মেসেঞ্জারে মেয়েদের সাথে কথা বলার নিয়ম: সফল চ্যাটিংয়ের সেরা টিপস

আজকাল সোশ্যাল মিডিয়া আমাদের জীবনের একটা বড় অংশ জুড়ে আছে। নতুন মানুষের সাথে পরিচিত হওয়ার জন্য ফেসবুক বা মেসেঞ্জার এখন সবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যম। কিন্তু অনলাইনে কারো সাথে কথা শুরু করা,…

Ishita Ganguly

আজকাল সোশ্যাল মিডিয়া আমাদের জীবনের একটা বড় অংশ জুড়ে আছে। নতুন মানুষের সাথে পরিচিত হওয়ার জন্য ফেসবুক বা মেসেঞ্জার এখন সবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যম। কিন্তু অনলাইনে কারো সাথে কথা শুরু করা, বিশেষ করে অপরিচিত কোনো মেয়ের সাথে কথা বলাটা অনেকের কাছেই বেশ কঠিন মনে হয়। কী বলে কথা শুরু করবেন, সে রিপ্লাই দেবে কি না, কিংবা বিরক্ত হবে কি না—এমন অনেক প্রশ্ন মাথায় ঘোরে। ঠিক এই কারণেই মেসেঞ্জারে মেয়েদের সাথে কথা বলার নিয়ম জানা থাকাটা খুব জরুরি। সঠিক উপায় এবং ভদ্রতা বজায় রেখে কথা বললে শুধু যে ভালো একটা ইম্প্রেশন তৈরি হয় তা নয়, বরং একটা সুন্দর বন্ধুত্বের পথও খুলে যায়। এই আর্টিকেলে আমরা একদম বাস্তবসম্মত এবং পরীক্ষিত কিছু কৌশল নিয়ে আলোচনা করব, যা আপনাকে অনলাইনে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে।

মেসেঞ্জারে মেয়েদের সাথে কথা বলার নিয়ম কেন জানা জরুরি?

অনলাইনে চ্যাটিং করার সময় অপর দিকের মানুষটি আপনাকে সরাসরি দেখতে পায় না। আপনার বলা শব্দ, মেসেজের টোন এবং কথা বলার ধরন দেখেই সে আপনার ব্যক্তিত্ব বিচার করে। সঠিক পদ্ধতি জানা না থাকলে আপনার পাঠানো মেসেজ খুব সহজেই স্প্যাম বক্সে চলে যেতে পারে অথবা আপনি ব্লকড হতে পারেন । আপনি যখন সঠিক অ্যাপ্রোচ নিয়ে কথা বলতে জানবেন, তখন অপর দিকের মানুষটিও আপনার সাথে কথা বলতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবে। তাই একটা ভালো ভাবমূর্তি তৈরি করার জন্য এবং ভুল বোঝাবুঝি এড়ানোর জন্য এই নিয়মগুলো শেখা দরকার।​

ফার্স্ট ইম্প্রেশন তৈরি করা

আমরা সবাই জানি, ফার্স্ট ইম্প্রেশন বা প্রথম ধারণাই অনেক সময় শেষ ধারণা হয়ে দাঁড়ায়। মেসেঞ্জারে আপনার প্রথম কয়েকটি মেসেজই বলে দেবে আপনি মানুষ হিসেবে কেমন। আপনি যদি খুব গোছানো এবং ভদ্রভাবে কথা শুরু করেন, তবে মেয়েরা সাধারণত সেই মেসেজগুলোকে গুরুত্ব দেয়। অন্যদিকে, সস্তা বা অশালীন মেসেজ আপনার ইমেজ মুহূর্তের মধ্যে নষ্ট করে দিতে পারে।

সঠিক যোগাযোগের গুরুত্ব

অনলাইনে যোগাযোগের ক্ষেত্রে বডি ল্যাঙ্গুয়েজ বা চোখের ভাষা বোঝার উপায় থাকে না। তাই আপনার লেখাই এখানে সব। আপনার মেসেজ যেন আপনার মনের ভাব ঠিকভাবে প্রকাশ করতে পারে, সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি। সঠিক যোগাযোগের মাধ্যমে আপনি খুব সহজেই অপর দিকের মানুষটির ভরসা জিততে পারবেন এবং আপনাদের চ্যাটিং দীর্ঘস্থায়ী হবে ।​

