নীরব ঘাতক স্নেইল ফিভার: লক্ষণ, কারণ ও প্রতিকার জানুন

স্নেইল ফিভার বা শিস্টোসোমিয়াসিস একটি পরজীবীঘটিত গ্রীষ্মমণ্ডলীয় রোগ যা বিশ্বে ম্যালেরিয়ার পরেই দ্বিতীয় সবচেয়ে বিপজ্জনক পরজীবী সংক্রমণ হিসেবে বিবেচিত । বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) ২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী প্রায়…

Debolina Roy

 

স্নেইল ফিভার বা শিস্টোসোমিয়াসিস একটি পরজীবীঘটিত গ্রীষ্মমণ্ডলীয় রোগ যা বিশ্বে ম্যালেরিয়ার পরেই দ্বিতীয় সবচেয়ে বিপজ্জনক পরজীবী সংক্রমণ হিসেবে বিবেচিত । বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) ২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী প্রায় ২৫৩.৭ মিলিয়ন মানুষ এই রোগের ঝুঁকিতে রয়েছে এবং প্রতিরোধমূলক চিকিৎসার প্রয়োজন, যার মধ্যে ১৩৪.৮ মিলিয়ন স্কুলগামী শিশু । এই রোগটিকে “নীরব ঘাতক” বলা হয় কারণ এটি বছরের পর বছর শরীরে লুকিয়ে থেকে অজান্তেই লিভার, কিডনি, ফুসফুস এবং মূত্রথলিতে মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে ।

স্নেইল ফিভার কী এবং কেন এই নামকরণ

শিস্টোসোমিয়াসিস, যা স্নেইল ফিভার, বিলহারজিয়া বা কাতায়ামা জ্বর নামেও পরিচিত, হলো শিস্টোসোমা (Schistosoma) গণের পরজীবী ফ্ল্যাটওয়ার্ম দ্বারা সৃষ্ট একটি রোগ । এই পরজীবী মিঠা পানিতে বসবাসকারী নির্দিষ্ট প্রজাতির শামুকের মধ্যে বংশবৃদ্ধি করে এবং সেখান থেকে মানুষের শরীরে প্রবেশ করে । যেহেতু শামুক এই পরজীবীর বাহক এবং জীবনচক্রের মধ্যবর্তী পোষক, তাই এই রোগের নাম হয়েছে “স্নেইল ফিভার” ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এটিকে একটি অবহেলিত গ্রীষ্মমণ্ডলীয় রোগ (Neglected Tropical Disease) হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ করেছে । ৭৯টি দেশে এই রোগ স্থানীয় হিসেবে দেখা যায়, যার মধ্যে ৫০টি দেশে প্রতিরোধমূলক চিকিৎসার প্রয়োজন রয়েছে । আফ্রিকা মহাদেশে এই রোগের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি, যেখানে প্রায় ৯৪% আক্রান্ত মানুষ বসবাস করেন ।

কীভাবে ছড়ায় এই পরজীবী

শিস্টোসোমিয়াসিসের সংক্রমণ ঘটে যখন কোনো ব্যক্তি দূষিত মিঠা পানির সংস্পর্শে আসে । এই পরজীবীর জীবনচক্র অত্যন্ত জটিল এবং মানুষ ও শামুক উভয়ের মধ্যে সম্পন্ন হয়। আক্রান্ত ব্যক্তির প্রস্রাব বা মলের সাথে পরজীবীর ডিম মিঠা পানিতে মিশে যায় । এই ডিম থেকে মিরাসিডিয়া (miracidia) নামক লার্ভা বের হয়ে নির্দিষ্ট প্রজাতির শামুককে সংক্রমিত করে । শামুকের ভিতরে ৪ থেকে ৬ সপ্তাহের মধ্যে এই লার্ভা সারকারিয়া (cercariae) নামক সংক্রামক পর্যায়ে পরিণত হয় ।

