রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯০১ সালে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় যে শান্তিনিকেতন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, তা শুধুমাত্র একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছিল না – এটি ছিল সংকীর্ণ জাতীয়তাবাদ এবং জাতিগত উগ্রতার বিরুদ্ধে এক প্রতিবাদী মঞ্চ। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া এই প্রতিষ্ঠানটি আজও প্রাসঙ্গিক, যেখানে ১১,৪২৮ জন শিক্ষার্থী এবং ৮২৮ জন শিক্ষক বিশ্বমানবতার আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে কাজ করে চলেছেন। শান্তিনিকেতন কেবল ভারতের ৪১তম ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট নয়, এটি বিশ্বের প্রথম জীবন্ত ঐতিহ্যবাহী বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে পরিচিত।
শান্তিনিকেতনের গোড়াপত্তন ও দার্শনিক ভিত্তি
শান্তিনিকেতনের জন্ম হয়েছিল একটি স্বপ্ন থেকে। দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রথমে এই জমিটি ক্রয় করেন এবং ১৮৬৩ সালে এখানে ধ্যানমন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রথম ১৮৭৮ সালে মাত্র ১৭ বছর বয়সে শান্তিনিকেতন পরিদর্শন করেন। তারপর ১৯০১ সালে, তিনি এখানে একটি পরীক্ষামূলক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন যা পরবর্তীতে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হয়।
রবীন্দ্রনাথের শিক্ষাদর্শ ছিল প্রকৃতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তিনি বিশ্বাস করতেন যে শিক্ষা শুধুমাত্র বই এবং শ্রেণীকক্ষের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। প্রাচীন ভারতীয় গুরুকুল পদ্ধতির অনুপ্রেরণায়, শান্তিনিকেতন গড়ে উঠেছিল একটি আশ্রম হিসেবে যেখানে শিক্ষার্থীরা প্রকৃতির কোলে বসে জ্ঞান অর্জন করত। ১৯২১ সালে বিশ্বভারতী প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এই স্বপ্ন আরও বিস্তৃত হয়।
বিশ্বভারতীর প্রতিষ্ঠা এবং উদ্দেশ্য
১৯২১ সালে প্রতিষ্ঠিত বিশ্বভারতী ছিল রবীন্দ্রনাথের সবচেয়ে উচ্চাভিলাষী প্রকল্প। এটি ছিল একটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র যেখানে শিল্প, ভাষা, মানবিকতা এবং সঙ্গীত চর্চা হত। ১৯২২ সালে, বিশ্বভারতী একটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে উদ্বোধন করা হয়। বিভিন্ন ভবন প্রতিষ্ঠিত হয় – হিন্দি ভবন, চীনা ভবন, বিদ্যা ভবন, কলা ভবন এবং সংগীত ভবন।
১৯৫১ সালে ভারত সরকারের একটি আইনের মাধ্যমে বিশ্বভারতী একটি কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় এবং জাতীয় গুরুত্বের প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃতি পায়। আজ এই প্রতিষ্ঠানে ১,১২৯ একর জমিতে দুটি ক্যাম্পাস রয়েছে – শান্তিনিকেতন এবং শ্রীনিকেতন। বর্তমানে এখানে ৪২টি স্নাতক এবং ১২টি স্নাতকোত্তর কোর্স পরিচালিত হয়।
বিশ্বভারতীর দরজা পর্যটকদের জন্য খুলে গেল: ছয় বছর পর শান্তিনিকেতনে নতুন অধ্যায়
