২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর রাত – এক দিকে সুইগি, জোম্যাটো, ব্লিঙ্কিট এবং জেপটোর প্রায় ৩ লক্ষ ডেলিভারি পার্টনার সারাদেশে ধর্মঘট ডেকেছে ন্যূনতম মজুরি এবং মৌলিক শ্রমিক অধিকারের দাবিতে । অন্যদিকে, একই রাতে এই প্ল্যাটফর্মগুলো সৃষ্টি করেছে ইতিহাস – জোম্যাটো এবং ব্লিঙ্কিট একাই ডেলিভারি করেছে ৭৫ লক্ষ অর্ডার, যা তাদের সর্বকালের সর্বোচ্চ একক দিনের রেকর্ড । এই পরস্পরবিরোধী পরিস্থিতি আসলে তুলে ধরছে ভারতের দ্রুত বর্ধনশীল গিগ ইকোনমির একটি জটিল বাস্তবতা – যেখানে ব্যবসায়িক সাফল্য এবং শ্রমিক সংগ্রাম একসাথে সহাবস্থান করছে ।
প্রায় ৪ লক্ষ ৫০ হাজার ডেলিভারি পার্টনার নিউ ইয়ারের রাতে ৬৩ লক্ষ গ্রাহকের সেবা প্রদান করেছে, যা প্রমাণ করে যে ধর্মঘটের ডাক সত্ত্বেও প্ল্যাটফর্মগুলো তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে । কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায় – এই সাফল্যের আড়ালে লুকিয়ে আছে কোন চ্যালেঞ্জ? ভারতের ১ কোটি ২০ লক্ষ গিগ ওয়ার্কারের ভবিষ্যৎ কোন পথে এগোবে ?
গিগ ওয়ার্কারদের ধর্মঘট: দাবি এবং বাস্তবতা
তেলেঙ্গানা গিগ অ্যান্ড প্ল্যাটফর্ম ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন এবং ইন্ডিয়ান ফেডারেশন অফ অ্যাপ-বেসড ট্রান্সপোর্ট ওয়ার্কার্সের নেতৃত্বে ২৫ ডিসেম্বর এবং ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে সারাদেশ জুড়ে ব্যাপক ধর্মঘট সংগঠিত হয় । এই ধর্মঘটে শুধু ফুড ডেলিভারি নয়, আমাজন, ফ্লিপকার্ট-সহ ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের ডেলিভারি পার্টনাররাও অংশ নেন ।
শ্রমিকদের ১৫ দফা দাবির মূল বিষয়
গিগ ওয়ার্কাররা তাদের ১৫ দফা দাবি পত্রে যে বিষয়গুলো তুলে ধরেছে, তা হল:
-
কিলোমিটার প্রতি ন্যূনতম মজুরি ২০ টাকা – বর্তমানে যা মাত্র ৬-১০ টাকা
-
মাসিক নিশ্চিত আয় ২৪,০০০ থেকে ৪০,০০০ টাকা – বর্তমানে ৪৪% শ্রমিক মাসে ১০,০০০ টাকার কম উপার্জন করেন
-
১০ মিনিট ডেলিভারি মডেলের বিলুপ্তি – যা শ্রমিকদের জীবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ
-
স্বচ্ছ পেমেন্ট সিস্টেম – অ্যালগরিদম-ভিত্তিক স্বেচ্ছাচারী কাজ বন্টন বন্ধ করা
-
সামাজিক সুরক্ষা সুবিধা – স্বাস্থ্য বীমা, মাতৃত্বকালীন ছুটি এবং চাকরির নিরাপত্তা
-
আইনগত স্বীকৃতি ‘শ্রমিক’ হিসেবে – যাতে শ্রম আইনের সুবিধা পাওয়া যায়
অর্ডার করার আগে সাবধান! Blinkit, Swiggy, Zepto যেভাবে চুপিসারে আপনার পকেট কাটছে
শ্রমিকদের বাস্তব অবস্থা: সংখ্যায় বেদনাময় চিত্র
একটি সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে যে গিগ ওয়ার্কাররা দিনে ১৫-১৬ ঘণ্টা কাজ করার পরও মাত্র ৭০০-৮০০ টাকা উপার্জন করছেন । প্রতি অর্ডারে তাদের পেমেন্ট মাত্র ২০ থেকে ৩৫ টাকা, যা দূরত্ব এবং সময়ের উপর নির্ভর করে । সাইকেল বা ইলেকট্রিক সাইকেলে ডেলিভারির ক্ষেত্রে প্রথম ৪ কিলোমিটারের জন্য ২০ টাকা এবং এরপর প্রতি কিলোমিটারে মাত্র ৫ টাকা পাওয়া যায় ।
