বীরভূমের পবিত্র তারাপীঠ মন্দিরে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে ভক্তদের জন্য একাধিক নতুন নিয়মকানুন কার্যকর করা হয়েছে যা ২০২৫ সালেও চলমান রয়েছে। বীরভূম জেলা প্রশাসন এবং তারাপীঠ মন্দির কমিটির যৌথ উদ্যোগে এই নিয়মগুলি প্রণয়ন করা হয়েছে ভক্তদের সুবিধা ও মন্দিরের সুষ্ঠু রীতিনীতি বজায় রাখার জন্য। নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, গর্ভগৃহে মোবাইল ফোন, আলতা এবং গোলাপজল নিয়ে প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে, এবং দেবীমূর্তি স্পর্শ করার উপর কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাস থেকে মন্দিরে পোশাকের ক্ষেত্রেও কঠোর নিয়ম চালু হয়েছে।
তারাপীঠ মন্দিরের গুরুত্ব ও ঐতিহাসিক পটভূমি
তারাপীঠ পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় অবস্থিত একটি অন্যতম প্রধান শক্তিপীঠ। হিন্দু পুরাণ অনুসারে, এটি ৫১টি শক্তিপীঠের মধ্যে একটি যেখানে দেবী সতীর তৃতীয় নয়ন পতিত হয়েছিল বলে বিশ্বাস করা হয়। প্রায় ৩০০ বছর আগে বাংলা ১২২৫ সালে প্রতিষ্ঠিত বর্তমান মন্দিরটি চার চালা স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত এবং এর উচ্চতা ৬৪ ফুট। মন্দিরটি সাধক বামাক্ষ্যাপার তীর্থভূমি হিসেবেও বিখ্যাত, যিনি ১৮৩৭ থেকে ১৯১১ সাল পর্যন্ত জীবিত ছিলেন এবং মা তারার প্রতি তাঁর অগাধ ভক্তির জন্য পরিচিত ছিলেন।
প্রতিদিন গড়ে ১২,০০০ ভক্ত এবং বছরে প্রায় ৭০ লক্ষ পুণ্যার্থী তারাপীঠ দর্শনে আসেন, যা এই অঞ্চলের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষ উৎসব ও অমাবস্যার দিনগুলিতে এই সংখ্যা কয়েক লক্ষে পৌঁছায়। ২০১৮ সালের কৌশিকী অমাবস্যায় মাত্র দুই দিনে ৬ লক্ষেরও বেশি ভক্ত মন্দিরে এসেছিলেন।
ডিসেম্বর ২০২৪ থেকে কার্যকর নতুন নিয়মাবলী
মোবাইল ফোন নিষিদ্ধকরণ
তারাপীঠ মন্দিরের গর্ভগৃহে এখন আর মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশ করা যাবে না। ১৭ ডিসেম্বর ২০২৪ থেকে এই নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর ভক্তদের মন্দিরের প্রবেশদ্বারে নিযুক্ত নিরাপত্তারক্ষীদের কাছে মোবাইল জমা রেখে তারপর গর্ভগৃহে প্রবেশ করতে হবে। এর আগে গর্ভগৃহের ভিতরে সেলফি তোলা, ছবি তোলা এবং লাইভ ভিডিও করার ক্ষেত্রে কোনো নিষেধাজ্ঞা ছিল না, কিন্তু এখন সম্পূর্ণ নিষেধ করা হয়েছে।
আলতা ও গোলাপজল নিষিদ্ধ
নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, ভক্তরা এখন গর্ভগৃহের মধ্যে আলতা এবং গোলাপজল নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন না। এই নিয়ম মন্দিরের পবিত্রতা এবং পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার জন্য প্রণয়ন করা হয়েছে।
দেবীমূর্তি স্পর্শে নিষেধাজ্ঞা
