Shreya Ghoshal Spotify Billboard

Shreya Ghoshal: স্পটিফাইয়ের প্রথম ভারতীয় ইকুয়াল গ্লোবাল অ্যাম্বাসেডর হিসেবে টাইমস স্কোয়ারে বিলবোর্ডে চমক!

বিশ্বখ্যাত গায়িকা শ্রেয়া ঘোষাল এবার স্পটিফাইয়ের প্রথম ভারতীয় ইকুয়াল গ্লোবাল অ্যাম্বাসেডর হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন। এই উপলক্ষে তাঁর ছবি নিউইয়র্কের টাইমস স্কোয়ারের বিশাল ডিজিটাল বিলবোর্ডে প্রদর্শিত হয়েছে। সোমবার নিজের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে এই আনন্দের খবর জানিয়েছেন শ্রেয়া। ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করা ছবিতে…

avatar
Written By : Ishita Ganguly
Updated Now: October 11, 2024 12:28 AM
বিজ্ঞাপন

বিশ্বখ্যাত গায়িকা শ্রেয়া ঘোষাল এবার স্পটিফাইয়ের প্রথম ভারতীয় ইকুয়াল গ্লোবাল অ্যাম্বাসেডর হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন। এই উপলক্ষে তাঁর ছবি নিউইয়র্কের টাইমস স্কোয়ারের বিশাল ডিজিটাল বিলবোর্ডে প্রদর্শিত হয়েছে। সোমবার নিজের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে এই আনন্দের খবর জানিয়েছেন শ্রেয়া।

ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করা ছবিতে দেখা যাচ্ছে টাইমস স্কোয়ারের বিলবোর্ডে শ্রেয়ার বিশাল ছবি। ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন, “আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে আপনাদের এসজি হলো প্রথম ভারতীয় শিল্পী যিনি @spotify @spotifyindia-এর ইকুয়াল গ্লোবাল অ্যাম্বাসেডর হয়েছেন। এখানে নিউইয়র্ক টাইমস স্কোয়ার থেকে কিছু দৃশ্য।”

২০২১ সালে স্পটিফাই তাদের ইকুয়াল গ্লোবাল মিউজিক প্রোগ্রাম চালু করে। এর উদ্দেশ্য হলো সঙ্গীত শিল্পে নারীদের অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং লিঙ্গ সমতা প্রতিষ্ঠা করা। বিশ্বব্যাপী নারী শিল্পীদের সৃষ্টিকে তুলে ধরা ও সমর্থন করার লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

Swastika Mukherjee Bijoya at Hoichoi: সায়ন্তন ঘোষালের নতুন ওয়েব সিরিজে মাতৃত্বের অনন্য রূপায়ণ

শ্রেয়া ঘোষালের সঙ্গীত জীবন শুরু হয়েছিল মাত্র ৪ বছর বয়সে। ৬ বছর বয়সে তিনি শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের প্রথাগত শিক্ষা শুরু করেন। ১৬ বছর বয়সে টেলিভিশন রিয়েলিটি শো ‘সা রে গা মা’ জিতে তিনি পরিচালক সঞ্জয় লীলা ভাঞ্জালির মায়ের নজরে আসেন। এরপর থেকেই তাঁর কেরিয়ারে উত্থান শুরু হয়।

২০০২ সালে সঞ্জয় লীলা ভাঞ্জালির ‘দেবদাস’ ছবিতে ‘বৈরী পিয়া’ গানটি গেয়ে বলিউডে অভিষেক হয় শ্রেয়ার। এই গানের জন্য তিনি জাতীয় পুরস্কারসহ ফিল্মফেয়ার সেরা মহিলা পার্শ্বগায়িকা পুরস্কার এবং ফিল্মফেয়ার আর ডি বর্মন নতুন সঙ্গীত প্রতিভা পুরস্কার জিতেছিলেন।

এরপর থেকে শ্রেয়া ঘোষাল বিভিন্ন ভাষায় অসংখ্য জনপ্রিয় গান গেয়েছেন। তাঁর কিছু উল্লেখযোগ্য গান হলো ‘তেরি ওরে’ (২০০৮), ‘সান রাহা হ্যায় না তু’ (২০১৩), ‘ঘুমার’ (২০১৮), ‘গুলি মাতা’ (২০২৩) ইত্যাদি। সোনু নিগমের সঙ্গে তিনি ১২০টিরও বেশি গানে কণ্ঠ দিয়েছেন।

