Sexually Transmitted Parasite Spreading Globally: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক গবেষকদের সাম্প্রতিক সমীক্ষা অনুযায়ী, ট্রাইকোমোনাস ভ্যাজাইনালিস (Trichomonas vaginalis) নামক যৌন সংক্রামিত পরজীবী দেশে দেশে দ্রুত হারে বিস্তৃত হচ্ে। ২০২০ সালে বিশ্বব্যাপী ১৫ কোটি ৬০ লক্ষ নতুন সংক্রমণ রেকর্ড করা হয়েছে এবং বিজ্ঞানীরা ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন যে ২০৫০ সাল নাগাদ এই সংখ্যা ৪৮ কোটি ৭০ লক্ষে পৌঁছাতে পারে। গ্লোবাল বার্ডেন অফ ডিজিজ ২০২১ সমীক্ষার তথ্য অনুসারে, এই পরজীবী সংক্রমণের হার প্রতি ১ লক্ষ মানুষে ৪,১৩৩ জন, যা বিশ্বব্যাপী জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ট্রাইকোমোনাসিস কী এবং কেন এটি উদ্বেগের বিষয়
ট্রাইকোমোনাসিস হল একটি যৌন সংক্রামিত রোগ যা ট্রাইকোমোনাস ভ্যাজাইনালিস নামক এককোষী পরজীবী দ্বারা সৃষ্টি হয়। এটি মানুষের প্রজনন ও মূত্রতন্ত্রে বাস করে এবং যৌন সংসর্গের মাধ্যমে ছড়ায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, এটি সবচেয়ে সাধারণ অ-ভাইরাল যৌন সংক্রামিত সংক্রমণ। প্যারাসাইট জার্নালে প্রকাশিত ২০২৫ সালের একটি বিস্তৃত মেটা-অ্যানালিসিসে দেখা গেছে যে বিশ্বব্যাপী এই পরজীবীর প্রাদুর্ভাব হার ৮ শতাংশ, যেখানে বিভিন্ন দেশে এই হার ১ শতাংশ থেকে ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত পরিবর্তিত হয়।
এই রোগের সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হল যে প্রায় ৫০ শতাংশ সংক্রমিত ব্যক্তি কোনো উপসর্গ প্রদর্শন করেন না, ফলে তারা অজান্তেই অন্যদের মধ্যে রোগ ছড়িয়ে দেন। মহিলাদের ক্ষেত্রে, সংক্রমণ যোনিপথের প্রদাহ, জরায়ুমুখের প্রদাহ এবং মূত্রনালীর সংক্রমণ ঘটাতে পারে, যখন পুরুষদের মধ্যে এটি সাধারণত মূত্রনালীর প্রদাহ সৃষ্টি করে।
বিশ্বব্যাপী সংক্রমণের পরিসংখ্যান ও প্রবণতা
বর্তমান পরিস্থিতি
ফ্রন্টিয়ার্স ইন পাবলিক হেলথ জার্নালে প্রকাশিত ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে একটি বৈশ্বিক সমীক্ষায় উঠে এসেছে যে ১৯৯০ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ট্রাইকোমোনাসিসের বৈশ্বিক হার ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০২১ সালে বিশ্বব্যাপী মোট সংক্রমণের সংখ্যা ছিল ৩৪ কোটি ১৯ লক্ষ, যা ১৯৯০ সালের তুলনায় ৭৩ শতাংশ বৃদ্ধি।
২০২০ সালের বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুসারে, ১৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সী মানুষের মধ্যে ১৫ কোটি ৬০ লক্ষ নতুন সংক্রমণ ঘটেছে, যার মধ্যে ৭ কোটি ৩৭ লক্ষ মহিলা এবং ৮ কোটি ২৬ লক্ষ পুরুষ। উল্লেখযোগ্য যে পুরুষদের মধ্যে সংক্রমণের হার বেশি হলেও, মহিলারা এই রোগের জটিলতায় বেশি ভোগেন।
আঞ্চলিক পার্থক্য
বিভিন্ন মহাদেশে ট্রাইকোমোনাসিসের প্রাদুর্ভাবে উল্লেখযোগ্য তারতম্য দেখা যায়:
| অঞ্চল | প্রাদুর্ভাবের হার | বিশেষ উল্লেখ |
|---|---|---|
| ওশেনিয়া | ১৬% | সর্বোচ্চ হার পাপুয়া নিউ গিনিতে (৩২%) |
| আফ্রিকা | ১২% | পূর্ব সাব-সাহারান আফ্রিকায় সবচেয়ে বেশি |
