Saraswati Puja 2026: জ্ঞান, বিদ্যা ও সংগীতের দেবী মা সরস্বতীর আরাধনার পবিত্র তিথি ২০২৬ সালে ২৩ জানুয়ারি, শুক্রবার পালিত হবে । এবারের বসন্ত পঞ্চমী জ্যোতিষশাস্ত্র অনুসারে অত্যন্ত বিশেষ ও শুভ কারণ এই দিন তৈরি হচ্ছে বিরল ‘গজকেশরী যোগ’ যা ছাত্রছাত্রীদের জন্য অত্যন্ত মঙ্গলজনক । হিন্দু পঞ্জিকা অনুসারে মাঘ মাসের শুক্লপক্ষের পঞ্চমী তিথিতে এই পুজো অনুষ্ঠিত হয়, যা ঋতুরাজ বসন্তের আগমন বার্তা বহন করে ।
সরস্বতী পুজো ২০২৬-এর তারিখ ও তিথি
২০২৬ সালে সরস্বতী পুজো পড়েছে ২৩ জানুয়ারি, শুক্রবার (বাংলা ৯ মাঘ, ১৪৩২) । হিন্দু পঞ্জিকা অনুসারে উদয়া তিথি মেনে পুজো নির্ধারিত হয়, তাই যদিও পঞ্চমী তিথি ২২ জানুয়ারি রাত থেকে শুরু হচ্ছে, পুজো হবে ২৩ জানুয়ারিই । পঞ্চমী তিথি শুরু হবে ২৩ জানুয়ারি ২০২৬ ভোর ০২:২৮ মিনিটে এবং শেষ হবে ২৪ জানুয়ারি ২০২৬ রাত ০১:৪৬ মিনিটে । এই দিনটি ‘অবুঝা মুহূর্ত’ হিসেবে বিবেচিত, অর্থাৎ সম্পূর্ণ দিনটিই নতুন কাজ শুরু করার জন্য শুভ, বিশেষত শিক্ষা ও শিল্পকলা সংক্রান্ত কাজের জন্য ।
পুজোর শুভ মুহূর্ত ও সময়সূচী
সরস্বতী পুজোর জন্য সবচেয়ে শুভ সময় হলো পূর্বাহ্ণ কাল, অর্থাৎ সূর্যোদয় থেকে মধ্যাহ্নের মধ্যবর্তী সময় । ২৩ জানুয়ারি ২০২৬-এ বিভিন্ন শহরের জন্য পুজোর মুহূর্ত নিম্নরূপ:
বিভিন্ন শহরে সরস্বতী পুজোর সময়
| শহর | পুজোর মুহূর্ত |
|---|---|
| কলকাতা | সকাল ০৬:১৮ – পূর্বাহ্ন ১১:৪৮ |
| দিল্লি | সকাল ০৭:১৩ – দুপুর ১২:৩৩ |
| মুম্বাই | সকাল ০৭:১৫ – দুপুর ১২:৫০ |
| গুয়াহাটি | সকাল ০৬:০৫ – পূর্বাহ্ন ১১:৩৫ |
| পাটনা | সকাল ০৬:৪৫ – দুপুর ১২:১৫ |
| চেন্নাই | সকাল ০৬:৩৬ – দুপুর ১২:২১ |
| বেঙ্গালুরু | সকাল ০৬:৪৬ – দুপুর ১২:৩২ |
বিশেষ দ্রষ্টব্য: কলকাতা ও পশ্চিমবঙ্গের জন্য পুজোর শুভ মুহূর্ত সকাল ০৬:১৮ মিনিট থেকে পূর্বাহ্ন ১১:৪৮ মিনিট পর্যন্ত, যা প্রায় ৫ ঘণ্টা ৩০ মিনিট স্থায়ী । সমগ্র দেশের জন্য সাধারণভাবে পুজোর শুভ মুহূর্ত হলো সকাল ০৭:১৫ মিনিট থেকে দুপুর ১২:৫০ মিনিট পর্যন্ত ।
সরস্বতী প্রণাম মন্ত্র: বিদ্যার দেবীর আশীর্বাদ লাভের পথ
বিশেষ যোগ ও চৌঘড়িয়া মুহূর্ত
২০২৬ সালের সরস্বতী পুজোর দিন কয়েকটি অত্যন্ত শুভ যোগ তৈরি হচ্ছে যা পুজোর ফলকে আরও বৃদ্ধি করবে :
অমৃত যোগ
সকাল ০৯:৫৩ মিনিট থেকে দুপুর ১১:৫৩ মিনিট পর্যন্ত অমৃত যোগ থাকবে । এই সময়ে পুজো করলে বিশেষ ফললাভ হয়।
লাভ যোগ
সকাল ০৮:৩৩ মিনিট থেকে সকাল ০৯:৫৩ মিনিট পর্যন্ত লাভ যোগ বিদ্যমান থাকবে । এই সময় বিদ্যা ও জ্ঞান অর্জনের জন্য অত্যন্ত শুভ।
