জয়েন করুন

দৌড়ের সময় হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি: সতর্কতা ও প্রতিরোধের উপায়

Running heart attack risk causes: দৌড় একটি জনপ্রিয় ব্যায়াম হলেও, এর সময় হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি থাকে। বিশেষ করে ম্যারাথন রানারদের মধ্যে এই ঝুঁকি বেশি দেখা যায়। তবে সঠিক প্রস্তুতি ও…

avatar
Written By : Debolina Roy
Updated Now: December 21, 2024 10:36 AM
বিজ্ঞাপন

Running heart attack risk causes: দৌড় একটি জনপ্রিয় ব্যায়াম হলেও, এর সময় হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি থাকে। বিশেষ করে ম্যারাথন রানারদের মধ্যে এই ঝুঁকি বেশি দেখা যায়। তবে সঠিক প্রস্তুতি ও সতর্কতা অবলম্বন করে এই ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। আসুন জেনে নেওয়া যাক দৌড়ের সময় হার্ট অ্যাটাকের কারণ এবং তা প্রতিরোধের উপায়।

দৌড়ের সময় হার্ট অ্যাটাকের কারণ

দীর্ঘ সময় ধরে দৌড়ানোর সময় শরীরের উপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে, যা হৃদযন্ত্রের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে ম্যারাথন রানারদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি বেশি দেখা যায়। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় ২৫% ম্যারাথন রানার “রানার্স কার্ডিওমায়োপ্যাথি” নামক একটি অবস্থার ঝুঁকিতে থাকেন। এর ফলে হৃদপিণ্ডের ডান অলিন্দ ও ডান নিলয় প্রসারিত হয়ে যায় এবং রক্তে ট্রোপোনিন ও বি-টাইপ ন্যাট্রিউরেটিক পেপটাইডের মাত্রা বেড়ে যায়।

প্রধান কারণগুলি:

  1. অতিরিক্ত চাপ: দীর্ঘ সময় ধরে দৌড়ানোর ফলে হৃদপিণ্ডের উপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে।
  2. ডিহাইড্রেশন: দৌড়ের সময় পর্যাপ্ত পানি না খাওয়ার ফলে শরীরে জলশূন্যতা দেখা দিতে পারে।
  3. ইলেক্ট্রোলাইট অসাম্য: ঘাম দিয়ে শরীর থেকে লবণ ও খনিজ পদার্থ বের হয়ে যায়, যা ইলেক্ট্রোলাইট অসাম্য সৃষ্টি করতে পারে।
  4. তাপাঘাত: গরম আবহাওয়ায় দৌড়ানোর ফলে শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যেতে পারে।
  5. অজানা হৃদরোগ: অনেক সময় অজানা হৃদরোগ থাকতে পারে যা দৌড়ের সময় প্রকাশ পায়।

    হার্ট ব্লক অপারেশন: খরচ থেকে শুরু করে সম্পূর্ণ গাইড

হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমানোর উপায়

যদিও দৌড়ের সময় হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি রয়েছে, তবে সঠিক পদক্ষেপ নিয়ে এই ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। নিচে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দেওয়া হল:

1. নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা

দৌড়ের আগে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে যদি আপনি 45 বছরের বেশি বয়সী পুরুষ বা 55 বছরের বেশি বয়সী মহিলা হন, তাহলে নিয়মিত হৃদরোগ পরীক্ষা করানো উচিত। এর মধ্যে রয়েছে:

  • ইসিজি
  • 2D ইকোকার্ডিওগ্রাফি
  • ট্রেডমিল স্ট্রেস টেস্ট
  • স্ট্রেস থ্যালিয়াম পরীক্ষা

2. ধীরে ধীরে অভ্যাস গড়ে তোলা

একেবারে লম্বা দূরত্বের দৌড় শুরু না করে ধীরে ধীরে দৌড়ের দূরত্ব বাড়ানো উচিত। এতে শরীর ধীরে ধীরে অভ্যস্ত হয় এবং হঠাৎ করে চাপ পড়ে না।

3. পর্যাপ্ত হাইড্রেশন

দৌড়ের আগে, সময় এবং পরে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করা জরুরি। এতে ডিহাইড্রেশন এড়ানো যায় এবং ইলেক্ট্রোলাইট ভারসাম্য বজায় থাকে।

