কেনাকাটায় পুরুষ বিরক্ত হয় ২৬ মিনিটে, নারীরা ২ ঘণ্টাও অবিচল!

How long do men and women enjoy shopping: কেনাকাটা করতে গিয়ে পুরুষ ও নারীদের মধ্যে যে পার্থক্য রয়েছে তা নিয়ে একটি গবেষণা চালানো হয়েছে। এই গবেষণায় দেখা গেছে, পুরুষরা মাত্র…

Avatar

 

How long do men and women enjoy shopping: কেনাকাটা করতে গিয়ে পুরুষ ও নারীদের মধ্যে যে পার্থক্য রয়েছে তা নিয়ে একটি গবেষণা চালানো হয়েছে। এই গবেষণায় দেখা গেছে, পুরুষরা মাত্র ২৬ মিনিট কেনাকাটা করার পর বিরক্ত হয়ে পড়ে। অন্যদিকে নারীরা ২ ঘণ্টা পরেও কেনাকাটায় অবিচল থাকে।এই গবেষণার ফলাফল থেকে বোঝা যায় যে, কেনাকাটার ক্ষেত্রে পুরুষ ও নারীদের মধ্যে মনোভাবগত পার্থক্য রয়েছে। পুরুষরা দ্রুত প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনে ফেলতে চায়, অন্যদিকে নারীরা কেনাকাটাকে একটি আনন্দদায়ক অভিজ্ঞতা হিসেবে দেখে।

পুরুষদের কাছে কেনাকাটা একটি মিশনের মতো। তারা সাধারণত সেই আইলে যায় যেখানে তাদের প্রয়োজনীয় পণ্যটি রয়েছে, সেটি কিনে দ্রুত দোকান থেকে বের হয়ে আসে। অন্যদিকে নারীদের কাছে কেনাকাটা একটি যাত্রার মতো। তারা বিভিন্ন পণ্য খুঁটিয়ে দেখে, তুলনা করে এবং সেরা মূল্যের পণ্যটি বেছে নেয়।একটি গবেষণায় দেখা গেছে, পুরুষরা গড়ে ৪৫ মিনিট কেনাকাটায় সময় দেয়, অন্যদিকে নারীরা গড়ে ৫৮ মিনিট সময় ব্যয় করে।

স্বামী হিসেবে কোন রাশি কেমন? জানুন আপনার ভাগ্যে কী লেখা আছে!

এছাড়া দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনার দায়িত্ব ৮৯% নারী নেয়, যেখানে মাত্র ৪১% পুরুষ এই দায়িত্ব নেয়।কেনাকাটার ধরণেও পুরুষ ও নারীদের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। পুরুষরা সাধারণত যুক্তিনির্ভর হয়ে কেনাকাটা করে। তারা পণ্যের বৈশিষ্ট্য, সার্টিফিকেশন ও ওয়ারেন্টির দিকে বেশি নজর দেয়। অন্যদিকে নারীরা আবেগনির্ভর হয়ে কেনাকাটা করে। তারা পণ্যের সাথে একটি ব্যক্তিগত সংযোগ অনুভব করতে চায়।অনলাইন কেনাকাটার ক্ষেত্রেও পুরুষ ও নারীদের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, পুরুষরা অনলাইনে বেশি কেনাকাটা করে। প্রতিদিন ২৪% পুরুষ অনলাইনে কেনাকাটা করে, যেখানে মাত্র ১৭% নারী প্রতিদিন অনলাইনে কেনাকাটা করে।

