২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে ভারতীয়দের নির্বাসনের ক্ষেত্রে যে দেশটি সবচেয়ে বেশি ভারতীয়কে দেশে ফেরত পাঠিয়েছে, সেটি আমেরিকা নয় – বরং সৌদি আরব । ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রক (MEA) রাজ্যসভায় পেশ করা সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে মোট ৮১টি দেশ থেকে ২৪,৬৭০ জনেরও বেশি ভারতীয়কে নির্বাসিত করা হয়েছে, যার মধ্যে শুধুমাত্র সৌদি আরব থেকেই ১১,০০০ জনেরও বেশি ভারতীয়কে ফেরত পাঠানো হয়েছে । এই সংখ্যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে নির্বাসিত ভারতীয়দের সংখ্যার প্রায় তিনগুণ, যেখানে আমেরিকা থেকে প্রায় ৩,৮০০ ভারতীয়কে ফেরত পাঠানো হয়েছে । এই পরিসংখ্যান স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে উপসাগরীয় দেশগুলি, বিশেষত সৌদি আরব, ভারতীয় অভিবাসীদের জন্য কঠোর ইমিগ্রেশন এবং শ্রম আইন প্রয়োগ করছে।
এই নির্বাসনের মূল কারণগুলির মধ্যে রয়েছে ভিসার মেয়াদ অতিক্রম করা, বৈধ কাজের অনুমতি ছাড়া কাজ করা, শ্রম আইন লঙ্ঘন, নিয়োগকর্তার কাছ থেকে পলায়ন এবং দেওয়ানি বা ফৌজদারি মামলায় জড়িত থাকা। এছাড়াও, মিয়ানমার এবং কম্বোডিয়ার মতো দেশ থেকে নির্বাসনের পেছনে রয়েছে সাইবার জালিয়াতির নেটওয়ার্ক, যেখানে ভারতীয় যুবকদের উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে আটকে রাখা হয় ।
সৌদি আরব: নির্বাসনের শীর্ষ দেশ
রেকর্ড সংখ্যক নির্বাসন
সৌদি আরব ২০২৫ সালে ভারতীয় নির্বাসনে শীর্ষস্থান দখল করেছে, যেখানে এক বছরেই ১১,০০০ জনেরও বেশি ভারতীয় শ্রমিককে ফেরত পাঠানো হয়েছে । এই শ্রমিকদের অধিকাংশই ছিলেন নিম্ন-দক্ষতাসম্পন্ন শ্রমিক যারা নির্মাণ, গৃহস্থালীর কাজ এবং পরিচর্যার ভূমিকায় নিযুক্ত ছিলেন । বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন যে অনেক শ্রমিক ভিসা নিয়মকানুন লঙ্ঘন করেন, যার পেছনে রয়েছে তত্ত্বাবধানের অভাব, ভুল তথ্য বা ভারতে এজেন্টদের প্রতারণামূলক নিয়োগ পদ্ধতি ।
সৌদি আরবে ভারতীয়রা বৃহত্তম প্রবাসী সম্প্রদায়ের একটি, যেখানে লক্ষ লক্ষ ভারতীয় বিভিন্ন সেক্টরে কাজ করেন। তবে, কঠোর কাফালা ব্যবস্থা এবং শ্রম আইনের কারণে অনেক শ্রমিক ভিসা লঙ্ঘনের শিকার হন । এই নিয়মগুলি মেনে না চললে সরাসরি নির্বাসন হয়ে থাকে।
অন্যান্য উপসাগরীয় দেশের অবস্থান
উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (GCC) এর অন্যান্য দেশগুলিও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভারতীয়কে নির্বাসিত করেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত (UAE) থেকে ২০২৫ সালে ১,৪৬৯ জন ভারতীয়কে ফেরত পাঠানো হয়েছে, যেখানে বাহরাইন থেকে ৭৬৪ জন ভারতীয়কে নির্বাসিত করা হয়েছে । সৌদি আরবের মতোই, এই দেশগুলিতেও ভিসার মেয়াদ অতিক্রম, বৈধ পারমিট ছাড়া কাজ, নিয়োগকর্তা থেকে পলায়ন বা শ্রম নিয়ম লঙ্ঘনই মূল কারণ।
এই দেশগুলির কর্তৃপক্ষ প্রবাসী শ্রমিকদের সম্মতি পর্যবেক্ষণে ক্রমশ সতর্ক হয়ে উঠছে এবং নিয়মিত তদন্ত চালাচ্ছে । অনেক ক্ষেত্রে, দেখা যায় যে ভারতীয় শ্রমিকরা স্থানীয় আইন এবং নিয়মকানুন সম্পর্কে সচেতন নন, যা তাদের জন্য ব্যয়বহুল প্রমাণিত হয় ।
দেশওয়ারি নির্বাসনের পরিসংখ্যান
| দেশের নাম | নির্বাসিত ভারতীয়ের সংখ্যা (২০২৫) | প্রধান কারণ |
|---|---|---|
| সৌদি আরব | ১১,০০০+ | ভিসা লঙ্ঘন, অবৈধ কাজ, শ্রম আইন লঙ্ঘন |
| মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র | ৩,৮০০ | ডকুমেন্টেশন, ভিসা স্ট্যাটাস, ওভারস্টে |
| মিয়ানমার | ১,৫৯১ | সাইবার জালিয়াতি কম্পাউন্ড |
| মালয়েশিয়া | ১,৪৮৫ | ইমিগ্রেশন লঙ্ঘন |
| সংযুক্ত আরব আমিরাত | ১,৪৬৯ | ভিসা ওভারস্টে, কাজের পারমিট লঙ্ঘন |
| বাহরাইন | ৭৬৪ | শ্রম আইন লঙ্ঘন |
| থাইল্যান্ড | ৪৮১ | ভিসা লঙ্ঘন |
| কম্বোডিয়া | ৩০৫ | সাইবার স্ক্যাম অপারেশন |
আমেরিকা থেকে নির্বাসন: পাঁচ বছরের সর্বোচ্চ
যদিও সৌদি আরবের তুলনায় কম, তবুও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২০২৫ সালে ৩,৮০০ ভারতীয়কে নির্বাসিত করা হয়েছে, যা বিগত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ । বিশেষজ্ঞরা এটিকে ট্রাম্প প্রশাসনের সাম্প্রতিক কড়াকড়ি এবং ডকুমেন্ট, ভিসা স্ট্যাটাস, কাজের অনুমোদন এবং ওভারস্টের ক্ষেত্রে বর্ধিত নজরদারির জন্য দায়ী করেছেন ।
আমেরিকা থেকে নির্বাসিত বেশিরভাগ ভারতীয়ই ছিলেন বেসরকারি কর্মচারী । মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে সর্বাধিক নির্বাসন হয়েছে ওয়াশিংটন ডিসি (৩,৪১৪ জন) এবং হিউস্টন (২৩৪ জন) থেকে । পররাষ্ট্র মন্ত্রক জানিয়েছে যে জানুয়ারি ২০২৫ থেকে মোট ১,০৮০ জন ভারতীয়কে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে নির্বাসিত করা হয়েছে, যাদের মধ্যে প্রায় ৬২ শতাংশ বাণিজ্যিক ফ্লাইটে ফিরে এসেছেন ।
মিয়ানমার ও কম্বোডিয়া: সাইবার দাসত্বের ফাঁদ
সাইবার জালিয়াতির জাল
