নির্বাচনী মৌসুমে প্রার্থীদের মাথায় সাদা টুপি বা কালো টুপি, এবং মহিলা প্রার্থীদের ঘোমটা পরা—এ দৃশ্য ভারত ও বাংলাদেশের রাজনীতিতে বেশ পরিচিত। কিন্তু এই ধর্মীয় পরিচয়ের প্রদর্শন বা নির্বাচনী এলাকায় টুপি-ঘোমটা বিতরণ করলে কি আদৌ ভোট ব্যাঙ্কে ইতিবাচক পরিবর্তন আসে? ২০২৪ সালের বাংলাদেশ সাধারণ নির্বাচন এবং ভারতের লোকসভা নির্বাচনের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ধর্মীয় প্রতীকের ব্যবহার ভোটারদের অনুভূতিকে প্রভাবিত করতে পারে নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর মধ্যে, তবে নির্বাচনী ফলাফল নির্ধারণে অর্থনৈতিক বিষয়, উন্নয়ন কাজ এবং জাতীয় নিরাপত্তার চেয়ে এর প্রভাব সীমিত। ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন বিশেষজ্ঞ দলের প্রতিবেদন এবং বিবিসির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বাংলাদেশে ২০২৪ সালের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল তুলনামূলক কম এবং বিরোধী দলের অনুপস্থিতিতে ধর্মীয় প্রতীকের চেয়ে দলীয় আনুগত্য বেশি ভূমিকা রেখেছে।
নির্বাচনে ধর্মীয় পরিচয়ের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে ধর্মীয় পরিচয় সবসময়ই একটি শক্তিশালী উপাদান হিসেবে কাজ করেছে। বিশ শতকের মধ্যভাগ থেকে ভারত বিভাগের পর থেকেই এই অঞ্চলের নির্বাচনী রাজনীতিতে সাম্প্রদায়িক পরিচয়ের ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। টুপি, ঘোমটা বা অন্যান্য ধর্মীয় পোশাক কেবল সৌন্দর্য বা ব্যক্তিগত বিশ্বাসের প্রকাশ নয়, এটি একটি রাজনৈতিক বার্তা বহন করে—যা ভোটারদের কাছে প্রার্থীর আদর্শিক অবস্থান স্পষ্ট করে।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের পর থেকেই ধর্মনিরপেক্ষতা ও ইসলামী পরিচয়ের মধ্যে টানাপোড়েন চলছে। একদিকে আওয়ামী লীগ ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশের ধারণা推广 করে, অন্যদিকে বিএনপি ও তাদের মিত্ররা ইসলামী মূল্যবোধের উপর জোর দেয়। এই দ্বৈততার মধ্যেই টুপি ও ঘোমটা রাজনৈতিক প্রতীক হিসেবে উঠে আসে। ভারতের ক্ষেত্রে সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দু জনগোষ্ঠীর মধ্যে ভগবা পাগড়ি বা তিলক, এবং সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের কাছে কালো বা সাদা টুপি, এগুলো ভোটের মাঠে পরিচয়ের রাজনীতির অন্যতম হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে।
বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে ২০২৪ সালের নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চতুর্থবারের মতো ক্ষমতায় আসেন, কিন্তু এই নির্বাচনে বিরোধী দল বিএনপি অংশগ্রহণ করেনি। এমন প্রেক্ষাপটে ধর্মীয় প্রতীকের ব্যবহার তেমন প্রভাব ফেলতে পারেনি, কারণ নির্বাচনী প্রচারণায় প্রাধান্য পায় দলীয় শক্তি ও প্রতিবেশী ভারতের সমর্থনের বিষয়টি।
বাংলাদেশ: ধর্মনিরপেক্ষতা বনাম ইসলামী পরিচয়ের সংগ্রাম
বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে টুপি ও ঘোমটার ব্যবহার নিয়ে একটি সূক্ষ্ম সমীকরণ কাজ করে। আওয়ামী লীগ যদিও নিজেদের ধর্মনিরপেক্চ বলে দাবি করে, তবুও নির্বাচনী মৌসুমে তাদের প্রার্থীরা প্রায়শই ইসলামী টুপি পরে জনসংযোগ করেন। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায়, যেখানে ধর্মীয় অনুভূতি তীব্র, সেখানে টুপি পরে হাটে-বাজারে ঘুরে ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টা করা হয়। অন্যদিকে, বিএনপি এবং তাদের সহযোগী জামায়াতে ইসলামী প্রার্থীরা আরও স্পষ্টভাবে ইসলামী পরিচয় প্রদর্শন করেন—দাড়ি, টুপি এবং মহিলা সমর্থকদের ঘোমটা পরা নির্বাচনী মিছিল তাদের জন্য স্বাভাবিক দৃশ্য।
কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই পোশাক পরিধান বা সমর্থকদের মাঝে টুপি-ঘোমটা বিতরণ করলে কি আসলেই ভোট বাড়ে? বাস্তবতা হলো, বাংলাদেশের ১৭ কোটি জনসংখ্যার মধ্যে ৯০ শতাংশের বেশি মুসলিম হওয়ায় ইসলামী পরিচয় একটি সাধারণ ব্যাপার। তাই টুপি পরা কোনো প্রার্থীকে অন্য প্রার্থীর চেয়ে পৃথক করে না, বিশেষ করে যখন সব প্রার্থীই ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন বিশেষজ্ঞ দলের ২০২৪ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল অপ্রত্যাশিতভাবে কম। এই পরিস্থিতিতে দেখা গেছে, টুপি বা ঘোমটার মতো বাহ্যিক প্রতীকের চেয়ে দলীয় বিশ্বস্ততা এবং স্থানীয় উন্নয়ন কাজ ভোটারদের সিদ্ধান্তে বেশি প্রভাব ফেলেছে।
২০২৪ নির্বাচনের প্রেক্ষিতে টুপি-ঘোমটার প্রভাব
২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের নির্বাচনে বিএনপি ও তাদের মিত্ররা ভোট বর্জন করায় আওয়ামী লীগ ব্যাপক বিজয় লাভ করে। এই নির্বাচনে ধর্মীয় প্রতীকের ব্যবহার তেমন আলোচনায় আসেনি, কারণ প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীর অনুপস্থিতিতে নির্বাচনী প্রচারণা ছিল একপেশে। তবে যে কয়টি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী বা ছোট দলগুলো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে, সেখানে দেখা গেছে যে কেবল টুপি পরে বা ধর্মীয় স্লোগান দিয়ে ভোটারদের আকর্ষণ করা কঠিন।
বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে, বিশেষ করে ভারতের সীমান্ত সংলগ্ন জেলাগুলোতে, টুপি ও ঘোমটার রাজনীতি আরও জটিল রূপ ধারণ করে। এখানে ধর্মীয় পরিচয়ের পাশাপাশি জাতীয়তাবাদও একটি বড় বিষয়। বিবিসির প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে যে ভারত বন্ধুপ্রতিম একটি শাসন ব্যবস্থা চায় বাংলাদেশে, এবং এই ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতায় স্থানীয় নির্বাচনগুলোতে ধর্মীয় প্রতীকের চেয়ে উন্নয়নমূলক বিষয়াদি গুরুত্ব পায়।
ভারতের গেরুয়া রাজনীতি ও সাম্প্রদায়িক সমীকরণ
ভারতের বহুধার্মিক গণতন্ত্রে টুপি, পাগড়ি বা ঘোমটার রাজনীতি আরও বৈচিত্র্যময়। হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ এই দেশে বিজেপি এবং সংঘ পরিবারের প্রার্থীরা প্রায়শই ভগবা বা কেশরিয়া পাগড়ি পরে নির্বাচনী প্রচারণা চালান, যা তাদের হিন্দুত্ববাদী পরিচয় তুলে ধরে। অপরদিকে, মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় কংগ্রেস বা আঞ্চলিক দলগুলোর প্রার্থীরা মাঝে মাঝে মুসলিম টুপি পরে ভোট প্রার্থনা করেন।
তবে ভারতে “টুপি রাজনীতি” একটি বিতর্কিত বিষয়। ২০১৪ এবং ২০১৯ সালের নির্বাচনে দেখা গেছে যে নরেন্দ্র মোদী এবং তাঁর দল কেবল হিন্দু ধর্মীয় প্রতীক ব্যবহার করেই নয়, বরং “উন্নয়নের রাজনীতি” এর মাধ্যমে বিভিন্ন ধর্মের ভোটারদের কাছে পৌঁছেছেন। বিজেপির রণনীতিতে দেখা যায় যে তারা সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দু ভোটারদের ধর্মীয় অনুভূতিকে কাজে লাগান, কিন্তু একই সাথে সংখ্যালঘুদের বাদ না দিয়ে তাদের জন্য বিশেষ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ঘোমটা বা মাথায় কাপড় দেওয়ার প্রচলন দেখা যায়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রায়শই মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় মাথায় কাপড় দিয়ে জনসভায় যোগ দেন। কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বাড়ুঈতে মন্দির পরিদর্শনকালে মাথায় ঘোমটা দেন। এই অভিব্যক্তিগুলো কি শুধু প্রতীকী, নাকি ভোট বাড়াতে সাহায্য করে?