সম্প্রতি শ্রেয়া ঘোষাল অমিতাভ বচ্চন পরিচালিত জনপ্রিয় গেম শো ‘কৌন বনেগা করোড়পতি’র ১৬তম সিজনের ২০ সেপ্টেম্বরের এপিসোডে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। সেখানে তিনি ‘অভি মুঝ মেইঁ কাহিঁ’ (২০১১), ‘মেইঁ অগর কাহুঁ’ (২০০৭), ‘মেইঁ হুঁ না’ (২০০৪) সহ বেশ কিছু হিট গান পরিবেশন করেন।

৬টি ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় খাদ্য ব্র্যান্ড: ৫০+ বছর ধরে কোটি কোটি টাকার ব্যবসায় সফল”

পেশাদার ক্ষেত্রে শ্রেয়া আবারও ‘ইন্ডিয়ান আইডল’ সিজন ১৫-এ বিচারক হিসেবে ফিরছেন। সম্প্রতি তিনি জন আব্রাহাম ও শারবরী ওয়াঘ অভিনীত ‘ভেদা’ ছবির জন্য ‘জরুরত সে জ্যাদা’ গানটি রেকর্ড করেছেন। এছাড়াও আল্লু অর্জুন ও রশ্মিকা মান্দান্না অভিনীত আসন্ন ‘পুষ্পা ২: দ্য রুল’ ছবির হিন্দি সংস্করণের ‘অঙ্গারোঁ’ গানেও কণ্ঠ দিয়েছেন তিনি।

শ্রেয়া ঘোষালের এই সাফল্য ভারতীয় সঙ্গীত শিল্পে নারীদের অবদানকে আন্তর্জাতিক স্তরে স্বীকৃতি দিল। এর মাধ্যমে তিনি শুধু নিজের জন্য নয়, সমস্ত ভারতীয় নারী শিল্পীদের জন্যও নতুন পথ খুলে দিলেন। স্পটিফাইয়ের এই উদ্যোগ সঙ্গীত জগতে নারীদের সমান সুযোগ ও স্বীকৃতি দেওয়ার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

শ্রেয়া ঘোষালের এই অর্জন শুধু তাঁর ব্যক্তিগত সাফল্যই নয়, এটি সমগ্র ভারতীয় সঙ্গীত শিল্পের জন্য একটি বড় পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী ভারতীয় সঙ্গীতের প্রভাব ও জনপ্রিয়তা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা যায়। একইসঙ্গে এটি অন্যান্য নারী শিল্পীদের জন্যও অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করবে।

স্পটিফাইয়ের ইকুয়াল প্রোগ্রাম এর আগে ৪০০ জন অ্যাম্বাসেডর নিয়োগ করেছে, যারা ১৮৪টি বাজারে কাজ করছেন। এই প্রোগ্রামের মাধ্যমে ১৩ মিলিয়ন ঘণ্টার শ্রোতা পাওয়া গেছে এবং ৩৫টি প্লেলিস্ট তৈরি করা হয়েছে। এসব পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায় যে এই উদ্যোগ কতটা শক্তিশালী প্রভাব ফেলছে।

শ্রেয়া ঘোষালের এই অর্জন ভারতীয় সঙ্গীত শিল্পের জন্য একটি মাইলফলক। এর মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী ভারতীয় সঙ্গীতের প্রভাব ও জনপ্রিয়তা আরও বৃদ্ধি পাবে। একইসঙ্গে এটি অন্যান্য নারী শিল্পীদের জন্যও অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করবে। আশা করা যায়, এর ফলে আরও বেশি নারী শিল্পী আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেদের প্রতিভা দেখানোর সুযোগ পাবেন।

শ্রেয়া ঘোষালের এই সাফল্য প্রমাণ করে যে প্রতিভা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে সব বাধা অতিক্রম করা সম্ভব। তাঁর জীবন যাত্রা অন্য অনেক তরুণ প্রতিভাবান শিল্পীদের অনুপ্রাণিত করবে যারা নিজেদের স্বপ্ন পূরণের জন্য কঠোর পরিশ্রম করছেন।

সামগ্রিকভাবে, শ্রেয়া ঘোষালের এই অর্জন শুধু তাঁর ব্যক্তিগত সাফল্যই নয়, এটি সমগ্র ভারতীয় সঙ্গীত শিল্পের জন্য একটি বড় পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী ভারতীয় সঙ্গীতের প্রভাব ও জনপ্রিয়তা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা যায়। একইসঙ্গে এটি অন্যান্য নারী শিল্পীদের জন্যও অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করবে, যা ভবিষ্যতে সঙ্গীত জগতে আরও বেশি নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করবে।