সুইস ব্যাঙ্কে টাকা রাখলে কত সুদ পাবেন? ২০২৫ সালের সম্পূর্ণ তথ্য জেনে নিন!

সুইস ব্যাঙ্কে ১ লাখ টাকা জমা রাখলে বর্তমানে বছরে মাত্র ০% থেকে ১% পর্যন্ত সুদ পাওয়া যায়, যা অনেকের ধারণার তুলনায় অত্যন্ত কম। সুইস ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক (SNB) ২০২৫ সালের জুন…

Riddhi Datta

 

সুইস ব্যাঙ্কে ১ লাখ টাকা জমা রাখলে বর্তমানে বছরে মাত্র ০% থেকে ১% পর্যন্ত সুদ পাওয়া যায়, যা অনেকের ধারণার তুলনায় অত্যন্ত কম। সুইস ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক (SNB) ২০২৫ সালের জুন মাসে তাদের পলিসি রেট ০%-এ নামিয়ে এনেছে, যার ফলে বড় বড় ব্যাঙ্ক যেমন ইউবিএস এবং পোস্টফাইন্যান্স বর্তমানে সাধারণ সেভিংস অ্যাকাউন্টে ০.০০% থেকে ০.২৫% সুদ দিচ্ছে। এর মানে হলো, ১ লাখ টাকা (প্রায় ১,০০০ সুইস ফ্রাঁ) জমা রাখলে পাঁচ বছরে মোটামুটি ১,০০০ থেকে ১,০১২.৫০ টাকা হবে – অর্থাৎ প্রায় কোনো লাভই হবে না।

সুইস ব্যাঙ্কিং সিস্টেম: বর্তমান পরিস্থিতি

সুইজারল্যান্ড বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী এবং নিরাপদ ব্যাঙ্কিং সিস্টেমের জন্য বিখ্যাত। দেশটির রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, কম মুদ্রাস্ফীতি এবং কঠোর গোপনীয়তা আইনের কারণে বিশ্বজুড়ে ধনী ব্যক্তিরা সুইস ব্যাঙ্কে টাকা রাখতে পছন্দ করেন। তবে সুদের হার এতটাই কম যে, এটি শুধুমাত্র সম্পদ সংরক্ষণের জন্য উপযুক্ত, বৃদ্ধির জন্য নয়।

সুইস ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক ২০১৫ সালে নেগেটিভ সুদের হার (-০.৭৫%) চালু করেছিল সুইস ফ্রাঁকের মূল্য নিয়ন্ত্রণের জন্য। এই নেগেটিভ সুদ ২০২৩ সাল পর্যন্ত চলেছিল, যখন বিশ্বব্যাপী মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধির ফলে তারা সুদের হার বাড়ানো শুরু করে। কিন্তু ২০২৫ সালে আবার সুদের হার কমিয়ে শূন্যে নিয়ে আসা হয়েছে।

বর্তমান সুদের হার: ব্যাঙ্ক অনুযায়ী তুলনা

সুইজারল্যান্ডের বিভিন্ন ব্যাঙ্কে সুদের হার ভিন্ন ভিন্ন। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী:

ব্যাঙ্কের ধরন সুদের হার (বার্ষিক) ন্যূনতম জমা বৈশিষ্ট্য
প্রধান ব্যাঙ্ক (ইউবিএস, পোস্টফাইন্যান্স) ০.০০% – ০.২৫% ভিন্ন ভিন্ন সবচেয়ে কম সুদ, সর্বোচ্চ নিরাপত্তা
ক্যান্টোনাল ব্যাঙ্ক ০.২৫% – ০.৫০% ১০,০০০ – ৫০,০০০ ফ্রাঁ মাঝারি সুদ, আঞ্চলিক ব্যাঙ্ক
আঞ্চলিক ব্যাঙ্ক ০.৫০% – ১.০০% ৫০,০০০+ ফ্রাঁ সর্বোচ্চ সুদ, বেশি জমা প্রয়োজন
অনলাইন ব্যাঙ্ক ০.২৫% – ০.৭৫% ভিন্ন ভিন্ন মাঝারি সুদ, ডিজিটাল সেবা
ফিক্সড ডিপোজিট (১ বছর) ০.৩০% – ১.৭০% ২৫,০০০ – ১,০০,০০০ ফ্রাঁ সময়কাল ভিত্তিক, টাকা তুলতে বাধা

