লাল কেল্লায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ: দিল্লি-মুম্বাই-কলকাতায় হাই অ্যালার্ট, প্রত্যক্ষদর্শীর চাঞ্চল্যকর সাক্ষ্য

দিল্লির ঐতিহাসিক লাল কেল্লার কাছে সোমবার সন্ধ্যায় একটি গাড়িতে জোরদার বিস্ফোরণ ঘটে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। লাল কেল্লা মেট্রো স্টেশনের গেট নম্বর ১-এর লালবাতিতে থেমে থাকা একটি হাইন্ডাই আই-২০ গাড়িতে সন্ধ্যা…

Avatar

 

দিল্লির ঐতিহাসিক লাল কেল্লার কাছে সোমবার সন্ধ্যায় একটি গাড়িতে জোরদার বিস্ফোরণ ঘটে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। লাল কেল্লা মেট্রো স্টেশনের গেট নম্বর ১-এর লালবাতিতে থেমে থাকা একটি হাইন্ডাই আই-২০ গাড়িতে সন্ধ্যা ৬টা ৫২ মিনিট নাগাদ বিস্ফোরণ ঘটে, যাতে এখন পর্যন্ত অন্তত ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ২০-এর বেশি আহত হয়েছেন। দিল্লি পুলিশের কমিশনার সতীশ গোলচা জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের ফলে পাশের তিনটি গাড়ি এবং কয়েকটি দুইচাকিতে আগুন লেগে যায়, এবং এনআইএ, এনএসজি এবং ফরেনসিক টিমগুলো তদন্তে নামেছে। এই লাল কেল্লা বিস্ফোরণের পর দিল্লি-এনসিআর ছাড়াও মুম্বাই, কলকাতা এবং উত্তরপ্রদেশে হাই অ্যালার্ট জারি হয়েছে, যাতে সম্ভাব্য জঙ্গি হামলার আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কেন্দ্রীয় গৃহমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতির খবর নিয়েছেন।

দিল্লির লাল কেল্লার কাছে ভয়াবহ গাড়ি বিস্ফোরণ: ৮ জনের মৃত্যু, রাজধানীতে হাই সিকিউরিটি অ্যালার্ট!

এই লাল কেল্লা বিস্ফোরণের ঘটনা দিল্লির ওল্ড দিল্লি অঞ্চলে ভয়ের ছায়া ফেলেছে। চাঁদনি চৌক এলাকায় ভরসন্ধ্যায় ঘটে যাওয়া এই বিস্ফোরণে স্থানীয় বাসিন্দা এবং পর্যটকরা তীব্রভাবে আহত হয়েছেন। দিল্লি ফায়ার সার্ভিসের তথ্যমতে, ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রায় ৩০ মিনিট সময় লেগেছে, এবং আহতদের লোকনাথ জাতীয় চিকিৎসা কেন্দ্র (এলএনজেপি) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা শুনলে কেউ যেন কেঁপে উঠবে—একজন স্থানীয় দোকানদার বলেছেন, “জীবনে এত জোরে আওয়াজ শুনিনি, মনে হচ্ছিল পৃথিবী টুকরো টুকরো হয়ে যাবে।” এই লাল কেল্লা বিস্ফোরণকে কিছু সূত্র জঙ্গি হামলার সঙ্গে যুক্ত করছে, যদিও পুলিশ এখনও সিএনজি সিলিন্ডার বিস্ফোরণের সম্ভাবনা খারিজ করেনি।

দিল্লি পুলিশের বিবৃতি অনুসারে, বিস্ফোরণকারী গাড়িটি লালবাতিতে থেমে থাকাকালীন ধীর গতিতে চলছিল, এবং এর ফলে আশেপাশের যানবাহনগুলোতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। কমিশনার গোলচা বলেছেন, “ঘটনার তথ্য পাওয়ার ১০ মিনিটের মধ্যেই ক্রাইম ব্রাঞ্চ এবং স্পেশাল ব্রাঞ্চের দল পৌঁছে গেছে। এনএসজি এবং এনআইএর দলগুলো তদন্ত শুরু করেছে, এবং সব সম্ভাব্য কোণ থেকে তদন্ত চলবে।” এই লাল কেল্লা বিস্ফোরণের পর দিল্লি-এনসিআর-এ সব মেট্রো স্টেশন এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করা হচ্ছে, এবং ফরেনসিক টিম ঘটনাস্থল থেকে প্রমাণ সংগ্রহ করছে। এই ঘটনা দিল্লির ঐতিহাসিক কেন্দ্রস্থলে সংঘটিত হয়েছে, যা সাধারণত পর্যটকদের ভিড়ে থাকে।

এই লাল কেল্লা বিস্ফোরণের পটভূমিতে স্মরণীয় যে, আজই সকালে ফরিদাবাদে ২৯০০ কেজি বিস্ফোরক উপাদানের জব্দ হয়েছে, যা একজন ডাক্তারের বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়। কিছু বিশ্লেষক মনে করছেন, এই দুটি ঘটনার মধ্যে যোগসূত্র থাকতে পারে, কারণ বিস্ফোরকের পরিমাণ এতটাই বড় যে এটি একক ব্যক্তির কাজ নয়, বরং একটি নেটওয়ার্কের ইঙ্গিত দেয়। পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, ফরিদাবাদের ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত ডাক্তারদের কঠোর জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এই লাল কেল্লা বিস্ফোরণকে টেরর অ্যাটাক বলে সন্দেহ করা হলেও, এখনও কোনো সংগঠন দায়িত্ব নেয়নি। দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল ঘটনাটিকে “অত্যন্ত দুঃখজনক” বলে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন, “কয়েকজনের জীবন হারানোর খবর শুনে মর্মাহত।”