মিয়ানমার এবং কম্বোডিয়া থেকে নির্বাসন একটি সম্পূর্ণ ভিন্ন প্যাটার্ন অনুসরণ করে। ২০২৫ সালে মিয়ানমার থেকে ১,৫৯১ জন এবং কম্বোডিয়া থেকে ৩০৫ জন ভারতীয়কে নির্বাসিত করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই সংগঠিত সাইবার জালিয়াতি সিন্ডিকেটের শিকার ছিলেন । এই অপরাধী সংগঠনগুলি ভারতীয় যুবকদের ভুয়া আইটি চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে আকৃষ্ট করে এবং তারপরে তাদের পাসপোর্ট বাজেয়াপ্ত করে নির্যাতন করে ।
ভারত সরকার জানিয়েছে যে ২০২৫ সালে এই ধরনের কম্পাউন্ড থেকে ৩৮৩ জন নাগরিককে উদ্ধার করা হয়েছে । এই সাইবার স্ক্যাম কম্পাউন্ডগুলি চীনা মাফিয়া নেটওয়ার্ক এবং স্থানীয় মিলিশিয়াদের দ্বারা পরিচালিত হয়, যেখানে শিকারদের নির্যাতন বা মৃত্যুর হুমকির মধ্যে অনলাইন স্ক্যাম, ক্রিপ্টোকারেন্সি জালিয়াতি এবং রোমান্স কন চালাতে বাধ্য করা হয় ।
ভুক্তভোগীদের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা
উদ্ধার হওয়া ভারতীয়দের সাক্ষ্য হৃদয়বিদারক। মহারাষ্ট্রের একজন রেস্তোরাঁ ম্যানেজার সতীশ বর্ণনা করেছেন যে তাকে থাইল্যান্ডে একটি নকল ডিজিটাল মার্কেটিং চাকরির অফার দিয়ে প্রলুব্ধ করা হয়েছিল, কিন্তু তার পাসপোর্ট বাজেয়াপ্ত করে তাকে ছোটখাটো ভুলের জন্যও নৃশংসভাবে মারধর করা হয় । তিনি কর্মকর্তাদের বলেছিলেন, “আমাদের ৫,০০০ ডলারে বিক্রি করা হয়েছিল। আমরা অস্বীকার করলে মারধর করা হতো, ধীরগতিতে কাজ করলে শাস্তি দেওয়া হতো।”
আরেক জন বেঁচে যাওয়া ব্যক্তি প্রদীপ বিজয় একটি চীনা-পরিচালিত সাইবার কম্পাউন্ডে প্রায় এক বছর আটকে ছিলেন, যতক্ষণ না তার পরিবার তার মুক্তির জন্য ১০ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দেয় । সিবিআই সম্প্রতি গুজরাট এবং রাজস্থান থেকে দুজন ভারতীয় এজেন্ট, সোয়াল আখতার এবং মোহিত গিরি কে গ্রেপ্তার করেছে, যারা মিয়ানমারের KK পার্ক স্ক্যাম কম্পাউন্ডের জন্য মানব পাচারে জড়িত ছিল ।
ছাত্রদের নির্বাসন: যুক্তরাজ্য শীর্ষে
ভারতীয় ছাত্রদের নির্বাসনের ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্য শীর্ষস্থানে রয়েছে, যেখানে ২০২৫ সালে ১৭০ জন ছাত্রকে ফেরত পাঠানো হয়েছে । এরপর রয়েছে অস্ট্রেলিয়া (১১৪ জন), রাশিয়া (৮২ জন) এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (৪৫ জন) । এই নির্বাসনগুলি বিভিন্ন অঞ্চল জুড়ে অভিবাসন চ্যালেঞ্জগুলি প্রতিফলিত করে।
ছাত্রদের নির্বাসনের মূল কারণগুলির মধ্যে রয়েছে ভিসার শর্ত লঙ্ঘন, অনুমোদিত ঘণ্টার চেয়ে বেশি কাজ করা, ডকুমেন্টেশনে সমস্যা এবং একাডেমিক প্রয়োজনীয়তা পূরণ করতে ব্যর্থতা। যুক্তরাজ্যে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে আন্তর্জাতিক ছাত্রদের জন্য কঠোর নিয়ম প্রয়োগ করা হয়েছে, যার ফলে নির্বাসনের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।
