The Academy of Fine Arts Movie Review: বাংলা সিনেমার নতুন যুগের সূচনা নাকি শুধুই আরেকটি পরীক্ষামূলক প্রচেষ্টা?

২১ নভেম্বর ২০২৫ সালে মুক্তি পাওয়া 'দ্য অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টস' বাংলা সিনেমার জগতে একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে। জয়ব্রত দাসের পরিচালনায় এই নিও-নয়ার ব্ল্যাক কমেডি অ্যাকশন ক্রাইম থ্রিলারটি শুধুমাত্র…

Sangita Chowdhury

 

২১ নভেম্বর ২০২৫ সালে মুক্তি পাওয়া ‘দ্য অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টস’ বাংলা সিনেমার জগতে একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে। জয়ব্রত দাসের পরিচালনায় এই নিও-নয়ার ব্ল্যাক কমেডি অ্যাকশন ক্রাইম থ্রিলারটি শুধুমাত্র একটি চলচ্চিত্র নয়, বরং স্বাধীন বাংলা সিনেমার আন্দোলনের একটি প্রতীক হয়ে উঠেছে। রুদ্রনীল ঘোষ, পায়েল সরকার, সৌরভ দাস এবং ঋষভ বসুর মতো শক্তিশালী অভিনেতাদের নিয়ে তৈরি এই ছবিটি চার বছরের কঠোর পরিশ্রমের ফসল, যা ফেডারেশনের বাধা অতিক্রম করে অবশেষে দর্শকদের সামনে এসেছে।

ছবির মূল কাহিনী এবং থিম

‘দ্য অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টস’ একটি অনন্য প্রেমিস নিয়ে কাজ করে যেখানে অপরাধকে শিল্পের মতো উপস্থাপন করা হয়েছে। ছবিটির কেন্দ্রীয় গল্পে রয়েছে একদল অত্যন্ত দক্ষ ব্যক্তি যারা অপরাধকে একটি শিল্প হিসেবে বিবেচনা করে। তারা একসাথে মিলে একটি দুর্লভ প্রাচীন মদের বোতল চুরির একটি সাহসী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে চায়, কিন্তু অপারেশনটি অপ্রত্যাশিত মোড় নেয় যখন প্রতিটি অংশগ্রহণকারীর আসল উদ্দেশ্য প্রকাশ পেতে শুরু করে। এই প্লট স্ট্রাকচার কুয়েন্টিন ট্যারান্টিনোর পাল্প ফিকশনের মতো আন্তর্জাতিক থ্রিলারের সাথে তুলনীয়, তবে এর দেশীয় ফ্লেভার এটিকে একটি স্বতন্ত্র পরিচয় দিয়েছে।

পরিচালক জয়ব্রত দাস ব্যাখ্যা করেছেন যে ছবির শিরোনাম ‘দ্য অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টস’ রূপকভাবে চরিত্রগুলির অপরাধে কারুশিল্পের প্রতি নির্দেশ করে, যেখানে প্রতিটি চরিত্র তাদের নিজস্ব দক্ষতায় একজন “শিল্পী”। এই ধারণাটি বাংলা সিনেমায় নতুন এবং এটি দর্শকদের মধ্যে যথেষ্ট কৌতূহল সৃষ্টি করেছে। ছবিটি একের পর এক ঘটনা, পাল্টা পরিকল্পনা এবং দ্বৈত ক্রস দিয়ে এগিয়ে যায়, যা আখ্যানকে আরও জটিল এবং আকর্ষণীয় করে তোলে।

পরিচালক এবং প্রযোজনা প্রক্রিয়া

জয়ব্রত দাস, যিনি সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট (SRFTI) থেকে স্নাতক, তার পরিচালনায় আত্মপ্রকাশ করেছেন এই ছবির মাধ্যমে। তিন বছরের গবেষণা এবং উন্নয়নের পর, এই চলচ্চিত্রটি সম্পূর্ণভাবে স্বাধীনভাবে কোনো স্টুডিও সহায়তা ছাড়াই প্রযোজনা করা হয়েছে। জয়ব্রত এবং তার সিনেমা ইনস্টিটিউটের বন্ধুরা নিজেদের তহবিল দিয়ে চার বছর ধরে এই প্রকল্পে কাজ করেছেন, যেখানে আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে প্রযোজনা বেশ কয়েকবার স্থগিত হয়েছিল।