পুরুষরা ৭০% সময় অনলাইনে কেনাকাটা করে, অন্যদিকে নারীরা ৫৭% সময় অনলাইনে কেনাকাটা করে।তবে অনলাইনে পণ্য খোঁজার ক্ষেত্রে পুরুষরা এগিয়ে রয়েছে। ৭০% পুরুষ অনলাইনে পণ্য খোঁজে, যেখানে মাত্র ৩০% নারী অনলাইনে পণ্য খোঁজে। এছাড়া পুরুষরা অনলাইনে বেশি খরচ করে। অস্ট্রেলিয়ায় পুরুষরা গড়ে ২,৩১৪ ডলার অনলাইনে খরচ করে, যেখানে নারীরা গড়ে ৭৪০ ডলার খরচ করে।পণ্যের ধরণ অনুযায়ীও পুরুষ ও নারীদের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। পুরুষরা কম্পিউটার ও প্রযুক্তিগত পণ্য বেশি কেনে। ৩৯% পুরুষ এই ধরনের পণ্য কেনে, যেখানে মাত্র ১৮% নারী এই ধরনের পণ্য কেনে। অন্যদিকে নারীরা পোশাক ও ক্রীড়া সামগ্রী বেশি কেনে।কেনাকাটার সময় পুরুষ ও নারীদের মধ্যে আরও কিছু পার্থক্য রয়েছে। যেমন:

  • পুরুষরা বেশি আবেগতাড়িত হয়ে কেনাকাটা করে। ৫৪% পুরুষ আবেগতাড়িত হয়ে কেনাকাটা করে, যেখানে ৪৫% নারী আবেগতাড়িত হয়ে কেনাকাটা করে।
  • নারীরা ছাড়ের সময় বেশি কেনাকাটা করে। ৭৪% নারী ছাড়ের সময় কেনাকাটা করে, যেখানে ৫৭% পুরুষ ছাড়ের সময় কেনাকাটা করে।
  • পুরুষরা ব্র্যান্ড লয়্যাল। ৪১% পুরুষ পরিচিত ব্র্যান্ডের পণ্য কেনে, যেখানে ২২% নারী পরিচিত ব্র্যান্ডের পণ্য কেনে।
  • নারীরা বেশি কুপন ব্যবহার করে। ৪৭% নারী সোশ্যাল মিডিয়ায় কুপন খোঁজে, যেখানে ৩৩% পুরুষ সোশ্যাল মিডিয়ায় কুপন খোঁজে।

কেনাকাটার ক্ষেত্রে পুরুষ ও নারীদের মধ্যে এই পার্থক্যের কারণ হল তাদের মস্তিষ্কের গঠনগত পার্থক্য। এছাড়া সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কারণও রয়েছে। তবে বর্তমানে এই পার্থক্য কমে আসছে। বিশেষ করে ১৮-২৪ বছর বয়সী পুরুষরা নারীদের মতোই কেনাকাটা করছে।তবে এই পার্থক্য সব ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। বয়স, দেশ ও সংস্কৃতির উপর নির্ভর করে এই পার্থক্য কম-বেশি হতে পারে।

ধনতেরস ২০২৪: শুভ মুহূর্তে কেনাকাটা করে ধনলক্ষ্মীকে আকর্ষণ করুন – জানুন সঠিক তারিখ ও সময়

তাই কেনাকাটার ক্ষেত্রে পুরুষ ও নারীদের মধ্যে পার্থক্য নিয়ে কোনো সিদ্ধান্তে আসার আগে এই বিষয়গুলো মাথায় রাখা প্রয়োজন।সামগ্রিকভাবে দেখা যায়, কেনাকাটার ক্ষেত্রে পুরুষ ও নারীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। পুরুষরা দ্রুত কেনাকাটা সেরে ফেলতে চায়, অন্যদিকে নারীরা কেনাকাটাকে একটি আনন্দদায়ক অভিজ্ঞতা হিসেবে দেখে। এই পার্থক্য জানা থাকলে ব্যবসায়ীরা তাদের বিপণন কৌশল ঠিক করতে পারবে এবং গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী পণ্য ও সেবা প্রদান করতে পারবে।

About Author
Avatar

আমাদের স্টাফ রিপোর্টারগণ সর্বদা নিষ্ঠার সাথে কাজ করে যাচ্ছেন যাতে আপনি বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের সর্বশেষ ও গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে পারেন। তাঁদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও প্রতিশ্রুতি আমাদের ওয়েবসাইটকে একটি বিশ্বস্ত তথ্যের উৎস হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।তারা নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ রিপোর্টিংয়ে বিশ্বাসী, দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক প্রতিবেদন তৈরিতে সক্ষম

আরও পড়ুন