আগে ভক্তরা মন্দিরে ঢুকে মা তারার চরণ স্পর্শ করতে পারতেন এবং মূর্তিকে জড়িয়ে ধরতে পারতেন। কিন্তু নতুন নিয়ম অনুসারে এখন থেকে ভক্তরা দেবী কালীর মূর্তির পা স্পর্শ করতে পারবেন না। এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে মূর্তির সংরক্ষণ এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণের জন্য।
নির্দিষ্ট মন্দির সময়সূচী
অনিয়মিত মন্দির খোলা ও বন্ধের সময়ের সমস্যা সমাধানের জন্য এখন নির্দিষ্ট সময়সূচী ঘোষণা করা হয়েছে। বীরভূম জেলাশাসক বিধান রায়ের নেতৃত্বে ১৬ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে অনুষ্ঠিত প্রশাসনিক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
ভারতের ১০টি বিখ্যাত শিব মন্দির, যেখানে আপনি অবশ্যই যাবেন
জানুয়ারি ২০২৫ থেকে পোশাক বিধি
২০২৫ সালের ৩০ জানুয়ারি থেকে তারাপীঠ মন্দিরে প্রবেশের জন্য পোশাকের ক্ষেত্রেও নতুন নিয়ম জারি করা হয়েছে। এই নিয়ম অনুযায়ী:
-
স্বল্প পোশাক পরিধান করে মন্দিরে প্রবেশ নিষিদ্ধ। শর্ট, স্কার্ট বা এ জাতীয় পোশাক পরে মন্দিরে ঢোকা যাবে না।
-
গামছা, লুঙি বা বারমুডা পরিধান করে মন্দিরে প্রবেশের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
-
ভক্তদের ঐতিহ্যবাহী ও শালীন পোশাক পরার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পুরুষদের জন্য ধুতি-কুর্তা এবং মহিলাদের জন্য শাড়ি বা সালোয়ার-কামিজ উপযুক্ত।
এই নিয়মগুলি মন্দিরের পবিত্রতা ও ধর্মীয় পরিবেশ বজায় রাখার জন্য প্রয়োগ করা হয়েছে।
তারাপীঠ মন্দির খোলার সময় ও পুজোর সময়সূচী
| সময় | বিবরণ |
|---|---|
| সকালের দর্শন | সকাল ৫:৩০ টা থেকে দুপুর ১২:০০ টা |
| দুপুরে বন্ধ | দুপুর ১২:০০ টা থেকে ১:৩০ টা |
| বিকেলের দর্শন | ১:৩০ টা থেকে সন্ধ্যা ৫:০০ টা |
| সন্ধ্যায় বন্ধ | সন্ধ্যা ৫:০০ টা থেকে ৬:০০ টা |
| রাত্রির দর্শন | সন্ধ্যা ৬:০০ টা থেকে রাত ১০:০০ টা |
| মঙ্গল আরতি | ভোর ৪:০০ টা (শুধুমাত্র পুরোহিতদের জন্য) |
| ভোগ আরতি | দুপুর ১২:০০ টা |
| সন্ধ্যা আরতি | সূর্যাস্তের সময় (প্রায় ৬:৩০ টা) |
বিশেষ দিন যেমন ভাদ্র মাসের কৌশিকী অমাবস্যায় মন্দির ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকে। বৃহস্পতিবার তারাপীঠে দর্শনের সবচেয়ে শুভ দিন বলে মনে করা হয়।
দর্শনার্থীদের জন্য লাইন ব্যবস্থা
ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং দর্শনার্থীদের সুবিধার জন্য মন্দিরে দুটি আলাদা লাইন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে:
-
সাধারণ লাইন: সাধারণ ভক্তদের জন্য। পুজো শুরুর এক ঘণ্টা আগে এই লাইনে দাঁড়ানো ভক্তদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়।
-
বিশেষ/ভিআইপি লাইন: যাঁরা অতিরিক্ত অর্থ প্রদান করেন তাঁদের জন্য। এই লাইনের ভক্তরা সাধারণ লাইনের পরে গর্ভগৃহে প্রবেশ করতে পারবেন।
কিছু ভ্রমণ সাইট অনুযায়ী, ভিআইপি প্রবেশের জন্য জনপ্রতি প্রায় ২০০ টাকা প্রদান করতে হয়। পুজো সামগ্রীর দাম ২৫১, ৩০১ বা ৫০১ টাকায় পাওয়া যায়।
প্রসাদ বিতরণে নতুন ব্যবস্থা