জয়ব্রত দাস স্পষ্ট করেছেন যে এটি একটি “স্টুডেন্ট ফিল্ম” নয়, বরং ছাত্রদের দ্বারা তৈরি একটি স্বাধীন চলচ্চিত্র। দলটি যখন তহবিল পেত তখন পর্যায়ক্রমে শুটিং করত এবং নিজেদের অর্থ ব্যবহার করত। সময়ের সাথে সাথে, প্রকল্পটি একটি পূর্ণদৈর্ঘ্য ফিচার ফিল্মে পরিণত হয় এবং একবার চূড়ান্ত কাট দেখার পর, দলটি অনুভব করে যে এটি থিয়েটারে মুক্তির যোগ্য। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য, জয়ব্রত প্রমোদ ফিল্মসের সাথে অংশীদারিত্ব করেন, যারা সৌম্য সরকার এবং প্রতীক চক্রবর্তীর নেতৃত্বে ছিল এবং যারা বছরের পর বছর ধরে স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতাদের সমর্থন করে আসছেন।

বাংলা সিনেমার নতুন মাইলফলক: ‘বহুরূপী’ ছবির অভূতপূর্ব সাফল্য

অভিনয় শিল্পীদের অবদান

রুদ্রনীল ঘোষ, যিনি ১৯৭৩ সালের ৬ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন, একজন প্রতিষ্ঠিত বাংলা অভিনেতা যিনি মূলত কলকাতার বাংলা ছবিতে কাজ করেন। তার উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে ‘ভিন্সি দা’ (২০১৯), ‘সত্যান্বেষী ব্যোমকেশ’ (২০১৯), ‘রাজকাহিনী’ (২০১৫), এবং ‘মৈদান’ (২০২৪) যেখানে তিনি অজয় দেবগনের সাথে পর্দা ভাগ করেছেন। ২০০৭ সালে তিনি BFJA পুরস্কারে সেরা সহ-অভিনেতার পুরস্কার জিতেছিলেন এবং ২০২০ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা অভিনেতার পুরস্কার পেয়েছেন।

‘দ্য অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টস’-এ রুদ্রনীল ঘোষ, পায়েল সরকার, সৌরভ দাস, ঋষভ বসু, রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়, সুদীপ মুখার্জী এবং অনুরাধা মুখার্জীর মতো প্রখ্যাত অভিনেতারা অভিনয় করেছেন। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে এই অভিনেতাদের বেশিরভাগই উদীয়মান প্রতিভাদের সমর্থন করতে এবং বাংলা চলচ্চিত্রে প্রথম ধরনের একটি প্রকল্পের অংশ হতে কোনো পারিশ্রমিক ছাড়াই এই প্রকল্পের অংশ হয়েছিলেন। এই ধরনের প্রতিশ্রুতি স্বাধীন সিনেমার প্রতি শিল্পীদের আন্তরিকতা এবং নতুন গল্প বলার প্রতি তাদের উৎসাহের প্রমাণ দেয়।

মুক্তির আগে সংকট এবং ফেডারেশনের বাধা

‘দ্য অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টস’-এর মুক্তি মসৃণ ছিল না। ১৪ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে নির্ধারিত মুক্তির মাত্র একদিন আগে, ফেডারেশন অফ সাইন টেকনিশিয়ানস অ্যান্ড ওয়ার্কার্স অফ ইস্টার্ন ইন্ডিয়া এবং EIMPA ছবিটির মুক্তির বিরুদ্ধে আপত্তি জানায়। ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস এবং EIMPA সভাপতি পিয়া সেনগুপ্তার সাথে দেখা করার পর, জয়ব্রত দাস হতবাক হয়ে পড়েন। তাদের যুক্তি ছিল যে ছাত্র চলচ্চিত্র নির্মাতারা একজন প্রযোজকের সাথে সহযোগিতা করার মুহূর্ত থেকে, ছবিটি একটি বাণিজ্যিক প্রকল্পে পরিণত হয়।

ফেডারেশনের নিয়ম অনুযায়ী, গিল্ড সদস্যদের জন্য কিছু শুটিংয়ে ক্রু ভাড়া বাধ্যতামূলক। তারা প্রশ্ন তুলেছিল কেন ফেডারেশনের প্রযুক্তিবিদদের নিয়োগ দেওয়া হয়নি এবং কেন শ্রমিকদের মজুরি থেকে বঞ্চিত করা হবে। তারা এমনকি দাবি করেছিল যে প্রযোজকের নাম ছবি এবং সেন্সর সার্টিফিকেট থেকে সরিয়ে ফেলা হোক। এই বিতর্ক এক সপ্তাহ ধরে চলে এবং প্রিমিয়ার ইভেন্ট ইভেন্টের আগের সন্ধ্যায় বাতিল করতে হয়। অবশেষে ২১ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে, দীর্ঘ অনিশ্চয়তার পর ছবিটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায়।