সঠিক নিয়ম জানার সুবিধা ও না জানার ক্ষতি

বিষয় সঠিক নিয়ম জানলে যা হয় নিয়ম না জানলে যা হয়
ইম্প্রেশন প্রথম দেখাতেই পজিটিভ ধারণা তৈরি হয়। স্প্যামার বা বিরক্তিকর মনে হতে পারে।
রিপ্লাই পাওয়ার চান্স রিপ্লাই পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়। মেসেজ সিন করে রেখে দেওয়ার চান্স বেশি।
সম্পর্ক তৈরি সুন্দর বন্ধুত্ব বা ভালো সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ব্লক খাওয়ার বা ইগনোর হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
কনফিডেন্স নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস বাড়ে। বারবার রিজেক্ট হয়ে হতাশা আসে।

চ্যাটিং শুরু করার আগে প্রোফাইল কেমন হওয়া উচিত?

আপনি কাউকে প্রথম মেসেজ পাঠানোর পর, সেই ব্যক্তি সবার আগে আপনার প্রোফাইল চেক করবে। এটাই মানুষের স্বাভাবিক প্রবৃত্তি। যদি আপনার প্রোফাইলে নিজের কোনো আসল ছবি না থাকে, ফুল-পাখির ছবি দেওয়া থাকে, বা বায়ো খুব অদ্ভুত হয়, তবে সে কখনোই আপনার মেসেজের রিপ্লাই দেবে না । একটি সুন্দর, গোছানো ও বাস্তব প্রোফাইল মানুষের মনে ভরসা তৈরি করে। তাই মেসেঞ্জারে কথা শুরু করার আগে নিজের প্রোফাইলটিকে বিশ্বাসযোগ্য ও আকর্ষণীয় করে তোলাটা একদম প্রাথমিক কাজ।​

পরিষ্কার প্রোফাইল পিকচার ও বায়ো

আপনার প্রোফাইল পিকচারে অবশ্যই আপনার নিজের একটা ভালো এবং পরিষ্কার ছবি থাকা উচিত। গ্রুপ ছবি বা মুখ ঢাকা ছবি না দেওয়াই ভালো। এর পাশাপাশি বায়ো সেকশনে নিজের সম্পর্কে খুব সংক্ষেপে এবং সুন্দর করে কিছু লিখুন। খুব বেশি ইমোশনাল বা রাগী টাইপের কথাবার্তা বায়োতে না রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ।

পজিটিভ পোস্ট ও টাইমলাইন

আপনার টাইমলাইন আপনার চিন্তাধারার আয়না। সেখানে যদি সবসময় নেগেটিভ বা হতাশাজনক পোস্ট থাকে, তবে মানুষ আপনার সাথে কথা বলতে আগ্রহ হারাবে। প্রোফাইলে শিক্ষণীয়, মজার বা সাধারণ পজিটিভ পোস্ট শেয়ার করুন। এতে যে কেউ আপনার প্রোফাইল দেখলে বুঝতে পারবে আপনি একজন সহজ-সরল ও পজিটিভ মানুষ।

প্রোফাইল গোছানোর সঠিক পদ্ধতি

প্রোফাইলে যা থাকা উচিত (Do’s) প্রোফাইলে যা এড়িয়ে চলবেন (Don’ts)
নিজের পরিষ্কার ও হাস্যোজ্জ্বল ছবি ফেক ছবি বা ফুল-পাখি-গাড়ির ছবি
নিজের আসল নাম ব্যবহার করা অদ্ভুত স্টাইলিশ বা ফেক নাম (যেমন: কষ্টেরি রাজকুমার)
প্রোফাইলে সাধারণ ও পজিটিভ পোস্ট অতিরিক্ত নেগেটিভ বা রাজনৈতিক বিতর্কিত পোস্ট
শিক্ষাগত বা পেশাগত সাধারণ তথ্য প্রাইভেসি নষ্ট করে এমন ব্যক্তিগত তথ্য