যখন কোনো ব্যক্তি দূষিত পানিতে গোসল করে, সাঁতার কাটে, কাপড় ধোয়, মাছ ধরা বা কৃষিকাজ করে, তখন এই সারকারিয়া ত্বক ভেদ করে শরীরে প্রবেশ করে । রক্তপ্রবাহের মাধ্যমে এই পরজীবী লিভার, ফুসফুস, অন্ত্র এবং মূত্রথলিতে পৌঁছায় এবং সেখানে বসবাস শুরু করে । গ্রামাঞ্চলে যেখানে পরিষ্কার পানির অভাব এবং স্যানিটেশন ব্যবস্থা দুর্বল, সেখানে এই রোগ দ্রুত ছড়ায় ।

স্নেইল ফিভারের লক্ষণসমূহ

তীব্র পর্যায়ের লক্ষণ (Acute Phase)

সংক্রমণের ১৪ থেকে ৮৪ দিনের মধ্যে তীব্র শিস্টোসোমিয়াসিস বা কাতায়ামা সিনড্রোম দেখা দিতে পারে । তবে অনেক রোগীর ক্ষেত্রে কোনো লক্ষণ প্রকাশ নাও পেতে পারে, যা এই রোগকে আরও বিপজ্জনক করে তোলে। তীব্র পর্যায়ের প্রধান লক্ষণগুলো হলো:

  • জ্বর এবং মাথাব্যথা

  • শুষ্ক কাশি এবং শ্বাসকষ্ট

  • ত্বকে ফুসকুড়ি এবং চুলকানি

  • পেশীতে ব্যথা এবং শরীরে দুর্বলতা

  • পেটে ব্যথা এবং ডায়রিয়া

  • লিভার ও প্লীহা বড় হয়ে যাওয়া

  • রক্তে ইওসিনোফিল বৃদ্ধি

এই তীব্র পর্যায় প্রথম সংক্রমণের তিন থেকে ছয় সপ্তাহ পরে দেখা যায় এবং প্রায়ই অন্যান্য জ্বরজনিত রোগের সাথে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে ।

দীর্ঘমেয়াদী বা দীর্ঘস্থায়ী পর্যায়ের লক্ষণ (Chronic Phase)

সংক্রমণের ছয় মাস পর থেকে দীর্ঘস্থায়ী পর্যায় শুরু হয় এবং এটি কয়েক বছর স্থায়ী হতে পারে । এই পর্যায়ে পরজীবী বিভিন্ন অঙ্গে ডিম পাড়ে এবং গুরুতর জটিলতা সৃষ্টি করে:

  • রক্তমিশ্রিত প্রস্রাব বা মল

  • রক্তশূন্যতা (Anaemia)

  • লিভারে ফাইব্রোসিস এবং পোর্টাল হাইপারটেনশন

  • কিডনি ব্যর্থতা

  • মূত্রথলিতে ক্যান্সার

  • বন্ধ্যত্ব

  • শিশুদের ক্ষেত্রে শারীরিক বৃদ্ধি ও শেখার সমস্যা

  • ফুসফুস এবং পোর্টাল হাইপারটেনশন

নারীদের ক্ষেত্রে, জননতন্ত্রে পরজীবীর ডিম জমা হয়ে জরায়ু, ফ্যালোপিয়ান টিউব এবং যোনিপথে ক্ষতি করতে পারে, যা অন্যান্য সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায় ।

কেন এটি “নীরব ঘাতক”

শিস্টোসোমিয়াসিসকে নীরব ঘাতক বলা হয় কারণ এই পরজীবী বছরের পর বছর শরীরে লুকিয়ে থাকতে পারে এবং প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো উল্লেখযোগ্য লক্ষণ প্রকাশ নাও করতে পারে । অনেক রোগী জানেনই না যে তারা সংক্রমিত, যতক্ষণ না গুরুতর জটিলতা দেখা দেয় । পরজীবীর ডিম ধীরে ধীরে লিভার, কিডনি, মূত্রথলি এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে জমা হয়ে টিশু ক্ষতিগ্রস্ত করে ।