ট্রেডিং ইকোনমিক্স এবং মানিল্যান্ড ডট সিএইচ-এর গবেষণা অনুযায়ী, ২০২৫ সালে সুইস ব্যাঙ্কগুলো গড়ে মাত্র ০.১৮% থেকে ০.২১% সুদ দিচ্ছে সাধারণ সেভিংস অ্যাকাউন্টে। এটি ২০২৩ সালের ১.৫৯% থেকে একটি বিশাল পতন।

JIO Payments Bank: মাত্র ৫ মিনিটে খুলুন জিরো ব্যালেন্স অ্যাকাউন্ট, পান অসাধারণ সুবিধা

১ লাখ টাকা জমা করলে পাঁচ বছরে কত হবে?

এখন আসল প্রশ্নের উত্তর দেওয়া যাক। ধরে নিই, আপনি ১ লাখ ভারতীয় টাকা জমা করলেন, যা প্রায় ১,০০০ সুইস ফ্রাঁর সমান (বিনিময় দর: ১ সুইস ফ্রাঁ = প্রায় ১০০ ভারতীয় টাকা)।

বিভিন্ন সুদের হারে হিসাব:

০.০০% সুদে (প্রধান ব্যাঙ্ক – পোস্টফাইন্যান্স):

  • প্রাথমিক জমা: ১,০০,০০০ টাকা

  • ৫ বছর পর: ১,০০,০০০ টাকা

  • মোট সুদ: ০ টাকা

০.২৫% সুদে (প্রধান ব্যাঙ্ক – ইউবিএস):

  • প্রাথমিক জমা: ১,০০,০০০ টাকা

  • ৫ বছর পর: ১,০১,২৫৩ টাকা

  • মোট সুদ: ১,২৫৩ টাকা

০.৫০% সুদে (ক্যান্টোনাল ব্যাঙ্ক):

  • প্রাথমিক জমা: ১,০০,০০০ টাকা

  • ৫ বছর পর: ১,০২,৫২৮ টাকা

  • মোট সুদ: ২,৫২৮ টাকা

১.০০% সুদে (আঞ্চলিক ব্যাঙ্ক):

  • প্রাথমিক জমা: ১,০০,০০০ টাকা

  • ৫ বছর পর: ১,০৫,১০১ টাকা

  • মোট সুদ: ৫,১০১ টাকা

এই হিসাব চক্রবৃদ্ধি সুদের (compound interest) ভিত্তিতে করা। দেখা যাচ্ছে যে, সর্বোচ্চ ১% সুদেও পাঁচ বছরে মাত্র ৫,১০১ টাকা লাভ হবে, যা ভারতীয় ব্যাঙ্কের সেভিংস অ্যাকাউন্ট (৩-৪% সুদ) বা ফিক্সড ডিপোজিট (৬-৭% সুদ) এর তুলনায় অনেক কম।

কেন সুইস ব্যাঙ্কে এত কম সুদ?

মুদ্রানীতির প্রভাব

সুইস ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক তাদের মুদ্রানীতি অত্যন্ত রক্ষণশীলভাবে পরিচালনা করে। ২০১৫ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত দেশটিতে নেগেটিভ সুদের হার ছিল, যার মানে হলো ব্যাঙ্কে টাকা রাখলে সুদ পাওয়ার বদলে ফি দিতে হতো। এর মূল কারণ ছিল সুইস ফ্রাঁকের অতিরিক্ত শক্তিশালী হওয়া রোধ করা।

সুইস ফ্রাঁক একটি “সেফ হেভেন” মুদ্রা, অর্থাৎ বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক সংকটের সময় বিনিয়োগকারীরা তাদের সম্পদ সুইস ফ্রাঁকে রূপান্তরিত করে। এর ফলে ফ্রাঁকের মূল্য বেড়ে যায়, যা সুইস রপ্তানি শিল্পের জন্য ক্ষতিকর। তাই সুইস ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক কৃত্রিমভাবে সুদের হার কম রাখে যাতে বিদেশি মুদ্রা প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা

সুইজারল্যান্ডের অর্থনীতি অত্যন্ত স্থিতিশীল এবং দেশটির সরকারি ঋণ জিডিপির মাত্র ৩৮%। কম মুদ্রাস্ফীতি এবং শক্তিশালী আর্থিক নীতির কারণে উচ্চ সুদের হারের প্রয়োজন নেই। দ্য গ্লোবাল ইকোনমি ডট কম-এর তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবর ২০২৫-এ সুইজারল্যান্ডে গড় ডিপোজিট সুদের হার ছিল ০.২১%, যা ঐতিহাসিকভাবে খুবই কম।