একজন কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক, যিনি দুই মাস ফুড ডেলিভারি ওয়ার্কার হিসেবে কাজ করেছিলেন, তার অভিজ্ঞতায় জানান যে তিনি প্রায় ৩০টি অর্ডার ডেলিভারি করে মাত্র ১,২০০ টাকা উপার্জন করেছেন, যা জ্ঞালানি খরচও পুষিয়ে দেয় না । এই বাস্তবতা তুলে ধরে যে গিগ ইকোনমি শ্রমিকদের জন্য কতটা অনিশ্চিত এবং অসুরক্ষিত ।
রেকর্ড অর্ডার: প্ল্যাটফর্মগুলোর অভূতপূর্ব সাফল্য
ধর্মঘটের ডাক সত্ত্বেও ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে ফুড ডেলিভারি প্ল্যাটফর্মগুলো অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছে । জোম্যাটো এবং ব্লিঙ্কিট একসাথে ৭৫ লক্ষেরও বেশি অর্ডার ডেলিভারি করেছে, যা তাদের সর্বকালের সর্বোচ্চ একক দিনের রেকর্ড । জোম্যাটো একা প্রায় ৩২ লক্ষ ফুড অর্ডার ডেলিভারি করেছে, যেখানে সুইগি ডেলিভারি করেছে প্রায় ২৫ লক্ষ অর্ডার ।
নিউ ইয়ারের রাতের পরিসংখ্যান
| মেট্রিক্স | সংখ্যা | উৎস |
|---|---|---|
| মোট অর্ডার (জোম্যাটো + ব্লিঙ্কিট) | ৭৫+ লক্ষ | জোম্যাটো অফিসিয়াল |
| জোম্যাটো ফুড অর্ডার | ৩২ লক্ষ | ব্রোকারেজ এস্টিমেট |
| সুইগি ফুড অর্ডার | ২৫ লক্ষ | ব্রোকারেজ এস্টিমেট |
| সক্রিয় ডেলিভারি পার্টনার | ৪ লক্ষ ৫০ হাজার | প্ল্যাটফর্ম ডেটা |
| মোট গ্রাহক সেবা প্রদান | ৬৩ লক্ষ | অফিসিয়াল ঘোষণা |
| সর্বোচ্চ একক অর্ডার মূল্য | ১.৮ লক্ষ টাকা (দুটি আইফোন) | মিডিয়া রিপোর্ট |
জোম্যাটোর ফাউন্ডার এবং সিইও দীপিন্দর গোয়েল জানিয়েছেন যে ধর্মঘটের ডাক সত্ত্বেও তাদের অপারেশন মসৃণভাবে চলেছে এবং কোনো বড় ব্যাঘাত হয়নি । প্ল্যাটফর্মগুলো পিক আওয়ারে (সন্ধ্যা ৬টা থেকে মধ্যরাত) প্রতি অর্ডারে ১২০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত পেমেন্ট অফার করেছিল, যা স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে প্রায় ৫-৬ গুণ বেশি ।
ভারতের গিগ ইকোনমি: বর্তমান পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
বিস্ফোরক বৃদ্ধির সংখ্যা
ভারতের গিগ ইকোনমি অত্যন্ত দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে । ২০১১-১২ সালে যেখানে গিগ ওয়ার্কারের সংখ্যা ছিল ২৫.২ লক্ষ, ২০১৯-২০ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৮ লক্ষে, যা প্রতি বছর ১৬.৭৮% হারে বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয় । নীতি আয়োগের হিসাব অনুযায়ী, ২০২০-২১ অর্থবছরে গিগ ওয়ার্কারের সংখ্যা ছিল ৭৭ লক্ষ ।