এই ঘটনা বাংলা চলচ্চিত্র শিল্পে স্বাধীন নির্মাতাদের মুখোমুখি হওয়া চ্যালেঞ্জগুলি তুলে ধরে। পূর্বে, চলচ্চিত্র নির্মাতারা FCTWEI-কে বাজেট বৃদ্ধি এবং সৃজনশীল স্বাধীনতা সীমিত করার নিয়ম আরোপ করার জন্য সমালোচনা করেছেন, যেমন তাদের পছন্দের প্রযুক্তিবিদদের নিয়োগের ক্ষমতা সীমিত করা। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে দলটি যখন ছবির শুটিং শুরু করেছিল তখন FCTWEI নিয়মগুলি কার্যকর করা হয়নি।

সেন্সরশিপ এবং প্রযুক্তিগত দিক

‘দ্য অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টস’ একটি ‘A’ রেটিং পেয়েছে বিশাল ৫৪টি কাটের পরেও। এই তথ্যটি নির্দেশ করে যে ছবিটিতে প্রাপ্তবয়স্ক বিষয়বস্তু, সহিংসতা, অথবা এমন উপাদান রয়েছে যা সাধারণ দর্শকদের জন্য উপযুক্ত নয়। পরিচালক জয়ব্রত দাস নিজেই অ্যাকশন ডিরেক্টর এবং কস্টিউম ডিজাইনারের দায়িত্ব পালন করেছেন, যা তার বহুমুখী প্রতিভার প্রমাণ। ছবিটির সিনেমাটোগ্রাফিতে অর্ণব লাহা এবং সহযোগী DOP নাবনীল সান্যাল কাজ করেছেন, যখন সাউন্ড ডিজাইন এবং মিক্সিং করেছেন প্রসূন মুখোপাধ্যায়।

সঙ্গীত পরিচালক সৌম্য রিত এবং গায়ক সৌম্য রিত ও শ্রুতি ছবিটির সাউন্ডট্র্যাকে অবদান রেখেছেন। বিশেষ দুটি ব্যাকগ্রাউন্ড ট্র্যাক তৈরি করেছেন ঋষি পান্ডা। এডিটিংয়ের দায়িত্বে ছিলেন আশিক শারকার এবং ট্রেলার এডিট করেছেন দেবর্ঘ্য রায়। প্রোডাকশন ডিজাইনেও অর্ণব লাহা কাজ করেছেন, যা ছবিটির ভিজ্যুয়াল আবেদনকে শক্তিশালী করেছে।

সামগ্রিক রিভিউ সারাংশ

‘দ্য অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টস’ ২১ নভেম্বর ২০২৫ সালে মুক্তি পাওয়ার পর দর্শক এবং সমালোচকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। ছবিটির প্লট স্ট্রাকচার এবং অভিনয়ের মানের মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়েছে, যেখানে অভিনয় শক্তিশালী হলেও প্লটের জটিলতা এবং বর্ণনা শৈলী নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। রেডিট ব্যবহারকারীরা এই ছবিকে “এমন সিনেমা প্রতিদিন বাংলায় তৈরি হয় না” বলে অভিহিত করেছেন, যা এর অনন্যতা নির্দেশ করে।

ছবির গল্প একটি দুর্লভ প্রাচীন মদের বোতল চুরির চারপাশে ঘোরে, যেখানে একদল পেশাদার অপরাধী তাদের কাজকে শিল্পের মতো দেখে। IMDb-এর স্টোরিলাইন অনুযায়ী, “অপরাধীদের একটি দল নিখুঁত ডাকাতি সম্পাদন করে, একটি কুখ্যাত গ্যাং লিডারের কাছ থেকে একটি অমূল্য মদের বোতল চুরি করে। কিন্তু যা একটি পরিষ্কার পলায়ন হিসেবে শুরু হয়, তা বিশ্বাসঘাতকতা, রক্তপাত এবং দীর্ঘকাল পুঁথিত গোপনীয়তার ঝড়ে পরিণত হয়।”

পরিচালক জয়ব্রত দাস ব্যাখ্যা করেছেন যে তার “চরিত্রগুলি পেশাদার অপরাধী এবং নির্দিষ্ট কাজে বিশেষজ্ঞ। তাদের প্রত্যেকে একজন শিল্পী।” এই রূপক ধারণাটি ছবির শিরোনামের সাথে সংযুক্ত এবং একটি মেটা-ন্যারেটিভ তৈরি করে যেখানে অপরাধ এবং শিল্পের সীমা অস্পষ্ট হয়ে যায়।