নতুন নিয়ম অনুসারে, শুধুমাত্র মন্দির কর্তৃপক্ষই মন্দির প্রাঙ্গণের মধ্যে প্রসাদ বিতরণ করার অনুমতি পাবে। এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে অবৈধ প্রসাদ বিক্রয় বন্ধ করতে এবং ভক্তদের বিশুদ্ধ প্রসাদ প্রদান নিশ্চিত করতে।
পান্ডাদের জন্য নিয়মকানুন
দীর্ঘদিন ধরে তারাপীঠ মন্দিরে পান্ডারা ভক্তদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করতেন। লাইনে দাঁড়ানো থেকে শুরু করে ডালা কেনা পর্যন্ত প্রতিটি পদক্ষেপে ৫০০, ১০০০ বা ২০০০ টাকা দাবি করা হত। কিন্তু নতুন নিয়মে এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বীরভূম জেলাশাসক স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে পুণ্যার্থীদের হেনস্থা করা যাবে না এবং পালা বিক্রি করা যাবে না। যদি কেউ এই নিয়ম লঙ্ঘন করে তাহলে কড়া শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।
তারাপীঠে যাওয়ার আগে যা জানা জরুরি
কী কী নিয়ে যাবেন
-
ঐতিহ্যবাহী পোশাক (ধুতি-কুর্তা, শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ)
-
পুজোর জন্য ফুল, ধূপ, প্রদীপ (মন্দিরেও পাওয়া যায়)
-
পরিচয়পত্র
কী কী নিয়ে যাবেন না
-
মোবাইল ফোন (গর্ভগৃহে)
-
আলতা ও গোলাপজল
-
জুতো (মন্দির প্রবেশের আগে খুলতে হবে)
-
খাবার ও পানীয়
-
তামাক ও ধূমপান সামগ্রী
-
স্বল্প পোশাক, শর্টস, গামছা, বারমুডা
ফটোগ্রাফি
মন্দিরের গর্ভগৃহের ভিতরে ফটোগ্রাফি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। মন্দির প্রাঙ্গণে বাইরের দিকে ছবি তোলা যেতে পারে কিন্তু দেবীমূর্তির ছবি তোলা নিষিদ্ধ।
তারাপীঠের অন্যান্য দর্শনীয় স্থান
তারাপীঠ মন্দির ছাড়াও এই অঞ্চলে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান রয়েছে:
-
সাধক বামাক্ষ্যাপার সমাধি: মন্দিরের কাছেই অবস্থিত, যেখানে ভক্তরা প্রার্থনা করতে আসেন
-
শ্মশান: তান্ত্রিক সাধনার জন্য বিখ্যাত
-
ইসকন মন্দির: তারাপীঠে একটি আধুনিক ইসকন মন্দিরও রয়েছে
-
জগন্নাথ মন্দির এবং নালাটেশ্বরী মন্দির: অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থান
পর্যটন ও অর্থনৈতিক প্রভাব
তারাপীঠ পশ্চিমবঙ্গ এবং পূর্ব ভারতের অন্যতম প্রধান আধ্যাত্মিক পর্যটন কেন্দ্র। বার্ষিক ৭০ লক্ষ দর্শনার্থী এই অঞ্চলের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। গবেষণা অনুযায়ী, ধর্মীয় পর্যটন স্থানীয় জীবিকার ক্ষেত্রে ৩৫.৯৪% বৃদ্ধি ঘটিয়েছে এবং পর্যটন সংক্রান্ত চাকরির ৩৪.৬% স্থানীয় বাসিন্দারা পেয়ে থাকেন।
তারাপীঠে প্রায় ৪০০টি হোটেল রয়েছে যা ব্যস্ত দিনগুলিতে সম্পূর্ণ ভর্তি থাকে। বিহার এবং ঝাড়খণ্ড থেকে বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থী আসেন, যারা হোটেল অধিগ্রহণের প্রায় ৪০% অবদান রাখেন। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পর্যটন বিভাগ তারাপীঠে আধ্যাত্মিক পর্যটন বৃদ্ধির জন্য একটি মেগা প্রকল্পের জন্য ২ কোটি টাকা অনুমোদন করেছে।