বাস্তবতা হলো, ভারতের মতো বৈচিত্র্যময় দেশে কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় পোশাক পরলে কেবল সেই ধর্মের ভোটারদের ভোট মিলবে—এমনটি নয়। বরং, এটি প্রার্থীর সহজ-সরল ভাবমূর্তি তৈরি করতে পারে নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের কাছে, কিন্তু অন্য সম্প্রদায়ের ভোট হারানোর ঝুঁকিও থাকে।
পরিসংখ্যানগত বিশ্লেষণ: ভোটে কতটা প্রভাব?
টুপি বা ঘোমটার মতো ধর্মীয় প্রতীক নির্বাচনী ফলাফলে কতখানি প্রভাব ফেলে তা বোঝার জন্য কিছু পরিসংখ্যানগত দিক বিবেচনা করা যেতে পারে। নিচের তালিকায় ভারত ও বাংলাদেশের নির্বাচনী ব্যবস্থার তুলনা দেওয়া হলো:
| বিষয় | বাংলাদেশ | ভারত |
|---|---|---|
| মোট জনসংখ্যা | প্রায় ১৭ কোটি | প্রায় ১৪০ কোটি |
| সংখ্যাগরিষ্ঠ ধর্ম | ইসলাম (৯১%) | হিন্দু (৮০%) |
| ২০২৪ নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি | তুলনামূলক কম (বিরোধী বর্জনের কারণে) | প্রায় ৬৭% |
| ধর্মীয় প্রতীকের প্রভাব | সীমিত (সবাই একই ধর্মের হওয়ায়) | মাঝারি (বিভিন্ন ধর্মের ভোটার) |
| প্রাধান্য বিষয় | উন্নয়ন, দলীয় আনুগত্য | জাতীয়তাবাদ, অর্থনীতি |
উপরের তথ্য থেকে স্পষ্ট যে বাংলাদেশে প্রায় সবাই মুসলিম হওয়ায় টুপি পরা কোনো প্রার্থীকে অন্যের চেয়ে বেশি ধার্মিক বা উপযুক্ত প্রমাণ করে না। সেখানে ভোটাররা দলীয় ইতিহাস, স্থানীয় উন্নয়ন কাজ এবং প্রার্থীর ব্যক্তিগত খ্যাতির উপর বেশি নির্ভরশীল।
ভারতের ক্ষেত্রে, যেখানে ধর্মীয় বৈচিত্র্য বেশি, সেখানে নির্দিষ্ট ধর্মের পোশাক পরা কেবল সেই ধর্মের ভোটারদের কাছে ইতিবাচক হতে পারে, কিন্তু অন্য ধর্মের ভোটারদের কাছে নেতিবাচক হতে পারে। গবেষণায় দেখা যায়, ভারতে প্রায় ৩৫% ভোটার তাদের ধর্মীয় পরিচয়কে ভোট দেওয়ার সময় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে করেন, কিন্তু ৬৫% ভোটার অর্থনৈতিক বিষয় এবং উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেন।
বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ) এর নির্বাচনী ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায় যে, শিল্প এলাকাগুলোতে শ্রমিকদের ভোটের ক্ষেত্রে ধর্মীয় প্রতীকের চেয়ে শ্রম অধিকার এবং বেতন-ভাতার বিষয়গুলো প্রাধান্য পায়। এমনকি ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলোর কাছেও টুপি বা ঘোমটা বিতরণের চেয়ে কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি বেশি কাজে লাগে।
ভোটার মনস্তত্ত্ব: প্রতীক নাকি উন্নয়ন?
মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, ভোটাররা সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় দুটি স্তরে কাজ করেন—আবেগগত স্তর এবং যুক্তিগত স্তর। টুপি বা ঘোমটা মূলত আবেগগত স্তরে প্রভাব ফেলে। যখন একজন প্রার্থী কোনো ধর্মীয় গোষ্ঠীর পোশাক পরেন, তখন ওই গোষ্ঠীর ভোটাররা মনে করেন যে প্রার্থীটি তাদের “নিজের লোক”। এই অনুভূতি রাজনৈতিক আনুগত্য শক্তিশালী করে।
তবে যুক্তিগত স্তরে, ভোটাররা নিজেদের জীবনমানের উন্নতি, রাস্তাঘাট, বিদ্যুৎ, পানি এবং শিক্ষার সুবিধা বিবেচনা করেন। বিশেষ করে নগর এলাকায় এবং তরুণ ভোটারদের মধ্যে এই প্রবণতা বেশি। ২০২৪ সালের বাংলাদেশ নির্বাচনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পর্যবেক্ষকরা লক্ষ্য করেছেন যে, তরুণ ভোটাররা ধর্মীয় প্রতীকের চেয়ে কর্মসংস্থান এবং ডিজিটাল বাংলাদেশের অগ্রগতিকে ভোট দেওয়ার মাপকাঠি হিসেবে ব্যবহার করেছেন।
আবার গ্রামীণ এলাকায় পরিস্থিতি ভিন্ন। সেখানে ঐতিহ্য ও ধর্মীয় মূল্যবোধ আরও শক্তিশালী ভূমিকা রাখে। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশের গ্রামীণ নারী ভোটারদের মধ্যে ৪৫% মনে করেন যে ঘোমটা পরা মহিলা প্রার্থীরা বেশি নৈতিক ও বিশ্বস্ত হন। তবে এই সংখ্যা শহরাঞ্চলে কমে দাঁড়ায় ১৮% এ।
ভারতের ক্ষেত্রে, উত্তর প্রদেশের মতো রাজ্যে ধর্মীয় প্রতীক আরও বেশি কাজে লাগে, কারণ সেখানে সাম্প্রদায়িক সমীকরণ জটিল। কিন্তু দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলোতে, যেমন তামিলনাড়ু বা কেরালায়, ভাষা ও অঞ্চলগত পরিচয় ধর্মীয় পরিচয়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় টুপি বা পাগড়ি তেমন প্রভাব ফেলে না।
যুগান্তকারী পরিবর্তন: প্রজন্ম ও ধর্মনিরপেক্ষতা
একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে দুই দেশের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে। বাংলাদেশে ৩০ বছরের নিচে জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয় এবং তারা ধর্মীয় প্রতীকের চেয়ে সমস্যা সমাধানের ক্ষমতাকে বেশি গুরুত্ব দেন। তাদের কাছে টুপি বা ঘোমটা বিতরণ পুরনো রাজনীতির প্রতীক মনে হয়।
ভারতেও একই ধারা দেখা যাচ্ছে। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে দেখা গেছে, তরুণ ভোটাররা ধর্মীয় উসকানিমূলক বক্তব্যের চেয়ে কর্মসংস্থান ও শিক্ষার প্রতিশ্রুতিকে গুরুত্ব দিয়েছেন। এই প্রজন্মগত পরিবর্তনের ফলে ভবিষ্যতে টুপি-ঘোমটার রাজনীতি কমে আসতে পারে।
তবে পুরোপুরি অস্বীকার করা যাবে না যে, নির্দিষ্ট কিছু নির্বাচনী এলাকায়, বিশেষ করে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায়, ধর্মীয় পোশাক পরা বা বিতরণ এখনও ভোটারদের সাথে সংযোগ স্থাপনের একটি মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। এটি এক ধরনের সম্মান প্রদর্শন, যা ভোটারদের মনে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি করে।
টুপি বা ঘোমটা পরে বা বিতরণ করে ভোট বাড়ানোর বিষয়টি আংশিক সত্য হলেও পুরোপুরি নির্ভরশীল নয়। বাংলাদেশের ২০২৪ নির্বাচন এবং ভারতের সাম্প্রতিক নির্বাচনী ধারা দেখায় যে, ভোটাররা এখন আর কেবল ধর্মীয় পরিচয় দেখে ভোট দেন না, বরং উন্নয়ন, নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার দিকে তাকিয়ে সিদ্ধান্ত নেন। ধর্মীয় প্রতীক কেবল তখনই কার্যকর হয় যখন তা প্রার্থীর সৎচারিত্র্য এবং ক্ষমতার প্রতীক হিসেবে দাঁড়ায়, অন্যথায় এটি কেবল একটি বাহ্যিক আচ্ছাদন মাত্র। ভবিষ্যতের নির্বাচনে এই প্রবণতা আরও কমে আসবে বলে মনে হয়, কারণ নতুন প্রজন্ম ধর্মনিরপেক্ষ উন্নয়নমূলক রাজনীতির দিকে ঝুঁকছে এবং টুপি-ঘোমটার মতো বাহ্যিক প্রতীকের চেয়ে কর্মসূচি এবং অর্জনকেই ভোটের মাপকাঠি হিসেবে গ্রহণ করছে। সুতরাং, রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য কেবল ধর্মীয় পোশাক পরা নয়, বরং জনগণের কল্যাণমূলক কাজ করে তাদের আস্থা অর্জন করা হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এবং সুযোগ।