বক্স অফিস এবং দর্শক প্রতিক্রিয়া

ছবিটির মুক্তির পর প্রাথমিক বক্স অফিস সংগ্রহ সম্পর্কে সীমিত তথ্য পাওয়া গেছে। Sacnilk-এর তথ্য অনুযায়ী, ছবিটির ওয়ার্ল্ডওয়াইড, ইন্ডিয়া নেট, ইন্ডিয়া গ্রস এবং ওভারসিজ সংগ্রহ এখনও সংকলিত হচ্ছে। ব্যবহারকারীর রেটিং ৫.০/১০ দেখিয়েছে মাত্র দুই ব্যবহারকারীর ভোটের ভিত্তিতে, যা এখনও পর্যাপ্ত নয় একটি সঠিক মূল্যায়নের জন্য। তবে, YouTube এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় মুভি রিভিউগুলি দর্শকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখায়।

কিছু দর্শক এবং সমালোচক ছবিটিকে “গড ফাড সিনেমা” হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যা নির্দেশ করে যে এটি একটি শক্তিশালী প্রভাব ফেলেছে। অন্যদিক থেকে, কিছু রিভিউ সাজেস্ট করে যে ছবিটি একটি “কাল্ট” স্ট্যাটাস অর্জন করতে পারে বাংলা চলচ্চিত্র ভ্রাতৃত্বে। বাংলা চলচ্চিত্র শিল্পে যেখানে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে বক্স অফিসে অসংখ্য ব্যর্থতা দেখা গেছে, এমন একটি পরীক্ষামূলক প্রকল্প দর্শকদের মধ্যে কীভাবে গ্রহণ করা হয় তা দেখা আকর্ষণীয়।

অভিনয় পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ

এনসেম্বল কাস্টের শক্তি

অভিনয় পারফরম্যান্স ছবির সবচেয়ে প্রশংসিত দিক। Times of India উল্লেখ করেছে যে “ছবিটি তার এনসেম্বল কাস্ট থেকে শক্তিশালী পারফরম্যান্স প্রদর্শন করে।” রুদ্রনীল ঘোষ, পায়েল সরকার, সৌরভ দাস, ঋষভ বসু, রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়, সুদীপ মুখার্জী এবং অনুরাধা মুখার্জীর মতো প্রতিষ্ঠিত অভিনেতাদের উপস্থিতি ছবিটিকে অভিনয় ক্ষমতা এবং বিশ্বাসযোগ্যতা প্রদান করে।

​বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে এই অভিনেতারা কোনো পারিশ্রমিক ছাড়াই ছবিতে কাজ করেছেন। রুদ্রনীল ঘোষ বলেছেন, “আমরা যারা ছবিতে অভিনয় করেছি, একটি টাকাও পারিশ্রমিক নিইনি। তারা বাংলা সিনেমার ভবিষ্যৎ। আমাদের তাদের মতো প্রতিভাবানদের পাশে দাঁড়ানো উচিত, বিশেষ করে সেই শিক্ষিত পরিচালক যারা বাংলা সিনেমার জন্য কাজ করতে চান।”

​রুদ্রনীল ঘোষের অভিনয়

রুদ্রনীল ঘোষ, যিনি ‘ভিন্সি দা’ (২০১৯), ‘রাজকাহিনী’ (২০১৫) এবং ‘মৈদান’ (২০২৪)-এর মতো উল্লেখযোগ্য ছবিতে কাজ করেছেন, এই ছবিতে একটি কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করেছেন। তার বিগত কাজের অভিজ্ঞতা এবং পুরস্কার বিজয়ী পারফরম্যান্সের ইতিহাস (২০০৭ সালে BFJA পুরস্কারে সেরা সহ-অভিনেতা এবং ২০২০-২০২৩ সালের মধ্যে আন্তর্জাতিক উৎসবে সেরা অভিনেতার পুরস্কার) ছবিটিতে একটি পেশাদার মান নিয়ে আসে।

​সহ-অভিনেতাদের অবদান

পায়েল সরকার, সৌরভ দাস এবং ঋষভ বসু প্রত্যেকে তাদের চরিত্রে জীবন প্রদান করেছেন। একটি নিও-নয়ার থ্রিলারে যেখানে প্রতিটি চরিত্রের লুকানো উদ্দেশ্য এবং গোপনীয়তা রয়েছে, অভিনেতাদের জটিল আবেগ এবং নৈতিক অস্পষ্টতা প্রকাশ করার ক্ষমতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। Facebook পোস্ট এবং সোশ্যাল মিডিয়া প্রতিক্রিয়া থেকে বোঝা যায় যে এনসেম্বল কাস্ট একসাথে ভালভাবে কাজ করেছে এবং অন-স্ক্রিন কেমিস্ট্রি সন্তোষজনক ছিল।