এই রোগের সবচেয়ে ভয়াবহ দিক হলো দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব। পোর্টাল হাইপারটেনশন, লিভার সিরোসিস, কিডনি ব্যর্থতা এবং মূত্রথলির ক্যান্সার যখন ধরা পড়ে, ততদিনে অনেক দেরি হয়ে যায় । বিশেষত দরিদ্র এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীতে যেখানে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছায় না, সেখানে এই রোগ নীরবে মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়ে ।

বৈশ্বিক পরিস্থিতি এবং পরিসংখ্যান

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বিশ্বব্যাপী প্রায় ২৫৩.৭ মিলিয়ন মানুষের প্রতিরোধমূলক কেমোথেরাপির প্রয়োজন ছিল, যার মধ্যে ১৩৪.৮ মিলিয়ন স্কুলগামী শিশু । ২০২৪ সালে ৩৫টি দেশ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ১০০ মিলিয়নের বেশি মানুষ প্রতিরোধমূলক চিকিৎসা পেয়েছে, যা স্কুলগামী শিশুদের জন্য ৬১.৭% এবং প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য মাত্র ১৪.৬% কভারেজ নির্দেশ করে ।

আফ্রিকা মহাদেশে পরিস্থিতি সবচেয়ে উদ্বেগজনক, যেখানে শিস্টোসোমিয়াসিসের জন্য প্রতিরোধমূলক চিকিৎসা প্রয়োজন এমন ৯৪% মানুষ বাস করেন । এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য এবং ল্যাটিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশেও এই রোগ দেখা যায় । ইথিওপিয়ায় সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে যে ২৫০ মিলিয়নের বেশি মানুষ এই রোগে আক্রান্ত ।

চিকিৎসা ও ওষুধ

প্রাজিকোয়ান্টেল: প্রধান চিকিৎসা

প্রাজিকোয়ান্টেল (Praziquantel) হলো শিস্টোসোমিয়াসিসের একমাত্র এবং সবচেয়ে কার্যকর চিকিৎসা । বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সকল ধরনের শিস্টোসোমা প্রজাতির সংক্রমণের জন্য এই ওষুধ সুপারিশ করে । গবেষণায় দেখা গেছে যে প্রাজিকোয়ান্টেলের সফলতার হার ৬৫% থেকে ৯০% পর্যন্ত ।

ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী যেমন শিশু, কৃষিশ্রমিক এবং জেলেদের জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বছরে একবার প্রাজিকোয়ান্টেল সেবনের পরামর্শ দেয় । উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় যেখানে ৫০% বা তার বেশি স্কুলগামী শিশু সংক্রমিত, সেখানে সকল শিশু এবং ঝুঁকিপূর্ণ প্রাপ্তবয়স্কদের বছরে একবার চিকিৎসা দেওয়া হয় ।

চিকিৎসার সময়কাল এবং পদ্ধতি

তীব্র পর্যায়ে চিকিৎসায় অ্যান্টি-প্যারাসাইটিক ওষুধের পাশাপাশি জ্বর এবং উপসর্গ নিয়ন্ত্রণের জন্য সহায়ক চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে । দীর্ঘস্থায়ী পর্যায়ে, জটিলতার উপর নির্ভর করে অতিরিক্ত চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে। লিভার, কিডনি বা মূত্রথলিতে ক্ষতি হলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসার প্রয়োজন ।

প্রাজিকোয়ান্টেল অন্যান্য পরজীবীবিরোধী ওষুধ যেমন অ্যালবেন্ডাজল এবং আইভারমেকটিনের সাথেও নিরাপদে ব্যবহার করা যায়, যা একই এলাকায় একাধিক পরজীবী সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ।

প্রতিরোধের উপায়

ব্যক্তিগত প্রতিরোধ

১. দূষিত পানি এড়িয়ে চলা: যেসব এলাকায় শিস্টোসোমিয়াসিস প্রচলিত, সেখানে মিঠা পানির নদী, পুকুর বা জলাশয়ে গোসল, সাঁতার বা কাপড় ধোয়া থেকে বিরত থাকুন