প্রথম মেসেজ পাঠানোর সঠিক কৌশল ও নিয়ম

প্রথম মেসেজটাই নির্ধারণ করে দেয় যে আপনাদের মধ্যে কথা এগোবে নাকি ওখানেই শেষ হয়ে যাবে। বেশিরভাগ ছেলেই শুধু “হাই”, “হ্যালো”, বা “কেমন আছেন” লিখে মেসেজ পাঠায়। মেয়েরা প্রতিদিন এমন অসংখ্য মেসেজ পায়, তাই এগুলো সাধারণত মেসেজ রিকোয়েস্টেই পড়ে থাকে । এমন কিছু দিয়ে শুরু করুন যা দেখে সে সত্যি রিপ্লাই দিতে বাধ্য হয় বা আগ্রহী হয়। মেসেঞ্জারে মেয়েদের সাথে কথা বলার নিয়ম মেনে চললে প্রথম মেসেজেই আপনি বাকিদের চেয়ে আলাদা হয়ে উঠতে পারবেন এবং তার নজর কাড়তে পারবেন ।

‘হাই’ বা ‘হ্যালো’ এর বদলে কী লিখবেন

শুধুমাত্র হাই বা হ্যালো না লিখে, এমন কিছু লিখুন যা নিয়ে কথা বলা যায়। উদাহরণস্বরূপ, তার কোনো একটা সুন্দর পোস্ট বা ছবির প্রশংসা করে মেসেজ করতে পারেন। যেমন বলতে পারেন, “আপনার ওই পোস্টটা দেখলাম, খুব সুন্দর লিখেছেন” অথবা “আপনার ট্রাভেলের ছবিগুলো দেখলাম, জায়গাটা কোথায়?” এতে সে বুঝতে পারবে আপনি শুধু সময় কাটাতে মেসেজ করেননি, বরং সত্যি তার প্রতি আগ্রহী।

সাধারণ আগ্রহ বা কমন টপিক খুঁজে বের করা

মেসেজ করার আগে তার প্রোফাইল একটু ঘুরে দেখুন। তার শখ বা আগ্রহের বিষয়গুলো বোঝার চেষ্টা করুন । যদি দেখেন সে বই পড়তে ভালোবাসে বা কোনো নির্দিষ্ট ব্যান্ডের গান শোনে, তবে সেটা নিয়েই প্রথম মেসেজটা করুন। কমন টপিক দিয়ে কথা শুরু করলে কনভারসেশন খুব দ্রুত জমে ওঠে এবং আড়ষ্টতা কেটে যায়।​

প্রথম মেসেজের উদাহরণ (ভুল বনাম সঠিক)

সাধারণ ভুল মেসেজ আকর্ষণীয় ও সঠিক মেসেজ
হাই / হ্যালো / কী করেন? আপনার আজকের স্ট্যাটাসটা পড়লাম, একদম আমার মনের কথা!
আপনি খুব সুন্দর। আপনার তোলা ছবিগুলো খুব সুন্দর, আপনি কি ফটোগ্রাফি করেন?
ফ্রেন্ড হবেন? প্লিজ রিপ্লাই। আপনার প্রোফাইলে দেখলাম আপনি বই পড়তে খুব ভালোবাসেন, প্রিয় লেখক কে?
খাইছেন? ঘুমাইছেন? এই মুভিটা কি আপনি দেখেছেন? আপনার রিভিউটা জানতে ইচ্ছে করছিল।

মেসেঞ্জারে কথা চালিয়ে যাওয়ার আকর্ষণীয় টপিক

রিপ্লাই পাওয়ার পর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো কথা চালিয়ে যাওয়া। ইন্টারভিউয়ের মতো একটার পর একটা প্রশ্ন করলে যে কেউ দ্রুত বিরক্ত হয়ে যাবে। এর বদলে এমন টপিক বেছে নিন যা নিয়ে আলোচনা করতে দুজনেই মজা পান। অপরিচিত মেয়ের সাথে কথা বলার টপিক খুঁজে বের করা খুব একটা কঠিন কাজ নয়, যদি আপনি মন দিয়ে তার কথাগুলো শোনেন এবং সেখান থেকেই নতুন কথার সূত্র বের করতে পারেন ।​

