবে কাজে লাগাতে হলে আগে থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি। শারীরিক, মানসিক এবং আধ্যাত্মিক প্রস্তুতি রমজানের অভিজ্ঞতাকে আরও সার্থক করে তোলে।
শারীরিক প্রস্তুতি
রমজানের কয়েক সপ্তাহ আগে থেকে শরীরকে রোজার জন্য প্রস্তুত করা উচিত। শাবান মাসে কিছু নফল রোজা রাখলে শরীর দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার সাথে খাপ খাইয়ে নিতে পারে। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা, পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং নিয়মিত ব্যায়াম করা গুরুত্বপূর্ণ।
আধ্যাত্মিক প্রস্তুতি
রমজান শুরুর আগে থেকে নিয়মিত নামাজ, কোরআন তেলাওয়াত এবং দোয়া করার অভ্যাস গড়ে তুলুন। পাপ কাজ থেকে তওবা করুন এবং মনের মধ্যে রমজানের গুরুত্ব অনুধাবন করুন। অন্যদের সাথে সম্পর্ক সুন্দর করুন এবং যে কোনো দ্বন্দ্ব মীমাংসা করুন।
ঘরোয়া প্রস্তুতি
সেহরি এবং ইফতারের জন্য স্বাস্থ্যকর খাবারের পরিকল্পনা করুন। খেজুর, ফল, সবজি এবং প্রোটিনযুক্ত খাবার মজুদ রাখুন। রান্নার কাজ সহজ করতে আগে থেকে কিছু খাবার প্রস্তুত রাখতে পারেন।
ঈদুল ফিতর ২০২৬: রমজানের সমাপ্তি উৎসব
রমজান মাসের সমাপ্তিতে আসে ঈদুল ফিতর, যা মুসলমানদের দুটি প্রধান ধর্মীয় উৎসবের একটি। ঢাকা মেইলের তথ্যমতে, ২০২৬ সালের ঈদুল ফিতর প্রত্যাশিতভাবে ২০ মার্চ ২০২৬ তারিখে (শুক্রবার) পালিত হবে, যদিও রমজান ২৯ দিন হলে ১৯ মার্চ হতে পারে।
ঈদের দিন সকালে ঈদগাহ বা খোলা মাঠে বিশেষ ঈদের নামাজ আদায় করা হয়, যা দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ। নামাজের আগে ফিতরা বা সদকাতুল ফিতর আদায় করা ওয়াজিব, যা গরিবদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। ঈদের দিন নতুন পোশাক পরা, বিশেষ খাবার তৈরি করা, আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুদের সাথে দেখা করা এবং উপহার বিনিময় করা ইসলামি ঐতিহ্যের অংশ।
চাঁদ দেখা: ইসলামিক ক্যালেন্ডারের ভিত্তি
ইসলামিক ক্যালেন্ডার চন্দ্রভিত্তিক হওয়ায় প্রতিটি মাসের শুরু নির্ভর করে চাঁদ দেখার ওপর। জাকাত ডট অর্গের ব্যাখ্যা অনুসারে, রমজান মাস শুরু হয় যখন শাবান মাসের ২৯ তারিখ সন্ধ্যায় নতুন চাঁদ দেখা যায়। চাঁদ দেখা গেলে পরের দিন থেকে রমজান শুরু হয়, আর চাঁদ না দেখা গেলে শাবান মাস ৩০ দিন পূর্ণ করে পরবর্তী দিন রমজান শুরু হয়।
বাংলাদেশে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নেতৃত্বে চাঁদ দেখার জন্য সভায় মিলিত হয় এবং দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে চাঁদ দেখার সংবাদ যাচাই করে সরকারিভাবে ঘোষণা দেয়। আধুনিক জ্যোতির্বিদ্যা চন্দ্রের কক্ষপথ গণনা করে আগাম তারিখ অনুমান করতে পারে, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সবসময় চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল থাকে।
বিশ্বব্যাপী তারিখের ভিন্নতা
পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে চাঁদ দেখার সময়ের পার্থক্যের কারণে রমজান শুরুর তারিখে এক-দুই দিনের ভিন্নতা হতে পারে। সৌদি আরব সাধারণত আগে রমজান শুরু করে, যখন দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো স্থানীয় চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে। কিছু দেশ বৈজ্ঞানিক গণনা ব্যবহার করে আগাম তারিখ ঘোষণা করে, যখন অন্যরা ঐতিহ্যগত চাঁদ দেখার পদ্ধতি অনুসরণ করে।
রমজানে বিশেষ আমল ও দোয়া
রমজান মাসে কিছু বিশেষ ইবাদত রয়েছে যা এই মাসের বরকত অর্জনে সহায়ক। তারাবিহ নামাজ এশার পর জামাতের সাথে আদায় করা সুন্নত এবং পুরো রমজানে এই নামাজে কোরআন খতম করা হয়। তাহাজ্জুদ নামাজ রাতের শেষাংশে আদায় করলে বিশেষ সওয়াব পাওয়া যায়।