বর্তমানে ২০২৫ সালের হিসাব অনুযায়ী, ভারতে প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষ গিগ ওয়ার্কার রয়েছে, যা দেশের মোট কর্মশক্তির ২% । এবং আরও চমকপ্রদ বিষয় হল, ২০২৯-৩০ সালের মধ্যে এই সংখ্যা বেড়ে ২ কোটি ৩৫ লক্ষে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে, যা হবে মোট কর্মশক্তির ৪.১% ।
গিগ ইকোনমির প্রধান সেক্টর
ভারতের গিগ ইকোনমি মূলত কয়েকটি মূল সেক্টরে বিভক্ত:
-
মোবিলিটি সার্ভিস – উবার, ওলা-সহ রাইড-শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম
-
ডেলিভারি সার্ভিস – সুইগি, জোম্যাটো, ব্লিঙ্কিট, জেপটো, ডানজো
-
প্রফেশনাল সার্ভিস – আর্বান কোম্পানি-সহ হোম সার্ভিস
-
ই-কমার্স ডেলিভারি – আমাজন, ফ্লিপকার্ট
বর্তমানে প্রায় ৩০ লক্ষ সক্রিয় ডেলিভারি রাইডার শুধুমাত্র ফুড এবং কুইক কমার্স সেক্টরে কাজ করছেন ।
বাংলাদেশে স্টারলিংক ইন্টারনেট: অর্ডার থেকে ইনস্টলেশন সম্পূর্ণ গাইড
সরকারি উদ্যোগ এবং নীতি সংস্কার
২০২৫ সালের বাজেটে ঐতিহাসিক ঘোষণা
২০২৫ সালের কেন্দ্রীয় বাজেটে গিগ ওয়ার্কারদের জন্য বেশ কিছু যুগান্তকারী পদক্ষেপ ঘোষণা করা হয়েছে । শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী ডঃ মনসুখ মাণ্ডাভিয়া জানিয়েছেন যে ১ কোটি গিগ ওয়ার্কারের কল্যাণ নিশ্চিত করার জন্য সরকার বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে ।
সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প
পিএম জন আরোগ্য যোজনা (PM-JAY) – ১ কোটি গিগ ওয়ার্কার এবং তাদের পরিবারের জন্য বার্ষিক ৫ লক্ষ টাকার স্বাস্থ্য বীমা কভারেজ ঘোষণা করা হয়েছে । এই স্কিম অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ই-শ্রম পোর্টালে নিবন্ধন – সমস্ত গিগ ওয়ার্কারদের ইউনিক আইডেন্টিটি কার্ড দেওয়া হবে এবং ই-শ্রম পোর্টালে নিবন্ধন সহজ করা হবে । ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে একটি পাইলট প্রোগ্রামে আর্বান কোম্পানি, জোম্যাটো, ব্লিঙ্কিট এবং আঙ্কেল ডেলিভারি-সহ চারটি বড় প্ল্যাটফর্ম ই-শ্রম পোর্টালে নিবন্ধিত হয়েছে ।
নতুন শ্রম আইন এবং চ্যালেঞ্জ
সম্প্রতি বাস্তবায়িত শ্রম আইনে গিগ এবং প্ল্যাটফর্ম ওয়ার্কারদের সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে এবং প্ল্যাটফর্মগুলোকে তাদের বার্ষিক রেভিনিউর ১-২% (সর্বোচ্চ শ্রমিক পেমেন্টের ৫%) একটি সরকার-পরিচালিত সামাজিক সুরক্ষা তহবিলে জমা দিতে হবে । তবে এই আইনের বাস্তবায়নে বেশ কিছু অস্পষ্টতা রয়ে গেছে – ঠিক কী সুবিধা দেওয়া হবে, শ্রমিকরা কীভাবে তা অ্যাক্সেস করবে এবং কবে পেমেন্ট শুরু হবে তা এখনও স্পষ্ট নয় ।
দ্বন্দ্বের মূল: অ্যালগরিদম বনাম মানবিক মর্যাদা
গিগ ইকোনমির সবচেয়ে বড় সমস্যা হল অ্যালগরিদম-চালিত কাজের বন্টন এবং পেমেন্ট সিস্টেম । শ্রমিকরা প্রতিনিয়ত ডিজিটাল নির্দেশনার মুখোমুখি হন, যা প্ল্যাটফর্মের মুনাফা সর্বাধিক করার জন্য ডিজাইন করা, শ্রমিকদের কল্যাণের জন্য নয় ।
১০ মিনিট ডেলিভারি: আশীর্বাদ না অভিশাপ?
