Strom Motors R3 specifications

স্ট্রম মোটরস R3: ভারতের প্রথম ইলেকট্রিক রিভার্স ট্রাইক গাড়ির অসাধারণ বৈশিষ্ট্য

Strom Motors R3 specifications: স্ট্রম মোটরস R3 হল ভারতের প্রথম ইলেকট্রিক রিভার্স ট্রাইক গাড়ি যা দেশের ইলেকট্রিক যানবাহন শিল্পে একটি নতুন যুগের সূচনা করেছে। এই অভিনব গাড়িটি তার অসাধারণ বৈশিষ্ট্য এবং কার্যকারিতার জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। আসুন জেনে নেই এর বিস্ময়কর…

avatar
Written By : Tamal Kundu
Updated Now: October 21, 2024 11:20 AM
বিজ্ঞাপন

Strom Motors R3 specifications: স্ট্রম মোটরস R3 হল ভারতের প্রথম ইলেকট্রিক রিভার্স ট্রাইক গাড়ি যা দেশের ইলেকট্রিক যানবাহন শিল্পে একটি নতুন যুগের সূচনা করেছে। এই অভিনব গাড়িটি তার অসাধারণ বৈশিষ্ট্য এবং কার্যকারিতার জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। আসুন জেনে নেই এর বিস্ময়কর স্পেসিফিকেশন সম্পর্কে।R3 একটি দুই আসনের হ্যাচব্যাক গাড়ি যা একটি AC ইনডাকশন মোটর দ্বারা চালিত হয়। এর আউটপুট পাওয়ার 20.11 bhp এবং টর্ক 90 Nm। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল এর রেঞ্জ – একবার ফুল চার্জ দিলে এটি 200 কিলোমিটার পর্যন্ত চলতে পারে। এর ব্যাটারি পুরোপুরি চার্জ হতে মাত্র 3 ঘণ্টা সময় লাগে।

গাড়িটির ডিজাইন অত্যন্ত কম্প্যাক্ট এবং হালকা। এর দৈর্ঘ্য 2907 মিমি, প্রস্থ 1450 মিমি এবং উচ্চতা 1572 মিমি। কার্ব ওজন মাত্র 550 কেজি যা এর দক্ষতা বাড়াতে সাহায্য করে। R3 এর গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স 185 মিমি যা ভারতীয় রাস্তার জন্য উপযুক্ত।

পারফরম্যান্সের দিক থেকে R3 বেশ ভালো। এর সর্বোচ্চ গতি 80 কিমি/ঘণ্টা। গাড়িটি রিয়ার হুইল ড্রাইভ (RWD) সিস্টেম ব্যবহার করে যা ভালো হ্যান্ডলিং প্রদান করে। এছাড়া এতে 3টি ড্রাইভ মোড রয়েছে যা চালকদের বিভিন্ন পরিস্থিতিতে গাড়ি চালানোর সুবিধা দেয়।সুরক্ষার দিক থেকেও R3 বেশ এগিয়ে। এতে হাইড্রোলিক ডিস্ক ব্রেক (সামনে) এবং ড্রাম ব্রেক (পিছনে) রয়েছে। এছাড়া ABS, 2টি এয়ারব্যাগ এবং রিভার্স ক্যামেরাও দেওয়া আছে।
World’s Most Famous Car Brands: নাম তোহ সুনা হোগা, সড়কের রাজাদের গল্প