সুইস ব্যাঙ্কে অ্যাকাউন্ট খোলার শর্ত

ন্যূনতম জমার পরিমাণ

সুইস ব্যাঙ্কে অ্যাকাউন্ট খুলতে সাধারণত বেশ বড় অঙ্কের টাকা প্রয়োজন। প্রাইভেট ব্যাঙ্কিং সেবার জন্য সাধারণত ন্যূনতম ১০ লাখ থেকে ১ কোটি সুইস ফ্রাঁ (প্রায় ১০০ কোটি থেকে ১,০০০ কোটি ভারতীয় টাকা) প্রয়োজন। সাধারণ ব্যাঙ্কিং সেবার জন্য ২৫,০০০ থেকে ১,০০,০০০ সুইস ফ্রাঁ (২৫ লাখ থেকে ১ কোটি ভারতীয় টাকা) জমা করতে হয়।

ডকুমেন্টেশন এবং যাচাইকরণ

সুইস ব্যাঙ্কগুলো আন্তর্জাতিক অর্থ পাচার বিরোধী নিয়ম (Anti-Money Laundering – AML) এবং “নো ইওর কাস্টমার” (Know Your Customer – KYC) নিয়ম কঠোরভাবে মেনে চলে। অ্যাকাউন্ট খুলতে প্রয়োজন:

  • বৈধ পাসপোর্ট এবং পরিচয়পত্র

  • আয়ের উৎসের প্রমাণ

  • ঠিকানার প্রমাণ

  • ট্যাক্স রিটার্নের কপি

  • সম্পদের উৎস সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য

ব্যাঙ্কগুলো এখন আগের মতো গোপনীয়তা বজায় রাখে না। আন্তর্জাতিক চাপের ফলে সুইস ব্যাঙ্কগুলো এখন অন্যান্য দেশের ট্যাক্স কর্তৃপক্ষের সাথে তথ্য ভাগাভাগি করে।

নেগেটিভ সুদের ইতিহাস: এক অনন্য অভিজ্ঞতা

২০১৫-২০২২: নেগেটিভ রেট যুগ

সুইজারল্যান্ড ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে -০.৭৫% সুদের হার চালু করে, যা ছিল একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এর মানে হলো, ব্যাঙ্কে টাকা রাখলে সুদ পাওয়ার বদলে ফি দিতে হতো। বড় বড় ব্যাঙ্কগুলো ব্যবসায়ী এবং ধনী গ্রাহকদের থেকে “ডিপোজিট ফি” নেওয়া শুরু করে।

মানিল্যান্ড ডট সিএইচ-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে জুরিখের ক্যান্টোনাল ব্যাঙ্ক প্রথম খুচরা গ্রাহকদের থেকে নেগেটিভ সুদ নেওয়া শুরু করে। এরপর ২০টিরও বেশি ব্যাঙ্ক একই পথ অনুসরণ করে।

১৯৭০-এর দশকের অভিজ্ঞতা

আসলে সুইজারল্যান্ড নেগেটিভ সুদের ধারণা প্রথম চালু করেছিল ১৯৭০-এর দশকে। তখন ডলারের দুর্বলতার কারণে বিনিয়োগকারীরা সুইস ফ্রাঁকে অর্থ রাখছিল, যার ফলে ফ্রাঁকের মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। সুইস সরকার তখন বিদেশি আমানতকারীদের জন্য ২% থেকে শুরু করে শেষ পর্যন্ত ৪১% পর্যন্ত নেগেটিভ সুদ আরোপ করে। লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই পদক্ষেপ বাজারকে হতবাক করে দিয়েছিল।

বিকল্প বিনিয়োগের সুযোগ

পিলার ৩এ রিটায়ারমেন্ট অ্যাকাউন্ট

সুইজারল্যান্ডে সবচেয়ে ভালো সুদ পাওয়া যায় পিলার ৩এ (Pillar 3a) রিটায়ারমেন্ট অ্যাকাউন্টে, যেখানে ০.৫০% থেকে ১.৫০% সুদ পাওয়া যায়। এছাড়াও এই অ্যাকাউন্টে জমার টাকা কর থেকে ছাড় পাওয়া যায় (বছরে ৭,০৫৬ সুইস ফ্রাঁ পর্যন্ত)। তবে ৬০ থেকে ৭০ বছর বয়স পর্যন্ত টাকা তোলা যায় না।