সাম্প্রতিক সময়ে ব্লিঙ্কিট, জেপটো এবং অন্যান্য কুইক কমার্স প্ল্যাটফর্ম ১০ মিনিট ডেলিভারি মডেল চালু করেছে । এই মডেল গ্রাহকদের কাছে জনপ্রিয় হলেও ডেলিভারি পার্টনারদের জীবনের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ । নির্ধারিত সময়ে পৌঁছাতে না পারলে প্ল্যাটফর্মগুলো শ্রমিকদের আইডি ব্লক করে দেয়, ফলে তারা সাময়িকভাবে কোনো কাজ পান না ।
সিএনএন-এর একটি রিপোর্টে জানানো হয়েছে যে শ্রমিকরা “ন্যায্য বেতন, মর্যাদা এবং নিরাপত্তা” দাবি করছেন এবং ১০ মিনিট ডেলিভারি মডেলের অবিলম্বে নিষিদ্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন ।
ধর্মঘট বনাম রেকর্ড অর্ডার: প্যারাডক্স বিশ্লেষণ
সবচেয়ে আশ্চর্যজনক বিষয় হল, ৩১ ডিসেম্বরের ধর্মঘটের ডাক সত্ত্বেও প্ল্যাটফর্মগুলো রেকর্ড অর্ডার ডেলিভারি করতে সক্ষম হয়েছে । এর বেশ কিছু কারণ রয়েছে:
উচ্চ ইনসেন্টিভ প্রদান – প্ল্যাটফর্মগুলো নিউ ইয়ারের রাতে পিক আওয়ারে প্রতি অর্ডারে ১২০-১৫০ টাকা পর্যন্ত পেমেন্ট অফার করেছিল, যা স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে ৫-৬ গুণ বেশি । এই উচ্চ পেমেন্ট অনেক শ্রমিককে কাজে আসতে উৎসাহিত করেছে।
সীমিত অংশগ্রহণ – যদিও ১.৭ লক্ষ শ্রমিক ধর্মঘটে অংশ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, কিন্তু বাস্তবে সব শ্রমিক অংশ নিতে পারেননি কারণ তাদের দৈনিক উপার্জনের উপর নির্ভর করতে হয় ।
আর্থিক চাপ – অনেক শ্রমিক জানিয়েছেন যে তারা ধর্মঘটে অংশ নিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু ভাড়া, জ্ঞালানি এবং পরিবারের খরচ মেটানোর চাপে তাদের কাজ করতে হয়েছে ।
একজন ডেলিভারি পার্টনার বলেছেন, “প্ল্যাটফর্মগুলো যদি ধর্মঘট ভাঙ্গার জন্য প্রতি অর্ডারে ১৫০ টাকা দিতে পারে, তাহলে কেন স্বাভাবিক সময়ে কিলোমিটার প্রতি মাত্র ৬ টাকা দেওয়ার দাবি করে?”
ভবিষ্যতের পথ: কোন দিকে এগোবে গিগ ইকোনমি?