গাড়িটির বডি একটি শক্তিশালী স্পেস ফ্রেম দিয়ে তৈরি যা দুর্ঘটনার সময় যাত্রীদের সুরক্ষা দেয়।R3 এর ইন্টেরিয়র বেশ আধুনিক ও সুবিধাজনক। এতে কীলেস এন্ট্রি, পাওয়ার উইন্ডো, ডিজিটাল ড্রাইভার ডিসপ্লে, 7-ইঞ্চি ইনফোটেইনমেন্ট টাচস্ক্রিন, ভয়েস ও জেসচার কমান্ড, ক্লাইমেট কন্ট্রোল এবং GPS নেভিগেশন রয়েছে। এছাড়া 4.3-ইঞ্চি ডিজিটাল ইনস্ট্রুমেন্ট কনসোল, নেভিগেশন সিস্টেম এবং ডিস্ট্যান্স টু এম্পটি ডিসপ্লেও দেওয়া আছে।স্টোরেজের দিক থেকেও R3 বেশ সুবিধাজনক। এর বুট স্পেস 300 লিটার যা এই ধরনের কম্প্যাক্ট গাড়ির জন্য যথেষ্ট।

এছাড়া ইন্টারনাল স্টোরেজ স্পেসও রয়েছে।R3 এর একটি বড় আকর্ষণ হল এর দাম। এর প্রত্যাশিত দাম 4.5 লাখ টাকা (এক্স-শোরুম) যা অন্যান্য ইলেকট্রিক গাড়ির তুলনায় অনেক কম। এছাড়া এর রানিং কস্ট মাত্র 40 পয়সা প্রতি কিলোমিটার যা পেট্রোল গাড়ির তুলনায় অনেক কম।R3 এর ব্যাটারি প্যাক 1 লাখ কিলোমিটার চলার পর বদলাতে হয়। এটি 48V ব্যাটারি সিস্টেম ব্যবহার করে যা সেকেন্ড লাইফ অ্যাপ্লিকেশনের জন্য উপযুক্ত।

কোম্পানি ব্যবহৃত ব্যাটারি পুনর্ব্যবহারের জন্য বিভিন্ন পক্ষের সাথে আলোচনা করছে।ভবিষ্যতে R3 এ আরও কিছু উন্নত ফিচার যোগ করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে অটোমেটিক ভেহিকল ফলোইং সিস্টেম (AVFS) এবং রিমোট অ্যাসিস্টেড পার্কিং সিস্টেম। এগুলো ভারতীয় ট্র্যাফিক ও পার্কিং পরিস্থিতিতে চালকদের সুবিধা দেবে।R3 4টি আকর্ষণীয় রঙে পাওয়া যাবে – সাদা (কালো ছাদ সহ), লাল (সাদা ছাদ সহ), নীল (সাদা ছাদ সহ) এবং রূপালি (হলুদ ছাদ সহ)।
BYD eMAX 7: ভারতে আকর্ষণীয় ৬ ও ৭ সিটের ইলেকট্রিক MPV লঞ্চ হলো!

এটি মাত্র একটি ভ্যারিয়েন্টে উপলব্ধ হবে।R3 এর প্রভাব ভারতীয় ইলেকট্রিক যানবাহন শিল্পে ব্যাপক হতে পারে। এর কম দাম ও উচ্চ কার্যকারিতা অনেক গ্রাহককে ইলেকট্রিক গাড়ি কেনার দিকে আকৃষ্ট করতে পারে। এটি শহরের যানজট ও দূষণ কমাতেও সাহায্য করবে। তবে তিন চাকার গাড়ি হওয়ায় কিছু গ্রাহক এটিকে নিরাপদ মনে নাও করতে পারেন।সামগ্রিকভাবে, স্ট্রম মোটরস R3 একটি অভিনব ও প্রযুক্তিগত দিক থেকে উন্নত ইলেকট্রিক গাড়ি যা ভারতীয় বাজারে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে। এর সাশ্রয়ী মূল্য, ভাল রেঞ্জ এবং আধুনিক ফিচারগুলি এটিকে শহুরে যাত্রীদের কাছে একটি আকর্ষণীয় বিকল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে। তবে এর সাফল্য নির্ভর করবে গ্রাহকদের গ্রহণযোগ্যতা এবং চার্জিং ইনফ্রাস্ট্রাকচারের উন্নয়নের উপর।