Santoshi Ma Puja Samagri List

সন্তোষী মায়ের পূজার ফর্দ: কী কী লাগবে, কীভাবে করবেন, সব একজায়গায়

Santoshi Ma Puja Samagri List: শুক্রবার এলেই অনেক বাড়িতে সন্তোষী মায়ের নাম শোনা যায়। কেউ ব্রত রাখেন, কেউ সরল ভাবে পূজা করেন, আবার কেউ প্রথমবার করতে গিয়ে একটাই প্রশ্নে আটকে যান—সন্তোষী মায়ের পূজার ফর্দে ঠিক কী কী লাগে? সমস্যা হল,…

Updated Now: April 7, 2026 10:32 AM
বিজ্ঞাপন

Santoshi Ma Puja Samagri List: শুক্রবার এলেই অনেক বাড়িতে সন্তোষী মায়ের নাম শোনা যায়। কেউ ব্রত রাখেন, কেউ সরল ভাবে পূজা করেন, আবার কেউ প্রথমবার করতে গিয়ে একটাই প্রশ্নে আটকে যান—সন্তোষী মায়ের পূজার ফর্দে ঠিক কী কী লাগে? সমস্যা হল, বেশিরভাগ জায়গায় কেবল দু-চারটি উপকরণের নাম লেখা থাকে, কিন্তু পূজার আসল প্রস্তুতি, ভোগ, ব্রতের নিয়ম, এবং কী এড়াতে হবে, সেসব পরিষ্কার থাকে না।

এই কারণেই এখানে এমনভাবে পুরো বিষয়টি সাজানো হয়েছে, যাতে আপনি নতুন হন বা বহুদিন ধরে পূজা করে থাকুন—দু’ক্ষেত্রেই উপকার পান। শুধু উপকরণের তালিকা নয়, কোন জিনিস কেন লাগে, কোনটি অপরিহার্য, কোনটি থাকলে ভালো, আর ঘরে বসে সহজভাবে কীভাবে সন্তোষী মায়ের পূজা করবেন—সবকিছু ধাপে ধাপে দেওয়া হল।

আপনার উদ্দেশ্য যদি হয় ভক্তিভরে, পরিষ্কার নিয়মে, অযথা বাড়াবাড়ি ছাড়া পূজা করা, তাহলে এই গাইডটি শেষ পর্যন্ত পড়ুন। এতে পূজার বাস্তব প্রস্তুতি অনেক সহজ হয়ে যাবে।

সন্তোষী মায়ের পূজার মাহাত্ম্য সংক্ষেপে

সন্তোষী মা মূলত সন্তোষ, শান্তি, সংসারের মঙ্গল এবং মনোকামনা পূরণের প্রতীক হিসেবে পূজিতা হন। বিশেষ করে শুক্রবারে এই পূজা বা ব্রত পালন করার প্রথা বহু পরিবারে প্রচলিত। অনেক ভক্তের বিশ্বাস, সরল ভক্তি, নিয়ম মেনে উপবাস এবং নিষ্ঠার সঙ্গে ব্রত পালন করলে সংসারের অশান্তি কমে, মন স্থির হয় এবং জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসে।

এখানে একটা বিষয় মনে রাখা জরুরি—সন্তোষী মায়ের পূজায় জাঁকজমক সবচেয়ে বড় কথা নয়। বরং পরিষ্কার মন, পরিচ্ছন্নতা, নিয়ম, এবং নিষ্ঠা—এই চারটি বিষয়ই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাই উপকরণ কম হলেও ভক্তিভাব ঠিক থাকলে পূজা সম্পূর্ণভাবেই করা যায়।

সন্তোষী মায়ের পূজার ফর্দ: কী কী লাগবে

নিচে পূজার উপকরণ এমনভাবে ভাগ করে দেওয়া হল, যাতে কেনাকাটা করতে বা পূজার থালা সাজাতে আপনার সুবিধা হয়।

অপরিহার্য উপকরণ

  • সন্তোষী মায়ের ছবি বা মূর্তি
  • পরিষ্কার আসন বা চৌকি
  • লাল বা হলুদ কাপড়
  • ঘট বা জলভরা পাত্র
  • আমপাতা বা পঞ্চপল্লব (যদি পাওয়া যায়)
  • নারকেল
  • সিঁদুর
  • হলুদ
  • চন্দন
  • ধূপ
  • প্রদীপ
  • তুলোর বাতি
  • ঘি বা সরষের তেল
  • ফুল
  • বেলপাতা না থাকলেও চলে, তবে পরিষ্কার পুষ্প অবশ্যই রাখুন
  • অক্ষত চাল
  • গুড়
  • ছোলা বা ভেজানো কাবুলি/দেশি ছোলা
  • ভোগের জন্য ফল
  • প্রসাদের থালা
  • পান, সুপারি
  • দক্ষিণা