নির্বাসনের প্রধান কারণসমূহ
উপসাগরীয় দেশগুলিতে
উপসাগরীয় দেশগুলি থেকে নির্বাসনের সাধারণ কারণগুলির মধ্যে রয়েছে:
-
ভিসা বা রেসিডেন্সি মেয়াদ অতিক্রম করা: অনেক শ্রমিক তাদের ভিসার মেয়াদ ট্র্যাক করতে ব্যর্থ হন এবং অবৈধভাবে থেকে যান
-
বৈধ কাজের পারমিট ছাড়া কাজ করা: অতিরিক্ত আয়ের চেষ্টায় অনেকে অবৈধভাবে কাজ করেন
-
শ্রম নিয়ম লঙ্ঘন: স্থানীয় শ্রম আইন সম্পর্কে অজ্ঞতা ব্যয়বহুল প্রমাণিত হয়
-
নিয়োগকর্তার কাছ থেকে পলায়ন: কাফালা ব্যবস্থার অধীনে এটি একটি গুরুতর লঙ্ঘন
-
দেওয়ানি বা ফৌজদারি মামলায় জড়িত থাকা: ছোটখাটো অপরাধও নির্বাসনের কারণ হতে পারে
এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলিতে নির্বাসনের কারণগুলি ভিন্ন:
-
সাইবার জালিয়াতি সিন্ডিকেটে আটকা পড়া: মিয়ানমার এবং কম্বোডিয়ার প্রধান কারণ
-
মানব পাচার: ভুয়া চাকরির অফার দিয়ে প্রতারণা
-
পাসপোর্ট বাজেয়াপ্ত এবং জোরপূর্বক শ্রম: অপরাধী সংগঠনগুলির দ্বারা
ভারত সরকারের প্রতিক্রিয়া এবং পদক্ষেপ
কনস্যুলার সহায়তা
পররাষ্ট্র মন্ত্রক নির্বাসনের সম্মুখীন ভারতীয় নাগরিকদের সহায়তা করার জন্য ব্যাপক ব্যবস্থা নিয়েছে। কনস্যুলার কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলেছেন যে নির্বাসন খুব কমই “রাতারাতি” ঘটে । ভ্রমণকারীদের প্রথমে ডিটেনশন সেন্টারে রাখা হয় এবং মিশনগুলি পরিচয় যাচাই এবং জরুরি ভ্রমণ নথি সাজানোর চেষ্টা করে ।
MEA হেল্পলাইন (MADAD এবং eMigrate) ২০২৫ সালে ৬২,০০০ কল পরিচালনা করেছে, যা ২০২৪ এর তুলনায় ২৮ শতাংশ বৃদ্ধি । এই হেল্পলাইনগুলি বিদেশে সমস্যায় পড়া ভারতীয়দের জন্য জীবন রেখা হিসাবে কাজ করে।
উদ্ধার অভিযান
ভারতীয় বিমান বাহিনী (IAF) মিয়ানমার এবং থাইল্যান্ড থেকে সাইবার স্ক্যাম কম্পাউন্ডে আটকে থাকা ভারতীয়দের উদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে । ২০২৫ সালে, সরকার জটিল মানবিক এবং গোয়েন্দা-পরিচালিত অভিযান পরিচালনা করে ৩০০ জনেরও বেশি ভারতীয়কে সফলভাবে ফিরিয়ে এনেছে ।
মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে KK পার্ক পরিষ্কার করার জন্য একটি বড় অভিযান শুরু করে, যার ফলে ২,০০০ জনেরও বেশি স্ক্যামারকে চিহ্নিত করা হয় এবং প্রায় ১,৫০০ জন মোয়েই নদী পার হয়ে থাইল্যান্ডে পালিয়ে যায় । নভেম্বর ১০ পর্যন্ত মিয়ানমার কর্মকর্তারা ১০১টি সন্দেহজনক স্ক্যাম ভবন ভেঙে ফেলার দাবি করেছেন ।