গজকেশরী যোগ
২০২৬ সালের বসন্ত পঞ্চমীতে চন্দ্র মীন রাশিতে এবং বৃহস্পতি চন্দ্র থেকে চতুর্থ ঘরে অবস্থান করায় তৈরি হচ্ছে অত্যন্ত শুভ ‘গজকেশরী যোগ’ । এই বিরল যোগে দেবীর আরাধনা করলে বিশেষ করে ছাত্রছাত্রীদের বুদ্ধি, একাগ্রতা, স্মৃতিশক্তি ও সৃজনশীলতা বহুগুণ বৃদ্ধি পায় । গজকেশরী যোগ জ্ঞান, সম্পদ ও পেশাগত সাফল্যের কারক হিসেবে জ্যোতিষশাস্ত্রে স্বীকৃত ।
পুষ্পাঞ্জলির শুভ সময়
সরস্বতী পুজোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো পুষ্পাঞ্জলি বা অঞ্জলি প্রদান। পুষ্পাঞ্জলি দেওয়ার সবচেয়ে শুভ সময় হলো পুজোর মুহূর্তের মধ্যেই, বিশেষত সকাল ০৭:১৫ মিনিট থেকে দুপুর ১২:৫০ মিনিট পর্যন্ত । ছাত্রছাত্রীরা সাধারণত সকাল থেকে উপবাস রেখে বাগদেবীর উদ্দেশ্যে অঞ্জলি প্রদান করেন এবং বিদ্যা, বুদ্ধি ও জ্ঞানের জন্য প্রার্থনা করেন ।
কলকাতা ও পশ্চিমবঙ্গে পুষ্পাঞ্জলি দেওয়ার উপযুক্ত সময় সকাল ০৬:১৮ মিনিট থেকে পূর্বাহ্ন ১১:৪৮ মিনিট পর্যন্ত । অমৃত যোগের সময় অর্থাৎ সকাল ০৯:৫৩ থেকে ১১:৫৩-এর মধ্যে অঞ্জলি দিলে বিশেষ ফল পাওয়া যায় ।
হাতেখড়ির শুভ মুহূর্ত
সরস্বতী পুজোর দিন শিশুদের হাতেখড়ি দেওয়ানোর প্রথা বাংলা তথা ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে বহুল প্রচলিত । মা সরস্বতীকে সাক্ষী রেখে এবং তাঁর থেকে আশীর্বাদ নিয়ে শিশুর বিদ্যাশিক্ষার আনুষ্ঠানিক সূচনা করা হয় ।
২০২৬ সালে হাতেখড়ির জন্য সবচেয়ে শুভ সময় হলো সকাল ০৮:৩৩ মিনিট থেকে পূর্বাহ্ন ১১:১৩ মিনিট পর্যন্ত । এই সময়ের মধ্যে যে কোনো সময় শিশুর হাতেখড়ি দেওয়ানো যেতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, হাতেখড়ি দেওয়ার আগে শিশুর কুণ্ডলী অনুসারে দিনটি তার জন্য শুভ কিনা তা জেনে নেওয়া উচিত ।
হাতেখড়ির পদ্ধতি
হাতেখড়ির সময় শিশুকে নতুন পোশাক পরাতে হয় । সরস্বতী পুজো সমাপন করার পর শিশুর হাত ধরে শ্লেটে বা কাগজে ‘অ আ ক খ’ লেখানো হয় । বিশেষজ্ঞরা বলেন, মা হলেন প্রথম ও শ্রেষ্ঠ গুরু, তাই মায়ের কাছ থেকে হাতেখড়ি নেওয়াই যথোপযুক্ত । যিনি হাতেখড়ি দেবেন, তিনি শিশুর হাত ধরে অক্ষর লেখানোর পর শ্লেটের উপর ‘হ্রীং সরস্বতী দেব্যৈ নমঃ’ মন্ত্রটি লিখবেন, যা শিশুকে মেধাবী করে তুলতে সাহায্য করবে ।
সরস্বতী পুজোর পদ্ধতি ও প্রস্তুতি
