নাসার অন্যতম সফল মহাকাশচারী সুনীতা উইলিয়ামস তার ২৭ বছরের অসাধারণ ক্যারিয়ার শেষে ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে কার্যকরভাবে অবসর গ্রহণ করেছেন, যা নাসা ২০ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে। তার অবসর একটি ঐতিহাসিক এবং অপ্রত্যাশিত নয় মাসের মিশন সম্পন্ন করার পরে আসে, যা ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশনে (ISS) তার সহনশীলতা, নেতৃত্ব এবং বৈজ্ঞানিক উৎকর্ষতা দ্বারা চিহ্নিত ছিল। নাসার প্রশাসক জেরেড আইজ্যাকম্যান বলেছেন, “সুনি উইলিয়ামস মানব মহাকাশ অভিযানে একজন পথপ্রদর্শক হয়েছেন, স্পেস স্টেশনে তার নেতৃত্বের মাধ্যমে অন্বেষণের ভবিষ্যৎ গঠন করেছেন এবং লো আর্থ অরবিটে বাণিজ্যিক মিশনের পথ প্রশস্ত করেছেন।”
সুনীতা উইলিয়ামসের জীবন ও পরিচয়
প্রারম্ভিক জীবন এবং ভারতীয় ঐতিহ্য
১৯ সেপ্টেম্বর ১৯৬৫ সালে ওহাইওর ইউক্লিডে জন্মগ্রহণকারী সুনীতা লিন উইলিয়ামস একটি মিশ্র সাংস্কৃতিক পরিবারে বেড়ে উঠেছেন। তার পিতা দীপক পান্ড্যা ছিলেন গুজরাটের ঝুলাসান থেকে আগত একজন বিখ্যাত নিউরোঅ্যানাটমিস্ট এবং তার মাতা উরসুলিন বনি জালোকার স্লোভেনিয়ান-আমেরিকান। দীপক পান্ড্যা ১৯৫৩ সালে গুজরাট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইন্টারমিডিয়েট সায়েন্স সম্পন্ন করেন এবং ১৯৫৭ সালে এমডি অর্জন করেন। তিনি ১৯৬৪ সালে কেস ওয়েস্টার্ন রিজার্ভ বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যানাটমি বিভাগে পোস্টডক্টরাল ফেলো হিসেবে যোগদান করেন এবং মস্তিষ্কের সংযোগ নিয়ে তার কাজ বিশ্বব্যাপী নিউরোসায়েন্সকে প্রভাবিত করেছে। ২০২০ সালে ৮৮ বছর বয়সে তার মৃত্যু হয়।
সুনীতা উইলিয়ামস নিজে একবার বলেছিলেন, “মহাকাশে যাওয়ার পর প্রথম কাজ হল আমরা সবাই আমাদের বাড়ি খুঁজতে চাই। আমি ম্যাসাচুসেটসে বড় হয়েছি। আমার বাবা ভারত থেকে। আমার মা স্লোভেনিয়া থেকে। আমি স্পষ্টতই এই স্থানগুলিকে বাড়ি বলার জন্য খুঁজছি।”
শিক্ষা ও সামরিক ক্যারিয়ার
সুনীতা উইলিয়ামস ১৯৮৩ সালে ম্যাসাচুসেটসের নিডহ্যাম হাই স্কুল থেকে স্কুলিং সম্পন্ন করেন। তিনি ১৯৮৭ সালে ইউনাইটেড স্টেটস নেভাল একাডেমি থেকে ফিজিক্যাল সায়েন্সে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন এবং ইউএস নেভিতে একজন এনসাইন হিসেবে কমিশন লাভ করেন। ১৯৮৯ সালের জুলাই মাসে তিনি নেভাল এভিয়েটর হিসেবে মনোনীত হন এবং H-46 সিনাইট হেলিকপ্টারে প্রাথমিক প্রশিক্ষণের জন্য হেলিকপ্টার কম্ব্যাট সাপোর্ট স্কোয়াড্রন ৩-এ রিপোর্ট করেন। পরবর্তীতে ১৯৯৫ সালে তিনি ফ্লোরিডা ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং ম্যানেজমেন্টে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন করেন।
নাসায় মহাকাশচারী হিসেবে অসাধারণ যাত্রা
নাসায় নির্বাচন এবং প্রথম মিশন