প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য শুনলে এই লাল কেল্লা বিস্ফোরণের ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট হয়। একজন স্থানীয় দোকানদার, যিনি ঘটনাস্থল থেকে মাত্র ২০০ মিটার দূরে ছিলেন, বলেছেন, “আওয়াজ এত জোরালো যে দোকানের ভেতর থেকে মনে হলো ভবন ধসে পড়ছে। আমি তিনবার পড়ে গেলাম, মনে হলো সবাই মরে যাব।” আরেকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, “শরীরের অংশ এবং ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে পড়েছে চারপাশে, এটি একটি ভয়ংকর দৃশ্য।” সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোতে দেখা যাচ্ছে, বিস্ফোরণের পর ধোঁয়ার স্তম্ভ উঠেছে এবং লোকজন পালাতে শুরু করেছে। একজন ইউজার লিখেছেন, “এটি সিএনজি বিস্ফোরণের মতো দেখাচ্ছে না, অন্য গাড়িগুলোর অবস্থা দেখে মনে হয় এটি পরিকল্পিত।” এই লাল কেল্লা বিস্ফোরণের পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে, এবং অনেকে রক্তদানের আহ্বান জানিয়েছেন।

দিল্লির বাইরে এই লাল কেল্লা বিস্ফোরণের প্রভাব দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। মুম্বাই পুলিশ হাই অ্যালার্ট জারি করে বলেছে, “জঙ্গি হামলার আশঙ্কায় সব গুরুত্বপূর্ণ স্থান সুরক্ষিত করা হয়েছে।” কলকাতায়ও পুলিশ সতর্কতা বাড়িয়েছে, বিশেষ করে ব্যস্ত বাজার এবং পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে। উত্তরপ্রদেশ এবং জম্মু-কাশ্মীরে সতর্কতা জারি হয়েছে, এবং নয়ডা-গাজিয়াবাদের বাজারগুলোতে নিরাপত্তা বৃদ্ধি পেয়েছে। গৃহমন্ত্রী অমিত শাহ বলেছেন, “ঘটনার তথ্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দল পাঠানো হয়েছে, এবং সব সম্ভাব্য তদন্ত চালানো হবে। আমি শীঘ্রই স্থানে যাচ্ছি এবং হাসপাতাল পরিদর্শন করব।” এই লাল কেল্লা বিস্ফোরণকে রাজনৈতিক দলগুলো দুঃখের সঙ্গে নিন্দা করেছে, এবং অ্যাবিপি-এর মতো সংগঠনগুলো ভুক্তভোগীদের পক্ষে সমর্থন জানিয়েছে।

এই লাল কেল্লা বিস্ফোরণের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটও উল্লেখযোগ্য। ১৯৯৭ এবং ২০১০ সালেও লাল কেল্লা এলাকায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছিল, যা জঙ্গি সংগঠনগুলোর সঙ্গে যুক্ত ছিল। ১৪ বছর পর ফিরে আসা এই ঘটনা নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা তুলে ধরেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দিল্লির মতো বড় শহরে যানবাহন চেকিংয়ের অভাব এই ধরনের ঘটনাকে আমদানি করে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন যে, অবৈধ পার্কিং এবং খাবারের দোকানগুলো নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি বাড়িয়েছে। এই লাল কেল্লা বিস্ফোরণের পর মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ছবি এবং ভিডিওগুলোতে ধ্বংসের চিত্র স্পষ্ট, এবং এটি জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন তুলেছে।

দিল্লির লালকেল্লায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ: ‘হাত-ফুসফুস রাস্তায় ছড়িয়ে’, প্রত্যক্ষদর্শীর কাঁপা গলায় ভযঙ্কর বর্ণনা

প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে গৃহমন্ত্রীর কথোপকথনের পর কেন্দ্রীয় পর্যায়ে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এনআইএর দল ফরিদাবাদের ঘটনার সঙ্গে এর যোগাযোগ খুঁজছে, এবং সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো দ্রুত তথ্য উন্মোচন করা। স্থানীয় নেতারা বলছেন, এই লাল কেল্লা বিস্ফোরণের পর পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা বাড়ানো দরকার। আহতদের চিকিৎসায় সরকার সহায়তা প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, এবং রক্তদানের আহ্বান চলছে। এই ঘটনা ভারতের বড় শহরগুলোতে সতর্কতা বাড়িয়েছে, এবং জনগণকে শান্ত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এই লাল কেল্লা বিস্ফোরণ শুধু একটি স্থানীয় ঘটনা নয়, বরং জাতীয় নিরাপত্তার একটি গুরুতর সংকেত। এটি স্মরণ করিয়ে দেয় যে, জঙ্গি নেটওয়ার্কগুলো এখনও সক্রিয়, এবং দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে এদের ধ্বংস করতে হবে। ভুক্তভোগীদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে সরকারকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো যায়। পরবর্তী দিনগুলোতে তদন্তের ফলাফল প্রকাশ করলে পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হবে, কিন্তু এখনই জনগণকে সতর্ক থাকার এবং সহযোগিতা করার দরকার। এই ঘটনা ভারতের ঐক্য এবং সাহসের পরীক্ষা, যা আমরা অতিক্রম করব।

About Author
Avatar

আমাদের স্টাফ রিপোর্টারগণ সর্বদা নিষ্ঠার সাথে কাজ করে যাচ্ছেন যাতে আপনি বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের সর্বশেষ ও গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে পারেন। তাঁদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও প্রতিশ্রুতি আমাদের ওয়েবসাইটকে একটি বিশ্বস্ত তথ্যের উৎস হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।তারা নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ রিপোর্টিংয়ে বিশ্বাসী, দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক প্রতিবেদন তৈরিতে সক্ষম

আরও পড়ুন