শ্রমিক সংগঠনের শক্তি বৃদ্ধি
তেলেঙ্গানা, মহারাষ্ট্র, কর্ণাটক এবং অন্যান্য রাজ্যে গিগ ওয়ার্কারদের সংগঠন শক্তিশালী হচ্ছে । তেলেঙ্গানা গিগ অ্যান্ড প্ল্যাটফর্ম ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন এবং ইন্ডিয়ান ফেডারেশন অফ অ্যাপ-বেসড ট্রান্সপোর্ট ওয়ার্কার্স-এর মতো সংগঠনগুলো সমন্বিত ভাবে ধর্মঘট সংগঠিত করতে সক্ষম হচ্ছে ।
সরকারের ভূমিকা: নীতি থেকে বাস্তবায়ন
সরকার গিগ ওয়ার্কারদের জন্য সামাজিক সুরক্ষা বোর্ড গঠনের কথা বলেছে, যেখানে পাঁচজন গিগ ওয়ার্কার প্রতিনিধি এবং পাঁচজন প্ল্যাটফর্ম প্রতিনিধি থাকবেন । তবে এই বোর্ড কীভাবে কাজ করবে, শ্রমিক প্রতিনিধিদের কতটা প্রভাব থাকবে এবং কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে তা এখনও স্পষ্ট নয় ।
প্ল্যাটফর্মগুলোর দায়বদ্ধতা
দীর্ঘমেয়াদী টেকসইতার জন্য প্ল্যাটফর্মগুলোকে শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি এবং মৌলিক সুবিধা প্রদান করতে হবে । বর্তমান মডেল যেখানে প্ল্যাটফর্মগুলো শুধুমাত্র উচ্চ চাহিদার সময় বেশি পেমেন্ট দেয় এবং স্বাভাবিক সময়ে খুবই কম পেমেন্ট দেয়, তা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই নয় ।
প্রযুক্তি এবং মানবিক মর্যাদার ভারসাম্য
ভবিষ্যতের গিগ ইকোনমিতে প্রযুক্তির দক্ষতা এবং মানবিক মর্যাদার মধ্যে একটি ভারসাম্য খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত জরুরি । অ্যালগরিদম-চালিত সিস্টেমকে এমনভাবে ডিজাইন করতে হবে যা শুধুমাত্র প্ল্যাটফর্মের মুনাফা নয়, বরং শ্রমিকদের কল্যাণও বিবেচনা করে ।
অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দ্বারপ্রান্তে
সুইগি-জোম্যাটোর ধর্মঘট বনাম রেকর্ড অর্ডারের বিপরীতমুখী পরিস্থিতি আসলে ভারতের ডিজিটাল অর্থনীতির একটি গভীর দ্বন্দ্ব তুলে ধরছে। একদিকে অভূতপূর্ব ব্যবসায়িক সাফল্য এবং প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ, অন্যদিকে ১ কোটি ২০ লক্ষ গিগ ওয়ার্কারের মৌলিক অধিকার এবং মর্যাদার সংগ্রাম । ২০২৯-৩০ সালের মধ্যে যখন এই সংখ্যা ২ কোটি ৩৫ লক্ষে পৌঁছাবে, তখন এই সমস্যাগুলো আরও জটিল হবে । সরকারের নীতি সংস্কার এবং সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পগুলো ইতিবাচক পদক্ষেপ, কিন্তু বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা এবং কার্যকারিতা নিশ্চিত করা এখনও একটি বড় চ্যালেঞ্জ । ভারতের গিগ ইকোনমির ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে তিনটি পক্ষের সমন্বিত প্রচেষ্টার উপর – সরকারের কার্যকর নীতি বাস্তবায়ন, প্ল্যাটফর্মগুলোর দায়িত্বশীল আচরণ এবং শ্রমিকদের সংগঠিত দাবি। এই ভারসাম্য খুঁজে পাওয়ার মধ্যেই লুকিয়ে আছে ডিজিটাল ভারতের টেকসই এবং ন্যায্য ভবিষ্যৎ।