সমসাময়িক বাংলা সিনেমার প্রবণতা

২০২৫ সালে বাংলা সিনেমা একটি রূপান্তরের সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ‘বহুরূপী’ চলচ্চিত্রের বক্স অফিস সাফল্য দেখিয়েছে যে বাংলা দর্শকরা দক্ষিণ কলকাতার ড্রয়িং রুম থেকে বাংলার হিন্টারল্যান্ডে সরে যাওয়া গল্পগুলির জন্য ক্ষুধার্ত। সিনিয়র বিনোদন সাংবাদিক সুদীপ ঘোষ মন্তব্য করেছেন যে সাম্প্রতিক বাংলা চলচ্চিত্রের বিষয়গুলি শুধুমাত্র কলকাতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং স্ক্রিন স্পেসও ড্রয়িং রুমে সীমিত হয়ে গেছে।

পরিচালক অনুরাগ কাশ্যপও ২০২৫ সালের শুরুর দিকে বাংলা সিনেমার বর্তমান অবস্থার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন, বলেছেন এটি “ঘটিয়া” (করুণ) হয়ে গেছে। এই প্রেক্ষাপটে, ‘দ্য অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টস’-এর মতো একটি নিও-নয়ার পাল্প থ্রিলার যা দক্ষিণ কলকাতার ড্রয়িং রুমের বাইরে যায় এবং একটি অন্ধকার, কাঁচা থিম নিয়ে কাজ করে, তা শিল্পের জন্য একটি আশার আলো হতে পারে।

ছবির শক্তি এবং দুর্বলতা

শক্তিশালী দিকগুলি

‘দ্য অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টস’-এর প্রধান শক্তি হল এর মৌলিক ধারণা এবং অনন্য ভিজ্যুয়াল স্টাইল। ছবিটি বাংলা সিনেমায় খুব কম দেখা যায় এমন নিও-নয়ার ঘরানা অন্বেষণ করে, যা এটিকে ভিড়ের মধ্যে আলাদা করে তোলে। অর্ণব লাহার সিনেমাটোগ্রাফি এবং প্রসূন মুখোপাধ্যায়ের সাউন্ড ডিজাইন ছবিটিকে একটি পলিশ, প্রফেশনাল লুক দেয়। রুদ্রনীল ঘোষ এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠিত অভিনেতাদের উপস্থিতি ছবিটিকে বিশ্বাসযোগ্যতা এবং অভিনয় ওজন দেয়।

স্বাধীন প্রযোজনার দৃষ্টিকোণ থেকে, ছবিটি প্রমাণ করে যে বাংলায় স্টুডিও ব্যাকিং ছাড়াই একটি পূর্ণদৈর্ঘ্য ফিচার ফিল্ম তৈরি করা সম্ভব। চার বছরের নিরলস প্রচেষ্টা এবং আর্থিক বাধা অতিক্রম করার গল্পটি অন্যান্য উচ্চাভিলাষী চলচ্চিত্র নির্মাতাদের জন্য অনুপ্রেরণাদায়ক। ছবিটির কাঁচা, গ্রিটি টোন এবং পাল্প ফিকশন স্টাইলের আখ্যান গঠন আন্তর্জাতিক সিনেমার অনুরাগীদের আবেদন করতে পারে যারা ট্যারান্টিনো এবং গাই রিচির মতো পরিচালকদের কাজ উপভোগ করেন।

সম্ভাব্য দুর্বলতাগুলি

তবে, ছবিটির কিছু সম্ভাব্য দুর্বলতাও রয়েছে। ৫৪টি সেন্সর কাট নির্দেশ করে যে আসল দৃষ্টিভঙ্গি সম্ভবত আপোষ করা হয়েছে, যা পরিচালকের সৃজনশীল প্রকাশে প্রভাব ফেলতে পারে। ‘A’ রেটিং দর্শকদের একটি বড় অংশকে সীমিত করতে পারে, বিশেষ করে পারিবারিক দর্শক। স্বাধীন চলচ্চিত্র হিসেবে, এটির মার্কেটিং এবং বিতরণ সীমিত হতে পারে, যা এর নাগাল এবং বক্স অফিস পারফরম্যান্সকে প্রভাবিত করতে পারে।

ফেডারেশনের সাথে বিরোধ এবং বিলম্বিত মুক্তি ছবিটির প্রাথমিক মোমেন্টামকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। কিছু দর্শক মন্তব্য করেছেন যে আবেগ কিছু অংশে কাজ করে তবে গল্প বা দৃশ্যগুলি বিশেষভাবে উত্তেজনাপূর্ণ নয়। এটি প্রস্তাব করতে পারে যে ছবিটি স্টাইলকে পদার্থের উপরে রাখতে পারে, যা কিছু দর্শকদের জন্য হতাশাজনক হতে পারে যারা আরও দৃঢ় চরিত্র বিকাশ এবং আবেগজনক গভীরতা খুঁজছেন।