সরস্বতী পুজোর প্রস্তুতি আগের দিন থেকেই শুরু করা উচিত । পুজোর স্থান ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিতে হবে এবং বিশেষত হলুদ রঙের সজ্জা ব্যবহার করা শুভ কারণ হলুদ রঙ জ্ঞান, শক্তি ও সমৃদ্ধির প্রতীক ।
পুজোর প্রয়োজনীয় সামগ্রী
সরস্বতী পুজোর জন্য নিম্নলিখিত সামগ্রীর প্রয়োজন:
-
দেবী সরস্বতীর মূর্তি বা ছবি
-
হলুদ বা সাদা রঙের বস্ত্র
-
পলাশ ফুল ও আমের মুকুল (বসন্তের প্রতীক)
-
গাঁদা ফুল ও অন্যান্য সাদা ফুল
-
ফল ও মিষ্টি
-
দোয়াত ও খাগের কলম (ঐতিহ্যবাহী লেখার উপকরণ)
-
বই ও বাদ্যযন্ত্র (দেবীর আশীর্বাদ পাওয়ার জন্য)
-
ধূপ, দীপ ও ঘি
-
অভ্র ও আবির
-
চন্দন, কুমকুম
-
পায়েস, নারকেল ও অন্যান্য নৈবেদ্য
সরস্বতী পুজোর আমন্ত্রণ পত্র: বসন্তের আগমনে জ্ঞানের আরাধনা
ষোড়শোপচার পুজো বিধি
সরস্বতী পুজো ষোড়শোপচার (১৬টি ধাপে) সম্পন্ন করা হয়:
-
গণেশ পূজন: সমস্ত বাধা দূর করতে প্রথমে গণেশ পূজা করতে হবে এবং “ওঁ গং গণপতয়ে নমঃ” মন্ত্র উচ্চারণ করতে হবে ।
-
সরস্বতী আবাহন: ঘি দিয়ে প্রদীপ জ্বালিয়ে ধূপ দিয়ে সরস্বতী ধ্যান মন্ত্র পাঠ করুন: “ওঁ সরস্বত্যৈ চ বিদ্মহে, ব্রহ্মপত্ন্যৈ চ ধীমহি, তন্নো দেবী প্রচোদয়াৎ” ।
-
উপচার অর্পণ: পাদ্য (পা ধোয়ার জল), অর্ঘ্য (সুগন্ধি জল), আচমনীয় (শুদ্ধিকরণ জল), ফুল, ফল, মিষ্টি ও পান অর্পণ করুন । মূর্তিতে তিলক (চন্দন) লাগান।
-
মন্ত্র পাঠ ও প্রার্থনা: সরস্বতী বন্দনা, স্তোত্র ও চালিশা পাঠ করুন ।
-
আরতি: “ওঁ জয় সরস্বতী মাতা…” গান গেয়ে প্রদীপ ঘোরান ।
-
হবন (ঐচ্ছিক): পবিত্র অগ্নিতে ঘি, কাঠ ও ধূপ অর্পণ করে মন্ত্র পাঠ করুন ।
-
প্রসাদ বিতরণ: আশীর্বাদপ্রাপ্ত খাদ্য পরিবার ও প্রতিবেশীদের মধ্যে বিতরণ করুন ।
প্রধান মন্ত্র
বীজ মন্ত্র: “ওঁ ঐং সরস্বত্যৈ নমঃ” (জ্ঞানের জন্য; ১০৮ বার জপ করতে হয়) ।
গায়ত্রী মন্ত্র: “ওঁ ঐং বাগদেব্যৈ বিদ্মহে কামরাজায় ধীমহি, তন্নো দেবী প্রচোদয়াৎ” (আলোকপ্রাপ্তির জন্য) ।
বন্দনা: “যা কুন্দেন্দু তুষারহার ধবলা…” (দেবীর পবিত্রতার প্রশংসা) ।
এই মন্ত্রগুলি সরস্বতী পুজোর সময় পাঠ করলে বিদ্যা, বুদ্ধি ও জ্ঞান বৃদ্ধি পায় ।
সরস্বতী পুজোর তাৎপর্য ও ঐতিহ্য
বসন্ত পঞ্চমী কেবল একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি ভারতীয় সংস্কৃতির একটি গভীর সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক প্রতিফলন । এই দিনটি ঋতুরাজ বসন্তের আনুষ্ঠানিক আগমনের প্রতীক, যখন প্রকৃতি নতুন জীবনে ভরে ওঠে । আমের মুকুল ও পলাশ ফুল ফুটতে শুরু করে, তাই দেবী সরস্বতীকে এই বাসন্তী ফুল দিয়ে বন্দনা করা হয় ।
শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ তাৎপর্য
সরস্বতী পুজো বিশেষভাবে ছাত্রছাত্রীদের উৎসব । এই দিন বিদ্যালয়, মহাবিদ্যালয় ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সকাল থেকে পুজোর আয়োজন করা হয় । শিক্ষার্থীরা তাদের বই ও লেখার উপকরণ দেবীর পায়ের কাছে রেখে আশীর্বাদ প্রার্থনা করেন । এই দিন অধ্যয়ন না করার প্রথা রয়েছে, কারণ বিশ্বাস করা হয় যে দেবী স্বয়ং সেই দিন বিশ্রাম নেন ।
সাংস্কৃতিক দিক
বসন্ত পঞ্চমীতে হলুদ রঙের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে । এই দিন হলুদ পোশাক পরা, হলুদ ফুল অর্পণ করা এবং হলুদ মিষ্টি (যেমন বাসন্তী পায়েস) বানানোর রীতি আছে । হলুদ রঙ সমৃদ্ধি, আনন্দ ও নতুন শুরুর প্রতীক হিসেবে বিবেচিত । অনেক স্থানে এই দিনটি পতঙ্গ উড়ানো, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও সঙ্গীত পরিবেশনার মাধ্যমে উদযাপিত হয় ।
দেবী সরস্বতীর স্বরূপ
দেবী সরস্বতী জ্ঞান, সংগীত, শিল্পকলা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির দেবী । তাঁকে শ্বেত পদ্মাসনে উপবিষ্ট, শুভ্র বস্ত্রে আবৃতা ও হাতে বীণা ধারণকারিণী হিসেবে কল্পনা করা হয় । তাঁর চারটি হাতে যথাক্রমে বীণা (সংগীত ও শিল্পের প্রতীক), পুস্তক (জ্ঞানের প্রতীক), স্ফটিক মালা (ধ্যান ও আধ্যাত্মিকতার প্রতীক) ও অভয় মুদ্রা (আশ্বাস ও সুরক্ষার প্রতীক) রয়েছে । তাঁর সাদা রঙ পবিত্রতা ও জ্ঞানের আলোর প্রতীক ।
সরস্বতী পুজোর উপকারিতা ও ফল
শাস্ত্র অনুসারে সরস্বতী পুজো সঠিক বিধি মেনে করলে নিম্নলিখিত ফললাভ হয়:
-
বিদ্যা ও জ্ঞান বৃদ্ধি: পুজোর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের স্মৃতিশক্তি, একাগ্রতা ও বোধশক্তি বৃদ্ধি পায়।
-
সৃজনশীলতা বিকাশ: শিল্পী, সংগীতশিল্পী ও লেখকদের সৃজনশীলতা ও প্রতিভা বিকশিত হয়।
-
কর্মজীবনে সাফল্য: গজকেশরী যোগে পুজো করলে পেশাগত ক্ষেত্রে উন্নতি ও স্বীকৃতি মেলে।
-
আলস্য ও অজ্ঞতা দূরীকরণ: দেবীর আরাধনা মনের জড়তা, আলস্য ও অন্ধকার দূর করে ।
-
বাক্শক্তি বৃদ্ধি: বক্তৃতা ও যোগাযোগ দক্ষতা উন্নত হয়।
বিশেষত ২০২৬ সালে গজকেশরী যোগের কারণে এই ফললাভ আরও প্রবল হবে বলে জ্যোতিষীরা মত দিয়েছেন ।
বিভিন্ন রাজ্যে সরস্বতী পুজোর উদযাপন
পশ্চিমবঙ্গ
পশ্চিমবঙ্গে সরস্বতী পুজো অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে পালিত হয় । স্কুল-কলেজ, বাড়ি ও পাড়ায় পুজোর আয়োজন করা হয়। ছাত্রছাত্রীরা সকাল থেকে উপবাস করে বাগদেবীর উদ্দেশ্যে অঞ্জলি দেয় । পুজোর পর প্রসাদ বিতরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অন্যান্য রাজ্য