যে উপকরণগুলি থাকলে পূজো আরও সুন্দরভাবে হয়

  • মালা
  • শঙ্খ
  • ঘণ্টা
  • ধুনো
  • পঞ্চামৃত
  • মিষ্টি
  • কলস সাজানোর জন্য সুতো বা মৌলি
  • আলপনা বা রঙোলি
  • ব্রতকথার বই

ভোগ ও প্রসাদের জন্য বিশেষ উপকরণ

সন্তোষী মায়ের পূজায় গুড় ও ছোলা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মানা হয়। বহু ভক্ত এই দুই উপকরণকেই প্রধান প্রসাদ হিসেবে নিবেদন করেন। এর সঙ্গে ফল, কলা, আপেল, নাড়ু, মুড়কি, খেজুর, বা ঘরোয়া নিরামিষ মিষ্টান্ন রাখা যেতে পারে।

অনেক পরিবারে সরল ভোগ দেওয়া হয়—যেমন গুড়, ভেজানো ছোলা, কলা এবং জল। আবার কেউ কেউ সামর্থ্য অনুযায়ী আরও কিছু ফল বা মিষ্টি যোগ করেন। এখানে মূল কথা আয়োজনের বড়সড়তা নয়, আন্তরিকতা।

সন্তোষী মায়ের পূজার ফর্দ এক নজরে

উপকরণের নামকেন লাগেঅবশ্যই দরকার?
মায়ের ছবি/মূর্তিপূজার প্রধান আরাধ্য রূপহ্যাঁ
ফুলঅর্পণ ও ভক্তির চিহ্নহ্যাঁ
ধূপ ও প্রদীপপবিত্রতা ও আরতিহ্যাঁ
গুড়বিশেষ প্রসাদহ্যাঁ
ছোলাবিশেষ প্রসাদহ্যাঁ
ফলভোগ নিবেদনহ্যাঁ
ঘট ও নারকেলপূজার শুদ্ধ আচারভালো হলে রাখুন
পান-সুপারিপূজার সমাপ্তি ও দক্ষিণাভালো হলে রাখুন
ব্রতকথার বইব্রতের কাহিনি পাঠঅত্যন্ত উপকারী

পূজার আগে কীভাবে প্রস্তুতি নেবেন

শুধু ফর্দ জোগাড় করলেই পূজা সম্পূর্ণ হয় না। আগে থেকে একটু গোছানো প্রস্তুতি নিলে পূজার সময় অযথা দৌড়ঝাঁপ করতে হয় না।

১. পূজার জায়গা পরিষ্কার করুন

ঘরের পূর্ব, উত্তর বা পরিচ্ছন্ন যে কোনও শান্ত জায়গায় পূজার আসন তৈরি করুন। চৌকির উপর লাল বা হলুদ কাপড় বিছিয়ে মায়ের ছবি বা মূর্তি বসান। অনেকে আলপনা দেন, কেউ একটি ছোট ফুলদানিও রাখেন। এতে পরিবেশ আরও পবিত্র ও মনোসংযোগের উপযোগী হয়।

২. উপকরণ আগে থেকে সাজিয়ে রাখুন

পূজার সময় মাঝপথে গুড়, ফুল, দেশলাই বা জল খুঁজতে গেলে ভক্তিভাব নষ্ট হয়। তাই একটি বড় থালায় সব উপকরণ আগে থেকে সাজিয়ে রাখুন। এটিই আপনার Practical (ব্যবহারিক) প্রস্তুতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

৩. নিজে পরিচ্ছন্ন থাকুন

সকালে স্নান করে পরিষ্কার পোশাক পরা ভালো। বিশেষ কোনও দামি পোশাকের দরকার নেই। পরিচ্ছন্ন, সাদামাটা, ভক্তিসংগত পোশাকই যথেষ্ট।

সন্তোষী মায়ের পূজা কীভাবে করবেন: ধাপে ধাপে সহজ পদ্ধতি

যারা প্রথমবার করছেন, তাঁদের জন্য এই অংশটি বিশেষ উপকারী। ঘরে বসেই খুব সহজভাবে পূজা করা যায়।