নেতাজির প্রিয় রেস্তোরাঁ: ১০০ বছর ধরে ঐতিহ্যবাহী খাবার পরিবেশন করছে স্বাধীন ভারত হিন্দু হোটেল

ছবির প্রভাব এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

‘দ্য অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টস’ বাংলা চলচ্চিত্র শিল্পের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত চিহ্নিত করে। এটি দেখায় যে একটি নতুন প্রজন্মের চলচ্চিত্র নির্মাতারা প্রথাগত বলিউডি সূত্র এবং দক্ষিণ কলকাতার সামাজিক নাটক থেকে দূরে সরে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত। ছবিটির নিও-নয়ার শৈলী, কাঁচা অ্যাকশন এবং নৈতিকভাবে জটিল চরিত্রগুলি বাংলা সিনেমায় একটি নতুন দিক উন্মোচন করতে পারে যা আন্তর্জাতিক দর্শকদের কাছে আবেদন করে।

ছবিটি যদি বক্স অফিসে সফল হয়, তাহলে এটি অন্যান্য স্বাধীন নির্মাতাদের অনুরূপ প্রকল্প গ্রহণের জন্য উৎসাহিত করতে পারে। এটি ফেডারেশন এবং শিল্প সংস্থাগুলির জন্যও একটি জাগরণ কল হতে পারে যাতে তারা স্বাধীন সিনেমার জন্য আরও সহায়ক পরিবেশ তৈরি করে। অন্যদিকে, যদি ছবিটি বাণিজ্যিকভাবে ব্যর্থ হয়, তাহলে এটি বাংলা সিনেমায় পরীক্ষামূলক সিনেমার জন্য একটি ঝুঁকিপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে দেখা হতে পারে।

প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতা এবং শৈল্পিক মেধা

ছবিটির প্রযুক্তিগত দিকগুলি প্রশংসার যোগ্য, বিশেষ করে একটি স্বাধীন প্রযোজনার জন্য। অর্ণব লাহার সিনেমাটোগ্রাফি ছবিটিকে একটি ভিজ্যুয়াল সমৃদ্ধি দেয় যা বড় বাজেটের চলচ্চিত্রগুলির সাথে প্রতিযোগিতা করতে পারে। বানীব্রত আদকের প্র্যাক্টিক্যাল FX সুপারভিশন নিশ্চিত করে যে অ্যাকশন দৃশ্যগুলি বাস্তবসম্মত এবং প্রভাবশালী দেখায়। আশিক শারকারের এডিটিং ছবিটির জটিল আখ্যান গঠনকে সংযুক্ত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

সৌম্য রিতের সঙ্গীত এবং ঋষি পান্ডার বিশেষ ব্যাকগ্রাউন্ড ট্র্যাকগুলি ছবিটির মেজাজ এবং টোন স্থাপনে সাহায্য করে। প্রসূন মুখোপাধ্যায়ের সাউন্ড ডিজাইন এবং মিক্সিং, সত্যিচ চন্দ্র তিরিয়ার ট্রেলার সাউন্ড ডিজাইন সুপারভিশনের সাথে, ছবিটিকে একটি নিমজ্জনকারী অডিও অভিজ্ঞতা দেয়। জয়ব্রত দাস নিজে অ্যাকশন ডিরেক্টর হিসাবে তার ভূমিকা নিয়ে ছবিটিতে একটি প্রামাণিক, হাতে তৈরি অনুভূতি নিয়ে আসেন যা সাধারণত বাংলা থ্রিলারগুলিতে অনুপস্থিত।

পৃথিবীতে এখনো ১৭টি দেশ স্বাধীন নয় – জানুন কোন কোন দেশগুলি এখনো উপনিবেশ!

তুলনামূলক বিশ্লেষণ: বাংলা এবং আন্তর্জাতিক নিও-নয়ার

নিও-নয়ার একটি চলচ্চিত্র ঘরানা যা ১৯৪০ এবং ১৯৫০-এর দশকের ক্লাসিক ফিল্ম নয়ারের শৈলী এবং থিম পুনর্জীবিত করে। আন্তর্জাতিক সিনেমায়, নিও-নয়ার চলচ্চিত্রগুলি প্রায়শই নৈতিক অস্পষ্টতা, স্টাইলিশ সিনেমাটোগ্রাফি, জটিল প্লট এবং অ্যান্টি-হিরো চরিত্র বৈশিষ্ট্যযুক্ত করে। ক্যোয়েন্টিন ট্যারান্টিনোর ‘পাল্প ফিকশন’, গাই রিচির ‘লক, স্টক অ্যান্ড টু স্মোকিং ব্যারেলস’, এবং ক্রিস্টোফার নোলানের ‘মেমেন্টো’ নিও-নয়ার ঘরানার ক্লাসিক উদাহরণ।