আইনি পদক্ষেপ
সিবিআই মানব পাচারের সাথে জড়িত এজেন্টদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে। সম্প্রতি গ্রেফতার হওয়া দুই এজেন্ট মানব পাচার আইনের অধীনে সম্ভাব্য যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের মুখোমুখি । দিল্লি, গুজরাট এবং হরিয়ানার পুলিশও একইরকম র্যাকেটে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে এবং গ্রেফতার করেছে ।
প্রবাসীদের জন্য সচেতনতা এবং পরামর্শ
ভিসা সম্মতি
তেলেঙ্গানা ওভারসিজ ম্যানপাওয়ার কোম্পানির নাগা ভারানি পরামর্শ দিয়েছেন যে শ্রমিকদের বিদেশে যাওয়ার আগে নিয়মকানুন সম্পর্কে সচেতন করা উচিত । “মানুষদের তাদের ভিসার সময়সীমা ঘনিষ্ঠভাবে ট্র্যাক করতে এবং স্থানীয় নিয়ম মেনে চলতে বলা উচিত। ভিসা বাড়ানোর জন্য আবেদন করার সবসময় একটি বিকল্প আছে,” তিনি বলেছেন ।
এজেন্ট যাচাই
অনেক ক্ষেত্রে, প্রবাসী শ্রমিকরা ভারতে এজেন্টদের দ্বারা সংঘটিত জালিয়াতির শিকার হন এবং বিদেশে পুলিশ দ্বারা ধরা পড়লে নির্বাসিত হন । তেলেঙ্গানা সরকারের NRI উপদেষ্টা কমিটির ভাইস-চেয়ারম্যান ভীমা রেড্ডি জোর দিয়ে বলেছেন যে চাকরির অফার এবং নিয়োগকারী সংস্থাগুলি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ।
সাইবার জালিয়াতি থেকে সুরক্ষা
যুবকদের অবাস্তব উচ্চ বেতনের চাকরির অফার সম্পর্কে সতর্ক থাকা উচিত, বিশেষত যেগুলি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় অবস্থিত । কোনো চাকরি গ্রহণ করার আগে, কোম্পানির বৈধতা যাচাই করুন, অনলাইন পর্যালোচনা পরীক্ষা করুন এবং আপনার পরিবার এবং MEA হেল্পলাইনের সাথে যোগাযোগ রাখুন।
তুলনামূলক বিশ্লেষণ: সৌদি বনাম আমেরিকা
যদিও আমেরিকা থেকে নির্বাসন মিডিয়ায় বেশি মনোযোগ আকর্ষণ করে, তবে তথ্য দেখায় যে উপসাগরীয় দেশগুলি – যার নেতৃত্বে সৌদি আরব – ইমিগ্রেশন এবং শ্রম আইনের কঠোর প্রয়োগের কারণে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য দায়ী । সৌদি আরব থেকে ১১,০০০+ নির্বাসন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৩,৮০০ নির্বাসনের তুলনায় প্রায় তিনগুণ বেশি ।
এই পার্থক্যের প্রধান কারণ হল সৌদি আরবে ভারতীয় শ্রমিকদের সংখ্যা অনেক বেশি এবং তাদের অধিকাংশই নিম্ন-দক্ষতাসম্পন্ন, যারা ভিসা নিয়ম লঙ্ঘনের জন্য বেশি ঝুঁকিপূর্ণ । অন্যদিকে, আমেরিকায় ভারতীয়রা প্রধানত উচ্চ-দক্ষ পেশাদার যারা H-1B এবং অন্যান্য কাজের ভিসায় আছেন।
বৈশ্বিক অভিবাসন প্রবণতা এবং প্রভাব