শখ ও পছন্দের বিষয় নিয়ে আলোচনা

প্রত্যেক মানুষেরই নিজস্ব কিছু শখ থাকে। সেটা হতে পারে বই পড়া, সিনেমা দেখা, রান্না করা বা নতুন জায়গায় ঘুরতে যাওয়া। তার পছন্দের বিষয়গুলো নিয়ে জানতে চান এবং নিজের শখের কথাও শেয়ার করুন। এই ধরনের আলোচনায় মানুষ খুব স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে এবং অনেকক্ষণ ধরে কথা বলতে পারে।

দিনের মজার ঘটনা শেয়ার করা

সবসময় সিরিয়াস কথা বলতে হবে এমন কোনো মানে নেই। সারাদিনের কোনো মজার ঘটনা বা অদ্ভুত অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে পারেন। তাকেও জিজ্ঞেস করতে পারেন তার দিন কেমন কাটলো। খুব সাধারণ কথাবার্তার মাধ্যমেই দুজন মানুষের মধ্যে সুন্দর একটা বন্ডিং তৈরি হয়।

কথা চালিয়ে যাওয়ার সেরা টপিক

টপিকের ধরন উদাহরণ / কীভাবে শুরু করবেন
ভ্রমণ (Travel) “পাহাড় নাকি সমুদ্র, আপনার কোনটা বেশি পছন্দ?”
বিনোদন (Entertainment) “সম্প্রতি কোনো ভালো ওয়েব সিরিজ দেখেছেন? সাজেস্ট করুন।”
খাবার (Food) “আপনি কি ফুডি? বিরিয়ানি নাকি পিৎজা, কোনটা এগিয়ে?”
ক্যারিয়ার বা পড়াশোনা “আপনার কাজের ফিল্ডটা তো বেশ ইন্টারেস্টিং, অভিজ্ঞতা কেমন?”

মেসেঞ্জারে মেয়েদের সাথে কথা বলার সময় যে ভুলগুলো এড়িয়ে চলবেন

কিছু ছোট ছোট ভুল আপনার পুরো চেষ্টাকে এক মুহূর্তে নষ্ট করে দিতে পারে। অনলাইনে কথা বলার সময় অতিরিক্ত উৎসাহ দেখানো বা বারবার টেক্সট করা মোটেও ভালো চোখে দেখা হয় না। অনেক সময় না বুঝে আমরা এমন কথা বলে ফেলি যা অপর দিকের মানুষটিকে চরম অস্বস্তিতে ফেলে দেয়। তাই মেসেঞ্জারে মেয়েদের সাথে কথা বলার নিয়ম এর মধ্যে অন্যতম প্রধান দিক হলো নিজের ভুলগুলো শুধরে নেওয়া এবং নিজেকে সংযত রাখা।

অতিরিক্ত মেসেজ বা স্প্যামিং না করা

সে যদি কোনো মেসেজের রিপ্লাই দিতে দেরি করে, তবে বারবার “কী হলো?”, “রিপ্লাই দিচ্ছেন না কেন?”, বা শুধু প্রশ্নবোধক চিহ্ন (?) পাঠানো থেকে বিরত থাকুন । হতে পারে সে কোনো কাজে ব্যস্ত আছে। অতিরিক্ত মেসেজ করলে আপনাকে ডেসপারেট বা বিরক্তিকর মনে হবে।​

ব্যক্তিগত বা অস্বস্তিকর প্রশ্ন এড়িয়ে চলা

নতুন পরিচয়ের শুরুতে কখনোই খুব বেশি ব্যক্তিগত প্রশ্ন করবেন না। তার অতীত সম্পর্ক, পরিবারের খুব গভীর কোনো বিষয় বা তার ইনকাম নিয়ে কথা বলা একদমই উচিত নয়। এই ধরনের প্রশ্ন মানুষকে আনকমফোর্টেবল করে দেয়। সম্পর্ক যখন একটু গাঢ় হবে, তখন এই বিষয়গুলো এমনিতেই সামনে আসবে।