কোরআন তেলাওয়াত রমজানের অন্যতম প্রধান আমল। অনেক মুসলমান রমজান মাসে পুরো কোরআন খতম করার চেষ্টা করেন। প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ তেলাওয়াত করলে ৩০ দিনে একবার খতম সম্পন্ন হয়।
দান-সদকা রমজানের বিশেষ আমল। রাসূলুল্লাহ (সা.) রমজান মাসে সবচেয়ে বেশি দানশীল ছিলেন। গরিব-দুঃখীদের সাহায্য করা, ইফতার করানো এবং জাকাত আদায় করা এই মাসে বিশেষ সওয়াবের কাজ।
ইস্তিগফার বা ক্ষমা প্রার্থনা রমজানে বেশি করে করা উচিত। “আস্তাগফিরুল্লাহ” বা “আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন তুহিব্বুল আফওয়া ফা’ফু আন্নি” এই দোয়াগুলো বিশেষভাবে পড়া হয়।
বিশ্বব্যাপী রমজান পালন: সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য
বিশ্বের প্রায় ১.৮ বিলিয়ন মুসলমান রমজান পালন করলেও বিভিন্ন দেশে এর পালনে সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে রমজান অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে পালিত হয় এবং অনেক দেশে কর্মঘণ্টা কমিয়ে দেওয়া হয়। সৌদি আরবে মক্কা ও মদিনায় লাখো মুসলমান রমজানে উমরাহ পালন করতে যান।
দক্ষিণ এশিয়ায় রমজানের বিশেষ খাবার যেমন পাকিস্তান ও ভারতে সমুসা, পাকোড়া এবং হালিম জনপ্রিয়। বাংলাদেশে ইফতারে মুড়ি, পেঁয়াজু, বেগুনি, জিলাপি এবং ছোলা বিশেষভাবে প্রচলিত। তুরস্কে রমজানকে “রামাজান” বলা হয় এবং বিশেষ রামাজান পিদেসি (রুটি) তৈরি করা হয়।
ইন্দোনেশিয়া, যেখানে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি মুসলমান বাস করে, সেখানে রমজানকে “পুয়াসা” বলা হয় এবং “লেবারান” বা ঈদুল ফিতর বছরের সবচেয়ে বড় উৎসব। আফ্রিকার দেশগুলোতে রমজান সম্প্রদায়গত ঐক্যের প্রতীক এবং সামাজিক বন্ধন দৃঢ় করার সময়।
রমজান ২০২৬ এর জন্য চূড়ান্ত প্রস্তুতি চেকলিস্ট
রমজান ২০২৬ সর্বোচ্চ কাজে লাগাতে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো মাথায় রাখুন:
-
রমজান শুরুর আগে শাবান মাসে কিছু নফল রোজা রাখুন
-
প্রতিদিনের ইবাদতের একটি রুটিন তৈরি করুন যাতে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, তারাবিহ, কোরআন তেলাওয়াত এবং দোয়ার সময় বরাদ্দ থাকে
-
স্বাস্থ্যকর সেহরি ও ইফতার মেনু পরিকল্পনা করুন যাতে সুষম পুষ্টি পাওয়া যায়
-
দান-সদকার জন্য বাজেট নির্ধারণ করুন এবং জাকাত হিসাব করে রাখুন
-
পরিবার ও বন্ধুদের সাথে ইফতার বা দাওয়াতের পরিকল্পনা করুন
-
রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফের সুযোগ থাকলে আগে থেকে প্রস্তুতি নিন
-
মসজিদের সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি সংগ্রহ করে রাখুন
-
শরীরের যে কোনো স্বাস্থ্য সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন
-
ঈদের পোশাক ও উপহারের জন্য আগে থেকে প্রস্তুতি নিন
রমজান ২০২৬ মুসলিম উম্মাহর জন্য আধ্যাত্মিক পুনর্জাগরণ, শারীরিক পরিশুদ্ধি এবং সামাজিক দায়িত্ববোধ বৃদ্ধির এক অনন্য সুযোগ নিয়ে আসবে। ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই পবিত্র মাসটি বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের এক সুতোয় বেঁধে দেবে এবং তাকওয়া অর্জনের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের পথ সুগম করবে। যথাযথ প্রস্তুতি, নিষ্ঠা এবং আন্তরিকতার সাথে রমজান পালন করলে এই মাসের সকল বরকত ও রহমত অর্জন করা সম্ভব, যা সারা বছরের জন্য আধ্যাত্মিক শক্তি যোগাবে এবং জীবনকে আরও অর্থবহ করে তুলবে।