২. নিরাপদ পানি ব্যবহার: পানীয় জল এবং ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার জন্য শুধুমাত্র নিরাপদ, বিশুদ্ধ পানি ব্যবহার করুন

৩. প্রতিরক্ষামূলক পোশাক: পানির সংস্পর্শে আসতে হলে প্রতিরক্ষামূলক পোশাক এবং জুতা পরুন

৪. পানি ফুটিয়ে ব্যবহার: ৫-১০ মিনিট পানি ফুটালে সারকারিয়া মারা যায় এবং পানি নিরাপদ হয়

সামাজিক ও সম্প্রদায়ভিত্তিক প্রতিরোধ

১. স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নতি: সঠিক টয়লেট সুবিধা নিশ্চিত করা যাতে মানুষের বর্জ্য পানিতে না মেশে

২. শামুক নিয়ন্ত্রণ: জলাশয়ে শামুকের সংখ্যা কমানোর ব্যবস্থা নেওয়া

৩. গণ চিকিৎসা কর্মসূচি: ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নিয়মিত প্রাজিকোয়ান্টেল বিতরণ

৪. সচেতনতা বৃদ্ধি: স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে রোগ সম্পর্কে শিক্ষিত করা এবং প্রতিরোধের উপায় জানানো

৫. পরিষ্কার পানির প্রবেশাধিকার: নিরাপদ পানীয় জল এবং গোসলের জন্য পরিষ্কার পানির ব্যবস্থা করা

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কৌশল এবং লক্ষ্য

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার শিস্টোসোমিয়াসিস নিয়ন্ত্রণ কৌশল মূলত প্রাজিকোয়ান্টেল দিয়ে নিয়মিত প্রতিরোধমূলক চিকিৎসার (Preventive Chemotherapy) উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে । ২০২০ এবং ২০২৫ সালের লক্ষ্য হলো এই রোগ নিয়ন্ত্রণ এবং জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে নির্মূল করা ।

উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় স্কুলগামী শিশু এবং প্রাপ্তবয়স্কদের নিয়মিত চিকিৎসা দিয়ে গুরুতর অসুস্থতা প্রতিরোধ করা যায় । ২০১৯ সালে বিশ্বব্যাপী ৪৪.৫% শিস্টোসোমিয়াসিস আক্রান্ত রোগী চিকিৎসা পেয়েছিল এবং ৬৭.২% ঝুঁকিপূর্ণ স্কুলগামী শিশু প্রতিরোধমূলক চিকিৎসা পেয়েছিল ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার লক্ষ্য হলো ২০৩০ সালের মধ্যে কমপক্ষে ৭৫% ঝুঁকিপূর্ণ শিশুকে চিকিৎসার আওতায় আনা এবং নিম্ন সংক্রমণ এলাকায় রোগ সংক্রমণ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা ।

ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী

কিছু নির্দিষ্ট গোষ্ঠী শিস্টোসোমিয়াসিসে আক্রান্ত হওয়ার বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে:

  • শিশুরা: বিশেষত যারা দূষিত পানিতে খেলাধুলা করে

  • কৃষিকাজে নিয়োজিত মানুষ: যারা ধানক্ষেত বা সেচ এলাকায় কাজ করে

  • জেলেরা: যাদের নিয়মিত মিঠা পানিতে কাজ করতে হয়

  • গৃহস্থালির কাজে নিয়োজিত: যারা নদী বা পুকুরে কাপড় ধোয়, গোসল করে

  • দরিদ্র এবং প্রান্তিক সম্প্রদায়: যেখানে পরিষ্কার পানি এবং স্যানিটেশন সুবিধা নেই

রোগ নির্ণয়

শিস্টোসোমিয়াসিস নির্ণয়ের জন্য বিভিন্ন পরীক্ষা করা হয়:

১. মাইক্রোস্কোপিক পরীক্ষা: মল বা প্রস্রাবে পরজীবীর ডিম খোঁজা হয়

২. রক্ত পরীক্ষা: ইওসিনোফিল গণনা এবং অ্যান্টিবডি পরীক্ষা

৩. ইমেজিং টেস্ট: আল্ট্রাসাউন্ড বা সিটি স্ক্যান দিয়ে অঙ্গের ক্ষতি মূল্যায়ন

৪. কোয়েস্টনিয়ার পদ্ধতি: মূত্রনালী শিস্টোসোমিয়াসিসের জন্য প্রস্রাবে দৃশ্যমান রক্তের উপর ভিত্তি করে

জটিলতা এবং দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব

চিকিৎসা না করলে শিস্টোসোমিয়াসিস মারাত্মক স্বাস্থ্য সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে:

অঙ্গ জটিলতা
লিভার ফাইব্রোসিস, পোর্টাল হাইপারটেনশন, সিরোসিস
কিডনি কিডনি ব্যর্থতা, দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগ
মূত্রথলি ফাইব্রোসিস, মূত্রথলির ক্যান্সার, রক্তমিশ্রিত প্রস্রাব
ফুসফুস পালমোনারি হাইপারটেনশন
পাচনতন্ত্র অন্ত্রে ক্ষতি, রক্তমিশ্রিত মল, ডায়রিয়া
জননতন্ত্র বন্ধ্যত্ব, জরায়ু ও যোনিপথে ক্ষতি
শিশুদের ক্ষেত্রে, দীর্ঘস্থায়ী সংক্রমণ শারীরিক বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত করে, রক্তশূন্যতা সৃষ্টি করে এবং শেখার ক্ষমতা হ্রাস করে ।

স্নেইল ফিভার বা শিস্টোসোমিয়াসিস একটি গুরুতর কিন্তু প্রতিরোধযোগ্য এবং চিকিৎসাযোগ্য রোগ যা বিশ্বব্যাপী লক্ষ লক্ষ মানুষকে প্রভাবিত করে। এই “নীরব ঘাতক” দীর্ঘ সময় ধরে নীরবে শরীরে থেকে লিভার, কিডনি এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। প্রাজিকোয়ান্টেল একটি কার্যকর এবং নিরাপদ চিকিৎসা যা সঠিক সময়ে প্রয়োগ করলে জটিলতা প্রতিরোধ করা সম্ভব। দূষিত মিঠা পানির সংস্পর্শ এড়ানো, পরিষ্কার পানি ব্যবহার এবং সঠিক স্যানিটেশন ব্যবস্থা এই রোগ প্রতিরোধের মূল চাবিকাঠি। সচেতনতা বৃদ্ধি, গণ চিকিৎসা কর্মসূচি এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুসরণ করে এই নীরব ঘাতক থেকে সম্প্রদায়কে রক্ষা করা সম্ভব। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী মানুষ, বিশেষত শিশু, কৃষিশ্রমিক এবং জেলেদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং প্রতিরোধমূলক চিকিৎসা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

About Author
Debolina Roy

দেবলীনা রায় একজন চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্য বিষয়ক লেখক, যিনি স্বাস্থ্য সচেতনতা এবং চিকিৎসা বিজ্ঞান সম্পর্কে পাঠকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য নিবেদিত। ডাক্তারি নিয়ে পড়াশোনা করা দেবলীনা তার লেখায় চিকিৎসা বিষয়ক জটিল তথ্যগুলি সহজ ভাষায় উপস্থাপন করেন, যা সাধারণ পাঠকদের জন্য সহজবোধ্য এবং উপকারী। স্বাস্থ্য, পুষ্টি, এবং রোগ প্রতিরোধের বিষয়ে তার গভীর জ্ঞান এবং প্রাঞ্জল লেখনী পাঠকদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। দেবলীনা রায়ের লক্ষ্য হল সঠিক ও তথ্যনির্ভর স্বাস্থ্যবিধি প্রচার করা এবং মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করা।

আরও পড়ুন