ধাপ ১: সংকল্প নিন

পূজা শুরু করার আগে মনে মনে সন্তোষী মায়ের নাম নিয়ে নিজের ও পরিবারের মঙ্গল কামনা করুন। কেউ যদি নির্দিষ্ট মনোকামনা নিয়ে ব্রত করেন, তাও শ্রদ্ধাভরে উচ্চারণ করতে পারেন। এটিই সংকল্প।

ধাপ ২: আসন ও দেবী প্রতিষ্ঠা

মায়ের ছবি বা মূর্তি চৌকির উপর স্থাপন করুন। সামনে ঘট বসাতে চাইলে জলভরা ঘটের উপর আমপাতা ও নারকেল রাখুন। তারপর সিঁদুর, চন্দন, ফুল দিয়ে দেবীকে প্রণাম করুন।

ধাপ ৩: ধূপ-প্রদীপ জ্বালান

ধূপ ও প্রদীপ জ্বালিয়ে পূজাস্থান পবিত্র করুন। অনেকে এই সময় ঘণ্টা বাজান বা শঙ্খধ্বনি করেন। এতে পূজার পরিবেশ আরও মনোসংযোগী হয়।

ধাপ ৪: পুষ্পাঞ্জলি ও নিবেদন

ফুল, অক্ষত চাল, সিঁদুর, চন্দন, ফল, গুড়, ছোলা এবং অন্যান্য প্রসাদ নিবেদন করুন। এখানে একটি কথা খুবই প্রচলিত—সন্তোষী মায়ের পূজায় ভক্তি ও সন্তুষ্টিই মুখ্য। তাই যতটুকু সামর্থ্য, ততটুকুই যথেষ্ট।

ধাপ ৫: ব্রতকথা পাঠ বা শ্রবণ

সন্তোষী মায়ের ব্রতকথা এই পূজার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অনেক পরিবারে পূজার সময় ব্রতকথা পড়া হয়, আবার কেউ শোনেন। আপনি বই থেকে পড়তে পারেন বা বাড়ির বড়দের কাছ থেকেও শুনতে পারেন।

ধাপ ৬: আরতি

আরতির সময় প্রদীপ ঘুরিয়ে মায়ের নাম স্মরণ করুন। পরিবারের সবাই থাকলে একসঙ্গে আরতি করলে গৃহস্থ পরিবেশে এক ধরনের শান্ত ভক্তিময় আবহ তৈরি হয়।

ধাপ ৭: প্রসাদ বিতরণ

পূজা শেষে গুড়-ছোলা ও অন্যান্য প্রসাদ ভক্তদের মধ্যে বিলিয়ে দিন। অনেকে পরিবারের সদস্যদের প্রথমে দেন, তারপর প্রতিবেশী বা আত্মীয়দেরও ভাগ করে দেন।

শুক্রবারের ব্রত মানার নিয়ম

সন্তোষী মায়ের পূজা অনেকেই শুক্রবারের ব্রত হিসেবে পালন করেন। সব পরিবারে রীতি এক নয়, তবে কিছু প্রচলিত নিয়ম আছে যা অনেকেই মানেন।

উপবাস বা সংযম

কেউ নির্জলা উপবাস করেন, কেউ ফলাহার করেন, আবার কেউ নিরামিষ একবেলা খান। শরীরের অবস্থা দেখে নিয়ম নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। ভক্তি কখনও শরীরের ক্ষতির বিনিময়ে হওয়া উচিত নয়।

টক জাতীয় খাবার এড়ানো

সন্তোষী মায়ের ব্রতে টক খাবার না খাওয়ার রীতি খুব পরিচিত। অনেকে নিজেরাও টক খান না, আবার প্রসাদ বিতরণের সময়ও টক কিছু রাখা হয় না। এই নিয়মটি বহু ঘরোয়া প্রথায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে ধরা হয়।

নিয়মিততা বজায় রাখা

কেউ ৭ শুক্রবার, কেউ ১৬ শুক্রবার, আবার কেউ মনস্কামনা পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ব্রত পালন করেন। আপনার পরিবারে যে প্রথা মানা হয়, সেটি অনুসরণ করাই ভালো।

ভোগে কী দেবেন

প্রশ্নটি খুব সাধারণ, কিন্তু এর উত্তর নিয়েই সবচেয়ে বেশি বিভ্রান্তি হয়। সন্তোষী মায়ের পূজায় গুড় ও ছোলা প্রধান ভোগ হিসেবে মানা হয়। এর সঙ্গে আপনি রাখতে পারেন:

  • কলা
  • আপেল
  • পেয়ারা
  • নারকেল
  • মুড়কি
  • নাড়ু
  • খেজুর
  • চিঁড়ে বা মাখা প্রসাদ

এখানে খেয়াল রাখবেন, ভোগ যেন সৎ, পরিষ্কার, নিরামিষ এবং টকবিহীন হয়। অনেক বাড়িতে ছোট্ট একটি ভোগের থালাই যথেষ্ট ধরা হয়।

নতুনরা যে ভুলগুলো প্রায়ই করেন

প্রথমবার পূজা করতে গিয়ে কয়েকটি সাধারণ ভুল খুবই দেখা যায়। আগে থেকে জানলে এগুলি সহজেই এড়ানো সম্ভব।

শুধু ফর্দ জোগাড় করে নিয়ম না জানা

অনেকে ভাবেন, উপকরণ থাকলেই পূজা হয়ে যাবে। কিন্তু কোন জিনিস কখন লাগবে, ব্রতকথা পড়বেন কি না, ভোগে কী দেবেন—এসব না জানলে পূজার ধারাবাহিকতা নষ্ট হয়।

টক খাবারের নিয়ম ভুলে যাওয়া

সন্তোষী মায়ের ব্রতে এই নিয়মটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে ধরা হয়। অনেকেই ভোগে বা নিজের খাওয়ায় অসাবধানতাবশত টক খাবার রেখে ফেলেন। আগে থেকে একটি Check List (যাচাই তালিকা) রাখলে এই ভুল কমে।

অতিরিক্ত আয়োজনের চাপ নেওয়া

অনেক সময় দেখা যায়, মানুষ ভাবেন বড় আয়োজন না হলে পূজা সার্থক হবে না। আসলে তা নয়। ছোট, পরিচ্ছন্ন, নিয়মমাফিক, আন্তরিক পূজাই যথেষ্ট।

একটি সহজ ঘরোয়া উদাহরণ

ধরুন, আপনি কলকাতা, হাওড়া, বর্ধমান বা শিলিগুড়ির একটি সাধারণ বাড়িতে শুক্রবার সকালে পূজা করবেন। আপনার কাছে রয়েছে মায়ের ছবি, একটি ছোট চৌকি, কিছু ফুল, ধূপ, প্রদীপ, গুড়, ভেজানো ছোলা, কলা, সিঁদুর এবং একটি ব্রতকথার বই। এতেই খুব সুন্দরভাবে পূজা করা সম্ভব।

প্রথমে ঘর পরিষ্কার করে কাপড় বিছিয়ে ছবি বসান। ধূপ-প্রদীপ জ্বালান। ফুল, সিঁদুর, চন্দন দিন। গুড় ও ছোলা ভোগ দিন। তারপর ব্রতকথা পড়ুন, আরতি করুন, প্রসাদ বিতরণ করুন। দেখবেন, কোনও জটিলতা ছাড়াই শান্ত, সুন্দর, সম্পূর্ণ পূজা হয়ে গেল।

সন্তোষী মায়ের পূজার ফর্দ কেন আগে থেকে লিখে রাখা ভালো

অনেকেই পূজার আগের দিন বাজারে গিয়ে বুঝতে পারেন, কিছু না কিছু বাদ পড়ে গেছে। তাই হাতে লিখে বা মোবাইলে একটি List (তালিকা) করে রাখুন। এতে তিনটি সুবিধা হয়:

  • কিছু ভুলে যাওয়ার সম্ভাবনা কমে
  • অপ্রয়োজনীয় জিনিস কেনা বন্ধ হয়
  • পূজার দিন মন শান্ত থাকে

বিশেষ করে যদি আপনি প্রথমবার পূজা করেন, অথবা বাড়িতে একাই সব সামলান, তাহলে এই ছোট্ট প্রস্তুতিটা খুব উপকারী।

কী না করাই ভালো

  • অপরিষ্কার জায়গায় পূজা করবেন না
  • টক খাবার ভোগে রাখবেন না
  • তাড়াহুড়ো করে পূজা সারবেন না
  • অন্যের সঙ্গে তুলনা করে নিজের আয়োজনকে ছোট ভাববেন না
  • শুধু বাহ্যিকতা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে ভক্তিভাব হারাবেন না

সন্তোষী মায়ের পূজার ফর্দ: দ্রুত চেকলিস্ট

  • মায়ের ছবি বা মূর্তি
  • চৌকি ও কাপড়
  • ফুল
  • সিঁদুর, হলুদ, চন্দন
  • ধূপ, প্রদীপ, তুলো, তেল/ঘি
  • ঘট, জল, নারকেল
  • অক্ষত চাল
  • গুড়
  • ছোলা
  • ফল
  • পান, সুপারি, দক্ষিণা
  • ব্রতকথার বই

প্রায় জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

সন্তোষী মায়ের পূজায় সবচেয়ে জরুরি উপকরণ কোনগুলি?