১৯৯৮ সালে সুনীতা উইলিয়ামস নাসা দ্বারা মহাকাশচারী হিসেবে নির্বাচিত হন। তার প্রথম মহাকাশ মিশন ছিল ২০০৬-২০০৭ সালে ISS এক্সপিডিশন ১৪/১৫, যেখানে তিনি মহিলা মহাকাশচারীদের জন্য স্পেসওয়াক এবং সময়কাল রেকর্ড স্থাপন করেছিলেন। এই মিশনে তিনি প্রথমবারের মতো একক ফ্লাইটে সর্বাধিক স্পেসওয়াকের তৎকালীন রেকর্ড স্থাপন করেন।
দ্বিতীয় মিশন: কমান্ডার হিসেবে নেতৃত্ব
২০১২ সালে উইলিয়ামস ISS-এ এক্সপিডিশন ৩২ এবং ৩৩-এর অংশ হিসেবে ফিরে আসেন। এই মিশনে তিনি ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশনের কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, যা তাকে ভারতীয় বংশোদ্ভূত প্রথম মহিলা কমান্ডার করে তোলে। এই সময়কালে তিনি গুরুত্বপূর্ণ মেরামত স্পেসওয়াক পরিচালনা করেন এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
তৃতীয় এবং চূড়ান্ত মিশন: বোয়িং স্টারলাইনার
সুনীতা উইলিয়ামসের সবচেয়ে সাম্প্রতিক এবং উল্লেখযোগ্য মিশনটি ছিল ২০২৪ সালের জুন মাসে, যখন তিনি এবং বাচ উইলমোর বোয়িংয়ের স্টারলাইনার মহাকাশযানে নাসার প্রথম ক্রুড টেস্ট ফ্লাইট হিসেবে উৎক্ষেপণ করেন। প্রাথমিকভাবে যা ৮ দিনের মিশন হওয়ার কথা ছিল, তা প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে নয় মাসের মিশনে পরিণত হয়। স্টারলাইনার মহাকাশযানে হিলিয়াম লিক এবং পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ থ্রাস্টারের ব্যর্থতা সনাক্ত করা হয়েছিল, যার ফলে নাসা সেপ্টেম্বর মাসে ক্যাপসুলটি ক্রু ছাড়াই ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়। উইলিয়ামস এবং উইলমোর এক্সপিডিশন ৭১/৭২-এ যোগদান করেন এবং উইলিয়ামস পুনরায় এক্সপিডিশন ৭২-এর জন্য স্পেস স্টেশনের কমান্ড গ্রহণ করেন। তারা ২০২৫ সালের মার্চ মাসে স্পেসএক্সের ক্রু-৯ মিশনের অংশ হিসেবে পৃথিবীতে ফিরে আসেন।
রেকর্ড এবং ঐতিহাসিক অর্জনসমূহ
মহাকাশে সময় এবং স্পেসওয়াক রেকর্ড
সুনীতা উইলিয়ামস তার ক্যারিয়ার জুড়ে অসংখ্য রেকর্ড স্থাপন করেছেন যা তাকে মহাকাশ অভিযানের ইতিহাসে একটি বিশিষ্ট স্থান দিয়েছে। তিনি মোট ৬০৮ দিন মহাকাশে অতিবাহিত করেছেন, যা তাকে নাসার মহাকাশচারীদের মধ্যে সর্বোচ্চ সঞ্চিত সময়ে দ্বিতীয় স্থান দেয়। তিনি আমেরিকানদের মধ্যে দীর্ঘতম একক স্পেসফ্লাইটে ষষ্ঠ স্থানে রয়েছেন, যেখানে তিনি এবং বাচ উইলমোর উভয়েই ২৮৬ দিন কক্ষপথে ব্যয় করেছেন।
উইলিয়ামস নয়টি স্পেসওয়াক সম্পন্ন করেছেন, যার মোট সময় ৬২ ঘন্টা এবং ৬ মিনিট। এটি তাকে সর্বোচ্চ স্পেসওয়াকিং সময়ের মহিলা বানায় এবং নাসার সর্বকালের তালিকায় চতুর্থ স্থানে রাখে। এক্সপিডিশন ৭২-এর সময় একটি স্পেসওয়াকে তিনি প্রাক্তন নাসা মহাকাশচারী পেগি হুইটসনের মহিলা মহাকাশচারীদের মোট স্পেসওয়াকিং সময়ের রেকর্ড অতিক্রম করেন।
বিশেষ অর্জন এবং প্রথমত্ব
| অর্জন | বিবরণ | বছর |
|---|---|---|
| মহাকাশে মোট দিন | ৬০৮ দিন (নাসায় ২য় সর্বোচ্চ) | ১৯৯৮-২০২৫ |