ত্রিপুরা, আসাম, বিহার, ওড়িশা সহ পূর্ব ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে এই পুজো বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে পালিত হয় । উত্তর ভারতে এই দিনটি বসন্তোৎসব হিসেবে উদযাপিত হয় এবং হলুদ পোশাক পরা ও পতঙ্গ উড়ানোর প্রথা রয়েছে ।
সরস্বতী পুজো ২০২৬-এর বিশেষত্ব
২০২৬ সালের সরস্বতী পুজো একাধিক কারণে অত্যন্ত বিশেষ ও শুভ :
-
গজকেশরী যোগ: এই বিরল জ্যোতিষীয় যোগ জ্ঞান ও সম্পদ বৃদ্ধির কারক ।
-
শুক্রবার: দেবী দুর্গা ও লক্ষ্মীর দিন শুক্রবারে পুজো পড়ায় বিশেষ মঙ্গলকর।
-
দীর্ঘ পুজোর মুহূর্ত: প্রায় ৫-৬ ঘণ্টা শুভ মুহূর্ত থাকায় পুজো করার যথেষ্ট সময় পাওয়া যাবে ।
-
অমৃত ও লাভ যোগ: একই দিনে একাধিক শুভ যোগ থাকায় ফললাভ বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে ।
বাড়িতে সরস্বতী পুজোর প্রস্তুতি
যারা বাড়িতে সরস্বতী পুজো করতে চান, তাদের জন্য কিছু পরামর্শ:
-
পুজোর আগের দিন ঘর পরিষ্কার করুন এবং পুজোর স্থান সাজান।
-
হলুদ রঙের সজ্জা, রঙ্গোলি ও আলোকসজ্জা করুন।
-
দেবীর মূর্তি বা ছবি একটি পরিষ্কার আসনে স্থাপন করুন।
-
প্রয়োজনীয় পুজোর সামগ্রী আগে থেকে সংগ্রহ করুন।
-
ইচ্ছা হলে ফলমূল বা হালকা নিরামিষ খাবার গ্রহণ করে উপবাস রাখতে পারেন।
-
পরিবারের সকলকে এবং বন্ধুদের আমন্ত্রণ জানান সমবেত প্রার্থনার জন্য।
পুজো শেষে পরের দিন বিসর্জন দিতে হয় বা মূর্তি ভবিষ্যতে ব্যবহারের জন্য সংরক্ষণ করা যায় ।
পরিশেষে
সরস্বতী পুজো শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় আচার নয়, এটি জ্ঞান, বিদ্যা ও সংস্কৃতির প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা ও নিবেদনের প্রকাশ। ২০২৬ সালের ২৩ জানুয়ারি বিশেষ গজকেশরী যোগে অনুষ্ঠিত এই পুজো শিক্ষার্থী, শিল্পী, সংগীতজ্ঞ ও জ্ঞানপিপাসুদের জন্য অত্যন্ত মঙ্গলজনক হবে। সঠিক মুহূর্তে শাস্ত্রীয় বিধি মেনে পুজো করলে এবং আন্তরিক ভক্তিসহকারে মা সরস্বতীর আরাধনা করলে নিশ্চিতভাবে বিদ্যা, বুদ্ধি ও সাফল্য লাভ হবে। এই বসন্ত পঞ্চমীতে দেবীর আশীর্বাদে সকলের জীবন জ্ঞানের আলোকে উদ্ভাসিত হোক এবং অজ্ঞানতার অন্ধকার দূর হোক। বাগদেবীর কৃপায় সকল ছাত্রছাত্রী তাদের লক্ষ্যে সফল হোক এবং জীবনের সকল ক্ষেত্রে উৎকর্ষ লাভ করুক। জয় মা সরস্বতী।