সবচেয়ে জরুরি হল মায়ের ছবি বা মূর্তি, ফুল, ধূপ, প্রদীপ, সিঁদুর, গুড়, ছোলা এবং ভোগের জন্য কিছু ফল। এগুলি থাকলে খুব সহজভাবেই পূজা করা যায়। বড় আয়োজন বাধ্যতামূলক নয়, ভক্তিভাবটাই এখানে মুখ্য।

সন্তোষী মায়ের পূজায় টক খাবার কেন এড়ানো হয়?

প্রচলিত ব্রতরীতি অনুযায়ী, সন্তোষী মায়ের ব্রতে টক খাবার পরিহার করা হয়। বহু পরিবারে এটিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম হিসেবে মানা হয়। তাই ভোগে, প্রসাদে এবং অনেক ক্ষেত্রে ব্রতকারীর নিজের আহারেও টক রাখা হয় না।

ঘরে বসে কি সন্তোষী মায়ের পূজা করা যায়?

অবশ্যই করা যায়। ঘর পরিষ্কার রেখে, একটি ছোট পূজাস্থান তৈরি করে, প্রয়োজনীয় উপকরণ জোগাড় করে, ধাপে ধাপে খুব সহজভাবে পূজা করা সম্ভব। মন্দিরে যাওয়া বাধ্যতামূলক নয়, ঘরের আন্তরিক পূজাও সমানভাবে মান্য।

সন্তোষী মায়ের পূজার ভোগে কী দেওয়া সবচেয়ে ভালো?

গুড় ও ছোলা এই পূজার বিশেষ ভোগ হিসেবে বহুল প্রচলিত। এর সঙ্গে কলা, আপেল, নারকেল বা অন্য ফল রাখা যেতে পারে। ভোগ যেন টকবিহীন, নিরামিষ ও পরিষ্কারভাবে প্রস্তুত হয়, সেটাই বেশি জরুরি।

শুক্রবারের ব্রত না রেখে শুধু পূজা করলে হবে?

হ্যাঁ, অনেকেই শুধুমাত্র ভক্তিভরে পূজা করেন, আবার অনেকেই ব্রতসহ পালন করেন। দুই রীতিই বিভিন্ন পরিবারে দেখা যায়। তবে যদি ব্রত পালন করেন, তাহলে আপনার বাড়ির প্রচলিত নিয়ম বা গুরুজনদের পরামর্শ মেনে চলা ভালো।

প্রথমবার পূজা করলে ব্রতকথা পড়া কি দরকার?

ব্রতকথা পড়া বা শোনা এই পূজার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে ধরা হয়। প্রথমবার করলে এটি পড়লে পূজার ভাব, নিয়ম এবং আধ্যাত্মিক তাৎপর্য আরও ভালোভাবে বোঝা যায়। তাই সম্ভব হলে ব্রতকথা অবশ্যই অন্তর্ভুক্ত করুন।

শেষ কথা

সন্তোষী মায়ের পূজার ফর্দ মানে শুধু কিছু জিনিসের তালিকা নয়; এটি আসলে একটি ভক্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল প্রস্তুতির শুরু। কী কী লাগবে, কীভাবে সাজাবেন, কী ভোগ দেবেন, কোন নিয়ম মানবেন, আর কোন ভুল এড়াবেন—এসব আগে থেকে জানা থাকলে পূজার দিন মন অনেক বেশি শান্ত থাকে।

সবশেষে মনে রাখুন, সন্তোষী মায়ের পূজার আসল শক্তি বাহুল্যে নয়, সন্তোষে। সামর্থ্য অনুযায়ী, পরিচ্ছন্নভাবে, নিষ্ঠা রেখে, শান্ত মনে পূজা করাই সবচেয়ে বড় কথা। আপনি নতুন হোন বা বহুদিনের ভক্ত—এই গাইডটি দেখে পূজার ফর্দ তৈরি করলে কাজ অনেক সহজ হবে।