| স্পেসওয়াক | ৯টি স্পেসওয়াক, ৬২ ঘন্টা ৬ মিনিট | ২০০৬-২০২৫ |
| ISS কমান্ডার | ভারতীয় বংশোদ্ভূত প্রথম মহিলা কমান্ডার | ২০১২ |
| মহাকাশে ম্যারাথন | মহাকাশে ম্যারাথন দৌড়ানো প্রথম ব্যক্তি | ২০০৭ |
| সর্বদীর্ঘ মিশন | একক স্পেসফ্লাইটে ২৮৬ দিন | ২০২৪-২০২৫ |
উইলিয়ামস ২০০৭ সালে মহাকাশে ম্যারাথন দৌড়ানো প্রথম ব্যক্তি হয়েছিলেন, যা বোস্টন ম্যারাথনের সাথে সামঞ্জস্য রেখে ISS-এ একটি ট্রেডমিলে সম্পন্ন করেছিলেন। এই অসাধারণ কৃতিত্ব তার শারীরিক শক্তি, দৃঢ় সংকল্প এবং মহাকাশে চাহিদাপূর্ণ কাজ সম্পাদনের ক্ষমতা প্রদর্শন করেছে।
পুরস্কার ও সম্মাননা
সুনীতা উইলিয়ামস তার অসাধারণ অবদানের জন্য অসংখ্য পুরস্কার এবং সম্মাননা পেয়েছেন:
-
ডিস্টিংগুইশড স্পেস সার্ভিস মেডেল (২টি)
-
লিজিয়ন অফ মেরিট
-
নেভি কমেন্ডেশন মেডেল (২টি)
-
নেভি অ্যান্ড মেরিন কর্পস অ্যাচিভমেন্ট মেডেল
-
হিউম্যানিটারিয়ান সার্ভিস মেডেল
-
নাসা স্পেস ফ্লাইট মেডেল
এই পুরস্কারগুলি তার প্রযুক্তিগত দক্ষতা, নেতৃত্ব এবং মহাকাশ অন্বেষণে অবদানকে স্বীকৃতি দেয়।
সুনীতা উইলিয়ামসের অবসর: একটি যুগের সমাপ্তি
অবসরের ঘোষণা এবং প্রভাব
নাসা ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মঙ্গলবার) সুনীতা উইলিয়ামসের অবসর ঘোষণা করে, যা ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে কার্যকর হয়েছিল। ৬০ বছর বয়সে তার অবসর মহাকাশ অন্বেষণের ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক চিহ্নিত করে। নাসা প্রশাসক জেরেড আইজ্যাকম্যান উল্লেখ করেছেন যে উইলিয়ামস বাণিজ্যিক মিশনের পথ প্রশস্ত করেছেন এবং ভবিষ্যতের মহাকাশ অন্বেষণকে গঠন করেছেন।
উইলিয়ামস নিজে বলেছেন, “যে কেউ আমাকে চেনে জানে যে এটি আমার প্রিয় জায়গা। অ্যাস্ট্রোনট অফিসে সেবা করা এবং তিনবার মহাকাশে উড়ার সুযোগ পাওয়া একটি অসাধারণ সম্মান ছিল।”
পেনশন এবং অবসর-পরবর্তী সুবিধা
সুনীতা উইলিয়ামস একজন মার্কিন ফেডারেল কর্মচারী হিসেবে অবসর নিয়েছেন, যা তার বেতন, পেনশন এবং অবসর-পরবর্তী সুবিধাগুলি কীভাবে গণনা করা হয় তা নির্ধারণ করে। তার পেনশন ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে বৃদ্ধি শুরু হয়েছে এবং প্রথম প্রকৃত পেমেন্ট প্রক্রিয়াকরণের পর আসবে। নাসার মহাকাশচারীরা ফেডারাল এমপ্লয়িজ রিটায়ারমেন্ট সিস্টেম (FERS) এর অধীনে থাকেন, যা তাদের পরিষেবার বছর এবং সর্বোচ্চ তিন বছরের গড় বেতনের উপর ভিত্তি করে সুবিধা প্রদান করে।
ভারতের সাথে সংযোগ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
সুনীতা উইলিয়ামস সর্বদা তার ভারতীয় ঐতিহ্যের প্রতি গভীর সম্মান প্রদর্শন করেছেন। অবসরের পর তিনি ভারত সফরের পরিকল্পনা করছেন এবং ইসরো (ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা) এর টিমের সাথে দেখা করতে চান। ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে তিনি বলেছিলেন, “আমি আমার পিতার দেশে যাচ্ছি,” যা তার ভারতীয় শিকড়ের প্রতি তার গর্ব এবং সংযুক্তি প্রদর্শন করে।