বাংলা সিনেমায়, নিও-নয়ার একটি তুলনামূলকভাবে কম অন্বেষিত ঘরানা। যদিও সত্যজিৎ রায়ের ‘নায়ক’ এবং ঋত্বিক ঘটকের কিছু কাজে নয়ার উপাদান রয়েছে, খাঁটি নিও-নয়ার থ্রিলার বাংলায় বিরল। ‘দ্য অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টস’ এই শূন্যতা পূরণ করার চেষ্টা করে একটি দেশীয় প্রেক্ষাপটে নিও-নয়ার উপাদান প্রয়োগ করে। ছবিটির অ্যান্টিক ওয়াইন বোতল চুরির চারপাশে ঘূর্ণায়মান প্লট, ডবল-ক্রস, এবং নৈতিকভাবে সন্দেহজনক চরিত্রগুলি নিও-নয়ার ঘরানার ক্লাসিক ট্রপস।

সমাজ এবং সংস্কৃতিতে ছবির প্রতিফলন

‘দ্য অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টস’ শুধুমাত্র একটি ক্রাইম থ্রিলার নয়, এটি সমসাময়িক বাংলা সমাজের একটি প্রতিফলনও হতে পারে। ছবিটির শিরোনাম নিজেই—যা কলকাতার একটি বিখ্যাত সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের নাম—একটি রূপক ব্যবহার যা প্রশ্ন করে শিল্প এবং অপরাধের মধ্যে সীমানা কী। অপরাধীরা যারা নিজেদের “শিল্পী” মনে করে, তারা কি সমাজের সেই স্তরের প্রতিনিধিত্ব করে যারা নৈতিক নিয়ম এবং আইন উপেক্ষা করে তাদের স্বার্থ অর্জনের জন্য?

ছবিটি সম্ভবত আধুনিক শহুরে ভারতে ক্ষমতা, অর্থ এবং নৈতিকতার গতিশীলতাও অন্বেষণ করে। একটি দুর্লভ প্রাচীন মদের বোতল—একটি বিলাসিতার প্রতীক এবং অভিজাত স্ট্যাটাস—চুরির পরিকল্পনা আয় এবং ধন অসমতা, এবং “আছে” এবং “নেই” এর মধ্যে ক্রমবর্ধমান বিভাজনের একটি ভাষ্য হতে পারে। চরিত্রগুলির জটিল উদ্দেশ্য এবং তাদের পারস্পরিক বিশ্বাসঘাতকতা আধুনিক সমাজে আস্থা, আনুগত্য এবং মানবিক সম্পর্কের ক্ষয়ের প্রতিফলন করতে পারে।

পরিসংখ্যান

বিভাগ বিবরণ
মুক্তির তারিখ ২১ নভেম্বর ২০২৫
ঘরানা নিও-নয়ার, ব্ল্যাক কমেডি, অ্যাকশন, ক্রাইম থ্রিলার
পরিচালক জয়ব্রত দাস (আত্মপ্রকাশ)
প্রযোজক প্রতীক চক্রবর্তী (প্রমোদ ফিল্মস)
প্রধান অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ, পায়েল সরকার, সৌরভ দাস, ঋষভ বসু
প্রযোজনা সময় ৪ বছর
সেন্সর কাট ৫৪টি
CBFC রেটিং ‘A’ (প্রাপ্তবয়স্ক)
ভাষা বাংলা
বাজেট তথ্য পাওয়া যায়নি
বক্স অফিস (প্রাথমিক) সংকলিত হচ্ছে

সমালোচনামূলক মূল্যায়ন এবং পুরস্কার সম্ভাবনা

‘দ্য অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টস’ সমালোচনামূলক প্রশংসা পাওয়ার সম্ভাবনা রাখে, বিশেষ করে স্বাধীন চলচ্চিত্র উৎসবে। ছবিটির মৌলিক ধারণা, স্বাধীন প্রযোজনা পদ্ধতি, এবং নিও-নয়ার শৈলীর সাথে পরীক্ষা এটিকে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক উৎসবে স্বীকৃতির জন্য একটি শক্তিশালী প্রার্থী করে তোলে। জয়ব্রত দাস, একজন SRFTI স্নাতক হিসাবে, ইতিমধ্যে চলচ্চিত্র শিক্ষাবিদ এবং স্বাধীন সিনেমা সম্প্রদায়ের মধ্যে একটি নেটওয়ার্ক আছে, যা ছবিটিকে সঠিক প্ল্যাটফর্মে প্রচার করতে সাহায্য করতে পারে।