ফিক্সড টার্ম ডিপোজিট

যারা একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য টাকা রাখতে পারবেন, তারা ফিক্সড ডিপোজিটে ০.৩% থেকে ১.৭% পর্যন্ত সুদ পেতে পারেন। আলপিয়ান ডট কম-এর তথ্য অনুযায়ী:

  • ১ বছরের ফিক্সড ডিপোজিট: ০.৮০% – ১.২০% (আঞ্চলিক ব্যাঙ্ক)

  • ইউবিএস: ০.৪৫% – ০.৬০% (২৫,০০০ ফ্রাঁ থেকে)

  • জুরিখ ক্যান্টোনাল ব্যাঙ্ক: ০.৫০% – ০.৭০% (১,০০,০০০ ফ্রাঁ থেকে)

ইয়ুথ সেভিংস অ্যাকাউন্ট

২০ বছরের কম বয়সীদের জন্য বিশেষ সেভিংস অ্যাকাউন্ট রয়েছে যেখানে ১% থেকে ২% পর্যন্ত সুদ পাওয়া যায়। পোস্টফাইন্যান্স ইয়ুথ অ্যাকাউন্টে ০.২৫% সুদ দেয়, যা সাধারণ অ্যাকাউন্টের চেয়ে বেশি।

সুইস ব্যাঙ্কিং বনাম অন্যান্য দেশ

ভারতীয় ব্যাঙ্কের সাথে তুলনা

ভারতীয় ব্যাঙ্কে বর্তমানে সেভিংস অ্যাকাউন্টে ৩-৪% এবং ফিক্সড ডিপোজিটে ৬.৫-৭.৫% সুদ পাওয়া যায়। এর মানে হলো, ১ লাখ টাকা ৭% সুদে ৫ বছরের ফিক্সড ডিপোজিটে রাখলে চক্রবৃদ্ধি সুদে প্রায় ১,৪০,২৫৫ টাকা হবে – অর্থাৎ ৪০,২৫৫ টাকা লাভ, যা সুইস ব্যাঙ্কের চেয়ে প্রায় ৮ গুণ বেশি।

দেশ সেভিংস অ্যাকাউন্ট সুদ ফিক্সড ডিপোজিট সুদ (১ বছর)
সুইজারল্যান্ড ০.০০% – ০.২৫% ০.৩০% – ১.৭০%
ভারত ৩.০০% – ৪.০০% ৬.৫০% – ৭.৫০%
আমেরিকা ০.৪৫% – ৫.৩০% ৪.০০% – ৫.৫০%
ইউরোপীয় ইউনিয়ন ০.০১% – ৩.০০% ২.৫০% – ৪.০০%

কেন তবুও সুইস ব্যাঙ্কে টাকা রাখা হয়?

কম সুদ থাকা সত্ত্বেও সুইস ব্যাঙ্কে টাকা রাখার কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণ আছে:

রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা: সুইজারল্যান্ড বিশ্বের সবচেয়ে নিরপেক্ষ এবং স্থিতিশীল দেশগুলোর একটি। দেশটি ১৮১৫ সাল থেকে কোনো যুদ্ধে জড়ায়নি।

মুদ্রার শক্তি: সুইস ফ্রাঁক বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী মুদ্রাগুলোর একটি। ইবিসি ডট কম-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালেও সুইস ফ্রাঁক তার “সেফ হেভেন” অবস্থান বজায় রেখেছে।

গোপনীয়তা এবং সম্পদ সুরক্ষা: যদিও আগের মতো সম্পূর্ণ গোপনীয়তা নেই, তবুও সুইস ব্যাঙ্কগুলো উচ্চমানের গোপনীয়তা এবং সম্পদ সুরক্ষা প্রদান করে। হোয়াইট হিল ভ্যালে পার্টনারস-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সুইস ব্যাঙ্কিং আইন এখনও ক্লায়েন্টদের তথ্য সুরক্ষার ক্ষেত্রে বিশ্বসেরা।

সম্পদ ব্যবস্থাপনা সেবা: সুইস ব্যাঙ্কগুলো বিশ্বমানের সম্পদ ব্যবস্থাপনা, বিনিয়োগ পরামর্শ এবং ট্যাক্স পরিকল্পনা সেবা দেয়।

ভবিষ্যতের সম্ভাবনা: সুদের হার কি বাড়বে?