নীলক্ষেত বই মার্কেট: সাপ্তাহিক বন্ধের দিন, খোলার সময় ও যাতায়াতের সহজ গাইড
মন্দির যোগাযোগের তথ্য
ঠিকানা: তারাপীঠ মন্দির, গ্রাম-তারাপীঠ, পোস্ট অফিস-তারাপীঠ (চন্ডীপুর), জেলা-বীরভূম, পিন-৭৩১২৩৩, পশ্চিমবঙ্গ
যোগাযোগ নম্বর:
-
03461253651
-
9434004429
-
9732250556
-
9734067301
ইমেইল: joyantaroytarapith@gmail.com, info@sebaitsouvik.com
খোলার সময়: প্রতিদিন সকাল ৮:০০ টা থেকে রাত ৯:০০ টা (মন্দির কার্যালয়)
তারাপীঠে যাওয়ার সেরা সময়
তারাপীঠ সারা বছরই দর্শনার্থীদের স্বাগত জানায়, তবে সেপ্টেম্বর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত সময়কাল সবচেয়ে উপযুক্ত কারণ এই সময়ে আবহাওয়া মনোরম থাকে। বিশেষ উৎসব ও পূজার সময়:
-
কালী পূজা (অক্টোবর-নভেম্বর)
-
নবরাত্রি (সেপ্টেম্বর-অক্টোবর)
-
কৌশিকী অমাবস্যা (ভাদ্র মাস, আগস্ট-সেপ্টেম্বর)
-
বৃহস্পতিবার (সাপ্তাহিক শুভ দিন)
এই সময়গুলিতে বিশেষ পূজা ও আরতি অনুষ্ঠিত হয় এবং মন্দিরে ভক্তসমাগম বেশি হয়।
কীভাবে পৌঁছাবেন
রেলপথে
নিকটতম রেলওয়ে স্টেশন হল রামপুরহাট জংশন, যা তারাপীঠ থেকে প্রায় ১৩ কিলোমিটার দূরে। কলকাতা থেকে সরাসরি ট্রেন পাওয়া যায়।
সড়কপথে
তারাপীঠ সড়কপথে ভালোভাবে সংযুক্ত। কলকাতা থেকে দূরত্ব প্রায় ২২০ কিলোমিটার এবং শান্তিনিকেতন থেকে ৬০ কিলোমিটার। বাস এবং ট্যাক্সি সহজেই পাওয়া যায়।
বিমানপথে
নিকটতম বিমানবন্দর কলকাতা নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, যা প্রায় ২৫০ কিলোমিটার দূরে।
নিয়ম লঙ্ঘনের পরিণাম
মন্দির কর্তৃপক্ষ এবং বীরভূম জেলা প্রশাসন স্পষ্ট করে দিয়েছে যে নতুন নিয়মগুলি কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হবে। নিয়ম লঙ্ঘনকারীদের মন্দির থেকে বহিষ্কার করা হতে পারে এবং যে পান্ডা বা সেবায়েত পুণ্যার্থীদের হেনস্থা করবেন বা অতিরিক্ত অর্থ দাবি করবেন, তাদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তারাপীঠ থানার পুলিশকে এই নিয়ম মোকাবিলার জন্য সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তারাপীঠ মন্দিরে নতুন নিয়মকানুন প্রবর্তনের মূল লক্ষ্য হল ভক্তদের সুবিধা নিশ্চিত করা, মন্দিরের পবিত্রতা রক্ষা করা এবং অনিয়ম বন্ধ করা। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হওয়া এবং ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে আরও কঠোর হওয়া এই নিয়মগুলি প্রাথমিকভাবে কিছু অসুবিধা সৃষ্টি করলেও দীর্ঘমেয়াদে দর্শনার্থীদের আরও ভালো অভিজ্ঞতা প্রদান করবে বলে আশা করা হচ্ছে। মা তারার দর্শনে যাওয়ার আগে এই নতুন নিয়মগুলি সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নিয়ে তারপর তারাপীঠ যাত্রা করলে আপনার তীর্থযাত্রা সুন্দর ও নির্বিঘ্ন হবে। মন্দির কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগ তারাপীঠকে আরও সুসংগঠিত এবং ভক্তবান্ধব তীর্থস্থানে পরিণত করবে, যেখানে সকলে শান্তিপূর্ণভাবে মা তারার আশীর্বাদ লাভ করতে পারবেন।