4. সঠিক খাদ্যাভ্যাস

হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সঠিক খাদ্যাভ্যাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর জন্য নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলি নেওয়া যেতে পারে:

  • বেশি করে আঁশযুক্ত খাবার খাওয়া
  • স্যাচুরেটেড ফ্যাট কমানো
  • লবণের পরিমাণ কমানো
  • ভিটামিন ও মিনারেল সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া
  • অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহণ এড়ানো

5. নিয়মিত ব্যায়াম

শুধু দৌড় নয়, অন্যান্য ব্যায়ামও নিয়মিত করা উচিত। এতে হৃদপিণ্ডের কার্যক্ষমতা বাড়ে এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্য ভালো থাকে।

6. স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট

মানসিক চাপ হৃদরোগের একটি বড় কারণ। তাই নিয়মিত ধ্যান, যোগব্যায়াম বা অন্য কোনো পদ্ধতিতে স্ট্রেস ম্যানেজ করা উচিত।

7. ধূমপান ত্যাগ

ধূমপান হৃদরোগের একটি প্রধান কারণ। তাই দৌড়ের পাশাপাশি ধূমপান ত্যাগ করা অত্যন্ত জরুরি

দৌড়ের সময় সতর্কতা

দৌড়ের সময় নিম্নলিখিত সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত:

  1. শরীরের প্রতি মনোযোগী হওয়া: দৌড়ের সময় শরীরের কোনো অস্বাভাবিক লক্ষণ দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে থামতে হবে।
  2. উষ্ণায়ন ও শীতলীকরণ: দৌড়ের আগে উষ্ণায়ন এবং পরে শীতলীকরণ ব্যায়াম করা জরুরি।
  3. হার্ট রেট মনিটরিং: দৌড়ের সময় হার্ট রেট মনিটর ব্যবহার করে হৃদস্পন্দন নিয়ন্ত্রণে রাখা উচিত।
  4. আবহাওয়া বিবেচনা: অত্যধিক গরম বা ঠান্ডা আবহাওয়ায় দৌড় এড়ানো উচিত।
  5. সঠিক পোশাক: আরামদায়ক ও আবহাওয়া উপযোগী পোশাক পরা উচিত।

    হার্ট ব্লক: আপনার হৃদয় কি বিপদে? জানুন সতর্ক সংকেত ও প্রতিকার।

পরিসংখ্যান

দৌড়ের সময় হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান:

  • প্রতি বছর যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় 805,000 জন হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হন।
  • এর মধ্যে 605,000 প্রথমবারের হার্ট অ্যাটাক এবং 200,000 পুনরাবৃত্ত হার্ট অ্যাটাক।
  • প্রতি 40 সেকেন্ডে একজন আমেরিকান হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হন।
  • ম্যারাথন রানারদের মধ্যে প্রায় 25% “রানার্স কার্ডিওমায়োপ্যাথি”-র ঝুঁকিতে থাকেন।

দৌড় একটি উপকারী ব্যায়াম হলেও, এর সময় হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি থাকে। তবে সঠিক প্রস্তুতি, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং সতর্কতা অবলম্বন করে এই ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। নিজের শরীরের প্রতি মনোযোগী থাকা এবং কোনো অস্বাভাবিক লক্ষণ দেখা দিলে তৎক্ষণাৎ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও নিয়মিত ব্যায়ামের মাধ্যমে আমরা একটি সুস্থ হৃদয় বজায় রাখতে পারি এবং দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে পারি।

আরও পড়ুন

পাছায় ফোড়া হওয়ার প্রধান কারণ: লজ্জা নয়, আগে জানুন কোথায় ভুল হচ্ছে! নাক দিয়ে রক্ত পড়া কি ক্যান্সারের লক্ষণ? ভয় পাবেন না, আগে লক্ষণগুলো বুঝুন গ্যাসের ঔষধ বেশি খেলে কি হয়? “একটা খেলেই আরাম” ভাবছেন, শরীর কিন্তু চুপচাপ হিসেব রাখছে Hantavirus কতটা ছোঁয়াচে? কীভাবে ছড়ায়? লক্ষণ কী কী? হেঁশেলে দাঁড়িয়ে কাজ করতে গিয়ে কোমর-হাঁটু ব্যথা? জানুন ৫ উপায়