দিল্লিতে একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে তিনি বলেছিলেন যে মহাকাশ থেকে পৃথিবীর দিকে তাকানোর সময় তিনি সবসময় ভারতকে খুঁজে বের করতেন, যেখানে তার পিতা জন্মগ্রহণ করেছিলেন। এই মানসিক সংযোগ তার পরিচয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল।
মহাকাশ অন্বেষণে সুনীতা উইলিয়ামসের উত্তরাধিকার
মহিলা মহাকাশচারীদের জন্য পথপ্রদর্শক
সুনীতা উইলিয়ামসের ক্যারিয়ার মহিলা মহাকাশচারীদের জন্য একটি অনুপ্রেরণা হয়েছে। তার স্পেসওয়াক রেকর্ড, নেতৃত্ব এবং চাপের মধ্যে শান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রমাণ করেছে যে লিঙ্গ মহাকাশ অন্বেষণে কোনও বাধা নয়। তিনি প্রমাণ করেছেন যে দৃঢ় সংকল্প, প্রশিক্ষণ এবং উৎসর্গের মাধ্যমে কেউ মহাকাশ বিজ্ঞানে সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছাতে পারে।
বৈজ্ঞানিক অবদান
উইলিয়ামস ISS-এ অসংখ্য বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন, যার মধ্যে মাইক্রোগ্র্যাভিটি গবেষণা, মানব স্বাস্থ্য অধ্যয়ন এবং প্রযুক্তিগত পরীক্ষা অন্তর্ভুক্ত ছিল। তার কাজ ভবিষ্যৎ দীর্ঘমেয়াদী মহাকাশ মিশনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করতে সাহায্য করেছে, যার মধ্যে মঙ্গল গ্রহে মানব মিশনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
বাণিজ্যিক মহাকাশযান উন্নয়ন
বোয়িং স্টারলাইনারের প্রথম ক্রুড টেস্ট ফ্লাইটে তার অংশগ্রহণ বাণিজ্যিক মহাকাশযান উন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ছিল। যদিও মিশনটি প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছিল, উইলিয়ামস এবং উইলমোরের পেশাদারিত্ব এবং সমস্যা সমাধান দক্ষতা ভবিষ্যৎ বাণিজ্যিক ক্রু মিশনের জন্য মূল্যবান ডেটা সংগ্রহ করতে সাহায্য করেছে।
উপসংহার
সুনীতা উইলিয়ামসের ২৭ বছরের নাসা ক্যারিয়ার মানব মহাকাশ অন্বেষণের ইতিহাসে একটি উজ্জ্বল অধ্যায় যুক্ত করেছে। ৬০৮ দিন মহাকাশে অতিবাহিত, ৯টি স্পেসওয়াক সম্পন্ন এবং তিনটি ISS মিশনে নেতৃত্ব প্রদান করে তিনি প্রমাণ করেছেন যে সীমা অতিক্রম করা সম্ভব। ভারতীয় বংশোদ্ভূত প্রথম মহিলা ISS কমান্ডার হিসেবে এবং মহিলা স্পেসওয়াক রেকর্ড ধারক হিসেবে তিনি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি অনুপ্রেরণা রেখে গেছেন। তার গুজরাটি পিতার ঐতিহ্য এবং তার নিজের অসাধারণ অর্জন ভারত এবং আমেরিকা উভয় দেশের জন্য গর্বের বিষয়। যদিও তিনি নাসা থেকে অবসর নিয়েছেন, তার অবদান এবং উত্তরাধিকার মহাকাশ বিজ্ঞানে চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে এবং আগামী প্রজন্মকে তারার দিকে পৌঁছাতে অনুপ্রাণিত করবে।