| উত্তর আমেরিকা | ১১% | মেক্সিকোতে ৩২% পর্যন্ত |
| এশিয়া | ৮% | ইরাকে সর্বোচ্চ ৩৫% |
| দক্ষিণ আমেরিকা | ৫% | ব্রাজিলে ৮% |
| ইউরোপ | ৩% | সর্বনিম্ন হার নেদারল্যান্ডসে (১%) |
ভবিষ্যৎ প্রক্ষেপণ
বেয়েসিয়ান এজ-পিরিয়ড-কোহর্ট বিশ্লেষণ ব্যবহার করে বিজ্ঞানীরা ২০২২ থেকে ২০৫০ সাল পর্যন্ত ট্রাইকোমোনাসিসের ভবিষ্যৎ প্রবণতা অনুমান করেছেন। তাদের প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, ২০৫০ সাল নাগাদ বিশ্বব্যাপী সংক্রমণের সংখ্যা ৪৮ কোটি ৭৩ লক্ষ ৭০ হাজারে পৌঁছাবে এবং প্রতি ১ লক্ষ মানুষে সংক্রমণের হার হবে ৫,৮৩২.৬০ জন। বিশেষভাবে উদ্বেগজনক যে মহিলাদের মধ্যে সংক্রমণের হার দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং ২০৪৩ সাল নাগাদ পুরুষদের হারকে ছাড়িয়ে যাবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
সংক্রমণের ঝুঁকি বৃদ্ধিকারী কারণসমূহ
আচরণগত ঝুঁকি
প্যারাসাইট জার্নালের ২০২৫ সালের সমীক্ষায় ৪২৫টি গবেষণাপত্র বিশ্লেষণ করে বেশ কয়েকটি আচরণগত ঝুঁকির কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে যে ধূমপায়ী, মাদকাসক্ত এবং কনডম ব্যবহার না করা ব্যক্তিদের মধ্যে সংক্রমণের ঝুঁকি ১.৬৭ গুণ বেশি।
ধূমপানের সঙ্গে সংক্রমণের সম্পর্ক পরীক্ষা করে দেখা গেছে যে ধূমপায়ীদের সংক্রমণের ঝুঁকি অধূমপায়ীদের তুলনায় ১.৬৪ গুণ বেশি। বিজ্ঞানীরা মনে করেন যে অতিরিক্ত ধূমপান শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল করে দেয়, যা বিভিন্ন সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়।
মাদক ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি, যেখানে তাদের সংক্রমণের সম্ভাবনা অ-মাদকাসক্তদের তুলনায় ২.১১ গুণ বেশি। এর বিপরীতে, কনডম ব্যবহার সংক্রমণ প্রতিরোধে অত্যন্ত কার্যকর বলে প্রমাণিত হয়েছে।
অন্যান্য যৌন সংক্রামিত রোগের সঙ্গে সম্পর্ক
গবেষণায় একটি উদ্বেগজনক সম্পর্ক উঠে এসেছে – যারা ইতিমধ্যে অন্য কোনো যৌন সংক্রামিত সংক্রমণে আক্রান্ত, তাদের ট্রাইকোমোনাসিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি ২.০১ গুণ বেশি। বিশেষত এইচআইভি, হার্পিস সিমপ্লেক্স ভাইরাস এবং ক্ল্যামিডিয়া সংক্রমিত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।
হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুলের গবেষণা অনুযায়ী, ট্রাইকোমোনাস সংক্রমণ মহিলাদের এইচআইভি এবং এইচপিভি ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে, যা পরবর্তীতে এইডস এবং জরায়ু ক্যান্সারের মতো মারাত্মক রোগের কারণ হতে পারে। এই পরজীবী সংক্রমণ শুক্রাণুর গুণমান হ্রাস করে এবং বন্ধ্যাত্ব সৃষ্টি করতে পারে।
সামাজিক-অর্থনৈতিক কারণ
৪১টি গবেষণাপত্র বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে যে সামাজিক-অর্থনৈতিক অবস্থা এই সংক্রমণের ঝুঁকির সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। অবিবাহিত, নিম্ন আয়ের এবং অস্থির কর্মসংস্থানের ব্যক্তিদের সংক্রমণের ঝুঁকি ১.৩৬ গুণ বেশি।
নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে, বিশেষ করে সাব-সাহারান আফ্রিকায়, সংক্রমণের হার সবচেয়ে বেশি। এর প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে স্বাস্থ্য সচেতনতার অভাব, যৌন স্বাস্থ্য শিক্ষার দুর্বলতা, স্বাস্থ্যসেবায় সীমিত প্রবেশাধিকার এবং কনডম ব্যবহারের কম হার।
স্বাস্থ্য জটিলতা ও দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব
মহিলাদের স্বাস্থ্যে প্রভাব
যদিও পুরুষদের মধ্যে সংক্রমণের হার বেশি, মহিলারা এই রোগের জটিলতায় বেশি ভোগেন। গ্লোবাল বার্ডেন অফ ডিজিজ সমীক্ষা অনুযায়ী, মহিলাদের ক্ষেত্রে প্রতি ১ লক্ষে ৬.৪৫ জন ডিসএবিলিটি-অ্যাডজাস্টেড লাইফ ইয়ার্স (DALYs) হারে রোগভার বহন করেন, যেখানে পুরুষদের ক্ষেত্রে এই হার মাত্র ০.২৩।
সংক্রমিত মহিলাদের মধ্যে দেখা যায়:
-
যোনিপথের প্রদাহ ও জ্বালাপোড়া
-
অস্বাভাবিক স্রাব (প্রায়ই হলদেটে-সবুজ রঙের)
-
মূত্রত্যাগে ব্যথা বা অস্বস্তি
-
যৌন সঙ্গমে ব্যথা
-
জরায়ুমুখের প্রদাহ (সার্ভিসাইটিস)
-
শ্রোণী প্রদাহজনিত রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি
-
বন্ধ্যাত্বের সম্ভাবনা
-
গর্ভাবস্থায় জটিলতা ও অকাল প্রসব
পুরুষদের স্বাস্থ্যে প্রভাব
পুরুষদের ক্ষেত্রে সংক্রমণ প্রায়শই উপসর্গহীন থাকে, যা রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসায় বাধা সৃষ্টি করে। তবে যখন উপসর্গ প্রকাশ পায়, তখন দেখা যায়:
-
মূত্রনালীর প্রদাহ (ইউরেথ্রাইটিস)
-
মূত্রত্যাগে জ্বালাপোড়া
-
লিঙ্গ থেকে স্রাব
-
প্রস্টেট গ্রন্থির প্রদাহ
-
শুক্রাণুর গুণমান হ্রাস
-
পুরুষ বন্ধ্যাত্বের ঝুঁকি
এইচআইভি সংক্রমণের ঝুঁকি বৃদ্ধি
সায়েন্স নিউজ জার্নালে প্রকাশিত গবেষণা অনুযায়ী, ট্রাইকোমোনাস সংক্রমণ এইচআইভি ভাইরাসের সংক্রমণ ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করে। এই পরজীবী যৌনাঙ্গে প্রদাহ সৃষ্টি করে এবং শ্লেষ্মা ঝিল্লির ক্ষতি করে, যা এইচআইভি ভাইরাসের প্রবেশ সহজ করে তোলে।
বার্ষিক প্রায় ২৫ কোটি মানুষ ট্রাইকোমোনাসিসে আক্রান্ত হন, যা সমস্ত ব্যাকটেরিয়াজনিত যৌন সংক্রামিত রোগের সম্মিলিত সংখ্যার চেয়ে বেশি। এই বিপুল সংখ্যক সংক্রমণ বৈশ্বিক এইচআইভি মহামারীকে আরও জটিল করে তুলছে।
রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা পদ্ধতি
নির্ণয়ের চ্যালেঞ্জ
ট্রাইকোমোনাসিস নির্ণয়ের ক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি চ্যালেঞ্জ রয়েছে। প্রথাগত মাইক্রোস্কোপি পরীক্ষায় ১০% প্রাদুর্ভাব শনাক্ত হয়, যখন আরও সংবেদনশীল পদ্ধতি যেমন কালচার পদ্ধতি ১৩% এবং পিসিআর (PCR) পদ্ধতিতে ১২% প্রাদুর্ভাব পাওয়া যায়। ৩২১টি গবেষণাপত্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে যে বিভিন্ন নির্ণয় পদ্ধতিতে শনাক্তকরণের হার ৬% থেকে ১৩% পর্যন্ত পরিবর্তিত হয়।
চিকিৎসা ব্যবস্থা
সিডিসি (CDC) এর তথ্য অনুসারে, ট্রাইকোমোনাসিস একটি নিরাময়যোগ্য যৌন সংক্রামিত সংক্রমণ। মেট্রোনিডাজল বা টিনিডাজল অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে চিকিৎসা করা হয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রে আনুমানিক ৩৭ লক্ষ আক্রান্ত ব্যক্তির মধ্যে মাত্র ৩০% উপসর্গ প্রদর্শন করেন, যা চিকিৎসায় বড় বাধা।
অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্সের উদ্বেগ
ইমপ্যাক্ট গ্লোবাল হেলথ-এর ২০২৪ সালের প্রতিবেদনে ট্রাইকোমোনাসিস, গনোরিয়া এবং মাইকোপ্লাজমা জেনিটালিয়াম-এর ক্ষেত্রে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্সকে একটি বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রতিরোধী স্ট্রেইনগুলি মোকাবেলার জন্য নতুন চিকিৎসা পদ্ধতির প্রয়োজন রয়েছে।
বৈশ্বিক প্রতিক্রিয়া ও প্রতিরোধ কৌশল
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উদ্যোগ
২০২৫ সালের জুলাই মাসে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যৌন সংক্রামিত সংক্রমণ সংক্রান্ত নতুন নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে। এই নির্দেশিকায় ট্রাইকোমোনাসিস সহ বিভিন্ন যৌন সংক্রামিত রোগের প্রতিরোধ, স্ক্রীনিং, নির্ণয় ও চিকিৎসা সংক্রান্ত বিস্তৃত তথ্য রয়েছে।
WHO-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২০২৫ সালে গ্লোবাল এইডস মনিটরিং-এ রিপোর্ট করা দেশগুলোর মধ্যে ৮৯% দেশে জাতীয় যৌন সংক্রামিত সংক্রমণ কৌশল বা কর্মপরিকল্পনা রয়েছে, তবে মাত্র ৪৩% দেশ ২০২৩ সালের পর তা হালনাগাদ করেছে।
প্রতিরোধের মূল উপায়
বিজ্ঞানীদের সুপারিশ অনুযায়ী নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলি কার্যকর:
-
প্রতিটি যৌন সঙ্গমে কনডম ব্যবহার (সংক্রমণ ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমায়)
-
একাধিক যৌন সঙ্গী এড়ানো
-
নিয়মিত যৌন স্বাস্থ্য পরীক্ষা
-
সঙ্গীর সঙ্গে একসাথে চিকিৎসা
-
যৌন স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি
-
ধূমপান ও মাদক পরিহার
-
উপসর্গহীন সংক্রমণ শনাক্তকরণের জন্য স্ক্রীনিং কর্মসূচি
এশিয়া ও ভারতবর্ষে পরিস্থিতি
এশিয়া মহাদেশে ট্রাইকোমোনাসিসের গড় প্রাদুর্ভাব হার ৮%, তবে বিভিন্ন দেশে এই হার ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হয়। ১২৬টি গবেষণাপত্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে যে:
-
চীনে প্রাদুর্ভাব হার ৫% (তিব্বত অঞ্চলে সর্বোচ্চ ২৫%)
-
ভারতে প্রাদুর্ভাব হার ১০%
-
ইরাকে সর্বোচ্চ ৩৫%
-
মঙ্গোলিয়ায় ২৭%
-
ইন্দোনেশিয়ায় ২৫%
ভারতে ২৯টি গবেষণা অনুযায়ী, সংক্রমণের হার ৯% থেকে ১৭% পর্যন্ত পরিবর্তিত হয়। নিম্ন আয়ের এলাকা এবং যৌন স্বাস্থ্য শিক্ষার অভাবযুক্ত অঞ্চলে সংক্রমণের হার বেশি দেখা যায়।
নীতিনির্ধারণ ও ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা
জাতীয় পর্যায়ের কৌশল
ফ্রন্টিয়ার্স ইন পাবলিক হেলথ-এর সমীক্ষা অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী ট্রাইকোমোনাসিসের বোঝা ক্রমবর্ধমান এবং ২০৫০ সাল পর্যন্ত বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় লক্ষ্যভিত্তিক কৌশল প্রয়োজন:
-
উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীতে ফোকাস: ৩০-৫৪ বছর বয়সী মহিলা, নিম্ন আয়ের মানুষ এবং একাধিক যৌন সঙ্গীসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য বিশেষ কর্মসূচি।