 চ্যাটিংয়ের সময় যে ভুলগুলো করবেন না

ভুলের নাম কেন এটি ক্ষতিকর কী করবেন এর বদলে
স্প্যামিং করা বিরক্তিকর লাগে এবং ব্লক খাওয়ার চান্স বাড়ে। মেসেজ দিয়ে অপেক্ষা করুন, ব্যস্ততা বুঝুন।
ইন্টারভিউ নেওয়া বোরিং লাগে এবং চ্যাটিংয়ের মজা নষ্ট হয়। কথার পিঠে কথা বলে আলোচনা বাড়ান।
অতিরিক্ত ব্যক্তিগত প্রশ্ন প্রাইভেসি নষ্ট হয় এবং অস্বস্তি তৈরি হয়। সাধারণ এবং হালকা টপিক নিয়ে কথা বলুন।
অন্য মেয়ের প্রশংসা করা ইনসিকিউরিটি বা বিরক্তি তৈরি করতে পারে। তাকে স্পেশাল ফিল করান, তুলনামূলক কথা বাদ দিন ​।

সম্মান ও পার্সোনাল স্পেস বজায় রাখার গুরুত্ব

ভার্চুয়াল জগৎ হলেও সম্মান দেওয়াটা বাস্তব জীবনের মতোই জরুরি। কেউ অনলাইনে থাকা মানেই যে তাকে সাথে সাথে আপনার মেসেজের রিপ্লাই দিতে হবে, এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। তার ব্যক্তিগত সময় ও স্পেসের প্রতি সম্মান দেখালে সে আপনার প্রতি অনেক বেশি পজিটিভ ধারণা পোষণ করবে । ভদ্রতা, শালীনতা এবং পরিমিতিবোধ হলো যেকোনো দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কের প্রথম ও প্রধান শর্ত।​

ভদ্রতা ও শালীনতা বজায় রাখা

কথা বলার সময় কখনোই অশালীন শব্দ ব্যবহার করবেন না। মেয়েদের সাথে কথা বলার সময় সম্মানসূচক শব্দ ব্যবহার করুন এবং এমন কোনো জোকস বলবেন না যা তাকে বিব্রত করে। আপনি যদি ভদ্র থাকেন, তবে সে আপনার সাথে কথা বলে নিজেকে নিরাপদ মনে করবে।

রিপ্লাই দিতে দেরি হলে ধৈর্য ধরা

মানুষের অফলাইনেও একটা জীবন থাকে। কাজ, পরিবার বা বন্ধুদের সাথে ব্যস্ত থাকার কারণে মেসেজের রিপ্লাই দিতে দেরি হতেই পারে। এই সময়টাতে ধৈর্য ধরুন। সে যখন ফ্রি হয়ে মেসেজ করবে, তখন স্বাভাবিকভাবেই কথা বলুন, কোনো অভিযোগ করবেন না।

পার্সোনাল স্পেস বোঝার উপায়

পরিস্থিতি ভুল প্রতিক্রিয়া সঠিক প্রতিক্রিয়া
অনলাইনে আছে কিন্তু রিপ্লাই দিচ্ছে না “ইগনোর করছেন কেন?” বলা শান্ত থাকা এবং অপেক্ষা করা।
সে কথা বলতে না চাইলে জোর করে কথা বলার চেষ্টা করা “ঠিক আছে, পরে কথা হবে” বলে বিদায় নেওয়া।
সে শর্ট রিপ্লাই (Hmm, Accha) দিলে বারবার প্রশ্ন করতে থাকা টপিক পাল্টে ফেলা বা সেদিনের মতো কথা শেষ করা।
রাতের বেলায় মেসেজ করা গভীর রাতে কল বা মেসেজ দেওয়া খুব জরুরি না হলে সকালে মেসেজ করা।

হিউমার বা মজার ছলে কথা বলার উপায়

মজার কথা বলে যে কাউকে খুব সহজে আপন করে নেওয়া যায়। তবে অনলাইনে জোকস বলার সময় খেয়াল রাখতে হয় যেন তা কোনোভাবেই কারো অনুভূতিতে আঘাত না করে বা সস্তা মনে না হয়। সঠিক সময়ে পাঠানো একটা প্রাসঙ্গিক মিম বা মজার মন্তব্য আপনাদের মাঝের জড়তা এক নিমিষেই কাটিয়ে দিতে পারে । মেয়েরা সাধারণত এমন ছেলেদের খুব পছন্দ করে যাদের সেন্স অফ হিউমার ভালো এবং যারা কথায় কথায় হাসাতে পারে।​