জাতীয় সংকীর্ণতার বিরুদ্ধে রবীন্দ্রনাথের অবস্থান
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন উগ্র জাতীয়তাবাদের কঠোর সমালোচক। তিনি বিশ্বাস করতেন যে সংকীর্ণ জাতীয়তাবাদ মানবতার বৃহত্তর আদর্শকে ক্ষুণ্ণ করে এবং হিংসা ও অসহিষ্ণুতার দিকে পরিচালিত করে। তাঁর দৃষ্টিতে, পাশ্চাত্যের জাতীয়তাবাদ ছিল রাজনীতি এবং বাণিজ্যের একটি সংগঠন যা ভারতীয় ঐতিহ্যের আত্ম-স্বায়ত্তশাসন, বহুত্ববাদ এবং ধর্মীয় সহিষ্ণুতার বিরোধী।
১৯১৬ সালের শরৎকালে, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের দুই বছর পর, রবীন্দ্রনাথ লস অ্যাঞ্জেলেসে ছিলেন। ১১ অক্টোবর তাঁর পুত্র রথীন্দ্রনাথকে লেখা একটি চিঠিতে তিনি লিখেছিলেন, “শান্তিনিকেতন স্কুলকে ভারত এবং বিশ্বের মধ্যে সংযোগকারী সূত্র করে তুলতে হবে। আমাদের সেখানে বিশ্বের সকল মানুষের সাথে সম্পর্কিত মানবতাবাদী গবেষণার একটি কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে।”
বিশ্বমানবতার আদর্শ
রবীন্দ্রনাথ বিশ্বাস করতেন সার্বজনীনতা এবং মানবিক মূল্যবোধে। তাঁর কসমোপলিটানিজম চেয়েছিল মানবিক মূল্যবোধকে জাতীয় সীমানা থেকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিস্তৃত করতে। এই কারণেই জওহরলাল নেহরু তাঁকে “ভারতের মহান মানবতাবাদী” বলে অভিহিত করেছিলেন। তাঁর গীতাঞ্জলি একটি গভীরভাবে কসমোপলিটান গ্রন্থ যা আধ্যাত্মিক সার্বজনীনতায় পূর্ণ।
রবীন্দ্রনাথ তাঁর লেখায় জাতিগত এবং ধর্মীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি যুক্তি দিয়েছিলেন যে আধুনিক ভারতের জাতীয়তার দাবি মৌলিকভাবে ত্রুটিপূর্ণ কারণ ভারত সেই ঐক্যবদ্ধ চেতনা ধরে রাখতে পারেনি যা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বিভিন্ন মানুষকে একসাথে রেখেছিল। তিনি বিশ্বাস করতেন নিঃস্বার্থ এবং আত্মত্যাগী জাতীয়তাবাদের ওপর ভিত্তি করে একটি আন্তর্জাতিক কমনওয়েলথে।
শান্তিনিকেতনের শিক্ষাব্যবস্থা এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য
শান্তিনিকেতনের শিক্ষাব্যবস্থা ছিল অনন্য এবং বৈপ্লবিক। এখানে শিক্ষা প্রদান করা হত বৃক্ষতলে, খোলা আকাশের নিচে। শিক্ষার্থীরা প্রকৃতির সাথে একাত্ম হয়ে শিখত, যা তাদের মনে গভীর প্রভাব ফেলত।
রবীন্দ্রনাথ শান্তিনিকেতনে বেশ কিছু সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছিলেন। কলাভবন ছিল চারুকলা বিদ্যালয়, সংগীতভবন ছিল সংগীত বিদ্যালয়। এছাড়াও শ্রীনিকেতন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল গ্রামীণ উন্নয়ন এবং সামাজিক কাজের জন্য।
কলা ও সংস্কৃতির সমন্বয়
শান্তিনিকেতনে শিল্প, সংগীত এবং সাহিত্য ছিল শিক্ষার অবিচ্ছেদ্য অংশ। রবীন্দ্রনাথ বিশ্বাস করতেন যে শিল্পকলা মানুষের আবেগজনিত বিকাশে সহায়তা করে এবং মানুষকে মানবিক করে তোলে। শান্তিনিকেতনে বসন্ত উৎসব এবং পৌষ মেলার মতো অনুষ্ঠানগুলি এই সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রমাণ।