-
নজরদারি ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ: যৌন সংক্রামিত সংক্রমণের তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের জন্য উন্নত ব্যবস্থা।
-
যৌন স্বাস্থ্য শিক্ষা: স্কুল, কলেজ ও সম্প্রদায় পর্যায়ে ব্যাপক সচেতনতা কর্মসূচি।
-
সাশ্রয়ী পরীক্ষা ও চিকিৎসা: সকলের জন্য সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী মূল্যে নির্ণয় ও চিকিৎসা সেবা।
গবেষণার ভবিষ্যৎ
বর্তমানে বিজ্ঞানীরা কাজ করছেন:
-
আরও সংবেদনশীল ও দ্রুত নির্ণয় পদ্ধতি উন্নয়নে
-
অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স মোকাবেলায় নতুন ওষুধ আবিষ্কারে
-
টিকা উন্নয়নের সম্ভাবনা অনুসন্ধানে
-
যৌন সংক্রামিত সংক্রমণের মধ্যে আন্তঃসম্পর্ক বোঝার চেষ্টায়
জন্স হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫ সালের গবেষণা অনুযায়ী, ট্রাইকোমোনাস পরজীবী মূলত পাখি থেকে মানুষে অভিযোজিত হয়েছে, যা এই পরজীবীর বিবর্তন এবং সংক্রমণ প্রক্রিয়া বোঝার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।
সামাজিক কলঙ্ক দূরীকরণ
ট্রাইকোমোনাসিস সহ সকল যৌন সংক্রামিত সংক্রমণ নিয়ে সামাজিক কলঙ্ক এবং লজ্জা রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসায় বড় বাধা। অনেক আক্রান্ত ব্যক্তি সামাজিক কলঙ্কের ভয়ে চিকিৎসা নিতে সংকোচ বোধ করেন, যা রোগের বিস্তার ঘটায়।
জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং খোলামেলা আলোচনার মাধ্যমে এই কলঙ্ক দূর করা সম্ভব। যৌন স্বাস্থ্য সাধারণ স্বাস্থ্যেরই একটি অংশ এবং এ নিয়ে আলোচনা কোনো লজ্জার বিষয় নয় – এই বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া জরুরি।
ট্রাইকোমোনাসিস একটি নীরব কিন্তু ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক স্বাস্থ্য সংকট যা প্রতি বছর কোটি কোটি মানুষকে আক্রান্ত করছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক গবেষকদের সাম্প্রতিক সমীক্ষাগুলি স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত করছে যে এই যৌন সংক্রামিত পরজীবী দেশে দেশে দ্রুত বিস্তৃত হচ্ছে এবং ২০৫০ সাল নাগাদ এর প্রভাব আরও ব্যাপক আকার ধারণ করবে। বিশেষভাবে উদ্বেগের বিষয় হল যে অধিকাংশ সংক্রমিত ব্যক্তি কোনো উপসর্গ প্রদর্শন করেন না, ফলে তারা অজান্তেই রোগ ছড়িয়ে দেন এবং চিকিৎসা নিতে দেরি হয়। এই পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য বহুমুখী পদক্ষেপ প্রয়োজন – যৌন স্বাস্থ্য শিক্ষার উন্নতি, সহজলভ্য স্ক্রীনিং কর্মসূচি, সাশ্রয়ী চিকিৎসা সেবা এবং সামাজিক কলঙ্ক দূরীকরণ। বিশেষত নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে, যেখানে সংক্রমণের হার সবচেয়ে বেশি, সেখানে লক্ষ্যভিত্তিক হস্তক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি। সরকার, স্বাস্থ্য সংস্থা, গবেষক এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত প্রয়াসের মাধ্যমেই এই বৈশ্বিক স্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা সম্ভব।