পরিস্থিতি অনুযায়ী জোকস বা মিমস শেয়ার করা

কথা বলার মাঝে যদি কোনো মজার টপিক আসে, তবে সেই সম্পর্কিত ভালো মানের মিমস বা জোকস শেয়ার করতে পারেন। এতে কথোপকথন বোরিং হয় না। তবে খেয়াল রাখবেন জোকস যেন ডাবল মিনিং বা অশালীন না হয়। পরিষ্কার এবং বুদ্ধিদীপ্ত হিউমার সবসময় আকর্ষণীয়।

ফ্লার্টিং এবং মজার কথার মধ্যে পার্থক্য বোঝা

অনেকেই মজার কথা বলতে গিয়ে মাত্রাতিরিক্ত ফ্লার্ট করে ফেলে, যা হিতে বিপরীত হতে পারে। ফ্লার্টিং হতে হবে খুব হালকা এবং মিষ্টি। যেমন, তার কোনো একটা কাজের প্রশংসা একটু ঘুরিয়ে মজার ছলে করতে পারেন। এতে সে হাসবেও এবং আপনার প্রতি ইমপ্রেসডও হবে।

চ্যাটিংয়ে হিউমার ব্যবহারের গাইডলাইন

হিউমারের ধরন ব্যবহার করার নিয়ম প্রভাব বা রেজাল্ট
মিমস শেয়ার করা টপিকের সাথে মিলিয়ে ট্রেন্ডিং মিমস পাঠানো। চ্যাটিং অনেক বেশি ফান এবং লাইট হয়।
হালকা ফ্লার্টিং ব্যক্তিত্বের প্রশংসা ঘুরিয়ে করা। আপনার প্রতি তার আকর্ষণ বাড়ে ​।
সার্কাজম (Sarcasm) খুব সাবধানে এবং বুঝে ব্যবহার করা। অতিরিক্ত সার্কাজম ভুল বোঝাবুঝি তৈরি করতে পারে।
নিজের বোকামি নিয়ে জোকস নিজের কোনো মজার ভুল শেয়ার করা। আপনাকে অনেক বেশি ফ্রেন্ডলি মনে হয়।

চ্যাটিং থেকে সরাসরি বন্ধুত্ব বা সম্পর্কে যাওয়ার ধাপ

বেশ কিছুদিন মেসেঞ্জারে কথা বলার পর আপনাদের মধ্যে একটা সুন্দর কমফোর্ট জোন তৈরি হয়। এই পর্যায়ে আপনি চাইলে সম্পর্কটাকে শুধু ফেসবুক বা মেসেঞ্জারের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে ফোন কল বা সরাসরি দেখা করার দিকে নিয়ে যেতে পারেন। তবে এর জন্য তাড়াহুড়ো করা একদমই চলবে না, খুব ধাপে ধাপে এগোতে হবে। মেসেঞ্জারে মেয়েদের সাথে কথা বলার নিয়ম সঠিকভাবে অনুসরণ করলে এই ট্রানজিশন বা পরিবর্তন খুব স্বাভাবিক ও সাবলীলভাবেই হয়ে যায়।

ভরসা ও বিশ্বাস অর্জন করা

অচেনা কাউকে নিজের ফোন নম্বর দেওয়া বা তার সাথে দেখা করা যেকোনো মেয়ের জন্যই একটা বড় ব্যাপার। তাই আগে তাকে বুঝতে দিন যে আপনি একজন নিরাপদ এবং ভরসাযোগ্য মানুষ। যখন সে নিজে থেকে আপনার সাথে তার জীবনের ব্যক্তিগত জিনিসগুলো শেয়ার করতে শুরু করবে, বুঝবেন সে আপনার ওপর ভরসা করছে।