অর্থনৈতিক পূর্বাভাস

ফিশার ইনভেস্টমেন্টস এবং পিক্টেট-এর বিশ্লেষক মনে করেন যে সুইজারল্যান্ডে সুদের হার নিকট ভবিষ্যতে শূন্যের কাছাকাছি থাকবে। এমনকি আবার নেগেটিভ সুদে ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে যদি সুইস ফ্রাঁকের মূল্য অতিরিক্ত বেড়ে যায়।

সুইস ব্যাঙ্কিং অ্যাসোসিয়েশনের ২০২৫ সালের ব্যাঙ্কিং ব্যারোমিটার রিপোর্ট অনুযায়ী, ইউরোপীয় সেন্ট্রাল ব্যাঙ্ক (ECB) তাদের সুদের হার ২০২৪ সালের ৪.৫% থেকে কমিয়ে ২০২৫ সালের জুনে ২.১৫%-এ নিয়ে এসেছে, যা সুইস ব্যাঙ্কের উপরও প্রভাব ফেলছে।

SBI vs PNB ৫ বছরের FD: ১০ লক্ষ বিনিয়োগে কোন ব্যাংক দেবে আপনাকে বেশি লাভ?

বিনিয়োগকারীদের জন্য পরামর্শ

সুদের হার কম থাকায় বিনিয়োগকারীদের উচিত:

১. বৈচিত্র্যকরণ: শুধুমাত্র সেভিংস অ্যাকাউন্টে না রেখে শেয়ার, বন্ড, রিয়েল এস্টেট ইত্যাদিতে বিনিয়োগ করা।

২. একাধিক ব্যাঙ্ক ব্যবহার: বিভিন্ন ব্যাঙ্কের সুদের হার তুলনা করে সেরা অপশন বেছে নেওয়া। মনে রাখতে হবে, সুইজারল্যান্ডে প্রতি ব্যাঙ্কে ১,০০,০০০ সুইস ফ্রাঁ পর্যন্ত জমা সুরক্ষিত।

৩. দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা: ফিক্সড ডিপোজিট বা পিলার ৩এ অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে কিছুটা বেশি সুদ পাওয়া।

৪. মুদ্রা বিনিময় সাবধানতা: মনে রাখতে হবে, সুইস ফ্রাঁকের বিনিময় হার ওঠানামা করে, যা লাভ-ক্ষতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

সুইস ব্যাঙ্কে টাকা রাখলে বর্তমানে খুবই কম সুদ পাওয়া যায় – সাধারণত ০% থেকে ১% এর মধ্যে। ১ লাখ টাকা জমা করলে পাঁচ বছরে সর্বোচ্চ ১,০৫,১০১ টাকা হবে, যা ভারতীয় ব্যাঙ্কের তুলনায় অনেক কম। সুইস ব্যাঙ্কের মূল আকর্ষণ হলো উচ্চ সুদ নয়, বরং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, মুদ্রার শক্তি, গোপনীয়তা এবং বিশ্বমানের সম্পদ ব্যবস্থাপনা সেবা। যারা শুধু সুদের জন্য বিনিয়োগ করতে চান, তাদের জন্য সুইস ব্যাঙ্ক উপযুক্ত নয়। কিন্তু যারা সম্পদ সংরক্ষণ, নিরাপত্তা এবং দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা চান, তাদের জন্য সুইস ব্যাঙ্ক এখনও একটি চমৎকার অপশন। সুইস ন্যাশনাল ব্যাঙ্কের শূন্য শতাংশ পলিসি রেট এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে নিকট ভবিষ্যতে সুদের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ার সম্ভাবনা কম।

About Author
Riddhi Datta

ঋদ্ধি দত্ত কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়নবিদ্যায় স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তিনি একজন উদীয়মান বিজ্ঞান লেখক ও গবেষক, যিনি জটিল বৈজ্ঞানিক ধারণাগুলিকে সাধারণ পাঠকদের জন্য সহজবোধ্য করে তোলেন। তাঁর লেখায় রসায়ন, পরিবেশ বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তির সমসাময়িক বিষয়গুলি প্রাধান্য পায়। ঋদ্ধি নিয়মিতভাবে এই ওয়েবসাইটে বিজ্ঞান-ভিত্তিক প্রবন্ধ, গবেষণা সারসংক্ষেপ এবং বিশেষজ্ঞদের সাক্ষাৎকার প্রকাশ করেন।

আরও পড়ুন