২০২৫ সালে ৮১টি দেশ থেকে ২৪,৬৭০ জন ভারতীয়ের নির্বাসন বৈশ্বিক অভিবাসন প্রয়োগের পরিবর্তনশীল প্রবণতা তুলে ধরে । দেশগুলি তাদের সীমানা নিয়ন্ত্রণে এবং অভিবাসন আইন প্রয়োগে ক্রমশ কঠোর হচ্ছে। এই প্রবণতা শুধুমাত্র ভারতীয়দের প্রভাবিত করছে না, বরং বিশ্বজুড়ে অভিবাসীদের প্রভাবিত করছে।
উপসাগরীয় দেশগুলিতে, নিয়ামক নজরদারি বৃদ্ধি প্রবাসী শ্রমিকদের সম্মতির উপর চলমান ফোকাস প্রতিফলিত করে । মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে, ট্রাম্প প্রশাসন ইমিগ্রেশন প্রয়োগ বৃদ্ধি করেছে, যার ফলে H-1B ভিসা সাক্ষাৎকারে বিলম্ব এবং উন্নত যাচাইবাছাই নিয়ে ভারত উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ।
অর্থনৈতিক প্রভাব
ভারতীয় প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতিতে প্রচুর অবদান রাখেন রেমিট্যান্সের মাধ্যমে। উপসাগরীয় দেশগুলি থেকে বড় আকারের নির্বাসন এই রেমিট্যান্স প্রবাহকে প্রভাবিত করতে পারে, যা অনেক ভারতীয় পরিবারের জীবিকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাসিত শ্রমিকরা তাদের চাকরি হারান এবং অনেক ক্ষেত্রে তাদের পরিবারের উপর আর্থিক বোঝা হয়ে দাঁড়ান।
সাইবার দাসত্বের ক্ষেত্রে, শিকাররা শুধুমাত্র আয়ই হারান না, তাদের পরিবারকে মুক্তিপণ দিতে হয় এবং মানসিক আঘাত সহ্য করতে হয় । এই সামাজিক এবং অর্থনৈতিক প্রভাব দীর্ঘমেয়াদী এবং প্রভাবিত সম্প্রদায়ের জন্য বিধ্বংসী হতে পারে ।
শেষ কথা
২০২৫ সালের নির্বাসন পরিসংখ্যান একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা তুলে ধরে: সৌদি আরব, আমেরিকা নয়, ভারতীয়দের নির্বাসনে শীর্ষস্থান দখল করেছে, যেখানে ১১,০০০ জনেরও বেশি ভারতীয়কে ফেরত পাঠানো হয়েছে । এই পরিসংখ্যান বিশ্বজুড়ে ইমিগ্রেশন প্রয়োগের পরিবর্তনশীল গতিশীলতা এবং ভারতীয় অভিবাসীদের সম্মুখীন হওয়া চ্যালেঞ্জগুলি প্রকাশ করে। উপসাগরীয় দেশগুলিতে ভিসা লঙ্ঘন, শ্রম আইন লঙ্ঘন এবং ডকুমেন্টেশন সমস্যাগুলি প্রধান কারণ, যেখানে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সাইবার দাসত্ব একটি ক্রমবর্ধমান হুমকি হিসাবে আবির্ভূত হয়েছে । ভারত সরকারের সক্রিয় পদক্ষেপ, বর্ধিত কনস্যুলার সহায়তা এবং উদ্ধার অভিযান প্রশংসনীয়, তবে প্রবাসী এবং সম্ভাব্য অভিবাসীদের সচেতনতা এবং সতর্কতা অপরিহার্য। স্থানীয় আইন মেনে চলা, ভিসার মেয়াদ ট্র্যাক করা এবং চাকরির অফার যাচাই করা নির্বাসনের ঝুঁকি কমাতে পারে এবং বিদেশে একটি নিরাপদ ও সফল জীবন নিশ্চিত করতে পারে।