দেখা করার বা কল করার প্রস্তাব দেওয়ার সঠিক সময়

যখন দেখবেন আপনারা প্রতিদিন নিয়ম করে অনেকক্ষণ কথা বলছেন এবং দুজনেই বিষয়টা উপভোগ করছেন, তখন খুব ক্যাজুয়ালভাবে ফোন কলের প্রস্তাব দিতে পারেন। বলতে পারেন, “টাইপ করতে করতে হাত ব্যথা হয়ে গেলো, তুমি ফ্রি থাকলে কল করতে পারি?” সরাসরি দেখা করার ক্ষেত্রেও কোনো কমন জায়গায় কফি খাওয়ার সাধারণ প্রস্তাব দিয়ে শুরু করতে পারেন।

চ্যাটিং থেকে পরবর্তী ধাপে যাওয়ার উপায়

ধাপ কখন করবেন কীভাবে করবেন
অডিও কল যখন মেসেজে দীর্ঘক্ষণ টানা কথা হচ্ছে। “ভয়েস নোট পাঠাই? বা কল করব ২ মিনিটের জন্য?”
ফোন নম্বর চাওয়া যখন সে মেসেঞ্জারে খুব কমফোর্টেবল। “আমি ফেসবুকে কম থাকি, চাইলে হোয়াটসঅ্যাপে কানেক্টেড থাকতে পারি।” ​
দেখা করার প্রস্তাব যখন দুজনেই একই শহরের এবং ফ্রি আছেন। “ওই ক্যাফের কফিটা খুব ভালো, একদিন চাইলে টেস্ট করতে যেতে পারি দুজনে।”
বন্ধুত্ব গাঢ় করা যখন একে অপরের পছন্দ-অপছন্দ জানেন। তার জন্মদিন বা স্পেশাল দিনে তাকে উইশ করা বা ছোট সারপ্রাইজ দেওয়া ​।

মেসেঞ্জারে মেয়েদের সাথে কথা বলার নিয়ম

সব শেষে একটা কথাই মাথায় রাখবেন, অনলাইনে কথা বলার সময় আসল বা রিয়েল থাকাটা সবচেয়ে জরুরি। অন্য কাউকে নকল করতে গেলে খুব সহজেই ধরা পড়ে যাবেন। মেসেঞ্জারে মেয়েদের সাথে কথা বলার নিয়ম বলতে আসলে বোঝায় ভদ্রতা, সম্মান এবং সুন্দর উপস্থিত বুদ্ধির ব্যবহার। অপর দিকের মানুষটিকে তার প্রাপ্য সম্মান দিন, তার কথায় গুরুত্ব দিন এবং নিজের সেন্স অফ হিউমার বজায় রাখুন। দেখবেন, খুব সাধারণ একটা মেসেজ থেকেই হয়তো অসাধারণ কোনো বন্ধুত্বের গল্প শুরু হয়ে গেছে। কাউকে ইমপ্রেস করার জন্য নিজেকে পরিবর্তন না করে, নিজের সেরা দিকগুলো তার সামনে তুলে ধরাই হলো সবচেয়ে ভালো কৌশল।

About Author
Ishita Ganguly

ঈশিতা গাঙ্গুলী ইন্দিরা গান্ধী ন্যাশনাল ওপেন ইউনিভার্সিটি (IGNOU) থেকে স্নাতক। তিনি একজন উদ্যমী লেখক এবং সাংবাদিক, যিনি সমাজের বিভিন্ন দিক নিয়ে গভীর বিশ্লেষণ ও অন্তর্দৃষ্টি প্রদান করে থাকেন। ঈশিতার লেখার ধরন স্পষ্ট, বস্তুনিষ্ঠ এবং তথ্যবহুল, যা পাঠকদের মুগ্ধ করে। তার নিবন্ধ ও প্রতিবেদনের মাধ্যমে তিনি সমাজের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে সামনে আনেন এবং পাঠকদের চিন্তা-চেতনার পরিসরকে বিস্তৃত করতে সহায়তা করেন। সাংবাদিকতার জগতে তার অটুট আগ্রহ ও নিষ্ঠা তাকে একটি স্বতন্ত্র পরিচিতি দিয়েছে, যা তাকে ভবিষ্যতে আরও সাফল্যের দিকে নিয়ে যাবে।