ছবিটি বিভিন্ন বিভাগে পুরস্কারের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারে যেমন সেরা পরিচালক (আত্মপ্রকাশ), সেরা মৌলিক চিত্রনাট্য, সেরা সিনেমাটোগ্রাফি এবং সেরা সাউন্ড ডিজাইন। রুদ্রনীল ঘোষ এবং অন্যান্য অভিনেতারাও তাদের পারফরম্যান্সের জন্য মনোনয়ন পেতে পারেন। তবে, বক্স অফিস পারফরম্যান্স এবং মূলধারার সমালোচনামূলক অভ্যর্থনা ছবিটির উৎসব সম্ভাবনা এবং পুরস্কার সম্ভাবনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

স্বাধীন সিনেমার ভবিষ্যৎ এবং ‘দ্য অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টস’-এর উত্তরাধিকার

‘দ্য অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টস’-এর মুক্তি বাংলা সিনেমায় স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য একটি মাইলফলক মুহূর্ত হতে পারে। ছবিটি প্রমাণ করে যে পর্যাপ্ত নিষ্ঠা, সৃজনশীলতা এবং সম্প্রদায়ের সমর্থন দিয়ে, চলচ্চিত্র নির্মাতারা বড় স্টুডিও বা ভারী বাজেট ছাড়াই পেশাদার মানের চলচ্চিত্র তৈরি করতে পারেন। এটি ডিজিটাল যুগে বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক, যেখানে ক্যামেরা, এডিটিং সফটওয়্যার এবং বিতরণ প্ল্যাটফর্মগুলি আরও সাশ্রয়ী এবং অ্যাক্সেসযোগ্য হয়ে উঠেছে।

ছবিটির সাফল্য বা ব্যর্থতা নির্বিশেষে, এটি ইতিমধ্যে বাংলা চলচ্চিত্র শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ কথোপকথন শুরু করেছে ফেডারেশনের নিয়ম, স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতাদের অধিকার এবং পরীক্ষামূলক সিনেমার জন্য সহায়ক পরিবেশের প্রয়োজন সম্পর্কে। ছবিটির প্রচার এবং মুক্তির চারপাশে বাজ তরুণ চলচ্চিত্র নির্মাতাদের তাদের নিজস্ব স্বাধীন প্রকল্প অনুসরণ করতে অনুপ্রাণিত করতে পারে, যা বাংলা সিনেমায় আখ্যান, শৈলী এবং দৃষ্টিভঙ্গির বৈচিত্র্যের দিকে নিয়ে যেতে পারে।

‘দ্য অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টস’ বাংলা সিনেমার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং সাহসী পদক্ষেপ। জয়ব্রত দাসের পরিচালনায় আত্মপ্রকাশ একটি নিও-নয়ার ব্ল্যাক কমেডি অ্যাকশন থ্রিলারের সাথে ঝুঁকিপূর্ণ এবং উচ্চাভিলাষী উভয়ই। ছবিটি চার বছরের স্বাধীন প্রযোজনা, ফেডারেশনের সাথে সংগ্রাম এবং অবশেষে ২১ নভেম্বর ২০২৫ সালে মুক্তি—এই সবকিছুই বাংলা চলচ্চিত্র শিল্পে স্বাধীন নির্মাতাদের মুখোমুখি হওয়া চ্যালেঞ্জ এবং দৃঢ়তা তুলে ধরে। রুদ্রনীল ঘোষ এবং একটি প্রতিভাবান কাস্টের শক্তিশালী পারফরম্যান্স, অর্ণব লাহার আকর্ষণীয় সিনেমাটোগ্রাফি এবং প্রসূন মুখোপাধ্যায়ের নিমজ্জনকারী সাউন্ড ডিজাইনের সাথে মিলিত হয়ে, ছবিটি প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতা প্রদর্শন করে। যদিও বক্স অফিস সংগ্রহ এবং সমালোচনামূলক রিসেপশন এখনও উদীয়মান, ছবিটি ইতিমধ্যে নতুন আখ্যান এবং শৈলীর সাথে পরীক্ষা করার জন্য বাংলা সিনেমার ক্ষুধা প্রদর্শন করেছে। ‘দ্য অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টস’ বাংলা সিনেমায় একটি নতুন যুগের সূচনা করতে পারে যেখানে স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতাদের একটি কণ্ঠস্বর রয়েছে এবং পরীক্ষামূলক সিনেমা উদযাপিত হয়, এবং এটিই এই ছবির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উত্তরাধিকার হতে পারে।

About Author