বিশ্বভারতীতে প্রতিষ্ঠিত চীনা ভবন এবং জাপানি ভবনের মতো প্রতিষ্ঠান এশিয়ার সাথে ভারতের প্রাচীন সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত করেছিল। রবীন্দ্রনাথ ঔপনিবেশিকতার দ্বারা প্রবর্তিত ইউরোকেন্দ্রিকতাকে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন এবং এশিয়া ও আফ্রিকার সাথে ভারতের সম্পর্ককে শক্তিশালী করার চেষ্টা করেছিলেন।
ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের স্বীকৃতি
২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে শান্তিনিকেতন ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের তালিকায় স্থান পায়। এটি ভারতের ৪১তম ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে। ইউনেস্কো শান্তিনিকেতনকে ক্রাইটেরিয়া (iv) এবং (vi) এর অধীনে স্বীকৃতি দিয়েছে।
ক্রাইটেরিয়া (iv) এর অধীনে, শান্তিনিকেতনকে বিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকের একটি ব্যতিক্রমী শিক্ষাগত এবং সাংস্কৃতিক ল্যান্ডস্কেপ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে যা মানব চিন্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়কে চিত্রিত করে। শান্তিনিকেতন হল ঐতিহাসিক ভবন, ল্যান্ডস্কেপ এবং উদ্যান, প্যাভিলিয়ন, শিল্পকর্ম এবং অব্যাহত কার্যক্রমের একটি সমাবেশ।
বিশ্বভারতীর নতুন অধ্যায়: প্রাক্তনী প্রবীর কুমার ঘোষের হাতে স্থায়ী উপাচার্যের দায়িত্ব
বিশ্বের প্রথম জীবন্ত ঐতিহ্যবাহী বিশ্ববিদ্যালয়
বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বের প্রথম “জীবন্ত ঐতিহ্যবাহী বিশ্ববিদ্যালয়” হিসেবে ইউনেস্কো থেকে স্বীকৃতি পাওয়ার প্রত্যাশিত ছিল। সাধারণত ইউনেস্কোর ঐতিহ্য তালিকায় স্থান পায় মৃত স্মৃতিস্তম্ভ বা ধ্বংসাবশেষ। কিন্তু প্রথমবারের মতো একটি কার্যকরী এবং জীবন্ত বিশ্ববিদ্যালয় এই সম্মান পেয়েছে।
ইউনেস্কো ওয়েবসাইট অনুসারে, “১৯০১ সালে পশ্চিমবঙ্গের গ্রামীণ অঞ্চলে প্রখ্যাত কবি এবং দার্শনিক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর দ্বারা প্রতিষ্ঠিত শান্তিনিকেতন একটি আবাসিক বিদ্যালয় এবং প্রাচীন ভারতীয় ঐতিহ্য এবং ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক সীমানা অতিক্রম করে মানবতার ঐক্যের দৃষ্টিভঙ্গির ওপর ভিত্তি করে শিল্পের কেন্দ্র ছিল।”
শান্তিনিকেতনের বর্তমান অবস্থা এবং পরিসংখ্যান
আজকের দিনে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় একটি সমৃদ্ধ প্রতিষ্ঠান। এখানে ১১,৪২৮ জন শিক্ষার্থী পূর্ণকালীন, খণ্ডকালীন এবং দূরশিক্ষা পদ্ধতিতে অধ্যয়ন করছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট ৮২৮ জন শিক্ষক নিযুক্ত আছেন, যা শিক্ষার্থী-শিক্ষক অনুপাত ১৪:১ করে।
২০২৪ সালের প্লেসমেন্ট তথ্য অনুযায়ী, মোট ৯১৮ জন শিক্ষার্থী স্নাতকোত্তর কোর্স সম্পন্ন করেছেন এবং তাদের মধ্যে ১০৬ জন চাকরি পেয়েছেন। মধ্যম গড় বেতন প্যাকেজ ছিল ৬,২০,০০০ টাকা। এছাড়া ৭৭ জন শিক্ষার্থী উচ্চতর শিক্ষার জন্য যোগ দিয়েছেন।
ক্যাম্পাস এবং সুবিধাদি
বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের ১,১২৯ একর জমিতে বিস্তৃত ক্যাম্পাস রয়েছে। এখানে ১৪টি হোস্টেল রয়েছে যেখানে শিক্ষার্থীরা থাকতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি ক্যাম্পাস – শান্তিনিকেতন এবং শ্রীনিকেতন – প্রতিটিতে আলাদা শিক্ষা এবং গবেষণা কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
শান্তিনিকেতনে বিভিন্ন ভবন যেমন হিন্দি ভবন, চীনা ভবন, বিদ্যা ভবন, কলা ভবন এবং সংগীত ভবন শিক্ষার উৎকর্ষতা এবং সাংস্কৃতিক অধ্যয়নের প্রতিনিধিত্ব করে। এই ভবনগুলি প্রতিষ্ঠার মূল নীতির ওপর ভিত্তি করে তাদের শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
শান্তিনিকেতনের বৈশ্বিক প্রভাব
শান্তিনিকেতন শুধুমাত্র ভারতের জন্য নয়, সমগ্র বিশ্বের জন্য একটি অনুপ্রেরণা। রবীন্দ্রনাথের শিক্ষাদর্শ এবং মানবতাবাদী দৃষ্টিভঙ্গি আজও প্রাসঙ্গিক। যখন বিশ্ব ক্রমবর্ধমান জাতীয়তাবাদ এবং বিভাজনের মুখোমুখি হচ্ছে, শান্তিনিকেতনের বার্তা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
রবীন্দ্রনাথের বিশ্বাস ছিল যে শিক্ষা মানুষকে সংকীর্ণতা থেকে মুক্ত করবে এবং তাদের বিশ্বনাগরিক করে তুলবে। শান্তিনিকেতন এই দৃষ্টিভঙ্গির জীবন্ত প্রমাণ। এখানে বিভিন্ন দেশ, ধর্ম এবং সংস্কৃতির শিক্ষার্থীরা একসাথে পড়াশোনা করে, যা বিশ্বভ্রাতৃত্বের একটি উদাহরণ।
আধুনিক বিশ্বে শান্তিনিকেতনের প্রাসঙ্গিকতা
আজকের পৃথিবীতে যেখানে পরিচয়ভিত্তিক রাজনীতি এবং জাতিগত বিভাজন বাড়ছে, শান্তিনিকেতনের বার্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রবীন্দ্রনাথ শিখিয়েছিলেন যে সত্যিকারের শক্তি আসে ভালবাসার নৈতিক শক্তি থেকে এবং আধ্যাত্মিক ঐক্যের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে। তিনি বলেছিলেন যে যাদের বিদেশীদের প্রতি সবচেয়ে কম শত্রুতা রয়েছে এবং যাদের অন্যদের অবস্থানে নিজেদের স্থাপন করার সহানুভূতিশীল অন্তর্দৃষ্টি রয়েছে, তারাই আমাদের সামনে আসন্ন যুগে তাদের স্থায়ী স্থান নিতে সবচেয়ে উপযুক্ত।
শান্তিনিকেতনের শিক্ষাব্যবস্থা আজও অনুসরণীয়। প্রকৃতির সাথে সংযোগ, শিল্পকলার চর্চা এবং সর্বোপরি মানবিক মূল্যবোধের শিক্ষা – এই সবকিছুই আজকের শিক্ষাব্যবস্থায় অপরিহার্য।
শান্তিনিকেতন শুধুমাত্র একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, এটি একটি জীবনাদর্শ এবং মানবতার পাঠশালা। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যে স্বপ্ন দেখেছিলেন – “যেখানে বিশ্ব একটি একক নীড় তৈরি করবে” – শান্তিনিকেতন সেই স্বপ্নের মূর্ত প্রতীক। ২০২৩ সালে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের স্বীকৃতি শান্তিনিকেতনের বৈশ্বিক গুরুত্বকে আরও প্রতিষ্ঠিত করেছে। আজকের বিভাজিত বিশ্বে, যেখানে জাতীয় সংকীর্ণতা এবং উগ্রতা বাড়ছে, শান্তিনিকেতনের বিশ্বমানবতার বার্তা আমাদের পথপ্রদর্শক হতে পারে। এই প্রতিষ্ঠান প্রমাণ করে যে শিক্ষা শুধুমাত্র জ্ঞান অর্জন নয়, এটি মানুষকে মানবিক এবং বিশ্বনাগরিক করে তোলার একটি মাধ্যম। রবীন্দ্রনাথের দর্শন এবং শান্তিনিকেতনের অবদান ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অমূল্য সম্পদ হয়ে থাকবে।











